<?xml version="1.0"?>
<feed xmlns="http://www.w3.org/2005/Atom" xml:lang="bn">
	<id>https://bn.wikipasokh.com/api.php?action=feedcontributions&amp;feedformat=atom&amp;user=Wahidshia</id>
	<title>WikiPasokh - ব্যবহারকারীর অবদান [bn]</title>
	<link rel="self" type="application/atom+xml" href="https://bn.wikipasokh.com/api.php?action=feedcontributions&amp;feedformat=atom&amp;user=Wahidshia"/>
	<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/view/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7:%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%A8/Wahidshia"/>
	<updated>2026-05-26T23:26:24Z</updated>
	<subtitle>ব্যবহারকারীর অবদান</subtitle>
	<generator>MediaWiki 1.43.3</generator>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%87_%E0%A6%B9%E0%A6%AF%E0%A6%B0%E0%A6%A4_%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A6%BE_(%E0%A6%86.)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%A6%E0%A7%8B%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE&amp;diff=1029</id>
		<title>কুরআনে হযরত মুসা (আ.)-এর দোয়া</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%87_%E0%A6%B9%E0%A6%AF%E0%A6%B0%E0%A6%A4_%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A6%BE_(%E0%A6%86.)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%A6%E0%A7%8B%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE&amp;diff=1029"/>
		<updated>2025-03-01T00:05:16Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
কুরআনে উল্লেখিত হযরত মূসার দোয়াগুলো কি কি?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
কুরআনে [[হযরত মূসা (আ.)]] এর দোয়াগুলো বিভিন্ন বিষয় কেন্দ্রিক। হযরত মূসা’র পক্ষ থেকে করা দোয়ার বিষয়বস্তুসমূহের মধ্যে রয়েছে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা, অন্তর প্রশস্ত করার প্রার্থনা, ইহলৌকিক ও পরলৌকিক কল্যাণ কামনা এবং অত্যাচারী ও নিপীড়নকারীর হাত থেকে মুক্তি চাওয়া। কুরআন শরীফে উল্লেখিত হযরত মূসার (আ.) পক্ষ থেকে অন্যতম একটি দোয়া হলো: {{quran|رَبِّ إِنِّی لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَیَّ مِنْ خَیْرٍ فَقِیرٌ|translation=হে আমার প্রতিপালক, তোমার পক্ষ থেকে যে কল্যাণই প্রেরিত হোক না কেন, আমি তার মুখাপেক্ষী|sura=আল-কাসাস|verse=২৪}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== দোয়ার বিষয়বস্তু ==&lt;br /&gt;
মুসা [[হযরত মূসা (আ.)]]-এর পক্ষ থেকে করা দোয়াগুলোর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। তার মধ্যে রয়েছে:&lt;br /&gt;
* তার এবং কাফেরদের মাঝে পৃথকীকরণের আবেদন।&amp;lt;ref&amp;gt;সুরাহ মায়িদাহ, আয়াত ২৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* নিজের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা।&amp;lt;ref&amp;gt;সুরাহ কাসাস, আয়াত ১৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* ভাইয়ের জন্য ক্ষমা চাওয়া।&amp;lt;ref&amp;gt;সুরাহ আরাফ, আয়াত ১৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* ইহলৌকিক ও পরলৌকিক কল্যাণ কামনা।&amp;lt;ref&amp;gt;সুরাহ আরাফ, আয়াত ১৫৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* অত্যাচারী কাফেরদের জন্য ধ্বংস ও শাস্তির প্রার্থনা।&amp;lt;ref&amp;gt;সুরাহ ইউনুস, আয়াত ৮৮।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* অন্তর প্রশস্ত করা, কাজ সহজ করা এবং জিহ্বার বা ভাষার জড়তা দূরীভূত করা প্রার্থনা।&amp;lt;ref&amp;gt;সুরাহ ত্বাহা, আয়াত ২৫-৩৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* অত্যাচারী ও নিপীড়নকারীদের নিকট থেকে মুক্তি চাওয়া।&amp;lt;ref&amp;gt;সুরাহ কাসাস, আয়াত ২১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* আল্লাহর নিকট নেয়ামত ও কল্যাণের জন্য আবেদন।&amp;lt;ref&amp;gt;সুরাহ কাসাস, আয়াত ২৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কুরআনের মুফাসসিরগণ বলেছেন,  হযরত মূসা (আ.) যখন আল্লাহর কাছ থেকে  ফেরাউনের নিকট যাওয়ার নির্দেশ পেলেন, তখন তিনি কষ্ট সহ্য করার জন্য আল্লাহর নিকট তার অন্তর প্রশস্ত করার জন্য আবেদন জানান, যাতে তার নবুয়তকালীন সময়ে তিনি যে সকল বাধা-বিপত্তি ও কঠিন মুসিবতসমূহের সম্মুখীন হবেন তা সহ্য করতে সক্ষম হন।&amp;lt;ref&amp;gt;তাবাতাবায়ি, মোহাম্মদ হোসেইন, তাফসির আল-মিজান, তরজমা: মোহাম্মদ বাকের বেহবুদি, তেহরান, জামেয়াতে মুদাররেসিনে হাওজায়ে এলমিয়ে কোম, ১৩৭৪ শামসি, খ:১৪, পৃ:২০২।&amp;lt;/ref&amp;gt; হযরত মূসা (আ.) অন্তর প্রশস্ত করার আবেদন ও বাঁধা-বিপত্তি দূরীভূত হওয়ার পর, আল্লাহর কাছে তার জিহ্বার বাঁধন খুলে দেওয়ার তথা ভাষার জড়তা দূর করার দোয়া করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;মাকারেম শিরাজি, নাসের, তাফসিরে নমুনাহ, তেহরান, দারুল কুতুব আল-ইসলামিয়া, ১৩৭১ শামসি, খ:১৩, পৃ:১৮৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
হযরত মূসার অন্য আরেকটি দোয়া ছিল যে, তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে অত্যন্ত বিনম্র ও শ্রদ্ধার সাথে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে বলেছিলেন, &amp;quot;আমি তোমার পক্ষ থেকে আসা কল্যাণ ও অনুগ্রহের মুক্ষাপেক্ষী&amp;quot;।&amp;lt;ref&amp;gt;মাকারেম শিরাজি, নাসের, তাফসিরে নমুনাহ, তেহরান, দারুল কুতুব আল-ইসলামিয়া, ১৩৭১ শামসি, খ:১৬, পৃ:১৬২।&amp;lt;/ref&amp;gt; এই দোয়া প্রমাণ করে যে, সমস্ত কিছু একমাত্র আল্লাহর নিকট কামনা করা উচিৎ।&amp;lt;ref&amp;gt;কারায়েতি, মোহসেন, তাফসিরে নূর, তেহরান, মারকাজে ফারহাঙ্গিয়ে দারসহায়ে আজ কুরআন, ১৩৮৮ শামসি, খ:৭, পৃ:৩৮।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== প্রার্থনার তালিকা ==&lt;br /&gt;
* {{quran|তিনি বললেন, ‘হে আমার রব! আমি ও আমার ভাই ছাড়া আর কারো উপর আমার অধিকার নেই, সুতরাং আপনি আমাদের ও ফাসিক সম্প্রদায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ করে দিন।|sura=আল-মায়েদা|verse=২৫}}&lt;br /&gt;
* {{quran|মূসা বললেন, ‘হে আমার রব! আমাকে ও আমার ভাইকে ক্ষমা করুন এবং আমাদেরকে আপনার রহমতের মধ্যে প্রবিষ্ট করুন। আর আপনিই শ্রেষ্ঠ দয়ালু।|sura=আল-আরাফ|verse=১৫১}}&lt;br /&gt;
* {{quran|অতঃপর তারা যখন ভুমিকম্প দ্বারা আক্রান্ত হলো তখন মূসা বললেন, ‘হে আমার রব! আপনি ইচ্ছে করলে আগেই তো এদেরকে এবং আমাকেও ধ্বংস করতে পারতেন! আমাদের মধ্যে যারা নির্বোধ, তারা যা করেছে সে জন্য কি আপনি আমাদেরকে ধ্বংস করবেন? এটা তো শুধু আপনার পরীক্ষা, যা দ্বারা আপনি যাকে ইচ্ছে বিপদ্গামী করেন এবং যাকে ইচ্ছে সৎপথে পরিচালিত করেন। আপনিই তো আমাদের অভিভাবক; কাজেই আমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আর ক্ষমাশীলদের মধ্যে আপনিই তো শ্রেষ্ঠ।|sura=আল-আরাফ|verse=১৫৫}}&lt;br /&gt;
* {{quran|‘আর আপনি আমাদের জন্য এ দুনিয়াতে কল্যাণ লিখে দিন এবং আখেরাতেও। নিশ্চয় আমরা আপনার কাছে ফিরে এসেছি [১]।|sura=আল-আরাফ|verse=১৫৬}}&lt;br /&gt;
* {{quran|মূসা বললেন, ‘হে আমাদের রব! আপনি তো ফির’আউন ও তার পরিষদবর্গকে দুনিয়ার জীবনে শোভা ও সম্পদ [১] দান করেছেন, হে আমাদের রব! যা দ্বারা তারা মানুষকে আপনার পথ থেকে ভ্রষ্ট করে [২]। হে আমাদের রব! তাদের সম্পদ বিনষ্ট করুন, আর তাদের হৃদয় কঠিন করে দিন, ফলে তারা যন্ত্রনণাদায়ক শাস্তি প্রত্যক্ষ না করা পর্যন্ত ঈমান আনবে না [৩]।|sura=ইউনুস|verse=৮৮}}&lt;br /&gt;
* {{quran|মুসা বললেন [১], ‘হে আমার রব! আমার বক্ষ সম্প্রসারিত করে দিন [২]। ‘এবং আমার কাজ সহজ করে দিন [১]। ‘আর আমার জিহবার জড়তা দূর করে দিন--- ‘যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে [১]। ‘আর আমার জন্য করে দিন একজন সাহায্যকারী আমার সজনদের মধ্য থেকে [১]; ‘আমার ভাই হারুনকে; ‘তার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় করুন, ‘এবং তাকে আমার কাজে অংশীদার করুন [১], ‘যাতে আমরা আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতে পারি প্রচুর, ‘এবং আমরা আপনাকে স্মরণ করতে পারি বেশি পরিমাণ [১]। ‘আপনি তো আমাদের সম্যক দ্রষ্টা।’|sura=ত্বা-হা|verse=২৫-৩৫}}&lt;br /&gt;
* {{quran|তিনি বললেন, ‘হে আমার রব! আমি তো আমার নিজের প্রতি যুলুম করেছি; কাজেই আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।’ অতঃপর তিনি তাকে ক্ষমা করলেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।|sura=আল-কাসাস|verse=১৬}}&lt;br /&gt;
* {{quran|তিনি বললেন, ‘হে আমার রব! আপনি যেহেতু আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, আমি কখনো অপরাধীদের সাহায্যকারী হব না [১]।|sura=আল-কাসাস|verse=১৭}}&lt;br /&gt;
* {{quran|তখন তিনি ভীত সতর্ক অবস্থায় সেখান থেকে বের হয়ে পড়লেন এবং বললেন, ‘হে আমার রব! আপনি যালিম সম্পপ্ৰদায় থেকে আমাকে রক্ষা করুন।’|sura=আল-কাসাস|verse=২১}}&lt;br /&gt;
* {{quran|আর যখন মূসা মাদ্‌ইয়ান [১] অভিমুখে যাত্রা করলেন তখন বললেন, ‘আশা করি আমার রব আমাকে সরল পথ দেখাবেন [২]।’|sura =আল-কাসাস|verse=২২}}&lt;br /&gt;
* {{quran|বললেন, ‘হে আমার রব! আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করবেন আমি তার কাঙ্গাল [১]।|sura =আল-কাসাস|verse=২৪}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch = علوم و معارف قرآن&lt;br /&gt;
| subbranch1 = معارف قرآنی&lt;br /&gt;
| subbranch2 = دعا&lt;br /&gt;
| subbranch3 =&lt;br /&gt;
 | شاخه فرعی۴ =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه = شد&lt;br /&gt;
 | تیترها = شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش = شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی = شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | بازبینی نویسنده =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =شد&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت = ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت = ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[ur:قرآن میں حضرت موسی علیه السلام کی دعائیں]]&lt;br /&gt;
[[es:Las súplicas del Profeta Moisés (P) en el Corán]]&lt;br /&gt;
[[ps:په قرآن کې د حضرت موسې(ع) دعاګانې]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%AB%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87_%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8_(%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B9)&amp;diff=1028</id>
		<title>ফুরুয়ে দ্বীন (ধর্মের শাখাসমূহ)</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%AB%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87_%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8_(%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B9)&amp;diff=1028"/>
		<updated>2025-02-28T23:41:21Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
ফুরুয়ে দ্বীন (ধর্মের শাখাসমূহ) কি কি?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
ফুরুয়ে দ্বীন তথা ধর্মের শাখাগুলোর মধ্যে রয়েছে [[নামায]], [[রোযা]], [[হজ্জ]], [[জিহাদ]], [[খুমস]], [[যাকাত]], [[সৎকর্মের প্রতি আদেশ]] (আমর বিল মাʿরুফ), [[অসৎকর্ম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ]] (নাহি আনিল মুনকার), আল্লাহর বন্ধুদের প্রতি ভালোবাসা (তাওয়াল্লা) এবং আল্লাহর শত্রুদের প্রতি ঘৃণা পোষণ (তাবাররা)।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইসলামী সংস্কৃতিতে ইবাদত সংক্রান্ত আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশকে ধর্মের শাখাসমূহ (ফুরুয়ে দ্বীন) হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ফুরুয়ে দ্বীন ইসলাম ধর্মের আমলগত বা ব্যবহারিক দিকগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। [[উসুলে দ্বীনের]] (ধর্মের মূলনীতি) ন্যায় ফুরুয়ে দ্বীনের উপর অটল থাকাও ওয়াজীব তথা বাধ্যতামূলক।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== অবস্থান ==&lt;br /&gt;
ফুরুয়ে দ্বীন বলতে সেই দায়িত্ব ও নিয়ম-নীতিকে বোঝায়, যেগুলো শরীয়তের বিধানদাতা তথা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন, মুকাল্লিফদের (শরীয়তী দৃষ্টিকোন থেকে কোন কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ) জন্য আচরণ ও কর্মের ক্ষেত্রে প্রণয়ন করেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;ফরহাং ফিকহে ফারসি, জীরে নজরে মাহমুদ হাশেমি শাহরুদি, কোম, মো&#039;আসসাসায়ে দায়েরাতুল মাআরেফিল ফিকহিল ইসলামী, ১৩৮৭ শামসি, খ:৫, পৃ:৬৭৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; ফুরুয়ে দ্বীনের উপর অটল থাকা ধর্মের মূলনীতির (উসুলে দ্বীনের) মতোই ওয়াজীব তথা অপরিহার্য। ফুরুয়ে দ্বীন এমন কিছু ব্যবহারিক দায়িত্ব ও কর্তব্যের সমষ্টি, যেগুলো মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের সুখ-শান্তি নিশ্চিত করার জন্য [[মহানবী (স)]] ওহির মাধ্যমে নিয়ে এসেছেন এবং প্রচার ও প্রসার ঘটিয়েছেন। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ধর্মের শাখাসমূহের (ফুরুয়ে দ্বীন) কোন কোনটি আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ককে নিয়ম-কানুন ও বিধিবিধান আকারে বর্ণনা করে এবং কর্তব্যগুলোকে তার সামনে তুলে ধরে; যেমন নামায, রোযা, এবং হজ্জের ন্যায় কর্তব্যসমূহসহ আরও কিছু কিছু কর্তব্য যা মানুষের একে অপরের প্রতি রয়েছে তা বিবেচনা করে মানব সম্পর্ককে নিয়ন্ত্রণ করে; যেমন জিহাদ, খুমস এবং বাণিজ্যিক লেনদেন।&amp;lt;ref&amp;gt;খাতিবি কোশকাক, মোহাম্মাদ ও হামকারান, ফরহাং শিয়া, কোম, জামজামে হেদায়াত, ১৩৮৬ শামসি, পৃ:৩৫৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইসলামী সংস্কৃতিতে ইবাদত সংক্রান্ত আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশকে ধর্মের শাখাসমূহ (ফুরুয়ে দ্বীন) হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ফুরুয়ে দ্বীন ইসলাম ধর্মের আমলগত বা ব্যবহারিক দিকগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। ইমামিয়া শিয়া মতবাদে ফুরুয়ে দ্বীনের তালিকায় নামায, রোযা, হজ্জ, জিহাদ, খুমস, যাকাত, সৎকর্মের প্রতি আদেশ (আমর বিল মাʿরুফ), অসৎকর্ম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ (নাহি আনিল মুনকার), আল্লাহর বন্ধুদের প্রতি ভালোবাসা (তাওয়াল্লা) এবং আল্লাহর শত্রুদের প্রতি ঘৃণা পোষণ (তাবাররা) অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। তবে [[সুন্নি]] মাযহাবের নিকট এই শাখাগুলোর তেমন একটা সম্প্রসারণ ঘটেনি এবং এগুলোর উপর গুরুত্বারোপ করা হয় নি।&amp;lt;ref&amp;gt;জামিয়ি আজ নাভেসান্দেগান, &amp;quot;ইসলাম&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, খ:৮, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ফুরুয়ে দ্বীনের উদাহরণসমূহ ==&lt;br /&gt;
=== নামায ===&lt;br /&gt;
ইসলামী ধর্মে, ইবাদতগত দিক থেকে প্রত্যেক মুকাল্লিফের জন্য প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে নামায আদায় করা, যা দিনে পাঁচবার পালন করা হয়। এটি মুসলমান ব্যক্তিকে তার আকীদা ও ঈমানের বিষয়টি করিয়ে দেয়। [[নামায]] একজন মুসলিমের জন্য আধ্যাত্মিক শক্তি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, যা তাকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের উৎস মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে।&amp;lt;ref&amp;gt;জামিয়ি আজ নাভেসান্দেগান, &amp;quot;ইসলাম&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, খ:৮, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== রোযা ===&lt;br /&gt;
[[রোযা]] হলো একটি ইসলামিক ইবাদত। রোযার ক্ষেত্রে  আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নৈকট্য হাসিলের উদ্দেশ্যে কিছু কিছু কাজ থেকে বিরত থাকা হয়, যেমন: ফজরের আযান হতে মাগরিবের আযান পর্যন্ত খাবার গ্রহণ ও পানাহার থেকে বিরত থাকা হয়। রোযা ফার্সি শব্দ, আরবিতে এটিকে ‘সাওম’ এবং ’সিয়াম’ শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা হয়, যার অর্থ হচ্ছে, খাওয়া, পান করা, কথা বলা এবং সহবাস করা থেকে বিরত থাকা।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং পরিশোধনের লক্ষ্যে রোযা রাখার বিষয়টি পূর্ববর্তী অনেক ধর্মে যেমন: মায়া, হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও মণীশীয়  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, এবং এটি অনেক প্রাচীন ধর্ম ও রীতিতে, যেমন মায়া, হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন এবং মণীশীয় ধর্মে প্রচলিত রয়েছে। রোযা ইসলাম ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচিত। হাদীসগুলোতে এটিকে ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি হিসেবে পরিচয় করানো হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
হাদিসগুলোতে রোযার (বিশেষ করে রমজান মাসের রোযার) বিভিন্ন বস্তুগত এবং আধ্যাত্মিক ফজিলত ও উপকারিতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে, উদাহরণস্বরূপ আমল গ্রহণযোগ্য হওয়া, দোয়া কবুল হওয়া, বেহেশতে প্রবেশ করা, আখেরাতে নেয়ামত ও পরকালের আযাব (আগুনে নিক্ষেপ থেকে মুক্তি) হতে পরিত্রাণ, যা রোযাদারদের উপর আল্লাহর বিশেষ দৃষ্টির বিষয়টি তুলে ধরে। এসব বর্ণনায় বলা হয়েছে, রোযাদারের ঘুম হচ্ছে ইবাদত, তার প্রতিটি শ্বাস প্রশ্বাস হচ্ছে আল্লাহর তসবীহ, এবং রোযাকে শরীরের যাকাত হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;হোসেইনি আহক, মারইয়াম, &amp;quot;রোজেহ&amp;quot;, দানেশনামায়ে জাহানে ইসলাম, তেহরান, বুনিয়াদে দায়েরাতুল মাআরেফে ইসলামী, ১৩৯৪ শামসি, খ:২০, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== হজ্জ ===&lt;br /&gt;
ইসলামী লেখা এবং উৎসসমূহে বিশেষ করে ফিকহী সূত্রগুলোতে, সুনির্দিষ্ট কিছু ইবাদত ও আমল সম্পাদনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে [[কাবা’র]] (বাইতুল্লাহিল হারাম) উদ্দেশ্যে যাত্রা করাকে [[হজ্জ]] বলে অভিহিত করা হয়েছে। কিছু কিছু ফকীহ’র মতে, হজের ফিকহী শব্দটি ফিকহী পরিভাষায়, হজ্জ বলতে কিছু আমলকে নির্দেশ করে, যেগুলো মক্কায় নির্দিষ্ট স্থানে সম্পাদিত হয়। হজ্জের রীতিনীতি ও আমলসমূহের সমষ্টিকে হজ্জের আনুষ্ঠানিকতা (মানাসেকে হাজ্জ) বলা হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[কুরআন]] শরীফে হজ্জ সম্পর্কিত বিভিন্ন আয়াত রয়েছে। হজ্জকে শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য ওয়াজীব, ধর্মের অন্যতম বৃহৎ নিদর্শন এবং সম্মান ও শ্রদ্ধার বলে গণ্য করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;হোসেইনি আহক, মারইয়াম, &amp;quot;হজ&amp;quot;, দানেশনামায়ে জাহানে ইসলাম, তেহরান, বুনিয়াদে দায়েরাতুল মাআরেফে ইসলামী, ১৩৯৩ শামসি, খ:১২, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== যাকাত (যাকাত) ===&lt;br /&gt;
পবিত্র কুরআনে ইসলাম ধর্মের অন্যতম প্রথম একটি নির্দেশ হিসেবে কয়েকবার নামায প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশের পাশাপাশি [[যাকাত]] প্রদানের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। যাকাতের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে ‘যা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়’ বা ‘প্রবৃদ্ধি লাভ’ যা কুরআনেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এটি একটি আধ্যাত্মিক পরিচ্ছন্নতা বা পরিশুদ্ধতা।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এ কারণে কুরআনের আয়াতগুলোর প্রথম ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যে যাকাতকে অন্য সব ইবাদতের মতো একটি ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা সঠিক হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে নিয়্যত ও আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের শর্তের উপর।&lt;br /&gt;
 &lt;br /&gt;
যাইহোক, ব্যক্তিগত ইবাদতের দিকটি ছাড়াও যাকাতের একটি সামাজিক দিকও রয়েছে। যাকাতের সামাজিক দিকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাকাত সামাজিকভাব সম্পদ বণ্টনের একটি মাধ্যম হিসেবে এবং মুসলিম জনসাধারণের সমষ্টিগত চাহিদাগুলো পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।&amp;lt;ref&amp;gt;জামিয়ি আজ নাভেসান্দেগান, &amp;quot;ইসলাম&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, খ:৮, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== খুমস ===&lt;br /&gt;
পবিত্র কুরআনে খুমসের উল্লেখ করা হয়েছে যে, গনিমতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আহলে সুন্নতের ফিকহে, এই এক-পঞ্চমাংশ করকে শুধুমাত্র যুদ্ধের গনিমত এবং কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। তবে, বারো ইমামিয়া শিয়া ফিকহে উল্টো, বিভিন্ন হাদীসের মাধ্যমে কুরআনের আয়াতটিকে সম্প্রসারিত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়কে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। উক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে  &amp;quot;উপার্জনের মুনাফা&amp;quot; ধারণাটি যা খুমসকে সাধারণ কর হিসেবে সর্বক্ষেত্রে ও সর্ব সময়ের জন্য প্রযোজ্য উল্লেখ করে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ক্ষেত্রে অন্তর্ভূক্ত করেছে; এই অর্থে যে, প্রত্যেক মুকাল্লিফ অবশ্যই তার এক বছরের উপার্জনকে সম্পদ হিসাব করবে এবং সারা বছর খরচ করার পর যা অবশিষ্ট থাকবে তার এক-পঞ্চমাংশকে [[খুমস]] হিসেবে প্রদান করবে।&amp;lt;ref&amp;gt;জামিয়ি আজ নাভেসান্দেগান, &amp;quot;ইসলাম&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, খ:৮, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== জিহাদ ===&lt;br /&gt;
[[জিহাদ]] হচ্ছে আল্লাহর রাস্তায় বৈধ যুদ্ধ, যা ইসলামী ফিকহের একটি অধ্যায়। ধর্মীয় সূত্রসমূহে এই শব্দটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক অর্থটি হচ্ছে এর সাধারণ অর্থটিই। এটা হচ্ছে এক ধরনের বিশেষ প্রচেষ্টা অর্থাৎ ইসলাম প্রচার বা এর রক্ষার লক্ষ্যে নিজের জীবন, সম্পদ ও অন্যান্য যা কিছু আছে তা দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রাম করাই হচ্ছে জিহাদ।&amp;lt;ref&amp;gt;সররামি, সাইফুল্লাহ ও সাঈদ এদালাতনেজাদ, &amp;quot;জিহাদ&amp;quot;, দানেশনামায়ে জাহানে ইসলাম, তেহরান, বুনিয়াদে দায়েরাতুল মাআরেফে ইসলামী, ১৩৯৩ শামসি, খ:১১, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার ===&lt;br /&gt;
[[আমর বিল মারুফ]] (ভাল কাজ করার নির্দেশ দেওয়া) এবং নাহি আনিল মুনকার (খারাপ কাজ থেকে নিষেধ করা) দুটি পরিভাষা যা আল্লাহর কুরআনের প্রাচীন তাফসীরগুলোতে হযরত [[মুহাম্মাদ (স.)]] ও  ইসলাম ধর্মের অনুসরণ এবং আল্লাহকে অস্বীকার ও রাসূলুল্লাহ (স.) ও তাঁর ধর্মকে অস্বীকার করতে নিষেধ করা হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে। বলা যেতে পারে যে, আমর বিল মারুফ হচ্ছে ধর্মের শিক্ষা ও ধর্মের রীতি অনুযায়ী যা গ্রহণযোগ্য ও পছন্দনীয় তা প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সক্রিয় পদক্ষেপ। আর, নাহি আনিল মুনকার হচ্ছে যা  কিছু অগ্রহণযোগ্য ও অপছন্দনীয় তা ধ্বংস করার একটি প্রতিক্রিয়া।&amp;lt;ref&amp;gt; জাবেরি-জাদে, আব্দুল আমির, &amp;quot;আমরে বে মারুফ ওয়া নহিয়ে আজ মোনকার&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, খ:১০, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তাওয়াল্লা ও তাবাররা ==&lt;br /&gt;
দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা ’[[তাওয়াল্লা]]’ অর্থ আল্লাহর বন্ধুদের এবং ন্যায়বিচারের সমর্থকদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা এবং ’[[তাবাররা]]’ অর্থ অত্যাচারী ও আল্লাহর শত্রুদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করা। এই নীতিগুলি ন্যায়ের পক্ষ অবলম্বনকারীদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে সহায়ক এবং সমাজে অন্যায়ের নির্মূল করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।&amp;lt;ref&amp;gt;&amp;quot;[https://makarem.ir/main.aspx?typeinfo=42&amp;amp;lid=0&amp;amp;catid=29262&amp;amp;mid=318146 মাফহুমে তাওয়াল্লি ওয়া তাবার্রি]&amp;quot;, পায়গাহে এত্তেলাআরাসানিয়ে দফতারে আয়াতুল্লাহ মাকারেম শিরাজি, এন্তেশার: ২১ আবান ১৪০২ শামসি।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
তাবাররা মানে হলো আল্লাহর বন্ধুদের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তাঁর শত্রুদের সাথে ঘৃণামূলক সম্পর্ক তৈরি করা।&amp;lt;ref&amp;gt;&amp;quot;তাওয়াল্লি ওয়া তাবার্রি&amp;quot;, পায়গাহে জামেআয়ে উস্তাদে শাহিদ মরতেজা মুতাহহারি, এন্তেশার: ২১ আবান ১৪০২ শামসি।&amp;lt;/ref&amp;gt; কুরআনের অনেক আয়াতে তাওয়াল্লা ও তাবাররা উল্লেখিত হয়েছে, যেগুলো হতে পরবর্তীতে ফিকহ এবং কালামশাস্ত্রে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই ধরণের আয়াতগুলো, শয়তান, কাফের, অ-মুমিন, যারা আল্লাহর ক্রোধের শিকার এবং যারা ধর্মের বিষয়ে মুমিনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের প্রতি তাওল্লা করতে নিষেধ এবং আল্লাহ, রাসূল (স.) ও মুমিনগণের প্রতি তাওল্লা করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;জাবেরি, আমির, &amp;quot;তাওয়াল্লা ওয়া তাবার&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, তেহরান, দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, খ:১৬, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== সম্পর্কিত নিবন্ধ ==&lt;br /&gt;
* [[ইসলাম ধর্মের মূলনীতি (উসুলে দ্বীন)]]&lt;br /&gt;
* [[উসুলে দ্বিন এবং ফুরূয়ে দ্বিনের মধ্যে পার্থক্য]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch =کلام&lt;br /&gt;
|subbranch1 =&lt;br /&gt;
|subbranch2 =&lt;br /&gt;
|subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه =شد&lt;br /&gt;
 | تیترها =شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | بازبینی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت =ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:فروع دین]]&lt;br /&gt;
[[ar:فروع الدین]]&lt;br /&gt;
[[ms:Furu&#039;uddin]]&lt;br /&gt;
[[ru:Фуру’ ад-Дин (Ветви религии)]]&lt;br /&gt;
[[es:Los Ramas de la Religión (Furūʿ al-Dīn)]]&lt;br /&gt;
[[ps:د دین فروع]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A7%80_(%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%81_%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B9%E0%A6%BF_%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE_%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A6%BF)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%89%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%B0_%E0%A6%B6%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%B2%E0%A7%80&amp;diff=1027</id>
		<title>মহনবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি)-এর উত্তরসূরির শর্তাবলী</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A7%80_(%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%81_%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B9%E0%A6%BF_%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE_%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A6%BF)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%89%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%B0_%E0%A6%B6%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%B2%E0%A7%80&amp;diff=1027"/>
		<updated>2025-02-28T22:36:21Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
শিয়া ও সুন্নি সম্প্রদায়, নবী (স.)-এর উত্তরসূরির জন্য কী কী শর্ত থাকা আবশ্যক বলে মনে করে। এই বিষয়ে উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে কী কী পার্থক্য বিদ্যমান?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{portal|غدیر}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
[[শিয়া]] কালামশাস্ত্রবিদ [[খাজা নাসিরুদ্দিন তুসি]] তার &amp;quot;রিসালাতুন ফিল ইমামাহ&amp;quot; (ইমামত সম্পর্কিত গ্রন্থ) নামক গ্রন্থে ইমামের জন্য আটটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্যের কথা বর্ণনা করেছেন, যা নিম্নরূপ: ১. নিষ্পাপতা ([[ইসমাত]]), ২. শরীয়ত ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অগাধ জ্ঞান, ৩. অসীম সাহস, ৪. কামালাত তথা যোগ্যতার দিক থেকে শ্রেষ্ঠত্ব, ৫. শারীরিক ও আত্মিক ত্রুটি-বিচ্যুতি মুক্ত, ৬. আল্লাহর নৈকট্য হাসিল, ৭. [[মুজিজা]] প্রদর্শনের ক্ষমতা, ৮. পদমর্যাদায় এককত্ব। শিয়া দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, ইমামকে অবশ্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে নিযুক্ত হতে হবে, যাতে তিনি সঠিকভাবে পথপ্রদর্শন ও ধর্ম রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তাই যে কেউ নিজে থেকে এই অবস্থানের জন্য যে কাউকে নির্ধারণ করতে পারেন না। শিয়ারা ইমামের ইসমাত তথা নিষ্পাপতাকে একটি মূল বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচনা করে থাকে, কারণ এটি ছাড়া শরীয়তের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হবে। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[সুন্নিরা]] ইমামের জন্য বেশ কিছু শর্ত বিবেচনা করে, যেমন: ১. কুরাইশ গোত্রের সদস্য হওয়া, ২. [[ন্যায়পরায়ণতা]], ৩.[[ প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া]] (বালিগ), ৪. সাহস। তবে কিছু অন্যান্য গুণ যেমন ইজতিহাদ (ধর্মীয় বিধান উদ্ভাবনের ক্ষমতা) এবং কিফায়া (যোগ্যতা) নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশ সুন্নি ইমামের কুরাইশ গোত্র হওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করে তবে তাদের কিছু কিছু দল যেমন, খাওয়ারিজ এবং মুতাজিলা এই শর্ত প্রত্যাখ্যান করে। সুন্নিরা মনে করে যে ইমামের নিষ্পাপ হওয়া আবশ্যক নয়। এমনকি যদি তিনি ভুলও করেন, তবুও তার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক। এতদসত্ত্বেও কেউ কেউ এই বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। আর প্রথম তিন খলিফার ([[আবু বকর]], [[উমর]] ও [[উসমান]]) মধ্যে উল্লেখিত গুণাবলীর কিছু কিছুর অনুপস্থিতির কারণে, কিছু লোক মনে করে যে এই বৈশিষ্ট্যগুলি ইমামের জন্য অপরিহার্য নয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== শিয়া মতে ইমামের শর্তাবলী ==&lt;br /&gt;
শিয়া ধর্মতাত্ত্বিকদের মধ্যে, [[খাজা নাসিরুদ্দিন তুসি]] তার ইমামত সম্পর্কিত গ্রন্থে ইমামের গুণাবলির সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ তালিকা উপস্থাপন করেছেন। তিনি ইমামের জন্য আটটি মৌলিক গুণাবলীকে অপরিহার্য জ্ঞান করেছেন:&lt;br /&gt;
# ইসমাত তথা নিষ্পাপত্ব&lt;br /&gt;
# শরীয়তী বিধি-বিধান ও ব্যবস্থাপণা সম্পর্কে অগাধ জ্ঞান&lt;br /&gt;
# অসীম সাহসিকতা&lt;br /&gt;
# কামালাত তথা যোগ্যতায় শ্রেষ্ঠত্ব&lt;br /&gt;
# শারীরিক, আত্মিক ও বংশগত ত্রুটিমুক্ততা&lt;br /&gt;
# পরলৌকিক পুরস্কার নিশ্চিতে আল্লাহর নৈকট্য হাসিল&lt;br /&gt;
# প্রয়োজনে মুজিজা প্রদর্শনের ক্ষমতা&lt;br /&gt;
# ইমামতের পদে এককত্ব।&amp;lt;ref&amp;gt;তুসী, নাসিরউদ্দিন, তালখিসুল মুহাসসাল (আরবি), বেইরুত, দারুল আদওয়া, ১৪০৫হি, পৃ৪২৯-৪৩০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[ইমামিয়া শিয়ারা]] [[খিলাফত]] ও ইমামতকে নবুয়তের মতোই ঐশ্বরিক পদ হিসেবে বিবেচনা করে। খলিফা ও ইমামের দায়িত্ব হল শরিয়ত সংরক্ষণ, ধর্মের প্রচার ও প্রসার এবং ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সমস্যা সমাধান করা। এজন্যই গ্রহনযোগ্য ও বৈধ ইমামের জন্য এমন কিছু শর্ত ও বৈশিষ্টাবলীর কথা বলা হয়, যা না থাকলে একজন ব্যক্তি নিশ্চিতভাবে ইমাম ও নবীর উত্তরসূরি হতে পারে না।&amp;lt;ref&amp;gt;সুবহানী, জাফর, দানেশ নামায়ে কালামে ইসলামী, জি১, কুম, মো&#039;আসসাসায়ে ইমাম সাদিক, ১৩৮৭শ, পৃ৪২৬-৪৩০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== ইসমাত তথা নিষ্পাপত্ব ===&lt;br /&gt;
{{main|ইসমাত}}&lt;br /&gt;
ইমাম ও খলিফাকে অবশ্যই নিষ্পাপ বা মাসুম হতে হবে, অর্থাৎ পাপ, ভুল ও ত্রুটিমুক্ত। যদি ইমাম নিষ্পাপ না হন, তাহলে শরিয়তের প্রতি আস্থা নষ্ট হয়ে যাবে; প্রকৃতপক্ষে, ধর্মের রক্ষক যদি পাপে লিপ্ত হয় বা ভুল করে থাকে তবে তার দ্বারা ধর্মে পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের সম্ভাবনা থাকে এবং ঐ পরিবর্ধন আল্লাহর উপর আরোপ করার সম্ভাবনা থাকে অথবা সে কোন হুকুমের ক্ষেত্রে ন্যায় বহির্ভূত আচরণ করতে পারে। এছাড়াও সাধারণ মানুষের দ্বারা ভুল ও পাপ সংঘটিত হতে পারে, সুতরাং তাদের জন্য এমন কারও প্রয়োজন যে তাদেরকে ভুল বা পাপাচার থেকে দূরে রাখবে এবং সঠিক পথে পরিচালিত করবেন। অথচ ইমামও যদি পাপে লিপ্ত ও ভুলে নিমজ্জিত হন তবে এটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের সাথে সাংঘর্ষিক হবে।&amp;lt;ref&amp;gt;খানসারি, মুহাম্মাদ বাকির, ইনসাফ দর ইমামত, তেহরান, নশর-এ সাদূক, ১৩৭১শ, পৃ৩৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত ===&lt;br /&gt;
{{main|আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত}}&lt;br /&gt;
ইমামত ও খিলাফত হল আল্লাহ ও নবী করিম (স.)-এর প্রতিনিধিত্ব; তাই এটির নিয়োগ স্পষ্টভাবে মহান আল্লাহ রাববুল আলামীন ও নবী (স.)-এর পক্ষ থেকে হতে হবে। যেহেতু তাদের নিয়োগের অধিকার কেবল আল্লাহ ও তার রাসূলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তাই অন্যদের ইমাম নিয়োগের অধিকার নেই। প্রকৃতপক্ষে, যদি ইমামের নিয়োগের বিষয়টি মানুষের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে তাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দেবে—প্রতিটি গোষ্ঠী কাউকে না কাউকে নির্বাচন করবে এবং অন্যদের তুলনায় তাকে প্রাধান্য দেবে। সুতরাং ইমামকে অবশ্যই আল্লাহ ও তার রাসূল (স.) এর পক্ষ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত হতে হবে।&amp;lt;ref&amp;gt;খানসারি, মুহাম্মাদ বাকির, ইনসাফ দর ইমামত, তেহরান, নশর-এ সাদূক, ১৩৭১শ, পৃ৩১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== ইমামের জ্ঞান ===&lt;br /&gt;
{{main|ইমামের জ্ঞান}}&lt;br /&gt;
শিয়া ধর্মতাত্ত্বিকদের মতে, নবী (স.)-এর ইমাম ও খলিফাকে অবশ্যই ধর্মীয় ও পার্থিব সকল বিষয়ে মুসলমানদের প্রয়োজনীয় সমস্ত জ্ঞানে পারদর্শী হতে হবে। কারণ, ইমাম নিয়োগের উদ্দেশ্য হল মুসলমানরা যেন তাদের যে কোন সমস্যার সমাধানের জন্য তার শরণাপন্ন হতে পারে। ইমামিয়া শিয়ারা মনে করেন যে, ইমামতের ক্ষেত্রে জ্ঞান ও যোগ্যতা সর্বোচ্চ স্তরে থাকা আবশ্যক। শিয়া সূত্রগুলো নির্দেশ করে যে, ইমামকে অবশ্যই সকল ইসলামী জ্ঞান ও  শরীয়তের পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানের অধিকারী হতে হবে। কারণ, এই জ্ঞান ছাড়া ইমামতের লক্ষ্য (শরীয়তের বিধান সংরক্ষণ ও ব্যাখ্যা করা) পূর্ণভাবে অর্জিত হতে পারে না।&amp;lt;ref&amp;gt;সুবহানী, জাফর, দানেশ নামায়ে কালামে ইসলামী, জি১, কুম, মো&#039;আসসাসায়ে ইমাম সাদিক, ১৩৮৭শ, পৃ৪২৬-৪৩০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== ইমামের শ্রেষ্ঠত্ব ===&lt;br /&gt;
{{main|ইমামের শ্রেষ্ঠত্ব}}&lt;br /&gt;
পূর্ণাঙ্গ গুণাবলির ক্ষেত্রে যেমন জ্ঞান, প্রজ্ঞা, উদারতা, বীরত্ব, সাহস, [[ন্যায়পরায়ণতা]], ধার্মিকতা, ইবাদতের ক্ষেত্রে ইমামকে অবশ্যই সকল মুসলিমের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হতে হবে।&amp;lt;ref&amp;gt;খানসারি, মুহাম্মাদ বাকির, ইনসাফ দর ইমামত, পৃ৩২।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইমামের শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়টি এমন একটি বিষয় যা জায়দিয়া ও ইসমাঈলিয়া’র ন্যায় কিছু কিছু ফিরকাও এই ধারনায় বিশ্বাসী। এছাড়াও, মোল্লা সদরার মতো কোন কোন  পণ্ডিত বিশ্বাস করেন যে, ইমামগণ সৃষ্টি গত দিক থেকে অন্য সকল সৃষ্টির চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং উচ্চতর মর্যাদার অধিকারী।&amp;lt;ref&amp;gt;সুবহানী, জাফর, দানেশ নামায়ে কালামে ইসলামী, জি১, কুম, মো&#039;আসসাসায়ে ইমাম সাদিক, ১৩৮৭শ, পৃ৪২৬-৪৩০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আহলে সুন্নতের দৃষ্টিতে ইমামের শর্তাবলী ==&lt;br /&gt;
বিশিষ্ট সুন্নি পণ্ডিত সা&#039;দুদ্দীন আত-তাফতাজানী, সুন্নিদের মতানুসারে, ইমামের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলোর একটি তুলনামূলক পূর্ণাঙ্গ তালিকায় উল্লেখ করেছেন:&lt;br /&gt;
* [[প্রাপ্তবয়স্কতা]] (বালিগ),&lt;br /&gt;
* [[ন্যায়পরায়ণতা]],&lt;br /&gt;
* মুক্ত হওয়া (দাসত্বমুক্ত),&lt;br /&gt;
* পুরুষ হওয়া,&lt;br /&gt;
* [[ইজতিহাদ]] (ধর্মীয় বিধান উদ্ভাবনের ক্ষমতা),&lt;br /&gt;
* সাহস,&lt;br /&gt;
* পরিচালনা দক্ষতা,&lt;br /&gt;
* কুরাইশ গোত্রের সদস্য হওয়া।&amp;lt;ref&amp;gt;তাফতাযানী, সাদউদ্দিন, শরহুল মাকাসিদ (আরবি), জি৫, কুম, মনশুরাতে শরীফ রেযি, ১৪০৯হি, পৃ২৪৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
তিনি ব্যাখ্যা করেন যে প্রথম চারটি  শর্তের ব্যাপারে সকলেই একমত। তবে ইজতিহাদ, সাহস ও পরিচালনা দক্ষতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কোন কোন কালামশাস্ত্রবিদ এগুলোর অধিকারী হওয়াকে বাধ্যতামূলক বলে মনে করেন না, কারণ এসব গুণের কমতি শুধুমাত্র প্রয়োজনের অতিরিক্ত ও অযাচিত দায়িত্বের সৃষ্টি করতে পারে। কুরাইশ বংশীয় হওয়ার শর্তটি অধিকাংশ মুসলিম গ্রহণ করেছেন, যদিও [[খাওয়ারিজ]] ও [[মুতাজিলা]] সম্প্রদায়ের কেউ কেউ এটা প্রত্যাখ্যান করেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;তাফতাযানী, সাদউদ্দিন, শরহুল মাকাসিদ (আরবি), জি৫, কুম, মনশুরাতে শরীফ রেযি, ১৪০৯হি, পৃ২৪৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অপর সুন্নি পণ্ডিত আহমাদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব আন-নুওয়াইরী তার গ্রন্থ নিহায়াতুল আরব ফি ফুনুনিল আদব-এ ইমামত পদের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলোকে কয়েকটি বিভাগে বর্ণনা করেছেন। তিনি এ শর্তগুলোকে দুই ভাগে শ্রেণিবদ্ধ করেন:&lt;br /&gt;
# প্রচলিত শর্তাবলী (সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত),&lt;br /&gt;
# ধর্মীয় শর্তাবলী (শরীয়াহ ভিত্তিক)।&lt;br /&gt;
এরপর তিনি ইমামের শর্তাবলীকে একটি সাধারণ শ্রেণিবিন্যাসে উপস্থাপন করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;নাওয়াবী, আহমাদ, নিহায়াতুল আরব ফি ফুনুনিল আদব (আরবি), জি৬, কায়রো, দারুল কুতুব ওয়াল ওসাইফ আল-কওমিয়া, ১৪২৩হি, পৃ১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== বংশগত শর্ত ===&lt;br /&gt;
সুন্নি সূত্রগুলোতে, ইমাম হওয়ার প্রাথমিক শর্ত হিসেবে কুরাইশ গোত্রীয় হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সুন্নিরা এ সংক্রান্ত যে হাদিসটি উদ্ধৃত করে, তাতে বলা হয়েছে: &amp;quot;ইমাম অবশ্যই কুরাইশ গোত্রের হবেন।&amp;quot;[১০] সুতরাং, যদি কুরাইশ গোত্রে ইমামতের প্রয়োজনীয় শর্তপূরণকারী কেউ না পাওয়া যায়, তাহলে কুরাইশের নিকটতম গোত্র কিনানাহ থেকে ইমাম নির্বাচন করতে হবে। যদি কিনানাহ গোত্রেও যোগ্য ব্যক্তি না পাওয়া যায়, তাহলে অন্যান্য আরব গোত্র থেকে ইমাম নির্বাচিত হবে।&amp;lt;ref&amp;gt;নাওয়াবী, আহমাদ, নিহায়াতুল আরব ফি ফুনুনিল আদব (আরবি), জি৬, কায়রো, দারুল কুতুব ওয়াল ওসাইফ আল-কওমিয়া, ১৪২৩হি, পৃ১-৩।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== জ্ঞান ও দক্ষতা ===&lt;br /&gt;
সুন্নি মতে ইমামতের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো ইমামের ধর্মীয় বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান ও বোঝাপড়া থাকতে হবে। ইমামকে অবশ্যই [[যাকাত]] ব্যবস্থাপনা, [[জিহাদ]] পরিচালনা এবং যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টনের বিষয়ে দক্ষ হতে হবে। এই শর্তের যুক্তি হলো: যদি ইমাম শরীয়ত ও ধর্মীয় বিধি-বিধান সম্পর্কে বিস্তারিত ও পর্যাপ্ত জ্ঞানের অধিকারী না হন, তবে তিনি সেগুলো বাস্তবায়নে সক্ষম হবেন না। নবাবী এ বিষয়ে বলেছেন: ”ইমামতের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিষয়াদী সম্পর্কে যে ইমাম জ্ঞান রাখেন না, সেই ইমামের উপস্থিতি আর অনুপস্থিতি একই কথা।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;নাওয়াবী, আহমাদ, নিহায়াতুল আরব ফি ফুনুনিল আদব (আরবি), জি৬, কায়রো, দারুল কুতুব ওয়াল ওসাইফ আল-কওমিয়া, ১৪২৩হি, পৃ২।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এছাড়া সুন্নি সূত্রগুলোতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, ইমামকে অবশ্যই সাধারণ বিষয়াবলি, সুসজ্জিত বাহিনী এবং সীমান্ত রক্ষার ক্ষেত্রে সাহসী হতে হবে। এছাড়াও ব্যক্তিগত ইচ্ছার প্রভাবমুক্ত হয়ে ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা থাকতে হবে।&amp;lt;ref&amp;gt;আল-আবদারী আল-গারনাতী, মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ, আত-তাজ ওয়াল ইকলিল লিমুখতাসার খালিল (আরবি), জি৮, বেইজান, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, ১৪১৬হি, পৃ৩৬৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== ন্যায়পরায়ণতা ===&lt;br /&gt;
সুন্নি কালামশাস্ত্রীয় সূত্রসমূহের তথ্য অনুযায়ী, ইমামকে অবশ্যই ন্যায়পরায়ণ হতে হবে। ধর্মীয় বিষয়াবলী ও ব্যক্তিগত  লেনদেনের ক্ষেত্রে তাকে ন্যায়নীতিবান হতে হবে। আহলে সুন্নতের একটি দলের পণ্ডিতের যুক্তি হলো, যেহেতু ফাসেক ব্যক্তি ঈমানের গণ্ডির বাইরে অবস্থান করে, তাই এমন ব্যক্তি মুসলিমদের ইমামতের দায়িত্ব পালন করার যোগ্যতা রাখে না। যদি কুরাইশ গোত্রের মধ্যে একজন আলেম (জ্ঞানী) কিন্তু নীতিবান নয়, পক্ষান্তরে একজন আলেম নয় কিন্তু নীতিবান ব্যক্তি উপস্থিত থাকেন, তবে উক্ত [[নীতিবান]] ব্যক্তিকেই ইমাম নির্বাচন করতে হবে। প্রয়োজনে, তিনি ধর্মীয় পণ্ডিতদের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেবেন।&amp;lt;ref&amp;gt;নাওয়াবী, আহমাদ, নিহায়াতুল আরব ফি ফুনুনিল আদব (আরবি), জি৬, কায়রো, দারুল কুতুব ওয়াল ওসাইফ আল-কওমিয়া, ১৪২৩হি, পৃ২-৩।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সুন্নিদের অন্যান্য কালামশাস্ত্রীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইমামকে অবশ্যই [[ন্যায়পরায়ণ]] ও [[পরহেজগার]] হতে হবে যাতে করে তিনি জনগণকে সত্য পথে পরিচালিত করতে সক্ষম হন। কারণ যে ব্যক্তির ন্যায়পরায়ণতা নেই, সে নেতৃত্বের জন্য যোগ্য নয়। সুন্নিদের মতে, সরকার বহিঃশত্রুর দ্বারা আক্রান্ত হলে প্রয়োজন অনুসারে তাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতে হবে। অথচ কোনো অত্যাচারী শাসকের সমর্থন করা বৈধ নয়। সুতরাং শাসককে সর্বদা ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সচেষ্ট হতে হবে।&amp;lt;ref&amp;gt;আল-আবদারী আল-গারনাতী, মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ, আত-তাজ ওয়াল ইকলিল লিমুখতাসার খালিল (আরবি), জি৮, বেইজান, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, ১৪১৬হি, পৃ৩৬৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== পূর্ববর্তী ইমাম কর্তৃক নিয়োগ অথবা চল্লিশ মু’মিনের পক্ষ থেকে নির্বাচন ===&lt;br /&gt;
যদি কোনো ব্যক্তি ইমামতের জন্য প্রয়োজনীয় সকল শর্তের অধিকারী হন এবং পূর্ববর্তী ইমাম তাকে নিজের উত্তরসূরি হিসেবে নিযুক্ত করে যান, তবে তার নিয়োগে কোনো আপত্তি নেই। যদি পূর্ববর্তী ইমাম কাউকে উত্তরসূরি হিসেবে নিযুক্ত না করে থাকেন, কিন্তু মুসলিম সমাজের জন্য নতুন ইমাম নিয়োগ জরুরি হয়ে পড়ে, তাহলে চল্লিশজন আদেল (ন্যায়পরায়ণ) ও আলেম (পণ্ডিত) মুসলিম ব্যক্তি পর‌্যালোচনা ও ইজতিহাদের মাধ্যমে ইমাম নির্বাচন করতে পারেন। এই নির্বাচনে সর্বপ্রথম সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তিকে সম্মতি জ্ঞাপন  ও চুক্তি করবেন, তারপর অন্যান্য জ্ঞানহীন ব্যক্তিরা।&amp;lt;ref&amp;gt;নাওয়াবী, আহমাদ, নিহায়াতুল আরব ফি ফুনুনিল আদব (আরবি), জি৬, কায়রো, দারুল কুতুব ওয়াল ওসাইফ আল-কওমিয়া, ১৪২৩হি, পৃ১-৩।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বিচারক আব্দুর রহমান আল-ইজ্জী এ বিষয়ে বলেন:&lt;br /&gt;
::{{arabic|translation=ইমামত প্রতিষ্ঠিত হয় বাইয়াত বা আনুগত্যের শপথের মাধ্যমে, যেমন আবু বকরের ইমামতের ক্ষেত্রে হয়েছিল... ইমামত প্রতিষ্ঠার জন্য উম্মতের সর্বসম্মতি প্রয়োজন নয়। কারণ, ইমামত প্রতিষ্ঠার জন্য সম্পূর্ণ সম্প্রদায়ের শপথ আবশ্যক—এমন কোনো যুক্তিগ্রাহ্য বা ধর্মীয় প্রমাণ নেই। সিদ্ধান্তগ্রহণকারী ব্যক্তিদের মধ্য থেকে এক বা দুজনের বাইয়াতই ইমামত প্রতিষ্ঠার জন্য যথেষ্ট।}}&amp;lt;ref&amp;gt;কাযী ইজি, আল-মাওয়াকিফ, জি৩, পৃ৫৯৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== ইমামতের কিছু কিছু শর্ত প্রত্যাখ্যান ===&lt;br /&gt;
মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি)-এর পরবর্তী তিন খলিফা, ইমামতের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু কিছু শর্তের অধিকারী না হওয়ায় সুন্নি আলেমদের মধ্যে ইমামের শর্তাবলি নিয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে। বিচারক আব্দুর রহমান আল-ইজ্জী তার মাওয়াকিফ গ্রন্থে এ শর্তগুলো উল্লেখ করে বলেন:&lt;br /&gt;
&amp;quot;ইমামিয়া শিয়ারা দাবি করেন যে, ইমাম অবশ্যই হাশেমি বংশীয়, ধর্মীয় সকল বিষয়ে অগাধ জ্ঞানী, মুজিজা প্রদর্শনে সক্ষম ও মাসুম বা নিষ্পাপ হতে হবে। কিন্তু আমরা এসব শর্ত মানি না, কারণ [[আবু বকর]] খলিফা হয়েছিলেন এই গুণাবলি ছাড়াই।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;কাযী ইজি, আবদুর রহমান বিন আহমাদ, আল-মাওয়াকিফ, জি৩, পৃ৫৮৬, দারুল জিল, বেইরুত, ১৪১৭হি।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বিচারক আবু বকর আল-বাকিলানী বলেন:&lt;br /&gt;
{{arabic|translation=ইমামের মাসুম বা নিষ্পাপ হওয়া জরুরি নয়; সমসাময়িক মানুষের মধ্যে ইমামের শ্রেষ্ঠ হওয়া আবশ্যক নয়, এমনকি জ্ঞানগত দিক থেকেও অন্যদের চেয়ে তার শ্রেষ্ঠ হওয়ারও প্রয়োজন নেই। অধিকাংশের মতে, যদি ইমাম ফাসেক হয়ে যান, মানুষের ক্ষতি করেন, তাদের সম্পদ আত্মসাৎ করেন, মানুষ হত্যা করেন, মানুষের অধিকার উপেক্ষা করেন বা শাস্তির বিধান স্থগিত রাখেন—তবুও তাকে ইমামত থেকে অপসারণ করা যাবে না। এমনকি জালিম হলেও তার আনুগত্য করা বাধ্যতামূলক।}}&amp;lt;ref&amp;gt;বাকিলানি, তাহমীদুল আওয়াইল ওয়া তালখিসুদ দালায়িল, পৃ৪৭০, মো&#039;আসসাসায়ে আল-কুতুব আস-সাকাফিয়্যাহ, বেইরুত, ১৪১৪হি।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
{{answer end}}&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch = ادیان و مذاهب&lt;br /&gt;
 | subbranch1 = شیعه امامیه&lt;br /&gt;
 | subbranch2 = عقاید شیعه&lt;br /&gt;
 | subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه = شد&lt;br /&gt;
 | تیترها = شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش = شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =شد&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | بازبینی نویسنده =&lt;br /&gt;
 | بازبینی =شد&lt;br /&gt;
 | تکمیل =شد&lt;br /&gt;
 | اولویت =ب&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[رده:اختلافات شیعه و سنی]]&lt;br /&gt;
[[fa:شرایط جانشین پیامبر(ص)]]&lt;br /&gt;
[[ar:شروط خلافة النبي (ص)]]&lt;br /&gt;
[[en:Conditions for the Successor of the Prophet (s)]]&lt;br /&gt;
[[ps:د پیغمبر(ص) د جانشین شرطونه]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%B9%E0%A6%AF%E0%A6%B0%E0%A6%A4_%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%AE_(%E0%A6%86%E0%A6%83)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%A6%E0%A7%8B%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B9&amp;diff=1026</id>
		<title>হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর দোয়াসমূহ</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%B9%E0%A6%AF%E0%A6%B0%E0%A6%A4_%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%AE_(%E0%A6%86%E0%A6%83)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%A6%E0%A7%8B%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B9&amp;diff=1026"/>
		<updated>2025-02-28T21:44:42Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
কুরআনে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর দোয়াসমূহ কি কি?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
কুরআনে বর্ণিত [[হযরত ইব্রাহিম (আ.)]] এর দোয়াসমূহের তালিকায় ইহলৌকিক ও  পরলৌকিক কল্যাণ প্রার্থনা এবং আল্লাহর সমীপে তার সাথে মোনাজাত স্থান পেয়েছে। এই দোয়াগুলোকে আল্লাহর নিকট দোয়া চাওয়ার ক্ষেত্রে মু’মিনগণের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ও  অনুপম আদর্শ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। [[কুরআনে]] হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর দোয়াসমূহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:&lt;br /&gt;
* নিজের জন্য, পিতার জন্য এবং সকল মুমিনগণের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা।&lt;br /&gt;
* সালেহীন (নেককার বা পূণ্যবান), নামায আদায়কারী ও বেহেশবাসীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আবেদন।&lt;br /&gt;
* হিকমত তথা প্রজ্ঞা, একজন নেক সন্তান এবং সুনামের আবেদন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== দোয়ার বিষয়বস্তু ==&lt;br /&gt;
কুরআনে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর উল্লেখিত দোয়াগুলোর মধ্যে রয়েছে:&lt;br /&gt;
* পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা আল-মুমতাহানা, আয়াত ৪, সূরা আল-শু&#039;আরা, আয়াত ৮৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;, &lt;br /&gt;
* নিজের জন্য ক্ষমা এবং কাফের বা অবিশ্বাসীদের জন্য পরীক্ষার মাধ্যম না হওয়ার আবেদন।&amp;lt;ref&amp;gt; সূরা আল-মুমতাহানা, আয়াত ৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* নেক সন্তানের আবেদন।&amp;lt;ref&amp;gt; সূরা আস-সাফাত, আয়াত ১০০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* জ্ঞান ও প্রজ্ঞা, নেককার বান্দাদের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত, সুনাম, বেহেশতবাসী হওয়া এবং পরকালে অপমানিত না হওয়ার আবেদন।&amp;lt;ref&amp;gt; সূরা আল-শু&#039;আরা, আয়াত ৮৩ থেকে ৮৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* বংশধরদের জন্য রিযিক ও রুজি (জীবিকার) [[প্রার্থনা]]।&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা ইব্রাহিম, আয়াত ৩৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* নামায প্রতিষ্ঠা করা, দোয়া কবুল হওয়া এবং নিজের, পিতা-মাতা ও সকল মুমিনগণের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা।&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা ইব্রাহিম, আয়াত ৪০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা ইব্রাহিম, আয়াত ৪১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* [[কাবা]]’র নিরাপত্তা বিধান এবং এর মুমিন অধিবাসীদের জন্য রিযিক তথা জীবিকা প্রদানের আবেদন।&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১২৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* কাবার নির্মাণ কবুল করার আবেদন।&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১২৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* মুসলিম হিসেবে নিজেকে ও তার বংশধরদের মধ্যে মুসলিমদের স্থান দেওয়া, তওবা কবুল হওয়া এবং ইবাদত ও ধর্মীয় রীতিনীতি শেখার আবেদন।&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১২৮।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== প্রার্থনার তালিকা ==&lt;br /&gt;
* {{quran|... لِأَبِیهِ لَأَسْتَغْفِرَنَّ لَکَ … رَبَّنَا عَلَیْکَ تَوَکَّلْنَا وَإِلَیْکَ أَنَبْنَا وَإِلَیْکَ الْمَصِیرُ|translation=।’ তবে ব্যতিক্রম তাঁর পিতার প্রতি ইবরাহীমের উক্তি: ‘আমি অবশ্যই তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব; আর তোমার ব্যাপারে আল্লাহর কাছে আমি কোনো অধিকার রাখি না|sura=আল-মুমতাহিনাহ|verse=৪}}&lt;br /&gt;
* {{quran|رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِلَّذِینَ کَفَرُوا وَاغْفِرْ لَنَا رَبَّنَا ۖ إِنَّکَ أَنْتَ الْعَزِیزُ الْحَکِیمُ|translation=হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে কাফিরদের ফিতনার পাত্র করবেন না। হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে ক্ষমা করুন; নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।|sura=আল-মুমতাহিনাহ|verse=৫}}&lt;br /&gt;
* {{quran|رَبِّ هَبْ لِی حُکْمًا وَأَلْحِقْنِی بِالصَّالِحِینَ|translation=হে আমার রব! আমাকে প্রজ্ঞা দান করুন এবং সৎকর্মশীলদের সাথে মিলিয়ে দিন।|sura=আশ-শুআরা|verse=৮৩}}&lt;br /&gt;
* {{quran|وَاجْعَلْ لِی لِسَانَ صِدْقٍ فِی الْآخِرِینَ|translation=আর আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে যশস্বী করুন|sura=আশ-শুআরা|verse=৮৪}}&lt;br /&gt;
* {{quran|وَاجْعَلْنِی مِنْ وَرَثَةِ جَنَّةِ النَّعِیمِ|translation=এবং আমাকে সুখময় জান্নাতের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন,|sura=আশ-শুআরা|verse=৮৫}}&lt;br /&gt;
* {{quran|وَاغْفِرْ لِأَبِی إِنَّهُ کَانَ مِنَ الضَّالِّینَ|translation=আর আমার পিতাকে ক্ষমা করুন, তিনি তো পথভ্রষ্টদের শামিল ছিলেন|sura=আশ-শুআরা|verse=৮৬}}&lt;br /&gt;
* {{quran|وَلَا تُخْزِنِی یَوْمَ یُبْعَثُونَ|translation=এবং আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না পুনরুত্থানের দিনে|sura=আশ-শুআরা|verse=৮৭}}&lt;br /&gt;
* {{quran|رَبِّ هَبْ لِی مِنَ الصَّالِحِینَ|translation=হে আমার রব! আমাকে এক সৎকর্মপরায়ণ সন্তান দান করুন।|sura=আস-সাফফাত|verse=১০০}}&lt;br /&gt;
* {{quran|رَبَّنَا إِنِّی أَسْکَنْتُ مِنْ ذُرِّیَّتِی بِوَادٍ غَیْرِ ذِی زَرْعٍ عِنْدَ بَیْتِکَ الْمُحَرَّمِ رَبَّنَا لِیُقِیمُوا الصَّلَاةَ فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِنَ النَّاسِ تَهْوِی إِلَیْهِمْ وَارْزُقْهُمْ مِنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ یَشْکُرُونَ|translation=হে আমাদের রব! আমি আমার বংশধরদের কিছু সংখ্যককে বসবাস করালাম [১] অনুর্বর উপত্যকায় [২] আপনার পবিত্র ঘরের কাছে [৩], হে আমাদের রব! এ জন্য যে, তারা যেন সালাত কায়েম করে [৪]। অতএব আপনি কিছু লোকের অন্তর তাদের প্রতি অনুরাগী করে দিন [৫] এবং ফল-ফলাদি দিয়ে তাদের রিযকের ব্যবস্থা করুন [৬], যাতে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে [৭]।|sura=ইবরাহীম|verse=৩৭}}&lt;br /&gt;
* {{quran|رَبَّنَا إِنَّکَ تَعْلَمُ مَا نُخْفِی وَمَا نُعْلِنُ ۗ وَمَا یَخْفَیٰ عَلَی اللَّهِ مِنْ شَیْءٍ فِی الْأَرْضِ وَلَا فِی السَّمَاءِ|translation=হে আমাদের রব! আপনি তো জানেন যা আমরা গোপন করি ও যা আমরা প্রকাশ করি; আর কোনো কিছুই আল্লাহ্‌র কাছে গোপন নেই, না যমীনে না আসমানে [১]।|sura=ইবরাহীম|verse=৩৮}}&lt;br /&gt;
* {{quran|الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِی وَهَبَ لِی عَلَی الْکِبَرِ إِسْمَاعِیلَ وَإِسْحَاقَ ۚ إِنَّ رَبِّی لَسَمِیعُ الدُّعَاءِ|translation=সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌রই, যিনি আমাকে আমার বার্ধক্যে ইসমা’ঈল ও ইসহাককে দান করেছেন। নিশ্চয় আমার রব দো’আ শ্রবণকারী [১]।|sura=ইবরাহীম|verse=৩৯}}&lt;br /&gt;
* {{quran|رَبِّ اجْعَلْنِی مُقِیمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّیَّتِی ۚ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ|translation=হে আমার রব! আমাকে সালাত কয়েমকারী করুন এবং আমার বংশধরদের মধ্য হতেও। হে আমাদের রব! আর আমার দো’আ কবূল করুন [১]।|sura=ইবরাহীম|verse=৪০}}&lt;br /&gt;
* {{quran|رَبَّنَا اغْفِرْ لِی وَلِوَالِدَیَّ وَلِلْمُؤْمِنِینَ یَوْمَ یَقُومُ الْحِسَابُ|translation=হে আমার রব! যেদিন হিসেব অনুষ্ঠিত হবে সেদিন আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং মুমিনদেরকে ক্ষমা করুন [১]।|sura=ইবরাহীম|verse=৪১}}&lt;br /&gt;
* {{quran|وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِیمُ رَبِّ اجْعَلْ هٰذَا بَلَدًا آمِنًا وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنَ الثَّمَرَاتِ مَنْ آمَنَ مِنْهُمْ بِاللَّهِ وَالْیَوْمِ الْآخِرِ|translation=আর স্মরণ করুন, যখন ইবরাহীম বলেছিলেন, &#039;হে আমার রব ! এটাকে নিরাপদ শহর করুন এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ্‌ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান আনে [১] তাদেরকে ফলমূল হতে জীবিকা প্রদান করুন’|sura=আল-বাকারা|verse=১২৬}}&lt;br /&gt;
* {{quran|وَإِذْ یَرْفَعُ إِبْرَاهِیمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَیْتِ وَإِسْمَاعِیلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ۖ إِنَّکَ أَنْتَ السَّمِیعُ الْعَلِیمُ|translation=আর স্মরণ করুন, যখন ইবরাহীম ও ইসমাঈল কাবাঘরের ভিত্তি স্থাপন করছিলেন, (তারা বলছিলেন) ‘হে আমাদের রব [১]! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন [২]। নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ [৩]।|sura=আল-বাকারা|verse=১২৭}}&lt;br /&gt;
* {{quran|رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَیْنِ لَکَ وَمِنْ ذُرِّیَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَکَ وَأَرِنَا مَنَاسِکَنَا وَتُبْ عَلَیْنَا ۖ إِنَّکَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِیمُ|translation=হে আমাদের রব ! আর আমাদের উভয়কে আপনার একান্ত অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধর হতে আপনার এক অনুগত জাতি উত্থিত করুন। আর আমাদেরকে ‘‘ইবাদাতের নিয়ম-পদ্ধতি দেখিয়ে দিন [১] এবং আমদের তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনিই বেশী তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।|sura=আল-বাকারা|verse=১২৮}}&lt;br /&gt;
* {{quran|رَبَّنَا وَابْعَثْ فِیهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ یَتْلُو عَلَیْهِمْ آیَاتِکَ وَیُعَلِّمُهُمُ الْکِتَابَ وَالْحِکْمَةَ وَیُزَکِّیهِمْ ۚ إِنَّکَ أَنْتَ الْعَزِیزُ الْحَکِیمُ|translation=হে আমাদের রব! আর আপনি তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে এক রাসূল পাঠান [১], যিনি আপনার আয়াতসমূহ তাদের কাছে তিলাওয়াত করবেন [২] ; তাদেরকে কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দেবেন [৩] এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন [৪] আপনি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়’।|sura=আল-বাকারা|verse=১২৯}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch = علوم و معارف قرآن&lt;br /&gt;
| subbranch1 = معارف قرآنی&lt;br /&gt;
| subbranch2 = دعا&lt;br /&gt;
| subbranch3 =&lt;br /&gt;
 | شاخه فرعی۴ =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه =شد&lt;br /&gt;
 | تیترها =شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | بازبینی نویسنده =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =شد&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت =ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:دعاهای حضرت ابراهیم(ع)]]&lt;br /&gt;
[[ur:قرآن میں حضرت ابراهیم علیه السلام کی دعائیں]]&lt;br /&gt;
[[es:Las súplicas del Profeta Ibrāhīm (P) en el Corán]]&lt;br /&gt;
[[ps:د حضرت ابراهیم (ع) دعاګانې په قرآن]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE_%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF_(%E0%A6%89%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8)&amp;diff=1025</id>
		<title>ইসলাম ধর্মের মূলনীতি (উসুলে দ্বীন)</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE_%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF_(%E0%A6%89%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8)&amp;diff=1025"/>
		<updated>2025-02-28T20:59:16Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
ইসলাম ধর্মের মূলনীতিসমূহ কী কী?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
ইসলাম ধর্মের মূলনীতি (উসুলে দ্বীন) হিসেবে [[তাওহীদ]], [[নবুওয়াত]] এবং [[মাআদ]] বা কিয়ামতকে গন্য করা হয়। বলা হয় যে, এই তিনটি মূলনীতি হচ্ছে ধর্মের ভিত্তি এবং স্তম্ভ। শিয়া পণ্ডিতগণ এই তিনটি মূলনীতির সাথে [[আদল]] ও [[ইমামত]] নামক আরও দুটি মূলনীত যোগ করেছেন। ফলে, শিয়াদের নিকট উসুলে দ্বীন হচ্ছে মোট পাঁচটি। উসুলে দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং অবিশ্বাস মানুষকে ইসলাম থেকে খারিজ করে দেয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উসুলে দ্বীন পরিভাষাটি কুরআন বা হাদিসে উল্লেখিত হয় নি। কিছু কিছু কালামশাস্ত্রবিদগণ এই পরিভাষাটি’র নামকরণ করেছেন। উসুলে দ্বীন শব্দটির কখন উৎপত্তি ঘটেছে এবং কে এর নামকরণ করেছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। উক্ত পরিভাষাটির প্রবর্তকদের মতে, এই আকীদাগুলোকে উসুলে দ্বীন হিসেবে অভিহিত করার কারণ হচ্ছে হাদিস, ফিকহ এবং কুরআনের তাফসীরের মতো ধর্মীয় জ্ঞানের শাখাগুলো এই মূল নীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== পরিভাষাটির ইতিহাস ==&lt;br /&gt;
উসুলে দ্বীন (ধর্মের মূলনীতিসমূহ) পরিভাষাটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। ইসলাম ধর্মের চিন্তা-চেতনার ইতিহাসে পরিভাষাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে, কুরআনে এবং  শিয়া এবং সুন্নিদের হাদিসগুলোতে ধর্মীয় জ্ঞানের শ্রেনী-বিভাগ হিসেবে উসুল (মূলনীতি) এবং ফুরুঅ (শাখা) বলে কিছুর অস্তিত্ব নেই। এই বিষয়টি এটাই প্রমাণ করে যে, এই পরিভাষা ‍দুটি কিছু কিছু কালামশাস্ত্রবিদ দ্বারা প্রবর্তিত হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[ইবনে তায়মিয়া’র]] (মৃত্যু: ৭২৮ হিজরি) মতো কিছু মুসলিম পণ্ডিত, যারা মূলত কালামশাস্ত্র, যুক্তিবিদ্যা এবং দর্শনশাস্ত্রকে ধর্ম ও দ্বীনদারির ক্ষেত্রে বিরোধী বলে মনে করেন, তারা এ প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন,  এই কারণে যে, উসুলে দ্বীন কুরআন বা হাদিসের কোন পরিভাষা নয়, এরূপ পরিভাষার প্রবর্তনকে [[মহানবী (স.)]] এর শিক্ষার পরিপন্থী হিসেবে মনে করেন। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উসুলে দ্বীন শব্দটির উৎপত্তি কখন ঘটেছে এবং কে এর নামকরণ করেছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। ইবনে নাদিমও উসুলে দ্বীন শিরোনামে আবু মুসা মুরদারের লেখা একটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন। আর এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর প্রথম দিকে এই শব্দটি প্রচলিত এবং প্রতিষ্ঠিত ছিল।&amp;lt;ref&amp;gt;গযাশতে, নাসের, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে ইরান, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৪, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== অবস্থান ও গুরুত্ব ==&lt;br /&gt;
ইসলামের আকীদাগত মূলনীতি অর্থাৎ [[তাওহীদ]] (আল্লাহর একত্ববাদ), [[নবুওয়াত]] এবং মাআদ বা [[কিয়ামতের]] প্রতি ঈমান ও আকীদা। এই তিনটি মূলনীতি ইসলাম ধর্মের ভিত্তি ও স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এমনভাবে যে, এই ধর্মে বর্ণিত হওয়া সবকিছুই মূলনীতিগুলোর একটির  মাধ্যমে অথবা তিনটির মাধ্যমেই অর্থবহ হয়ে ওঠে। সুতরাং, ইসলাম ধর্মের ছায়াতলে আসা সমস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আকীদা-বিশ্বাসের ব্যাপারে অল্প-বিস্তর পার্থক্য পরিলক্ষিত হলেও এই মূলনীতির ক্ষেত্রে তারা সকলেই একমত।&amp;lt;ref&amp;gt; জামি&#039;য়ে আয নেভেসান্দেগান, &amp;quot;ইসলাম&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৮, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইমামিয়া শিয়া কালামশাস্ত্রবিদগণে ধর্মের মূলনীতির সংখ্যা কয়টি এবং কোন কোন বিষয় এর অন্তর্ভূক্ত তা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। সবচেয়ে প্রসিদ্ধ মত হল  এই যে, উসুলে দ্বীনের মধ্যে [[নামায]], [[রোযা]], মাআদ তথা কিয়ামত এই তিনটি বিষয় অন্তর্ভূক্ত। তবে, আদল ও ইমামতকেও মাযহাবের মূলনীতি হিসেবে যোগ করতে হবে।&amp;lt;ref&amp;gt;গযাশতে, নাসের, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে ইরান, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৪, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt; এই মূল নীতিগুলির প্রতি অজ্ঞতা বা বিশ্বাসের অভাব ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে খারিজ করে দেয়। একইভাবে, মাযহাবের মৌলিক নীতিগুলির প্রতি অজ্ঞতা বা বিশ্বাসের অভাব একজন ব্যক্তিকে শিয়া মাযহাব থেকে খারিজ তথা বহিষ্কার করে দেয়।&amp;lt;ref&amp;gt;জামি&#039;য়ে আয মোহাক্কেকিন, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে কালামে ইসলামী, পৃ:৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অধিকাংশ মুসলিম পণ্ডিত মনে করেন যে, উসুলে দ্বীনের ক্ষেত্রে তাক্বলীদ  (অনুসরণ)  করা জায়েয বা বৈধ নয়। উসুলে দ্বিনের ক্ষেত্রে মানুষকে অবশ্যই দলিল প্রমাণের মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। । এই বিষয়টির উপর আলেমদের মধ্যে ইজমা তথা ঐক্যমতের দাবি করা হয়েছে। তবে, অন্য একদল যেমন আবু হানিফা, সুফিয়ান থুরী, আওযায়ী, মালিক, শাফেয়ী, আহমাদ ইবন হাম্বাল এবং আহলে হাদিসের অনুসারীরা মনে করেন যে, যদিও মৌলিক বিশ্বাসের ক্ষেত্রে যুক্তি-প্রমাণ থাকা ওয়াজীব তথা বাধ্যতামূলক এবং তা ত্যাগ করা পাপ হিসেবে গণ্য হয়, তবে তাক্বলীদ বা অনুকরণের ভিত্তিতে ঈমান গ্রহণযোগ্য।&amp;lt;ref&amp;gt;জামি&#039;য়ে আয মোহাক্কেকিন, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে কালামে ইসলামী, পৃ:৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অনেক ধর্মীয় পণ্ডিতের মতে, ধর্মের মূলনীতি সমূহের প্রতি বিশ্বাস ছাড়া ব্যক্তির মুসলিম হওয়া সম্ভব নয় এবং এগুলির মধ্যে কোন একটা অস্বীকার করলে কাফির হিসেবে গণ্য এবং শাস্তির যোগ্য বিবেচিত হবেন। উক্ত পরিভাষাটির প্রবর্তকদের মতে, এই আকীদাগুলোকে উসুলে দ্বীন হিসেবে অভিহিত করার কারণ হচ্ছে হাদিস, ফিকহ এবং কুরআনের তাফসীরের মতো ধর্মীয় জ্ঞানের শাখাগুলো এই মূল নীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। বলা হয় যে, ধর্ম হচ্ছে একটি শিকরড় বিশিষ্ট গাছের ন্যায়, আর উসুলে দ্বীন হচ্ছে ধর্মের শিকড়, যার অস্তিত্বের উপর নির্ভর করে গাছের জীবন।&amp;lt;ref&amp;gt;গযাশতে, নাসের, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে ইরান, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৪, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== উসুলে দ্বীনের উদাহরণ ==&lt;br /&gt;
=== তাওহীদ (একত্ববাদ) ===&lt;br /&gt;
[[তাওহীদ]] হল ইসলাম ধর্মে আকীদা-বিশ্বাসের সবচেয়ে মৌলিক শিক্ষা, যার তাত্ত্বিক এবং কার্যকরী বিভিন্ন দিক রয়েছে। তাওহীদের অর্থ অনুসারে, আল্লাহ একক ও অ-দ্বিতীয় সত্ত্বা, সমস্ত গুণাবলী পূর্ণাঙ্গ রূপে তার মধ্যে বিদ্যমান, তার সমতুল্য ও সমকক্ষ কেউ নেই, পরিবর্তনহীন, সমস্ত জগতের একমাত্র স্রষ্টা এবং তার কোন শরীক নেই। মহাবিশ্বের পরিচালনা তাঁর ইরাদা বা ইচ্ছার মাধ্যমে সংঘটিত হয়, এবং তাঁর জ্ঞান এবং ক্ষমতা সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। সমস্ত সৃষ্টির অবশ্যকরণীয় হচেছ তাঁকে উপাসনা করা, যে উপাসনা কোনো মধ্যস্থতার মুপাপেক্ষীতা ছাড়াই। কুরআন অনুযায়ী, আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস মানুষের ফিতরাত ও  স্বভাব-প্রকৃতিতে নিহিত। আর একত্ববাদ ব্যতীত যেকোন বহুত্ববাদের আকীদা ও  বিশ্বাস হচ্ছে বিচ্যুত চিন্তাধারা, আর এই বিচ্যুত চিন্তাধারা মানসিক, পরিবেশগত, ভৌগোলিক বা ঐতিহাসিক কারণ থেকে উৎসারিত হয়। সমস্ত [[নবীগণ (আ.)]] ছিলেন তাওহীদের দিকে আহ্বানকারী এবং তাদের বেশীরভাগই শিরক, বহু ইশ্বরবাদী ধর্ম এবং মূর্তিপূজা বিলুপ্ত করায় সচেষ্ট ছিলেন।&amp;lt;ref&amp;gt; তারেমি রাদ, হাসান, ও দিগেরান, &amp;quot;তাওহীদ&amp;quot;, দানেশনামায়ে জাহানে ইসলাম, বুনিয়াদে দায়েরাতুল মাআরিফে ইসলামী, ১৩৯৩ শামসি, খ:৮, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== নবুওয়াত ===&lt;br /&gt;
[[নবুওয়াতে]]র প্রতি বিশ্বাস অর্থ হল যে, মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলেন আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর প্রেরিত প্রতিনিধি। তাঁকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নবী প্রেরণের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। কুরআন হল আল্লাহর বানী যা তাঁর উপর ওহী করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;জামি&#039;য়ে আয নেভেসান্দেগান, &amp;quot;ইসলাম&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৮, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== মাআদ  ===&lt;br /&gt;
[[মআদ]] শব্দটির অর্থ ফিরে আসা। কালামশাস্ত্রবিদ এবং দার্শনিকদের মতানুসারে, মাআদ বলতে মৃত্যু পরবর্তী জীবনকে বুঝায় অর্থাৎ মানুষকে যখন পুনরায় জীবিত করা হবে। মআদ সেই দিনকে বলা হয়, যেদিন মানুষের কাজগুলির মূল্যায়ন করা হবে, সৎ ব্যক্তিরা তাদের ভাল কাজের জন্য পুরস্কৃত হবেন এবং পাপী ব্যক্তিরা তাদের খারাপ কাজের জন্য শাস্তি পাবেন। ধর্ম, কালামশাস্ত্রবিদদের ও দর্শনে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির প্রতি দেরীতে লক্ষ্য করা হয়েছে সেটি হচেছ মৃত্যু পরবর্তী জীবনের বিষয় এবং মাআদ। ধর্মবিশ্বাসীরা মৃত্যুর পরের জীবনের প্রতি বিশ্বাসী ছিলেন এবং তারা পরকালকে তাদের বিশ্বাসের মৌলিক একটি ভিত্তি হিসেবে মনে করেন।&amp;lt;ref&amp;gt; সাজাদী, জাফর, ফারহাঙ্গে মাআরিফে ইসলামী, খ:৩, পৃ:১৮১৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== আদল (আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতা) ===&lt;br /&gt;
যদিওবা [[আদল]] তথা ন্যায়বিচার সংক্রান্ত সিফাতটিও (গুণ) আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অন্যতম কর্ম গুণ। তবে এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে বিষয়টি নিয়ে আশআরী, শিয়া এবং মু&#039;তাযিলীদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের কারণে। আর এর ফলে শিয়ারা এবং মু&#039;তাযিলীরা আদলিয়া (আল্লাহর ন্যায়বিচারের সমর্থক) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে; এভাবেই  ধীরে ধীরে ন্যায়বিচার নামক মূলনীতিটিও ইমামতের পাশাপাশি শিয়া মাযহাবের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আল্লাহর অনেক কর্ম গুণ (সিফাতে ফে’লি)  আসলে আদলের সাথে সম্পর্কিত। আদল তথা ন্যায়বিচারের বিস্তৃত ধারণা বিবেচনা করে, যার মধ্যে ধর্মীয়, নৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার অন্তর্ভূক্ত, এরূপ আকীদার মূলনীতিকে ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরাটাই যথার্থ।&amp;lt;ref&amp;gt;&amp;quot;[http://www.makarem.ir/main.aspx?typeinfo=42&amp;amp;lid=0&amp;amp;mid=412783&amp;amp;catid=-2 আদল আয উসূল উদ-দীন]&amp;quot;, পাইগাহে এট্তেলাআর-রেসানিয়ে দফতারে আয়াতুল্লাহ মাকারেম শিরাযী, এন্তেশার: ১০ মেহর ১৩৯৭ শামসি, বাযদীদ: ৯ আবান ১৪০২ শামসি।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== ইমামত ===&lt;br /&gt;
[[ইমামত]] একটি ঐশ্বরিক দায়িত্ব। শুধুমাত্র ওহী প্রাপ্তি ও এর অনুরূপ কিছু ব্যতীত নবীদের সমস্ত দায়িত্ব ইমামদের (আ.) জন্যও নির্ধারিত। এই দিক থেকে, নিষ্পাপতা যেমন নবুওযোতের শর্ত তেমন ইমামতের ক্ষেত্রেও শর্ত। এই পার্থক্যের কারণেই আমরা ইমামতকে উসুলে দ্বীনের অংশ হিসেবে  মনে করবো।&amp;lt;ref&amp;gt;&amp;quot;[https://maaref.makarem.ir/fa/article/index/393448/ তারিফে ইমামত]&amp;quot;, পাইগাহে এট্তেলাআর-রেসানিয়ে দফতারে আয়াতুল্লাহ মাকারেম শিরাযী, এন্তেশার: ২৯ ফররদিন ১৩৯৫ শামসি, বাযদীদ: ৯ আবান ১৪০২ শামসি।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইমামত নিঃসন্দেহে ইমামিয়া শিয়াদের কালাম বিষয়ক চিন্তাধারায় কেন্দ্রীয় স্থানের অধিকারী। শিয়ারা একদিকে ইমামদের ঐশ্বরিক মনোনয়ন (নাস) এবং নিষ্পাপতায় (ইসমাত)  বিশ্বাস করে, অন্যদিকে ইমামদের ইমামদের একচেটিয়া ধর্মীয় কর্তৃত্বের প্রতি আকীদা পোষণ করে, আর এই বিষয়টি হতে পারে এই পদের গুরুত্ব নির্দেশ করার মাধ্যম।&amp;lt;ref&amp;gt;আনসারী, হাসান, &amp;quot;ইমামত&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, তেহরান, মারকাযে দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== সম্পর্কিত নিবন্ধ ==&lt;br /&gt;
* [[ফুরুয়ে দ্বীন (ধর্মের শাখাসমূহ)]]&lt;br /&gt;
* [[উসুলে দ্বিন এবং ফুরূয়ে দ্বিনের মধ্যে পার্থক্য]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch =کلام&lt;br /&gt;
|subbranch1 =&lt;br /&gt;
|subbranch2 =&lt;br /&gt;
|subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه =شد&lt;br /&gt;
 | تیترها =شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت =ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:اصول دین]]&lt;br /&gt;
[[ar:أصول الدین]]&lt;br /&gt;
[[fr:Principes fondementaux de la religion]]&lt;br /&gt;
[[ms:Ushuluddin]]&lt;br /&gt;
[[ru:Основы религии]]&lt;br /&gt;
[[en:Fundamental Principles of Religion]]&lt;br /&gt;
[[es:Principios de la religión]]&lt;br /&gt;
[[ps:د دین اصول]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AF_%E0%A6%85%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%B0_%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AD%E0%A6%B0_%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BE&amp;diff=1024</id>
		<title>কুরআনের প্রকাশ্য অর্থের উপর নির্ভর করা</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AF_%E0%A6%85%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%B0_%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AD%E0%A6%B0_%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BE&amp;diff=1024"/>
		<updated>2025-02-28T20:37:28Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
কুরআনের প্রকাশ্য অর্থের উপর কী নির্ভর করা যাবে?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
কুরআনের প্রকাশ্য অর্থের উপর নির্ভর করার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত, যেমন আরবি ভাষা বুঝা, প্রেক্ষাপটের প্রতি মনোযোগ এবং মুহকামাত (স্পষ্ট) এবং মুতাশাবিহাত (অস্পষ্ট) আয়াতগুলির জ্ঞান থাকা আবশ্যক। সাধারণভাবে, [[কুরআনে]]র আয়াতগুলো দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত যথা: [[মুহকাম ও মুতাশাবিহ|মুহকামাত আয়াত]] (স্পষ্ট আয়াত); যেগুলোর ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই, এবং মুতাশাবিহাত আয়াত (অস্পষ্ট আয়াত); যেগুলোর ব্যাখ্যা স্পষ্ট তথা মুহকামাত আয়াতগুলির আলোকে করতে হবে। অতএব, প্রকাশ্য বা দৃশ্যমানের (জাহের) উদ্দেশ্য যদি গোপন বা  অভ্যন্তরীণের (বাতেন) বিপরীতে হয়ে থাকে, তবে কুরআনের প্রকাশ্য অর্থ (জাহেরে কুরআন) গ্রহণযোগ্য (হুজ্জাত) হবে। কিন্তু, যদি &amp;quot;প্রকাশ্য &amp;quot; অর্থ (জাহের) এর উদ্দেশ্য কারিনা ও আরবি ভাষা বুঝা ব্যতীত হয়ে থাকে, তবে শুধুমাত্র প্রকাশ্য বা বাহ্যিক অর্থের উপর কখনোই নির্ভর করা যাবে না।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== কুরআনের আয়াতসমূহের প্রকাশ্য অর্থের উপর নির্ভর করা ==&lt;br /&gt;
কুরআনের আয়াতগুলো সাধারণত দুটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়:&lt;br /&gt;
* মুহকামাত (স্পষ্ট আয়াত): যেগুলোর ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই।&lt;br /&gt;
* [[মুতাশাবিহাত]] (অস্পষ্ট আয়াত): যেগুলোর ব্যাখ্যা প্রয়োজন, অর্থাৎ এগুলোকে মুহকামাত তথা স্পষ্ট আয়াতগুলোর আলোকে বুঝতে হবে, যেগুলোকে উম্মুল কিতাব বা কিতাবের ভিত্তি বলা হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;রেগরিফতে আয আয়ে ৭, সুরায়ে আলে ইমরান।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
যদি প্রকাশ্য বা দৃশ্যমানের (জাহের) উদ্দেশ্য যদি গোপন বা  অভ্যন্তরীণের (বাতেন) বিপরীতে হয়ে থাকে, তবে কুরআনের প্রকাশ্য অর্থ (জাহেরে কুরআন) গ্রহণযোগ্য (হুজ্জাত) হবে। কারণ কুরআনের গোপন বা বাতেনী অর্থ মাসুমগণ ব্যতীত অন্য কারও পক্ষে সফলভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়।&amp;lt;ref&amp;gt; ওয়াকেআ/ ৭৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; কুরআনে গোপন অর্থ এবং বহু স্তরের ব্যাখ্যা থাকার বিষয়টি সম্পর্কে অনেক হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। [[ইমাম আলী (আ)]] বলেছেন: &lt;br /&gt;
::&amp;quot;কুরআনের একটি সুন্দর প্রকাশ্য অর্থ এবং একটি গভীর ও গোপন অর্থ রয়েছে এবং এর বিস্ময় অফুরন্ত আর এর গোপনীয়তা কখনও শেষ হবে না।&amp;lt;ref&amp;gt;নাহজুল বালাগা, তরজমায়ে মোহাম্মাদ দাশতি, খোতবা ১৮, পৃ:৬৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
* [[জাবির ইবন আবদুল্লাহ]], [[ইমাম মুহাম্মাদ বাকের (আ.)]]-এর কাছে একটি আয়াতের ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। ইমাম একটি উত্তর দিলেন, জাবির পুনরায় যখন একই আয়াত সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন, ইমাম ভিন্ন একটি উত্তর দিলেন। জাবির বললেন: &amp;quot;আপনি আমাকে ইতিপূর্বে অন্য একটি উত্তর দিয়েছিলেন।&amp;quot; ইমাম (আ.) বললেন: &lt;br /&gt;
::&amp;quot;জাবির! কুরআনের একটি বাতেনী বা গোপন অর্থ রয়েছে এবং এই গোপন অর্থেরও আরেকটি গোপন অর্থ রয়েছে এবং এমনকি প্রকাশ্য অর্থেরও বহু স্তর রয়েছে। হে জাবির! কুরআনের কোন কিছুই মানব বিবেক দ্বারা তাফসীরযোগ্য নয়, কারণ এমনটি হতে পারে যে, আয়াতের শুরু এক বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত এবং এর সমাপ্তি অন্য বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত। কুরআন একটি ধারাবাহিক কথা, যার বহু দিক রয়েছে।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;নেগাহ কোনীদ বে মজলেসি, মোহাম্মাদ বাকের, বহারুল আনওয়ার, বেইরুত, দার আহইয়াউত তোরাসিল আরাবি, খ:৮৯, পৃ:৯১ ও ৯৪ ও ৯৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== কুরআনের আয়াতের প্রকাশ্য অর্থের উপর নির্ভর করার শর্তাবলী ==&lt;br /&gt;
যদি &amp;quot;প্রকাশ্য &amp;quot; অর্থ (জাহের) এর উদ্দেশ্য কারিনা ও আরবি ভাষা বুঝা ব্যতীত হয়ে থাকে, তবে শুধুমাত্র প্রকাশ্য বা বাহ্যিক অর্থের উপর কখনোই নির্ভর করা যাবে না। কারণ আয়াতগুলির বাহ্যিক অর্থ বুঝার জন্য শুধুমাত্র আরবি ভাষার নিয়ম-কানুন জানা ছাড়াও কুরআনের ভাষা পরিপূর্ণরূপে বুঝা, কারায়েন বা প্রেক্ষাপটের প্রতি যেমন অন্যান্য আয়াত ও রেওয়ায়েতের প্রতি লক্ষ্য করা আবশ্যক। এটি এমনকি সেই আয়াতসমূহের জন্যও প্রযোজ্য, যেগুলির প্রকাশ্য স্পষ্ট অর্থ রয়েছে এবং মুহকামাত আয়াত হিসেবে গণ্য করা হয়। কারণ কুরআনের আয়াতগুলি পরস্পর সংযুক্ত এবং কিছু আয়াত অন্যগুলির কারিনা তথা প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও মহানবী [[হযরত মুহাম্মদ (স.)]] এবং তাঁর পবিত্র [[আহলে বাইত (আ.)]]-কে অবশ্যই কুরআনের তাফসীরকারী ও বয়ানকারী হিসেবে মান্য করতে হবে, আর কুরআন নিজেই বর্ণনা করছে: &lt;br /&gt;
::&amp;quot;আমরা এই যিকর’কে (কুরআন) তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে মানুষের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা তুমি তাদের জন্য স্পষ্ট করতে পারো, হয়তোবা  তারা চিন্তা-ভাবনা করবে।”&amp;lt;ref&amp;gt;নাহল/ ৪৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
তবে, মুতাশাবিহাত আয়াতের ক্ষেত্রে (অস্পষ্ট আয়াত) কখনোই প্রকাশ্য অর্থের উপর নির্ভর করা যাবে না। উদাহরণস্বরূপ, {{quran|وَجَاءَ رَبُّکَ وَالْمَلَکُ صَفًّا صَفًّا}}&amp;lt;ref&amp;gt;ফজর/ ২২।&amp;lt;/ref&amp;gt; প্রকাশ্য অর্থ হচ্ছে যে, আল্লাহ এসেছেন এবং ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে হাজির হয়েছেন। অথবা {{quran|الرَّحْمَنُ عَلَی الْعَرْشِ اسْتَوَی}}&amp;lt;ref&amp;gt;তা-হা/ ৫।&amp;lt;/ref&amp;gt; আয়াতের বাহ্যিক অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ সিংহাসনে (আরশে) বসে আছেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এই আয়াত এবং অন্যান্য অস্পষ্ট আয়াতগুলিকে স্পষ্ট আয়াতগুলির যেমন {{quran|... لَیْسَ کَمِثْلِهِ شَیْءٌ وَهُوَ السَّمِیعُ الْبَصِیرُ}}&amp;lt;ref&amp;gt;শূরা/ ১১।&amp;lt;/ref&amp;gt; পাশে রেখে ব্যাখ্যা করতে হবে যে আসার অর্থ হচ্ছে আল্লাহর নির্দেশ, আর «&#039;&#039;استوی&#039;&#039;»  এর উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহর আধিপত্য। আর এক্ষেত্রে যদি বাহ্যিক অর্থের উপর নির্ভর করা হয় তবে আল্লাহর ক্ষেত্রে শরীরের ধারণা তৈরি হবে। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[ওহাবিরা]], শুধুমাত্র আয়াতগুলির প্রকাশ্য অর্থের উপর নির্ভর করে এবং মুহকাম আয়াত এবং আকলগত মূলনীতির প্রতি মনোযোগ না দিয়ে দাবি করেন: &amp;quot;আল্লাহর দিক এবং স্থান রয়েছে এবং তিনি আসমানের উপরে অবস্থিত আরশে বসে আছেন। আল্লাহ সত্যিকারের  হাত এবং চোখ অধিকারী।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে হাজর আসকালানি, আদ-দোরুল কামেনাহ, বেইরুত, পৃ:১৪৫; নেগাহ কোনীদ বে আহমাদ বিন যায়নি চালান মুফতি মক্কা, সারগোজাশতে ওহাবিয়্যাত, তরজমায়ে ইব্রাহিম ওহিদ দামগানি, নাশর গোলেস্তানে কাওসার, চাপে আওওয়াল, ১৩৭৬, পৃ:১৬।&amp;lt;/ref&amp;gt; তারা আরও বলেন &amp;quot;আল্লাহ প্রতিরাতে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন এবং সকালে পুনরায় ফিরে যান&amp;quot;।&amp;lt;ref&amp;gt;ওমর আবদুস সালাম, মোকালেফ ওহাবিয়্যাত লেল কুরআন ওয়া সুন্নাহ, দারুল হেদায়াহ, চাপে আওওয়াল, ১৪১৬, পৃ:৮।&amp;lt;/ref&amp;gt; এমনকি ইবন তাইমিয়া স্পষ্টভাবে বলেছিলেন: &amp;quot; আল্লাহর শরীরিক ও তুলনা করার বিষয়টিকে অস্বীকার করে কুরআন, সুন্নাহ বা ইজমায় কোন কিছু উল্লেখ করা হয় নি।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt; ইবনে তাইমিয়া, আল-ফাতাওয়াল কুবরা, বেইরুত, দারুল মা&#039;রিফা, পৃ:২১-২৩।&amp;lt;/ref&amp;gt; [[হাম্বালি]], [[হাসাউয়ি]] এবং [[ইবাদিয়ারাও]] অনুরূপ কথা বলেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;সুবহানি, জাফর, বোহুছ ফি আল-মিলাল ওয়ান নিহাল, কোম, লাজনায়ে ইদারায়ে আল-হাউযাতিল ইলমিয়াহ, চাপে দোম, ১৪১৫, খ:২, পৃ:২৪৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch = علوم و معارف قرآن&lt;br /&gt;
| subbranch1 = نص قرآن&lt;br /&gt;
| subbranch2 = نص و ظاهر قرآن&lt;br /&gt;
| subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه = -&lt;br /&gt;
 | تیترها = شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش = شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی = شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر = شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | بازبینی نویسنده =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت = ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت = ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:اکتفا به ظاهر قرآن]]&lt;br /&gt;
[[ar:الاکتفاء بظاهر القرآن]]&lt;br /&gt;
[[ur:قرآن کی ظاهری معنی پر اکتفا کرنا]]&lt;br /&gt;
[[ms:Mengandalkan Makna Lahiriah Al-Qur&#039;an]]&lt;br /&gt;
[[ps:د قرآن په ظاهر بسنه]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A4_(%E0%A6%86.)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%E0%A7%87_%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BE&amp;diff=1023</id>
		<title>আহলে বাইত (আ.)-এর সাথে ওয়াহাবীদের শত্রুতা</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A4_(%E0%A6%86.)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%E0%A7%87_%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BE&amp;diff=1023"/>
		<updated>2025-02-27T23:11:55Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
ইবনে তাইমিয়া ও ওয়াহাবী মতবাদ কি সত্যি সত্যিই আহলে বাইত (আ.)-এর সাথে প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করে?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
[[রাসূলুল্লাহ (সা.)]]-এর আহলে বাইতের প্রতি [[ওয়াহাবী]] মতবাদের শত্রুতা কারও কাছে গোপন নয়। এই শত্রুতা একদিকে যেমন ওয়াহাবী সম্প্রদায়ের শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়া, তেমনিভাবে ওয়াহাবী সম্প্রদায়ের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে প্রকাশ পেয়েছে। আহলে বাইতের ফজিলতসমূহকে অস্বীকার করা, ইমাম আলী (আ.)-কে [[ফেরাউনে]]র সাথে তুলনা করা, ইমাম আলীর শত্রুদেরকে নির্দোষ এবং তাঁর অনুসারীদের তাকফির তথা কাফের সাব্যস্ত করা, [[ইমাম আলী (আ.)]]-এর শত্রুদের বিশেষত [[ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার]] প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করা এবং আহলে বাইতের (আ.) মাজার ধ্বংস করা প্রভৃতি বিষয়গুলো মহানবী’র আহলে বাইতের প্রতি এই সম্প্রদায়টির শত্রুতা পোষণের প্রমাণ বহন করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== মহানবী’র (স.) আহলে বাইতের (আ.) সাথে ইবনে তায়মিয়ার শত্রুতা ==&lt;br /&gt;
[[ইবনে তায়মিয়া]] আহলে বাইতের কোনো ফজিলতকেই স্বীকার করেন না; বরং তিনি আহলে বাইতের শ্রেষ্ঠত্বকে আরবের জাহেলিয়াত তথা অজ্ঞতা থেকে উৎসারিত বলে মনে করেন। ইবনে তায়মিয়া বলেন: [[রাসূলুল্লাহ (সা.)]]-এর আহলে বাইতকে অন্যদের চাইতে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম বলে বিশ্বাস করা জাহেলি যুগের চিন্তাধারার অংশ, যে যুগে গোত্রের নেতা ও প্রধানদের অন্যদের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হতো।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন তাইমিয়াহ, আহমদ বিন আবদুল হালিম, মিনহাজুস সুন্নাহ, মিসর, মুয়াসসাসাতু কুরতুবা, খ: ৩, পৃ: ২৬৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইবনে তায়মিয়ার এই বক্তব্যসমূহ ইসলাম ধর্মের শিক্ষার পরিপন্থী; কারণ যেরূপভাবে কুরআনে আয়াতে তাতহীরে তেমনিভাবে রাসূলুল্লাহ (স.)-এর বিভিন্ন হাদিসসমূহে বিশেষ করে [[হাদিসে সাকালাইন]] ও[[ হাদিসে সাফিনাহ]]’তে আহলে বাইত (আ.)-এর ফজিলতের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা  হয়েছে। আর কুরআনে আয়াতে কুরবা তথা মাওয়াদ্দাতের আয়াতে আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা মুসলমানদের উপর ওয়াজীব করা হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে তায়মিয়া [[ইমাম আলী (আ.)]]-কে রক্তপাত ও ক্ষমতা লোভের ক্ষেত্রে ফেরাউনের সাথে তুলনা করেন। অথচ শিয়া ও সুন্নি উভয় মাযহাবের সূত্রগুলোতে একটি বর্ণিত হয়েছে যে, [[আলী]], [[ফাতিমা]],[[হাসান]] ও হুসাইন (আ.)-কে মহানবী (স.) বলেছেন: অর্থাৎ {{arabic|انا حرب لمن حاربتم و سلم لمن سالمتم|translation=তোমরা যার সাথে যুদ্ধ করবে, আমিও তার সাথে যুদ্ধ করব; আর তোমরা যার সাথে সন্ধি ও আপোষ করবে, আমিও তার সাথে সন্ধি ও  আপোষ করবো।}}&amp;lt;ref&amp;gt;হাকিম নিশাপুরী, মোহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ, আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন, বৈরুত, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, চ: ১, ১৪১১ হি./১৯৯০ ম., গবেষণা: মুস্তাফা আবদুল কাদির আতা, খ: ৩, পৃ: ১৬১; সুনান ইবন মাজাহ, মোহাম্মদ বিন ইয়াজিদ আবু আবদুল্লাহ আল-কুজুইনি, সুনান ইবন মাজাহ, দারুল ফিকর - বৈরুত, গবেষণা: মোহাম্মদ ফুয়াদ আবদুল বাকী, পৃ: ৫২।&amp;lt;/ref&amp;gt; জাসসাস এই হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেন, যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ লিপ্ত হবে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে বলে বিবেচিত হবে, এমনকি সে যদি মুশরিকও না হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;জাসস, আহমদ বিন আলী আর-রাজী, আহকামুল কুরআন লিল জাসস, বৈরুত, দার ইহিয়াউত্তুরাস আল-আরাবি, ১৪০৫ হি., গবেষণা: মোহাম্মদ আস-সাদিক কামাহাউই, খ: ৪, পৃ: ৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এই হাদিস এবং অন্যান্য অগণিত হাদিস ও ঐতিহাসিক প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ইবনে তায়মিয়া ও ওয়াহাবীদের  এরূপ বিশ্বাস ও অবস্থান এটি নিশ্চিত করে যে, ইবনে তায়মিয়া এবং তার অনুসারীদের শত্রুতা কেবল আহলে বাইতের প্রতিই নয়, বরং তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিদ্বেষ ও শত্রুতা থেকে উদ্ভূত।&lt;br /&gt;
আমিরুল মুমিনীন আলী (আ.) এবং তাঁর সঙ্গীদের সম্পর্কে ইবনে তায়মিয়া এমন কিছু কথা বলেছেন যা ইমাম আলী (আ.)-এর প্রতি তাঁর প্রকাশ্য শত্রুতার বিষয়টি প্রমাণ করে। তিনি বলেন: &lt;br /&gt;
::&amp;quot;খারেজি, উমাইয়া এবং মারওয়ানিদের ন্যায় যারা আলীকে গালি দিয়েছে, তাকে লানত করেছে এবং তাকে কাফির ও জালিম বলে ঘোষণা করেছে, তারা সবাই ইসলামের অনুসারী ছিল এবং ইসলামী আচার-আচরণ মেনে চলতো। কিন্তু আলীকে যারা নিষ্পাপ জ্ঞান করেন এবং যারা তাঁর অনুসারী, তারা সকলেই মুরতাদ ও কাফের।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন তাইমিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ, খ: ৫, পৃ: ৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অথচ ইমাম আলী (আ.) হচ্ছেন পবিত্র আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও আহলে সুন্নতের প্রখ্যাত মুফাসসির ফাখরে রাযী বলেন: &amp;quot;যে ব্যক্তি তার ধর্মের ক্ষেত্রে আলী ইবনে আবি তালিবকে অনুসরণ করবে, নিশ্চয় সে হেদায়েতপ্রাপ্ত।&amp;quot; আর এর প্রমাণ হলো মহানবী (স.) এর উক্তি: {{arabic|اللهم ادر الحق مع علی حیث دار|translation|হে আল্লাহ, আলী যেখানেই থাকুক না কেন, সত্যকে তার সাথে রাখো।}}&amp;lt;ref&amp;gt;ফখরুর রাজী, ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ বিন ওমর আত-তামীমি আর-রাজী আশ-শাফেয়ি, আত-তাফসিরুল কবির অথবা মাফাতিহুল গাইব, বৈরুত, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, চ: ১, ১৪২১ হি./২০০০ ম., খ: ১, পৃ: ১৬৮&amp;lt;/ref&amp;gt; এছাড়াও আহলে সুন্নতের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, আলী সত্যের সাথে এবং সত্য আলীর সাথে রয়েছে, যেখানেই হোক না কেন।&amp;lt;ref&amp;gt;হাকিম নিশাপুরী, আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন, খ: ৩, পৃ: ১৩৪; হাইসামি, নূরুদ্দিন আলী বিন আবু বকর, মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, কায়রো, দারুর রিয়ান লিত্তুরাস, বৈরুত, দারুল মাকতাব আল-ইলমিয়্যাহ, ১৪০৮ হি., খ: ৭, পৃ: ২৩৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে তায়মিয়া আহলে বাইতের ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত সকল হাদিসকে হয় সনদগতভাবে বিতর্কিত বলে উল্লেখ করেন অথবা হাদীসগুলোর দলিলকে প্রত্যাখ্যাত হিসেবে গণ্য করেন। উদাহরণস্বরূপ, আহলে সুন্নতের গ্রহণযোগ্য গ্রন্থসমূহে যেমন সহীহ মুসলিমে আয়াতে তাতহীরের শানে নুযুলে ‍উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা’র বর্ণনা এবং অপর একটি বর্ণনায় উম্মে সালমা থেকে উল্লেখিত হয়েছে যে, এই আয়াত (আয়াতে তাতহীর) নাযিল অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন: &amp;quot;হে আল্লাহ! এরাই হচ্ছে আমার আহলে বাইত; এদের থেকে সকল প্রকারের অপবিত্রতা দূর করুন এবং এদেরকে পবিত্র করুন।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;আহমদ বিন হাম্বল, মুসনাদ আহমদ, বৈরুত, দারুস সাদির, বি-তা, খ: ১, পৃ: ৩৩১।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইবনে তায়মিয়া এই হাদিসের সনদে কোনো খুঁত খুঁজে না পেয়েও আহলে বাইত সম্পর্কে অবতীর্ণ হওয়া এই আয়াত সম্পর্কে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বলেন, না এই আয়াত আহলে বাইত সম্পর্কে নাযিল হয়েছে, আর না আহলে বাইত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স.) এর দোয়া আহলে বাইতের কোনো সদস্যের মর্যাদা বা ফজিলত প্রমাণ করে।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন তাইমিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ, মাটবাআতুল কুবরা আল-আমিরিয়্যাহ, চ: ১, ১৩২২ হি., খ: ৩, পৃ: ৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে তায়মিয়ার এই ধরনের বক্তব্য আহলে বাইতের প্রতি বিদ্বেষ ও শত্রুতার প্রমাণ। অথচ আহলে বাইতের মর্যাদা, কুরআন ও হাদিসের মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত। আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন ইসলামের মৌলিক শিক্ষার অংশ, যা ইবনে তায়মিয়ার মতো ব্যক্তিদের বক্তব্য দ্বারা উপেক্ষা করা যায় না।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ইমাম হুসাইন (আ.) সম্পর্কে বর্তমান কালের ওয়াহাবী মুফতি আব্দুল আজিজ আল শাইখের দৃষ্টিভঙ্গি ==&lt;br /&gt;
[[ইমাম হুসাইন (আ.)]] সম্পর্কে বর্তমান কালের ওয়াহাবী মুফতি আব্দুল আজিজ আল-শাইখের  দৃষ্টিভঙ্গি ইবনে তায়মিয়া ও অন্যান্য প্রাক্তন ওয়াহাবী নেতাদের চেয়েও বেশি চরমপন্থী ও নেতিবাচক। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওয়াহাবী মতাদর্শের সর্বোচ্চ মুফতি আল-শাইখ, ওয়াহাবীদের হৃদয়ের কথাটির উন্মোচন করেছেন এবং অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও খোলাখুলিভাবে [[ইয়াজিদ]]কে সঠিক ও ইমাম হুসাইন (আ.)-কে ভ্রান্ত বলে দাবি করেছেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সৌদি আরবের &amp;quot;আল-মাজদ&amp;quot; স্যাটেলাইট চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে এক মহিলার প্রশ্নের জবাবে ইয়াজিদ ও ইমাম হুসাইন (আ.)- এর ক্বিয়াম তথা বিদ্রোহ সম্পর্কে আল-শাইখ যা বলেছেন, তার সারসংক্ষেপ হচ্ছে- ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার বাইয়াত (আনুগত্যের শপথ) একটি শরীয়তসম্মত বাইয়াত যা তার পিতা মুয়াবিয়ার সময়ে জনগণের নিকট থেকে গ্রহণ করা হয়েছিল এবং মানুষ তাতে সম্মতী প্রদান করেছিল। কিন্তু যখন মুয়াবিয়া মৃত্যুবরণ করেন, তখন হুসাইন ইবনে আলী ও ইবনে যুবায়ের ইয়াজিদের নিকট বাইয়াত করতে অস্বীকার করেন। ফলে হুসাইন ও ইবনে যুবায়ের বাইয়াত না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল করেছেন। আর হুসাইন অন্যের উপদেশের প্রতি কর্ণপাত করেন নি এবং কল্যাণের বিপরীত কাজ করেছেন, আর আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছিলেন, তাই হয়েছে। তিনি আরও বলেন, &amp;quot;হুসাইন যে ভুল করুক না কেন, তা তার নিজের জন্যই করেছেন!!... যাই হোক, ইয়াজিদের বিরুদ্ধে হুসাইনের ক্বিয়াম ও বিদ্রোহ হারাম ছিল!!... এ কাজ না করাই ছিল তার জন্য উত্তম। মদীনায় থাকা এবং মানুষের সমষ্টিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলাই উত্তম ও বেশি উপযুক্ত ছিল। খিলাফতের সীমানা লঙ্ঘন করা জায়েজ ছিল না। তবে, এতদ্বসত্ত্বেও আমরা হুসাইনের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করি এবং তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি!!&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;http://database-aryana-encyclopaedia.blogspot.com/২০১৩/۰۷/blog-post_14.html&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সহীহ ও মুতাওয়াতির হাদিস অনুযায়ী, ইমাম হুসাইন (আ.) ও তার ভাই ইমাম হাসান (আ.) যখন জান্নাতের যুবক দের সর্দার তখন তাদের সম্পর্কে ভুল বা গুনাহর কথা কল্পনা করাও অসম্ভব। তাহলে, কেন আল-শাইখ বা অন্য ব্যক্তিদেরকে তাঁর জন্য ক্ষমা চাইতে হবে!&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আশুরা দিবস সম্পর্কে ওয়াহাবীদের দৃষ্টিভঙ্গি ==&lt;br /&gt;
সাম্প্রতিক কালের ওয়াহাবীরা [[আশুরা]]র দিনকে আনন্দের দিন হিসেবে বিবেচনা করে। কুয়েতের ওয়াহাবীরা তাদের কিছু কিছু প্রকাশনায় হুসাইনের আশুরাকে আনন্দ ও উৎসবের দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও,আহলে সুন্নত কর্তৃক [[রাসূল (স.)]]-এর পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন সত্ত্বেও, ওয়াহাবীরা ইচ্ছাকৃতভাবে কুয়েতে [[তাসুয়া]] ও আশুরার রাতে তাদের বিবাহ ও উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।&amp;lt;ref&amp;gt;খবরনামা, সংখ্যা ১১৫৩, পৃ: ৫৩।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
রাসূলুল্লাহ (স.)-এর আহলে বাইতের প্রতি, বিশেষ করে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর প্রতি তীব্র শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণকারী আল-শাইখ, তার এই শত্রুতা প্রকাশের জন্ তার পুত্র উমর ইবনে আব্দুল আজিজের বিয়ের অনুষ্ঠান আশুরার দিনে আয়োজন করেছিলেন। এই অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের অনেক মুফতি অংশগ্রহণ করেছিলেন।&amp;lt;ref&amp;gt;সাইট: মাশরিক নিউজ।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== হযরত যায়নাব (সা. আ.)-এর মাজার যিয়ারতের প্রতি ওয়াহাবীদের বিদ্বেষ ==&lt;br /&gt;
সৌদি গোয়েন্দা সংস্থা’র অর্থায়নে পরিচালিত ওয়াহাবী সংবাদ নেটওয়ার্ক &amp;quot;সাফা&amp;quot;, যার প্রধান কার্যালয় কুয়েত, কায়রো ও রিয়াদে অবস্থিত, ফ্রি সিরিয়ান আর্মির সদস্যদেরকে শামে বনি [[উমাইয়া]]র বংশধর বলে হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের উদ্দেশ্যে বলেছে: &lt;br /&gt;
::&amp;quot;হে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের বংশধর! হে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার বংশধর! হে ফ্রি সিরিয়ান আর্মির সৈন্যরা! তোমাদের অবশ্যই যায়নাবের কবরকে (মাজার)[[ লক্ষ্যবস্তু]] করে তা ধ্বংস করতে হবে এবং একইভাবে অন্যান্য সব মাজারও ধ্বংস করতে হবে।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;খবরনামা জামেয়া মুদাররিসিন, সংখ্যা ১১৩৮, পৃ: ৫৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সমসাময়িক ওয়াহাবীরা এই পথে এতটাই চরমপন্থার দিকে এগিয়েছে যে, তারা ইয়াজিদ ও [[ইবনে জিয়াদের]] নামে একটি সেনাদল গঠন করেছে এবং &amp;quot;ইয়াজিদ ও ইবনে জিয়াদ শহীদ হয়েছেন&amp;quot; এই স্লোগান ব্যবহার করে পাকিস্তানে মিছিল বের করছে।&amp;lt;ref&amp;gt;খবরনামা জামেয়া মুদাররিসিন, সংখ্যা ১১৯৫, পৃ: ৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আহলে বাইতের শত্রুদের প্রতি ওয়াহাবীদের সমর্থন ==&lt;br /&gt;
ওয়াহাবীরা, রাসূলুল্লাহ’র (স.) আহলে বাইতের সাথে তাদের শত্রুতা প্রকাশ করতে গিয়ে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর হত্যাকারীদের প্রতি সমর্থনের উপর গুরুত্বারোপ করে তাদেরকে দৃঢ়চিত্তে  রক্ষা করছে।&lt;br /&gt;
* ইবনে তাইমিয়া তার গ্রন্থ &amp;quot;মিনহাজুস সুন্নাহ&amp;quot;-এর চতুর্থ খণ্ডে (৫৪৯-৫৭৫ পৃষ্ঠা) ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়াকে মুসলমানদের অন্যান্য খলিফাদের মাকামের সমপর্যায়ে স্থান দিয়েছেন এবং কারবালার মর্মান্তিক ঘটনায় ইয়াজিদকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, যে ঘটনায় রাসূলুল্লাহর (স.) প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হুসাইন ইবনে আলী (আ.), তাঁর সন্তানগণ ও সঙ্গী-সাথীরা শহীদ হন এবং রাসূলের (স.) পবিত্র আহলে বাইত বন্দী হন।&lt;br /&gt;
* তিনি বলেন: &amp;quot;ধরে নেওয়া যাক যে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া ফাসেক ও জালিম ছিলেন, তবে আল্লাহ তাকে তার কিছু ভালো কাজের জন্য ক্ষমা করবেন!&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন তাইমিয়াহ, আহমদ বিন আবদুল হালিম, মাজমুউল ফাতাওয়া, বি-তা, বি-জা, খ: ৩, পৃ: ৪১৩; খ: ৪, পৃ: ৪৭৫।&amp;lt;/ref&amp;gt; এছাড়াও, তিনি ইমাম হুসাইন (আ.)-এর হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী উমর ইবনে সাদের পক্ষে সরাসরি সাফাই গেয়েছেন। তিনি বলেন: &amp;quot;সত্য যে, [[উমর ইবনে সাদ]] সেনাপতি ছিলেন এবং ইমাম হুসাইন (আ.)-কে হত্যা করেছিলেন, তবে তার পাপ ও অপরাধ ‘[[মুক্তার ইবনে আবি উবাইদা]]’র চেয়ে কম, বরং মুক্তারের পাপ ও অপরাধ উমর ইবনে সাদের চেয়েও বড়!&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;মিনহাজুস সুন্নাহ, খ: ২, পৃ: ৭০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* ওয়াহাবীরা, আহলে বাইতের শত্রুদের প্রশংসায় বিশেষ করে আলী (আ.)-এর অন্যতম শত্রু মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান এবং তার পুত্র ইয়াজিদের প্রশংসায় &amp;quot;ফাযায়েলে মুয়াবিয়া ওয়া ফি ইয়াজিদ ওয়া আনাহু লা ইয়াসিব&amp;quot; নামে বই রচনা করেছেন। যারা মুয়াবিয়ার প্রশংসা করতে চায়, নাসাঈ তাদের জবাবে বলেন, রাসূল (স.)-এর পক্ষ থেকে মুয়াবিয়ার প্রতি বিখ্যাত অভিশাপ ব্যতীত তার সম্পর্কে কোনো ফজিলত আমার জানা নেই, যেখানে তিনি (স.) বলেছেন: «لا أشبع الله بطنه» (আল্লাহ তার পেট যেন কখনো পরিপূর্ণ না হয়)।&amp;lt;ref&amp;gt;আন-নাসাঈ, আহমদ বিন শুয়াইব, খাসায়িস ইমামুল মু’মিনিন (আ.), মাকতাবাতুন নিনাওয়ী আল-হাদিসাহ, পৃ: ২৩;&lt;br /&gt;
আবু দাউদ, সুলাইমান, মুসনাদ আবু দাউদ, বৈরুত, দারুল হাদিস, পৃ: ৩৫৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* ওয়াহাবী বা সালাফি পণ্ডিতরা, যেসব রেওয়ায়েতসমূহে আহলে বাইতের বিরোধীদের যেমন মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান, উমর ইবনে সাদ, বনি উমাইয়া, [[বনি মারওয়ান]], আমর ইবনে আল-আস, ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া এবং অন্যান্যদের সম্পর্কে নিন্দা ও সমালোচনা করা হয়েছে, সেগুলিকে কোনো প্রমাণ বা যুক্তি ছাড়াই প্রত্যাখ্যান করে বলেন যে, এই ধরনের রেওয়ায়েতগুলোর সবই মিথ্যা ও বানোয়াট।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনুল কাইয়্যিম, মোহাম্মদ বিন আবু বকর, নাকদুল মানকুল, বৈরুত, দারুল ক্বারী, চ: ১, ১৪১১ হি., পৃ: ১০৮।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* সমসাময়িক ওয়াহাবী মতবাদে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। তার গুরুত্ব এতটাই যে, সৌদি আরবের শিক্ষা মন্ত্রণালয় &amp;quot;হাকাইক হাক্বায়েক্ব আন আমির আল-মুমিনিন ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া&amp;quot; শিরোনামে একটি বই প্রকাশ করেছে এবং বইটিকে সে দেশের সরকারি স্কুলগুলিতে পাঠ্য পুস্তক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।&amp;lt;ref&amp;gt;তিজানী, সাইয়্যেদ মোহাম্মদ, আশ-শিয়াহ হুম আহলুস সুন্নাহ, পাদটীকা পৃ: ৯৪; আসআদ ওয়াহিদ আল-কাসিম, হাকিকাতুশ শিয়াহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ, পৃ: ৮২।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* ইরাকের একটি মিডিয়া একটি চিত্র প্রকাশ করেছে যেখানে দেখা যায় যে, সৌদি আরবের ওয়াহাবী শাসকরা, মহানবী (স.) এবং তাঁর প্রিয় আহলে বাইত (আ.)-এর প্রতি তাদের গভীর বিদ্বেষের নিদর্শন স্বরূপ আল্লাহর শেষ রাসূল (সা.) এবং তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের শত্রুদের নাম স্কুল, রাস্তা এবং অন্যান্য স্থানের নামকরণ করেছে। যেমন: ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া স্কুল, ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া সড়ক, আবু লাহাব স্কুল (যে আবু লাহাবের বিরুদ্ধে আল্লাহ কুরআনে সম্পূর্ণ একটি সুরা অবতীর্ণ করেছেন) এবং আবরাহা আল-হাবশির নামে রাস্তা (যে ব্যক্তি আমলফীলে কাবা ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল এবং আল্লাহ তাকে ও তার সৈন্যদের ভয়াবহ শাস্তি দিয়েছিলেন)।&amp;lt;ref&amp;gt;খবরনামা জামেয়া মুদাররিসিন, সংখ্যা ১১৯৮, পৃ: ৬৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আহলে বাইতের (আ.) কবর ধ্বংস ==&lt;br /&gt;
ওয়াহীরা বাকি কবরস্থানে আহলে বাইতের কবরসমূহ ধ্বংস করে, [[কারবালা]] ও [[নাজাফে]] সামরিক আক্রমণ চালিয়ে ইমাম হুসাইন ও ইমাম আলী (আ.) এর মাজার ধ্বংস করে এবং আহলে বাইত প্রেমিক মুসলমানদের উপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালানোর মাধ্যমে আহলে বাইতের (আ.) প্রতি তাদের শত্রুতা ও বিদ্বেষের বিষয়টি প্রমাণ করেছে। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আর তাদের এহেন কর্মকাণ্ড, রাসূলুল্লাহ (স.) এর পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি শত্রুতা এবং আহলে বাইতের শত্রুদের বিশেষ করে ইয়াজিদ ও তার পরিবারের প্রতি ভালোবাসার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা তাদের বিকৃত ও বিচ্যুত চিন্তাধারা থেকে উদ্ভূত। &lt;br /&gt;
সৌদ ইবনে আবদুল আজিজের নেতৃত্বে ১২১৬ থেকে ১২২৫ হিজরি অবধি কারবালা ও নাজাফের দিকে তাদের ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের কারণ হিসেবে আহলে বাইতের প্রতি ওয়াহাবীদের শত্রুতা ব্যতীত অন্য কী ব্যাখ্যা দিবে?&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১২৬২ হিজরীতে নাজদ ও আশেপাশের বেদুইন গোত্র, হেজাজ ও তিহামার অধিবাসীদের সমন্বয়ে গঠিত ওয়াহাবী বাহিনী, জিলকদ মাসে কারবালায় প্রবেশ করে। তারা শহরের রাস্তাঘাট, বাজার ও বাড়িতে ঢুকে অধিকাংশ লোককে হত্যা করে। অতঃপর তারা প্রচুর ধন-সম্পদ লুট করে শহর ছেড়ে চলে যায়। পরবর্তীতে তারা &amp;quot;আবিয়াদ&amp;quot; নামক এলাকায় জড়ো হয় এবং লুটকৃত সম্পদের এক-[[পঞ্চমাং]]শ (খুমস) সৌদ ইবনে আবদুল আজিজ নিজের জন্য রেখে বাকি অংশ সৈনিকদের মধ্যে, প্রতি পদাতিক  সৈনিককে এক ভাগ করে এবং প্রতিটি অশ্বারোহী সৈনিককে দুই ভাগ করে বণ্টন করে দেওয়া হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;সালেহ আল-উথাইমিন, আব্দুল্লাহ, তারিখুল মামলাকাতিস সৌদিয়্যাহ, রিয়াদ, উবাইকান, চ: ১৫, ১৪৩০ হি., খ: ১, পৃ: ৭৩।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch =ادیان و مذاهب&lt;br /&gt;
 | subbranch1 = اسلام&lt;br /&gt;
 | subbranch2 =وهابیت&lt;br /&gt;
 | subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه =شد&lt;br /&gt;
 | تیترها =شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت = الف&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:دشمنی وهابیت با اهل‌بیت]]&lt;br /&gt;
[[ar:عداء الوهابیة لأهل البیت]]&lt;br /&gt;
[[ms:Permusuhan Sekte Wahabi Terhadap Ahlul Bait as]]&lt;br /&gt;
[[en:The Hostility of Wahhabis Towards the Ahl al-Bayt (a)]]&lt;br /&gt;
[[bn:আহলে বাইত (আ.)-এর সাথে ওয়াহাবীদের শত্রুতা]]&lt;br /&gt;
[[ru:Враждебность ваххабизма к Ахль аль-Байт (А)]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A4_(%E0%A6%86.)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%E0%A7%87_%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BE&amp;diff=1022</id>
		<title>আহলে বাইত (আ.)-এর সাথে ওয়াহাবীদের শত্রুতা</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A4_(%E0%A6%86.)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%E0%A7%87_%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BE&amp;diff=1022"/>
		<updated>2025-02-27T17:50:46Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
ইবনে তাইমিয়া ও ওয়াহাবী মতবাদ কি সত্যি সত্যিই আহলে বাইত (আ.)-এর সাথে প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করে?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
[[রাসূলুল্লাহ (সা.)]]-এর আহলে বাইতের প্রতি [[ওয়াহাবী]] মতবাদের শত্রুতা কারও কাছে গোপন নয়। এই শত্রুতা একদিকে যেমন ওয়াহাবী সম্প্রদায়ের শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়া, তেমনিভাবে ওয়াহাবী সম্প্রদায়ের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে প্রকাশ পেয়েছে। আহলে বাইতের ফজিলতসমূহকে অস্বীকার করা, ইমাম আলী (আ.)-কে [[ফেরাউনে]]র সাথে তুলনা করা, ইমাম আলীর শত্রুদেরকে নির্দোষ এবং তাঁর অনুসারীদের তাকফির তথা কাফের সাব্যস্ত করা, [[ইমাম আলী (আ.)]]-এর শত্রুদের বিশেষত [[ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার]] প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করা এবং আহলে বাইতের (আ.) মাজার ধ্বংস করা প্রভৃতি বিষয়গুলো মহানবী’র আহলে বাইতের প্রতি এই সম্প্রদায়টির শত্রুতা পোষণের প্রমাণ বহন করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== মহানবী’র (স.) আহলে বাইতের (আ.) সাথে ইবনে তায়মিয়ার শত্রুতা ==&lt;br /&gt;
[[ইবনে তায়মিয়া]] আহলে বাইতের কোনো ফজিলতকেই স্বীকার করেন না; বরং তিনি আহলে বাইতের শ্রেষ্ঠত্বকে আরবের জাহেলিয়াত তথা অজ্ঞতা থেকে উৎসারিত বলে মনে করেন। ইবনে তায়মিয়া বলেন: [[রাসূলুল্লাহ (সা.)]]-এর আহলে বাইতকে অন্যদের চাইতে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম বলে বিশ্বাস করা জাহেলি যুগের চিন্তাধারার অংশ, যে যুগে গোত্রের নেতা ও প্রধানদের অন্যদের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হতো।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন তাইমিয়াহ, আহমদ বিন আবদুল হালিম, মিনহাজুস সুন্নাহ, মিসর, মুয়াসসাসাতু কুরতুবা, খ: ৩, পৃ: ২৬৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইবনে তায়মিয়ার এই বক্তব্যসমূহ ইসলাম ধর্মের শিক্ষার পরিপন্থী; কারণ যেরূপভাবে কুরআনে আয়াতে তাতহীরে তেমনিভাবে রাসূলুল্লাহ (স.)-এর বিভিন্ন হাদিসসমূহে বিশেষ করে [[হাদিসে সাকালাইন]] ও[[ হাদিসে সাফিনাহ]]’তে আহলে বাইত (আ.)-এর ফজিলতের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা  হয়েছে। আর কুরআনে আয়াতে কুরবা তথা মাওয়াদ্দাতের আয়াতে আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা মুসলমানদের উপর ওয়াজীব করা হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে তায়মিয়া [[ইমাম আলী (আ.)]]-কে রক্তপাত ও ক্ষমতা লোভের ক্ষেত্রে ফেরাউনের সাথে তুলনা করেন। অথচ শিয়া ও সুন্নি উভয় মাযহাবের সূত্রগুলোতে একটি বর্ণিত হয়েছে যে, [[আলী]], [[ফাতিমা]],[[হাসান]] ও হুসাইন (আ.)-কে মহানবী (স.) বলেছেন: অর্থাৎ {{arabic|انا حرب لمن حاربتم و سلم لمن سالمتم|translation=তোমরা যার সাথে যুদ্ধ করবে, আমিও তার সাথে যুদ্ধ করব; আর তোমরা যার সাথে সন্ধি ও আপোষ করবে, আমিও তার সাথে সন্ধি ও  আপোষ করবো।}}&amp;lt;ref&amp;gt;হাকিম নিশাপুরী, মোহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ, আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন, বৈরুত, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, চ: ১, ১৪১১ হি./১৯৯০ ম., গবেষণা: মুস্তাফা আবদুল কাদির আতা, খ: ৩, পৃ: ১৬১; সুনান ইবন মাজাহ, মোহাম্মদ বিন ইয়াজিদ আবু আবদুল্লাহ আল-কুজুইনি, সুনান ইবন মাজাহ, দারুল ফিকর - বৈরুত, গবেষণা: মোহাম্মদ ফুয়াদ আবদুল বাকী, পৃ: ৫২।&amp;lt;/ref&amp;gt; জাসসাস এই হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেন, যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ লিপ্ত হবে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে বলে বিবেচিত হবে, এমনকি সে যদি মুশরিকও না হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;জাসস, আহমদ বিন আলী আর-রাজী, আহকামুল কুরআন লিল জাসস, বৈরুত, দার ইহিয়াউত্তুরাস আল-আরাবি, ১৪০৫ হি., গবেষণা: মোহাম্মদ আস-সাদিক কামাহাউই, খ: ৪, পৃ: ৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এই হাদিস এবং অন্যান্য অগণিত হাদিস ও ঐতিহাসিক প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ইবনে তায়মিয়া ও ওয়াহাবীদের  এরূপ বিশ্বাস ও অবস্থান এটি নিশ্চিত করে যে, ইবনে তায়মিয়া এবং তার অনুসারীদের শত্রুতা কেবল আহলে বাইতের প্রতিই নয়, বরং তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিদ্বেষ ও শত্রুতা থেকে উদ্ভূত।&lt;br /&gt;
আমিরুল মুমিনীন আলী (আ.) এবং তাঁর সঙ্গীদের সম্পর্কে ইবনে তায়মিয়া এমন কিছু কথা বলেছেন যা ইমাম আলী (আ.)-এর প্রতি তাঁর প্রকাশ্য শত্রুতার বিষয়টি প্রমাণ করে। তিনি বলেন: &lt;br /&gt;
::&amp;quot;খারেজি, উমাইয়া এবং মারওয়ানিদের ন্যায় যারা আলীকে গালি দিয়েছে, তাকে লানত করেছে এবং তাকে কাফির ও জালিম বলে ঘোষণা করেছে, তারা সবাই ইসলামের অনুসারী ছিল এবং ইসলামী আচার-আচরণ মেনে চলতো। কিন্তু আলীকে যারা নিষ্পাপ জ্ঞান করেন এবং যারা তাঁর অনুসারী, তারা সকলেই মুরতাদ ও কাফের।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন তাইমিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ, খ: ৫, পৃ: ৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অথচ ইমাম আলী (আ.) হচ্ছেন পবিত্র আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও আহলে সুন্নতের প্রখ্যাত মুফাসসির ফাখরে রাযী বলেন: &amp;quot;যে ব্যক্তি তার ধর্মের ক্ষেত্রে আলী ইবনে আবি তালিবকে অনুসরণ করবে, নিশ্চয় সে হেদায়েতপ্রাপ্ত।&amp;quot; আর এর প্রমাণ হলো মহানবী (স.) এর উক্তি: {{arabic|اللهم ادر الحق مع علی حیث دار|translation|হে আল্লাহ, আলী যেখানেই থাকুক না কেন, সত্যকে তার সাথে রাখো।}}&amp;lt;ref&amp;gt;ফখরুর রাজী, ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ বিন ওমর আত-তামীমি আর-রাজী আশ-শাফেয়ি, আত-তাফসিরুল কবির অথবা মাফাতিহুল গাইব, বৈরুত, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, চ: ১, ১৪২১ হি./২০০০ ম., খ: ১, পৃ: ১৬৮&amp;lt;/ref&amp;gt; এছাড়াও আহলে সুন্নতের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, আলী সত্যের সাথে এবং সত্য আলীর সাথে রয়েছে, যেখানেই হোক না কেন।&amp;lt;ref&amp;gt;হাকিম নিশাপুরী, আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন, খ: ৩, পৃ: ১৩৪; হাইসামি, নূরুদ্দিন আলী বিন আবু বকর, মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, কায়রো, দারুর রিয়ান লিত্তুরাস, বৈরুত, দারুল মাকতাব আল-ইলমিয়্যাহ, ১৪০৮ হি., খ: ৭, পৃ: ২৩৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে তায়মিয়া আহলে বাইতের ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত সকল হাদিসকে হয় সনদগতভাবে বিতর্কিত বলে উল্লেখ করেন অথবা হাদীসগুলোর দলিলকে প্রত্যাখ্যাত হিসেবে গণ্য করেন। উদাহরণস্বরূপ, আহলে সুন্নতের গ্রহণযোগ্য গ্রন্থসমূহে যেমন সহীহ মুসলিমে আয়াতে তাতহীরের শানে নুযুলে ‍উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা’র বর্ণনা এবং অপর একটি বর্ণনায় উম্মে সালমা থেকে উল্লেখিত হয়েছে যে, এই আয়াত (আয়াতে তাতহীর) নাযিল অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন: &amp;quot;হে আল্লাহ! এরাই হচ্ছে আমার আহলে বাইত; এদের থেকে সকল প্রকারের অপবিত্রতা দূর করুন এবং এদেরকে পবিত্র করুন।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;আহমদ বিন হাম্বল, মুসনাদ আহমদ, বৈরুত, দারুস সাদির, বি-তা, খ: ১, পৃ: ৩৩১।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইবনে তায়মিয়া এই হাদিসের সনদে কোনো খুঁত খুঁজে না পেয়েও আহলে বাইত সম্পর্কে অবতীর্ণ হওয়া এই আয়াত সম্পর্কে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বলেন, না এই আয়াত আহলে বাইত সম্পর্কে নাযিল হয়েছে, আর না আহলে বাইত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স.) এর দোয়া আহলে বাইতের কোনো সদস্যের মর্যাদা বা ফজিলত প্রমাণ করে।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন তাইমিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ, মাটবাআতুল কুবরা আল-আমিরিয়্যাহ, চ: ১, ১৩২২ হি., খ: ৩, পৃ: ৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে তায়মিয়ার এই ধরনের বক্তব্য আহলে বাইতের প্রতি বিদ্বেষ ও শত্রুতার প্রমাণ। অথচ আহলে বাইতের মর্যাদা, কুরআন ও হাদিসের মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত। আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন ইসলামের মৌলিক শিক্ষার অংশ, যা ইবনে তায়মিয়ার মতো ব্যক্তিদের বক্তব্য দ্বারা উপেক্ষা করা যায় না।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ইমাম হুসাইন (আ.) সম্পর্কে বর্তমান কালের ওয়াহাবী মুফতি আব্দুল আজিজ আল শাইখের দৃষ্টিভঙ্গি ==&lt;br /&gt;
[[ইমাম হুসাইন (আ.)]] সম্পর্কে বর্তমান কালের ওয়াহাবী মুফতি আব্দুল আজিজ আল-শাইখের  দৃষ্টিভঙ্গি ইবনে তায়মিয়া ও অন্যান্য প্রাক্তন ওয়াহাবী নেতাদের চেয়েও বেশি চরমপন্থী ও নেতিবাচক। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওয়াহাবী মতাদর্শের সর্বোচ্চ মুফতি আল-শাইখ, ওয়াহাবীদের হৃদয়ের কথাটির উন্মোচন করেছেন এবং অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও খোলাখুলিভাবে [[ইয়াজিদ]]কে সঠিক ও ইমাম হুসাইন (আ.)-কে ভ্রান্ত বলে দাবি করেছেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সৌদি আরবের &amp;quot;আল-মাজদ&amp;quot; স্যাটেলাইট চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে এক মহিলার প্রশ্নের জবাবে ইয়াজিদ ও ইমাম হুসাইন (আ.)- এর ক্বিয়াম তথা বিদ্রোহ সম্পর্কে আল-শাইখ যা বলেছেন, তার সারসংক্ষেপ হচ্ছে- ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার বাইয়াত (আনুগত্যের শপথ) একটি শরীয়তসম্মত বাইয়াত যা তার পিতা মুয়াবিয়ার সময়ে জনগণের নিকট থেকে গ্রহণ করা হয়েছিল এবং মানুষ তাতে সম্মতী প্রদান করেছিল। কিন্তু যখন মুয়াবিয়া মৃত্যুবরণ করেন, তখন হুসাইন ইবনে আলী ও ইবনে যুবায়ের ইয়াজিদের নিকট বাইয়াত করতে অস্বীকার করেন। ফলে হুসাইন ও ইবনে যুবায়ের বাইয়াত না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল করেছেন। আর হুসাইন অন্যের উপদেশের প্রতি কর্ণপাত করেন নি এবং কল্যাণের বিপরীত কাজ করেছেন, আর আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছিলেন, তাই হয়েছে। তিনি আরও বলেন, &amp;quot;হুসাইন যে ভুল করুক না কেন, তা তার নিজের জন্যই করেছেন!!... যাই হোক, ইয়াজিদের বিরুদ্ধে হুসাইনের ক্বিয়াম ও বিদ্রোহ হারাম ছিল!!... এ কাজ না করাই ছিল তার জন্য উত্তম। মদীনায় থাকা এবং মানুষের সমষ্টিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলাই উত্তম ও বেশি উপযুক্ত ছিল। খিলাফতের সীমানা লঙ্ঘন করা জায়েজ ছিল না। তবে, এতদ্বসত্ত্বেও আমরা হুসাইনের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করি এবং তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি!!&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;http://database-aryana-encyclopaedia.blogspot.com/২০১৩/۰۷/blog-post_14.html&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সহীহ ও মুতাওয়াতির হাদিস অনুযায়ী, ইমাম হুসাইন (আ.) ও তার ভাই ইমাম হাসান (আ.) যখন জান্নাতের যুবক দের সর্দার তখন তাদের সম্পর্কে ভুল বা গুনাহর কথা কল্পনা করাও অসম্ভব। তাহলে, কেন আল-শাইখ বা অন্য ব্যক্তিদেরকে তাঁর জন্য ক্ষমা চাইতে হবে!&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আশুরা দিবস সম্পর্কে ওয়াহাবীদের দৃষ্টিভঙ্গি ==&lt;br /&gt;
সাম্প্রতিক কালের ওয়াহাবীরা [[আশুরা]]র দিনকে আনন্দের দিন হিসেবে বিবেচনা করে। কুয়েতের ওয়াহাবীরা তাদের কিছু কিছু প্রকাশনায় হুসাইনের আশুরাকে আনন্দ ও উৎসবের দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও,আহলে সুন্নত কর্তৃক [[রাসূল (স.)]]-এর পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন সত্ত্বেও, ওয়াহাবীরা ইচ্ছাকৃতভাবে কুয়েতে [[তাসুয়া]] ও আশুরার রাতে তাদের বিবাহ ও উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।&amp;lt;ref&amp;gt;খবরনামা, সংখ্যা ১১৫৩, পৃ: ৫৩।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
রাসূলুল্লাহ (স.)-এর আহলে বাইতের প্রতি, বিশেষ করে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর প্রতি তীব্র শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণকারী আল-শাইখ, তার এই শত্রুতা প্রকাশের জন্ তার পুত্র উমর ইবনে আব্দুল আজিজের বিয়ের অনুষ্ঠান আশুরার দিনে আয়োজন করেছিলেন। এই অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের অনেক মুফতি অংশগ্রহণ করেছিলেন।&amp;lt;ref&amp;gt;সাইট: মাশরিক নিউজ।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== হযরত যায়নাব (সা. আ.)-এর মাজার যিয়ারতের প্রতি ওয়াহাবীদের বিদ্বেষ ==&lt;br /&gt;
সৌদি গোয়েন্দা সংস্থা’র অর্থায়নে পরিচালিত ওয়াহাবী সংবাদ নেটওয়ার্ক &amp;quot;সাফা&amp;quot;, যার প্রধান কার্যালয় কুয়েত, কায়রো ও রিয়াদে অবস্থিত, ফ্রি সিরিয়ান আর্মির সদস্যদেরকে শামে বনি [[উমাইয়া]]র বংশধর বলে হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের উদ্দেশ্যে বলেছে: &lt;br /&gt;
::&amp;quot;হে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের বংশধর! হে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার বংশধর! হে ফ্রি সিরিয়ান আর্মির সৈন্যরা! তোমাদের অবশ্যই যায়নাবের কবরকে (মাজার)[[ লক্ষ্যবস্তু]] করে তা ধ্বংস করতে হবে এবং একইভাবে অন্যান্য সব মাজারও ধ্বংস করতে হবে।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;খবরনামা জামেয়া মুদাররিসিন, সংখ্যা ১১৩৮, পৃ: ৫৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সমসাময়িক ওয়াহাবীরা এই পথে এতটাই চরমপন্থার দিকে এগিয়েছে যে, তারা ইয়াজিদ ও [[ইবনে জিয়াদের]] নামে একটি সেনাদল গঠন করেছে এবং &amp;quot;ইয়াজিদ ও ইবনে জিয়াদ শহীদ হয়েছেন&amp;quot; এই স্লোগান ব্যবহার করে পাকিস্তানে মিছিল বের করছে।&amp;lt;ref&amp;gt;খবরনামা জামেয়া মুদাররিসিন, সংখ্যা ১১৯৫, পৃ: ৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আহলে বাইতের শত্রুদের প্রতি ওয়াহাবীদের সমর্থন ==&lt;br /&gt;
ওয়াহাবীরা, রাসূলুল্লাহ’র (স.) আহলে বাইতের সাথে তাদের শত্রুতা প্রকাশ করতে গিয়ে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর হত্যাকারীদের প্রতি সমর্থনের উপর গুরুত্বারোপ করে তাদেরকে দৃঢ়চিত্তে  রক্ষা করছে।&lt;br /&gt;
* ইবনে তাইমিয়া তার গ্রন্থ &amp;quot;মিনহাজুস সুন্নাহ&amp;quot;-এর চতুর্থ খণ্ডে (৫৪৯-৫৭৫ পৃষ্ঠা) ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়াকে মুসলমানদের অন্যান্য খলিফাদের মাকামের সমপর্যায়ে স্থান দিয়েছেন এবং কারবালার মর্মান্তিক ঘটনায় ইয়াজিদকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, যে ঘটনায় রাসূলুল্লাহর (স.) প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হুসাইন ইবনে আলী (আ.), তাঁর সন্তানগণ ও সঙ্গী-সাথীরা শহীদ হন এবং রাসূলের (স.) পবিত্র আহলে বাইত বন্দী হন।&lt;br /&gt;
* তিনি বলেন: &amp;quot;ধরে নেওয়া যাক যে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া ফাসেক ও জালিম ছিলেন, তবে আল্লাহ তাকে তার কিছু ভালো কাজের জন্য ক্ষমা করবেন!&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন তাইমিয়াহ, আহমদ বিন আবদুল হালিম, মাজমুউল ফাতাওয়া, বি-তা, বি-জা, খ: ৩, পৃ: ৪১৩; খ: ৪, পৃ: ৪৭৫।&amp;lt;/ref&amp;gt; এছাড়াও, তিনি ইমাম হুসাইন (আ.)-এর হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী উমর ইবনে সাদের পক্ষে সরাসরি সাফাই গেয়েছেন। তিনি বলেন: &amp;quot;সত্য যে, [[উমর ইবনে সাদ]] সেনাপতি ছিলেন এবং ইমাম হুসাইন (আ.)-কে হত্যা করেছিলেন, তবে তার পাপ ও অপরাধ ‘[[মুক্তার ইবনে আবি উবাইদা]]’র চেয়ে কম, বরং মুক্তারের পাপ ও অপরাধ উমর ইবনে সাদের চেয়েও বড়!&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;মিনহাজুস সুন্নাহ, খ: ২, পৃ: ৭০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* ওয়াহাবীরা, আহলে বাইতের শত্রুদের প্রশংসায় বিশেষ করে আলী (আ.)-এর অন্যতম শত্রু মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান এবং তার পুত্র ইয়াজিদের প্রশংসায় &amp;quot;ফাযায়েলে মুয়াবিয়া ওয়া ফি ইয়াজিদ ওয়া আনাহু লা ইয়াসিব&amp;quot; নামে বই রচনা করেছেন। যারা মুয়াবিয়ার প্রশংসা করতে চায়, নাসাঈ তাদের জবাবে বলেন, রাসূল (স.)-এর পক্ষ থেকে মুয়াবিয়ার প্রতি বিখ্যাত অভিশাপ ব্যতীত তার সম্পর্কে কোনো ফজিলত আমার জানা নেই, যেখানে তিনি (স.) বলেছেন: «لا أشبع الله بطنه» (আল্লাহ তার পেট যেন কখনো পরিপূর্ণ না হয়)।&amp;lt;ref&amp;gt;আন-নাসাঈ, আহমদ বিন শুয়াইব, খাসায়িস ইমামুল মু’মিনিন (আ.), মাকতাবাতুন নিনাওয়ী আল-হাদিসাহ, পৃ: ২৩;&lt;br /&gt;
আবু দাউদ, সুলাইমান, মুসনাদ আবু দাউদ, বৈরুত, দারুল হাদিস, পৃ: ৩৫৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* ওয়াহাবী বা সালাফি পণ্ডিতরা, যেসব রেওয়ায়েতসমূহে আহলে বাইতের বিরোধীদের যেমন মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান, উমর ইবনে সাদ, বনি উমাইয়া, [[বনি মারওয়ান]], আমর ইবনে আল-আস, ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া এবং অন্যান্যদের সম্পর্কে নিন্দা ও সমালোচনা করা হয়েছে, সেগুলিকে কোনো প্রমাণ বা যুক্তি ছাড়াই প্রত্যাখ্যান করে বলেন যে, এই ধরনের রেওয়ায়েতগুলোর সবই মিথ্যা ও বানোয়াট।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনুল কাইয়্যিম, মোহাম্মদ বিন আবু বকর, নাকদুল মানকুল, বৈরুত, দারুল ক্বারী, চ: ১, ১৪১১ হি., পৃ: ১০৮।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* সমসাময়িক ওয়াহাবী মতবাদে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। তার গুরুত্ব এতটাই যে, সৌদি আরবের শিক্ষা মন্ত্রণালয় &amp;quot;হাকাইক হাক্বায়েক্ব আন আমির আল-মুমিনিন ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া&amp;quot; শিরোনামে একটি বই প্রকাশ করেছে এবং বইটিকে সে দেশের সরকারি স্কুলগুলিতে পাঠ্য পুস্তক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।&amp;lt;ref&amp;gt;তিজানী, সাইয়্যেদ মোহাম্মদ, আশ-শিয়াহ হুম আহলুস সুন্নাহ, পাদটীকা পৃ: ৯৪; আসআদ ওয়াহিদ আল-কাসিম, হাকিকাতুশ শিয়াহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ, পৃ: ৮২।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* ইরাকের একটি মিডিয়া একটি চিত্র প্রকাশ করেছে যেখানে দেখা যায় যে, সৌদি আরবের ওয়াহাবী শাসকরা, মহানবী (স.) এবং তাঁর প্রিয় আহলে বাইত (আ.)-এর প্রতি তাদের গভীর বিদ্বেষের নিদর্শন স্বরূপ আল্লাহর শেষ রাসূল (সা.) এবং তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের শত্রুদের নাম স্কুল, রাস্তা এবং অন্যান্য স্থানের নামকরণ করেছে। যেমন: ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া স্কুল, ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া সড়ক, আবু লাহাব স্কুল (যে আবু লাহাবের বিরুদ্ধে আল্লাহ কুরআনে সম্পূর্ণ একটি সুরা অবতীর্ণ করেছেন) এবং আবরাহা আল-হাবশির নামে রাস্তা (যে ব্যক্তি আমলফীলে কাবা ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল এবং আল্লাহ তাকে ও তার সৈন্যদের ভয়াবহ শাস্তি দিয়েছিলেন)।&amp;lt;ref&amp;gt;খবরনামা জামেয়া মুদাররিসিন, সংখ্যা ১১৯৮, পৃ: ৬৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আহলে বাইতের (আ.) কবর ধ্বংস ==&lt;br /&gt;
ওয়াহীরা বাকি কবরস্থানে আহলে বাইতের কবরসমূহ ধ্বংস করে, [[কারবালা]] ও [[নাজাফে]] সামরিক আক্রমণ চালিয়ে ইমাম হুসাইন ও ইমাম আলী (আ.) এর মাজার ধ্বংস করে এবং আহলে বাইত প্রেমিক মুসলমানদের উপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালানোর মাধ্যমে আহলে বাইতের (আ.) প্রতি তাদের শত্রুতা ও বিদ্বেষের বিষয়টি প্রমাণ করেছে। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আর তাদের এহেন কর্মকাণ্ড, রাসূলুল্লাহ (স.) এর পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি শত্রুতা এবং আহলে বাইতের শত্রুদের বিশেষ করে ইয়াজিদ ও তার পরিবারের প্রতি ভালোবাসার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা তাদের বিকৃত ও বিচ্যুত চিন্তাধারা থেকে উদ্ভূত। &lt;br /&gt;
সৌদ ইবনে আবদুল আজিজের নেতৃত্বে ১২১৬ থেকে ১২২৫ হিজরি অবধি কারবালা ও নাজাফের দিকে তাদের ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের কারণ হিসেবে আহলে বাইতের প্রতি ওয়াহাবীদের শত্রুতা ব্যতীত অন্য কী ব্যাখ্যা দিবে?&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১২৬২ হিজরীতে নাজদ ও আশেপাশের বেদুইন গোত্র, হেজাজ ও তিহামার অধিবাসীদের সমন্বয়ে গঠিত ওয়াহাবী বাহিনী, জিলকদ মাসে কারবালায় প্রবেশ করে। তারা শহরের রাস্তাঘাট, বাজার ও বাড়িতে ঢুকে অধিকাংশ লোককে হত্যা করে। অতঃপর তারা প্রচুর ধন-সম্পদ লুট করে শহর ছেড়ে চলে যায়। পরবর্তীতে তারা &amp;quot;আবিয়াদ&amp;quot; নামক এলাকায় জড়ো হয় এবং লুটকৃত সম্পদের এক-[[পঞ্চমাং]]শ (খুমস) সৌদ ইবনে আবদুল আজিজ নিজের জন্য রেখে বাকি অংশ সৈনিকদের মধ্যে, প্রতি পদাতিক  সৈনিককে এক ভাগ করে এবং প্রতিটি অশ্বারোহী সৈনিককে দুই ভাগ করে বণ্টন করে দেওয়া হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;সালেহ আল-উথাইমিন, আব্দুল্লাহ, তারিখুল মামলাকাতিস সৌদিয়্যাহ, রিয়াদ, উবাইকান, চ: ১৫, ১৪৩০ হি., খ: ১, পৃ: ৭৩।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch =ادیان و مذاهب&lt;br /&gt;
 | subbranch1 = اسلام&lt;br /&gt;
 | subbranch2 =وهابیت&lt;br /&gt;
 | subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه =شد&lt;br /&gt;
 | تیترها =شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت = الف&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:دشمنی وهابیت با اهل‌بیت]]&lt;br /&gt;
[[ar:عداء الوهابیة لأهل البیت]]&lt;br /&gt;
[[ms:Permusuhan Sekte Wahabi Terhadap Ahlul Bait as]]&lt;br /&gt;
[[en:The Hostility of Wahhabis Towards the Ahl al-Bayt (a)]]&lt;br /&gt;
[[bn:আহলে বাইত (আ.)-এর সাথে ওয়াহাবীদের শত্রুতা]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A4_(%E0%A6%86.)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%E0%A7%87_%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BE&amp;diff=1021</id>
		<title>আহলে বাইত (আ.)-এর সাথে ওয়াহাবীদের শত্রুতা</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A4_(%E0%A6%86.)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%E0%A7%87_%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BE&amp;diff=1021"/>
		<updated>2025-02-27T17:49:35Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* تআহলে বাইতের (আ.) কবর ধ্বংস */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
ইবনে তাইমিয়া ও ওয়াহাবী মতবাদ কি সত্যি সত্যিই আহলে বাইত (আ.)-এর সাথে প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করে?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
[[রাসূলুল্লাহ (সা.)]]-এর আহলে বাইতের প্রতি [[ওয়াহাবী]] মতবাদের শত্রুতা কারও কাছে গোপন নয়। এই শত্রুতা একদিকে যেমন ওয়াহাবী সম্প্রদায়ের শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়া, তেমনিভাবে ওয়াহাবী সম্প্রদায়ের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে প্রকাশ পেয়েছে। আহলে বাইতের ফজিলতসমূহকে অস্বীকার করা, ইমাম আলী (আ.)-কে [[ফেরাউনে]]র সাথে তুলনা করা, ইমাম আলীর শত্রুদেরকে নির্দোষ এবং তাঁর অনুসারীদের তাকফির তথা কাফের সাব্যস্ত করা, [[ইমাম আলী (আ.)]]-এর শত্রুদের বিশেষত [[ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার]] প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করা এবং আহলে বাইতের (আ.) মাজার ধ্বংস করা প্রভৃতি বিষয়গুলো মহানবী’র আহলে বাইতের প্রতি এই সম্প্রদায়টির শত্রুতা পোষণের প্রমাণ বহন করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== মহানবী’র (স.) আহলে বাইতের (আ.) সাথে ইবনে তায়মিয়ার শত্রুতা ==&lt;br /&gt;
[[ইবনে তায়মিয়া]] আহলে বাইতের কোনো ফজিলতকেই স্বীকার করেন না; বরং তিনি আহলে বাইতের শ্রেষ্ঠত্বকে আরবের জাহেলিয়াত তথা অজ্ঞতা থেকে উৎসারিত বলে মনে করেন। ইবনে তায়মিয়া বলেন: [[রাসূলুল্লাহ (সা.)]]-এর আহলে বাইতকে অন্যদের চাইতে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম বলে বিশ্বাস করা জাহেলি যুগের চিন্তাধারার অংশ, যে যুগে গোত্রের নেতা ও প্রধানদের অন্যদের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হতো।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন তাইমিয়াহ, আহমদ বিন আবদুল হালিম, মিনহাজুস সুন্নাহ, মিসর, মুয়াসসাসাতু কুরতুবা, খ: ৩, পৃ: ২৬৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইবনে তায়মিয়ার এই বক্তব্যসমূহ ইসলাম ধর্মের শিক্ষার পরিপন্থী; কারণ যেরূপভাবে কুরআনে আয়াতে তাতহীরে তেমনিভাবে রাসূলুল্লাহ (স.)-এর বিভিন্ন হাদিসসমূহে বিশেষ করে [[হাদিসে সাকালাইন]] ও[[ হাদিসে সাফিনাহ]]’তে আহলে বাইত (আ.)-এর ফজিলতের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা  হয়েছে। আর কুরআনে আয়াতে কুরবা তথা মাওয়াদ্দাতের আয়াতে আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা মুসলমানদের উপর ওয়াজীব করা হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে তায়মিয়া [[ইমাম আলী (আ.)]]-কে রক্তপাত ও ক্ষমতা লোভের ক্ষেত্রে ফেরাউনের সাথে তুলনা করেন। অথচ শিয়া ও সুন্নি উভয় মাযহাবের সূত্রগুলোতে একটি বর্ণিত হয়েছে যে, [[আলী]], [[ফাতিমা]],[[হাসান]] ও হুসাইন (আ.)-কে মহানবী (স.) বলেছেন: অর্থাৎ {{arabic|انا حرب لمن حاربتم و سلم لمن سالمتم|translation=তোমরা যার সাথে যুদ্ধ করবে, আমিও তার সাথে যুদ্ধ করব; আর তোমরা যার সাথে সন্ধি ও আপোষ করবে, আমিও তার সাথে সন্ধি ও  আপোষ করবো।}}&amp;lt;ref&amp;gt;হাকিম নিশাপুরী, মোহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ, আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন, বৈরুত, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, চ: ১, ১৪১১ হি./১৯৯০ ম., গবেষণা: মুস্তাফা আবদুল কাদির আতা, খ: ৩, পৃ: ১৬১; সুনান ইবন মাজাহ, মোহাম্মদ বিন ইয়াজিদ আবু আবদুল্লাহ আল-কুজুইনি, সুনান ইবন মাজাহ, দারুল ফিকর - বৈরুত, গবেষণা: মোহাম্মদ ফুয়াদ আবদুল বাকী, পৃ: ৫২।&amp;lt;/ref&amp;gt; জাসসাস এই হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেন, যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ লিপ্ত হবে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে বলে বিবেচিত হবে, এমনকি সে যদি মুশরিকও না হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;জাসস, আহমদ বিন আলী আর-রাজী, আহকামুল কুরআন লিল জাসস, বৈরুত, দার ইহিয়াউত্তুরাস আল-আরাবি, ১৪০৫ হি., গবেষণা: মোহাম্মদ আস-সাদিক কামাহাউই, খ: ৪, পৃ: ৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এই হাদিস এবং অন্যান্য অগণিত হাদিস ও ঐতিহাসিক প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ইবনে তায়মিয়া ও ওয়াহাবীদের  এরূপ বিশ্বাস ও অবস্থান এটি নিশ্চিত করে যে, ইবনে তায়মিয়া এবং তার অনুসারীদের শত্রুতা কেবল আহলে বাইতের প্রতিই নয়, বরং তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিদ্বেষ ও শত্রুতা থেকে উদ্ভূত।&lt;br /&gt;
আমিরুল মুমিনীন আলী (আ.) এবং তাঁর সঙ্গীদের সম্পর্কে ইবনে তায়মিয়া এমন কিছু কথা বলেছেন যা ইমাম আলী (আ.)-এর প্রতি তাঁর প্রকাশ্য শত্রুতার বিষয়টি প্রমাণ করে। তিনি বলেন: &lt;br /&gt;
::&amp;quot;খারেজি, উমাইয়া এবং মারওয়ানিদের ন্যায় যারা আলীকে গালি দিয়েছে, তাকে লানত করেছে এবং তাকে কাফির ও জালিম বলে ঘোষণা করেছে, তারা সবাই ইসলামের অনুসারী ছিল এবং ইসলামী আচার-আচরণ মেনে চলতো। কিন্তু আলীকে যারা নিষ্পাপ জ্ঞান করেন এবং যারা তাঁর অনুসারী, তারা সকলেই মুরতাদ ও কাফের।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন তাইমিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ, খ: ৫, পৃ: ৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অথচ ইমাম আলী (আ.) হচ্ছেন পবিত্র আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও আহলে সুন্নতের প্রখ্যাত মুফাসসির ফাখরে রাযী বলেন: &amp;quot;যে ব্যক্তি তার ধর্মের ক্ষেত্রে আলী ইবনে আবি তালিবকে অনুসরণ করবে, নিশ্চয় সে হেদায়েতপ্রাপ্ত।&amp;quot; আর এর প্রমাণ হলো মহানবী (স.) এর উক্তি: {{arabic|اللهم ادر الحق مع علی حیث دار|translation|হে আল্লাহ, আলী যেখানেই থাকুক না কেন, সত্যকে তার সাথে রাখো।}}&amp;lt;ref&amp;gt;ফখরুর রাজী, ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ বিন ওমর আত-তামীমি আর-রাজী আশ-শাফেয়ি, আত-তাফসিরুল কবির অথবা মাফাতিহুল গাইব, বৈরুত, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, চ: ১, ১৪২১ হি./২০০০ ম., খ: ১, পৃ: ১৬৮&amp;lt;/ref&amp;gt; এছাড়াও আহলে সুন্নতের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, আলী সত্যের সাথে এবং সত্য আলীর সাথে রয়েছে, যেখানেই হোক না কেন।&amp;lt;ref&amp;gt;হাকিম নিশাপুরী, আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন, খ: ৩, পৃ: ১৩৪; হাইসামি, নূরুদ্দিন আলী বিন আবু বকর, মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, কায়রো, দারুর রিয়ান লিত্তুরাস, বৈরুত, দারুল মাকতাব আল-ইলমিয়্যাহ, ১৪০৮ হি., খ: ৭, পৃ: ২৩৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে তায়মিয়া আহলে বাইতের ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত সকল হাদিসকে হয় সনদগতভাবে বিতর্কিত বলে উল্লেখ করেন অথবা হাদীসগুলোর দলিলকে প্রত্যাখ্যাত হিসেবে গণ্য করেন। উদাহরণস্বরূপ, আহলে সুন্নতের গ্রহণযোগ্য গ্রন্থসমূহে যেমন সহীহ মুসলিমে আয়াতে তাতহীরের শানে নুযুলে ‍উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা’র বর্ণনা এবং অপর একটি বর্ণনায় উম্মে সালমা থেকে উল্লেখিত হয়েছে যে, এই আয়াত (আয়াতে তাতহীর) নাযিল অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন: &amp;quot;হে আল্লাহ! এরাই হচ্ছে আমার আহলে বাইত; এদের থেকে সকল প্রকারের অপবিত্রতা দূর করুন এবং এদেরকে পবিত্র করুন।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;আহমদ বিন হাম্বল, মুসনাদ আহমদ, বৈরুত, দারুস সাদির, বি-তা, খ: ১, পৃ: ৩৩১।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইবনে তায়মিয়া এই হাদিসের সনদে কোনো খুঁত খুঁজে না পেয়েও আহলে বাইত সম্পর্কে অবতীর্ণ হওয়া এই আয়াত সম্পর্কে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বলেন, না এই আয়াত আহলে বাইত সম্পর্কে নাযিল হয়েছে, আর না আহলে বাইত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স.) এর দোয়া আহলে বাইতের কোনো সদস্যের মর্যাদা বা ফজিলত প্রমাণ করে।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন তাইমিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ, মাটবাআতুল কুবরা আল-আমিরিয়্যাহ, চ: ১, ১৩২২ হি., খ: ৩, পৃ: ৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে তায়মিয়ার এই ধরনের বক্তব্য আহলে বাইতের প্রতি বিদ্বেষ ও শত্রুতার প্রমাণ। অথচ আহলে বাইতের মর্যাদা, কুরআন ও হাদিসের মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত। আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন ইসলামের মৌলিক শিক্ষার অংশ, যা ইবনে তায়মিয়ার মতো ব্যক্তিদের বক্তব্য দ্বারা উপেক্ষা করা যায় না।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ইমাম হুসাইন (আ.) সম্পর্কে বর্তমান কালের ওয়াহাবী মুফতি আব্দুল আজিজ আল শাইখের দৃষ্টিভঙ্গি ==&lt;br /&gt;
[[ইমাম হুসাইন (আ.)]] সম্পর্কে বর্তমান কালের ওয়াহাবী মুফতি আব্দুল আজিজ আল-শাইখের  দৃষ্টিভঙ্গি ইবনে তায়মিয়া ও অন্যান্য প্রাক্তন ওয়াহাবী নেতাদের চেয়েও বেশি চরমপন্থী ও নেতিবাচক। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওয়াহাবী মতাদর্শের সর্বোচ্চ মুফতি আল-শাইখ, ওয়াহাবীদের হৃদয়ের কথাটির উন্মোচন করেছেন এবং অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও খোলাখুলিভাবে [[ইয়াজিদ]]কে সঠিক ও ইমাম হুসাইন (আ.)-কে ভ্রান্ত বলে দাবি করেছেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সৌদি আরবের &amp;quot;আল-মাজদ&amp;quot; স্যাটেলাইট চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে এক মহিলার প্রশ্নের জবাবে ইয়াজিদ ও ইমাম হুসাইন (আ.)- এর ক্বিয়াম তথা বিদ্রোহ সম্পর্কে আল-শাইখ যা বলেছেন, তার সারসংক্ষেপ হচ্ছে- ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার বাইয়াত (আনুগত্যের শপথ) একটি শরীয়তসম্মত বাইয়াত যা তার পিতা মুয়াবিয়ার সময়ে জনগণের নিকট থেকে গ্রহণ করা হয়েছিল এবং মানুষ তাতে সম্মতী প্রদান করেছিল। কিন্তু যখন মুয়াবিয়া মৃত্যুবরণ করেন, তখন হুসাইন ইবনে আলী ও ইবনে যুবায়ের ইয়াজিদের নিকট বাইয়াত করতে অস্বীকার করেন। ফলে হুসাইন ও ইবনে যুবায়ের বাইয়াত না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল করেছেন। আর হুসাইন অন্যের উপদেশের প্রতি কর্ণপাত করেন নি এবং কল্যাণের বিপরীত কাজ করেছেন, আর আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছিলেন, তাই হয়েছে। তিনি আরও বলেন, &amp;quot;হুসাইন যে ভুল করুক না কেন, তা তার নিজের জন্যই করেছেন!!... যাই হোক, ইয়াজিদের বিরুদ্ধে হুসাইনের ক্বিয়াম ও বিদ্রোহ হারাম ছিল!!... এ কাজ না করাই ছিল তার জন্য উত্তম। মদীনায় থাকা এবং মানুষের সমষ্টিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলাই উত্তম ও বেশি উপযুক্ত ছিল। খিলাফতের সীমানা লঙ্ঘন করা জায়েজ ছিল না। তবে, এতদ্বসত্ত্বেও আমরা হুসাইনের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করি এবং তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি!!&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;http://database-aryana-encyclopaedia.blogspot.com/২০১৩/۰۷/blog-post_14.html&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সহীহ ও মুতাওয়াতির হাদিস অনুযায়ী, ইমাম হুসাইন (আ.) ও তার ভাই ইমাম হাসান (আ.) যখন জান্নাতের যুবক দের সর্দার তখন তাদের সম্পর্কে ভুল বা গুনাহর কথা কল্পনা করাও অসম্ভব। তাহলে, কেন আল-শাইখ বা অন্য ব্যক্তিদেরকে তাঁর জন্য ক্ষমা চাইতে হবে!&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আশুরা দিবস সম্পর্কে ওয়াহাবীদের দৃষ্টিভঙ্গি ==&lt;br /&gt;
সাম্প্রতিক কালের ওয়াহাবীরা [[আশুরা]]র দিনকে আনন্দের দিন হিসেবে বিবেচনা করে। কুয়েতের ওয়াহাবীরা তাদের কিছু কিছু প্রকাশনায় হুসাইনের আশুরাকে আনন্দ ও উৎসবের দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও,আহলে সুন্নত কর্তৃক [[রাসূল (স.)]]-এর পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন সত্ত্বেও, ওয়াহাবীরা ইচ্ছাকৃতভাবে কুয়েতে [[তাসুয়া]] ও আশুরার রাতে তাদের বিবাহ ও উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।&amp;lt;ref&amp;gt;খবরনামা, সংখ্যা ১১৫৩, পৃ: ৫৩।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
রাসূলুল্লাহ (স.)-এর আহলে বাইতের প্রতি, বিশেষ করে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর প্রতি তীব্র শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণকারী আল-শাইখ, তার এই শত্রুতা প্রকাশের জন্ তার পুত্র উমর ইবনে আব্দুল আজিজের বিয়ের অনুষ্ঠান আশুরার দিনে আয়োজন করেছিলেন। এই অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের অনেক মুফতি অংশগ্রহণ করেছিলেন।&amp;lt;ref&amp;gt;সাইট: মাশরিক নিউজ।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== হযরত যায়নাব (সা. আ.)-এর মাজার যিয়ারতের প্রতি ওয়াহাবীদের বিদ্বেষ ==&lt;br /&gt;
সৌদি গোয়েন্দা সংস্থা’র অর্থায়নে পরিচালিত ওয়াহাবী সংবাদ নেটওয়ার্ক &amp;quot;সাফা&amp;quot;, যার প্রধান কার্যালয় কুয়েত, কায়রো ও রিয়াদে অবস্থিত, ফ্রি সিরিয়ান আর্মির সদস্যদেরকে শামে বনি [[উমাইয়া]]র বংশধর বলে হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের উদ্দেশ্যে বলেছে: &lt;br /&gt;
::&amp;quot;হে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের বংশধর! হে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার বংশধর! হে ফ্রি সিরিয়ান আর্মির সৈন্যরা! তোমাদের অবশ্যই যায়নাবের কবরকে (মাজার)[[ লক্ষ্যবস্তু]] করে তা ধ্বংস করতে হবে এবং একইভাবে অন্যান্য সব মাজারও ধ্বংস করতে হবে।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;খবরনামা জামেয়া মুদাররিসিন, সংখ্যা ১১৩৮, পৃ: ৫৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সমসাময়িক ওয়াহাবীরা এই পথে এতটাই চরমপন্থার দিকে এগিয়েছে যে, তারা ইয়াজিদ ও [[ইবনে জিয়াদের]] নামে একটি সেনাদল গঠন করেছে এবং &amp;quot;ইয়াজিদ ও ইবনে জিয়াদ শহীদ হয়েছেন&amp;quot; এই স্লোগান ব্যবহার করে পাকিস্তানে মিছিল বের করছে।&amp;lt;ref&amp;gt;খবরনামা জামেয়া মুদাররিসিন, সংখ্যা ১১৯৫, পৃ: ৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আহলে বাইতের শত্রুদের প্রতি ওয়াহাবীদের সমর্থন ==&lt;br /&gt;
ওয়াহাবীরা, রাসূলুল্লাহ’র (স.) আহলে বাইতের সাথে তাদের শত্রুতা প্রকাশ করতে গিয়ে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর হত্যাকারীদের প্রতি সমর্থনের উপর গুরুত্বারোপ করে তাদেরকে দৃঢ়চিত্তে  রক্ষা করছে।&lt;br /&gt;
* ইবনে তাইমিয়া তার গ্রন্থ &amp;quot;মিনহাজুস সুন্নাহ&amp;quot;-এর চতুর্থ খণ্ডে (৫৪৯-৫৭৫ পৃষ্ঠা) ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়াকে মুসলমানদের অন্যান্য খলিফাদের মাকামের সমপর্যায়ে স্থান দিয়েছেন এবং কারবালার মর্মান্তিক ঘটনায় ইয়াজিদকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, যে ঘটনায় রাসূলুল্লাহর (স.) প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হুসাইন ইবনে আলী (আ.), তাঁর সন্তানগণ ও সঙ্গী-সাথীরা শহীদ হন এবং রাসূলের (স.) পবিত্র আহলে বাইত বন্দী হন।&lt;br /&gt;
* তিনি বলেন: &amp;quot;ধরে নেওয়া যাক যে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া ফাসেক ও জালিম ছিলেন, তবে আল্লাহ তাকে তার কিছু ভালো কাজের জন্য ক্ষমা করবেন!&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন তাইমিয়াহ, আহমদ বিন আবদুল হালিম, মাজমুউল ফাতাওয়া, বি-তা, বি-জা, খ: ৩, পৃ: ৪১৩; খ: ৪, পৃ: ৪৭৫।&amp;lt;/ref&amp;gt; এছাড়াও, তিনি ইমাম হুসাইন (আ.)-এর হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী উমর ইবনে সাদের পক্ষে সরাসরি সাফাই গেয়েছেন। তিনি বলেন: &amp;quot;সত্য যে, [[উমর ইবনে সাদ]] সেনাপতি ছিলেন এবং ইমাম হুসাইন (আ.)-কে হত্যা করেছিলেন, তবে তার পাপ ও অপরাধ ‘[[মুক্তার ইবনে আবি উবাইদা]]’র চেয়ে কম, বরং মুক্তারের পাপ ও অপরাধ উমর ইবনে সাদের চেয়েও বড়!&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;মিনহাজুস সুন্নাহ, খ: ২, পৃ: ৭০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* ওয়াহাবীরা, আহলে বাইতের শত্রুদের প্রশংসায় বিশেষ করে আলী (আ.)-এর অন্যতম শত্রু মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান এবং তার পুত্র ইয়াজিদের প্রশংসায় &amp;quot;ফাযায়েলে মুয়াবিয়া ওয়া ফি ইয়াজিদ ওয়া আনাহু লা ইয়াসিব&amp;quot; নামে বই রচনা করেছেন। যারা মুয়াবিয়ার প্রশংসা করতে চায়, নাসাঈ তাদের জবাবে বলেন, রাসূল (স.)-এর পক্ষ থেকে মুয়াবিয়ার প্রতি বিখ্যাত অভিশাপ ব্যতীত তার সম্পর্কে কোনো ফজিলত আমার জানা নেই, যেখানে তিনি (স.) বলেছেন: «لا أشبع الله بطنه» (আল্লাহ তার পেট যেন কখনো পরিপূর্ণ না হয়)।&amp;lt;ref&amp;gt;আন-নাসাঈ, আহমদ বিন শুয়াইব, খাসায়িস ইমামুল মু’মিনিন (আ.), মাকতাবাতুন নিনাওয়ী আল-হাদিসাহ, পৃ: ২৩;&lt;br /&gt;
আবু দাউদ, সুলাইমান, মুসনাদ আবু দাউদ, বৈরুত, দারুল হাদিস, পৃ: ৩৫৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* ওয়াহাবী বা সালাফি পণ্ডিতরা, যেসব রেওয়ায়েতসমূহে আহলে বাইতের বিরোধীদের যেমন মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান, উমর ইবনে সাদ, বনি উমাইয়া, [[বনি মারওয়ান]], আমর ইবনে আল-আস, ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া এবং অন্যান্যদের সম্পর্কে নিন্দা ও সমালোচনা করা হয়েছে, সেগুলিকে কোনো প্রমাণ বা যুক্তি ছাড়াই প্রত্যাখ্যান করে বলেন যে, এই ধরনের রেওয়ায়েতগুলোর সবই মিথ্যা ও বানোয়াট।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনুল কাইয়্যিম, মোহাম্মদ বিন আবু বকর, নাকদুল মানকুল, বৈরুত, দারুল ক্বারী, চ: ১, ১৪১১ হি., পৃ: ১০৮।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* সমসাময়িক ওয়াহাবী মতবাদে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। তার গুরুত্ব এতটাই যে, সৌদি আরবের শিক্ষা মন্ত্রণালয় &amp;quot;হাকাইক হাক্বায়েক্ব আন আমির আল-মুমিনিন ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া&amp;quot; শিরোনামে একটি বই প্রকাশ করেছে এবং বইটিকে সে দেশের সরকারি স্কুলগুলিতে পাঠ্য পুস্তক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।&amp;lt;ref&amp;gt;তিজানী, সাইয়্যেদ মোহাম্মদ, আশ-শিয়াহ হুম আহলুস সুন্নাহ, পাদটীকা পৃ: ৯৪; আসআদ ওয়াহিদ আল-কাসিম, হাকিকাতুশ শিয়াহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ, পৃ: ৮২।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* ইরাকের একটি মিডিয়া একটি চিত্র প্রকাশ করেছে যেখানে দেখা যায় যে, সৌদি আরবের ওয়াহাবী শাসকরা, মহানবী (স.) এবং তাঁর প্রিয় আহলে বাইত (আ.)-এর প্রতি তাদের গভীর বিদ্বেষের নিদর্শন স্বরূপ আল্লাহর শেষ রাসূল (সা.) এবং তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের শত্রুদের নাম স্কুল, রাস্তা এবং অন্যান্য স্থানের নামকরণ করেছে। যেমন: ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া স্কুল, ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া সড়ক, আবু লাহাব স্কুল (যে আবু লাহাবের বিরুদ্ধে আল্লাহ কুরআনে সম্পূর্ণ একটি সুরা অবতীর্ণ করেছেন) এবং আবরাহা আল-হাবশির নামে রাস্তা (যে ব্যক্তি আমলফীলে কাবা ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল এবং আল্লাহ তাকে ও তার সৈন্যদের ভয়াবহ শাস্তি দিয়েছিলেন)।&amp;lt;ref&amp;gt;খবরনামা জামেয়া মুদাররিসিন, সংখ্যা ১১৯৮, পৃ: ৬৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আহলে বাইতের (আ.) কবর ধ্বংস ==&lt;br /&gt;
ওয়াহীরা বাকি কবরস্থানে আহলে বাইতের কবরসমূহ ধ্বংস করে, [[কারবালা]] ও [[নাজাফে]] সামরিক আক্রমণ চালিয়ে ইমাম হুসাইন ও ইমাম আলী (আ.) এর মাজার ধ্বংস করে এবং আহলে বাইত প্রেমিক মুসলমানদের উপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালানোর মাধ্যমে আহলে বাইতের (আ.) প্রতি তাদের শত্রুতা ও বিদ্বেষের বিষয়টি প্রমাণ করেছে। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আর তাদের এহেন কর্মকাণ্ড, রাসূলুল্লাহ (স.) এর পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি শত্রুতা এবং আহলে বাইতের শত্রুদের বিশেষ করে ইয়াজিদ ও তার পরিবারের প্রতি ভালোবাসার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা তাদের বিকৃত ও বিচ্যুত চিন্তাধারা থেকে উদ্ভূত। &lt;br /&gt;
সৌদ ইবনে আবদুল আজিজের নেতৃত্বে ১২১৬ থেকে ১২২৫ হিজরি অবধি কারবালা ও নাজাফের দিকে তাদের ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের কারণ হিসেবে আহলে বাইতের প্রতি ওয়াহাবীদের শত্রুতা ব্যতীত অন্য কী ব্যাখ্যা দিবে?&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১২৬২ হিজরীতে নাজদ ও আশেপাশের বেদুইন গোত্র, হেজাজ ও তিহামার অধিবাসীদের সমন্বয়ে গঠিত ওয়াহাবী বাহিনী, জিলকদ মাসে কারবালায় প্রবেশ করে। তারা শহরের রাস্তাঘাট, বাজার ও বাড়িতে ঢুকে অধিকাংশ লোককে হত্যা করে। অতঃপর তারা প্রচুর ধন-সম্পদ লুট করে শহর ছেড়ে চলে যায়। পরবর্তীতে তারা &amp;quot;আবিয়াদ&amp;quot; নামক এলাকায় জড়ো হয় এবং লুটকৃত সম্পদের এক-[[পঞ্চমাং]]শ (খুমস) সৌদ ইবনে আবদুল আজিজ নিজের জন্য রেখে বাকি অংশ সৈনিকদের মধ্যে, প্রতি পদাতিক  সৈনিককে এক ভাগ করে এবং প্রতিটি অশ্বারোহী সৈনিককে দুই ভাগ করে বণ্টন করে দেওয়া হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;সালেহ আল-উথাইমিন, আব্দুল্লাহ, তারিখুল মামলাকাতিস সৌদিয়্যাহ, রিয়াদ, উবাইকান, চ: ১৫, ১৪৩০ হি., খ: ১, পৃ: ৭৩।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch =ادیان و مذاهب&lt;br /&gt;
 | subbranch1 = اسلام&lt;br /&gt;
 | subbranch2 =وهابیت&lt;br /&gt;
 | subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه =شد&lt;br /&gt;
 | تیترها =شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت = الف&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:دشمنی وهابیت با اهل‌بیت]]&lt;br /&gt;
[[ar:عداء الوهابیة لأهل البیت]]&lt;br /&gt;
[[ms:Permusuhan Sekte Wahabi Terhadap Ahlul Bait as]]&lt;br /&gt;
[[en:The Hostility of Wahhabis Towards the Ahl al-Bayt (a)]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A4_(%E0%A6%86.)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%E0%A7%87_%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BE&amp;diff=1020</id>
		<title>আহলে বাইত (আ.)-এর সাথে ওয়াহাবীদের শত্রুতা</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A4_(%E0%A6%86.)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%E0%A7%87_%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BE&amp;diff=1020"/>
		<updated>2025-02-27T17:49:04Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* আহলে বাইতের শত্রুদের প্রতি ওয়াহাবীদের সমর্থন */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
ইবনে তাইমিয়া ও ওয়াহাবী মতবাদ কি সত্যি সত্যিই আহলে বাইত (আ.)-এর সাথে প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করে?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
[[রাসূলুল্লাহ (সা.)]]-এর আহলে বাইতের প্রতি [[ওয়াহাবী]] মতবাদের শত্রুতা কারও কাছে গোপন নয়। এই শত্রুতা একদিকে যেমন ওয়াহাবী সম্প্রদায়ের শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়া, তেমনিভাবে ওয়াহাবী সম্প্রদায়ের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে প্রকাশ পেয়েছে। আহলে বাইতের ফজিলতসমূহকে অস্বীকার করা, ইমাম আলী (আ.)-কে [[ফেরাউনে]]র সাথে তুলনা করা, ইমাম আলীর শত্রুদেরকে নির্দোষ এবং তাঁর অনুসারীদের তাকফির তথা কাফের সাব্যস্ত করা, [[ইমাম আলী (আ.)]]-এর শত্রুদের বিশেষত [[ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার]] প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করা এবং আহলে বাইতের (আ.) মাজার ধ্বংস করা প্রভৃতি বিষয়গুলো মহানবী’র আহলে বাইতের প্রতি এই সম্প্রদায়টির শত্রুতা পোষণের প্রমাণ বহন করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== মহানবী’র (স.) আহলে বাইতের (আ.) সাথে ইবনে তায়মিয়ার শত্রুতা ==&lt;br /&gt;
[[ইবনে তায়মিয়া]] আহলে বাইতের কোনো ফজিলতকেই স্বীকার করেন না; বরং তিনি আহলে বাইতের শ্রেষ্ঠত্বকে আরবের জাহেলিয়াত তথা অজ্ঞতা থেকে উৎসারিত বলে মনে করেন। ইবনে তায়মিয়া বলেন: [[রাসূলুল্লাহ (সা.)]]-এর আহলে বাইতকে অন্যদের চাইতে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম বলে বিশ্বাস করা জাহেলি যুগের চিন্তাধারার অংশ, যে যুগে গোত্রের নেতা ও প্রধানদের অন্যদের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হতো।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন তাইমিয়াহ, আহমদ বিন আবদুল হালিম, মিনহাজুস সুন্নাহ, মিসর, মুয়াসসাসাতু কুরতুবা, খ: ৩, পৃ: ২৬৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইবনে তায়মিয়ার এই বক্তব্যসমূহ ইসলাম ধর্মের শিক্ষার পরিপন্থী; কারণ যেরূপভাবে কুরআনে আয়াতে তাতহীরে তেমনিভাবে রাসূলুল্লাহ (স.)-এর বিভিন্ন হাদিসসমূহে বিশেষ করে [[হাদিসে সাকালাইন]] ও[[ হাদিসে সাফিনাহ]]’তে আহলে বাইত (আ.)-এর ফজিলতের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা  হয়েছে। আর কুরআনে আয়াতে কুরবা তথা মাওয়াদ্দাতের আয়াতে আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা মুসলমানদের উপর ওয়াজীব করা হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে তায়মিয়া [[ইমাম আলী (আ.)]]-কে রক্তপাত ও ক্ষমতা লোভের ক্ষেত্রে ফেরাউনের সাথে তুলনা করেন। অথচ শিয়া ও সুন্নি উভয় মাযহাবের সূত্রগুলোতে একটি বর্ণিত হয়েছে যে, [[আলী]], [[ফাতিমা]],[[হাসান]] ও হুসাইন (আ.)-কে মহানবী (স.) বলেছেন: অর্থাৎ {{arabic|انا حرب لمن حاربتم و سلم لمن سالمتم|translation=তোমরা যার সাথে যুদ্ধ করবে, আমিও তার সাথে যুদ্ধ করব; আর তোমরা যার সাথে সন্ধি ও আপোষ করবে, আমিও তার সাথে সন্ধি ও  আপোষ করবো।}}&amp;lt;ref&amp;gt;হাকিম নিশাপুরী, মোহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ, আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন, বৈরুত, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, চ: ১, ১৪১১ হি./১৯৯০ ম., গবেষণা: মুস্তাফা আবদুল কাদির আতা, খ: ৩, পৃ: ১৬১; সুনান ইবন মাজাহ, মোহাম্মদ বিন ইয়াজিদ আবু আবদুল্লাহ আল-কুজুইনি, সুনান ইবন মাজাহ, দারুল ফিকর - বৈরুত, গবেষণা: মোহাম্মদ ফুয়াদ আবদুল বাকী, পৃ: ৫২।&amp;lt;/ref&amp;gt; জাসসাস এই হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেন, যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ লিপ্ত হবে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে বলে বিবেচিত হবে, এমনকি সে যদি মুশরিকও না হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;জাসস, আহমদ বিন আলী আর-রাজী, আহকামুল কুরআন লিল জাসস, বৈরুত, দার ইহিয়াউত্তুরাস আল-আরাবি, ১৪০৫ হি., গবেষণা: মোহাম্মদ আস-সাদিক কামাহাউই, খ: ৪, পৃ: ৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এই হাদিস এবং অন্যান্য অগণিত হাদিস ও ঐতিহাসিক প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ইবনে তায়মিয়া ও ওয়াহাবীদের  এরূপ বিশ্বাস ও অবস্থান এটি নিশ্চিত করে যে, ইবনে তায়মিয়া এবং তার অনুসারীদের শত্রুতা কেবল আহলে বাইতের প্রতিই নয়, বরং তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিদ্বেষ ও শত্রুতা থেকে উদ্ভূত।&lt;br /&gt;
আমিরুল মুমিনীন আলী (আ.) এবং তাঁর সঙ্গীদের সম্পর্কে ইবনে তায়মিয়া এমন কিছু কথা বলেছেন যা ইমাম আলী (আ.)-এর প্রতি তাঁর প্রকাশ্য শত্রুতার বিষয়টি প্রমাণ করে। তিনি বলেন: &lt;br /&gt;
::&amp;quot;খারেজি, উমাইয়া এবং মারওয়ানিদের ন্যায় যারা আলীকে গালি দিয়েছে, তাকে লানত করেছে এবং তাকে কাফির ও জালিম বলে ঘোষণা করেছে, তারা সবাই ইসলামের অনুসারী ছিল এবং ইসলামী আচার-আচরণ মেনে চলতো। কিন্তু আলীকে যারা নিষ্পাপ জ্ঞান করেন এবং যারা তাঁর অনুসারী, তারা সকলেই মুরতাদ ও কাফের।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন তাইমিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ, খ: ৫, পৃ: ৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অথচ ইমাম আলী (আ.) হচ্ছেন পবিত্র আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও আহলে সুন্নতের প্রখ্যাত মুফাসসির ফাখরে রাযী বলেন: &amp;quot;যে ব্যক্তি তার ধর্মের ক্ষেত্রে আলী ইবনে আবি তালিবকে অনুসরণ করবে, নিশ্চয় সে হেদায়েতপ্রাপ্ত।&amp;quot; আর এর প্রমাণ হলো মহানবী (স.) এর উক্তি: {{arabic|اللهم ادر الحق مع علی حیث دار|translation|হে আল্লাহ, আলী যেখানেই থাকুক না কেন, সত্যকে তার সাথে রাখো।}}&amp;lt;ref&amp;gt;ফখরুর রাজী, ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ বিন ওমর আত-তামীমি আর-রাজী আশ-শাফেয়ি, আত-তাফসিরুল কবির অথবা মাফাতিহুল গাইব, বৈরুত, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, চ: ১, ১৪২১ হি./২০০০ ম., খ: ১, পৃ: ১৬৮&amp;lt;/ref&amp;gt; এছাড়াও আহলে সুন্নতের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, আলী সত্যের সাথে এবং সত্য আলীর সাথে রয়েছে, যেখানেই হোক না কেন।&amp;lt;ref&amp;gt;হাকিম নিশাপুরী, আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন, খ: ৩, পৃ: ১৩৪; হাইসামি, নূরুদ্দিন আলী বিন আবু বকর, মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, কায়রো, দারুর রিয়ান লিত্তুরাস, বৈরুত, দারুল মাকতাব আল-ইলমিয়্যাহ, ১৪০৮ হি., খ: ৭, পৃ: ২৩৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে তায়মিয়া আহলে বাইতের ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত সকল হাদিসকে হয় সনদগতভাবে বিতর্কিত বলে উল্লেখ করেন অথবা হাদীসগুলোর দলিলকে প্রত্যাখ্যাত হিসেবে গণ্য করেন। উদাহরণস্বরূপ, আহলে সুন্নতের গ্রহণযোগ্য গ্রন্থসমূহে যেমন সহীহ মুসলিমে আয়াতে তাতহীরের শানে নুযুলে ‍উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা’র বর্ণনা এবং অপর একটি বর্ণনায় উম্মে সালমা থেকে উল্লেখিত হয়েছে যে, এই আয়াত (আয়াতে তাতহীর) নাযিল অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন: &amp;quot;হে আল্লাহ! এরাই হচ্ছে আমার আহলে বাইত; এদের থেকে সকল প্রকারের অপবিত্রতা দূর করুন এবং এদেরকে পবিত্র করুন।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;আহমদ বিন হাম্বল, মুসনাদ আহমদ, বৈরুত, দারুস সাদির, বি-তা, খ: ১, পৃ: ৩৩১।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইবনে তায়মিয়া এই হাদিসের সনদে কোনো খুঁত খুঁজে না পেয়েও আহলে বাইত সম্পর্কে অবতীর্ণ হওয়া এই আয়াত সম্পর্কে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বলেন, না এই আয়াত আহলে বাইত সম্পর্কে নাযিল হয়েছে, আর না আহলে বাইত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স.) এর দোয়া আহলে বাইতের কোনো সদস্যের মর্যাদা বা ফজিলত প্রমাণ করে।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন তাইমিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ, মাটবাআতুল কুবরা আল-আমিরিয়্যাহ, চ: ১, ১৩২২ হি., খ: ৩, পৃ: ৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে তায়মিয়ার এই ধরনের বক্তব্য আহলে বাইতের প্রতি বিদ্বেষ ও শত্রুতার প্রমাণ। অথচ আহলে বাইতের মর্যাদা, কুরআন ও হাদিসের মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত। আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন ইসলামের মৌলিক শিক্ষার অংশ, যা ইবনে তায়মিয়ার মতো ব্যক্তিদের বক্তব্য দ্বারা উপেক্ষা করা যায় না।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ইমাম হুসাইন (আ.) সম্পর্কে বর্তমান কালের ওয়াহাবী মুফতি আব্দুল আজিজ আল শাইখের দৃষ্টিভঙ্গি ==&lt;br /&gt;
[[ইমাম হুসাইন (আ.)]] সম্পর্কে বর্তমান কালের ওয়াহাবী মুফতি আব্দুল আজিজ আল-শাইখের  দৃষ্টিভঙ্গি ইবনে তায়মিয়া ও অন্যান্য প্রাক্তন ওয়াহাবী নেতাদের চেয়েও বেশি চরমপন্থী ও নেতিবাচক। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওয়াহাবী মতাদর্শের সর্বোচ্চ মুফতি আল-শাইখ, ওয়াহাবীদের হৃদয়ের কথাটির উন্মোচন করেছেন এবং অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও খোলাখুলিভাবে [[ইয়াজিদ]]কে সঠিক ও ইমাম হুসাইন (আ.)-কে ভ্রান্ত বলে দাবি করেছেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সৌদি আরবের &amp;quot;আল-মাজদ&amp;quot; স্যাটেলাইট চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে এক মহিলার প্রশ্নের জবাবে ইয়াজিদ ও ইমাম হুসাইন (আ.)- এর ক্বিয়াম তথা বিদ্রোহ সম্পর্কে আল-শাইখ যা বলেছেন, তার সারসংক্ষেপ হচ্ছে- ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার বাইয়াত (আনুগত্যের শপথ) একটি শরীয়তসম্মত বাইয়াত যা তার পিতা মুয়াবিয়ার সময়ে জনগণের নিকট থেকে গ্রহণ করা হয়েছিল এবং মানুষ তাতে সম্মতী প্রদান করেছিল। কিন্তু যখন মুয়াবিয়া মৃত্যুবরণ করেন, তখন হুসাইন ইবনে আলী ও ইবনে যুবায়ের ইয়াজিদের নিকট বাইয়াত করতে অস্বীকার করেন। ফলে হুসাইন ও ইবনে যুবায়ের বাইয়াত না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল করেছেন। আর হুসাইন অন্যের উপদেশের প্রতি কর্ণপাত করেন নি এবং কল্যাণের বিপরীত কাজ করেছেন, আর আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছিলেন, তাই হয়েছে। তিনি আরও বলেন, &amp;quot;হুসাইন যে ভুল করুক না কেন, তা তার নিজের জন্যই করেছেন!!... যাই হোক, ইয়াজিদের বিরুদ্ধে হুসাইনের ক্বিয়াম ও বিদ্রোহ হারাম ছিল!!... এ কাজ না করাই ছিল তার জন্য উত্তম। মদীনায় থাকা এবং মানুষের সমষ্টিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলাই উত্তম ও বেশি উপযুক্ত ছিল। খিলাফতের সীমানা লঙ্ঘন করা জায়েজ ছিল না। তবে, এতদ্বসত্ত্বেও আমরা হুসাইনের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করি এবং তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি!!&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;http://database-aryana-encyclopaedia.blogspot.com/২০১৩/۰۷/blog-post_14.html&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সহীহ ও মুতাওয়াতির হাদিস অনুযায়ী, ইমাম হুসাইন (আ.) ও তার ভাই ইমাম হাসান (আ.) যখন জান্নাতের যুবক দের সর্দার তখন তাদের সম্পর্কে ভুল বা গুনাহর কথা কল্পনা করাও অসম্ভব। তাহলে, কেন আল-শাইখ বা অন্য ব্যক্তিদেরকে তাঁর জন্য ক্ষমা চাইতে হবে!&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আশুরা দিবস সম্পর্কে ওয়াহাবীদের দৃষ্টিভঙ্গি ==&lt;br /&gt;
সাম্প্রতিক কালের ওয়াহাবীরা [[আশুরা]]র দিনকে আনন্দের দিন হিসেবে বিবেচনা করে। কুয়েতের ওয়াহাবীরা তাদের কিছু কিছু প্রকাশনায় হুসাইনের আশুরাকে আনন্দ ও উৎসবের দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও,আহলে সুন্নত কর্তৃক [[রাসূল (স.)]]-এর পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন সত্ত্বেও, ওয়াহাবীরা ইচ্ছাকৃতভাবে কুয়েতে [[তাসুয়া]] ও আশুরার রাতে তাদের বিবাহ ও উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।&amp;lt;ref&amp;gt;খবরনামা, সংখ্যা ১১৫৩, পৃ: ৫৩।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
রাসূলুল্লাহ (স.)-এর আহলে বাইতের প্রতি, বিশেষ করে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর প্রতি তীব্র শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণকারী আল-শাইখ, তার এই শত্রুতা প্রকাশের জন্ তার পুত্র উমর ইবনে আব্দুল আজিজের বিয়ের অনুষ্ঠান আশুরার দিনে আয়োজন করেছিলেন। এই অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের অনেক মুফতি অংশগ্রহণ করেছিলেন।&amp;lt;ref&amp;gt;সাইট: মাশরিক নিউজ।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== হযরত যায়নাব (সা. আ.)-এর মাজার যিয়ারতের প্রতি ওয়াহাবীদের বিদ্বেষ ==&lt;br /&gt;
সৌদি গোয়েন্দা সংস্থা’র অর্থায়নে পরিচালিত ওয়াহাবী সংবাদ নেটওয়ার্ক &amp;quot;সাফা&amp;quot;, যার প্রধান কার্যালয় কুয়েত, কায়রো ও রিয়াদে অবস্থিত, ফ্রি সিরিয়ান আর্মির সদস্যদেরকে শামে বনি [[উমাইয়া]]র বংশধর বলে হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের উদ্দেশ্যে বলেছে: &lt;br /&gt;
::&amp;quot;হে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের বংশধর! হে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার বংশধর! হে ফ্রি সিরিয়ান আর্মির সৈন্যরা! তোমাদের অবশ্যই যায়নাবের কবরকে (মাজার)[[ লক্ষ্যবস্তু]] করে তা ধ্বংস করতে হবে এবং একইভাবে অন্যান্য সব মাজারও ধ্বংস করতে হবে।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;খবরনামা জামেয়া মুদাররিসিন, সংখ্যা ১১৩৮, পৃ: ৫৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সমসাময়িক ওয়াহাবীরা এই পথে এতটাই চরমপন্থার দিকে এগিয়েছে যে, তারা ইয়াজিদ ও [[ইবনে জিয়াদের]] নামে একটি সেনাদল গঠন করেছে এবং &amp;quot;ইয়াজিদ ও ইবনে জিয়াদ শহীদ হয়েছেন&amp;quot; এই স্লোগান ব্যবহার করে পাকিস্তানে মিছিল বের করছে।&amp;lt;ref&amp;gt;খবরনামা জামেয়া মুদাররিসিন, সংখ্যা ১১৯৫, পৃ: ৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আহলে বাইতের শত্রুদের প্রতি ওয়াহাবীদের সমর্থন ==&lt;br /&gt;
ওয়াহাবীরা, রাসূলুল্লাহ’র (স.) আহলে বাইতের সাথে তাদের শত্রুতা প্রকাশ করতে গিয়ে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর হত্যাকারীদের প্রতি সমর্থনের উপর গুরুত্বারোপ করে তাদেরকে দৃঢ়চিত্তে  রক্ষা করছে।&lt;br /&gt;
* ইবনে তাইমিয়া তার গ্রন্থ &amp;quot;মিনহাজুস সুন্নাহ&amp;quot;-এর চতুর্থ খণ্ডে (৫৪৯-৫৭৫ পৃষ্ঠা) ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়াকে মুসলমানদের অন্যান্য খলিফাদের মাকামের সমপর্যায়ে স্থান দিয়েছেন এবং কারবালার মর্মান্তিক ঘটনায় ইয়াজিদকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, যে ঘটনায় রাসূলুল্লাহর (স.) প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হুসাইন ইবনে আলী (আ.), তাঁর সন্তানগণ ও সঙ্গী-সাথীরা শহীদ হন এবং রাসূলের (স.) পবিত্র আহলে বাইত বন্দী হন।&lt;br /&gt;
* তিনি বলেন: &amp;quot;ধরে নেওয়া যাক যে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া ফাসেক ও জালিম ছিলেন, তবে আল্লাহ তাকে তার কিছু ভালো কাজের জন্য ক্ষমা করবেন!&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন তাইমিয়াহ, আহমদ বিন আবদুল হালিম, মাজমুউল ফাতাওয়া, বি-তা, বি-জা, খ: ৩, পৃ: ৪১৩; খ: ৪, পৃ: ৪৭৫।&amp;lt;/ref&amp;gt; এছাড়াও, তিনি ইমাম হুসাইন (আ.)-এর হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী উমর ইবনে সাদের পক্ষে সরাসরি সাফাই গেয়েছেন। তিনি বলেন: &amp;quot;সত্য যে, [[উমর ইবনে সাদ]] সেনাপতি ছিলেন এবং ইমাম হুসাইন (আ.)-কে হত্যা করেছিলেন, তবে তার পাপ ও অপরাধ ‘[[মুক্তার ইবনে আবি উবাইদা]]’র চেয়ে কম, বরং মুক্তারের পাপ ও অপরাধ উমর ইবনে সাদের চেয়েও বড়!&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;মিনহাজুস সুন্নাহ, খ: ২, পৃ: ৭০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* ওয়াহাবীরা, আহলে বাইতের শত্রুদের প্রশংসায় বিশেষ করে আলী (আ.)-এর অন্যতম শত্রু মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান এবং তার পুত্র ইয়াজিদের প্রশংসায় &amp;quot;ফাযায়েলে মুয়াবিয়া ওয়া ফি ইয়াজিদ ওয়া আনাহু লা ইয়াসিব&amp;quot; নামে বই রচনা করেছেন। যারা মুয়াবিয়ার প্রশংসা করতে চায়, নাসাঈ তাদের জবাবে বলেন, রাসূল (স.)-এর পক্ষ থেকে মুয়াবিয়ার প্রতি বিখ্যাত অভিশাপ ব্যতীত তার সম্পর্কে কোনো ফজিলত আমার জানা নেই, যেখানে তিনি (স.) বলেছেন: «لا أشبع الله بطنه» (আল্লাহ তার পেট যেন কখনো পরিপূর্ণ না হয়)।&amp;lt;ref&amp;gt;আন-নাসাঈ, আহমদ বিন শুয়াইব, খাসায়িস ইমামুল মু’মিনিন (আ.), মাকতাবাতুন নিনাওয়ী আল-হাদিসাহ, পৃ: ২৩;&lt;br /&gt;
আবু দাউদ, সুলাইমান, মুসনাদ আবু দাউদ, বৈরুত, দারুল হাদিস, পৃ: ৩৫৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* ওয়াহাবী বা সালাফি পণ্ডিতরা, যেসব রেওয়ায়েতসমূহে আহলে বাইতের বিরোধীদের যেমন মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান, উমর ইবনে সাদ, বনি উমাইয়া, [[বনি মারওয়ান]], আমর ইবনে আল-আস, ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া এবং অন্যান্যদের সম্পর্কে নিন্দা ও সমালোচনা করা হয়েছে, সেগুলিকে কোনো প্রমাণ বা যুক্তি ছাড়াই প্রত্যাখ্যান করে বলেন যে, এই ধরনের রেওয়ায়েতগুলোর সবই মিথ্যা ও বানোয়াট।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনুল কাইয়্যিম, মোহাম্মদ বিন আবু বকর, নাকদুল মানকুল, বৈরুত, দারুল ক্বারী, চ: ১, ১৪১১ হি., পৃ: ১০৮।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* সমসাময়িক ওয়াহাবী মতবাদে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। তার গুরুত্ব এতটাই যে, সৌদি আরবের শিক্ষা মন্ত্রণালয় &amp;quot;হাকাইক হাক্বায়েক্ব আন আমির আল-মুমিনিন ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া&amp;quot; শিরোনামে একটি বই প্রকাশ করেছে এবং বইটিকে সে দেশের সরকারি স্কুলগুলিতে পাঠ্য পুস্তক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।&amp;lt;ref&amp;gt;তিজানী, সাইয়্যেদ মোহাম্মদ, আশ-শিয়াহ হুম আহলুস সুন্নাহ, পাদটীকা পৃ: ৯৪; আসআদ ওয়াহিদ আল-কাসিম, হাকিকাতুশ শিয়াহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ, পৃ: ৮২।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* ইরাকের একটি মিডিয়া একটি চিত্র প্রকাশ করেছে যেখানে দেখা যায় যে, সৌদি আরবের ওয়াহাবী শাসকরা, মহানবী (স.) এবং তাঁর প্রিয় আহলে বাইত (আ.)-এর প্রতি তাদের গভীর বিদ্বেষের নিদর্শন স্বরূপ আল্লাহর শেষ রাসূল (সা.) এবং তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের শত্রুদের নাম স্কুল, রাস্তা এবং অন্যান্য স্থানের নামকরণ করেছে। যেমন: ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া স্কুল, ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া সড়ক, আবু লাহাব স্কুল (যে আবু লাহাবের বিরুদ্ধে আল্লাহ কুরআনে সম্পূর্ণ একটি সুরা অবতীর্ণ করেছেন) এবং আবরাহা আল-হাবশির নামে রাস্তা (যে ব্যক্তি আমলফীলে কাবা ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল এবং আল্লাহ তাকে ও তার সৈন্যদের ভয়াবহ শাস্তি দিয়েছিলেন)।&amp;lt;ref&amp;gt;খবরনামা জামেয়া মুদাররিসিন, সংখ্যা ১১৯৮, পৃ: ৬৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== تআহলে বাইতের (আ.) কবর ধ্বংস ==&lt;br /&gt;
ওয়াহীরা বাকি কবরস্থানে আহলে বাইতের কবরসমূহ ধ্বংস করে, [[কারবালা]] ও [[নাজাফে]] সামরিক আক্রমণ চালিয়ে ইমাম হুসাইন ও ইমাম আলী (আ.) এর মাজার ধ্বংস করে এবং আহলে বাইত প্রেমিক মুসলমানদের উপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালানোর মাধ্যমে আহলে বাইতের (আ.) প্রতি তাদের শত্রুতা ও বিদ্বেষের বিষয়টি প্রমাণ করেছে। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আর তাদের এহেন কর্মকাণ্ড, রাসূলুল্লাহ (স.) এর পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি শত্রুতা এবং আহলে বাইতের শত্রুদের বিশেষ করে ইয়াজিদ ও তার পরিবারের প্রতি ভালোবাসার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা তাদের বিকৃত ও বিচ্যুত চিন্তাধারা থেকে উদ্ভূত। &lt;br /&gt;
সৌদ ইবনে আবদুল আজিজের নেতৃত্বে ১২১৬ থেকে ১২২৫ হিজরি অবধি কারবালা ও নাজাফের দিকে তাদের ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের কারণ হিসেবে আহলে বাইতের প্রতি ওয়াহাবীদের শত্রুতা ব্যতীত অন্য কী ব্যাখ্যা দিবে?&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১২৬২ হিজরীতে নাজদ ও আশেপাশের বেদুইন গোত্র, হেজাজ ও তিহামার অধিবাসীদের সমন্বয়ে গঠিত ওয়াহাবী বাহিনী, জিলকদ মাসে কারবালায় প্রবেশ করে। তারা শহরের রাস্তাঘাট, বাজার ও বাড়িতে ঢুকে অধিকাংশ লোককে হত্যা করে। অতঃপর তারা প্রচুর ধন-সম্পদ লুট করে শহর ছেড়ে চলে যায়। পরবর্তীতে তারা &amp;quot;আবিয়াদ&amp;quot; নামক এলাকায় জড়ো হয় এবং লুটকৃত সম্পদের এক-[[পঞ্চমাং]]শ (খুমস) সৌদ ইবনে আবদুল আজিজ নিজের জন্য রেখে বাকি অংশ সৈনিকদের মধ্যে, প্রতি পদাতিক  সৈনিককে এক ভাগ করে এবং প্রতিটি অশ্বারোহী সৈনিককে দুই ভাগ করে বণ্টন করে দেওয়া হয়। [২০]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch =ادیان و مذاهب&lt;br /&gt;
 | subbranch1 = اسلام&lt;br /&gt;
 | subbranch2 =وهابیت&lt;br /&gt;
 | subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه =شد&lt;br /&gt;
 | تیترها =شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت = الف&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:دشمنی وهابیت با اهل‌بیت]]&lt;br /&gt;
[[ar:عداء الوهابیة لأهل البیت]]&lt;br /&gt;
[[ms:Permusuhan Sekte Wahabi Terhadap Ahlul Bait as]]&lt;br /&gt;
[[en:The Hostility of Wahhabis Towards the Ahl al-Bayt (a)]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A4_(%E0%A6%86.)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%E0%A7%87_%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BE&amp;diff=1019</id>
		<title>আহলে বাইত (আ.)-এর সাথে ওয়াহাবীদের শত্রুতা</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A4_(%E0%A6%86.)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%E0%A7%87_%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BE&amp;diff=1019"/>
		<updated>2025-02-27T17:47:25Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* হযরত যায়নাব (সা. আ.)-এর মাজার যিয়ারতের প্রতি ওয়াহাবীদের বিদ্বেষ */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
ইবনে তাইমিয়া ও ওয়াহাবী মতবাদ কি সত্যি সত্যিই আহলে বাইত (আ.)-এর সাথে প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করে?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
[[রাসূলুল্লাহ (সা.)]]-এর আহলে বাইতের প্রতি [[ওয়াহাবী]] মতবাদের শত্রুতা কারও কাছে গোপন নয়। এই শত্রুতা একদিকে যেমন ওয়াহাবী সম্প্রদায়ের শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়া, তেমনিভাবে ওয়াহাবী সম্প্রদায়ের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে প্রকাশ পেয়েছে। আহলে বাইতের ফজিলতসমূহকে অস্বীকার করা, ইমাম আলী (আ.)-কে [[ফেরাউনে]]র সাথে তুলনা করা, ইমাম আলীর শত্রুদেরকে নির্দোষ এবং তাঁর অনুসারীদের তাকফির তথা কাফের সাব্যস্ত করা, [[ইমাম আলী (আ.)]]-এর শত্রুদের বিশেষত [[ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার]] প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করা এবং আহলে বাইতের (আ.) মাজার ধ্বংস করা প্রভৃতি বিষয়গুলো মহানবী’র আহলে বাইতের প্রতি এই সম্প্রদায়টির শত্রুতা পোষণের প্রমাণ বহন করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== মহানবী’র (স.) আহলে বাইতের (আ.) সাথে ইবনে তায়মিয়ার শত্রুতা ==&lt;br /&gt;
[[ইবনে তায়মিয়া]] আহলে বাইতের কোনো ফজিলতকেই স্বীকার করেন না; বরং তিনি আহলে বাইতের শ্রেষ্ঠত্বকে আরবের জাহেলিয়াত তথা অজ্ঞতা থেকে উৎসারিত বলে মনে করেন। ইবনে তায়মিয়া বলেন: [[রাসূলুল্লাহ (সা.)]]-এর আহলে বাইতকে অন্যদের চাইতে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম বলে বিশ্বাস করা জাহেলি যুগের চিন্তাধারার অংশ, যে যুগে গোত্রের নেতা ও প্রধানদের অন্যদের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হতো।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন তাইমিয়াহ, আহমদ বিন আবদুল হালিম, মিনহাজুস সুন্নাহ, মিসর, মুয়াসসাসাতু কুরতুবা, খ: ৩, পৃ: ২৬৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইবনে তায়মিয়ার এই বক্তব্যসমূহ ইসলাম ধর্মের শিক্ষার পরিপন্থী; কারণ যেরূপভাবে কুরআনে আয়াতে তাতহীরে তেমনিভাবে রাসূলুল্লাহ (স.)-এর বিভিন্ন হাদিসসমূহে বিশেষ করে [[হাদিসে সাকালাইন]] ও[[ হাদিসে সাফিনাহ]]’তে আহলে বাইত (আ.)-এর ফজিলতের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা  হয়েছে। আর কুরআনে আয়াতে কুরবা তথা মাওয়াদ্দাতের আয়াতে আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা মুসলমানদের উপর ওয়াজীব করা হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে তায়মিয়া [[ইমাম আলী (আ.)]]-কে রক্তপাত ও ক্ষমতা লোভের ক্ষেত্রে ফেরাউনের সাথে তুলনা করেন। অথচ শিয়া ও সুন্নি উভয় মাযহাবের সূত্রগুলোতে একটি বর্ণিত হয়েছে যে, [[আলী]], [[ফাতিমা]],[[হাসান]] ও হুসাইন (আ.)-কে মহানবী (স.) বলেছেন: অর্থাৎ {{arabic|انا حرب لمن حاربتم و سلم لمن سالمتم|translation=তোমরা যার সাথে যুদ্ধ করবে, আমিও তার সাথে যুদ্ধ করব; আর তোমরা যার সাথে সন্ধি ও আপোষ করবে, আমিও তার সাথে সন্ধি ও  আপোষ করবো।}}&amp;lt;ref&amp;gt;হাকিম নিশাপুরী, মোহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ, আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন, বৈরুত, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, চ: ১, ১৪১১ হি./১৯৯০ ম., গবেষণা: মুস্তাফা আবদুল কাদির আতা, খ: ৩, পৃ: ১৬১; সুনান ইবন মাজাহ, মোহাম্মদ বিন ইয়াজিদ আবু আবদুল্লাহ আল-কুজুইনি, সুনান ইবন মাজাহ, দারুল ফিকর - বৈরুত, গবেষণা: মোহাম্মদ ফুয়াদ আবদুল বাকী, পৃ: ৫২।&amp;lt;/ref&amp;gt; জাসসাস এই হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেন, যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ লিপ্ত হবে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে বলে বিবেচিত হবে, এমনকি সে যদি মুশরিকও না হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;জাসস, আহমদ বিন আলী আর-রাজী, আহকামুল কুরআন লিল জাসস, বৈরুত, দার ইহিয়াউত্তুরাস আল-আরাবি, ১৪০৫ হি., গবেষণা: মোহাম্মদ আস-সাদিক কামাহাউই, খ: ৪, পৃ: ৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এই হাদিস এবং অন্যান্য অগণিত হাদিস ও ঐতিহাসিক প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ইবনে তায়মিয়া ও ওয়াহাবীদের  এরূপ বিশ্বাস ও অবস্থান এটি নিশ্চিত করে যে, ইবনে তায়মিয়া এবং তার অনুসারীদের শত্রুতা কেবল আহলে বাইতের প্রতিই নয়, বরং তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিদ্বেষ ও শত্রুতা থেকে উদ্ভূত।&lt;br /&gt;
আমিরুল মুমিনীন আলী (আ.) এবং তাঁর সঙ্গীদের সম্পর্কে ইবনে তায়মিয়া এমন কিছু কথা বলেছেন যা ইমাম আলী (আ.)-এর প্রতি তাঁর প্রকাশ্য শত্রুতার বিষয়টি প্রমাণ করে। তিনি বলেন: &lt;br /&gt;
::&amp;quot;খারেজি, উমাইয়া এবং মারওয়ানিদের ন্যায় যারা আলীকে গালি দিয়েছে, তাকে লানত করেছে এবং তাকে কাফির ও জালিম বলে ঘোষণা করেছে, তারা সবাই ইসলামের অনুসারী ছিল এবং ইসলামী আচার-আচরণ মেনে চলতো। কিন্তু আলীকে যারা নিষ্পাপ জ্ঞান করেন এবং যারা তাঁর অনুসারী, তারা সকলেই মুরতাদ ও কাফের।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন তাইমিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ, খ: ৫, পৃ: ৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অথচ ইমাম আলী (আ.) হচ্ছেন পবিত্র আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও আহলে সুন্নতের প্রখ্যাত মুফাসসির ফাখরে রাযী বলেন: &amp;quot;যে ব্যক্তি তার ধর্মের ক্ষেত্রে আলী ইবনে আবি তালিবকে অনুসরণ করবে, নিশ্চয় সে হেদায়েতপ্রাপ্ত।&amp;quot; আর এর প্রমাণ হলো মহানবী (স.) এর উক্তি: {{arabic|اللهم ادر الحق مع علی حیث دار|translation|হে আল্লাহ, আলী যেখানেই থাকুক না কেন, সত্যকে তার সাথে রাখো।}}&amp;lt;ref&amp;gt;ফখরুর রাজী, ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ বিন ওমর আত-তামীমি আর-রাজী আশ-শাফেয়ি, আত-তাফসিরুল কবির অথবা মাফাতিহুল গাইব, বৈরুত, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, চ: ১, ১৪২১ হি./২০০০ ম., খ: ১, পৃ: ১৬৮&amp;lt;/ref&amp;gt; এছাড়াও আহলে সুন্নতের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, আলী সত্যের সাথে এবং সত্য আলীর সাথে রয়েছে, যেখানেই হোক না কেন।&amp;lt;ref&amp;gt;হাকিম নিশাপুরী, আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন, খ: ৩, পৃ: ১৩৪; হাইসামি, নূরুদ্দিন আলী বিন আবু বকর, মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, কায়রো, দারুর রিয়ান লিত্তুরাস, বৈরুত, দারুল মাকতাব আল-ইলমিয়্যাহ, ১৪০৮ হি., খ: ৭, পৃ: ২৩৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে তায়মিয়া আহলে বাইতের ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত সকল হাদিসকে হয় সনদগতভাবে বিতর্কিত বলে উল্লেখ করেন অথবা হাদীসগুলোর দলিলকে প্রত্যাখ্যাত হিসেবে গণ্য করেন। উদাহরণস্বরূপ, আহলে সুন্নতের গ্রহণযোগ্য গ্রন্থসমূহে যেমন সহীহ মুসলিমে আয়াতে তাতহীরের শানে নুযুলে ‍উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা’র বর্ণনা এবং অপর একটি বর্ণনায় উম্মে সালমা থেকে উল্লেখিত হয়েছে যে, এই আয়াত (আয়াতে তাতহীর) নাযিল অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন: &amp;quot;হে আল্লাহ! এরাই হচ্ছে আমার আহলে বাইত; এদের থেকে সকল প্রকারের অপবিত্রতা দূর করুন এবং এদেরকে পবিত্র করুন।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;আহমদ বিন হাম্বল, মুসনাদ আহমদ, বৈরুত, দারুস সাদির, বি-তা, খ: ১, পৃ: ৩৩১।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইবনে তায়মিয়া এই হাদিসের সনদে কোনো খুঁত খুঁজে না পেয়েও আহলে বাইত সম্পর্কে অবতীর্ণ হওয়া এই আয়াত সম্পর্কে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বলেন, না এই আয়াত আহলে বাইত সম্পর্কে নাযিল হয়েছে, আর না আহলে বাইত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স.) এর দোয়া আহলে বাইতের কোনো সদস্যের মর্যাদা বা ফজিলত প্রমাণ করে।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন তাইমিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ, মাটবাআতুল কুবরা আল-আমিরিয়্যাহ, চ: ১, ১৩২২ হি., খ: ৩, পৃ: ৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে তায়মিয়ার এই ধরনের বক্তব্য আহলে বাইতের প্রতি বিদ্বেষ ও শত্রুতার প্রমাণ। অথচ আহলে বাইতের মর্যাদা, কুরআন ও হাদিসের মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত। আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন ইসলামের মৌলিক শিক্ষার অংশ, যা ইবনে তায়মিয়ার মতো ব্যক্তিদের বক্তব্য দ্বারা উপেক্ষা করা যায় না।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ইমাম হুসাইন (আ.) সম্পর্কে বর্তমান কালের ওয়াহাবী মুফতি আব্দুল আজিজ আল শাইখের দৃষ্টিভঙ্গি ==&lt;br /&gt;
[[ইমাম হুসাইন (আ.)]] সম্পর্কে বর্তমান কালের ওয়াহাবী মুফতি আব্দুল আজিজ আল-শাইখের  দৃষ্টিভঙ্গি ইবনে তায়মিয়া ও অন্যান্য প্রাক্তন ওয়াহাবী নেতাদের চেয়েও বেশি চরমপন্থী ও নেতিবাচক। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওয়াহাবী মতাদর্শের সর্বোচ্চ মুফতি আল-শাইখ, ওয়াহাবীদের হৃদয়ের কথাটির উন্মোচন করেছেন এবং অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও খোলাখুলিভাবে [[ইয়াজিদ]]কে সঠিক ও ইমাম হুসাইন (আ.)-কে ভ্রান্ত বলে দাবি করেছেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সৌদি আরবের &amp;quot;আল-মাজদ&amp;quot; স্যাটেলাইট চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে এক মহিলার প্রশ্নের জবাবে ইয়াজিদ ও ইমাম হুসাইন (আ.)- এর ক্বিয়াম তথা বিদ্রোহ সম্পর্কে আল-শাইখ যা বলেছেন, তার সারসংক্ষেপ হচ্ছে- ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার বাইয়াত (আনুগত্যের শপথ) একটি শরীয়তসম্মত বাইয়াত যা তার পিতা মুয়াবিয়ার সময়ে জনগণের নিকট থেকে গ্রহণ করা হয়েছিল এবং মানুষ তাতে সম্মতী প্রদান করেছিল। কিন্তু যখন মুয়াবিয়া মৃত্যুবরণ করেন, তখন হুসাইন ইবনে আলী ও ইবনে যুবায়ের ইয়াজিদের নিকট বাইয়াত করতে অস্বীকার করেন। ফলে হুসাইন ও ইবনে যুবায়ের বাইয়াত না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল করেছেন। আর হুসাইন অন্যের উপদেশের প্রতি কর্ণপাত করেন নি এবং কল্যাণের বিপরীত কাজ করেছেন, আর আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছিলেন, তাই হয়েছে। তিনি আরও বলেন, &amp;quot;হুসাইন যে ভুল করুক না কেন, তা তার নিজের জন্যই করেছেন!!... যাই হোক, ইয়াজিদের বিরুদ্ধে হুসাইনের ক্বিয়াম ও বিদ্রোহ হারাম ছিল!!... এ কাজ না করাই ছিল তার জন্য উত্তম। মদীনায় থাকা এবং মানুষের সমষ্টিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলাই উত্তম ও বেশি উপযুক্ত ছিল। খিলাফতের সীমানা লঙ্ঘন করা জায়েজ ছিল না। তবে, এতদ্বসত্ত্বেও আমরা হুসাইনের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করি এবং তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি!!&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;http://database-aryana-encyclopaedia.blogspot.com/২০১৩/۰۷/blog-post_14.html&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সহীহ ও মুতাওয়াতির হাদিস অনুযায়ী, ইমাম হুসাইন (আ.) ও তার ভাই ইমাম হাসান (আ.) যখন জান্নাতের যুবক দের সর্দার তখন তাদের সম্পর্কে ভুল বা গুনাহর কথা কল্পনা করাও অসম্ভব। তাহলে, কেন আল-শাইখ বা অন্য ব্যক্তিদেরকে তাঁর জন্য ক্ষমা চাইতে হবে!&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আশুরা দিবস সম্পর্কে ওয়াহাবীদের দৃষ্টিভঙ্গি ==&lt;br /&gt;
সাম্প্রতিক কালের ওয়াহাবীরা [[আশুরা]]র দিনকে আনন্দের দিন হিসেবে বিবেচনা করে। কুয়েতের ওয়াহাবীরা তাদের কিছু কিছু প্রকাশনায় হুসাইনের আশুরাকে আনন্দ ও উৎসবের দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও,আহলে সুন্নত কর্তৃক [[রাসূল (স.)]]-এর পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন সত্ত্বেও, ওয়াহাবীরা ইচ্ছাকৃতভাবে কুয়েতে [[তাসুয়া]] ও আশুরার রাতে তাদের বিবাহ ও উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।&amp;lt;ref&amp;gt;খবরনামা, সংখ্যা ১১৫৩, পৃ: ৫৩।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
রাসূলুল্লাহ (স.)-এর আহলে বাইতের প্রতি, বিশেষ করে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর প্রতি তীব্র শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণকারী আল-শাইখ, তার এই শত্রুতা প্রকাশের জন্ তার পুত্র উমর ইবনে আব্দুল আজিজের বিয়ের অনুষ্ঠান আশুরার দিনে আয়োজন করেছিলেন। এই অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের অনেক মুফতি অংশগ্রহণ করেছিলেন।&amp;lt;ref&amp;gt;সাইট: মাশরিক নিউজ।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== হযরত যায়নাব (সা. আ.)-এর মাজার যিয়ারতের প্রতি ওয়াহাবীদের বিদ্বেষ ==&lt;br /&gt;
সৌদি গোয়েন্দা সংস্থা’র অর্থায়নে পরিচালিত ওয়াহাবী সংবাদ নেটওয়ার্ক &amp;quot;সাফা&amp;quot;, যার প্রধান কার্যালয় কুয়েত, কায়রো ও রিয়াদে অবস্থিত, ফ্রি সিরিয়ান আর্মির সদস্যদেরকে শামে বনি [[উমাইয়া]]র বংশধর বলে হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের উদ্দেশ্যে বলেছে: &lt;br /&gt;
::&amp;quot;হে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের বংশধর! হে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার বংশধর! হে ফ্রি সিরিয়ান আর্মির সৈন্যরা! তোমাদের অবশ্যই যায়নাবের কবরকে (মাজার)[[ লক্ষ্যবস্তু]] করে তা ধ্বংস করতে হবে এবং একইভাবে অন্যান্য সব মাজারও ধ্বংস করতে হবে।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;খবরনামা জামেয়া মুদাররিসিন, সংখ্যা ১১৩৮, পৃ: ৫৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সমসাময়িক ওয়াহাবীরা এই পথে এতটাই চরমপন্থার দিকে এগিয়েছে যে, তারা ইয়াজিদ ও [[ইবনে জিয়াদের]] নামে একটি সেনাদল গঠন করেছে এবং &amp;quot;ইয়াজিদ ও ইবনে জিয়াদ শহীদ হয়েছেন&amp;quot; এই স্লোগান ব্যবহার করে পাকিস্তানে মিছিল বের করছে।&amp;lt;ref&amp;gt;খবরনামা জামেয়া মুদাররিসিন, সংখ্যা ১১৯৫, পৃ: ৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আহলে বাইতের শত্রুদের প্রতি ওয়াহাবীদের সমর্থন ==&lt;br /&gt;
ওয়াহাবীরা, রাসূলুল্লাহ’র (স.) আহলে বাইতের সাথে তাদের শত্রুতা প্রকাশ করতে গিয়ে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর হত্যাকারীদের প্রতি সমর্থনের উপর গুরুত্বারোপ করে তাদেরকে দৃঢ়চিত্তে  রক্ষা করছে।&lt;br /&gt;
* ইবনে তাইমিয়া তার গ্রন্থ &amp;quot;মিনহাজুস সুন্নাহ&amp;quot;-এর চতুর্থ খণ্ডে (৫৪৯-৫৭৫ পৃষ্ঠা) ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়াকে মুসলমানদের অন্যান্য খলিফাদের মাকামের সমপর্যায়ে স্থান দিয়েছেন এবং কারবালার মর্মান্তিক ঘটনায় ইয়াজিদকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, যে ঘটনায় রাসূলুল্লাহর (স.) প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হুসাইন ইবনে আলী (আ.), তাঁর সন্তানগণ ও সঙ্গী-সাথীরা শহীদ হন এবং রাসূলের (স.) পবিত্র আহলে বাইত বন্দী হন।&lt;br /&gt;
* তিনি বলেন: &amp;quot;ধরে নেওয়া যাক যে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া ফাসেক ও জালিম ছিলেন, তবে আল্লাহ তাকে তার কিছু ভালো কাজের জন্য ক্ষমা করবেন!&amp;quot; [১৪] এছাড়াও, তিনি ইমাম হুসাইন (আ.)-এর হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী উমর ইবনে সাদের পক্ষে সরাসরি সাফাই গেয়েছেন। তিনি বলেন: &amp;quot;সত্য যে, [[উমর ইবনে সাদ]] সেনাপতি ছিলেন এবং ইমাম হুসাইন (আ.)-কে হত্যা করেছিলেন, তবে তার পাপ ও অপরাধ ‘[[মুক্তার ইবনে আবি উবাইদা]]’র চেয়ে কম, বরং মুক্তারের পাপ ও অপরাধ উমর ইবনে সাদের চেয়েও বড়!&amp;quot; [১৫]&lt;br /&gt;
* ওয়াহাবীরা, আহলে বাইতের শত্রুদের প্রশংসায় বিশেষ করে আলী (আ.)-এর অন্যতম শত্রু মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান এবং তার পুত্র ইয়াজিদের প্রশংসায় &amp;quot;ফাযায়েলে মুয়াবিয়া ওয়া ফি ইয়াজিদ ওয়া আনাহু লা ইয়াসিব&amp;quot; নামে বই রচনা করেছেন। যারা মুয়াবিয়ার প্রশংসা করতে চায়, নাসাঈ তাদের জবাবে বলেন, রাসূল (স.)-এর পক্ষ থেকে মুয়াবিয়ার প্রতি বিখ্যাত অভিশাপ ব্যতীত তার সম্পর্কে কোনো ফজিলত আমার জানা নেই, যেখানে তিনি (স.) বলেছেন: «لا أشبع الله بطنه» (আল্লাহ তার পেট যেন কখনো পরিপূর্ণ না হয়)।[১৬]&lt;br /&gt;
* ওয়াহাবী বা সালাফি পণ্ডিতরা, যেসব রেওয়ায়েতসমূহে আহলে বাইতের বিরোধীদের যেমন মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান, উমর ইবনে সাদ, বনি উমাইয়া, [[বনি মারওয়ান]], আমর ইবনে আল-আস, ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া এবং অন্যান্যদের সম্পর্কে নিন্দা ও সমালোচনা করা হয়েছে, সেগুলিকে কোনো প্রমাণ বা যুক্তি ছাড়াই প্রত্যাখ্যান করে বলেন যে, এই ধরনের রেওয়ায়েতগুলোর সবই মিথ্যা ও বানোয়াট।[১৭]&lt;br /&gt;
* সমসাময়িক ওয়াহাবী মতবাদে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। তার গুরুত্ব এতটাই যে, সৌদি আরবের শিক্ষা মন্ত্রণালয় &amp;quot;হাকাইক হাক্বায়েক্ব আন আমির আল-মুমিনিন ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া&amp;quot; শিরোনামে একটি বই প্রকাশ করেছে এবং বইটিকে সে দেশের সরকারি স্কুলগুলিতে পাঠ্য পুস্তক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।[১৮]&lt;br /&gt;
* ইরাকের একটি মিডিয়া একটি চিত্র প্রকাশ করেছে যেখানে দেখা যায় যে, সৌদি আরবের ওয়াহাবী শাসকরা, মহানবী (স.) এবং তাঁর প্রিয় আহলে বাইত (আ.)-এর প্রতি তাদের গভীর বিদ্বেষের নিদর্শন স্বরূপ আল্লাহর শেষ রাসূল (সা.) এবং তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের শত্রুদের নাম স্কুল, রাস্তা এবং অন্যান্য স্থানের নামকরণ করেছে। যেমন: ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া স্কুল, ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া সড়ক, আবু লাহাব স্কুল (যে আবু লাহাবের বিরুদ্ধে আল্লাহ কুরআনে সম্পূর্ণ একটি সুরা অবতীর্ণ করেছেন) এবং আবরাহা আল-হাবশির নামে রাস্তা (যে ব্যক্তি আমলফীলে কাবা ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল এবং আল্লাহ তাকে ও তার সৈন্যদের ভয়াবহ শাস্তি দিয়েছিলেন)।[১৯]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== تআহলে বাইতের (আ.) কবর ধ্বংস ==&lt;br /&gt;
ওয়াহীরা বাকি কবরস্থানে আহলে বাইতের কবরসমূহ ধ্বংস করে, [[কারবালা]] ও [[নাজাফে]] সামরিক আক্রমণ চালিয়ে ইমাম হুসাইন ও ইমাম আলী (আ.) এর মাজার ধ্বংস করে এবং আহলে বাইত প্রেমিক মুসলমানদের উপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালানোর মাধ্যমে আহলে বাইতের (আ.) প্রতি তাদের শত্রুতা ও বিদ্বেষের বিষয়টি প্রমাণ করেছে। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আর তাদের এহেন কর্মকাণ্ড, রাসূলুল্লাহ (স.) এর পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি শত্রুতা এবং আহলে বাইতের শত্রুদের বিশেষ করে ইয়াজিদ ও তার পরিবারের প্রতি ভালোবাসার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা তাদের বিকৃত ও বিচ্যুত চিন্তাধারা থেকে উদ্ভূত। &lt;br /&gt;
সৌদ ইবনে আবদুল আজিজের নেতৃত্বে ১২১৬ থেকে ১২২৫ হিজরি অবধি কারবালা ও নাজাফের দিকে তাদের ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের কারণ হিসেবে আহলে বাইতের প্রতি ওয়াহাবীদের শত্রুতা ব্যতীত অন্য কী ব্যাখ্যা দিবে?&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১২৬২ হিজরীতে নাজদ ও আশেপাশের বেদুইন গোত্র, হেজাজ ও তিহামার অধিবাসীদের সমন্বয়ে গঠিত ওয়াহাবী বাহিনী, জিলকদ মাসে কারবালায় প্রবেশ করে। তারা শহরের রাস্তাঘাট, বাজার ও বাড়িতে ঢুকে অধিকাংশ লোককে হত্যা করে। অতঃপর তারা প্রচুর ধন-সম্পদ লুট করে শহর ছেড়ে চলে যায়। পরবর্তীতে তারা &amp;quot;আবিয়াদ&amp;quot; নামক এলাকায় জড়ো হয় এবং লুটকৃত সম্পদের এক-[[পঞ্চমাং]]শ (খুমস) সৌদ ইবনে আবদুল আজিজ নিজের জন্য রেখে বাকি অংশ সৈনিকদের মধ্যে, প্রতি পদাতিক  সৈনিককে এক ভাগ করে এবং প্রতিটি অশ্বারোহী সৈনিককে দুই ভাগ করে বণ্টন করে দেওয়া হয়। [২০]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch =ادیان و مذاهب&lt;br /&gt;
 | subbranch1 = اسلام&lt;br /&gt;
 | subbranch2 =وهابیت&lt;br /&gt;
 | subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه =شد&lt;br /&gt;
 | تیترها =شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت = الف&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:دشمنی وهابیت با اهل‌بیت]]&lt;br /&gt;
[[ar:عداء الوهابیة لأهل البیت]]&lt;br /&gt;
[[ms:Permusuhan Sekte Wahabi Terhadap Ahlul Bait as]]&lt;br /&gt;
[[en:The Hostility of Wahhabis Towards the Ahl al-Bayt (a)]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A4_(%E0%A6%86.)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%E0%A7%87_%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BE&amp;diff=1018</id>
		<title>আহলে বাইত (আ.)-এর সাথে ওয়াহাবীদের শত্রুতা</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A4_(%E0%A6%86.)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%E0%A7%87_%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BE&amp;diff=1018"/>
		<updated>2025-02-27T17:46:54Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* আশুরা দিবস সম্পর্কে ওয়াহাবীদের দৃষ্টিভঙ্গি */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
ইবনে তাইমিয়া ও ওয়াহাবী মতবাদ কি সত্যি সত্যিই আহলে বাইত (আ.)-এর সাথে প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করে?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
[[রাসূলুল্লাহ (সা.)]]-এর আহলে বাইতের প্রতি [[ওয়াহাবী]] মতবাদের শত্রুতা কারও কাছে গোপন নয়। এই শত্রুতা একদিকে যেমন ওয়াহাবী সম্প্রদায়ের শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়া, তেমনিভাবে ওয়াহাবী সম্প্রদায়ের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে প্রকাশ পেয়েছে। আহলে বাইতের ফজিলতসমূহকে অস্বীকার করা, ইমাম আলী (আ.)-কে [[ফেরাউনে]]র সাথে তুলনা করা, ইমাম আলীর শত্রুদেরকে নির্দোষ এবং তাঁর অনুসারীদের তাকফির তথা কাফের সাব্যস্ত করা, [[ইমাম আলী (আ.)]]-এর শত্রুদের বিশেষত [[ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার]] প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করা এবং আহলে বাইতের (আ.) মাজার ধ্বংস করা প্রভৃতি বিষয়গুলো মহানবী’র আহলে বাইতের প্রতি এই সম্প্রদায়টির শত্রুতা পোষণের প্রমাণ বহন করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== মহানবী’র (স.) আহলে বাইতের (আ.) সাথে ইবনে তায়মিয়ার শত্রুতা ==&lt;br /&gt;
[[ইবনে তায়মিয়া]] আহলে বাইতের কোনো ফজিলতকেই স্বীকার করেন না; বরং তিনি আহলে বাইতের শ্রেষ্ঠত্বকে আরবের জাহেলিয়াত তথা অজ্ঞতা থেকে উৎসারিত বলে মনে করেন। ইবনে তায়মিয়া বলেন: [[রাসূলুল্লাহ (সা.)]]-এর আহলে বাইতকে অন্যদের চাইতে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম বলে বিশ্বাস করা জাহেলি যুগের চিন্তাধারার অংশ, যে যুগে গোত্রের নেতা ও প্রধানদের অন্যদের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হতো।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন তাইমিয়াহ, আহমদ বিন আবদুল হালিম, মিনহাজুস সুন্নাহ, মিসর, মুয়াসসাসাতু কুরতুবা, খ: ৩, পৃ: ২৬৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইবনে তায়মিয়ার এই বক্তব্যসমূহ ইসলাম ধর্মের শিক্ষার পরিপন্থী; কারণ যেরূপভাবে কুরআনে আয়াতে তাতহীরে তেমনিভাবে রাসূলুল্লাহ (স.)-এর বিভিন্ন হাদিসসমূহে বিশেষ করে [[হাদিসে সাকালাইন]] ও[[ হাদিসে সাফিনাহ]]’তে আহলে বাইত (আ.)-এর ফজিলতের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা  হয়েছে। আর কুরআনে আয়াতে কুরবা তথা মাওয়াদ্দাতের আয়াতে আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা মুসলমানদের উপর ওয়াজীব করা হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে তায়মিয়া [[ইমাম আলী (আ.)]]-কে রক্তপাত ও ক্ষমতা লোভের ক্ষেত্রে ফেরাউনের সাথে তুলনা করেন। অথচ শিয়া ও সুন্নি উভয় মাযহাবের সূত্রগুলোতে একটি বর্ণিত হয়েছে যে, [[আলী]], [[ফাতিমা]],[[হাসান]] ও হুসাইন (আ.)-কে মহানবী (স.) বলেছেন: অর্থাৎ {{arabic|انا حرب لمن حاربتم و سلم لمن سالمتم|translation=তোমরা যার সাথে যুদ্ধ করবে, আমিও তার সাথে যুদ্ধ করব; আর তোমরা যার সাথে সন্ধি ও আপোষ করবে, আমিও তার সাথে সন্ধি ও  আপোষ করবো।}}&amp;lt;ref&amp;gt;হাকিম নিশাপুরী, মোহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ, আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন, বৈরুত, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, চ: ১, ১৪১১ হি./১৯৯০ ম., গবেষণা: মুস্তাফা আবদুল কাদির আতা, খ: ৩, পৃ: ১৬১; সুনান ইবন মাজাহ, মোহাম্মদ বিন ইয়াজিদ আবু আবদুল্লাহ আল-কুজুইনি, সুনান ইবন মাজাহ, দারুল ফিকর - বৈরুত, গবেষণা: মোহাম্মদ ফুয়াদ আবদুল বাকী, পৃ: ৫২।&amp;lt;/ref&amp;gt; জাসসাস এই হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেন, যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ লিপ্ত হবে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে বলে বিবেচিত হবে, এমনকি সে যদি মুশরিকও না হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;জাসস, আহমদ বিন আলী আর-রাজী, আহকামুল কুরআন লিল জাসস, বৈরুত, দার ইহিয়াউত্তুরাস আল-আরাবি, ১৪০৫ হি., গবেষণা: মোহাম্মদ আস-সাদিক কামাহাউই, খ: ৪, পৃ: ৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এই হাদিস এবং অন্যান্য অগণিত হাদিস ও ঐতিহাসিক প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ইবনে তায়মিয়া ও ওয়াহাবীদের  এরূপ বিশ্বাস ও অবস্থান এটি নিশ্চিত করে যে, ইবনে তায়মিয়া এবং তার অনুসারীদের শত্রুতা কেবল আহলে বাইতের প্রতিই নয়, বরং তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিদ্বেষ ও শত্রুতা থেকে উদ্ভূত।&lt;br /&gt;
আমিরুল মুমিনীন আলী (আ.) এবং তাঁর সঙ্গীদের সম্পর্কে ইবনে তায়মিয়া এমন কিছু কথা বলেছেন যা ইমাম আলী (আ.)-এর প্রতি তাঁর প্রকাশ্য শত্রুতার বিষয়টি প্রমাণ করে। তিনি বলেন: &lt;br /&gt;
::&amp;quot;খারেজি, উমাইয়া এবং মারওয়ানিদের ন্যায় যারা আলীকে গালি দিয়েছে, তাকে লানত করেছে এবং তাকে কাফির ও জালিম বলে ঘোষণা করেছে, তারা সবাই ইসলামের অনুসারী ছিল এবং ইসলামী আচার-আচরণ মেনে চলতো। কিন্তু আলীকে যারা নিষ্পাপ জ্ঞান করেন এবং যারা তাঁর অনুসারী, তারা সকলেই মুরতাদ ও কাফের।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন তাইমিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ, খ: ৫, পৃ: ৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অথচ ইমাম আলী (আ.) হচ্ছেন পবিত্র আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও আহলে সুন্নতের প্রখ্যাত মুফাসসির ফাখরে রাযী বলেন: &amp;quot;যে ব্যক্তি তার ধর্মের ক্ষেত্রে আলী ইবনে আবি তালিবকে অনুসরণ করবে, নিশ্চয় সে হেদায়েতপ্রাপ্ত।&amp;quot; আর এর প্রমাণ হলো মহানবী (স.) এর উক্তি: {{arabic|اللهم ادر الحق مع علی حیث دار|translation|হে আল্লাহ, আলী যেখানেই থাকুক না কেন, সত্যকে তার সাথে রাখো।}}&amp;lt;ref&amp;gt;ফখরুর রাজী, ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ বিন ওমর আত-তামীমি আর-রাজী আশ-শাফেয়ি, আত-তাফসিরুল কবির অথবা মাফাতিহুল গাইব, বৈরুত, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, চ: ১, ১৪২১ হি./২০০০ ম., খ: ১, পৃ: ১৬৮&amp;lt;/ref&amp;gt; এছাড়াও আহলে সুন্নতের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, আলী সত্যের সাথে এবং সত্য আলীর সাথে রয়েছে, যেখানেই হোক না কেন।&amp;lt;ref&amp;gt;হাকিম নিশাপুরী, আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন, খ: ৩, পৃ: ১৩৪; হাইসামি, নূরুদ্দিন আলী বিন আবু বকর, মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, কায়রো, দারুর রিয়ান লিত্তুরাস, বৈরুত, দারুল মাকতাব আল-ইলমিয়্যাহ, ১৪০৮ হি., খ: ৭, পৃ: ২৩৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে তায়মিয়া আহলে বাইতের ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত সকল হাদিসকে হয় সনদগতভাবে বিতর্কিত বলে উল্লেখ করেন অথবা হাদীসগুলোর দলিলকে প্রত্যাখ্যাত হিসেবে গণ্য করেন। উদাহরণস্বরূপ, আহলে সুন্নতের গ্রহণযোগ্য গ্রন্থসমূহে যেমন সহীহ মুসলিমে আয়াতে তাতহীরের শানে নুযুলে ‍উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা’র বর্ণনা এবং অপর একটি বর্ণনায় উম্মে সালমা থেকে উল্লেখিত হয়েছে যে, এই আয়াত (আয়াতে তাতহীর) নাযিল অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন: &amp;quot;হে আল্লাহ! এরাই হচ্ছে আমার আহলে বাইত; এদের থেকে সকল প্রকারের অপবিত্রতা দূর করুন এবং এদেরকে পবিত্র করুন।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;আহমদ বিন হাম্বল, মুসনাদ আহমদ, বৈরুত, দারুস সাদির, বি-তা, খ: ১, পৃ: ৩৩১।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইবনে তায়মিয়া এই হাদিসের সনদে কোনো খুঁত খুঁজে না পেয়েও আহলে বাইত সম্পর্কে অবতীর্ণ হওয়া এই আয়াত সম্পর্কে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বলেন, না এই আয়াত আহলে বাইত সম্পর্কে নাযিল হয়েছে, আর না আহলে বাইত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স.) এর দোয়া আহলে বাইতের কোনো সদস্যের মর্যাদা বা ফজিলত প্রমাণ করে।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন তাইমিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ, মাটবাআতুল কুবরা আল-আমিরিয়্যাহ, চ: ১, ১৩২২ হি., খ: ৩, পৃ: ৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে তায়মিয়ার এই ধরনের বক্তব্য আহলে বাইতের প্রতি বিদ্বেষ ও শত্রুতার প্রমাণ। অথচ আহলে বাইতের মর্যাদা, কুরআন ও হাদিসের মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত। আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন ইসলামের মৌলিক শিক্ষার অংশ, যা ইবনে তায়মিয়ার মতো ব্যক্তিদের বক্তব্য দ্বারা উপেক্ষা করা যায় না।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ইমাম হুসাইন (আ.) সম্পর্কে বর্তমান কালের ওয়াহাবী মুফতি আব্দুল আজিজ আল শাইখের দৃষ্টিভঙ্গি ==&lt;br /&gt;
[[ইমাম হুসাইন (আ.)]] সম্পর্কে বর্তমান কালের ওয়াহাবী মুফতি আব্দুল আজিজ আল-শাইখের  দৃষ্টিভঙ্গি ইবনে তায়মিয়া ও অন্যান্য প্রাক্তন ওয়াহাবী নেতাদের চেয়েও বেশি চরমপন্থী ও নেতিবাচক। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওয়াহাবী মতাদর্শের সর্বোচ্চ মুফতি আল-শাইখ, ওয়াহাবীদের হৃদয়ের কথাটির উন্মোচন করেছেন এবং অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও খোলাখুলিভাবে [[ইয়াজিদ]]কে সঠিক ও ইমাম হুসাইন (আ.)-কে ভ্রান্ত বলে দাবি করেছেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সৌদি আরবের &amp;quot;আল-মাজদ&amp;quot; স্যাটেলাইট চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে এক মহিলার প্রশ্নের জবাবে ইয়াজিদ ও ইমাম হুসাইন (আ.)- এর ক্বিয়াম তথা বিদ্রোহ সম্পর্কে আল-শাইখ যা বলেছেন, তার সারসংক্ষেপ হচ্ছে- ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার বাইয়াত (আনুগত্যের শপথ) একটি শরীয়তসম্মত বাইয়াত যা তার পিতা মুয়াবিয়ার সময়ে জনগণের নিকট থেকে গ্রহণ করা হয়েছিল এবং মানুষ তাতে সম্মতী প্রদান করেছিল। কিন্তু যখন মুয়াবিয়া মৃত্যুবরণ করেন, তখন হুসাইন ইবনে আলী ও ইবনে যুবায়ের ইয়াজিদের নিকট বাইয়াত করতে অস্বীকার করেন। ফলে হুসাইন ও ইবনে যুবায়ের বাইয়াত না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল করেছেন। আর হুসাইন অন্যের উপদেশের প্রতি কর্ণপাত করেন নি এবং কল্যাণের বিপরীত কাজ করেছেন, আর আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছিলেন, তাই হয়েছে। তিনি আরও বলেন, &amp;quot;হুসাইন যে ভুল করুক না কেন, তা তার নিজের জন্যই করেছেন!!... যাই হোক, ইয়াজিদের বিরুদ্ধে হুসাইনের ক্বিয়াম ও বিদ্রোহ হারাম ছিল!!... এ কাজ না করাই ছিল তার জন্য উত্তম। মদীনায় থাকা এবং মানুষের সমষ্টিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলাই উত্তম ও বেশি উপযুক্ত ছিল। খিলাফতের সীমানা লঙ্ঘন করা জায়েজ ছিল না। তবে, এতদ্বসত্ত্বেও আমরা হুসাইনের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করি এবং তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি!!&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;http://database-aryana-encyclopaedia.blogspot.com/২০১৩/۰۷/blog-post_14.html&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সহীহ ও মুতাওয়াতির হাদিস অনুযায়ী, ইমাম হুসাইন (আ.) ও তার ভাই ইমাম হাসান (আ.) যখন জান্নাতের যুবক দের সর্দার তখন তাদের সম্পর্কে ভুল বা গুনাহর কথা কল্পনা করাও অসম্ভব। তাহলে, কেন আল-শাইখ বা অন্য ব্যক্তিদেরকে তাঁর জন্য ক্ষমা চাইতে হবে!&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আশুরা দিবস সম্পর্কে ওয়াহাবীদের দৃষ্টিভঙ্গি ==&lt;br /&gt;
সাম্প্রতিক কালের ওয়াহাবীরা [[আশুরা]]র দিনকে আনন্দের দিন হিসেবে বিবেচনা করে। কুয়েতের ওয়াহাবীরা তাদের কিছু কিছু প্রকাশনায় হুসাইনের আশুরাকে আনন্দ ও উৎসবের দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও,আহলে সুন্নত কর্তৃক [[রাসূল (স.)]]-এর পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন সত্ত্বেও, ওয়াহাবীরা ইচ্ছাকৃতভাবে কুয়েতে [[তাসুয়া]] ও আশুরার রাতে তাদের বিবাহ ও উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।&amp;lt;ref&amp;gt;খবরনামা, সংখ্যা ১১৫৩, পৃ: ৫৩।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
রাসূলুল্লাহ (স.)-এর আহলে বাইতের প্রতি, বিশেষ করে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর প্রতি তীব্র শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণকারী আল-শাইখ, তার এই শত্রুতা প্রকাশের জন্ তার পুত্র উমর ইবনে আব্দুল আজিজের বিয়ের অনুষ্ঠান আশুরার দিনে আয়োজন করেছিলেন। এই অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের অনেক মুফতি অংশগ্রহণ করেছিলেন।&amp;lt;ref&amp;gt;সাইট: মাশরিক নিউজ।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== হযরত যায়নাব (সা. আ.)-এর মাজার যিয়ারতের প্রতি ওয়াহাবীদের বিদ্বেষ ==&lt;br /&gt;
সৌদি গোয়েন্দা সংস্থা’র অর্থায়নে পরিচালিত ওয়াহাবী সংবাদ নেটওয়ার্ক &amp;quot;সাফা&amp;quot;, যার প্রধান কার্যালয় কুয়েত, কায়রো ও রিয়াদে অবস্থিত, ফ্রি সিরিয়ান আর্মির সদস্যদেরকে শামে বনি [[উমাইয়া]]র বংশধর বলে হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের উদ্দেশ্যে বলেছে: &lt;br /&gt;
::&amp;quot;হে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের বংশধর! হে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার বংশধর! হে ফ্রি সিরিয়ান আর্মির সৈন্যরা! তোমাদের অবশ্যই যায়নাবের কবরকে (মাজার)[[ লক্ষ্যবস্তু]] করে তা ধ্বংস করতে হবে এবং একইভাবে অন্যান্য সব মাজারও ধ্বংস করতে হবে।&amp;quot; [১২]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সমসাময়িক ওয়াহাবীরা এই পথে এতটাই চরমপন্থার দিকে এগিয়েছে যে, তারা ইয়াজিদ ও [[ইবনে জিয়াদের]] নামে একটি সেনাদল গঠন করেছে এবং &amp;quot;ইয়াজিদ ও ইবনে জিয়াদ শহীদ হয়েছেন&amp;quot; এই স্লোগান ব্যবহার করে পাকিস্তানে মিছিল বের করছে।[১৩]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আহলে বাইতের শত্রুদের প্রতি ওয়াহাবীদের সমর্থন ==&lt;br /&gt;
ওয়াহাবীরা, রাসূলুল্লাহ’র (স.) আহলে বাইতের সাথে তাদের শত্রুতা প্রকাশ করতে গিয়ে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর হত্যাকারীদের প্রতি সমর্থনের উপর গুরুত্বারোপ করে তাদেরকে দৃঢ়চিত্তে  রক্ষা করছে।&lt;br /&gt;
* ইবনে তাইমিয়া তার গ্রন্থ &amp;quot;মিনহাজুস সুন্নাহ&amp;quot;-এর চতুর্থ খণ্ডে (৫৪৯-৫৭৫ পৃষ্ঠা) ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়াকে মুসলমানদের অন্যান্য খলিফাদের মাকামের সমপর্যায়ে স্থান দিয়েছেন এবং কারবালার মর্মান্তিক ঘটনায় ইয়াজিদকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, যে ঘটনায় রাসূলুল্লাহর (স.) প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হুসাইন ইবনে আলী (আ.), তাঁর সন্তানগণ ও সঙ্গী-সাথীরা শহীদ হন এবং রাসূলের (স.) পবিত্র আহলে বাইত বন্দী হন।&lt;br /&gt;
* তিনি বলেন: &amp;quot;ধরে নেওয়া যাক যে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া ফাসেক ও জালিম ছিলেন, তবে আল্লাহ তাকে তার কিছু ভালো কাজের জন্য ক্ষমা করবেন!&amp;quot; [১৪] এছাড়াও, তিনি ইমাম হুসাইন (আ.)-এর হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী উমর ইবনে সাদের পক্ষে সরাসরি সাফাই গেয়েছেন। তিনি বলেন: &amp;quot;সত্য যে, [[উমর ইবনে সাদ]] সেনাপতি ছিলেন এবং ইমাম হুসাইন (আ.)-কে হত্যা করেছিলেন, তবে তার পাপ ও অপরাধ ‘[[মুক্তার ইবনে আবি উবাইদা]]’র চেয়ে কম, বরং মুক্তারের পাপ ও অপরাধ উমর ইবনে সাদের চেয়েও বড়!&amp;quot; [১৫]&lt;br /&gt;
* ওয়াহাবীরা, আহলে বাইতের শত্রুদের প্রশংসায় বিশেষ করে আলী (আ.)-এর অন্যতম শত্রু মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান এবং তার পুত্র ইয়াজিদের প্রশংসায় &amp;quot;ফাযায়েলে মুয়াবিয়া ওয়া ফি ইয়াজিদ ওয়া আনাহু লা ইয়াসিব&amp;quot; নামে বই রচনা করেছেন। যারা মুয়াবিয়ার প্রশংসা করতে চায়, নাসাঈ তাদের জবাবে বলেন, রাসূল (স.)-এর পক্ষ থেকে মুয়াবিয়ার প্রতি বিখ্যাত অভিশাপ ব্যতীত তার সম্পর্কে কোনো ফজিলত আমার জানা নেই, যেখানে তিনি (স.) বলেছেন: «لا أشبع الله بطنه» (আল্লাহ তার পেট যেন কখনো পরিপূর্ণ না হয়)।[১৬]&lt;br /&gt;
* ওয়াহাবী বা সালাফি পণ্ডিতরা, যেসব রেওয়ায়েতসমূহে আহলে বাইতের বিরোধীদের যেমন মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান, উমর ইবনে সাদ, বনি উমাইয়া, [[বনি মারওয়ান]], আমর ইবনে আল-আস, ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া এবং অন্যান্যদের সম্পর্কে নিন্দা ও সমালোচনা করা হয়েছে, সেগুলিকে কোনো প্রমাণ বা যুক্তি ছাড়াই প্রত্যাখ্যান করে বলেন যে, এই ধরনের রেওয়ায়েতগুলোর সবই মিথ্যা ও বানোয়াট।[১৭]&lt;br /&gt;
* সমসাময়িক ওয়াহাবী মতবাদে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। তার গুরুত্ব এতটাই যে, সৌদি আরবের শিক্ষা মন্ত্রণালয় &amp;quot;হাকাইক হাক্বায়েক্ব আন আমির আল-মুমিনিন ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া&amp;quot; শিরোনামে একটি বই প্রকাশ করেছে এবং বইটিকে সে দেশের সরকারি স্কুলগুলিতে পাঠ্য পুস্তক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।[১৮]&lt;br /&gt;
* ইরাকের একটি মিডিয়া একটি চিত্র প্রকাশ করেছে যেখানে দেখা যায় যে, সৌদি আরবের ওয়াহাবী শাসকরা, মহানবী (স.) এবং তাঁর প্রিয় আহলে বাইত (আ.)-এর প্রতি তাদের গভীর বিদ্বেষের নিদর্শন স্বরূপ আল্লাহর শেষ রাসূল (সা.) এবং তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের শত্রুদের নাম স্কুল, রাস্তা এবং অন্যান্য স্থানের নামকরণ করেছে। যেমন: ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া স্কুল, ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া সড়ক, আবু লাহাব স্কুল (যে আবু লাহাবের বিরুদ্ধে আল্লাহ কুরআনে সম্পূর্ণ একটি সুরা অবতীর্ণ করেছেন) এবং আবরাহা আল-হাবশির নামে রাস্তা (যে ব্যক্তি আমলফীলে কাবা ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল এবং আল্লাহ তাকে ও তার সৈন্যদের ভয়াবহ শাস্তি দিয়েছিলেন)।[১৯]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== تআহলে বাইতের (আ.) কবর ধ্বংস ==&lt;br /&gt;
ওয়াহীরা বাকি কবরস্থানে আহলে বাইতের কবরসমূহ ধ্বংস করে, [[কারবালা]] ও [[নাজাফে]] সামরিক আক্রমণ চালিয়ে ইমাম হুসাইন ও ইমাম আলী (আ.) এর মাজার ধ্বংস করে এবং আহলে বাইত প্রেমিক মুসলমানদের উপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালানোর মাধ্যমে আহলে বাইতের (আ.) প্রতি তাদের শত্রুতা ও বিদ্বেষের বিষয়টি প্রমাণ করেছে। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আর তাদের এহেন কর্মকাণ্ড, রাসূলুল্লাহ (স.) এর পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি শত্রুতা এবং আহলে বাইতের শত্রুদের বিশেষ করে ইয়াজিদ ও তার পরিবারের প্রতি ভালোবাসার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা তাদের বিকৃত ও বিচ্যুত চিন্তাধারা থেকে উদ্ভূত। &lt;br /&gt;
সৌদ ইবনে আবদুল আজিজের নেতৃত্বে ১২১৬ থেকে ১২২৫ হিজরি অবধি কারবালা ও নাজাফের দিকে তাদের ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের কারণ হিসেবে আহলে বাইতের প্রতি ওয়াহাবীদের শত্রুতা ব্যতীত অন্য কী ব্যাখ্যা দিবে?&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১২৬২ হিজরীতে নাজদ ও আশেপাশের বেদুইন গোত্র, হেজাজ ও তিহামার অধিবাসীদের সমন্বয়ে গঠিত ওয়াহাবী বাহিনী, জিলকদ মাসে কারবালায় প্রবেশ করে। তারা শহরের রাস্তাঘাট, বাজার ও বাড়িতে ঢুকে অধিকাংশ লোককে হত্যা করে। অতঃপর তারা প্রচুর ধন-সম্পদ লুট করে শহর ছেড়ে চলে যায়। পরবর্তীতে তারা &amp;quot;আবিয়াদ&amp;quot; নামক এলাকায় জড়ো হয় এবং লুটকৃত সম্পদের এক-[[পঞ্চমাং]]শ (খুমস) সৌদ ইবনে আবদুল আজিজ নিজের জন্য রেখে বাকি অংশ সৈনিকদের মধ্যে, প্রতি পদাতিক  সৈনিককে এক ভাগ করে এবং প্রতিটি অশ্বারোহী সৈনিককে দুই ভাগ করে বণ্টন করে দেওয়া হয়। [২০]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch =ادیان و مذاهب&lt;br /&gt;
 | subbranch1 = اسلام&lt;br /&gt;
 | subbranch2 =وهابیت&lt;br /&gt;
 | subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه =شد&lt;br /&gt;
 | تیترها =شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت = الف&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:دشمنی وهابیت با اهل‌بیت]]&lt;br /&gt;
[[ar:عداء الوهابیة لأهل البیت]]&lt;br /&gt;
[[ms:Permusuhan Sekte Wahabi Terhadap Ahlul Bait as]]&lt;br /&gt;
[[en:The Hostility of Wahhabis Towards the Ahl al-Bayt (a)]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A4_(%E0%A6%86.)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%E0%A7%87_%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BE&amp;diff=1017</id>
		<title>আহলে বাইত (আ.)-এর সাথে ওয়াহাবীদের শত্রুতা</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A4_(%E0%A6%86.)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%E0%A7%87_%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BE&amp;diff=1017"/>
		<updated>2025-02-27T17:46:24Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* ইমাম হুসাইন (আ.) সম্পর্কে বর্তমান কালের ওয়াহাবী মুফতি আব্দুল আজিজ আল শাইখের দৃষ্টিভঙ্গি */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
ইবনে তাইমিয়া ও ওয়াহাবী মতবাদ কি সত্যি সত্যিই আহলে বাইত (আ.)-এর সাথে প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করে?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
[[রাসূলুল্লাহ (সা.)]]-এর আহলে বাইতের প্রতি [[ওয়াহাবী]] মতবাদের শত্রুতা কারও কাছে গোপন নয়। এই শত্রুতা একদিকে যেমন ওয়াহাবী সম্প্রদায়ের শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়া, তেমনিভাবে ওয়াহাবী সম্প্রদায়ের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে প্রকাশ পেয়েছে। আহলে বাইতের ফজিলতসমূহকে অস্বীকার করা, ইমাম আলী (আ.)-কে [[ফেরাউনে]]র সাথে তুলনা করা, ইমাম আলীর শত্রুদেরকে নির্দোষ এবং তাঁর অনুসারীদের তাকফির তথা কাফের সাব্যস্ত করা, [[ইমাম আলী (আ.)]]-এর শত্রুদের বিশেষত [[ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার]] প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করা এবং আহলে বাইতের (আ.) মাজার ধ্বংস করা প্রভৃতি বিষয়গুলো মহানবী’র আহলে বাইতের প্রতি এই সম্প্রদায়টির শত্রুতা পোষণের প্রমাণ বহন করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== মহানবী’র (স.) আহলে বাইতের (আ.) সাথে ইবনে তায়মিয়ার শত্রুতা ==&lt;br /&gt;
[[ইবনে তায়মিয়া]] আহলে বাইতের কোনো ফজিলতকেই স্বীকার করেন না; বরং তিনি আহলে বাইতের শ্রেষ্ঠত্বকে আরবের জাহেলিয়াত তথা অজ্ঞতা থেকে উৎসারিত বলে মনে করেন। ইবনে তায়মিয়া বলেন: [[রাসূলুল্লাহ (সা.)]]-এর আহলে বাইতকে অন্যদের চাইতে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম বলে বিশ্বাস করা জাহেলি যুগের চিন্তাধারার অংশ, যে যুগে গোত্রের নেতা ও প্রধানদের অন্যদের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হতো।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন তাইমিয়াহ, আহমদ বিন আবদুল হালিম, মিনহাজুস সুন্নাহ, মিসর, মুয়াসসাসাতু কুরতুবা, খ: ৩, পৃ: ২৬৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইবনে তায়মিয়ার এই বক্তব্যসমূহ ইসলাম ধর্মের শিক্ষার পরিপন্থী; কারণ যেরূপভাবে কুরআনে আয়াতে তাতহীরে তেমনিভাবে রাসূলুল্লাহ (স.)-এর বিভিন্ন হাদিসসমূহে বিশেষ করে [[হাদিসে সাকালাইন]] ও[[ হাদিসে সাফিনাহ]]’তে আহলে বাইত (আ.)-এর ফজিলতের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা  হয়েছে। আর কুরআনে আয়াতে কুরবা তথা মাওয়াদ্দাতের আয়াতে আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা মুসলমানদের উপর ওয়াজীব করা হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে তায়মিয়া [[ইমাম আলী (আ.)]]-কে রক্তপাত ও ক্ষমতা লোভের ক্ষেত্রে ফেরাউনের সাথে তুলনা করেন। অথচ শিয়া ও সুন্নি উভয় মাযহাবের সূত্রগুলোতে একটি বর্ণিত হয়েছে যে, [[আলী]], [[ফাতিমা]],[[হাসান]] ও হুসাইন (আ.)-কে মহানবী (স.) বলেছেন: অর্থাৎ {{arabic|انا حرب لمن حاربتم و سلم لمن سالمتم|translation=তোমরা যার সাথে যুদ্ধ করবে, আমিও তার সাথে যুদ্ধ করব; আর তোমরা যার সাথে সন্ধি ও আপোষ করবে, আমিও তার সাথে সন্ধি ও  আপোষ করবো।}}&amp;lt;ref&amp;gt;হাকিম নিশাপুরী, মোহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ, আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন, বৈরুত, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, চ: ১, ১৪১১ হি./১৯৯০ ম., গবেষণা: মুস্তাফা আবদুল কাদির আতা, খ: ৩, পৃ: ১৬১; সুনান ইবন মাজাহ, মোহাম্মদ বিন ইয়াজিদ আবু আবদুল্লাহ আল-কুজুইনি, সুনান ইবন মাজাহ, দারুল ফিকর - বৈরুত, গবেষণা: মোহাম্মদ ফুয়াদ আবদুল বাকী, পৃ: ৫২।&amp;lt;/ref&amp;gt; জাসসাস এই হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেন, যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ লিপ্ত হবে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে বলে বিবেচিত হবে, এমনকি সে যদি মুশরিকও না হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;জাসস, আহমদ বিন আলী আর-রাজী, আহকামুল কুরআন লিল জাসস, বৈরুত, দার ইহিয়াউত্তুরাস আল-আরাবি, ১৪০৫ হি., গবেষণা: মোহাম্মদ আস-সাদিক কামাহাউই, খ: ৪, পৃ: ৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এই হাদিস এবং অন্যান্য অগণিত হাদিস ও ঐতিহাসিক প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ইবনে তায়মিয়া ও ওয়াহাবীদের  এরূপ বিশ্বাস ও অবস্থান এটি নিশ্চিত করে যে, ইবনে তায়মিয়া এবং তার অনুসারীদের শত্রুতা কেবল আহলে বাইতের প্রতিই নয়, বরং তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিদ্বেষ ও শত্রুতা থেকে উদ্ভূত।&lt;br /&gt;
আমিরুল মুমিনীন আলী (আ.) এবং তাঁর সঙ্গীদের সম্পর্কে ইবনে তায়মিয়া এমন কিছু কথা বলেছেন যা ইমাম আলী (আ.)-এর প্রতি তাঁর প্রকাশ্য শত্রুতার বিষয়টি প্রমাণ করে। তিনি বলেন: &lt;br /&gt;
::&amp;quot;খারেজি, উমাইয়া এবং মারওয়ানিদের ন্যায় যারা আলীকে গালি দিয়েছে, তাকে লানত করেছে এবং তাকে কাফির ও জালিম বলে ঘোষণা করেছে, তারা সবাই ইসলামের অনুসারী ছিল এবং ইসলামী আচার-আচরণ মেনে চলতো। কিন্তু আলীকে যারা নিষ্পাপ জ্ঞান করেন এবং যারা তাঁর অনুসারী, তারা সকলেই মুরতাদ ও কাফের।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন তাইমিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ, খ: ৫, পৃ: ৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অথচ ইমাম আলী (আ.) হচ্ছেন পবিত্র আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও আহলে সুন্নতের প্রখ্যাত মুফাসসির ফাখরে রাযী বলেন: &amp;quot;যে ব্যক্তি তার ধর্মের ক্ষেত্রে আলী ইবনে আবি তালিবকে অনুসরণ করবে, নিশ্চয় সে হেদায়েতপ্রাপ্ত।&amp;quot; আর এর প্রমাণ হলো মহানবী (স.) এর উক্তি: {{arabic|اللهم ادر الحق مع علی حیث دار|translation|হে আল্লাহ, আলী যেখানেই থাকুক না কেন, সত্যকে তার সাথে রাখো।}}&amp;lt;ref&amp;gt;ফখরুর রাজী, ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ বিন ওমর আত-তামীমি আর-রাজী আশ-শাফেয়ি, আত-তাফসিরুল কবির অথবা মাফাতিহুল গাইব, বৈরুত, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, চ: ১, ১৪২১ হি./২০০০ ম., খ: ১, পৃ: ১৬৮&amp;lt;/ref&amp;gt; এছাড়াও আহলে সুন্নতের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, আলী সত্যের সাথে এবং সত্য আলীর সাথে রয়েছে, যেখানেই হোক না কেন।&amp;lt;ref&amp;gt;হাকিম নিশাপুরী, আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন, খ: ৩, পৃ: ১৩৪; হাইসামি, নূরুদ্দিন আলী বিন আবু বকর, মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, কায়রো, দারুর রিয়ান লিত্তুরাস, বৈরুত, দারুল মাকতাব আল-ইলমিয়্যাহ, ১৪০৮ হি., খ: ৭, পৃ: ২৩৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে তায়মিয়া আহলে বাইতের ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত সকল হাদিসকে হয় সনদগতভাবে বিতর্কিত বলে উল্লেখ করেন অথবা হাদীসগুলোর দলিলকে প্রত্যাখ্যাত হিসেবে গণ্য করেন। উদাহরণস্বরূপ, আহলে সুন্নতের গ্রহণযোগ্য গ্রন্থসমূহে যেমন সহীহ মুসলিমে আয়াতে তাতহীরের শানে নুযুলে ‍উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা’র বর্ণনা এবং অপর একটি বর্ণনায় উম্মে সালমা থেকে উল্লেখিত হয়েছে যে, এই আয়াত (আয়াতে তাতহীর) নাযিল অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন: &amp;quot;হে আল্লাহ! এরাই হচ্ছে আমার আহলে বাইত; এদের থেকে সকল প্রকারের অপবিত্রতা দূর করুন এবং এদেরকে পবিত্র করুন।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;আহমদ বিন হাম্বল, মুসনাদ আহমদ, বৈরুত, দারুস সাদির, বি-তা, খ: ১, পৃ: ৩৩১।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইবনে তায়মিয়া এই হাদিসের সনদে কোনো খুঁত খুঁজে না পেয়েও আহলে বাইত সম্পর্কে অবতীর্ণ হওয়া এই আয়াত সম্পর্কে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বলেন, না এই আয়াত আহলে বাইত সম্পর্কে নাযিল হয়েছে, আর না আহলে বাইত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স.) এর দোয়া আহলে বাইতের কোনো সদস্যের মর্যাদা বা ফজিলত প্রমাণ করে।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন তাইমিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ, মাটবাআতুল কুবরা আল-আমিরিয়্যাহ, চ: ১, ১৩২২ হি., খ: ৩, পৃ: ৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে তায়মিয়ার এই ধরনের বক্তব্য আহলে বাইতের প্রতি বিদ্বেষ ও শত্রুতার প্রমাণ। অথচ আহলে বাইতের মর্যাদা, কুরআন ও হাদিসের মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত। আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন ইসলামের মৌলিক শিক্ষার অংশ, যা ইবনে তায়মিয়ার মতো ব্যক্তিদের বক্তব্য দ্বারা উপেক্ষা করা যায় না।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ইমাম হুসাইন (আ.) সম্পর্কে বর্তমান কালের ওয়াহাবী মুফতি আব্দুল আজিজ আল শাইখের দৃষ্টিভঙ্গি ==&lt;br /&gt;
[[ইমাম হুসাইন (আ.)]] সম্পর্কে বর্তমান কালের ওয়াহাবী মুফতি আব্দুল আজিজ আল-শাইখের  দৃষ্টিভঙ্গি ইবনে তায়মিয়া ও অন্যান্য প্রাক্তন ওয়াহাবী নেতাদের চেয়েও বেশি চরমপন্থী ও নেতিবাচক। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওয়াহাবী মতাদর্শের সর্বোচ্চ মুফতি আল-শাইখ, ওয়াহাবীদের হৃদয়ের কথাটির উন্মোচন করেছেন এবং অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও খোলাখুলিভাবে [[ইয়াজিদ]]কে সঠিক ও ইমাম হুসাইন (আ.)-কে ভ্রান্ত বলে দাবি করেছেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সৌদি আরবের &amp;quot;আল-মাজদ&amp;quot; স্যাটেলাইট চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে এক মহিলার প্রশ্নের জবাবে ইয়াজিদ ও ইমাম হুসাইন (আ.)- এর ক্বিয়াম তথা বিদ্রোহ সম্পর্কে আল-শাইখ যা বলেছেন, তার সারসংক্ষেপ হচ্ছে- ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার বাইয়াত (আনুগত্যের শপথ) একটি শরীয়তসম্মত বাইয়াত যা তার পিতা মুয়াবিয়ার সময়ে জনগণের নিকট থেকে গ্রহণ করা হয়েছিল এবং মানুষ তাতে সম্মতী প্রদান করেছিল। কিন্তু যখন মুয়াবিয়া মৃত্যুবরণ করেন, তখন হুসাইন ইবনে আলী ও ইবনে যুবায়ের ইয়াজিদের নিকট বাইয়াত করতে অস্বীকার করেন। ফলে হুসাইন ও ইবনে যুবায়ের বাইয়াত না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল করেছেন। আর হুসাইন অন্যের উপদেশের প্রতি কর্ণপাত করেন নি এবং কল্যাণের বিপরীত কাজ করেছেন, আর আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছিলেন, তাই হয়েছে। তিনি আরও বলেন, &amp;quot;হুসাইন যে ভুল করুক না কেন, তা তার নিজের জন্যই করেছেন!!... যাই হোক, ইয়াজিদের বিরুদ্ধে হুসাইনের ক্বিয়াম ও বিদ্রোহ হারাম ছিল!!... এ কাজ না করাই ছিল তার জন্য উত্তম। মদীনায় থাকা এবং মানুষের সমষ্টিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলাই উত্তম ও বেশি উপযুক্ত ছিল। খিলাফতের সীমানা লঙ্ঘন করা জায়েজ ছিল না। তবে, এতদ্বসত্ত্বেও আমরা হুসাইনের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করি এবং তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি!!&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;http://database-aryana-encyclopaedia.blogspot.com/২০১৩/۰۷/blog-post_14.html&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সহীহ ও মুতাওয়াতির হাদিস অনুযায়ী, ইমাম হুসাইন (আ.) ও তার ভাই ইমাম হাসান (আ.) যখন জান্নাতের যুবক দের সর্দার তখন তাদের সম্পর্কে ভুল বা গুনাহর কথা কল্পনা করাও অসম্ভব। তাহলে, কেন আল-শাইখ বা অন্য ব্যক্তিদেরকে তাঁর জন্য ক্ষমা চাইতে হবে!&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আশুরা দিবস সম্পর্কে ওয়াহাবীদের দৃষ্টিভঙ্গি ==&lt;br /&gt;
সাম্প্রতিক কালের ওয়াহাবীরা [[আশুরা]]র দিনকে আনন্দের দিন হিসেবে বিবেচনা করে। কুয়েতের ওয়াহাবীরা তাদের কিছু কিছু প্রকাশনায় হুসাইনের আশুরাকে আনন্দ ও উৎসবের দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও,আহলে সুন্নত কর্তৃক [[রাসূল (স.)]]-এর পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন সত্ত্বেও, ওয়াহাবীরা ইচ্ছাকৃতভাবে কুয়েতে [[তাসুয়া]] ও আশুরার রাতে তাদের বিবাহ ও উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।[১০]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
রাসূলুল্লাহ (স.)-এর আহলে বাইতের প্রতি, বিশেষ করে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর প্রতি তীব্র শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণকারী আল-শাইখ, তার এই শত্রুতা প্রকাশের জন্ তার পুত্র উমর ইবনে আব্দুল আজিজের বিয়ের অনুষ্ঠান আশুরার দিনে আয়োজন করেছিলেন। এই অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের অনেক মুফতি অংশগ্রহণ করেছিলেন। [১১]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== হযরত যায়নাব (সা. আ.)-এর মাজার যিয়ারতের প্রতি ওয়াহাবীদের বিদ্বেষ ==&lt;br /&gt;
সৌদি গোয়েন্দা সংস্থা’র অর্থায়নে পরিচালিত ওয়াহাবী সংবাদ নেটওয়ার্ক &amp;quot;সাফা&amp;quot;, যার প্রধান কার্যালয় কুয়েত, কায়রো ও রিয়াদে অবস্থিত, ফ্রি সিরিয়ান আর্মির সদস্যদেরকে শামে বনি [[উমাইয়া]]র বংশধর বলে হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের উদ্দেশ্যে বলেছে: &lt;br /&gt;
::&amp;quot;হে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের বংশধর! হে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার বংশধর! হে ফ্রি সিরিয়ান আর্মির সৈন্যরা! তোমাদের অবশ্যই যায়নাবের কবরকে (মাজার)[[ লক্ষ্যবস্তু]] করে তা ধ্বংস করতে হবে এবং একইভাবে অন্যান্য সব মাজারও ধ্বংস করতে হবে।&amp;quot; [১২]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সমসাময়িক ওয়াহাবীরা এই পথে এতটাই চরমপন্থার দিকে এগিয়েছে যে, তারা ইয়াজিদ ও [[ইবনে জিয়াদের]] নামে একটি সেনাদল গঠন করেছে এবং &amp;quot;ইয়াজিদ ও ইবনে জিয়াদ শহীদ হয়েছেন&amp;quot; এই স্লোগান ব্যবহার করে পাকিস্তানে মিছিল বের করছে।[১৩]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আহলে বাইতের শত্রুদের প্রতি ওয়াহাবীদের সমর্থন ==&lt;br /&gt;
ওয়াহাবীরা, রাসূলুল্লাহ’র (স.) আহলে বাইতের সাথে তাদের শত্রুতা প্রকাশ করতে গিয়ে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর হত্যাকারীদের প্রতি সমর্থনের উপর গুরুত্বারোপ করে তাদেরকে দৃঢ়চিত্তে  রক্ষা করছে।&lt;br /&gt;
* ইবনে তাইমিয়া তার গ্রন্থ &amp;quot;মিনহাজুস সুন্নাহ&amp;quot;-এর চতুর্থ খণ্ডে (৫৪৯-৫৭৫ পৃষ্ঠা) ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়াকে মুসলমানদের অন্যান্য খলিফাদের মাকামের সমপর্যায়ে স্থান দিয়েছেন এবং কারবালার মর্মান্তিক ঘটনায় ইয়াজিদকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, যে ঘটনায় রাসূলুল্লাহর (স.) প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হুসাইন ইবনে আলী (আ.), তাঁর সন্তানগণ ও সঙ্গী-সাথীরা শহীদ হন এবং রাসূলের (স.) পবিত্র আহলে বাইত বন্দী হন।&lt;br /&gt;
* তিনি বলেন: &amp;quot;ধরে নেওয়া যাক যে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া ফাসেক ও জালিম ছিলেন, তবে আল্লাহ তাকে তার কিছু ভালো কাজের জন্য ক্ষমা করবেন!&amp;quot; [১৪] এছাড়াও, তিনি ইমাম হুসাইন (আ.)-এর হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী উমর ইবনে সাদের পক্ষে সরাসরি সাফাই গেয়েছেন। তিনি বলেন: &amp;quot;সত্য যে, [[উমর ইবনে সাদ]] সেনাপতি ছিলেন এবং ইমাম হুসাইন (আ.)-কে হত্যা করেছিলেন, তবে তার পাপ ও অপরাধ ‘[[মুক্তার ইবনে আবি উবাইদা]]’র চেয়ে কম, বরং মুক্তারের পাপ ও অপরাধ উমর ইবনে সাদের চেয়েও বড়!&amp;quot; [১৫]&lt;br /&gt;
* ওয়াহাবীরা, আহলে বাইতের শত্রুদের প্রশংসায় বিশেষ করে আলী (আ.)-এর অন্যতম শত্রু মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান এবং তার পুত্র ইয়াজিদের প্রশংসায় &amp;quot;ফাযায়েলে মুয়াবিয়া ওয়া ফি ইয়াজিদ ওয়া আনাহু লা ইয়াসিব&amp;quot; নামে বই রচনা করেছেন। যারা মুয়াবিয়ার প্রশংসা করতে চায়, নাসাঈ তাদের জবাবে বলেন, রাসূল (স.)-এর পক্ষ থেকে মুয়াবিয়ার প্রতি বিখ্যাত অভিশাপ ব্যতীত তার সম্পর্কে কোনো ফজিলত আমার জানা নেই, যেখানে তিনি (স.) বলেছেন: «لا أشبع الله بطنه» (আল্লাহ তার পেট যেন কখনো পরিপূর্ণ না হয়)।[১৬]&lt;br /&gt;
* ওয়াহাবী বা সালাফি পণ্ডিতরা, যেসব রেওয়ায়েতসমূহে আহলে বাইতের বিরোধীদের যেমন মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান, উমর ইবনে সাদ, বনি উমাইয়া, [[বনি মারওয়ান]], আমর ইবনে আল-আস, ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া এবং অন্যান্যদের সম্পর্কে নিন্দা ও সমালোচনা করা হয়েছে, সেগুলিকে কোনো প্রমাণ বা যুক্তি ছাড়াই প্রত্যাখ্যান করে বলেন যে, এই ধরনের রেওয়ায়েতগুলোর সবই মিথ্যা ও বানোয়াট।[১৭]&lt;br /&gt;
* সমসাময়িক ওয়াহাবী মতবাদে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। তার গুরুত্ব এতটাই যে, সৌদি আরবের শিক্ষা মন্ত্রণালয় &amp;quot;হাকাইক হাক্বায়েক্ব আন আমির আল-মুমিনিন ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া&amp;quot; শিরোনামে একটি বই প্রকাশ করেছে এবং বইটিকে সে দেশের সরকারি স্কুলগুলিতে পাঠ্য পুস্তক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।[১৮]&lt;br /&gt;
* ইরাকের একটি মিডিয়া একটি চিত্র প্রকাশ করেছে যেখানে দেখা যায় যে, সৌদি আরবের ওয়াহাবী শাসকরা, মহানবী (স.) এবং তাঁর প্রিয় আহলে বাইত (আ.)-এর প্রতি তাদের গভীর বিদ্বেষের নিদর্শন স্বরূপ আল্লাহর শেষ রাসূল (সা.) এবং তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের শত্রুদের নাম স্কুল, রাস্তা এবং অন্যান্য স্থানের নামকরণ করেছে। যেমন: ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া স্কুল, ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া সড়ক, আবু লাহাব স্কুল (যে আবু লাহাবের বিরুদ্ধে আল্লাহ কুরআনে সম্পূর্ণ একটি সুরা অবতীর্ণ করেছেন) এবং আবরাহা আল-হাবশির নামে রাস্তা (যে ব্যক্তি আমলফীলে কাবা ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল এবং আল্লাহ তাকে ও তার সৈন্যদের ভয়াবহ শাস্তি দিয়েছিলেন)।[১৯]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== تআহলে বাইতের (আ.) কবর ধ্বংস ==&lt;br /&gt;
ওয়াহীরা বাকি কবরস্থানে আহলে বাইতের কবরসমূহ ধ্বংস করে, [[কারবালা]] ও [[নাজাফে]] সামরিক আক্রমণ চালিয়ে ইমাম হুসাইন ও ইমাম আলী (আ.) এর মাজার ধ্বংস করে এবং আহলে বাইত প্রেমিক মুসলমানদের উপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালানোর মাধ্যমে আহলে বাইতের (আ.) প্রতি তাদের শত্রুতা ও বিদ্বেষের বিষয়টি প্রমাণ করেছে। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আর তাদের এহেন কর্মকাণ্ড, রাসূলুল্লাহ (স.) এর পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি শত্রুতা এবং আহলে বাইতের শত্রুদের বিশেষ করে ইয়াজিদ ও তার পরিবারের প্রতি ভালোবাসার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা তাদের বিকৃত ও বিচ্যুত চিন্তাধারা থেকে উদ্ভূত। &lt;br /&gt;
সৌদ ইবনে আবদুল আজিজের নেতৃত্বে ১২১৬ থেকে ১২২৫ হিজরি অবধি কারবালা ও নাজাফের দিকে তাদের ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের কারণ হিসেবে আহলে বাইতের প্রতি ওয়াহাবীদের শত্রুতা ব্যতীত অন্য কী ব্যাখ্যা দিবে?&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১২৬২ হিজরীতে নাজদ ও আশেপাশের বেদুইন গোত্র, হেজাজ ও তিহামার অধিবাসীদের সমন্বয়ে গঠিত ওয়াহাবী বাহিনী, জিলকদ মাসে কারবালায় প্রবেশ করে। তারা শহরের রাস্তাঘাট, বাজার ও বাড়িতে ঢুকে অধিকাংশ লোককে হত্যা করে। অতঃপর তারা প্রচুর ধন-সম্পদ লুট করে শহর ছেড়ে চলে যায়। পরবর্তীতে তারা &amp;quot;আবিয়াদ&amp;quot; নামক এলাকায় জড়ো হয় এবং লুটকৃত সম্পদের এক-[[পঞ্চমাং]]শ (খুমস) সৌদ ইবনে আবদুল আজিজ নিজের জন্য রেখে বাকি অংশ সৈনিকদের মধ্যে, প্রতি পদাতিক  সৈনিককে এক ভাগ করে এবং প্রতিটি অশ্বারোহী সৈনিককে দুই ভাগ করে বণ্টন করে দেওয়া হয়। [২০]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch =ادیان و مذاهب&lt;br /&gt;
 | subbranch1 = اسلام&lt;br /&gt;
 | subbranch2 =وهابیت&lt;br /&gt;
 | subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه =شد&lt;br /&gt;
 | تیترها =شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت = الف&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:دشمنی وهابیت با اهل‌بیت]]&lt;br /&gt;
[[ar:عداء الوهابیة لأهل البیت]]&lt;br /&gt;
[[ms:Permusuhan Sekte Wahabi Terhadap Ahlul Bait as]]&lt;br /&gt;
[[en:The Hostility of Wahhabis Towards the Ahl al-Bayt (a)]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A4_(%E0%A6%86.)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%E0%A7%87_%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BE&amp;diff=1016</id>
		<title>আহলে বাইত (আ.)-এর সাথে ওয়াহাবীদের শত্রুতা</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A4_(%E0%A6%86.)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%E0%A7%87_%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BE&amp;diff=1016"/>
		<updated>2025-02-27T17:45:52Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* মহানবী’র (স.) আহলে বাইতের (আ.) সাথে ইবনে তায়মিয়ার শত্রুতা */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
ইবনে তাইমিয়া ও ওয়াহাবী মতবাদ কি সত্যি সত্যিই আহলে বাইত (আ.)-এর সাথে প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করে?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
[[রাসূলুল্লাহ (সা.)]]-এর আহলে বাইতের প্রতি [[ওয়াহাবী]] মতবাদের শত্রুতা কারও কাছে গোপন নয়। এই শত্রুতা একদিকে যেমন ওয়াহাবী সম্প্রদায়ের শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়া, তেমনিভাবে ওয়াহাবী সম্প্রদায়ের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে প্রকাশ পেয়েছে। আহলে বাইতের ফজিলতসমূহকে অস্বীকার করা, ইমাম আলী (আ.)-কে [[ফেরাউনে]]র সাথে তুলনা করা, ইমাম আলীর শত্রুদেরকে নির্দোষ এবং তাঁর অনুসারীদের তাকফির তথা কাফের সাব্যস্ত করা, [[ইমাম আলী (আ.)]]-এর শত্রুদের বিশেষত [[ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার]] প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করা এবং আহলে বাইতের (আ.) মাজার ধ্বংস করা প্রভৃতি বিষয়গুলো মহানবী’র আহলে বাইতের প্রতি এই সম্প্রদায়টির শত্রুতা পোষণের প্রমাণ বহন করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== মহানবী’র (স.) আহলে বাইতের (আ.) সাথে ইবনে তায়মিয়ার শত্রুতা ==&lt;br /&gt;
[[ইবনে তায়মিয়া]] আহলে বাইতের কোনো ফজিলতকেই স্বীকার করেন না; বরং তিনি আহলে বাইতের শ্রেষ্ঠত্বকে আরবের জাহেলিয়াত তথা অজ্ঞতা থেকে উৎসারিত বলে মনে করেন। ইবনে তায়মিয়া বলেন: [[রাসূলুল্লাহ (সা.)]]-এর আহলে বাইতকে অন্যদের চাইতে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম বলে বিশ্বাস করা জাহেলি যুগের চিন্তাধারার অংশ, যে যুগে গোত্রের নেতা ও প্রধানদের অন্যদের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হতো।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন তাইমিয়াহ, আহমদ বিন আবদুল হালিম, মিনহাজুস সুন্নাহ, মিসর, মুয়াসসাসাতু কুরতুবা, খ: ৩, পৃ: ২৬৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইবনে তায়মিয়ার এই বক্তব্যসমূহ ইসলাম ধর্মের শিক্ষার পরিপন্থী; কারণ যেরূপভাবে কুরআনে আয়াতে তাতহীরে তেমনিভাবে রাসূলুল্লাহ (স.)-এর বিভিন্ন হাদিসসমূহে বিশেষ করে [[হাদিসে সাকালাইন]] ও[[ হাদিসে সাফিনাহ]]’তে আহলে বাইত (আ.)-এর ফজিলতের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা  হয়েছে। আর কুরআনে আয়াতে কুরবা তথা মাওয়াদ্দাতের আয়াতে আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা মুসলমানদের উপর ওয়াজীব করা হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে তায়মিয়া [[ইমাম আলী (আ.)]]-কে রক্তপাত ও ক্ষমতা লোভের ক্ষেত্রে ফেরাউনের সাথে তুলনা করেন। অথচ শিয়া ও সুন্নি উভয় মাযহাবের সূত্রগুলোতে একটি বর্ণিত হয়েছে যে, [[আলী]], [[ফাতিমা]],[[হাসান]] ও হুসাইন (আ.)-কে মহানবী (স.) বলেছেন: অর্থাৎ {{arabic|انا حرب لمن حاربتم و سلم لمن سالمتم|translation=তোমরা যার সাথে যুদ্ধ করবে, আমিও তার সাথে যুদ্ধ করব; আর তোমরা যার সাথে সন্ধি ও আপোষ করবে, আমিও তার সাথে সন্ধি ও  আপোষ করবো।}}&amp;lt;ref&amp;gt;হাকিম নিশাপুরী, মোহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ, আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন, বৈরুত, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, চ: ১, ১৪১১ হি./১৯৯০ ম., গবেষণা: মুস্তাফা আবদুল কাদির আতা, খ: ৩, পৃ: ১৬১; সুনান ইবন মাজাহ, মোহাম্মদ বিন ইয়াজিদ আবু আবদুল্লাহ আল-কুজুইনি, সুনান ইবন মাজাহ, দারুল ফিকর - বৈরুত, গবেষণা: মোহাম্মদ ফুয়াদ আবদুল বাকী, পৃ: ৫২।&amp;lt;/ref&amp;gt; জাসসাস এই হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেন, যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ লিপ্ত হবে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে বলে বিবেচিত হবে, এমনকি সে যদি মুশরিকও না হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;জাসস, আহমদ বিন আলী আর-রাজী, আহকামুল কুরআন লিল জাসস, বৈরুত, দার ইহিয়াউত্তুরাস আল-আরাবি, ১৪০৫ হি., গবেষণা: মোহাম্মদ আস-সাদিক কামাহাউই, খ: ৪, পৃ: ৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এই হাদিস এবং অন্যান্য অগণিত হাদিস ও ঐতিহাসিক প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ইবনে তায়মিয়া ও ওয়াহাবীদের  এরূপ বিশ্বাস ও অবস্থান এটি নিশ্চিত করে যে, ইবনে তায়মিয়া এবং তার অনুসারীদের শত্রুতা কেবল আহলে বাইতের প্রতিই নয়, বরং তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিদ্বেষ ও শত্রুতা থেকে উদ্ভূত।&lt;br /&gt;
আমিরুল মুমিনীন আলী (আ.) এবং তাঁর সঙ্গীদের সম্পর্কে ইবনে তায়মিয়া এমন কিছু কথা বলেছেন যা ইমাম আলী (আ.)-এর প্রতি তাঁর প্রকাশ্য শত্রুতার বিষয়টি প্রমাণ করে। তিনি বলেন: &lt;br /&gt;
::&amp;quot;খারেজি, উমাইয়া এবং মারওয়ানিদের ন্যায় যারা আলীকে গালি দিয়েছে, তাকে লানত করেছে এবং তাকে কাফির ও জালিম বলে ঘোষণা করেছে, তারা সবাই ইসলামের অনুসারী ছিল এবং ইসলামী আচার-আচরণ মেনে চলতো। কিন্তু আলীকে যারা নিষ্পাপ জ্ঞান করেন এবং যারা তাঁর অনুসারী, তারা সকলেই মুরতাদ ও কাফের।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন তাইমিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ, খ: ৫, পৃ: ৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অথচ ইমাম আলী (আ.) হচ্ছেন পবিত্র আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও আহলে সুন্নতের প্রখ্যাত মুফাসসির ফাখরে রাযী বলেন: &amp;quot;যে ব্যক্তি তার ধর্মের ক্ষেত্রে আলী ইবনে আবি তালিবকে অনুসরণ করবে, নিশ্চয় সে হেদায়েতপ্রাপ্ত।&amp;quot; আর এর প্রমাণ হলো মহানবী (স.) এর উক্তি: {{arabic|اللهم ادر الحق مع علی حیث دار|translation|হে আল্লাহ, আলী যেখানেই থাকুক না কেন, সত্যকে তার সাথে রাখো।}}&amp;lt;ref&amp;gt;ফখরুর রাজী, ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ বিন ওমর আত-তামীমি আর-রাজী আশ-শাফেয়ি, আত-তাফসিরুল কবির অথবা মাফাতিহুল গাইব, বৈরুত, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, চ: ১, ১৪২১ হি./২০০০ ম., খ: ১, পৃ: ১৬৮&amp;lt;/ref&amp;gt; এছাড়াও আহলে সুন্নতের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, আলী সত্যের সাথে এবং সত্য আলীর সাথে রয়েছে, যেখানেই হোক না কেন।&amp;lt;ref&amp;gt;হাকিম নিশাপুরী, আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন, খ: ৩, পৃ: ১৩৪; হাইসামি, নূরুদ্দিন আলী বিন আবু বকর, মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, কায়রো, দারুর রিয়ান লিত্তুরাস, বৈরুত, দারুল মাকতাব আল-ইলমিয়্যাহ, ১৪০৮ হি., খ: ৭, পৃ: ২৩৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে তায়মিয়া আহলে বাইতের ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত সকল হাদিসকে হয় সনদগতভাবে বিতর্কিত বলে উল্লেখ করেন অথবা হাদীসগুলোর দলিলকে প্রত্যাখ্যাত হিসেবে গণ্য করেন। উদাহরণস্বরূপ, আহলে সুন্নতের গ্রহণযোগ্য গ্রন্থসমূহে যেমন সহীহ মুসলিমে আয়াতে তাতহীরের শানে নুযুলে ‍উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা’র বর্ণনা এবং অপর একটি বর্ণনায় উম্মে সালমা থেকে উল্লেখিত হয়েছে যে, এই আয়াত (আয়াতে তাতহীর) নাযিল অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন: &amp;quot;হে আল্লাহ! এরাই হচ্ছে আমার আহলে বাইত; এদের থেকে সকল প্রকারের অপবিত্রতা দূর করুন এবং এদেরকে পবিত্র করুন।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;আহমদ বিন হাম্বল, মুসনাদ আহমদ, বৈরুত, দারুস সাদির, বি-তা, খ: ১, পৃ: ৩৩১।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইবনে তায়মিয়া এই হাদিসের সনদে কোনো খুঁত খুঁজে না পেয়েও আহলে বাইত সম্পর্কে অবতীর্ণ হওয়া এই আয়াত সম্পর্কে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বলেন, না এই আয়াত আহলে বাইত সম্পর্কে নাযিল হয়েছে, আর না আহলে বাইত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স.) এর দোয়া আহলে বাইতের কোনো সদস্যের মর্যাদা বা ফজিলত প্রমাণ করে।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন তাইমিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ, মাটবাআতুল কুবরা আল-আমিরিয়্যাহ, চ: ১, ১৩২২ হি., খ: ৩, পৃ: ৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে তায়মিয়ার এই ধরনের বক্তব্য আহলে বাইতের প্রতি বিদ্বেষ ও শত্রুতার প্রমাণ। অথচ আহলে বাইতের মর্যাদা, কুরআন ও হাদিসের মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত। আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন ইসলামের মৌলিক শিক্ষার অংশ, যা ইবনে তায়মিয়ার মতো ব্যক্তিদের বক্তব্য দ্বারা উপেক্ষা করা যায় না।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ইমাম হুসাইন (আ.) সম্পর্কে বর্তমান কালের ওয়াহাবী মুফতি আব্দুল আজিজ আল শাইখের দৃষ্টিভঙ্গি ==&lt;br /&gt;
[[ইমাম হুসাইন (আ.)]] সম্পর্কে বর্তমান কালের ওয়াহাবী মুফতি আব্দুল আজিজ আল-শাইখের  দৃষ্টিভঙ্গি ইবনে তায়মিয়া ও অন্যান্য প্রাক্তন ওয়াহাবী নেতাদের চেয়েও বেশি চরমপন্থী ও নেতিবাচক। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওয়াহাবী মতাদর্শের সর্বোচ্চ মুফতি আল-শাইখ, ওয়াহাবীদের হৃদয়ের কথাটির উন্মোচন করেছেন এবং অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও খোলাখুলিভাবে [[ইয়াজিদ]]কে সঠিক ও ইমাম হুসাইন (আ.)-কে ভ্রান্ত বলে দাবি করেছেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সৌদি আরবের &amp;quot;আল-মাজদ&amp;quot; স্যাটেলাইট চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে এক মহিলার প্রশ্নের জবাবে ইয়াজিদ ও ইমাম হুসাইন (আ.)- এর ক্বিয়াম তথা বিদ্রোহ সম্পর্কে আল-শাইখ যা বলেছেন, তার সারসংক্ষেপ হচ্ছে- ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার বাইয়াত (আনুগত্যের শপথ) একটি শরীয়তসম্মত বাইয়াত যা তার পিতা মুয়াবিয়ার সময়ে জনগণের নিকট থেকে গ্রহণ করা হয়েছিল এবং মানুষ তাতে সম্মতী প্রদান করেছিল। কিন্তু যখন মুয়াবিয়া মৃত্যুবরণ করেন, তখন হুসাইন ইবনে আলী ও ইবনে যুবায়ের ইয়াজিদের নিকট বাইয়াত করতে অস্বীকার করেন। ফলে হুসাইন ও ইবনে যুবায়ের বাইয়াত না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল করেছেন। আর হুসাইন অন্যের উপদেশের প্রতি কর্ণপাত করেন নি এবং কল্যাণের বিপরীত কাজ করেছেন, আর আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছিলেন, তাই হয়েছে। তিনি আরও বলেন, &amp;quot;হুসাইন যে ভুল করুক না কেন, তা তার নিজের জন্যই করেছেন!!... যাই হোক, ইয়াজিদের বিরুদ্ধে হুসাইনের ক্বিয়াম ও বিদ্রোহ হারাম ছিল!!... এ কাজ না করাই ছিল তার জন্য উত্তম। মদীনায় থাকা এবং মানুষের সমষ্টিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলাই উত্তম ও বেশি উপযুক্ত ছিল। খিলাফতের সীমানা লঙ্ঘন করা জায়েজ ছিল না। তবে, এতদ্বসত্ত্বেও আমরা হুসাইনের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করি এবং তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি!!&amp;quot; [৯]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সহীহ ও মুতাওয়াতির হাদিস অনুযায়ী, ইমাম হুসাইন (আ.) ও তার ভাই ইমাম হাসান (আ.) যখন জান্নাতের যুবক দের সর্দার তখন তাদের সম্পর্কে ভুল বা গুনাহর কথা কল্পনা করাও অসম্ভব। তাহলে, কেন আল-শাইখ বা অন্য ব্যক্তিদেরকে তাঁর জন্য ক্ষমা চাইতে হবে!&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আশুরা দিবস সম্পর্কে ওয়াহাবীদের দৃষ্টিভঙ্গি ==&lt;br /&gt;
সাম্প্রতিক কালের ওয়াহাবীরা [[আশুরা]]র দিনকে আনন্দের দিন হিসেবে বিবেচনা করে। কুয়েতের ওয়াহাবীরা তাদের কিছু কিছু প্রকাশনায় হুসাইনের আশুরাকে আনন্দ ও উৎসবের দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও,আহলে সুন্নত কর্তৃক [[রাসূল (স.)]]-এর পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন সত্ত্বেও, ওয়াহাবীরা ইচ্ছাকৃতভাবে কুয়েতে [[তাসুয়া]] ও আশুরার রাতে তাদের বিবাহ ও উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।[১০]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
রাসূলুল্লাহ (স.)-এর আহলে বাইতের প্রতি, বিশেষ করে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর প্রতি তীব্র শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণকারী আল-শাইখ, তার এই শত্রুতা প্রকাশের জন্ তার পুত্র উমর ইবনে আব্দুল আজিজের বিয়ের অনুষ্ঠান আশুরার দিনে আয়োজন করেছিলেন। এই অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের অনেক মুফতি অংশগ্রহণ করেছিলেন। [১১]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== হযরত যায়নাব (সা. আ.)-এর মাজার যিয়ারতের প্রতি ওয়াহাবীদের বিদ্বেষ ==&lt;br /&gt;
সৌদি গোয়েন্দা সংস্থা’র অর্থায়নে পরিচালিত ওয়াহাবী সংবাদ নেটওয়ার্ক &amp;quot;সাফা&amp;quot;, যার প্রধান কার্যালয় কুয়েত, কায়রো ও রিয়াদে অবস্থিত, ফ্রি সিরিয়ান আর্মির সদস্যদেরকে শামে বনি [[উমাইয়া]]র বংশধর বলে হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের উদ্দেশ্যে বলেছে: &lt;br /&gt;
::&amp;quot;হে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের বংশধর! হে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার বংশধর! হে ফ্রি সিরিয়ান আর্মির সৈন্যরা! তোমাদের অবশ্যই যায়নাবের কবরকে (মাজার)[[ লক্ষ্যবস্তু]] করে তা ধ্বংস করতে হবে এবং একইভাবে অন্যান্য সব মাজারও ধ্বংস করতে হবে।&amp;quot; [১২]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সমসাময়িক ওয়াহাবীরা এই পথে এতটাই চরমপন্থার দিকে এগিয়েছে যে, তারা ইয়াজিদ ও [[ইবনে জিয়াদের]] নামে একটি সেনাদল গঠন করেছে এবং &amp;quot;ইয়াজিদ ও ইবনে জিয়াদ শহীদ হয়েছেন&amp;quot; এই স্লোগান ব্যবহার করে পাকিস্তানে মিছিল বের করছে।[১৩]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আহলে বাইতের শত্রুদের প্রতি ওয়াহাবীদের সমর্থন ==&lt;br /&gt;
ওয়াহাবীরা, রাসূলুল্লাহ’র (স.) আহলে বাইতের সাথে তাদের শত্রুতা প্রকাশ করতে গিয়ে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর হত্যাকারীদের প্রতি সমর্থনের উপর গুরুত্বারোপ করে তাদেরকে দৃঢ়চিত্তে  রক্ষা করছে।&lt;br /&gt;
* ইবনে তাইমিয়া তার গ্রন্থ &amp;quot;মিনহাজুস সুন্নাহ&amp;quot;-এর চতুর্থ খণ্ডে (৫৪৯-৫৭৫ পৃষ্ঠা) ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়াকে মুসলমানদের অন্যান্য খলিফাদের মাকামের সমপর্যায়ে স্থান দিয়েছেন এবং কারবালার মর্মান্তিক ঘটনায় ইয়াজিদকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, যে ঘটনায় রাসূলুল্লাহর (স.) প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হুসাইন ইবনে আলী (আ.), তাঁর সন্তানগণ ও সঙ্গী-সাথীরা শহীদ হন এবং রাসূলের (স.) পবিত্র আহলে বাইত বন্দী হন।&lt;br /&gt;
* তিনি বলেন: &amp;quot;ধরে নেওয়া যাক যে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া ফাসেক ও জালিম ছিলেন, তবে আল্লাহ তাকে তার কিছু ভালো কাজের জন্য ক্ষমা করবেন!&amp;quot; [১৪] এছাড়াও, তিনি ইমাম হুসাইন (আ.)-এর হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী উমর ইবনে সাদের পক্ষে সরাসরি সাফাই গেয়েছেন। তিনি বলেন: &amp;quot;সত্য যে, [[উমর ইবনে সাদ]] সেনাপতি ছিলেন এবং ইমাম হুসাইন (আ.)-কে হত্যা করেছিলেন, তবে তার পাপ ও অপরাধ ‘[[মুক্তার ইবনে আবি উবাইদা]]’র চেয়ে কম, বরং মুক্তারের পাপ ও অপরাধ উমর ইবনে সাদের চেয়েও বড়!&amp;quot; [১৫]&lt;br /&gt;
* ওয়াহাবীরা, আহলে বাইতের শত্রুদের প্রশংসায় বিশেষ করে আলী (আ.)-এর অন্যতম শত্রু মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান এবং তার পুত্র ইয়াজিদের প্রশংসায় &amp;quot;ফাযায়েলে মুয়াবিয়া ওয়া ফি ইয়াজিদ ওয়া আনাহু লা ইয়াসিব&amp;quot; নামে বই রচনা করেছেন। যারা মুয়াবিয়ার প্রশংসা করতে চায়, নাসাঈ তাদের জবাবে বলেন, রাসূল (স.)-এর পক্ষ থেকে মুয়াবিয়ার প্রতি বিখ্যাত অভিশাপ ব্যতীত তার সম্পর্কে কোনো ফজিলত আমার জানা নেই, যেখানে তিনি (স.) বলেছেন: «لا أشبع الله بطنه» (আল্লাহ তার পেট যেন কখনো পরিপূর্ণ না হয়)।[১৬]&lt;br /&gt;
* ওয়াহাবী বা সালাফি পণ্ডিতরা, যেসব রেওয়ায়েতসমূহে আহলে বাইতের বিরোধীদের যেমন মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান, উমর ইবনে সাদ, বনি উমাইয়া, [[বনি মারওয়ান]], আমর ইবনে আল-আস, ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া এবং অন্যান্যদের সম্পর্কে নিন্দা ও সমালোচনা করা হয়েছে, সেগুলিকে কোনো প্রমাণ বা যুক্তি ছাড়াই প্রত্যাখ্যান করে বলেন যে, এই ধরনের রেওয়ায়েতগুলোর সবই মিথ্যা ও বানোয়াট।[১৭]&lt;br /&gt;
* সমসাময়িক ওয়াহাবী মতবাদে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। তার গুরুত্ব এতটাই যে, সৌদি আরবের শিক্ষা মন্ত্রণালয় &amp;quot;হাকাইক হাক্বায়েক্ব আন আমির আল-মুমিনিন ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া&amp;quot; শিরোনামে একটি বই প্রকাশ করেছে এবং বইটিকে সে দেশের সরকারি স্কুলগুলিতে পাঠ্য পুস্তক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।[১৮]&lt;br /&gt;
* ইরাকের একটি মিডিয়া একটি চিত্র প্রকাশ করেছে যেখানে দেখা যায় যে, সৌদি আরবের ওয়াহাবী শাসকরা, মহানবী (স.) এবং তাঁর প্রিয় আহলে বাইত (আ.)-এর প্রতি তাদের গভীর বিদ্বেষের নিদর্শন স্বরূপ আল্লাহর শেষ রাসূল (সা.) এবং তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের শত্রুদের নাম স্কুল, রাস্তা এবং অন্যান্য স্থানের নামকরণ করেছে। যেমন: ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া স্কুল, ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া সড়ক, আবু লাহাব স্কুল (যে আবু লাহাবের বিরুদ্ধে আল্লাহ কুরআনে সম্পূর্ণ একটি সুরা অবতীর্ণ করেছেন) এবং আবরাহা আল-হাবশির নামে রাস্তা (যে ব্যক্তি আমলফীলে কাবা ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল এবং আল্লাহ তাকে ও তার সৈন্যদের ভয়াবহ শাস্তি দিয়েছিলেন)।[১৯]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== تআহলে বাইতের (আ.) কবর ধ্বংস ==&lt;br /&gt;
ওয়াহীরা বাকি কবরস্থানে আহলে বাইতের কবরসমূহ ধ্বংস করে, [[কারবালা]] ও [[নাজাফে]] সামরিক আক্রমণ চালিয়ে ইমাম হুসাইন ও ইমাম আলী (আ.) এর মাজার ধ্বংস করে এবং আহলে বাইত প্রেমিক মুসলমানদের উপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালানোর মাধ্যমে আহলে বাইতের (আ.) প্রতি তাদের শত্রুতা ও বিদ্বেষের বিষয়টি প্রমাণ করেছে। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আর তাদের এহেন কর্মকাণ্ড, রাসূলুল্লাহ (স.) এর পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি শত্রুতা এবং আহলে বাইতের শত্রুদের বিশেষ করে ইয়াজিদ ও তার পরিবারের প্রতি ভালোবাসার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা তাদের বিকৃত ও বিচ্যুত চিন্তাধারা থেকে উদ্ভূত। &lt;br /&gt;
সৌদ ইবনে আবদুল আজিজের নেতৃত্বে ১২১৬ থেকে ১২২৫ হিজরি অবধি কারবালা ও নাজাফের দিকে তাদের ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের কারণ হিসেবে আহলে বাইতের প্রতি ওয়াহাবীদের শত্রুতা ব্যতীত অন্য কী ব্যাখ্যা দিবে?&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১২৬২ হিজরীতে নাজদ ও আশেপাশের বেদুইন গোত্র, হেজাজ ও তিহামার অধিবাসীদের সমন্বয়ে গঠিত ওয়াহাবী বাহিনী, জিলকদ মাসে কারবালায় প্রবেশ করে। তারা শহরের রাস্তাঘাট, বাজার ও বাড়িতে ঢুকে অধিকাংশ লোককে হত্যা করে। অতঃপর তারা প্রচুর ধন-সম্পদ লুট করে শহর ছেড়ে চলে যায়। পরবর্তীতে তারা &amp;quot;আবিয়াদ&amp;quot; নামক এলাকায় জড়ো হয় এবং লুটকৃত সম্পদের এক-[[পঞ্চমাং]]শ (খুমস) সৌদ ইবনে আবদুল আজিজ নিজের জন্য রেখে বাকি অংশ সৈনিকদের মধ্যে, প্রতি পদাতিক  সৈনিককে এক ভাগ করে এবং প্রতিটি অশ্বারোহী সৈনিককে দুই ভাগ করে বণ্টন করে দেওয়া হয়। [২০]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch =ادیان و مذاهب&lt;br /&gt;
 | subbranch1 = اسلام&lt;br /&gt;
 | subbranch2 =وهابیت&lt;br /&gt;
 | subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه =شد&lt;br /&gt;
 | تیترها =شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت = الف&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:دشمنی وهابیت با اهل‌بیت]]&lt;br /&gt;
[[ar:عداء الوهابیة لأهل البیت]]&lt;br /&gt;
[[ms:Permusuhan Sekte Wahabi Terhadap Ahlul Bait as]]&lt;br /&gt;
[[en:The Hostility of Wahhabis Towards the Ahl al-Bayt (a)]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A4_(%E0%A6%86.)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%E0%A7%87_%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BE&amp;diff=1015</id>
		<title>আহলে বাইত (আ.)-এর সাথে ওয়াহাবীদের শত্রুতা</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A4_(%E0%A6%86.)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%E0%A7%87_%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BE&amp;diff=1015"/>
		<updated>2025-02-27T17:43:26Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: ابرابزار&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
ইবনে তাইমিয়া ও ওয়াহাবী মতবাদ কি সত্যি সত্যিই আহলে বাইত (আ.)-এর সাথে প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করে?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
[[রাসূলুল্লাহ (সা.)]]-এর আহলে বাইতের প্রতি [[ওয়াহাবী]] মতবাদের শত্রুতা কারও কাছে গোপন নয়। এই শত্রুতা একদিকে যেমন ওয়াহাবী সম্প্রদায়ের শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়া, তেমনিভাবে ওয়াহাবী সম্প্রদায়ের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে প্রকাশ পেয়েছে। আহলে বাইতের ফজিলতসমূহকে অস্বীকার করা, ইমাম আলী (আ.)-কে [[ফেরাউনে]]র সাথে তুলনা করা, ইমাম আলীর শত্রুদেরকে নির্দোষ এবং তাঁর অনুসারীদের তাকফির তথা কাফের সাব্যস্ত করা, [[ইমাম আলী (আ.)]]-এর শত্রুদের বিশেষত [[ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার]] প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করা এবং আহলে বাইতের (আ.) মাজার ধ্বংস করা প্রভৃতি বিষয়গুলো মহানবী’র আহলে বাইতের প্রতি এই সম্প্রদায়টির শত্রুতা পোষণের প্রমাণ বহন করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== মহানবী’র (স.) আহলে বাইতের (আ.) সাথে ইবনে তায়মিয়ার শত্রুতা ==&lt;br /&gt;
[[ইবনে তায়মিয়া]] আহলে বাইতের কোনো ফজিলতকেই স্বীকার করেন না; বরং তিনি আহলে বাইতের শ্রেষ্ঠত্বকে আরবের জাহেলিয়াত তথা অজ্ঞতা থেকে উৎসারিত বলে মনে করেন। ইবনে তায়মিয়া বলেন: [[রাসূলুল্লাহ (সা.)]]-এর আহলে বাইতকে অন্যদের চাইতে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম বলে বিশ্বাস করা জাহেলি যুগের চিন্তাধারার অংশ, যে যুগে গোত্রের নেতা ও প্রধানদের অন্যদের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হতো।&amp;quot; [১] ইবনে তায়মিয়ার এই বক্তব্যসমূহ ইসলাম ধর্মের শিক্ষার পরিপন্থী; কারণ যেরূপভাবে কুরআনে আয়াতে তাতহীরে তেমনিভাবে রাসূলুল্লাহ (স.)-এর বিভিন্ন হাদিসসমূহে বিশেষ করে [[হাদিসে সাকালাইন]] ও[[ হাদিসে সাফিনাহ]]’তে আহলে বাইত (আ.)-এর ফজিলতের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা  হয়েছে। আর কুরআনে আয়াতে কুরবা তথা মাওয়াদ্দাতের আয়াতে আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা মুসলমানদের উপর ওয়াজীব করা হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে তায়মিয়া [[ইমাম আলী (আ.)]]-কে রক্তপাত ও ক্ষমতা লোভের ক্ষেত্রে ফেরাউনের সাথে তুলনা করেন। অথচ শিয়া ও সুন্নি উভয় মাযহাবের সূত্রগুলোতে একটি বর্ণিত হয়েছে যে, [[আলী]], [[ফাতিমা]],[[হাসান]] ও হুসাইন (আ.)-কে মহানবী (স.) বলেছেন: অর্থাৎ {{arabic|انا حرب لمن حاربتم و سلم لمن سالمتم|translation=তোমরা যার সাথে যুদ্ধ করবে, আমিও তার সাথে যুদ্ধ করব; আর তোমরা যার সাথে সন্ধি ও আপোষ করবে, আমিও তার সাথে সন্ধি ও  আপোষ করবো।}} [২] জাসসাস এই হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেন, যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ লিপ্ত হবে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে বলে বিবেচিত হবে, এমনকি সে যদি মুশরিকও না হয়। [৩]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এই হাদিস এবং অন্যান্য অগণিত হাদিস ও ঐতিহাসিক প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ইবনে তায়মিয়া ও ওয়াহাবীদের  এরূপ বিশ্বাস ও অবস্থান এটি নিশ্চিত করে যে, ইবনে তায়মিয়া এবং তার অনুসারীদের শত্রুতা কেবল আহলে বাইতের প্রতিই নয়, বরং তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিদ্বেষ ও শত্রুতা থেকে উদ্ভূত।&lt;br /&gt;
আমিরুল মুমিনীন আলী (আ.) এবং তাঁর সঙ্গীদের সম্পর্কে ইবনে তায়মিয়া এমন কিছু কথা বলেছেন যা ইমাম আলী (আ.)-এর প্রতি তাঁর প্রকাশ্য শত্রুতার বিষয়টি প্রমাণ করে। তিনি বলেন: &amp;quot;খারেজি, উমাইয়া এবং মারওয়ানিদের ন্যায় যারা আলীকে গালি দিয়েছে, তাকে লানত করেছে এবং তাকে কাফির ও জালিম বলে ঘোষণা করেছে, তারা সবাই ইসলামের অনুসারী ছিল এবং ইসলামী আচার-আচরণ মেনে চলতো। কিন্তু আলীকে যারা নিষ্পাপ জ্ঞান করেন এবং যারা তাঁর অনুসারী, তারা সকলেই মুরতাদ ও কাফের।&amp;quot; [৪]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অথচ ইমাম আলী (আ.) হচ্ছেন পবিত্র আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও আহলে সুন্নতের প্রখ্যাত মুফাসসির ফাখরে রাযী বলেন: &amp;quot;যে ব্যক্তি তার ধর্মের ক্ষেত্রে আলী ইবনে আবি তালিবকে অনুসরণ করবে, নিশ্চয় সে হেদায়েতপ্রাপ্ত।&amp;quot; আর এর প্রমাণ হলো মহানবী (স.) এর উক্তি: {{arabic|اللهم ادر الحق مع علی حیث دار|translation|হে আল্লাহ, আলী যেখানেই থাকুক না কেন, সত্যকে তার সাথে রাখো।}} [৫] এছাড়াও আহলে সুন্নতের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, আলী সত্যের সাথে এবং সত্য আলীর সাথে রয়েছে, যেখানেই হোক না কেন। [৬]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে তায়মিয়া আহলে বাইতের ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত সকল হাদিসকে হয় সনদগতভাবে বিতর্কিত বলে উল্লেখ করেন অথবা হাদীসগুলোর দলিলকে প্রত্যাখ্যাত হিসেবে গণ্য করেন। উদাহরণস্বরূপ, আহলে সুন্নতের গ্রহণযোগ্য গ্রন্থসমূহে যেমন সহীহ মুসলিমে আয়াতে তাতহীরের শানে নুযুলে ‍উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা’র বর্ণনা এবং অপর একটি বর্ণনায় উম্মে সালমা থেকে উল্লেখিত হয়েছে যে, এই আয়াত (আয়াতে তাতহীর) নাযিল অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন: &amp;quot;হে আল্লাহ! এরাই হচ্ছে আমার আহলে বাইত; এদের থেকে সকল প্রকারের অপবিত্রতা দূর করুন এবং এদেরকে পবিত্র করুন।&amp;quot; [৭] ইবনে তায়মিয়া এই হাদিসের সনদে কোনো খুঁত খুঁজে না পেয়েও আহলে বাইত সম্পর্কে অবতীর্ণ হওয়া এই আয়াত সম্পর্কে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বলেন, না এই আয়াত আহলে বাইত সম্পর্কে নাযিল হয়েছে, আর না আহলে বাইত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স.) এর দোয়া আহলে বাইতের কোনো সদস্যের মর্যাদা বা ফজিলত প্রমাণ করে। [৮]&lt;br /&gt;
ইবনে তায়মিয়ার এই ধরনের বক্তব্য আহলে বাইতের প্রতি বিদ্বেষ ও শত্রুতার প্রমাণ। অথচ আহলে বাইতের মর্যাদা, কুরআন ও হাদিসের মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত। আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন ইসলামের মৌলিক শিক্ষার অংশ, যা ইবনে তায়মিয়ার মতো ব্যক্তিদের বক্তব্য দ্বারা উপেক্ষা করা যায় না।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ইমাম হুসাইন (আ.) সম্পর্কে বর্তমান কালের ওয়াহাবী মুফতি আব্দুল আজিজ আল শাইখের দৃষ্টিভঙ্গি ==&lt;br /&gt;
[[ইমাম হুসাইন (আ.)]] সম্পর্কে বর্তমান কালের ওয়াহাবী মুফতি আব্দুল আজিজ আল-শাইখের  দৃষ্টিভঙ্গি ইবনে তায়মিয়া ও অন্যান্য প্রাক্তন ওয়াহাবী নেতাদের চেয়েও বেশি চরমপন্থী ও নেতিবাচক। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওয়াহাবী মতাদর্শের সর্বোচ্চ মুফতি আল-শাইখ, ওয়াহাবীদের হৃদয়ের কথাটির উন্মোচন করেছেন এবং অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও খোলাখুলিভাবে [[ইয়াজিদ]]কে সঠিক ও ইমাম হুসাইন (আ.)-কে ভ্রান্ত বলে দাবি করেছেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সৌদি আরবের &amp;quot;আল-মাজদ&amp;quot; স্যাটেলাইট চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে এক মহিলার প্রশ্নের জবাবে ইয়াজিদ ও ইমাম হুসাইন (আ.)- এর ক্বিয়াম তথা বিদ্রোহ সম্পর্কে আল-শাইখ যা বলেছেন, তার সারসংক্ষেপ হচ্ছে- ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার বাইয়াত (আনুগত্যের শপথ) একটি শরীয়তসম্মত বাইয়াত যা তার পিতা মুয়াবিয়ার সময়ে জনগণের নিকট থেকে গ্রহণ করা হয়েছিল এবং মানুষ তাতে সম্মতী প্রদান করেছিল। কিন্তু যখন মুয়াবিয়া মৃত্যুবরণ করেন, তখন হুসাইন ইবনে আলী ও ইবনে যুবায়ের ইয়াজিদের নিকট বাইয়াত করতে অস্বীকার করেন। ফলে হুসাইন ও ইবনে যুবায়ের বাইয়াত না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল করেছেন। আর হুসাইন অন্যের উপদেশের প্রতি কর্ণপাত করেন নি এবং কল্যাণের বিপরীত কাজ করেছেন, আর আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছিলেন, তাই হয়েছে। তিনি আরও বলেন, &amp;quot;হুসাইন যে ভুল করুক না কেন, তা তার নিজের জন্যই করেছেন!!... যাই হোক, ইয়াজিদের বিরুদ্ধে হুসাইনের ক্বিয়াম ও বিদ্রোহ হারাম ছিল!!... এ কাজ না করাই ছিল তার জন্য উত্তম। মদীনায় থাকা এবং মানুষের সমষ্টিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলাই উত্তম ও বেশি উপযুক্ত ছিল। খিলাফতের সীমানা লঙ্ঘন করা জায়েজ ছিল না। তবে, এতদ্বসত্ত্বেও আমরা হুসাইনের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করি এবং তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি!!&amp;quot; [৯]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সহীহ ও মুতাওয়াতির হাদিস অনুযায়ী, ইমাম হুসাইন (আ.) ও তার ভাই ইমাম হাসান (আ.) যখন জান্নাতের যুবক দের সর্দার তখন তাদের সম্পর্কে ভুল বা গুনাহর কথা কল্পনা করাও অসম্ভব। তাহলে, কেন আল-শাইখ বা অন্য ব্যক্তিদেরকে তাঁর জন্য ক্ষমা চাইতে হবে!&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আশুরা দিবস সম্পর্কে ওয়াহাবীদের দৃষ্টিভঙ্গি ==&lt;br /&gt;
সাম্প্রতিক কালের ওয়াহাবীরা [[আশুরা]]র দিনকে আনন্দের দিন হিসেবে বিবেচনা করে। কুয়েতের ওয়াহাবীরা তাদের কিছু কিছু প্রকাশনায় হুসাইনের আশুরাকে আনন্দ ও উৎসবের দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও,আহলে সুন্নত কর্তৃক [[রাসূল (স.)]]-এর পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন সত্ত্বেও, ওয়াহাবীরা ইচ্ছাকৃতভাবে কুয়েতে [[তাসুয়া]] ও আশুরার রাতে তাদের বিবাহ ও উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।[১০]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
রাসূলুল্লাহ (স.)-এর আহলে বাইতের প্রতি, বিশেষ করে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর প্রতি তীব্র শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণকারী আল-শাইখ, তার এই শত্রুতা প্রকাশের জন্ তার পুত্র উমর ইবনে আব্দুল আজিজের বিয়ের অনুষ্ঠান আশুরার দিনে আয়োজন করেছিলেন। এই অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের অনেক মুফতি অংশগ্রহণ করেছিলেন। [১১]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== হযরত যায়নাব (সা. আ.)-এর মাজার যিয়ারতের প্রতি ওয়াহাবীদের বিদ্বেষ ==&lt;br /&gt;
সৌদি গোয়েন্দা সংস্থা’র অর্থায়নে পরিচালিত ওয়াহাবী সংবাদ নেটওয়ার্ক &amp;quot;সাফা&amp;quot;, যার প্রধান কার্যালয় কুয়েত, কায়রো ও রিয়াদে অবস্থিত, ফ্রি সিরিয়ান আর্মির সদস্যদেরকে শামে বনি [[উমাইয়া]]র বংশধর বলে হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের উদ্দেশ্যে বলেছে: &lt;br /&gt;
::&amp;quot;হে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের বংশধর! হে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার বংশধর! হে ফ্রি সিরিয়ান আর্মির সৈন্যরা! তোমাদের অবশ্যই যায়নাবের কবরকে (মাজার)[[ লক্ষ্যবস্তু]] করে তা ধ্বংস করতে হবে এবং একইভাবে অন্যান্য সব মাজারও ধ্বংস করতে হবে।&amp;quot; [১২]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সমসাময়িক ওয়াহাবীরা এই পথে এতটাই চরমপন্থার দিকে এগিয়েছে যে, তারা ইয়াজিদ ও [[ইবনে জিয়াদের]] নামে একটি সেনাদল গঠন করেছে এবং &amp;quot;ইয়াজিদ ও ইবনে জিয়াদ শহীদ হয়েছেন&amp;quot; এই স্লোগান ব্যবহার করে পাকিস্তানে মিছিল বের করছে।[১৩]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আহলে বাইতের শত্রুদের প্রতি ওয়াহাবীদের সমর্থন ==&lt;br /&gt;
ওয়াহাবীরা, রাসূলুল্লাহ’র (স.) আহলে বাইতের সাথে তাদের শত্রুতা প্রকাশ করতে গিয়ে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর হত্যাকারীদের প্রতি সমর্থনের উপর গুরুত্বারোপ করে তাদেরকে দৃঢ়চিত্তে  রক্ষা করছে।&lt;br /&gt;
* ইবনে তাইমিয়া তার গ্রন্থ &amp;quot;মিনহাজুস সুন্নাহ&amp;quot;-এর চতুর্থ খণ্ডে (৫৪৯-৫৭৫ পৃষ্ঠা) ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়াকে মুসলমানদের অন্যান্য খলিফাদের মাকামের সমপর্যায়ে স্থান দিয়েছেন এবং কারবালার মর্মান্তিক ঘটনায় ইয়াজিদকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, যে ঘটনায় রাসূলুল্লাহর (স.) প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হুসাইন ইবনে আলী (আ.), তাঁর সন্তানগণ ও সঙ্গী-সাথীরা শহীদ হন এবং রাসূলের (স.) পবিত্র আহলে বাইত বন্দী হন।&lt;br /&gt;
* তিনি বলেন: &amp;quot;ধরে নেওয়া যাক যে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া ফাসেক ও জালিম ছিলেন, তবে আল্লাহ তাকে তার কিছু ভালো কাজের জন্য ক্ষমা করবেন!&amp;quot; [১৪] এছাড়াও, তিনি ইমাম হুসাইন (আ.)-এর হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী উমর ইবনে সাদের পক্ষে সরাসরি সাফাই গেয়েছেন। তিনি বলেন: &amp;quot;সত্য যে, [[উমর ইবনে সাদ]] সেনাপতি ছিলেন এবং ইমাম হুসাইন (আ.)-কে হত্যা করেছিলেন, তবে তার পাপ ও অপরাধ ‘[[মুক্তার ইবনে আবি উবাইদা]]’র চেয়ে কম, বরং মুক্তারের পাপ ও অপরাধ উমর ইবনে সাদের চেয়েও বড়!&amp;quot; [১৫]&lt;br /&gt;
* ওয়াহাবীরা, আহলে বাইতের শত্রুদের প্রশংসায় বিশেষ করে আলী (আ.)-এর অন্যতম শত্রু মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান এবং তার পুত্র ইয়াজিদের প্রশংসায় &amp;quot;ফাযায়েলে মুয়াবিয়া ওয়া ফি ইয়াজিদ ওয়া আনাহু লা ইয়াসিব&amp;quot; নামে বই রচনা করেছেন। যারা মুয়াবিয়ার প্রশংসা করতে চায়, নাসাঈ তাদের জবাবে বলেন, রাসূল (স.)-এর পক্ষ থেকে মুয়াবিয়ার প্রতি বিখ্যাত অভিশাপ ব্যতীত তার সম্পর্কে কোনো ফজিলত আমার জানা নেই, যেখানে তিনি (স.) বলেছেন: «لا أشبع الله بطنه» (আল্লাহ তার পেট যেন কখনো পরিপূর্ণ না হয়)।[১৬]&lt;br /&gt;
* ওয়াহাবী বা সালাফি পণ্ডিতরা, যেসব রেওয়ায়েতসমূহে আহলে বাইতের বিরোধীদের যেমন মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান, উমর ইবনে সাদ, বনি উমাইয়া, [[বনি মারওয়ান]], আমর ইবনে আল-আস, ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া এবং অন্যান্যদের সম্পর্কে নিন্দা ও সমালোচনা করা হয়েছে, সেগুলিকে কোনো প্রমাণ বা যুক্তি ছাড়াই প্রত্যাখ্যান করে বলেন যে, এই ধরনের রেওয়ায়েতগুলোর সবই মিথ্যা ও বানোয়াট।[১৭]&lt;br /&gt;
* সমসাময়িক ওয়াহাবী মতবাদে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। তার গুরুত্ব এতটাই যে, সৌদি আরবের শিক্ষা মন্ত্রণালয় &amp;quot;হাকাইক হাক্বায়েক্ব আন আমির আল-মুমিনিন ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া&amp;quot; শিরোনামে একটি বই প্রকাশ করেছে এবং বইটিকে সে দেশের সরকারি স্কুলগুলিতে পাঠ্য পুস্তক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।[১৮]&lt;br /&gt;
* ইরাকের একটি মিডিয়া একটি চিত্র প্রকাশ করেছে যেখানে দেখা যায় যে, সৌদি আরবের ওয়াহাবী শাসকরা, মহানবী (স.) এবং তাঁর প্রিয় আহলে বাইত (আ.)-এর প্রতি তাদের গভীর বিদ্বেষের নিদর্শন স্বরূপ আল্লাহর শেষ রাসূল (সা.) এবং তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের শত্রুদের নাম স্কুল, রাস্তা এবং অন্যান্য স্থানের নামকরণ করেছে। যেমন: ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া স্কুল, ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া সড়ক, আবু লাহাব স্কুল (যে আবু লাহাবের বিরুদ্ধে আল্লাহ কুরআনে সম্পূর্ণ একটি সুরা অবতীর্ণ করেছেন) এবং আবরাহা আল-হাবশির নামে রাস্তা (যে ব্যক্তি আমলফীলে কাবা ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল এবং আল্লাহ তাকে ও তার সৈন্যদের ভয়াবহ শাস্তি দিয়েছিলেন)।[১৯]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== تআহলে বাইতের (আ.) কবর ধ্বংস ==&lt;br /&gt;
ওয়াহীরা বাকি কবরস্থানে আহলে বাইতের কবরসমূহ ধ্বংস করে, [[কারবালা]] ও [[নাজাফে]] সামরিক আক্রমণ চালিয়ে ইমাম হুসাইন ও ইমাম আলী (আ.) এর মাজার ধ্বংস করে এবং আহলে বাইত প্রেমিক মুসলমানদের উপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালানোর মাধ্যমে আহলে বাইতের (আ.) প্রতি তাদের শত্রুতা ও বিদ্বেষের বিষয়টি প্রমাণ করেছে। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আর তাদের এহেন কর্মকাণ্ড, রাসূলুল্লাহ (স.) এর পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি শত্রুতা এবং আহলে বাইতের শত্রুদের বিশেষ করে ইয়াজিদ ও তার পরিবারের প্রতি ভালোবাসার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা তাদের বিকৃত ও বিচ্যুত চিন্তাধারা থেকে উদ্ভূত। &lt;br /&gt;
সৌদ ইবনে আবদুল আজিজের নেতৃত্বে ১২১৬ থেকে ১২২৫ হিজরি অবধি কারবালা ও নাজাফের দিকে তাদের ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের কারণ হিসেবে আহলে বাইতের প্রতি ওয়াহাবীদের শত্রুতা ব্যতীত অন্য কী ব্যাখ্যা দিবে?&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১২৬২ হিজরীতে নাজদ ও আশেপাশের বেদুইন গোত্র, হেজাজ ও তিহামার অধিবাসীদের সমন্বয়ে গঠিত ওয়াহাবী বাহিনী, জিলকদ মাসে কারবালায় প্রবেশ করে। তারা শহরের রাস্তাঘাট, বাজার ও বাড়িতে ঢুকে অধিকাংশ লোককে হত্যা করে। অতঃপর তারা প্রচুর ধন-সম্পদ লুট করে শহর ছেড়ে চলে যায়। পরবর্তীতে তারা &amp;quot;আবিয়াদ&amp;quot; নামক এলাকায় জড়ো হয় এবং লুটকৃত সম্পদের এক-[[পঞ্চমাং]]শ (খুমস) সৌদ ইবনে আবদুল আজিজ নিজের জন্য রেখে বাকি অংশ সৈনিকদের মধ্যে, প্রতি পদাতিক  সৈনিককে এক ভাগ করে এবং প্রতিটি অশ্বারোহী সৈনিককে দুই ভাগ করে বণ্টন করে দেওয়া হয়। [২০]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch =ادیان و مذاهب&lt;br /&gt;
 | subbranch1 = اسلام&lt;br /&gt;
 | subbranch2 =وهابیت&lt;br /&gt;
 | subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه =شد&lt;br /&gt;
 | تیترها =شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت = الف&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:دشمنی وهابیت با اهل‌بیت]]&lt;br /&gt;
[[ar:عداء الوهابیة لأهل البیت]]&lt;br /&gt;
[[ms:Permusuhan Sekte Wahabi Terhadap Ahlul Bait as]]&lt;br /&gt;
[[en:The Hostility of Wahhabis Towards the Ahl al-Bayt (a)]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%B9%E0%A6%AF%E0%A6%B0%E0%A6%A4_%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%AE_(%E0%A6%86%E0%A6%83)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%A6%E0%A7%8B%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B9&amp;diff=1014</id>
		<title>হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর দোয়াসমূহ</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%B9%E0%A6%AF%E0%A6%B0%E0%A6%A4_%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%AE_(%E0%A6%86%E0%A6%83)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%A6%E0%A7%8B%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B9&amp;diff=1014"/>
		<updated>2025-02-27T17:00:15Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: ابرابزار&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
কুরআনে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর দোয়াসমূহ কি কি?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
কুরআনে বর্ণিত [[হযরত ইব্রাহিম (আ.)]] এর দোয়াসমূহের তালিকায় ইহলৌকিক ও  পরলৌকিক কল্যাণ প্রার্থনা এবং আল্লাহর সমীপে তার সাথে মোনাজাত স্থান পেয়েছে। এই দোয়াগুলোকে আল্লাহর নিকট দোয়া চাওয়ার ক্ষেত্রে মু’মিনগণের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ও  অনুপম আদর্শ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। [[কুরআনে]] হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর দোয়াসমূহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:&lt;br /&gt;
* নিজের জন্য, পিতার জন্য এবং সকল মুমিনগণের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা।&lt;br /&gt;
* সালেহীন (নেককার বা পূণ্যবান), নামায আদায়কারী ও বেহেশবাসীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আবেদন।&lt;br /&gt;
* হিকমত তথা প্রজ্ঞা, একজন নেক সন্তান এবং সুনামের আবেদন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== দোয়ার বিষয়বস্তু ==&lt;br /&gt;
কুরআনে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর উল্লেখিত দোয়াগুলোর মধ্যে রয়েছে:&lt;br /&gt;
* পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা আল-মুমতাহানা, আয়াত ৪, সূরা আল-শু&#039;আরা, আয়াত ৮৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;, &lt;br /&gt;
* নিজের জন্য ক্ষমা এবং কাফের বা অবিশ্বাসীদের জন্য পরীক্ষার মাধ্যম না হওয়ার আবেদন।&amp;lt;ref&amp;gt; সূরা আল-মুমতাহানা, আয়াত ৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* নেক সন্তানের আবেদন।&amp;lt;ref&amp;gt; সূরা আস-সাফাত, আয়াত ১০০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* জ্ঞান ও প্রজ্ঞা, নেককার বান্দাদের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত, সুনাম, বেহেশতবাসী হওয়া এবং পরকালে অপমানিত না হওয়ার আবেদন।&amp;lt;ref&amp;gt; সূরা আল-শু&#039;আরা, আয়াত ৮৩ থেকে ৮৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* বংশধরদের জন্য রিযিক ও রুজি (জীবিকার) [[প্রার্থনা]]।&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা ইব্রাহিম, আয়াত ৩৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* নামায প্রতিষ্ঠা করা, দোয়া কবুল হওয়া এবং নিজের, পিতা-মাতা ও সকল মুমিনগণের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা।&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা ইব্রাহিম, আয়াত ৪০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা ইব্রাহিম, আয়াত ৪১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* [[কাবা]]’র নিরাপত্তা বিধান এবং এর মুমিন অধিবাসীদের জন্য রিযিক তথা জীবিকা প্রদানের আবেদন।&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১২৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* কাবার নির্মাণ কবুল করার আবেদন।&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১২৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* মুসলিম হিসেবে নিজেকে ও তার বংশধরদের মধ্যে মুসলিমদের স্থান দেওয়া, তওবা কবুল হওয়া এবং ইবাদত ও ধর্মীয় রীতিনীতি শেখার আবেদন।&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১২৮।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== প্রার্থনার তালিকা ==&lt;br /&gt;
* {{quran|... لِأَبِیهِ لَأَسْتَغْفِرَنَّ لَکَ … رَبَّنَا عَلَیْکَ تَوَکَّلْنَا وَإِلَیْکَ أَنَبْنَا وَإِلَیْکَ الْمَصِیرُ|translation=।’ তবে ব্যতিক্রম তাঁর পিতার প্রতি ইবরাহীমের উক্তি: ‘আমি অবশ্যই তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব; আর তোমার ব্যাপারে আল্লাহর কাছে আমি কোনো অধিকার রাখি না|sura=আল-মুমতাহিনাহ|verse=৪}}&lt;br /&gt;
* {{quran|رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِلَّذِینَ کَفَرُوا وَاغْفِرْ لَنَا رَبَّنَا ۖ إِنَّکَ أَنْتَ الْعَزِیزُ الْحَکِیمُ|translation=হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে কাফিরদের ফিতনার পাত্র করবেন না। হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে ক্ষমা করুন; নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।|sura=আল-মুমতাহিনাহ|verse=৫}}&lt;br /&gt;
* {{quran|رَبِّ هَبْ لِی حُکْمًا وَأَلْحِقْنِی بِالصَّالِحِینَ|translation=হে আমার রব! আমাকে প্রজ্ঞা দান করুন এবং সৎকর্মশীলদের সাথে মিলিয়ে দিন।|sura=আশ-শুআরা|verse=৮৩}}&lt;br /&gt;
* {{quran|وَاجْعَلْ لِی لِسَانَ صِدْقٍ فِی الْآخِرِینَ|translation=আর আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে যশস্বী করুন|sura=আশ-শুআরা|verse=৮৪}}&lt;br /&gt;
* {{quran|وَاجْعَلْنِی مِنْ وَرَثَةِ جَنَّةِ النَّعِیمِ|translation=এবং আমাকে সুখময় জান্নাতের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন,|sura=আশ-শুআরা|verse=৮৫}}&lt;br /&gt;
* {{quran|وَاغْفِرْ لِأَبِی إِنَّهُ کَانَ مِنَ الضَّالِّینَ|translation=আর আমার পিতাকে ক্ষমা করুন, তিনি তো পথভ্রষ্টদের শামিল ছিলেন|sura=আশ-শুআরা|verse=৮৬}}&lt;br /&gt;
* {{quran|وَلَا تُخْزِنِی یَوْمَ یُبْعَثُونَ|translation=এবং আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না পুনরুত্থানের দিনে|sura=আশ-শুআরা|verse=৮৭}}&lt;br /&gt;
* {{quran|رَبِّ هَبْ لِی مِنَ الصَّالِحِینَ|translation=হে আমার রব! আমাকে এক সৎকর্মপরায়ণ সন্তান দান করুন।|sura=আস-সাফফাত|verse=১০০}}&lt;br /&gt;
* {{quran|رَبَّنَا إِنِّی أَسْکَنْتُ مِنْ ذُرِّیَّتِی بِوَادٍ غَیْرِ ذِی زَرْعٍ عِنْدَ بَیْتِکَ الْمُحَرَّمِ رَبَّنَا لِیُقِیمُوا الصَّلَاةَ فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِنَ النَّاسِ تَهْوِی إِلَیْهِمْ وَارْزُقْهُمْ مِنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ یَشْکُرُونَ|translation=হে আমাদের রব! আমি আমার বংশধরদের কিছু সংখ্যককে বসবাস করালাম [১] অনুর্বর উপত্যকায় [২] আপনার পবিত্র ঘরের কাছে [৩], হে আমাদের রব! এ জন্য যে, তারা যেন সালাত কায়েম করে [৪]। অতএব আপনি কিছু লোকের অন্তর তাদের প্রতি অনুরাগী করে দিন [৫] এবং ফল-ফলাদি দিয়ে তাদের রিযকের ব্যবস্থা করুন [৬], যাতে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে [৭]।|sura=ইবরাহীম|verse=৩৭}}&lt;br /&gt;
* {{quran|رَبَّنَا إِنَّکَ تَعْلَمُ مَا نُخْفِی وَمَا نُعْلِنُ ۗ وَمَا یَخْفَیٰ عَلَی اللَّهِ مِنْ شَیْءٍ فِی الْأَرْضِ وَلَا فِی السَّمَاءِ|translation=হে আমাদের রব! আপনি তো জানেন যা আমরা গোপন করি ও যা আমরা প্রকাশ করি; আর কোনো কিছুই আল্লাহ্‌র কাছে গোপন নেই, না যমীনে না আসমানে [১]।|sura=ইবরাহীম|verse=৩৮}}&lt;br /&gt;
* {{quran|الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِی وَهَبَ لِی عَلَی الْکِبَرِ إِسْمَاعِیلَ وَإِسْحَاقَ ۚ إِنَّ رَبِّی لَسَمِیعُ الدُّعَاءِ|translation=সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌রই, যিনি আমাকে আমার বার্ধক্যে ইসমা’ঈল ও ইসহাককে দান করেছেন। নিশ্চয় আমার রব দো’আ শ্রবণকারী [১]।|sura=ইবরাহীম|verse=৩৯}}&lt;br /&gt;
* {{quran|رَبِّ اجْعَلْنِی مُقِیمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّیَّتِی ۚ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ|translation=হে আমার রব! আমাকে সালাত কয়েমকারী করুন এবং আমার বংশধরদের মধ্য হতেও। হে আমাদের রব! আর আমার দো’আ কবূল করুন [১]।|sura=ইবরাহীম|verse=৪০}}&lt;br /&gt;
* {{quran|رَبَّنَا اغْفِرْ لِی وَلِوَالِدَیَّ وَلِلْمُؤْمِنِینَ یَوْمَ یَقُومُ الْحِسَابُ|translation=হে আমার রব! যেদিন হিসেব অনুষ্ঠিত হবে সেদিন আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং মুমিনদেরকে ক্ষমা করুন [১]।|sura=ইবরাহীম|verse=৪১}}&lt;br /&gt;
* {{quran|وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِیمُ رَبِّ اجْعَلْ هٰذَا بَلَدًا آمِنًا وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنَ الثَّمَرَاتِ مَنْ آمَنَ مِنْهُمْ بِاللَّهِ وَالْیَوْمِ الْآخِرِ|translation=আর স্মরণ করুন, যখন ইবরাহীম বলেছিলেন, &#039;হে আমার রব ! এটাকে নিরাপদ শহর করুন এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ্‌ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান আনে [১] তাদেরকে ফলমূল হতে জীবিকা প্রদান করুন’|sura=আল-বাকারা|verse=১২৬}}&lt;br /&gt;
* {{quran|وَإِذْ یَرْفَعُ إِبْرَاهِیمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَیْتِ وَإِسْمَاعِیلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ۖ إِنَّکَ أَنْتَ السَّمِیعُ الْعَلِیمُ|translation=আর স্মরণ করুন, যখন ইবরাহীম ও ইসমাঈল কাবাঘরের ভিত্তি স্থাপন করছিলেন, (তারা বলছিলেন) ‘হে আমাদের রব [১]! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন [২]। নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ [৩]।|sura=আল-বাকারা|verse=১২৭}}&lt;br /&gt;
* {{quran|رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَیْنِ لَکَ وَمِنْ ذُرِّیَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَکَ وَأَرِنَا مَنَاسِکَنَا وَتُبْ عَلَیْنَا ۖ إِنَّکَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِیمُ|translation=হে আমাদের রব ! আর আমাদের উভয়কে আপনার একান্ত অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধর হতে আপনার এক অনুগত জাতি উত্থিত করুন। আর আমাদেরকে ‘‘ইবাদাতের নিয়ম-পদ্ধতি দেখিয়ে দিন [১] এবং আমদের তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনিই বেশী তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।|sura=আল-বাকারা|verse=১২৮}}&lt;br /&gt;
* {{quran|رَبَّنَا وَابْعَثْ فِیهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ یَتْلُو عَلَیْهِمْ آیَاتِکَ وَیُعَلِّمُهُمُ الْکِتَابَ وَالْحِکْمَةَ وَیُزَکِّیهِمْ ۚ إِنَّکَ أَنْتَ الْعَزِیزُ الْحَکِیمُ|translation=হে আমাদের রব! আর আপনি তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে এক রাসূল পাঠান [১], যিনি আপনার আয়াতসমূহ তাদের কাছে তিলাওয়াত করবেন [২] ; তাদেরকে কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দেবেন [৩] এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন [৪] আপনি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়’।|sura=আল-বাকারা|verse=১২৯}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch = علوم و معارف قرآن&lt;br /&gt;
| subbranch1 = معارف قرآنی&lt;br /&gt;
| subbranch2 = دعا&lt;br /&gt;
| subbranch3 =&lt;br /&gt;
 | شاخه فرعی۴ =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه =شد&lt;br /&gt;
 | تیترها =شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | بازبینی نویسنده =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =شد&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت =ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:دعاهای حضرت ابراهیم(ع)]]&lt;br /&gt;
[[ur:قرآن میں حضرت ابراهیم علیه السلام کی دعائیں]]&lt;br /&gt;
[[es:Las súplicas del Profeta Ibrāhīm (P) en el Corán]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%AB%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87_%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8_(%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B9)&amp;diff=1013</id>
		<title>ফুরুয়ে দ্বীন (ধর্মের শাখাসমূহ)</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%AB%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87_%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8_(%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B9)&amp;diff=1013"/>
		<updated>2025-02-27T16:32:13Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
ফুরুয়ে দ্বীন (ধর্মের শাখাসমূহ) কি কি?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
ফুরুয়ে দ্বীন তথা ধর্মের শাখাগুলোর মধ্যে রয়েছে [[নামায]], [[রোযা]], [[হজ্জ]], [[জিহাদ]], [[খুমস]], [[যাকাত]], [[সৎকর্মের প্রতি আদেশ]] (আমর বিল মাʿরুফ), [[অসৎকর্ম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ]] (নাহি আনিল মুনকার), আল্লাহর বন্ধুদের প্রতি ভালোবাসা (তাওয়াল্লা) এবং আল্লাহর শত্রুদের প্রতি ঘৃণা পোষণ (তাবাররা)।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইসলামী সংস্কৃতিতে ইবাদত সংক্রান্ত আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশকে ধর্মের শাখাসমূহ (ফুরুয়ে দ্বীন) হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ফুরুয়ে দ্বীন ইসলাম ধর্মের আমলগত বা ব্যবহারিক দিকগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। [[উসুলে দ্বীনের]] (ধর্মের মূলনীতি) ন্যায় ফুরুয়ে দ্বীনের উপর অটল থাকাও ওয়াজীব তথা বাধ্যতামূলক।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== অবস্থান ==&lt;br /&gt;
ফুরুয়ে দ্বীন বলতে সেই দায়িত্ব ও নিয়ম-নীতিকে বোঝায়, যেগুলো শরীয়তের বিধানদাতা তথা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন, মুকাল্লিফদের (শরীয়তী দৃষ্টিকোন থেকে কোন কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ) জন্য আচরণ ও কর্মের ক্ষেত্রে প্রণয়ন করেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;ফরহাং ফিকহে ফারসি, জীরে নজরে মাহমুদ হাশেমি শাহরুদি, কোম, মো&#039;আসসাসায়ে দায়েরাতুল মাআরেফিল ফিকহিল ইসলামী, ১৩৮৭ শামসি, খ:৫, পৃ:৬৭৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; ফুরুয়ে দ্বীনের উপর অটল থাকা ধর্মের মূলনীতির (উসুলে দ্বীনের) মতোই ওয়াজীব তথা অপরিহার্য। ফুরুয়ে দ্বীন এমন কিছু ব্যবহারিক দায়িত্ব ও কর্তব্যের সমষ্টি, যেগুলো মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের সুখ-শান্তি নিশ্চিত করার জন্য [[মহানবী (স)]] ওহির মাধ্যমে নিয়ে এসেছেন এবং প্রচার ও প্রসার ঘটিয়েছেন। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ধর্মের শাখাসমূহের (ফুরুয়ে দ্বীন) কোন কোনটি আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ককে নিয়ম-কানুন ও বিধিবিধান আকারে বর্ণনা করে এবং কর্তব্যগুলোকে তার সামনে তুলে ধরে; যেমন নামায, রোযা, এবং হজ্জের ন্যায় কর্তব্যসমূহসহ আরও কিছু কিছু কর্তব্য যা মানুষের একে অপরের প্রতি রয়েছে তা বিবেচনা করে মানব সম্পর্ককে নিয়ন্ত্রণ করে; যেমন জিহাদ, খুমস এবং বাণিজ্যিক লেনদেন।&amp;lt;ref&amp;gt;খাতিবি কোশকাক, মোহাম্মাদ ও হামকারান, ফরহাং শিয়া, কোম, জামজামে হেদায়াত, ১৩৮৬ শামসি, পৃ:৩৫৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইসলামী সংস্কৃতিতে ইবাদত সংক্রান্ত আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশকে ধর্মের শাখাসমূহ (ফুরুয়ে দ্বীন) হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ফুরুয়ে দ্বীন ইসলাম ধর্মের আমলগত বা ব্যবহারিক দিকগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। ইমামিয়া শিয়া মতবাদে ফুরুয়ে দ্বীনের তালিকায় নামায, রোযা, হজ্জ, জিহাদ, খুমস, যাকাত, সৎকর্মের প্রতি আদেশ (আমর বিল মাʿরুফ), অসৎকর্ম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ (নাহি আনিল মুনকার), আল্লাহর বন্ধুদের প্রতি ভালোবাসা (তাওয়াল্লা) এবং আল্লাহর শত্রুদের প্রতি ঘৃণা পোষণ (তাবাররা) অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। তবে [[সুন্নি]] মাযহাবের নিকট এই শাখাগুলোর তেমন একটা সম্প্রসারণ ঘটেনি এবং এগুলোর উপর গুরুত্বারোপ করা হয় নি।&amp;lt;ref&amp;gt;জামিয়ি আজ নাভেসান্দেগান, &amp;quot;ইসলাম&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, খ:৮, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ফুরুয়ে দ্বীনের উদাহরণসমূহ ==&lt;br /&gt;
=== নামায ===&lt;br /&gt;
ইসলামী ধর্মে, ইবাদতগত দিক থেকে প্রত্যেক মুকাল্লিফের জন্য প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে নামায আদায় করা, যা দিনে পাঁচবার পালন করা হয়। এটি মুসলমান ব্যক্তিকে তার আকীদা ও ঈমানের বিষয়টি করিয়ে দেয়। [[নামায]] একজন মুসলিমের জন্য আধ্যাত্মিক শক্তি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, যা তাকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের উৎস মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে।&amp;lt;ref&amp;gt;জামিয়ি আজ নাভেসান্দেগান, &amp;quot;ইসলাম&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, খ:৮, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== রোযা ===&lt;br /&gt;
[[রোযা]] হলো একটি ইসলামিক ইবাদত। রোযার ক্ষেত্রে  আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নৈকট্য হাসিলের উদ্দেশ্যে কিছু কিছু কাজ থেকে বিরত থাকা হয়, যেমন: ফজরের আযান হতে মাগরিবের আযান পর্যন্ত খাবার গ্রহণ ও পানাহার থেকে বিরত থাকা হয়। রোযা ফার্সি শব্দ, আরবিতে এটিকে ‘সাওম’ এবং ’সিয়াম’ শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা হয়, যার অর্থ হচ্ছে, খাওয়া, পান করা, কথা বলা এবং সহবাস করা থেকে বিরত থাকা।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং পরিশোধনের লক্ষ্যে রোযা রাখার বিষয়টি পূর্ববর্তী অনেক ধর্মে যেমন: মায়া, হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও মণীশীয়  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, এবং এটি অনেক প্রাচীন ধর্ম ও রীতিতে, যেমন মায়া, হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন এবং মণীশীয় ধর্মে প্রচলিত রয়েছে। রোযা ইসলাম ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচিত। হাদীসগুলোতে এটিকে ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি হিসেবে পরিচয় করানো হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
হাদিসগুলোতে রোযার (বিশেষ করে রমজান মাসের রোযার) বিভিন্ন বস্তুগত এবং আধ্যাত্মিক ফজিলত ও উপকারিতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে, উদাহরণস্বরূপ আমল গ্রহণযোগ্য হওয়া, দোয়া কবুল হওয়া, বেহেশতে প্রবেশ করা, আখেরাতে নেয়ামত ও পরকালের আযাব (আগুনে নিক্ষেপ থেকে মুক্তি) হতে পরিত্রাণ, যা রোযাদারদের উপর আল্লাহর বিশেষ দৃষ্টির বিষয়টি তুলে ধরে। এসব বর্ণনায় বলা হয়েছে, রোযাদারের ঘুম হচ্ছে ইবাদত, তার প্রতিটি শ্বাস প্রশ্বাস হচ্ছে আল্লাহর তসবীহ, এবং রোযাকে শরীরের যাকাত হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;হোসেইনি আহক, মারইয়াম, &amp;quot;রোজেহ&amp;quot;, দানেশনামায়ে জাহানে ইসলাম, তেহরান, বুনিয়াদে দায়েরাতুল মাআরেফে ইসলামী, ১৩৯৪ শামসি, খ:২০, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== হজ্জ ===&lt;br /&gt;
ইসলামী লেখা এবং উৎসসমূহে বিশেষ করে ফিকহী সূত্রগুলোতে, সুনির্দিষ্ট কিছু ইবাদত ও আমল সম্পাদনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে [[কাবা’র]] (বাইতুল্লাহিল হারাম) উদ্দেশ্যে যাত্রা করাকে [[হজ্জ]] বলে অভিহিত করা হয়েছে। কিছু কিছু ফকীহ’র মতে, হজের ফিকহী শব্দটি ফিকহী পরিভাষায়, হজ্জ বলতে কিছু আমলকে নির্দেশ করে, যেগুলো মক্কায় নির্দিষ্ট স্থানে সম্পাদিত হয়। হজ্জের রীতিনীতি ও আমলসমূহের সমষ্টিকে হজ্জের আনুষ্ঠানিকতা (মানাসেকে হাজ্জ) বলা হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[কুরআন]] শরীফে হজ্জ সম্পর্কিত বিভিন্ন আয়াত রয়েছে। হজ্জকে শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য ওয়াজীব, ধর্মের অন্যতম বৃহৎ নিদর্শন এবং সম্মান ও শ্রদ্ধার বলে গণ্য করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;হোসেইনি আহক, মারইয়াম, &amp;quot;হজ&amp;quot;, দানেশনামায়ে জাহানে ইসলাম, তেহরান, বুনিয়াদে দায়েরাতুল মাআরেফে ইসলামী, ১৩৯৩ শামসি, খ:১২, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== যাকাত (যাকাত) ===&lt;br /&gt;
পবিত্র কুরআনে ইসলাম ধর্মের অন্যতম প্রথম একটি নির্দেশ হিসেবে কয়েকবার নামায প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশের পাশাপাশি [[যাকাত]] প্রদানের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। যাকাতের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে ‘যা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়’ বা ‘প্রবৃদ্ধি লাভ’ যা কুরআনেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এটি একটি আধ্যাত্মিক পরিচ্ছন্নতা বা পরিশুদ্ধতা।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এ কারণে কুরআনের আয়াতগুলোর প্রথম ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যে যাকাতকে অন্য সব ইবাদতের মতো একটি ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা সঠিক হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে নিয়্যত ও আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের শর্তের উপর।&lt;br /&gt;
 &lt;br /&gt;
যাইহোক, ব্যক্তিগত ইবাদতের দিকটি ছাড়াও যাকাতের একটি সামাজিক দিকও রয়েছে। যাকাতের সামাজিক দিকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাকাত সামাজিকভাব সম্পদ বণ্টনের একটি মাধ্যম হিসেবে এবং মুসলিম জনসাধারণের সমষ্টিগত চাহিদাগুলো পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।&amp;lt;ref&amp;gt;জামিয়ি আজ নাভেসান্দেগান, &amp;quot;ইসলাম&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, খ:৮, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== খুমস ===&lt;br /&gt;
পবিত্র কুরআনে খুমসের উল্লেখ করা হয়েছে যে, গনিমতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আহলে সুন্নতের ফিকহে, এই এক-পঞ্চমাংশ করকে শুধুমাত্র যুদ্ধের গনিমত এবং কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। তবে, বারো ইমামিয়া শিয়া ফিকহে উল্টো, বিভিন্ন হাদীসের মাধ্যমে কুরআনের আয়াতটিকে সম্প্রসারিত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়কে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। উক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে  &amp;quot;উপার্জনের মুনাফা&amp;quot; ধারণাটি যা খুমসকে সাধারণ কর হিসেবে সর্বক্ষেত্রে ও সর্ব সময়ের জন্য প্রযোজ্য উল্লেখ করে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ক্ষেত্রে অন্তর্ভূক্ত করেছে; এই অর্থে যে, প্রত্যেক মুকাল্লিফ অবশ্যই তার এক বছরের উপার্জনকে সম্পদ হিসাব করবে এবং সারা বছর খরচ করার পর যা অবশিষ্ট থাকবে তার এক-পঞ্চমাংশকে [[খুমস]] হিসেবে প্রদান করবে।&amp;lt;ref&amp;gt;জামিয়ি আজ নাভেসান্দেগান, &amp;quot;ইসলাম&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, খ:৮, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== জিহাদ ===&lt;br /&gt;
[[জিহাদ]] হচ্ছে আল্লাহর রাস্তায় বৈধ যুদ্ধ, যা ইসলামী ফিকহের একটি অধ্যায়। ধর্মীয় সূত্রসমূহে এই শব্দটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক অর্থটি হচ্ছে এর সাধারণ অর্থটিই। এটা হচ্ছে এক ধরনের বিশেষ প্রচেষ্টা অর্থাৎ ইসলাম প্রচার বা এর রক্ষার লক্ষ্যে নিজের জীবন, সম্পদ ও অন্যান্য যা কিছু আছে তা দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রাম করাই হচ্ছে জিহাদ।&amp;lt;ref&amp;gt;সররামি, সাইফুল্লাহ ও সাঈদ এদালাতনেজাদ, &amp;quot;জিহাদ&amp;quot;, দানেশনামায়ে জাহানে ইসলাম, তেহরান, বুনিয়াদে দায়েরাতুল মাআরেফে ইসলামী, ১৩৯৩ শামসি, খ:১১, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার ===&lt;br /&gt;
[[আমর বিল মারুফ]] (ভাল কাজ করার নির্দেশ দেওয়া) এবং নাহি আনিল মুনকার (খারাপ কাজ থেকে নিষেধ করা) দুটি পরিভাষা যা আল্লাহর কুরআনের প্রাচীন তাফসীরগুলোতে হযরত [[মুহাম্মাদ (স.)]] ও  ইসলাম ধর্মের অনুসরণ এবং আল্লাহকে অস্বীকার ও রাসূলুল্লাহ (স.) ও তাঁর ধর্মকে অস্বীকার করতে নিষেধ করা হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে। বলা যেতে পারে যে, আমর বিল মারুফ হচ্ছে ধর্মের শিক্ষা ও ধর্মের রীতি অনুযায়ী যা গ্রহণযোগ্য ও পছন্দনীয় তা প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সক্রিয় পদক্ষেপ। আর, নাহি আনিল মুনকার হচ্ছে যা  কিছু অগ্রহণযোগ্য ও অপছন্দনীয় তা ধ্বংস করার একটি প্রতিক্রিয়া।&amp;lt;ref&amp;gt; জাবেরি-জাদে, আব্দুল আমির, &amp;quot;আমরে বে মারুফ ওয়া নহিয়ে আজ মোনকার&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, খ:১০, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তাওয়াল্লা ও তাবাররা ==&lt;br /&gt;
দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা ’[[তাওয়াল্লা]]’ অর্থ আল্লাহর বন্ধুদের এবং ন্যায়বিচারের সমর্থকদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা এবং ’[[তাবাররা]]’ অর্থ অত্যাচারী ও আল্লাহর শত্রুদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করা। এই নীতিগুলি ন্যায়ের পক্ষ অবলম্বনকারীদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে সহায়ক এবং সমাজে অন্যায়ের নির্মূল করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।&amp;lt;ref&amp;gt;&amp;quot;[https://makarem.ir/main.aspx?typeinfo=42&amp;amp;lid=0&amp;amp;catid=29262&amp;amp;mid=318146 মাফহুমে তাওয়াল্লি ওয়া তাবার্রি]&amp;quot;, পায়গাহে এত্তেলাআরাসানিয়ে দফতারে আয়াতুল্লাহ মাকারেম শিরাজি, এন্তেশার: ২১ আবান ১৪০২ শামসি।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
তাবাররা মানে হলো আল্লাহর বন্ধুদের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তাঁর শত্রুদের সাথে ঘৃণামূলক সম্পর্ক তৈরি করা।&amp;lt;ref&amp;gt;&amp;quot;তাওয়াল্লি ওয়া তাবার্রি&amp;quot;, পায়গাহে জামেআয়ে উস্তাদে শাহিদ মরতেজা মুতাহহারি, এন্তেশার: ২১ আবান ১৪০২ শামসি।&amp;lt;/ref&amp;gt; কুরআনের অনেক আয়াতে তাওয়াল্লা ও তাবাররা উল্লেখিত হয়েছে, যেগুলো হতে পরবর্তীতে ফিকহ এবং কালামশাস্ত্রে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই ধরণের আয়াতগুলো, শয়তান, কাফের, অ-মুমিন, যারা আল্লাহর ক্রোধের শিকার এবং যারা ধর্মের বিষয়ে মুমিনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের প্রতি তাওল্লা করতে নিষেধ এবং আল্লাহ, রাসূল (স.) ও মুমিনগণের প্রতি তাওল্লা করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;জাবেরি, আমির, &amp;quot;তাওয়াল্লা ওয়া তাবার&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, তেহরান, দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, খ:১৬, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== সম্পর্কিত নিবন্ধ ==&lt;br /&gt;
* [[ইসলাম ধর্মের মূলনীতি (উসুলে দ্বীন)]]&lt;br /&gt;
* [[উসুলে দ্বিন এবং ফুরূয়ে দ্বিনের মধ্যে পার্থক্য]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch =کلام&lt;br /&gt;
|subbranch1 =&lt;br /&gt;
|subbranch2 =&lt;br /&gt;
|subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه =شد&lt;br /&gt;
 | تیترها =شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | بازبینی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت =ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:فروع دین]]&lt;br /&gt;
[[ar:فروع الدین]]&lt;br /&gt;
[[ms:Furu&#039;uddin]]&lt;br /&gt;
[[ru:Фуру’ ад-Дин (Ветви религии)]]&lt;br /&gt;
[[es:Los Ramas de la Religión (Furūʿ al-Dīn)]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%87_%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE_%E0%A6%B6%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%A6&amp;diff=1012</id>
		<title>কুরআনে শিয়া শব্দ</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%87_%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE_%E0%A6%B6%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%A6&amp;diff=1012"/>
		<updated>2025-02-27T11:14:49Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{question}}&lt;br /&gt;
কুরআন শরীফে শিয়া কি নেতিবাচক অর্থ বহন করে? কুরআনে শিয়া’র অর্থগুলো উল্লেখ করুন।&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
কুরআনে শিয়া শব্দটি দল, শ্রেণী এবং এছাড়াও অনুসারী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। [[কুরআনে]] এই শব্দটি কখনও ইতিবাচক অর্থে যেরূপভাবে [[হযরত ইব্রাহিম (আ.)]]-কে [[হযরত নূহ (আ.)]]-এর শিয়া ও অনুসারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং কখনও নেতিবাচক যেমন যেসব ব্যক্তিরা তাদের দ্বীনকে খণ্ড খণ্ড করে দলে দলে বিভক্ত হয়েছে, অর্থে এসেছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কিছু আয়াতে শুধুমাত্র কিছু কিছু দলগুলোর স্মরণ করানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে এবং কোন ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোন উদ্দেশ্যে নেই। উদাহরণস্বরূপ পূর্ববর্তী সম্প্রদায়গুলোর জন্য উম্মতসমূহ নামে (&#039;&#039;شِیَعِ&#039;&#039; শব্দটি শিয়া শব্দের বহুবচন যার অর্থ দলসমূহ ও উম্মতসমূহ) স্মরণ করা হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
==আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে শিয়া==&lt;br /&gt;
শিয়ার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে অংশ বিশেষ, দল ও শ্রেণী, সম্প্রদায়, অনুসারী ও সামনের চিহ্ন ধরে অনুসরণ।&amp;lt;ref&amp;gt;ফারাহিদী, খলিল বিন আহমাদ, আল-আইন, গবেষণা: মেহেদী মাখজুমি - ইব্রাহিম সামারাই, কওম, দার আল-হিজরা ফাউন্ডেশন, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪০৯ হিজরি, খণ্ড ২, পৃ. ১৯০১&amp;lt;/ref&amp;gt;&amp;lt;ref&amp;gt;জোহরি, ইসমাইল বিন হাম্মাদ, আল-সাহ, গবেষণা: আহমেদ আবদ আল-গফুর আল-আত্তার, দার আল-আলম লামায়িন, ১৪০৭ হি/১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ, ৩, পৃ.&amp;lt;/ref&amp;gt; কোন সম্প্রদায়ের একটি বিষয় বা একটি সত্যতার প্রতি ঐক্যমত থাকলে তাদেরকে শিয়া বলা হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে মানজুর, মুহাম্মাদ ইবনে মাকরম, লাসান আল-আরব, কওম, আদাব আল-হাওজা পাবলিশিং হাউস, ১৪০৫ হি, খণ্ড ৪, পৃ.&amp;lt;/ref&amp;gt; যদি [[আহলে বাইতের (আ.)]] অনুসারীদেরকে শিয়া বলা হয় তবে তা এই কারণে যে, এরা হচ্ছে সেই দল যারা আহলে বাইতের (আ.) মতাদর্শকে অনুসরণ করেন।&lt;br /&gt;
সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে শিয়া শব্দটি ইসলামী ফিরকাগুলোর মাঝে যে দলটি আহলে বাইতের মাসূমগণের ইমামতে বিশ্বাসী তাদেরকে নির্দেশ করে।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে আথির জাজরি, মুবারক ইবনে মুহাম্মদ, আল-ইয়ানা ফি গারিব আল-হাদিস এবং আল-আথর, গবেষণা: তাহির আহমেদ আল-জাওয়ি, মাহমুদ মুহাম্মদ আল-তানাহি, কওম, ইসমাইলিয়ান ফাউন্ডেশন ফর প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউটিং, 4র্থ সংস্করণ, ১৩৬৪, খণ্ড .২, পৃ ৫১৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; বর্তমানে মুসলমানদের ঐ অংশটিকে শিয়া বলা হয় যারা মহানবী (স.)-এর পরপরই আলী (আ.)-এর খিলাফত ও ইমামতে বিশ্বাসী এবং এই আকিদা পোষণ করেন যে রাসূলুল্লাহর (স.) জানেশীন তথা উত্তরসূরী সরাসরি মহানবীর (স.) (শরীয়তি নাছ) মাধ্যমে নির্ধারিত হন।&amp;lt;ref&amp;gt;শেখ মফিদ, মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ, প্রারম্ভিক প্রবন্ধ, পৃ. ৩৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&amp;lt;ref&amp;gt;শাহরাশতানী, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল করিম, মিল্লাম ওয়া আল-নাহল, খন্ড 1, পৃ.&amp;lt;/ref&amp;gt; [[আলী (আ.)]]-এর অনুসারীদেরকে শিয়া অভিহিত করণ সর্বপ্রথম [[মহানবী (স.)]]-এর পক্ষ থেকে সংঘটিত হয়েছে। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বিশিষ্ট সুন্নি পণ্ডিত সুয়ুতি [[জাবির ইবনে আব্দুল্লাহি আনসারি]] ও [[ইবনে আব্বাস]] এবং আলী ইবনে আবি তালিব হতে রেওয়ায়েত করেছেন যে মহানবী (স.) &lt;br /&gt;
{{inline quran|إِنَّ الَّذينَ آمَنُوا وَ عَمِلُوا الصَّالِحاتِ أُولئِكَ هُمْ خَيْرُ الْبَرِيَّةِ|translation=    |sura=সূরা বাইয়্যেনা |verse=৭}} এই আয়াতের তাফসীরে আলীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন: তুমি ও তোমার শিয়ারা ক্বিয়ামতের দিন পরিত্রাণপ্রাপ্ত হবে।&amp;lt;ref&amp;gt;সিয়ুতি, আবদ আল-রহমান বিন আবি বকর, আল-দুর আল-মুনথর ফি আল-তাফসির মাথুর, কোম, মারাশি নাজাফি পাবলিক লাইব্রেরি, প্রথম সংস্করণ, ১৪০৪ হি, খণ্ড ৬, পৃ. ৩৭৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; আহলে সুন্নতের গ্রন্থসমূহে উল্লেখিত হয়েছে: মহানবীর (স.) কাছে অবস্থান করছিলাম, তখন আলী আসলো, রাসূলুল্লাহ (স.) বললেন: কসম ঐ আল্লাহর যার হাতে আমার জীবন, সে এবং তার শিয়ারা ক্বিয়ামতের দিন মুক্তিপ্রাপ্ত হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই আয়াতটি অবতীর্ণ করেন: {{inline quran|إِنَّ الَّذينَ آمَنُوا وَ عَمِلُوا الصَّالِحاتِ أُولئِكَ هُمْ خَيْرُ الْبَرِيَّةِ|translation=    |sura=সূরা বাইয়্যেনা |verse=৭}} মহানবীর (স.) সাহাবাগণ যখনই  আলী (আ.)-কে দেখতেন, বলতেন: جاء خير البرية ; আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি এসেছে।&amp;lt;ref&amp;gt;সিয়ুতি, আবদ আল-রহমান বিন আবি বকর, আল-দুর আল-মান্থুর ফি আল-তাফসির ইন মাথুর, কওম, মারাশি নাজাফি পাবলিক লাইব্রেরি, প্রথম সংস্করণ, ১৪০৪ হি, খণ্ড ৬, পৃ. ৩৭৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
==কুরআনে শিয়া==&lt;br /&gt;
=== দল ও শ্রেণী ===&lt;br /&gt;
কুরআনে শিয়ার অন্যতম একটি অর্থ হচ্ছে দল ও শ্রেণী, এই অর্থে শিয়া ৯ বার ইতিবাচক এবং ৯ বার নেতিবাচক অর্থ বহন করে। যেমন: &lt;br /&gt;
* {{inline quran|قُلْ هُوَ الْقادِرُ عَلی أَنْ یَبْعَثَ عَلَیْکُمْ عَذاباً مِنْ فَوْقِکُمْ أَوْ مِنْ تَحْتِ أَرْجُلِکُمْ أَوْ یَلْبِسَکُمْ شِیَعاً|translation=বলুন: তিনি তোমাদের উপর থেকে অথবা পদতল থেকে আযাব পাঠাতে (সক্ষম)  অথবা তোমাদেরকে দলে দলে বিভক্ত করতে সক্ষম|sura=সূরা আনআম|verse=৬৫}}&lt;br /&gt;
* {{inline quran|وَ لَقَدْ أَرْسَلْنا مِنْ قَبْلِکَ فی شِیَعِ الْأَوَّلینَ|translation=আমি আপনার পূর্বে অতীত সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে রাসূল প্রেরণ করেছি।|sura=সূরা হিজর |verse=১০}}&lt;br /&gt;
* {{inline quran|ثُمَّ لَنَنْزِعَنَّ مِنْ کُلِّ شیعَه أَیُّهُمْ أَشَدُّ عَلَی الرَّحْمنِ عِتِیًّا|translation=অতঃপর প্রত্যেক দল হতে দয়াময়ের প্রতি সবচেয়ে অবাধ্যকে অবশ্যই টেনে বের করব।|sura=সূরা মরিয়ম|verse=৬৯}}&lt;br /&gt;
* {{inline quran|إِنَّ فِرْعَوْنَ عَلا فِی الْأَرْضِ وَ جَعَلَ أَهْلَها شِیَعاً|translation=বস্তুতঃ ফেরাউন যমীনে উদ্ধত হয়ে গিয়েছিল আর সেখানকার অধিবাসীদেরকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করে|sura=সূরা কাছাছ|verse=৪}}&lt;br /&gt;
* {{inline quran|مِنَ الَّذینَ فَرَّقُوا دینَهُمْ وَ کانُوا شِیَعاً کُلُّ حِزْبٍ بِما لَدَیْهِمْ فَرِحُونَ|translation=যারা নিজেদের দ্বীনকে বিভক্ত করে ফেলেছে এবং বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে গেছে! এবং (আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে) প্রত্যেক দল নিজেদের কাছে যা আছে তাই নিয়ে উল্লসিত।|sura=সূরা রুম|verse=৩২}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== অনুসারী ===&lt;br /&gt;
কুরআনে শিয়া শব্দটির দ্বিতীয় ব্যবহার অনুসারী অর্থে, অনুসরণকারী তথা যে ব্যক্তি একটি বিশেষ মতাদর্শের অনুসরণ করে। সুতরাং যদি পূর্ণাঙ্গ ও উত্তম মানুষের অনুসরণ করা হয় তবে শিয়া ইতিবাচক অর্থ লাভ করে এবং যদি অত্যাচারীর অনুসরণ করা হয় তবে নেতিবাচক অর্থ লাভ করবে। আর কিছু আয়াত এই দলটিকে পরিচয় করিয়েছে যা নিম্নরূপ:&lt;br /&gt;
* {{inline quran|وَ إِنَّ مِنْ شیعَتِهِ لَإِبْراهیمَ|translation=এবং তার অনুসারী হতে ছিল ইব্রাহিম|sura=সূরা সাফ্ফাত|verse=৮৩}} এই আয়াত অনুসারে হযরত ইব্রাহিম (আ.) হচ্ছেন হযরত নূহ (আ.)-এর একজন অনুসারী।&lt;br /&gt;
* {{inline quran|وَ دَخَلَ الْمَدینَه عَلی حینِ غَفْلَه مِنْ أَهْلِها فَوَجَدَ فیها رَجُلَیْنِ یَقْتَتِلانِ هذا مِنْ شیعَتِهِ وَ هذا مِنْ عَدُوِّهِ فَاسْتَغاثَهُ الَّذی مِنْ شیعَتِهِ عَلَی الَّذی مِنْ عَدُوِّهِ فَوَکَزَهُ مُوسی فَقَضی عَلَیْهِ قالَ هذا مِنْ عَمَلِ الشَّیْطانِ إِنَّهُ عَدُوٌّ مُضِلٌّ مُبینٌ|translation=সে শহরে প্রবেশ করল যখন সেখানকার লোকেরা অসতর্ক অবস্থায় ছিল, সে হঠাৎ দু’জন পুরুষকে দেখতে পেল যারা সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল। একজন তার দলের, অপরজন তার শত্রু দলের। তখন তার দলের লোকটি তার শত্রুদলের লোকটির বিরুদ্ধে তার কাছে সাহায্যের আবেদন জানালো। তখন মূসা তার বুকে ঘুসি মারল এবং সে মৃত্যুবরণ করল। মূসা বলল: এটা শয়তানের কাজ। সে নিশ্চয় প্রকাশ্য শত্রু, গুমরাহকারী।|sura=সূরা কাছাছ|verse=১৫}} এই আয়াতে হযরত মূসার (আ.) ও ফেরাউন উভয়ের অনুসারীদেরকে শিয়া বলা হয়েছে।&lt;br /&gt;
* {{inline quran|وَ حیلَ بَیْنَهُمْ وَ بَیْنَ ما یَشْتَهُونَ کَما فُعِلَ بِأَشْیاعِهِمْ مِنْ قَبْلُ إِنَّهُمْ کانُوا فی شَکٍّ مُریبٍ|translation=(শেষ পর্যন্ত) তাদের এবং তাদের কামনা-বাসনার মাঝে রেখে দেওয়া হয়েছে এক প্রাচীর, তাদের মতের ও পথের (অনুসারীদের) লোকদের ক্ষেত্রে পূর্বেও এমনটিই করা হয়েছিল, কারণ তারা ছিল সংশয়পূর্ণ সন্দেহে পতিত।|sura=সূরা সাবা|verse=৫৪}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== বিক্ষিপ্ততা ও চিন্তাধারার মধ্যে মতপার্থক্য ===&lt;br /&gt;
শিয়া কখনও কখনও চিন্তাধারাসমূহের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হওয়া এবং বিক্ষিপ্ত হওয়া অর্থে, যা  মাযহাব সৃষ্টির কারণ, ব্যবহৃত হয়:&lt;br /&gt;
* {{inline quran|إِنَّ الَّذینَ فَرَّقُوا دینَهُمْ وَ کانُوا شِیَعاً لَسْتَ مِنْهُمْ فی شَیْءٍ |translation=যারা নিজেদের দ্বীনকে খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত করে নিয়েছে এবং দলে দলে (বিভিন্ন মাযহাবে) ভাগ হয়ে গেছে  তাদের কোন কাজের সাথে তোমার কোন সম্পর্ক নেই।|sura=সূরা আনআম|verse=১৫৯}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{footnotes}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch = علوم و معارف قرآن&lt;br /&gt;
| subbranch1 = مفردات قرآن&lt;br /&gt;
| subbranch2 =&lt;br /&gt;
| subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه = شد&lt;br /&gt;
 | تیترها = شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش = شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی = شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر = شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | بازبینی نویسنده =&lt;br /&gt;
 | بازبینی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت = ب&lt;br /&gt;
 | کیفیت = ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[ur:لفظ شیعه قرآن میں]]&lt;br /&gt;
[[fa: کلمه شیعه در قرآن]]&lt;br /&gt;
[[en: The Term Shi‘a in the Quran]]&lt;br /&gt;
[[ms: Kata Syiah Dalam Al-Quran]]&lt;br /&gt;
[[ar: کلمة شیعة فی القرآن الکریم]]&lt;br /&gt;
[[ru:Слово шиа в Коране]]&lt;br /&gt;
[[es:La palabra Chiíta en el Corán]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B7&amp;diff=1011</id>
		<title>বিদ্বেষ</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B7&amp;diff=1011"/>
		<updated>2025-02-27T10:31:23Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */ ابرابزار&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{question}}&lt;br /&gt;
বিদ্বেষ কি? বিদ্বেষের পরিণতিসমূহ ও উপাদানসমূহ কি কি? এ থেকে মুক্তির উপায় কি?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;বিদ্বেষ&#039;&#039;&#039; এক ধরনের হীন নৈতিকতা এবং আত্মিক একটি অবস্থা। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি তার অন্তরে অন্যের প্রতি শত্রুতা লুকিয়ে রাখে এবং উপযুক্ত সময়ে তা প্রকাশ করে। রাগের আলামতসমূহের মধ্যে বিদ্বেষকে বিবেচনা করা হয়। বিদ্বেষ প্রতিকারের উপায়সমূহ হচ্ছে বিদ্বেষের পরিণতির দিকে লক্ষ্য করা, ক্ষমা করার মানসিকতা শক্তিশালী করা এবং বিদ্বেষের শিকার হওয়া ব্যক্তির সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করা।&lt;br /&gt;
বিদ্বেষের উপাদানসমূহের মধ্যে রয়েছে নিজের মধ্যে ঘাটতি বা কমতি’র অনুভূতি যার কারণে ব্যক্তি অন্যদের সফলতাসমূহ দেখে তাদের প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ হয়ে ওঠে।[[ জিদাল-এ লাফযি]] (মৌখিক ঝগড়া-বিবাদ), [[ভর্ৎসনা]], [[গীবত]], [[ঠাট্টা-বিদ্রুপ]], [[অভিশাপ]] ও [[অশ্লীল]] গালিগালাজ হচ্ছে অন্য উপাদানসমূহ, যা প্রতিপক্ষের প্রতি ব্যক্তির অন্তরে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
==পরিভাষা পরিচিতি এবং অবস্থান==&lt;br /&gt;
বিদ্বেষ হচ্ছে একটি আত্মিক অবস্থা; যে অবস্থায় ব্যক্তি মনে মনে অন্যের প্রতি শত্রুতা পোষণ করে এবং একটি উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় থাকে সেটি প্রকাশ করা জন্য।&amp;lt;ref&amp;gt;নারাগী, আহমেদ, মেরাজ আল-সাদাহ, কাশফ আল-গীতাহ প্রকাশক, প্রথম সংস্করণ, ৮২, পৃ. ২০০।&amp;lt;/ref&amp;gt; বিদ্বেষ কেবলমাত্র একটি মানসিক অবস্থা এবং যদি বিদ্বেষের প্রভাব বিন্যাস করলে তাকে দুশমনী বা শত্রুতা বলে অভিহিত করা হয়। বিদ্বেষকে রাগের অন্যতম আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হয়; কেননা, যখন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির উপর রাগান্বিত হয় এবং রাগকে প্রকাশ করতে সক্ষম না হয়, তখন রাগ তার অন্তরে জমা হতে থাকে। আর এর ফলে বিদ্বেষের সৃষ্টি হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;নারাগী, আহমেদ, মেরাজ আল-সাদাহ, কাশফ আল-গীতাহ প্রকাশক, প্রথম সংস্করণ, ৮২, পৃ. ২০০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
[[রেওয়ায়েত]] অনুসারে, বিদ্বেষপরায়ণ ব্যক্তি প্রকৃত ঈমান থেকে বঞ্চিত।&amp;lt;ref&amp;gt;মোহাম্মদী রায় শাহরি, মিজান আল-হিকমা, হামিদরেজা মাশায়িখি দ্বারা অনুবাদ, দার আল-হাদিস পাবলিশিং হাউস, 1ম সংস্করণ, ১৩৭৭, খণ্ড ৩, পৃ. ১২২১, অধ্যায় হক।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
==উপাদানসমূহ==&lt;br /&gt;
বিদ্বেষের জন্য বিভিন্ন উপাদানসমূহের কথা বলা হয়েছে:&lt;br /&gt;
* [[জিদাল-এ লাফযি]] (মৌখিক ঝগড়া-বিবাদ): রেওয়ায়েতে, যে জ্ঞানগত আলোচনাসমূহ ঝগড়া-বিবাদে রুপান্তরিত হয়, এমনভাবে যে দুই পক্ষের কেউই কারও কথা গ্রহণ করে না, তা অব্যাহত রাখতে নিষেধ করা হয়েছে; কেননা এরূপ আলোচনা অব্যাহত রাখলে বিদ্বেষ ও দুশমনীর সৃষ্টি হয়।&amp;lt;ref&amp;gt; আমেলি জুবাই, জয়ন আল-দিন বিন আলী (শহীদ দ্বিতীয় নামে পরিচিত)। আল-মুফিদ এবং আল-মুস্তাফিদের সাহিত্যে আল-মুরিদের সতর্কতা। বাব আল-মারা&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
*[[মিরা]] (নিন্দনীয় তর্ক): মিরা’র অর্থ অন্যের কথার দোষ ধরা, বন্ধুত্বকে নষ্ট করে এবং বিদ্বেষ সৃষ্টি করে।&amp;lt;ref&amp;gt;তেহরানী, মোজতাবি, ইলাহ এলাহী, কালচারাল ইনস্টিটিউট অফ কনটেম্পরারি নলেজ অ্যান্ড থট দ্বারা প্রকাশিত, প্রথম সংস্করণ, ২০০৮, খণ্ড ৪, পৃ. ১৭৩-১৭৪4।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
*অত্যধিক প্রত্যাশা ও তিরস্কার: রেওয়ায়েতের ভিত্তিতে, মানুষ যদি অন্যের নিকট হতে তার কর্ম সক্ষমতার অতিরিক্ত প্রত্যাশা করে থাকে এবং তার প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম না হওয়ার কারণে তাকে তিরস্কার করা হয় তবে, তার মনে বিদ্বেষের সৃষ্টি হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;মোহাম্মদী রায় শাহরি, মিজান আল-হিকমা, হামিদরেজা মাশায়িখি দ্বারা অনুবাদ, দার আল-হাদিস পাবলিশিং হাউস, 1ম সংস্করণ, ১৩৭৭, খণ্ড ৩, পৃ. ১২২১, অধ্যায় হক।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
*কমতি বা ঘাটতির অনুভূতি: যে ব্যক্তি তার নিজের মধ্যে কমতি বা ঘাটতির অনুভব করে, সে যখন অন্যদের সফলতার প্রতি লক্ষ্য করে, তখন তাদের ব্যাপারে বিদ্বেষপরায়ণ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকে।&amp;lt;ref&amp;gt;মোহাম্মদী রায় শাহরি, মিজান আল-হিকমা, হামিদরেজা মাশায়িখি দ্বারা অনুবাদ, দার আল-হাদিস পাবলিশিং হাউস, 1ম সংস্করণ, ১৩৭৭, খণ্ড ৩, পৃ. ১২২১, অধ্যায় হক।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
*[[গীবত]]: কখনও কখনও গীবতের কারণে গীবতকারী ব্যক্তির প্রতি গীবতের শিকার হওয়া ব্যক্তির মনে বিদ্বেষের উদ্রেক ঘটে; কেননা গীবতকারী ব্যক্তি অন্যদের নিকট তার মর্যাদা ক্ষুন্ন করেছে।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন আবি আল-হাদীদ, শারহ নাহজ আল-বালাগেহ, 20 খণ্ড, বৈরুত, দারাহিয়া আল-ত্রাথ, ১৩৮৫ হি, খণ্ড.২০, পৃ. ৩২২, হি. ৬৯৬ এবং পৃ. ৩২৭, হি. ৭৪৩।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
*[[ঠাট্টা-বিদ্রুপ]]: কেউ যদি অন্যকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে এবং ঐ ব্যক্তি যদি নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম না হয়, তবে তার অন্তরে রাগ দানা বাঁধে এবং সুযোগ মতো আঘাত হানার লক্ষ্যে তা বিদ্বেষে রুপান্তরিত হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;তেহরানি, মোজতাবি, এহলাক এলাহী, কালচারাল ইনস্টিটিউট অফ কনটেম্পোরারি নলেজ অ্যান্ড থট এর প্রকাশক, 1ম সংস্করণ, ২০০১, ভলিউম ৪, পৃ. ৯৫ বা ৬৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
*[[অভিশাপ]]: লানত ও অভিশাপ বলতে নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয় অভিশাপের কথা বুঝানো হয়েছে; কেননা কিছু কিছু ক্ষেত্রে লানত বা অভিশাপ জায়েয।&amp;lt;ref&amp;gt;তেহরানী, মোজতাবি, এহলাক এলাহী, কালচারাল ইনস্টিটিউট অফ কনটেম্পোরারি নলেজ অ্যান্ড থট এর প্রকাশক, প্রথম সংস্করণ, ২০০৮, খণ্ড ৪, পৃ. ২৯+৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
*[[অশ্লীল গালিগালাজ]]: অশ্লীল গালিগালাজ করার কারণে অশ্লীল ভাষী ব্যক্তির প্রতি মানুষের মনে বিদ্বেষের উদ্রেক ঘটে।&amp;lt;ref&amp;gt;তেহরানী, মোজতাবি, এহলাক এলাহী, কালচারাল ইনস্টিটিউট অফ কনটেম্পোরারি নলেজ অ্যান্ড থট এর প্রকাশক, প্রথম সংস্করণ, ২০০৮, খণ্ড ৪, পৃ.২৪৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
==পরিণতিসমূহ==&lt;br /&gt;
বিদ্বেষপরায়ণ ব্যক্তি সর্বদা আযাব ভোগ করতে থাকে এবং কখনও স্বস্তি অনুভব করে না। বন্ধুত্বের প্রতি অটল না থাকার কারণে তার বন্ধুর সংখ্যা কম হয়। বিদ্বেষপরায়ণ ব্যক্তিকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট সঙ্গী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।&lt;br /&gt;
বিদ্বেষপরায়ণ ব্যক্তি প্রকৃত ঈমান থেকে বঞ্চিত হয়; কেননা রেওয়ায়েতের ভিত্তিতে মু’মিন ব্যক্তির অন্তরে এক মুহূর্তের বেশী বিদ্বেষের স্থান নেই এবং যখন তার ভাইয়ের কাছ থেকে পৃথক হয়ে যায়, তখন তার প্রতি কোন বিদ্বেষই তার মনে অবশিষ্ট রাখে না।&amp;lt;ref&amp;gt;মোহাম্মদী রায় শাহরি, মিজান আল-হিকমা, হামিদরেজা মাশায়িখি দ্বারা অনুবাদ, দার আল-হাদিস পাবলিশিং হাউস, 1ম সংস্করণ, ১৩৭৭, খণ্ড ৩, পৃ. ১২২১, অধ্যায় হক।&amp;lt;/ref&amp;gt; বিদ্বেষ অন্যান্য গুনাহসমূহ যেমন: হিংসা, গীবত, অপবাদ, তিরস্কার, কঠোর ভর্ৎসনা এবং অবজ্ঞার কারণ হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
==প্রতিকার==&lt;br /&gt;
কেউ কেউ বিদ্বেষ থেকে মুক্তির জন্য নিম্নোক্ত উপায়সমূহের কথা উল্লেখ করেছেন:&lt;br /&gt;
* বিদ্বেষের পরিণতির প্রতি লক্ষ্য করা: এ ব্যাপারে সজাগ হওয়া যে, বিদ্বেষী ব্যক্তির জন্য বিদ্বেষপরায়ণতায় কোন উপকারই নেই, বরং এর ফলে সে সর্বদা মানসিক অশান্তিতে ভুগবে। &lt;br /&gt;
*ক্ষমার মানসিকতা শক্তিশালী  করা: যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির দ্বারা কষ্ট বা অবমাননার শিকার হয়, তবে ঐ ব্যক্তির উপর রাগ ও বিদ্বেষ পোষণের পরিবর্তে ক্ষমা নামক মহৎ গুণের মাধ্যমে তাকে ক্ষমা করতে হবে। কেননা, [[মহানবী (স.)]]-এর ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষমাশীলতা মানুষের মর্যাদা ও মহত্ত্বকে আরও বৃদ্ধি করে।&amp;lt;ref&amp;gt;তেহরানী, মোজতাবি, এহলাক এলাহী, কালচারাল ইনস্টিটিউট অফ কনটেম্পরারি নলেজ অ্যান্ড থট এর প্রকাশক, 1ম সংস্করণ, ২০০৮, ভলিউম ৪, পৃ.২৭০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যক্তির সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করা: তার দাবি-দাওয়া ও চাহিদাগুলো পূরণে সচেষ্ট হওয়া এবং তার ভালোত্বগুলোকে বৈঠকসমূহে উল্লেখ করা।&amp;lt;ref&amp;gt; নারাগী, আহমেদ, মেরাজ আল-সাদাহ, পৃ.২০১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch = اخلاق&lt;br /&gt;
| subbranch1 = رذائل اخلاقی&lt;br /&gt;
| subbranch2 = کینه&lt;br /&gt;
| subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه = شد&lt;br /&gt;
 | تیترها = شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش = شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی = شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر = شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کیفی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت = ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت = ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa: کینه]]&lt;br /&gt;
[[en: Resentment]]&lt;br /&gt;
[[ru: Ненависть]]&lt;br /&gt;
[[ms: Dendam]]&lt;br /&gt;
[[ar: الحقد]]&lt;br /&gt;
[[es:Rencor]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%AE%E0%A6%BE_(%E0%A6%B8%E0%A6%BE.)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AB&amp;diff=1010</id>
		<title>ফাতেমা (সা.)-এর মুসহাফ</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%AE%E0%A6%BE_(%E0%A6%B8%E0%A6%BE.)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AB&amp;diff=1010"/>
		<updated>2025-02-27T09:55:47Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */ ابرابزار&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{question}}&lt;br /&gt;
ফাতেমা (সা.আ.)-এর মুসহাফ কোন গ্রন্থটিকে বলে? ঐ গ্রন্থটি কি কুরআনের বোন নামেও প্রসিদ্ধ?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ফাতেমা (সা.আ.)-এর মুসহাফ ঐ গ্রন্থটিকে বলা হয়, যা [[মহানবী (স.)]]-এর ইন্তেকালের পর স্বয়ং [[জিব্রাইল (আ.)]] হযরত [[ফাতেমা (সা.আ.)]]-কে বলেছেন এবং [[ইমাম আলী (আ.)]] সেটি লিখেছেন। রেওয়ায়েত অনুসারে, আসলে এরূপ একটি গ্রন্থের অস্তিত্ব সম্পর্কে কোন ধরনের সন্দেহের অবতারণা করা হয় নি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ফাতেমা (সা.আ.)-এর মুসহাফ এর অস্তিত্ব সম্পর্কে রেওয়ায়েতসমূহ বাসায়েরুদ দারাজাত এবং আল-কাফি’র ন্যায় প্রাচীনতম [[শিয়া]] গ্রন্থগুলোতে উল্লেখিত হয়েছে। সূত্রগুলির ভিত্তিতে, ফাতেমা (সা.আ.)-এর মুসহাফ কারও হাতেই পৌঁছায়নি এবং কেবলমাত্র বংশ পরম্পরায় শিয়া ইমামগণের (আ.) নিকট সংরক্ষিত রয়েছে। এই মুসহাফ তথা গ্রন্থ সম্পর্কে সর্বাধিক সংখ্যক রেওয়ায়েত [[আল্লামা মাজলিসী]] [[আহলে বাইত (আ.)]]-এর জ্ঞান সংশ্লিষ্ট অধ্যায়সমূহে নিয়ে এসেছেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এই মুসহাফের বিষয়বস্তুতে ভবিষ্যতের ঘটনাসমূহ এবং হযরত ফাতেমা (সা.আ.)-এর সন্তানগণের বিধিলিপি সম্পর্কিত বিষয়গুলো অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। এরূপ একটি মুসহাফ শিয়া পরিচিতির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে। ফাতেমা (সা.আ.)-এর মুসহাফ সম্পর্কিত কিছু কিছু রেওয়ায়েতের মধ্যে বিষয়বস্তুগত মতপার্থক্য এবং কোন কোন ক্ষেত্রে বাহ্যিকভাবে সাংঘর্ষিক হওয়ার কারণে এই মুসহাফের বিস্তারিত বিষয়াবলী সম্পর্কে গবেষকগণের রায়গুলো একই ধরনের নয়। এই গ্রন্থকে কুরআনের বোন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে-এই সংক্রান্ত কোন তথ্য গ্রহণযোগ্য সূত্রগুলোতে নেই।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
==পরিচয় এবং বৈশিষ্ট্য==&lt;br /&gt;
আহলে বাইত (আ.)-এর রেওয়ায়েতসমূহে ফাতেমা (সা.আ.)-এর মুসহাফ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, হযরত ফাতেমা (সা.আ.)-এর উপর ইলহাম হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;মাহদাভিরাদ, মোহাম্মদ আলী, &amp;quot;মুশাফ ফাতেমেহ (সাঃ)&amp;quot;, ফাতিমি এনসাইক্লোপিডিয়া, আলী আকবর রাশাদের তত্ত্বাবধানে, তেহরান, ইসলামিক কালচার অ্যান্ড থট রিসার্চ ইনস্টিটিউট পাবলিকেশন্স, ২০১৪, ভলিউম ৩, পৃ.&amp;lt;/ref&amp;gt; এই রেওয়ায়েতগুলোর মধ্যে কিছু কিছুর সনদগুলো সহিহ। এই কারণে, এরূপ একটি গ্রন্থের প্রকৃত অস্তিত্ব সম্পর্কে কোন সন্দেহের অবতারণা করা হয় নি।&amp;lt;ref&amp;gt;মাহদাভিরাদ, মোহাম্মদ আলী, &amp;quot;মুশাফ ফাতেমেহ (সাঃ)&amp;quot;, ফাতিমি এনসাইক্লোপিডিয়া, আলী আকবর রাশাদের তত্ত্বাবধানে, তেহরান, ইসলামিক কালচার অ্যান্ড থট রিসার্চ ইনস্টিটিউট পাবলিকেশন্স, ২০১৪, ভলিউম ৩, পৃ.&amp;lt;/ref&amp;gt; যেমন সহিহ রেওয়ায়েতের মধ্যে  [[ফাতেমা (সা.আ.)]]-এর মুসহাফ সম্পর্কে একজন শিয়া ব্যক্তির করা প্রশ্নের উত্তরে  ইমাম [[জাফর সাদিক (আ.)]] হতে বর্ণিত একটি রেওয়ায়েত রয়েছে। এই বর্ণনায় উক্ত মুসহাফ সম্পর্কে বিস্তারিত, [[যেমন রসূল (সা.)]]-এর ইন্তেকালের পর হযরত ফাতেমা (সা.আ.)-এর জীবনের শেষ ৭৫ দিনে এটি লেখা হয়েছে বলে উল্লেখ  করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;কিলিনী, মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব, আল-কাফী, কওম, দার আল-হাদিস, ১৪২৯ হি, খণ্ড ১, পৃ. ৫৯৯-৬০০।&amp;lt;/ref&amp;gt; হযরত ফাতেমা (সা.আ.)-এর মুসহাফের অস্তিত্ব সংক্রান্ত রেওয়ায়েতগুলো বাসায়েরুদ দারাজাত&amp;lt;ref&amp;gt; সাফার কওমি, মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান, বাসাইর আল-দাররাজ ফী ফাদহেল আল-মুহাম্মাদ শান্তি বর্ষিত হোক, গবেষণা: মোহসেন বিন আব্বাস আলী কুচে বাঘি, কওম, আয়াতুল্লাহ আল-মারাশি আল-নাজাফির স্কুল, ১৪০৪ হি, পৃ. ১৭০ -১৮১।&amp;lt;/ref&amp;gt; এবং আল-কাফির&amp;lt;ref&amp;gt; আলকালিনী, আল-কাফি, ভলিউম ১, পৃ. ৫৯২-৬০২।&amp;lt;/ref&amp;gt; ন্যায় প্রাচীনতম শিয়া গ্রন্থগুলোতে এসেছে। এই মুসহাফ তথা গ্রন্থ সম্পর্কে সর্বাধিক সংখ্যক রেওয়ায়েত আল্লামা মাজলিসী আহলে বাইত (আ.)-এর জ্ঞান সংশ্লিষ্ট অধ্যায়সমূহে নিয়ে এসেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt; মাজলেসি, মোহাম্মদ বাকের, বিহার আল-আনওয়ার আল-জামা নেতা আখবার আল-আইমা আল-আথার, বৈরুত, আল-ওয়াফা ফাউন্ডেশন, ১৪০৩ হি, খণ্ড ২৬, পৃ.৪৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
 &lt;br /&gt;
আহলে বাইতের (আ.) রেওয়ায়েতের ভিত্তিতে, ফাতেমা (সা.আ.)-এর মুসহাফ কারও হাতেই পৌঁছায়নি এবং কেবলমাত্র বংশ পরম্পরায় শিয়া ইমামগণের (আ.) নিকট সংরক্ষিত রয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;কিলিনী, মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব, আল-কাফি, কওম, দার আল-হাদিস, ১৪২৯ হি, ১, পৃ.&amp;lt;/ref&amp;gt; কোন কোন রেওয়ায়েতে এই মুসহাফের আকার কুরআনের তিন গুন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;কিলিনী, মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব, আল-কাফি, কওম, দার আল-হাদিস, ১৪২৯ হি, ১, পৃ.&amp;lt;/ref&amp;gt; শিয়া শিক্ষা-দীক্ষায় এরূপ একটি মুসহাফের অস্তিত্বের ব্যবহার করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;মাদ্রাসি তাবাতাবাই, হোসাইন, শিয়া লিখিত ঐতিহ্য, কওম, ঐতিহাসিক প্রকাশনা, ২০০০৬, পৃ.&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ফাতেমা (সা.আ.)-এর মুসহাফ সম্পর্কিত কিছু কিছু রেওয়ায়েতের মধ্যে বিষয়বস্তুগত মতপার্থক্য এবং কোন কোন ক্ষেত্রে বাহ্যিকভাবে সাংঘর্ষিক হওয়ার কারণে এই মুসহাফের বিস্তারিত বিষয়াবলী সম্পর্কে গবেষকগণের রায়গুলো একই ধরনের নয়।&amp;lt;ref&amp;gt;মাহদাভিরাদ, &amp;quot;মুশাফ ফাতিমা (সা.)&amp;quot;, ভলিউম ৩, পৃ. ৬৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
==বর্ণনাকারী এবং লেখক==&lt;br /&gt;
ফাতেমা (সা.আ.)-এর মুসহাফ এমলাকারী (লেখানোর জন্য শব্দ করে পাঠ করা) সম্পর্কে রেওয়ায়েতসমূহে বিভিন্ন জনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে; [[আল্লাহ]], [[ফেরেস্তা]], [[জিব্রাইল]] এবং [[রাসূলুল্লাহর (স.)]] ন্যায় ব্যক্তিদের কথা রেওয়ায়েতে উল্লেখ করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;মাহদাভিরাদ, &amp;quot;মুশাফ ফাতিমা (সা.)&amp;quot;, ভলিউম ৩, পৃ. ৬৫।&amp;lt;/ref&amp;gt; আল্লামা মাজলিসী এই সম্পর্কিত রেওয়ায়েতগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছেন। কিছু কিছু গবেষক এটিকে এই বর্ণনাগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম সমন্বয় বলে মনে করেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;মাহদাভিরাদ, &amp;quot;মুশাফ ফাতিমা (সাঃ)&amp;quot;, খন্ড ৩, পৃ.&amp;lt;/ref&amp;gt; তিনি এই রেওয়ায়েতগুলোতে রাসূলুল্লাহ (স.) বলতে সেই জিব্রাইল জ্ঞান করেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;মজলিসি, মোহাম্মদ বাকের, বিহার আল-আনওয়ার আল-জামা নেতা আখবার আল-আইমা আল-আথার, ২৬, পৃ.&amp;lt;/ref&amp;gt; অন্যন্য পণ্ডিতগণ যেমন, সাইয়্যেদ মুহসিন আমিন আমেলি, সাইয়্যেদ জাফর মুর্তাযা এবং সাইয়্যেদ [[মুহাম্মাদ হুসাইন ফজলুল্লাহ]]&amp;lt;ref&amp;gt; আমিন, মোহসেন, আয়ান আল-শিয়া, বৈরুত, প্রকাশনার জন্য দার আল-তারিফ, ১৪০৩ হি, খণ্ড ১, পৃ. ৩৫৭।&amp;lt;/ref&amp;gt; এই [[রেওয়ায়েতগুলো]]&amp;lt;ref&amp;gt;আমেলি, জাফর মোর্তেজা, আল-জাহরার ট্র্যাজেডি। ... সন্দেহ ও প্রতিক্রিয়া, বৈরুত, দার আল-সিরাহ, ১৪১৮ হি, ১১৬।&amp;lt;/ref&amp;gt; সমন্বয়ের একটি উপায় প্রকাশ করেছিলেন।&amp;lt;ref&amp;gt; হাশেমী, হাশেম, ফজলুল্লাহ হাও আল-জাহরা (সাঃ) এর সাথে কথোপকথন, বৈরুত, দার আল-হাদী, ১৪২২ হি, পৃ. ১৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&amp;lt;ref&amp;gt;হাশেমী, হাশেম, ফজলুল্লাহ হাও আল-জাহরা (সাঃ) এর সাথে কথোপকথন, বৈরুত, দার আল-হাদী, ১৪২২ হি, পৃ. ১৫১।f&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
সকল শিয়া পণ্ডিত এবং এই মুসহাফ সংশ্লিষ্ট সকল রেওয়ায়েতগুলো এই মুসহাফের লেখক হিসেবে ইমাম আলী (আ.)-কে পরিচয় করিয়েছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;মাহদাভিরাদ, &amp;quot;মুশাফ ফাতিমা (সাঃ)&amp;quot;, খন্ড ৩, পৃ.&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
==বিষয়বস্তু==&lt;br /&gt;
ফাতেমা (সা.আ.)-এর মুসহাফে নিম্নোক্ত বিষয়বস্তুগুলো রয়েছে বলে মনে করা হয়:&lt;br /&gt;
*রাসূল (স.)-এর অবস্থান এবং হযরত ফাতেমার (সা.আ.) সন্তানদের ভবিষ্যত।&amp;lt;ref&amp;gt; আল-সাফফার আল-কামি, বাসাইর আল-দাররাজ ফি ফাদহেল আল-মুহাম্মাদ, তাদের উপর আল্লাহর শান্তি ও বরকত, পৃষ্ঠা ১৭৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
*ভবিষ্যত ঘটনাসমূহের বর্ণনা।&amp;lt;ref&amp;gt; আল-ফাতাল আল-নিসাবুরি, মুহাম্মাদ বিন আহমদ, রওদা আল-ওয়াযযিন এবং বাসিরা আল-মুতাযিন, কওম, মানশুরাত আল-রাযী, ১৩৭৫, ১, পৃ.&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
*আল্লাহর নবীগণ (আ.) এবং  তাঁদের নাম ও তাঁদের উত্তরসূরীদের নামের উল্লেখ।&amp;lt;ref&amp;gt; মাজলেসি, মোহাম্মদ বাকির, বিহার আল-আনওয়ার আল-জামা নেতা আখবার আল-আইমা আল-আথার, ২৬, পৃ.&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
*ক্বিয়ামত পর্যন্ত সমস্ত রাজা-বাদশাহগণ এবং বিচারকদের (হাকিম) নাম।&amp;lt;ref&amp;gt;আল-ফাতাল আল-নিসাবুরি, রওদাত আল-ওয়ায়েজিন এবং বাসিরা আল-মুতা&#039;ইজিন, ভলিউম ১, পৃ.&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* শিয়া পণ্ডিত [[আব্দুল হুসাইন শারফুদ্দীন]] এই মুসহাফে অন্যান্য বিষয়বস্তু যেমন, প্রজ্ঞা, উপদেশ ও বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করার প্রতি ইশারা করেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt; শরফ আল-দীন, আবদুল-হোসেইন, আল-রাভিদ, কওম, আল-মাজমা আল-আলামী লাহল আল-বাইত (আ.), ১৪২৬, পৃ. ৬০৩।&amp;lt;/ref&amp;gt; এই দৃষ্টিভঙ্গি কিছু কিছু গবেষক মারফত প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;হাশেমি, আল-জাহরাকে ঘিরে ফজলুল্লাহর সাথে কথোপকথন (পৃ. ১৭২)।&lt;br /&gt;
 কিলিনি, আল-কাফি, ভলিউম 7, পৃ. ৩৭-৪১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
*অন্য কিছু গবেষক একটি রেওয়ায়েতের উদ্ধৃতি দিয়ে&amp;lt;ref&amp;gt; কাজভিনি, মোহাম্মদ কাজেম, ফাতিমা আল-জাহরা। মান আল-মাহদ আল-লাহদ, বিজা, বিনা, বিতা, পৃষ্ঠা ৯৬।&amp;lt;/ref&amp;gt; যেখানে শরীয়তী আহকামের বিস্তারিত বিবরণ সংবলিত ’কিতাব-এ ফাতেমা (সা.আ.)’ শিরোনামের একটি গ্রন্থের কথা বলা হয়েছে।} উল্লেখ করেছেন যে, এই মুসহাফে শরীয়তের সমস্ত আহকামের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা এবং শাস্তি সংক্রান্ত বিধিগুলোর বিস্তারিত বিবরণও রয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt; হাশেমি, আল-জাহরাকে ঘিরে ফজলুল্লাহর সাথে কথোপকথন (পৃ. ১৬৭)।&amp;lt;/ref&amp;gt; সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ হুসাইন ফাযলুল্লাহ এই মতকে গ্রহণ করেছেন এবং ফাতেমার (সা.আ.) গ্রন্থ এবং ফাতেমার (সা.আ.) মুসহাফকে একই গ্রন্থ বলে বিবেচনা করেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt; আমিন, মোহসেন, আয়ান আল-শিয়া, ভলিউম ১, পৃ. ৩৫৬।&amp;lt;/ref&amp;gt; গবেষকদের একটি দল এই মতকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt; হাশেমি, আল-জাহরাকে ঘিরে ফজলুল্লাহর সাথে কথোপকথন (পৃ. ১৮১)।&amp;lt;/ref&amp;gt; এছাড়াও তারা এই সম্ভাবনা দিয়েছেন যে, কিতাব-এ ফাতেমা (সা.আ.) হচ্ছে মুসহাফ-এ ফাতেমা (সা.আ.) ছাড়াও ভিন্ন একটি গ্রন্থ এবং কিতাব-এ ফাতেমা (সা.আ.) শিরোনামের গ্রন্থটির ফাতেমার উদ্দেশ্য [[ফাতেমা বিনতুল হুসাইন]] হতে পারে।&amp;lt;ref&amp;gt; মাদ্রাসি তাবাতাবাই, শিয়া লিখিত ঐতিহ্য, পৃ.&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
*বিশিষ্ট শিয়া গবেষক এবং প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির ইসলামী আইনের অধ্যাপক [[সাইয়্যেদ হুসাইন তাবাতাবায়ী]], ফাতেমা (সা.আ.)-এর মুসহাফকে এমন বিষয়বস্তুগুলোর ধারক হিসেবে বিবেচনা করেছেন যে, শিয়াদের আধ্যাত্মিক চিন্তাধারার প্রায় সকল বিষয় তাতে উল্লেখিত হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt; মাহদাভিরাদ, &amp;quot;মুশাফ ফাতিমা (সাঃ)&amp;quot;, খন্ড ৩, পৃ.&amp;lt;/ref&amp;gt; তার এই মতটি সমালোচনার শিকার হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt; গোল্ডজিহার, ইগনাস, মুসলমানদের মধ্যে তাফসির প্রবণতা, সাইয়্যেদ মোহাম্মদ আলী আয়াজির ভূমিকা, সৈয়দ নাসের তাবাতাবাই দ্বারা অনুবাদ, তেহরান, কাকনোস পাবলিকেশন্স, ২০০৩, পৃ. ২৫৬-২৫৭।&amp;lt;/ref&amp;gt; এই গ্রন্থকে কুরআনের বোন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে-এই সংক্রান্ত কোন তথ্য গ্রহণযোগ্য সূত্রগুলোতে নেই।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
==মুসহাফ সম্পর্কে ভূল ধারণাসমূহ==&lt;br /&gt;
কিছু কিছু প্রাচ্যবিদ এবং আহলে সুন্নতের পণ্ডিতগণ, ফাতেমা (সা.আ.)-এর মুসহাফ শিরোনামে মুসহাফ শব্দের উপস্থিতি লক্ষ্য করে এবং এই শব্দটিকে কুরআনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ রেখে শিয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে, প্রচলিত কুরআন ব্যতীত অপর একটি কুরআন মুসলমানদের নিকট বিদ্যমান।&amp;lt;ref&amp;gt; উমিদি, থামের হাসেম হাবিব, আল-কাফির প্রতিরক্ষা: শেখ আল-কালিনী, কওম, আল-গাদির সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজ, ১৪১৫ হি, খন্ড। ২, পৃ.৩৫৩।&amp;lt;/ref&amp;gt; এই ব্যক্তিদের মধ্যে উদাহরণস্বরূপ বিশিষ্ট হাঙ্গেরিয়ান ইসলাম গবেষক আগ্নাস গোল্ডজিয়া এবং সৌদি আরবের সালাফি লেখক আব্দুল্লাহ আল কাসিমির কথা উল্লেখ করা যেতে পারে।&amp;lt;ref&amp;gt; মাহদাভিরাদ, &amp;quot;মুশাফ ফাতিমা (সা)&amp;quot;, খন্ড ৩, পৃ.&amp;lt;/ref&amp;gt; এই দৃষ্টিভঙ্গির জবাবে কিছু গবেষক দাবি করেছেন যে শিয়া পণ্ডিতগণ এই বিষয়ে একমত যে, কুরআন ফাতেমা (সা.আ.)-এর মুসহাফের অন্তর্ভূক্ত নয়।[৩২] অন্তর্ভূক্ত না হওয়া সংক্রান্ত তাদের মতের দলিল হচ্ছে ফাতেমা (সা.আ.)-এর মুসহাফ সম্পর্কে শিয়া ইমামগণ হতে বর্ণিত অনেক সংখ্যক রেওয়ায়েত এবং তাদের ঐক্যমতের পাশাপাশি এ সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে উল্লেখিত হয়েছে যে, কুরআন হযরত ফাতেমা (সা.আ.)-এর  মুসহাফের অন্তর্ভূক্ত নয়।&amp;lt;ref&amp;gt;সাফার কওমি, বাসাইর আল-দরাজ মুহাম্মাদ পরিবারের গুণাবলীতে, তাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, পৃষ্ঠা ১৭০। কিলিনি, মোহাম্মাদ, আল-কাফী, ভলিউম ১, পৃ. ৫৯৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch = حدیث&lt;br /&gt;
 | subbranch1 = منبع‌شناسی&lt;br /&gt;
 | subbranch2 =&lt;br /&gt;
 | subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه = شد&lt;br /&gt;
 | تیترها = شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش = شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی = شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه = شد&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کیفی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت =ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa: مصحف فاطمه(س)]]&lt;br /&gt;
[[ur: مصحف فاطمه (س)]]&lt;br /&gt;
[[en:Mushaf of Fatima (a)]]&lt;br /&gt;
[[ru: Мусхаф Фатимы (а)]]&lt;br /&gt;
[[ms: Mushaf Fatimah Sa]]&lt;br /&gt;
[[ar: مصحف فاطمة (ع)]]&lt;br /&gt;
[[es:El Mus&#039;haf de Fátima (P)]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%B0_%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A7%80%E0%A6%AE_%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&amp;diff=1009</id>
		<title>আল্লাহর অসীম সত্তা</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%B0_%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A7%80%E0%A6%AE_%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&amp;diff=1009"/>
		<updated>2025-02-27T08:55:26Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */ ابرابزار&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{question}}&lt;br /&gt;
আল্লাহর অসীম সত্তা, কীভাবে প্রমাণিত হয়?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আল্লাহর অসীম সত্তা, বিষয়টি প্রমাণের ক্ষেত্রে বহু পন্থা বিদ্যমান রয়েছে। যার কিছু ইমাম আলীর (আ.) বাণীতে এবং অন্যান্য দার্শনিক মনীষীদের লেখনিতে বর্ণিত হয়েছে। [[ইমাম আলী (আ.)]] বলেছেন যে, আল্লাহকে ইঙ্গিত দিয়ে বোঝানো সম্ভব না। তিনি আরও বলেন, যদি আল্লাহর কোন সীমাবদ্ধতা থাকত তবে তাকে গণনা করা যেত; কিন্তু আল্লাহ হলেন এক ও অদ্বিতীয়। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কতিপয় দার্শনিক আল্লাহর অসীম সত্তা প্রমাণ করতে গিয়ে “পরম সত্তা”, “সকল কারণের কারণ” এবং “অপরিহার্য অস্তিত্ব” -এর মতো ধারণাগুলির সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এই ধারণাগুলি ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে আল্লাহর সত্তা অসীম। দার্শনিকরা যে অন্য যুক্তিটি উল্লেখ করেছেন তা হল: সীমাবদ্ধতা হল সত্তার রূপের (প্রকৃতির) একটি অপরিহার্য অংশ, কিন্তু আল্লাহর সত্তার কোনো রূপ (প্রকৃতি) নেই (তাই তিনি অসীম)।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আল্লাহর অসীম সত্তা প্রমাণে ইমাম আলী (আ.) -এর বানী ==&lt;br /&gt;
আমিরুল মুমিনিন (আ.) [[নাহজুল বালাগার]] প্র[[থম খুতবায়]] বলেন, «&#039;&#039;و مَن اشار الیه فقد حدّه، وَ مَن حدّه فقد عدّه&#039;&#039;»&amp;lt;ref&amp;gt;নাহজ আল-বালাঘা, খুতবা ২.&amp;lt;/ref&amp;gt; অর্থাৎ, যে ব্যক্তি তাঁর দিকে ইঙ্গিত করে, সে তাঁকে সীমাবদ্ধ মনে করে, আর যে ব্যক্তি তাঁকে সীমাবদ্ধ মনে করে, সে তাঁকে গণনা ও সংখ্যার আওতায় আনে এবং তাঁকে বহুসংখ্যক মনে করে।&lt;br /&gt;
 &lt;br /&gt;
এই বাণীতে সুস্পষ্ট ভাষায়, মহান স্রষ্টার সীমাবদ্ধতাকে অস্বীকার করা হয়েছে। কারণ, আমিরুল মুমিনিন (আ.) বলেছেন যে, যেহেতু আল্লাহ ইঙ্গিত ও সংখ্যার ঊর্ধ্বে, সেহেতু বোঝা যায় যে তিনি অসীম। আর যদি আল্লাহর সীমা থাকতো, তাহলে তাঁকে সংখ্যায় হিসাব করা যেত। আল্লাহ কখনোই গণনা বা সংখ্যার আওতায় আসবেন না এবং তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তাহলে বোঝা যায় যে, আল্লাহ অসীম। কারণ, সীমাবদ্ধতা যেকোনো বস্তুর ক্ষেত্রে সম্ভব, এই সীমাবদ্ধতা হয় তার অনুরূপ কিছু থেকে অথবা তার বিপরীত কিছু থেকে উৎপন্ন হয়ে থাকে। যেহেতু আল্লাহ কোন প্রকার অনুরূপ বা বিপরীত বস্তু হতে মুক্ত, তাই তিনি সীমাবদ্ধতা থেকেও মুক্ত।&amp;lt;ref&amp;gt; জাফারী, মোহাম্মদ তাকী, নাহজ আল-বালাগেহ, তেহরান, ফারহাং ইসলামিক পাবলিশিং হাউস, ১৩৫৭, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৫-৬১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইমাম আলী (আ.) অপর একটি খুতবায় বলেন, «&#039;&#039;لا یشمل بحدِّ و لا یحسب بعدٍّ و انما تحد الادوات انفسها&#039;&#039;»&amp;lt;ref&amp;gt;নাহজ আল-বালাগা, খুতবা ১৮৬।&amp;lt;/ref&amp;gt; অর্থাৎ, আল্লাহর কোনো সীমা নেই, কোনো সীমা তাকে আবদ্ধ করতে পারে না এবং তাকে সংখ্যার মাধ্যমে গণনা করা যায় না। কেননা, যন্ত্র ও সরঞ্জাম শুধু নিজেদের ক্ষমতা অনুযায়ী পরিমাপ করে থাকে। ইমামের এই উক্তিটিতেও মূলত আল্লাহর সীমাবদ্ধতার অস্বীকার করা হয়েছে। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এই উক্তির বিস্তারিত বিশ্লেষণে বলা হয়েছে যে, আরবিতে &amp;quot;&#039;&#039;حد&#039;&#039;&amp;quot; বা সীমা শব্দের অন্যতম বিশেষ অর্থ হল নিষেধ করা। উদাহরণস্বরূপ, বাড়ির সীমা হল সেই স্থান যার সীমানা লঙ্ঘন করা নিষেধ। দেশের সীমা উত্তর ও পূর্ব দিকে এমন এমন স্থান পর্যন্ত বিস্তৃত- এ জাতীয় বিষয়। ইমাম এই উক্তিতে বলছেন যে, আল্লাহর কোনো সীমা নেই। অর্থাৎ, তার এমন কোন সীমাবদ্ধ বৈশিষ্ট্য নেই যা শুধু তার নিজস্ব এবং অন্যদের জন্য নয়। তিনি  মানুষ, গাছ, [[ফেরেশতা]] ইত্যাদির মতো অন্যান্য সম্ভাব্য বস্তুর সম কাতারে নন। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
যদি ধরে নেওয়া হয় যে, আল্লাহ সীমাবদ্ধ, তাহলে এর অর্থ হবে যে, অন্যান্য সৃষ্টির মতো তিনিও একটি নির্দিষ্ট সত্তা হিসেবে বিদ্যমান এবং তাঁরও নির্দিষ্ট কিছু পূর্ণতা বা গুণাবলি রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সূর্যের উষ্ণতা ও আলোকিত করার বৈশিষ্ট্য আছে, পানির পৃথক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, মাটির পৃথক বৈশিষ্ট্য রয়েছে; কিন্তু আল্লাহ এই উল্লিখিত বা অনুরূপ কোন বৈশিষ্ট্য দ্বারা সীমাবদ্ধ নন। বরং সকল প্রকৃতির বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি মূলত তাঁর সৃজনশীলতার উৎস থেকে উদ্ভূত। সুতরাং, আমরা আল্লাহর সত্তার ব্যাপারে কোন সীমাবদ্ধতার ধারণা করতে পারি না। কেননা, যদি তা করা হয় তাহলে সীমাবদ্ধ বস্তুগুলির বৈশিষ্ট্যগুলিকে তাঁর সৃজনশীলতার সাথে সম্পর্কিত করা যাবে না। কারণ তখন তিনি নিজেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বেন। আর যে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ, সে নিজের বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বস্তুর উৎস হতে পারে না। অথচ, মহান আল্লাহ হলেন প্রত্যেক সৃষ্টি ও তাদের অস্তিত্বগত গুণাবলীর উৎস। অতএব বোঝা যায় যে, তিনি অসীম। এই বিষয়ের বিস্তারিত জানতে নিচের উৎসটি দেখুন।&amp;lt;ref&amp;gt;নাহজ আল-বালাগা, খুতবা ১৮৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আল্লাহ, পরম সত্তা ==&lt;br /&gt;
আল্লাহর অসীম সত্তার বিষয়ে দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গির তৃতীয় যুক্তি এই যে, [[পরম সত্তা]] অর্থই হচ্ছে অসীম, কেননা সীমাবদ্ধতা ত্রুটি ও অনস্তিত্ব থেকে উদ্ভূত হয়। আর যেহেতু পরম সত্তার ক্ষেত্রে অনস্তিত্ব, ত্রুটি, বহুত্ব এবং আধিক্যের মত বিষয়গুলো যায় না; সেহেতু তিনি অসীম। সুতরাং, যেহেতু আল্লাহ হলেন পরম সত্তা, শুদ্ধ অস্তিত্ব এবং অস্তিত্বের শুদ্ধতম রূপ, তাই তাঁর সীমাবদ্ধ হওয়া অসম্ভব।&amp;lt;ref&amp;gt;মোতাহারী, মর্তেজা, রচনা সংগ্রহ ৬, সদর পাবলিশিং হাউস, ১৩৭৯, পৃ.১০১৭।&amp;lt;/ref&amp;gt; কারণ, যদি তিনি সীমাবদ্ধ হন, তাহলে এর অর্থ হবে তিনি শুধু অসম্পূর্ণ অথবা শুদ্ধ অস্তিত্ব নন, বরং তার একটি স্বতন্ত্র রূপ বা প্রকৃতিও রয়েছে। কারণ যেখানে বহুত্ব ও আধিক্য আছে, সেখানে সীমাবদ্ধতা থাকা স্বাভাবিক; আর যেখানে বহুত্ব নেই, সেখানে সীমাবদ্ধতাও নেই। আল্লাহ পাক নিজেই পবিত্র [[কুরআ]]নে বলেছেন যে, «قل هو الله احد» আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। অতএব তাঁর সত্তার কোন বহুত্ব ও আধিক্য নেই, ফলে তিনি সীমাবদ্ধতা হতে মুক্ত।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আল্লাহ, সকল কারণের কারণ ==&lt;br /&gt;
আল্লাহর সত্তা অসীম হওয়ার অপর একটি যুক্তি হচ্ছে, সীমাবদ্ধতা হল পরাভূত ও অক্ষমতার সমান। অর্থাৎ, যে সত্তা কার্যকারণের ফল ও অন্য কিছুর উপর নির্ভরশীল, সে স্বাভাবিকভাবেই সীমাবদ্ধ। আল্লাহ কোনো কিছুর প্রতি নির্ভরশীল নন এবং কারো মুখাপেক্ষী নন, বরং তিনি সকল কারণের কারণ এবং সকল কার্যকারণের উৎস এবং পরম ক্ষমতাসম্পন্ন, তাই বোঝা যায় যে তিনি কখনোই কোন সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নন, বরং তিনি অসীম ও অনন্ত।&amp;lt;ref&amp;gt;মোতাহারী, মর্তেজা, রচনা সংগ্রহ ৬, সদর পাবলিশিং হাউস, ১৩৭৯, পৃ.১০১৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আল্লাহ, অপরিহার্য অস্তিত্ব ==&lt;br /&gt;
আরও একটি যুক্তি হল, আল্লাহ হলেন অপরিহার্য অস্তিত্ব এবং এই অপরিহার্য অস্তিত্ব, অসীম ও অশেষের সমান। অন্যভাবে বললে, অস্তিত্বের বাস্তবতা হলো অসীমত্ব, অপরিহার্যতা,  নিখুঁত ও বিশুদ্ধতার সমান। যেহেতু আল্লাহ হলেন অস্তিত্বের বাস্তবতা, অস্তিত্বের বিশুদ্ধতা এবং অপরিহার্য অস্তিত্ব, সেহেতু তিনি অসীম ও অনন্ত। কারণ, যদি তিনি অসীম ও অনন্ত না হন, তাহলে তিনি অপরিহার্য অস্তিত্ব হতেন না। অথচ আল্লাহর অস্তিত্ব হলো নিরঙ্কুশ অপরিহার্য এবং স্বতঃসিদ্ধ।&amp;lt;ref&amp;gt; মোতাহারী, মর্তেজা, রচনা সংগ্রহ ৬, পূর্ববর্তী প্রকাশনা, পৃ.১০১৮।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আল্লাহর রূপ না থাকা&lt;br /&gt;
আল্লাহর অসীমত্ব প্রমাণের আরও একটি যুক্তি হলো যে, সীমাবদ্ধতা সর্বদা রূপ (প্রকৃতি) থেকে উদ্ভূত হয়। অর্থাৎ, রূপ (প্রকৃতি) হলো সৃষ্টিজগতের সীমাবদ্ধতার উৎস, এবং রূপ (প্রকৃতি) হচ্ছে নির্দিষ্টতা ও সীমাবদ্ধতা। যেহেতু আল্লাহ রূপ (প্রকৃতি) হতে মুক্ত&amp;lt;ref&amp;gt; সদর আল-মুতালাহিন, ইসফার, বৈরুত, দার আল-আহিয়া পাবলিশিং হাউস, বিতা, ১, পৃ.&amp;lt;/ref&amp;gt;, ফলে তিনি যেকোনো ধরনের নির্দিষ্টতা ও সীমা থেকেও মুক্ত।এভাবে বলা যায় যে, যেহেতু সকল সৃষ্টির প্রকৃতি রয়েছে, অর্থাৎ তারা নির্দিষ্ট ও তাদের নিজস্ব অস্তিত্বগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে; উদাহরণস্বরূপ, মানুষ, গাছ, প্রাণী ইত্যাদি।  সুতরাং, এই ধরনের সৃষ্টি সীমাবদ্ধ। কিন্তু আল্লাহ যেহেতু যেকোনো ধরনের রূপ (প্রকৃতি) ও অস্তিত্বগত নির্দিষ্টতা থেকে মুক্ত, তাই তাঁর কোনো সীমাবদ্ধতাও নেই। অর্থাৎ, যেহেতু তিনি রূপ (প্রকৃতি) থেকে মুক্ত, যা মূলত নির্দিষ্টতা ও সীমাবদ্ধতার উৎস, তাই তাঁর কোন সীমাবদ্ধতা নেই।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch = کلام&lt;br /&gt;
 | subbranch1 = آفریدگار&lt;br /&gt;
 | subbranch2 = صفات سلبیه&lt;br /&gt;
 | subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه = شد&lt;br /&gt;
 | تیترها = شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش = شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی = شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه = شد&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر = شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | بازبینی نویسنده =&lt;br /&gt;
 | بازبینی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت = ب&lt;br /&gt;
 | کیفیت = ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[fa: نامحدود بودن خداوند]]&lt;br /&gt;
[[ps:د خدای لامحدودیت]]&lt;br /&gt;
[[ur: خدا کا لامحدود هونا]]&lt;br /&gt;
[[en: The Boundlessness of God]]&lt;br /&gt;
[[ms: Ketidakterbatasan Tuhan]]&lt;br /&gt;
[[ar: لا محدودیة لله تعالی]]&lt;br /&gt;
[[es:La infinitud de Dios]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE_%E0%A6%93_%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%B0&amp;diff=1008</id>
		<title>ক্বাজা ও ক্বাদার</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE_%E0%A6%93_%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%B0&amp;diff=1008"/>
		<updated>2025-02-27T08:29:36Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */ ابرابزار&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{question}}&lt;br /&gt;
ক্বাজা (&#039;&#039;قضا&#039;&#039;) ও ক্বাদার (&#039;&#039;قدر&#039;&#039;) কী?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
[[ইসলামি ধর্মতত্ত্বে]] &#039;&#039;&#039;ক্বাজা&#039;&#039;&#039; (&#039;&#039;قضا&#039;&#039;) বা নির্ধারিত ভাগ্য এবং &#039;&#039;&#039;ক্বাদার&#039;&#039;&#039; (&#039;&#039;قدر&#039;&#039;) বা ভাগ্য নির্দিষ্টকরণ, একটি মৌলিক ধারণা; যা ঘটনাবলি সংঘটিত হওয়ার ধরণ এবং বিশ্বের নানা বিষয় নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়াকে বুঝায়। ‌&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
“ক্বাজা” (নির্ধারিত ভাগ্য) বা নিয়তি বলতে কোন একটি ঘটনাকে তার বস্তুগত ভূমিকা ও শর্তাবলি পূর্ণ হওয়ার পর চূড়ান্ত ও অবধারিত ভাবে সংঘটিত হওয়াকে বুঝায়। অন্য কথায়, (&#039;&#039;قضا الهی&#039;&#039;) ক্বাজা-ই-ইলাহি বা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ভাগ্য বলতে, কোন প্রক্রিয়ার পর্যায়ক্রম এবং কার্য-কারণগত অনিবার্য ফলাফল, যা কোনো ঘটনাকে সংঘটিত করে। “ক্বাদার” বা “ক্বাদারে ইলাহি” (আল্লাহ কর্তৃক ভাগ্য নির্দিষ্টকরণ) বা তাকদির বলতে আল্লাহ কর্তৃক প্রতিটি ঘটনার পরিমাণ, সীমা এবং বৈশিষ্ট্য নির্ধারণকে বুঝায়। এই বৈশিষ্ট্যগুলো পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কারণের প্রভাবে বাস্তবায়িত হয়ে থাকে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইসলামি শিক্ষায় ক্বাজা (&#039;&#039;قضا&#039;&#039;) ও ক্বাদার (&#039;&#039;قدر&#039;&#039;) দুভাবে বিভক্ত হয়:&lt;br /&gt;
* &#039;&#039;&#039;জ্ঞানগত ক্বাজা ও ক্বাদার&#039;&#039;&#039;: এই ধরনটি ঘটনাগুলোর সংঘটনের সময়, স্থান এবং ধরণ সম্পর্কে আল্লাহর জ্ঞান সম্পর্কিত। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, আল্লাহ আগে থেকেই জানেন প্রতিটি ঘটনা কীভাবে এবং কী পরিস্থিতিতে ঘটবে। আল্লাহর এই জ্ঞান মানুষের এখতিয়ারের (ইচ্ছা ও স্বাধীনতা) সাথে কোনো পারস্পরিক বৈপরীত্য সৃষ্টি করে না; কারণ আল্লাহ মানুষের এখতিয়ার সম্পর্কে জ্ঞাত এবং তিনি জানেন যে মানুষ তার ইচ্ছা ও স্বাধীনতা ব্যবহার করে কোন পথটি বেছে নেবে।&lt;br /&gt;
* &#039;&#039;&#039;বস্তুগত ক্বাজা ও ক্বাদার&#039;&#039;&#039;: এই ধরনটি ঘটনাগুলোর দৃশ্যমান ও বাহ্যিক অস্তিত্বের প্রতি নির্দেশ করে। এই অবস্থায়, আল্লাহ প্রতিটি সৃষ্টি ও ঘটনার জন্য নির্দিষ্ট আকার, বৈশিষ্ট্য এবং সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করেছেন। বস্তুগত ক্বাজা ও ক্বাদারের প্রকৃত উদাহরণের মধ্যে রয়েছে মানুষের আকৃতি, লিঙ্গ, ত্বকের রং এবং এমনকি পৃথিবীতে তার জীবনের সীমারেখা। মানুষের আমল এবং আচরণও এই বস্তুগত ক্বাজা ও ক্বাদারের পরিধির মধ্যে সংঘটিত হয়। এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, মানুষ তার জীবনের পথ বেছে নেয়ার এখতিয়ার ও স্বাধীনতা রাখে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইসলামি বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে, ক্বাজা ও ক্বাদার মানুষের এখতিয়ারের সাথে বিরোধপূর্ণ নয়। যদিও আল্লাহ সকল বিষয়ের সামগ্রিক সীমা ও পরিমাপ নির্ধারণ করেছেন, তবুও মানুষের আমল ও আচরণের চূড়ান্ত নির্বাচন মানুষের নিজের হাতেই রয়েছে। কারণেই, মানুষ তার নিজের সিদ্ধান্ত এবং আমলের ফলাফলের জন্য দায়বদ্ধ থাকবে।&amp;lt;ref&amp;gt;আল-তাবারানী, আবু আল-কাসিম (১৪১৫)। আল-মুজাম আল-কবীর গ. ৩. কায়রো: ইবনে তাইমিয়া স্কুল। পি. 58.&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ক্বাজা অর্থ ==&lt;br /&gt;
ক্বাজা (&#039;&#039;قضاء&#039;&#039;) শব্দের আভিধানিক অর্থ হল ফয়সালা করা বা মীমাংসা করা - তা কাজের মাধ্যমে হোক বা কথার মাধ্যমে, আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত হোক বা অন্য কারো সাথে।&amp;lt;ref&amp;gt; রাগেব এসফাহানি, হোসেন। কোরানের শব্দভান্ডার। পি. ৪০৬।&amp;lt;/ref&amp;gt; এছাড়াও এর অর্থ হল কোন কিছু সম্পন্ন করা এবং বিচার করা। কাজি (&#039;&#039;قاضی&#039;&#039;) শব্দটি এই কারণে ব্যবহৃত হয় যে, তিনি দুই পক্ষের মধ্যে বিচার করেন এবং তাদের বিষয়ে ফয়সালা দেন, এজন্য তাকে কাজি বলা হয়।&amp;lt;ref&amp;gt; মিসবাহ ইয়াজদি, মোহাম্মদ তাগি। দর্শন শেখানো। গ. ২. পি. ৪০৮।&amp;lt;/ref&amp;gt;&amp;lt;ref&amp;gt; মিসবাহ ইয়াজদি, মোহাম্মদ তাগি। ধারণার শিক্ষা। গ. ১. পি. ১৮০।&amp;lt;/ref&amp;gt; পবিত্র কুরআনের ক্বাজা শব্দটি তিনটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে&amp;lt;ref&amp;gt;হালি, হাসান। অর্থের আবিষ্কার। কওম: ইসলামিক পাবলিশিং ইনস্টিটিউট। পি. ৩১৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;:&lt;br /&gt;
 &lt;br /&gt;
* ক্বাজা (&#039;&#039;قضاء&#039;&#039;) শব্দটি সৃষ্টি, নির্মাণ এবং কোন কাজের সমাপ্তি অর্থে: {{inline quran|فَقَضَىٰهُنَّ سَبْعَ سَمَـٰوَاتٍۢ فِى يَوْمَيْنِ|translation=সাত আসমানকে দুই দিনে সৃষ্টি করে সম্পূর্ণ করলেন।|sura=ফুসসিলাত|verse=১২}}&lt;br /&gt;
* বিধান বা হুকুমকে বাধ্যতামূলক ও আবশ্যক করা অর্থে: {{inline quran|وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوٓا۟ إِلَّآ إِيَّاهُ|translation=আর তোমার প্রভু এই বিধানকে আবশ্যক করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া তোমরা অন্যের উপাসনা করো না।|sura=বনী ইসরাইল|verse=২৩}}&lt;br /&gt;
* ঘোষণা করা এবং সংবাদ প্রদান করার অর্থে: {{inline quran|وَقَضَيْنَآ إِلَىٰ بَنِىٓ إِسْرَ‌ٰٓءِيلَ فِى ٱلْكِتَـٰبِ|translation=আর আমরা বনী ইসরাইলকে কিতাবের মধ্যে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছি।|sura=বনী ইসরাইল|verse=৪}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কালাম শাস্ত্রের পণ্ডিতদের পরিভাষায়, [[জাবর]] (বাধ্য) ও [[এখতিয়ার]] (স্বাধীন) -এর আলোচনায়, ক্বাজা-ই-ইলাহি বা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ভাগ্য হচ্ছে কোনো ঘটনার চূড়ান্ত ও অবশ্যম্ভাবী পরিণতি যখন তার সমস্ত ভূমিকা, কারণ ও পূর্বশর্ত পূরণ হয়েছে। ক্বাজা-ই-ইলাহি বা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ভাগ্য বলতে বুঝায়, কোনো ঘটনা তার ভূমিকা, কারণ এবং পূর্বশর্ত পূরণ হওয়ার পর, তার চূড়ান্ত ও অবশ্যম্ভাবী পরিণতিতে পৌঁছায়।&amp;lt;ref&amp;gt; মিসবাহ ইয়াজদি, মোহাম্মদ তাগি। ধারণার শিক্ষা। গ. ১. পি. ১৮০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ক্বাদার অর্থ ==&lt;br /&gt;
ক্বাদার বা আল্লাহ কর্তৃক ভাগ্য নির্দিষ্টকরণের অর্থ হল, আল্লাহ তাআলা প্রতিটি ঘটনার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ, সীমা, ধরণ, সময় ও স্থান নির্ধারণ করে রেখেছেন। ক্বাদারের পর্যায়টি ক্বাজার আগে আসে। ক্বাদারের পর্যায় হচ্ছে পরিমাপ করা এবং কাজের কারণ ও পটভূমি প্রস্তুত করার পর্যায়, আর ক্বাজার পর্যায় হচ্ছে কাজের সমাপ্তি ও চূড়ান্ত বাস্তবায়নের পর্যায়।&amp;lt;ref&amp;gt; মিসবাহ ইয়াজদি, মোহাম্মদ তাগি। ধারণার শিক্ষা। গ. ১. পি. ১৮০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== জ্ঞানগত ও বস্তুগত ক্বাজা ও ক্বাদার===&lt;br /&gt;
ক্বাজা ও ক্বাদার দুইভাগে বিভক্ত হয়ে থাকে:&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== জ্ঞানগত ক্বাজা ও ক্বাদার ===&lt;br /&gt;
আরও দেখুন: আল্লাহর জ্ঞানের সাথে মানুষের এখতিয়ারের সম্পর্ক&lt;br /&gt;
জ্ঞানগত ক্বাজা ও ক্বাদার বলতে বুঝায় যে, আল্লাহ আগে থেকেই জানেন প্রতিটি ঘটনা কখন, কোথায় এবং কি পরিস্থিতিতে ঘটবে। আল্লাহর এই জ্ঞানের মধ্যে রয়েছে, প্রতিটি ঘটনার ভূমিকা, উৎপত্তির কারণ এবং নিশ্চিত সংঘটনের বিষয়ে জ্ঞান। এ জাতীয় জ্ঞান, জ্ঞানগত ক্বাজা ও ক্বাদার নামে পরিচিত। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
মানুষের আমল (কর্ম) ও পছন্দ সম্পর্কে আল্লাহর জ্ঞান, তাদের এখতিয়ারের সাথে পরস্পর বিরোধী নয়। আল্লাহ জানেন যে, প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের ইচ্ছা ও পছন্দ অনুযায়ী কোন পথ বেছে নেবে; সে পাপের দিকে যাবে নাকি সৎকর্মের পথ বেছে নেবে। এই স্বাধীন কর্মের ফলাফল এবং এর পরিণতিও আল্লাহর জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। এভাবে, মানুষের পছন্দ এবং কাজকর্ম সম্পর্কে আগে থেকেই আল্লাহর জ্ঞান, তাদের এখতিয়ার বা স্বাধীনতার বিষয়কে অস্বীকার করে না বরং এটি বিশ্বের কার্যকারণ ও এখতিয়ার ব্যবস্থার উপর আল্লাহর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের প্রতি নির্দেশ করে।&amp;lt;ref&amp;gt; খাইদানি, লীলা (২০০৮)। &amp;quot;সাদর আল-মালতাহিনের দৃষ্টিকোণ থেকে ঐশ্বরিক পূর্ব জ্ঞান এবং পূর্বনির্ধারণ এবং স্বাধীন ইচ্ছার সাথে কাদা এবং কদরের সম্পর্ক&amp;quot;। দার্শনিক প্রতিফলন (২): ১৫৯-১৬০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== বস্তুগত ক্বাজা ও ক্বাদার ===&lt;br /&gt;
বিশ্বের সমস্ত সৃষ্টি, বিশেষ করে মানুষ এবং অন্যান্য ঘটনাবলি, নির্দিষ্ট সীমা, বাধা-নিষেধ এবং বিশেষ বৈশিষ্ট্য দ্বারা আবদ্ধ। বিশ্বে কোন সৃষ্টিই পূর্ণ অসীম নয়; এমনকি মানুষের ঐচ্ছিক কর্মগুলিও নির্দিষ্ট পরিস্থিতি এবং সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ। উদাহরণস্বরূপ, মানুষ তার হাত বা চোখ দিয়ে কথা বলতে পারে না এবং কথা বলার ক্ষেত্রে তার কণ্ঠনালি, জিহ্বা, দাঁত এবং ঠোঁটের প্রয়োজন। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বস্তুগত ক্বাজা ও ক্বাদার বলতে প্রতিটি ঘটনার মাত্রা, সীমা এবং বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ, যা একটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। এক্ষেত্রে, আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত নিয়তির মধ্যে সত্তাগত বৈশিষ্ট্য এবং বাস্তবায়নের শর্তাবলি অন্তর্ভুক্ত; যেমন প্রতিটি সত্তা কী বৈশিষ্ট্য নিয়ে এবং কোন সময় ও কোন স্থানে অস্তিত্ব লাভ করবে।&amp;lt;ref&amp;gt; সোবহানী, জাফর। ধর্মতাত্ত্বিক বক্তৃতা। কওম। পি. ২২৬-২২৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch = کلام&lt;br /&gt;
| subbranch1 = عدل الهی&lt;br /&gt;
| subbranch2 = جبر و اختیار&lt;br /&gt;
| subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{ارزیابی&lt;br /&gt;
 | شناسه = شد &amp;lt;!--خالی | شد--&amp;gt;&lt;br /&gt;
 | عکس = &amp;lt;!--خالی | شد--&amp;gt;&lt;br /&gt;
 | درگاه = شد &amp;lt;!--خالی | شد--&amp;gt;&lt;br /&gt;
 | ادبیات = شد &amp;lt;!--خالی | شد--&amp;gt;&lt;br /&gt;
 | پیوند = شد &amp;lt;!--خالی | شد--&amp;gt;&lt;br /&gt;
 | ناوبری = &amp;lt;!--خالی | شد--&amp;gt;&lt;br /&gt;
 | تغییرمسیر = شد &amp;lt;!--خالی | شد--&amp;gt;&lt;br /&gt;
 | ارجاعات = شد &amp;lt;!--خالی | شد--&amp;gt;&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی = شد &amp;lt;!--خالی | شد--&amp;gt;&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کیفی = شد &amp;lt;!--خالی | شد--&amp;gt;&lt;br /&gt;
 | اولویت = ب &amp;lt;!--الف | ب | ج | د--&amp;gt;&lt;br /&gt;
 | کیفیت = متوسط &amp;lt;!--خیلی خوب | خوب | متوسط | ضعیف--&amp;gt;&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa: قضا و قدر]]&lt;br /&gt;
[[ur: قضا و قدر]]&lt;br /&gt;
[[en: Divine Decree and Predestination]]&lt;br /&gt;
[[ru: Каза и Кадар]]&lt;br /&gt;
[[ms: Qadha Dan Qadar]]&lt;br /&gt;
[[ar: القضاء والقدر]]&lt;br /&gt;
[[es:El Qadha y el Qadar]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%87_%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE_%E0%A6%B6%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%A6&amp;diff=1007</id>
		<title>কুরআনে শিয়া শব্দ</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%87_%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE_%E0%A6%B6%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%A6&amp;diff=1007"/>
		<updated>2025-02-26T21:46:33Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */ ابرابزار&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{question}}&lt;br /&gt;
কুরআন শরীফে শিয়া কি নেতিবাচক অর্থ বহন করে? কুরআনে শিয়া’র অর্থগুলো উল্লেখ করুন।&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
কুরআনে শিয়া শব্দটি দল, শ্রেণী এবং এছাড়াও অনুসারী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। [[কুরআনে]] এই শব্দটি কখনও ইতিবাচক অর্থে যেরূপভাবে [[হযরত ইব্রাহিম (আ.)]]-কে [[হযরত নূহ (আ.)]]-এর শিয়া ও অনুসারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং কখনও নেতিবাচক যেমন যেসব ব্যক্তিরা তাদের দ্বীনকে খণ্ড খণ্ড করে দলে দলে বিভক্ত হয়েছে, অর্থে এসেছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কিছু আয়াতে শুধুমাত্র কিছু কিছু দলগুলোর স্মরণ করানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে এবং কোন ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোন উদ্দেশ্যে নেই। উদাহরণস্বরূপ পূর্ববর্তী সম্প্রদায়গুলোর জন্য উম্মতসমূহ নামে (&#039;&#039;شِیَعِ&#039;&#039; শব্দটি শিয়া শব্দের বহুবচন যার অর্থ দলসমূহ ও উম্মতসমূহ) স্মরণ করা হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
==আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে শিয়া==&lt;br /&gt;
শিয়ার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে অংশ বিশেষ, দল ও শ্রেণী, সম্প্রদায়, অনুসারী ও সামনের চিহ্ন ধরে অনুসরণ।&amp;lt;ref&amp;gt;ফারাহিদী, খলিল বিন আহমাদ, আল-আইন, গবেষণা: মেহেদী মাখজুমি - ইব্রাহিম সামারাই, কওম, দার আল-হিজরা ফাউন্ডেশন, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪০৯ হিজরি, খণ্ড ২, পৃ. ১৯০১&amp;lt;/ref&amp;gt;&amp;lt;ref&amp;gt;জোহরি, ইসমাইল বিন হাম্মাদ, আল-সাহ, গবেষণা: আহমেদ আবদ আল-গফুর আল-আত্তার, দার আল-আলম লামায়িন, ১৪০৭ হি/১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ, ৩, পৃ.&amp;lt;/ref&amp;gt; কোন সম্প্রদায়ের একটি বিষয় বা একটি সত্যতার প্রতি ঐক্যমত থাকলে তাদেরকে শিয়া বলা হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে মানজুর, মুহাম্মাদ ইবনে মাকরম, লাসান আল-আরব, কওম, আদাব আল-হাওজা পাবলিশিং হাউস, ১৪০৫ হি, খণ্ড ৪, পৃ.&amp;lt;/ref&amp;gt; যদি [[আহলে বাইতের (আ.)]] অনুসারীদেরকে শিয়া বলা হয় তবে তা এই কারণে যে, এরা হচ্ছে সেই দল যারা আহলে বাইতের (আ.) মতাদর্শকে অনুসরণ করেন।&lt;br /&gt;
সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে শিয়া শব্দটি ইসলামী ফিরকাগুলোর মাঝে যে দলটি আহলে বাইতের মাসূমগণের ইমামতে বিশ্বাসী তাদেরকে নির্দেশ করে।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে আথির জাজরি, মুবারক ইবনে মুহাম্মদ, আল-ইয়ানা ফি গারিব আল-হাদিস এবং আল-আথর, গবেষণা: তাহির আহমেদ আল-জাওয়ি, মাহমুদ মুহাম্মদ আল-তানাহি, কওম, ইসমাইলিয়ান ফাউন্ডেশন ফর প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউটিং, 4র্থ সংস্করণ, ১৩৬৪, খণ্ড .২, পৃ ৫১৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; বর্তমানে মুসলমানদের ঐ অংশটিকে শিয়া বলা হয় যারা মহানবী (স.)-এর পরপরই আলী (আ.)-এর খিলাফত ও ইমামতে বিশ্বাসী এবং এই আকিদা পোষণ করেন যে রাসূলুল্লাহর (স.) জানেশীন তথা উত্তরসূরী সরাসরি মহানবীর (স.) (শরীয়তি নাছ) মাধ্যমে নির্ধারিত হন।&amp;lt;ref&amp;gt;শেখ মফিদ, মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ, প্রারম্ভিক প্রবন্ধ, পৃ. ৩৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&amp;lt;ref&amp;gt;শাহরাশতানী, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল করিম, মিল্লাম ওয়া আল-নাহল, খন্ড 1, পৃ.&amp;lt;/ref&amp;gt; [[আলী (আ.)]]-এর অনুসারীদেরকে শিয়া অভিহিত করণ সর্বপ্রথম [[মহানবী (স.)]]-এর পক্ষ থেকে সংঘটিত হয়েছে। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বিশিষ্ট সুন্নি পণ্ডিত সুয়ুতি [[জাবির ইবনে আব্দুল্লাহি আনসারি]] ও [[ইবনে আব্বাস]] এবং আলী ইবনে আবি তালিব হতে রেওয়ায়েত করেছেন যে মহানবী (স.) &lt;br /&gt;
{{inline quran|إِنَّ الَّذينَ آمَنُوا وَ عَمِلُوا الصَّالِحاتِ أُولئِكَ هُمْ خَيْرُ الْبَرِيَّةِ|translation=    |sura=সূরা বাইয়্যেনা |verse=৭}} এই আয়াতের তাফসীরে আলীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন: তুমি ও তোমার শিয়ারা ক্বিয়ামতের দিন পরিত্রাণপ্রাপ্ত হবে।&amp;lt;ref&amp;gt;সিয়ুতি, আবদ আল-রহমান বিন আবি বকর, আল-দুর আল-মুনথর ফি আল-তাফসির মাথুর, কোম, মারাশি নাজাফি পাবলিক লাইব্রেরি, প্রথম সংস্করণ, ১৪০৪ হি, খণ্ড ৬, পৃ. ৩৭৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; আহলে সুন্নতের গ্রন্থসমূহে উল্লেখিত হয়েছে: মহানবীর (স.) কাছে অবস্থান করছিলাম, তখন আলী আসলো, রাসূলুল্লাহ (স.) বললেন: কসম ঐ আল্লাহর যার হাতে আমার জীবন, সে এবং তার শিয়ারা ক্বিয়ামতের দিন মুক্তিপ্রাপ্ত হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই আয়াতটি অবতীর্ণ করেন: {{inline quran|إِنَّ الَّذينَ آمَنُوا وَ عَمِلُوا الصَّالِحاتِ أُولئِكَ هُمْ خَيْرُ الْبَرِيَّةِ|translation=    |sura=সূরা বাইয়্যেনা |verse=৭}} মহানবীর (স.) সাহাবাগণ যখনই  আলী (আ.)-কে দেখতেন, বলতেন: جاء خير البرية ; আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি এসেছে।&amp;lt;ref&amp;gt;সিয়ুতি, আবদ আল-রহমান বিন আবি বকর, আল-দুর আল-মান্থুর ফি আল-তাফসির ইন মাথুর, কওম, মারাশি নাজাফি পাবলিক লাইব্রেরি, প্রথম সংস্করণ, ১৪০৪ হি, খণ্ড ৬, পৃ. ৩৭৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
==কুরআনে শিয়া==&lt;br /&gt;
=== দল ও শ্রেণী ===&lt;br /&gt;
কুরআনে শিয়ার অন্যতম একটি অর্থ হচ্ছে দল ও শ্রেণী, এই অর্থে শিয়া ৯ বার ইতিবাচক এবং ৯ বার নেতিবাচক অর্থ বহন করে। যেমন: &lt;br /&gt;
* {{inline quran|قُلْ هُوَ الْقادِرُ عَلی أَنْ یَبْعَثَ عَلَیْکُمْ عَذاباً مِنْ فَوْقِکُمْ أَوْ مِنْ تَحْتِ أَرْجُلِکُمْ أَوْ یَلْبِسَکُمْ شِیَعاً|translation=বলুন: তিনি তোমাদের উপর থেকে অথবা পদতল থেকে আযাব পাঠাতে (সক্ষম)  অথবা তোমাদেরকে দলে দলে বিভক্ত করতে সক্ষম|sura=সূরা আনআম|verse=৬৫}}&lt;br /&gt;
* {{inline quran|وَ لَقَدْ أَرْسَلْنا مِنْ قَبْلِکَ فی شِیَعِ الْأَوَّلینَ|translation=আমি আপনার পূর্বে অতীত সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে রাসূল প্রেরণ করেছি।|sura=সূরা হিজর |verse=১০}}&lt;br /&gt;
* {{inline quran|ثُمَّ لَنَنْزِعَنَّ مِنْ کُلِّ شیعَه أَیُّهُمْ أَشَدُّ عَلَی الرَّحْمنِ عِتِیًّا|translation=অতঃপর প্রত্যেক দল হতে দয়াময়ের প্রতি সবচেয়ে অবাধ্যকে অবশ্যই টেনে বের করব।|sura=সূরা মরিয়ম|verse=৬৯}}&lt;br /&gt;
* {{inline quran|إِنَّ فِرْعَوْنَ عَلا فِی الْأَرْضِ وَ جَعَلَ أَهْلَها شِیَعاً|translation=বস্তুতঃ ফেরাউন যমীনে উদ্ধত হয়ে গিয়েছিল আর সেখানকার অধিবাসীদেরকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করে|sura=সূরা কাছাছ|verse=৪}}&lt;br /&gt;
* {{inline quran|مِنَ الَّذینَ فَرَّقُوا دینَهُمْ وَ کانُوا شِیَعاً کُلُّ حِزْبٍ بِما لَدَیْهِمْ فَرِحُونَ|translation=যারা নিজেদের দ্বীনকে বিভক্ত করে ফেলেছে এবং বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে গেছে! এবং (আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে) প্রত্যেক দল নিজেদের কাছে যা আছে তাই নিয়ে উল্লসিত।|sura=সূরা রুম|verse=৩২}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== অনুসারী ===&lt;br /&gt;
কুরআনে শিয়া শব্দটির দ্বিতীয় ব্যবহার অনুসারী অর্থে, অনুসরণকারী তথা যে ব্যক্তি একটি বিশেষ মতাদর্শের অনুসরণ করে। সুতরাং যদি পূর্ণাঙ্গ ও উত্তম মানুষের অনুসরণ করা হয় তবে শিয়া ইতিবাচক অর্থ লাভ করে এবং যদি অত্যাচারীর অনুসরণ করা হয় তবে নেতিবাচক অর্থ লাভ করবে। আর কিছু আয়াত এই দলটিকে পরিচয় করিয়েছে যা নিম্নরূপ:&lt;br /&gt;
* {{inline quran|وَ إِنَّ مِنْ شیعَتِهِ لَإِبْراهیمَ|translation=এবং তার অনুসারী হতে ছিল ইব্রাহিম|sura=সূরা সাফ্ফাত|verse=৮৩}} এই আয়াত অনুসারে হযরত ইব্রাহিম (আ.) হচ্ছেন হযরত নূহ (আ.)-এর একজন অনুসারী।&lt;br /&gt;
* {{inline quran|وَ دَخَلَ الْمَدینَه عَلی حینِ غَفْلَه مِنْ أَهْلِها فَوَجَدَ فیها رَجُلَیْنِ یَقْتَتِلانِ هذا مِنْ شیعَتِهِ وَ هذا مِنْ عَدُوِّهِ فَاسْتَغاثَهُ الَّذی مِنْ شیعَتِهِ عَلَی الَّذی مِنْ عَدُوِّهِ فَوَکَزَهُ مُوسی فَقَضی عَلَیْهِ قالَ هذا مِنْ عَمَلِ الشَّیْطانِ إِنَّهُ عَدُوٌّ مُضِلٌّ مُبینٌ|translation=সে শহরে প্রবেশ করল যখন সেখানকার লোকেরা অসতর্ক অবস্থায় ছিল, সে হঠাৎ দু’জন পুরুষকে দেখতে পেল যারা সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল। একজন তার দলের, অপরজন তার শত্রু দলের। তখন তার দলের লোকটি তার শত্রুদলের লোকটির বিরুদ্ধে তার কাছে সাহায্যের আবেদন জানালো। তখন মূসা তার বুকে ঘুসি মারল এবং সে মৃত্যুবরণ করল। মূসা বলল: এটা শয়তানের কাজ। সে নিশ্চয় প্রকাশ্য শত্রু, গুমরাহকারী।|sura=সূরা কাছাছ|verse=১৫}} এই আয়াতে হযরত মূসার (আ.) ও ফেরাউন উভয়ের অনুসারীদেরকে শিয়া বলা হয়েছে।&lt;br /&gt;
* {{inline quran|وَ حیلَ بَیْنَهُمْ وَ بَیْنَ ما یَشْتَهُونَ کَما فُعِلَ بِأَشْیاعِهِمْ مِنْ قَبْلُ إِنَّهُمْ کانُوا فی شَکٍّ مُریبٍ|translation=(শেষ পর্যন্ত) তাদের এবং তাদের কামনা-বাসনার মাঝে রেখে দেওয়া হয়েছে এক প্রাচীর, তাদের মতের ও পথের (অনুসারীদের) লোকদের ক্ষেত্রে পূর্বেও এমনটিই করা হয়েছিল, কারণ তারা ছিল সংশয়পূর্ণ সন্দেহে পতিত।|sura=সূরা সাবা|verse=৫৪}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== বিক্ষিপ্ততা ও চিন্তাধারার মধ্যে মতপার্থক্য ===&lt;br /&gt;
শিয়া কখনও কখনও চিন্তাধারাসমূহের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হওয়া এবং বিক্ষিপ্ত হওয়া অর্থে, যা  মাযহাব সৃষ্টির কারণ, ব্যবহৃত হয়:&lt;br /&gt;
* {{inline quran|إِنَّ الَّذینَ فَرَّقُوا دینَهُمْ وَ کانُوا شِیَعاً لَسْتَ مِنْهُمْ فی شَیْءٍ |translation=যারা নিজেদের দ্বীনকে খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত করে নিয়েছে এবং দলে দলে (বিভিন্ন মাযহাবে) ভাগ হয়ে গেছে  তাদের কোন কাজের সাথে তোমার কোন সম্পর্ক নেই।|sura=সূরা আনআম|verse=১৫৯}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{footnotes}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch = علوم و معارف قرآن&lt;br /&gt;
| subbranch1 = مفردات قرآن&lt;br /&gt;
| subbranch2 =&lt;br /&gt;
| subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه = شد&lt;br /&gt;
 | تیترها = شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش = شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی = شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر = شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | بازبینی نویسنده =&lt;br /&gt;
 | بازبینی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت = ب&lt;br /&gt;
 | کیفیت = ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[ur:لفظ شیعه قرآن میں]]&lt;br /&gt;
[[fa: کلمه شیعه در قرآن]]&lt;br /&gt;
[[en: The Term Shi‘a in the Quran]]&lt;br /&gt;
[[ms: Kata Syiah Dalam Al-Quran]]&lt;br /&gt;
[[ar: کلمة شیعة فی القرآن الکریم]]&lt;br /&gt;
[[ru:Слово шиа в Коране]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%96%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF_%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE&amp;diff=1006</id>
		<title>আখিরাতের প্রতি বিশ্বাসের উপকারিতা</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%96%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF_%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE&amp;diff=1006"/>
		<updated>2025-02-26T20:34:45Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
মানব জীবনে আখিরাত ও কিয়ামতের প্রতি বিশ্বাসের উপকারিতা কি?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{اصول دین و فروع دین}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস এমন একটি বিষয় যা মানুষের আকীদা, আচরণ এবং নৈতিকতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এমনকি তাওহীদের প্রতি [[বিশ্বাস]] ও এর মতো প্রভাব ফেলতে সক্ষম নয়। আখিরাত তথা পরকাল হল ইসলামের তিনটি মূল আকীদার একটি। যদি কেউ আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস না রাখে, তবে সে যেন তাওহীদ এবং নবুওয়াতের প্রতিও বিশ্বাস স্থাপন করেন নি এবং [[ইসলাম]] ধর্মের অন্তর্ভূক্ত হন নি।&amp;lt;ref&amp;gt;নিগাহ কুনিদ বে তাবাতাবাঈ, সাইয়িদ মুহাম্মদ হোসাইন, মাজমুআয়ে মাকালাত, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৩০; নিগাহ কুনিদ বে মিসবাহ ইয়াজদি, মুহাম্মদ তাকি, পন্দে জাভিদ, পৃষ্ঠা ২৮৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
যে ব্যক্তির আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস থাকে, সে জানে যে দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং বিশ্ব চিরন্তন ও অনন্ত একটি জগতের দিকে ধাবমান। যখন [[মানুষ]] এই দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ীত্বতার বিষয়টি অনুধাবন করে, তখন সে তার অভ্যন্তরীণ অনুভূতি এবং প্রবৃত্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয় এবং সেগুলোকে নিজের আসল উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য অনুযায়ী পরিচালনা করতে শুরু করে। আখিরাত এবং আল্লাহর পুরস্কার ও শাস্তি’র প্রতি বিশ্বাস মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধের অনুভূতিকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। এছাড়াও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস সামাজিক আইনসমূহের বাস্তবায়ন এবং অন্যান্য মানুষের অধিকার রক্ষা করার নিশ্চয়তা প্রদানকারী হিসেবে বিবেচিত।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== পার্থিব জীবনের ক্ষণস্থায়ীত্বতার উপলব্ধি ==&lt;br /&gt;
আখিরাত ও কিয়ামতের প্রতি [[বিশ্বাস]] এবং এর স্মরণ মানুষের চিন্তা-ভাবনায় যে প্রভাব ফেলে তা হচ্ছে এই যে, [[মানুষ]] নিজেকে এবং সমস্ত কিছুকেই এক বাস্তব ধারণায় দেখতে শুরু করে এবং ব্যক্তি নিজেকে এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর একটি অংশ হিসেবে চিন্তা করে। আর সে অনুধাবন করে, সে এবং তার চারপাশের সবকিছু এক স্থায়ী ও চিরন্তন জগতের দিকে ধাবিত হচ্ছে।&amp;lt;ref&amp;gt;নিগাহ কুনিদ বে তাবাতাবাঈ, সাইয়িদ মুহাম্মদ হোসাইন, মাজমুআয়ে মাকালাত, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৩২।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ ও উত্তম গুণাবলীর বিকাশ ==&lt;br /&gt;
যখন মানুষ প্রকৃত দৃষ্টি দিয়ে দুনিয়ার ক্ষণাস্থায়ীত্বতার বিষয়টি অনুধাবন করে, তখন সে তার অভ্যন্তরীণ অনুভূতি এবং প্রবৃত্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয় এবং সেগুলোকে নিজের আসল উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য অনুযায়ী পরিচালনা করতে সীমাবদ্ধ করে। আখিরাত এবং আল্লাহর পুরস্কার ও শাস্তি’র প্রতি বিশ্বাস মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধের অনুভূতিকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপণকারী ব্যক্তি যখন পরকালীন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির কথা স্মরণ করে, তখন সে কোন অবস্থাতেই আর অসতর্ক থাকতে পারে না। আর এই পৃথিবীর ক্ষণস্থায়ী জীবনের সাথে আখিরাতের চিরন্তন জীবনকে তুলনা করে মানুষ আখিরাতের সুখ এবং শান্তি অর্জনের প্রতি উৎসাহি হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সত্যিকার অর্থে, আখিরাত তথা পরকালের প্রতি বিশ্বাস এবং মৃত্যু ও কিয়ামত দিবসের স্মরণ মানুষকে গাফলতি’র অতল গহবরে নিমজ্জিত হওয়া থেকে বিরত থাকতে সাহায্য করে এবং তাকে পরলৌকিক চিরস্থায়ী জীবনের দিকে মনোনিবেশ করতে উৎসাহিত করে, যাতে সে গুনাহ, অপরাধ এবং অনাচারে জড়িয়ে না পড়ে। সুতরাং, আমাদের অভ্যন্তরীণ প্রবৃত্তির উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এবং আত্মশুদ্ধির একটি উপায় হলো এই যে, আমাদেরকে স্মরণে রাখতে হবে আমাদের চূড়ান্ত কর্ম মৃত্যু। আর অতি শীঘ্রই আমরা এই দুনিয়া ছেড়ে আখিরাতে পাড়ি জমাবো এবং আমাদের কৃত আমলসমূহ, আচরণ এবং বিশ্বাসের উপযুক্ত ফলাফলের সম্মুখীন হবো।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
যখন মানুষ মৃত্যু এবং আখিরাতকে স্মরণ করার মাধ্যমে গড়ে ওঠে তখন এরূপ একটি বিশ্বাসের কার্যকরী নিশ্চয়তা থাকে এবং এই আকীদা ও বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে তার সমস্ত নৈতিকতা, আচার-আচরণ এবং আকীদাসমূহ পরিচালিত হয়। কিন্তু যে ব্যক্তি মৃত্যু এবং আখিরাতকে স্মরণের ক্ষেত্রে গাফিলতিতে নিমজ্জিত থাকে, তার পক্ষে আইনের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার কোন কারণই নেই, ফলে ঐ ব্যক্তি অতি সহজেই যেকোনো অপকর্মে লিপ্ত হতে সক্ষম হয়। তাই, মৃত্যু, কিয়ামত ও আখিরাতের স্মরণ এবং এগুলোর প্রতি বিশ্বাস শুধুমাত্র মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিসমূহকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে এবং মানুষের স্বভাব প্রকৃতির আগ্রাসন রোধ করতে সাহায্য করে না, বরং তার উত্তম গুণাবলির বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়ক হয়। কারণ, যে ব্যক্তি সর্বদা আখিরাতকে স্মরণে রাখে, সে তার সমস্ত আমলসমূহ এবং আচরণের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থায় থাকে। আর সর্বদা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তার তার সমস্ত চেষ্টা প্রচেষ্টা নিবদ্ধ করে।&amp;lt;ref&amp;gt;নিগাহ কুনিদ বে তাবাতাবাঈ, সাইয়িদ মুহাম্মদ হোসাইন, মাজমুআয়ে মাকালাত, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৩২–১৩৪; রেফার করুন মিসবাহ ইয়াজদি, মুহাম্মদ তাকি, পন্দে জাভিদ, পৃষ্ঠা ২৮৫–২৮৯; রেফার করুন সুবহানি, জাফর, মাআদে ইনসান ও জাহান, পৃষ্ঠা ১৭; রেফার করুন জাওয়াদি আমুলি, আবদুল্লাহ, মাআদ দার কুরআন তাফসিরে মাওজুয়ি, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২২, ২৪, ২৯–৩০ ও ৩৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== সামাজিক ন্যায়পরায়ণতার নিশ্চয়তা ==&lt;br /&gt;
আজকাল বিচার বিভাগ এবং প্রশাসন কিছুটা হলেও মানব সমাজে শৃঙ্খলা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে, তবে এটি শুধু প্রকাশ্য অপরাধ ও দুর্নীতির সাথে সম্পর্কিত। গোপন ও অপ্রকাশ্য অপরাধসমূহের ক্ষেত্রে এই পন্থা মোটেও কার্যকর নয়। এছাড়াও যদি শাসকগণ নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চান, তখন তাদের বিরুদ্ধেও কোন শক্তি বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে সক্ষম নয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এখানে, মানব সরকারসমূহ সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অচল অবস্থার মুখে পতিত হন; কিন্তু এমন একটি সমাজ ব্যবস্থা যার পরিকল্পনা ও কর্মসূচীর ভিত্তিকে ঈমান ও আল্লাহর ভয়ের উপর নির্মিত হয়, সেখানে এরূপ সমস্যার সম্মুখীন হয় না। কারণ, পাপের শাস্তি বা পরলৌকিক আযাবসমূহ আইন বাস্তবায়নের সর্বশ্রেষ্ঠ নিশ্চয়তা বিধানকারী হিসেবে কাজ করবে।&amp;lt;ref&amp;gt;নিগাহ কুনিদ বে সুবহানি, জাফর, মাআদে ইনসান ও জাহান, পৃষ্ঠা ১৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== জীবনে প্রচেষ্টা ও কর্মকাণ্ড ==&lt;br /&gt;
মৃত্যু এবং মৃত্যু পরবর্তী দুনিয়া এবং কিয়ামতের বিষয় সম্পর্কে চিন্তাভাবনা মানুষের জীবনকে তিক্ত করে তোলে না এবং তাকে জীবনযাত্রার কার্যক্রম ও প্রচেষ্টা থেকে বিরত রাখে না। কারণ, মানুষের জীবনযাপন সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড ও চেষ্টা প্রচেষ্টার মূল কারণ হলো তার চাহিদার অনুভূতি। আর মৃত্যু এবং কিয়ামতের স্মরণ তার প্রয়োজন ও চাহিদার অনুভূতিকে ধ্বংস হয়ে যায় না। তবে হ্যাঁ, আখিরাত এবং কিয়ামতকে স্মরণ করার ফলে মানুষ কামুক প্রবৃত্তির অতিরিক্ত চাহিদা থেকে নিজেকে বিরত রাখে। আর সে নিজেকে এমন পথে পরিচালিত করে, যেখানে সে জানে যে, তার প্রতিটি সৎ কর্মের জন্য তাকে আখিরাতে পুরস্কৃত করা হবে। সুতরাং, সে তার সকল চেষ্টা ও প্রচেষ্টাকে সেই লক্ষ্যের সাথেই সম্পৃক্ত করে।&amp;lt;ref&amp;gt;নিগাহ কুনিদ বে তাবাতাবাঈ, সাইয়িদ মুহাম্মদ হোসাইন, মাজমুআয়ে মাকালাত, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৩২।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
{{end}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
| main branch =کلام&lt;br /&gt;
| subbranch1 =معاد&lt;br /&gt;
| subbranch2 =جایگاه و ضرورت معاد&lt;br /&gt;
| subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه = شد&lt;br /&gt;
 | تیترها = شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش = شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی = شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه = شد&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر = شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | بازبینی نویسنده =&lt;br /&gt;
 | بازبینی = شد&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت = ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت = ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:کارکرد اعتقاد به معاد]]&lt;br /&gt;
[[ar:آثار الإیمان بالمعاد]]&lt;br /&gt;
[[ES:La función de la creencia en la resurrección]]&lt;br /&gt;
[[ps:پر قیامت باندی د اعتقاد رول]]&lt;br /&gt;
[[fr:Effets de la croyance en le Retour à Dieu]]&lt;br /&gt;
[[ur:آخرت پر ایمان کے اثرات]]&lt;br /&gt;
[[رده:تاثیر اعتقاد به معاد]]&lt;br /&gt;
[[رده:کارکرد اعتقاد به معاد]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE_%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF_(%E0%A6%89%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8)&amp;diff=1005</id>
		<title>ইসলাম ধর্মের মূলনীতি (উসুলে দ্বীন)</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE_%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF_(%E0%A6%89%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8)&amp;diff=1005"/>
		<updated>2025-02-25T21:57:51Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* সম্পর্কিত নিবন্ধ */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
ইসলাম ধর্মের মূলনীতিসমূহ কী কী?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
ইসলাম ধর্মের মূলনীতি (উসুলে দ্বীন) হিসেবে [[তাওহীদ]], [[নবুওয়াত]] এবং [[মাআদ]] বা কিয়ামতকে গন্য করা হয়। বলা হয় যে, এই তিনটি মূলনীতি হচ্ছে ধর্মের ভিত্তি এবং স্তম্ভ। শিয়া পণ্ডিতগণ এই তিনটি মূলনীতির সাথে [[আদল]] ও [[ইমামত]] নামক আরও দুটি মূলনীত যোগ করেছেন। ফলে, শিয়াদের নিকট উসুলে দ্বীন হচ্ছে মোট পাঁচটি। উসুলে দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং অবিশ্বাস মানুষকে ইসলাম থেকে খারিজ করে দেয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উসুলে দ্বীন পরিভাষাটি কুরআন বা হাদিসে উল্লেখিত হয় নি। কিছু কিছু কালামশাস্ত্রবিদগণ এই পরিভাষাটি’র নামকরণ করেছেন। উসুলে দ্বীন শব্দটির কখন উৎপত্তি ঘটেছে এবং কে এর নামকরণ করেছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। উক্ত পরিভাষাটির প্রবর্তকদের মতে, এই আকীদাগুলোকে উসুলে দ্বীন হিসেবে অভিহিত করার কারণ হচ্ছে হাদিস, ফিকহ এবং কুরআনের তাফসীরের মতো ধর্মীয় জ্ঞানের শাখাগুলো এই মূল নীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== পরিভাষাটির ইতিহাস ==&lt;br /&gt;
উসুলে দ্বীন (ধর্মের মূলনীতিসমূহ) পরিভাষাটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। ইসলাম ধর্মের চিন্তা-চেতনার ইতিহাসে পরিভাষাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে, কুরআনে এবং  শিয়া এবং সুন্নিদের হাদিসগুলোতে ধর্মীয় জ্ঞানের শ্রেনী-বিভাগ হিসেবে উসুল (মূলনীতি) এবং ফুরুঅ (শাখা) বলে কিছুর অস্তিত্ব নেই। এই বিষয়টি এটাই প্রমাণ করে যে, এই পরিভাষা ‍দুটি কিছু কিছু কালামশাস্ত্রবিদ দ্বারা প্রবর্তিত হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[ইবনে তায়মিয়া’র]] (মৃত্যু: ৭২৮ হিজরি) মতো কিছু মুসলিম পণ্ডিত, যারা মূলত কালামশাস্ত্র, যুক্তিবিদ্যা এবং দর্শনশাস্ত্রকে ধর্ম ও দ্বীনদারির ক্ষেত্রে বিরোধী বলে মনে করেন, তারা এ প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন,  এই কারণে যে, উসুলে দ্বীন কুরআন বা হাদিসের কোন পরিভাষা নয়, এরূপ পরিভাষার প্রবর্তনকে [[মহানবী (স.)]] এর শিক্ষার পরিপন্থী হিসেবে মনে করেন। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উসুলে দ্বীন শব্দটির উৎপত্তি কখন ঘটেছে এবং কে এর নামকরণ করেছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। ইবনে নাদিমও উসুলে দ্বীন শিরোনামে আবু মুসা মুরদারের লেখা একটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন। আর এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর প্রথম দিকে এই শব্দটি প্রচলিত এবং প্রতিষ্ঠিত ছিল।&amp;lt;ref&amp;gt;গযাশতে, নাসের, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে ইরান, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৪, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== অবস্থান ও গুরুত্ব ==&lt;br /&gt;
ইসলামের আকীদাগত মূলনীতি অর্থাৎ [[তাওহীদ]] (আল্লাহর একত্ববাদ), [[নবুওয়াত]] এবং মাআদ বা [[কিয়ামতের]] প্রতি ঈমান ও আকীদা। এই তিনটি মূলনীতি ইসলাম ধর্মের ভিত্তি ও স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এমনভাবে যে, এই ধর্মে বর্ণিত হওয়া সবকিছুই মূলনীতিগুলোর একটির  মাধ্যমে অথবা তিনটির মাধ্যমেই অর্থবহ হয়ে ওঠে। সুতরাং, ইসলাম ধর্মের ছায়াতলে আসা সমস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আকীদা-বিশ্বাসের ব্যাপারে অল্প-বিস্তর পার্থক্য পরিলক্ষিত হলেও এই মূলনীতির ক্ষেত্রে তারা সকলেই একমত।&amp;lt;ref&amp;gt; জামি&#039;য়ে আয নেভেসান্দেগান, &amp;quot;ইসলাম&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৮, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইমামিয়া শিয়া কালামশাস্ত্রবিদগণে ধর্মের মূলনীতির সংখ্যা কয়টি এবং কোন কোন বিষয় এর অন্তর্ভূক্ত তা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। সবচেয়ে প্রসিদ্ধ মত হল  এই যে, উসুলে দ্বীনের মধ্যে [[নামায]], [[রোযা]], মাআদ তথা কিয়ামত এই তিনটি বিষয় অন্তর্ভূক্ত। তবে, আদল ও ইমামতকেও মাযহাবের মূলনীতি হিসেবে যোগ করতে হবে।&amp;lt;ref&amp;gt;গযাশতে, নাসের, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে ইরান, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৪, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt; এই মূল নীতিগুলির প্রতি অজ্ঞতা বা বিশ্বাসের অভাব ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে খারিজ করে দেয়। একইভাবে, মাযহাবের মৌলিক নীতিগুলির প্রতি অজ্ঞতা বা বিশ্বাসের অভাব একজন ব্যক্তিকে শিয়া মাযহাব থেকে খারিজ তথা বহিষ্কার করে দেয়।&amp;lt;ref&amp;gt;জামি&#039;য়ে আয মোহাক্কেকিন, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে কালামে ইসলামী, পৃ:৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অধিকাংশ মুসলিম পণ্ডিত মনে করেন যে, উসুলে দ্বীনের ক্ষেত্রে তাক্বলীদ  (অনুসরণ)  করা জায়েয বা বৈধ নয়। উসুলে দ্বিনের ক্ষেত্রে মানুষকে অবশ্যই দলিল প্রমাণের মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। । এই বিষয়টির উপর আলেমদের মধ্যে ইজমা তথা ঐক্যমতের দাবি করা হয়েছে। তবে, অন্য একদল যেমন আবু হানিফা, সুফিয়ান থুরী, আওযায়ী, মালিক, শাফেয়ী, আহমাদ ইবন হাম্বাল এবং আহলে হাদিসের অনুসারীরা মনে করেন যে, যদিও মৌলিক বিশ্বাসের ক্ষেত্রে যুক্তি-প্রমাণ থাকা ওয়াজীব তথা বাধ্যতামূলক এবং তা ত্যাগ করা পাপ হিসেবে গণ্য হয়, তবে তাক্বলীদ বা অনুকরণের ভিত্তিতে ঈমান গ্রহণযোগ্য।&amp;lt;ref&amp;gt;জামি&#039;য়ে আয মোহাক্কেকিন, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে কালামে ইসলামী, পৃ:৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অনেক ধর্মীয় পণ্ডিতের মতে, ধর্মের মূলনীতি সমূহের প্রতি বিশ্বাস ছাড়া ব্যক্তির মুসলিম হওয়া সম্ভব নয় এবং এগুলির মধ্যে কোন একটা অস্বীকার করলে কাফির হিসেবে গণ্য এবং শাস্তির যোগ্য বিবেচিত হবেন। উক্ত পরিভাষাটির প্রবর্তকদের মতে, এই আকীদাগুলোকে উসুলে দ্বীন হিসেবে অভিহিত করার কারণ হচ্ছে হাদিস, ফিকহ এবং কুরআনের তাফসীরের মতো ধর্মীয় জ্ঞানের শাখাগুলো এই মূল নীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। বলা হয় যে, ধর্ম হচ্ছে একটি শিকরড় বিশিষ্ট গাছের ন্যায়, আর উসুলে দ্বীন হচ্ছে ধর্মের শিকড়, যার অস্তিত্বের উপর নির্ভর করে গাছের জীবন।&amp;lt;ref&amp;gt;গযাশতে, নাসের, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে ইরান, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৪, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== উসুলে দ্বীনের উদাহরণ ==&lt;br /&gt;
=== তাওহীদ (একত্ববাদ) ===&lt;br /&gt;
[[তাওহীদ]] হল ইসলাম ধর্মে আকীদা-বিশ্বাসের সবচেয়ে মৌলিক শিক্ষা, যার তাত্ত্বিক এবং কার্যকরী বিভিন্ন দিক রয়েছে। তাওহীদের অর্থ অনুসারে, আল্লাহ একক ও অ-দ্বিতীয় সত্ত্বা, সমস্ত গুণাবলী পূর্ণাঙ্গ রূপে তার মধ্যে বিদ্যমান, তার সমতুল্য ও সমকক্ষ কেউ নেই, পরিবর্তনহীন, সমস্ত জগতের একমাত্র স্রষ্টা এবং তার কোন শরীক নেই। মহাবিশ্বের পরিচালনা তাঁর ইরাদা বা ইচ্ছার মাধ্যমে সংঘটিত হয়, এবং তাঁর জ্ঞান এবং ক্ষমতা সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। সমস্ত সৃষ্টির অবশ্যকরণীয় হচেছ তাঁকে উপাসনা করা, যে উপাসনা কোনো মধ্যস্থতার মুপাপেক্ষীতা ছাড়াই। কুরআন অনুযায়ী, আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস মানুষের ফিতরাত ও  স্বভাব-প্রকৃতিতে নিহিত। আর একত্ববাদ ব্যতীত যেকোন বহুত্ববাদের আকীদা ও  বিশ্বাস হচ্ছে বিচ্যুত চিন্তাধারা, আর এই বিচ্যুত চিন্তাধারা মানসিক, পরিবেশগত, ভৌগোলিক বা ঐতিহাসিক কারণ থেকে উৎসারিত হয়। সমস্ত [[নবীগণ (আ.)]] ছিলেন তাওহীদের দিকে আহ্বানকারী এবং তাদের বেশীরভাগই শিরক, বহু ইশ্বরবাদী ধর্ম এবং মূর্তিপূজা বিলুপ্ত করায় সচেষ্ট ছিলেন।&amp;lt;ref&amp;gt; তারেমি রাদ, হাসান, ও দিগেরান, &amp;quot;তাওহীদ&amp;quot;, দানেশনামায়ে জাহানে ইসলাম, বুনিয়াদে দায়েরাতুল মাআরিফে ইসলামী, ১৩৯৩ শামসি, খ:৮, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== নবুওয়াত ===&lt;br /&gt;
[[নবুওয়াতে]]র প্রতি বিশ্বাস অর্থ হল যে, মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলেন আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর প্রেরিত প্রতিনিধি। তাঁকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নবী প্রেরণের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। কুরআন হল আল্লাহর বানী যা তাঁর উপর ওহী করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;জামি&#039;য়ে আয নেভেসান্দেগান, &amp;quot;ইসলাম&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৮, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== মাআদ  ===&lt;br /&gt;
[[মআদ]] শব্দটির অর্থ ফিরে আসা। কালামশাস্ত্রবিদ এবং দার্শনিকদের মতানুসারে, মাআদ বলতে মৃত্যু পরবর্তী জীবনকে বুঝায় অর্থাৎ মানুষকে যখন পুনরায় জীবিত করা হবে। মআদ সেই দিনকে বলা হয়, যেদিন মানুষের কাজগুলির মূল্যায়ন করা হবে, সৎ ব্যক্তিরা তাদের ভাল কাজের জন্য পুরস্কৃত হবেন এবং পাপী ব্যক্তিরা তাদের খারাপ কাজের জন্য শাস্তি পাবেন। ধর্ম, কালামশাস্ত্রবিদদের ও দর্শনে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির প্রতি দেরীতে লক্ষ্য করা হয়েছে সেটি হচেছ মৃত্যু পরবর্তী জীবনের বিষয় এবং মাআদ। ধর্মবিশ্বাসীরা মৃত্যুর পরের জীবনের প্রতি বিশ্বাসী ছিলেন এবং তারা পরকালকে তাদের বিশ্বাসের মৌলিক একটি ভিত্তি হিসেবে মনে করেন।&amp;lt;ref&amp;gt; সাজাদী, জাফর, ফারহাঙ্গে মাআরিফে ইসলামী, খ:৩, পৃ:১৮১৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== আদল (আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতা) ===&lt;br /&gt;
যদিওবা [[আদল]] তথা ন্যায়বিচার সংক্রান্ত সিফাতটিও (গুণ) আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অন্যতম কর্ম গুণ। তবে এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে বিষয়টি নিয়ে আশআরী, শিয়া এবং মু&#039;তাযিলীদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের কারণে। আর এর ফলে শিয়ারা এবং মু&#039;তাযিলীরা আদলিয়া (আল্লাহর ন্যায়বিচারের সমর্থক) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে; এভাবেই  ধীরে ধীরে ন্যায়বিচার নামক মূলনীতিটিও ইমামতের পাশাপাশি শিয়া মাযহাবের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আল্লাহর অনেক কর্ম গুণ (সিফাতে ফে’লি)  আসলে আদলের সাথে সম্পর্কিত। আদল তথা ন্যায়বিচারের বিস্তৃত ধারণা বিবেচনা করে, যার মধ্যে ধর্মীয়, নৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার অন্তর্ভূক্ত, এরূপ আকীদার মূলনীতিকে ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরাটাই যথার্থ।&amp;lt;ref&amp;gt;&amp;quot;[http://www.makarem.ir/main.aspx?typeinfo=42&amp;amp;lid=0&amp;amp;mid=412783&amp;amp;catid=-2 আদল আয উসূল উদ-দীন]&amp;quot;, পাইগাহে এট্তেলাআর-রেসানিয়ে দফতারে আয়াতুল্লাহ মাকারেম শিরাযী, এন্তেশার: ১০ মেহর ১৩৯৭ শামসি, বাযদীদ: ৯ আবান ১৪০২ শামসি।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== ইমামত ===&lt;br /&gt;
[[ইমামত]] একটি ঐশ্বরিক দায়িত্ব। শুধুমাত্র ওহী প্রাপ্তি ও এর অনুরূপ কিছু ব্যতীত নবীদের সমস্ত দায়িত্ব ইমামদের (আ.) জন্যও নির্ধারিত। এই দিক থেকে, নিষ্পাপতা যেমন নবুওযোতের শর্ত তেমন ইমামতের ক্ষেত্রেও শর্ত। এই পার্থক্যের কারণেই আমরা ইমামতকে উসুলে দ্বীনের অংশ হিসেবে  মনে করবো।&amp;lt;ref&amp;gt;&amp;quot;[https://maaref.makarem.ir/fa/article/index/393448/ তারিফে ইমামত]&amp;quot;, পাইগাহে এট্তেলাআর-রেসানিয়ে দফতারে আয়াতুল্লাহ মাকারেম শিরাযী, এন্তেশার: ২৯ ফররদিন ১৩৯৫ শামসি, বাযদীদ: ৯ আবান ১৪০২ শামসি।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইমামত নিঃসন্দেহে ইমামিয়া শিয়াদের কালাম বিষয়ক চিন্তাধারায় কেন্দ্রীয় স্থানের অধিকারী। শিয়ারা একদিকে ইমামদের ঐশ্বরিক মনোনয়ন (নাস) এবং নিষ্পাপতায় (ইসমাত)  বিশ্বাস করে, অন্যদিকে ইমামদের ইমামদের একচেটিয়া ধর্মীয় কর্তৃত্বের প্রতি আকীদা পোষণ করে, আর এই বিষয়টি হতে পারে এই পদের গুরুত্ব নির্দেশ করার মাধ্যম।&amp;lt;ref&amp;gt;আনসারী, হাসান, &amp;quot;ইমামত&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, তেহরান, মারকাযে দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== সম্পর্কিত নিবন্ধ ==&lt;br /&gt;
* [[ফুরুয়ে দ্বীন (ধর্মের শাখাসমূহ)]]&lt;br /&gt;
* [[উসুলে দ্বিন এবং ফুরূয়ে দ্বিনের মধ্যে পার্থক্য]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch =کلام&lt;br /&gt;
|subbranch1 =&lt;br /&gt;
|subbranch2 =&lt;br /&gt;
|subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه =شد&lt;br /&gt;
 | تیترها =شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت =ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:اصول دین]]&lt;br /&gt;
[[ar:أصول الدین]]&lt;br /&gt;
[[fr:Principes fondementaux de la religion]]&lt;br /&gt;
[[ms:Ushuluddin]]&lt;br /&gt;
[[ru:Основы религии]]&lt;br /&gt;
[[en:Fundamental Principles of Religion]]&lt;br /&gt;
[[es:Principios de la religión]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%93%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%A6%E0%A7%83%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87_%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%B2&amp;diff=1004</id>
		<title>ওহাবীদের দৃষ্টিতে তাওয়াসসুল</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%93%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%A6%E0%A7%83%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87_%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%B2&amp;diff=1004"/>
		<updated>2025-02-25T21:49:10Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: ابرابزار&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
ওহাবীরা কুরআন ও আহলে বাইত (আ.)-এর তাওয়াসসুলের বিষয়টি সম্পর্কে কী ধারণা পোষণ করে, তাদের যুক্তি কীভাবে খণ্ডন করা যায়?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
{{portal|سنت}}&lt;br /&gt;
[[শিয়া]] মাযহাবে, [[মহানবী (স.)]] ও [[আহলে বাইত (আ.)]]-এর তাওয়াসসুল একটি বৈধ ও কার্যকরী আমল হিসেবে বিবেচিত হয়। মুমিনরা বিশ্বাস করেন যে, আহলে বাইত (আ.) আল্লাহ ও বান্দাদের মধ্যে মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারেন এবং তারা এই দুনিয়া ও আখিরাতে মানুষের জন্য শাফায়াত করতে পারেন। আর তারা কঠিন পরিস্থিতির সময়গুলোতে মুমিনগণের ডাকে সাড়া প্রদান ও সাহায্য করতে পারেন। এই আমলকে আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও দোয়া কবুলের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, যুগে যুগে বিভিন্ন সময়ে মুমিনরা আহলে বাইত (আ.)-এর মাধ্যমে তাওয়াস্সুল করেছেন এবং তাদের নিকট সাহায্য সহযোগিতা চেয়েছেন। প্রসিদ্ধ যিয়ারতসমূহ যেমন যিয়ারতে আশুরা ও যিয়ারতে জামে&#039; কাবীরা হলো এমন দুআ যেখানে আহলে বাইত (আ.)-এর সাহায্য ও সুপারিশ শাফায়াত তথা সুপারিশের প্রতি ইঙ্গিত দেওযা হয়েছে। এই আমলগুলি ঈমান শক্তিশালী করা এবং আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
মুসলিম ইতিহাস জুড়ে সমস্ত মুসলমানদের মধ্যে অন্যতম প্রচলিত বিষয় হচ্ছে আল্লাহর ওলি-আউলিয়াদের নিকট ইস্তিগাসা (সাহায্য প্রার্থনা) ও একটি সাধারণ প্রথা ছিল ওলি-আওলিয়াদের কাছে ইস্তিগাসা (সাহায্য প্রার্থনা) ও হাজতের (প্রয়োজন পূরণ) আবেদন জানানো, যা সকল মুসলমানের নিকট গ্রহণযোগ্যও বটে। একমাত্র [[ওহাবীরা]] ব্যতীত সকল মুসলমান  এই আমলটিকে জায়েয ও বৈধ জ্ঞান করেন। বাস্তবে, ইস্তিগাসা করার মাধ্যমে মানুষ মহানবী (স.) ও মাসুম ইমামগণ (আ.)-এর উপস্থিতিকে অনুগ্রহ লাভের মাধ্যম হিসেবে স্থান দেন, পাশাপাশি এই বিশ্বাস পোষণ করেন যে, সবকিছুই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের এখতিয়ারাধীন। তবে একই সাথে, ওহাবী মতাদর্শের আলেমরা এক্ষেত্রে ভিন্ন চিন্তাধারার অধিকারী এবং এই আমলটিকে জায়েয তথা বৈধ জ্ঞান করেন না। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
তাওয়াসসুল সম্পর্কে ওহাবীদের কোন স্থায়ী দৃষ্টিভঙ্গি বা মতামত নেই। [[মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওহাব]] এটিকে ইসলামের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন এবং কাফির হওয়ার প্রমাণ হিসেবে  মনে করতেন। তবে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নাম ও সিফাত (গুণাবলী) এবং কুরআনের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়াকে জায়েয বা বৈধ জ্ঞান করেন। সমসাময়িক ওহাবীরা তাওয়াসসুলের ধারণাটি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। অন্যদিকে, তাওয়াসসুল সম্পর্কে মুসলমানদের অন্য সব ফিরকা ও মাযহাবসমূহের দৃষ্টিভঙ্গি ওহাবীদের থেকে ভিন্ন। এছাড়াও কুরআন, রেওয়ায়েত ও আলেমগণের বক্তব্যসমূহেও তাওয়াসসুল বৈধ হওয়ার স্বপক্ষের দলিল বিদ্যমান রয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ভূমিকা ==&lt;br /&gt;
=== পরিভাষা ===&lt;br /&gt;
==== ১. তাওয়াসসুল ====&lt;br /&gt;
আরবি ভাষাতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোন থেকে তাওয়াসসুল শব্দটি ”ওয়াসিলা” «وسل» মূল ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো কোনো মাধ্যম বা কাজের মাধ্যমে নিকটবর্তী হওয়া বা সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করা বলে মনে করা হয়। ফাইয়ূমী এই শব্দটিকে ব্যাখ্যা এভাবে করেছেন: &amp;quot;তাওয়াসসালা ইলা রব্বিহি বিওয়াসিলা&amp;quot;—অর্থাৎ, &amp;quot;সে একটি আমলের মাধ্যমে তার রবের নিকটবর্তী হয়েছে।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;ফারাহিদি, খালিল বিন আহমাদ (১৪০৯ হি.). কিতাবুল আইন, খ:১, মুআসসাসাতু দারুল হিজরাহ, পৃ:৮৭১।&amp;lt;/ref&amp;gt; এই সংজ্ঞা [[লিসানুল আরব গ্রন্থের]] সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।&amp;lt;ref&amp;gt;আবুল আব্বাস ফিউমি, আহমাদ বিন মোহাম্মদ (১৪২৮ হি.). আল-মিসবাহুল মুনির, খ:২, আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ, পৃ:৬৬০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
পরিভাষাগত দিক থেকে, &amp;quot;তাওয়াসসুল&amp;quot; হলো আল্লাহর নৈকট্য ও সান্নিধ্য লাভের প্রচেষ্টা। সাধারণত তাওয়াসসুল এর অর্থ হলো এই যে, বান্দা আল্লাহর সমীপে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে মাধ্যম হিসেবে উপস্থাপন করে, যেন আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন এবং সে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। তাই ধর্মীয় পরিভাষায় বলা হয়েছে: &amp;quot;তাওয়াসসুল হলো কোনো উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে মাধ্যম অবলম্বন  এবং সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রচেষ্টা।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন মানজুর, মোহাম্মদ বিন মাকরাম (১৪০৮ হি.). লিসানুল আরব, খ:১১, দার ইহইয়াউত তুরাসিল আরবি, পৃ:৭২৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;  আয যিয়ারাতু ওয়াত তাওয়াসসুল-এর লেখক তাওয়াসসুলকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন: বান্দা যা কিছুর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করে, যা তার দোয়া কবুল ও চাহিদা পূরণের মাধ্যম।&amp;lt;ref&amp;gt; নির্বাচিত পণ্ডিতদের একটি দল (১৪২১ হি.). উসুলুল ঈমান ফি দউইল কিতাব ওয়াস সুন্নাহ, খ:১, ওয়ারাযাতুশ শুউনুল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল আওকাফ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ, পৃ:৫৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
তবে, এর অর্থ এই নয় যে, তারা সরাসরি মহানবী (স.) বা ইমামদের (আ.) নিকট স্বাধীনভাবে কিছু চাইবে। বরং এর উদ্দেশ্য  হচ্ছে [[সৎকর্ম]], [[নবী মহানবী (স.)]] ও [[ইমামদের (আ.)]] আনুগত্য, তাদের শাফায়াত, অথবা তাদের মর্যাদা ও আদর্শের শপথ ও দোহাই দেওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে অনুগ্রহ প্রার্থনা করা।&amp;lt;ref&amp;gt;সায়েব, আব্দুল হামিদ (১৪২১ হি.). আল-জিয়ারাহ ওয়াত তাওয়াসসুল, কুম: মারকাজুর রিসালাহ, পৃ:৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সুতরাং, শাব্দিক ও পারিভাষিক দিক থেকে তাওয়াসসুলের সংজ্ঞার মধ্যে সামঞ্জস্য বিদ্যমান রয়েছে। আর উভয় ক্ষেত্রেই নৈকট্য অর্জন ও লক্ষ্যে পৌঁছানোর বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
==== ২. ইস্তিগাসা ====&lt;br /&gt;
&amp;quot;[[ইস্তিগাসা]]&amp;quot; শব্দটি অর্থগত দিক থেকে &amp;quot;তাওয়াসসুল&amp;quot; এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। আর এটি &amp;quot;গাওস&amp;quot; মূল ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ সাহায্য ও সহায়তা।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন আসীর জাজরি, মুবারক বিন মোহাম্মদ (১৯৭৯). আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার, খ:৩, বৈরুত: আল-মাকতাবাতুল ইলমিয়্যাহ, পৃ:৩৯৩।&amp;lt;/ref&amp;gt; যখন এটি বাবে ইস্তিফআল রূপে ব্যবহৃত হয়, তখন এর অর্থ হয় সাহায্য প্রার্থনা বা সহায়তা চাওয়া। এমতাবস্থায়, এটি তাওয়াসসুলের সমার্থক হয়ে ওঠে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
যেরূপভাবে নবী করিম (স.)-এর  নিম্নোক্ত হাদিসটিতে &amp;quot;তাওয়াসসুল&amp;quot;-এর স্থানে &amp;quot;ইস্তিগাসা&amp;quot; শব্দটি  ব্যবহৃত হয়েছে: {{arabic|ان الشمس تدعوا یوم القیامة حتی یبلغ العرق نصف الاذن فبینما هم کذلک استغاثوا بآدم ثم موسی ثم بمحمد صلی الله علیه و السلم|translation=কিয়ামতের দিন সূর্য এত কাছে চলে আসবে যে ঘাম কানের মধ্যভাগ পর্যন্ত পৌঁছাবে। সেই মুহূর্তে মানুষ তীব্র গরম ও প্রচন্ড তাপে অত্যন্ত দূর্বল হয়ে পড়বে। এমতাবস্থায় প্রথমে হযরত [[আদম (আ.)]]-এর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবে,  অতঃপর হযরত [[মূসা (আ.)]]-এর কাছে এবং অতঃপর হযরত মুহাম্মাদ (স.)-এর শরণাপন্ন হবে।}}&amp;lt;ref&amp;gt; বুখারি, মোহাম্মদ বিন ইসমাইল (১৪০৭ হি.). আল-জামেউস সহিহ, খ:৫, বৈরুত: দারুল কাসির, পৃ:৪৭৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
==== ৩. শাফায়াত (মধ্যস্থতা) ====&lt;br /&gt;
শিন-ফা-আইন «ش-ف-ع» [[শাফায়াত]] শব্দটি মূল থেকে উদ্ভূত, যা দুই বা ততোধিক বস্তুর একত্রে জোড় হওয়ার ধারণাকে নির্দেশ করে। তাই, মৌলিক অর্থে, শাফায়াত হল কিয়ামতের দিন দোযখ হতে পরিত্রাণ লাভের জন্য আওলিয়া ও আম্বিয়াদের নিকট সাহায্য চাওয়া। অবশ্য এটিও এক প্রকারের তাওয়াসসুল।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সামহূদী এ প্রসঙ্গে লিখেছেন: {{arabic|التوسل به صلی الله تعالی علی و سلم فی عرصات القیامة فیشفع الی ربه تعالی|translation=[[কিয়ামতের]] ময়দানেও আল্লাহর রাসূলের (স.) তাওয়াসসুল রয়েছে, সুতরাং তিনি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট শাফায়াত করবেন}}&amp;lt;ref&amp;gt;সমহুদী, আলী বিন আবদুল্লাহ (১৪১৯ হি.). ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তাফা, খ:১, বৈরুত: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, পৃ:১৯৬।&amp;lt;/ref&amp;gt; অবশ্য এই অর্থে শাফায়াত শব্দটি কখনও কখনও নিরঙ্কুশভাবে তাওয়াসসুল অর্থে ব্যবহৃত হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ওহাবী মতাদর্শে তাওয়াসসুল ==&lt;br /&gt;
=== ওহাবীদের দৃষ্টিভঙ্গি ===&lt;br /&gt;
ওহাবীদের কেউ কেউ তাওয়াসসুলকে বৈধ ও অবৈধ দুইটি বিভাগে ভাগ করেন। তাওয়াসসুলের বৈধ একটি রূপ হল [[আল্লাহর নাম]] ও সিফাত তথা গুণাবলীর তাওয়াসসুল করা (আল্লাহর নাম ও সিফাতের মাধ্যমে সহায়তা প্রার্থনা)। ওহাবীদের মতানুসারে, আল্লাহর নাম ও বৈশিষ্ট্যগুলির মাধ্যমে তাঁর নিকটবর্তী হওয়া জায়েয তথা বৈধ। তাদের মতের স্বপক্ষের দলিল হিসেবে তারা [[কুরআনে]]র নিম্নোক্ত আয়াতটির উল্লেখ করে {{quran|وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَی فَادْعُوهُ بِهَا|translation=সবচেয়ে সুন্দর নামগুলি আল্লাহরই, সুতরাং, এই নামগুলির মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করো।|sura=আল-আ&#039;রাফ|verse=১৮০}}&amp;lt;ref&amp;gt; আজ-জামিলি আসিরি, আহমাদ বিন আলী (১৪৩১ হি.). মানহাজুশ শাইখ আবদুর রাজ্জাক আফিফি ওয়া জুহুদুহু ফি তাকরিরিল আকিদাহ ওয়ার রদ্দু আলাল মুখালিফিন, গবেষণা ও সম্পাদনা: আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল মোহসিন আত-তুরকি, রিয়াদ: জামিয়াতুল ইমাম মোহাম্মদ বিন সৌদ আল-ইসলামিয়া, পৃ:২৭৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এছাড়াও কুরআনের কোন কোন আয়াত অনুসারে যেমন: {{arabic|و ان المساجد لله فلا تدعوا مع الله احدا»، «قل لله الشفاعه جمیعا}}، {{arabic|ویعبدون من دون الله ما لا یضرهم ولا ینفعهم ویقولون هؤلاء شفعاؤنا عند الله قل اتنبئون الله بما لا یعلم فی السموات ولا فی الارض سبحانه وتعالی عما یشرکون}} আল্লাহ ও মানুষের মধ্যে যেকোন মধ্যস্থতাকারীর স্থান দেওয়াই হচ্ছে শিরক।&amp;lt;ref&amp;gt;মোহাম্মদ বিন আবদুল ওহাব, মাজমুয়াতুল মুআল্লাফাত, পৃ:৩৮৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&amp;lt;ref&amp;gt;মোহাম্মদ বিন আবদুল ওহাব, মাজমুয়াতুল মুআল্লাফাত, খ:৬, পৃ:৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&amp;lt;ref&amp;gt;মোহাম্মদ বিন আবদুল ওহাব, মাজমুয়াতুল মুআল্লাফাত, খ:৬, পৃ:৬৮।&amp;lt;/ref&amp;gt;&amp;lt;ref&amp;gt;মোহাম্মদ বিন আবদুল ওহাব, মাজমুয়াতুল মুআল্লাফাত, খ:৬, পৃ:২১৩।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[ওহাবীরা]] কুরআনের তাওয়াসসুলকে জায়েজ বা বৈধ বলে মনে করেন, কারণ কুরআনকে আল্লাহর অন্যতম সিফাত হিসেবে গণ্য করা হয়। তারা বলেন, কুরআনের তাওয়াসসুল বৈধ, কেননা, শব্দ ও অর্থগত দিক থেকে কুরআন হচ্ছে আল্লাহর কালাম। আর আল্লাহর কালাম হচ্ছে আল্লাহর অন্যতম সিফাত বা গুণ। তাই কুরআনের তাওয়াসসুল করা মানে আল্লাহর সিফাত বা গুণাবলীর মধ্যে একটি গুণের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য হাসিল করা। আর এই বিষয়টি তাওহীদ তথা আল্লাহর একত্ববাদের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং শিরকে উপনীত হয় না।&amp;lt;ref&amp;gt;আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ লিল বুহুসিল ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা, ফাতাওয়াল লাজনাহ আদ-দাইমাহ, আল-মাজমুআতুল উলা, সৌদি আরব, রিয়াদ, রিয়াসাতু ইদারাতিল বুহুসিল ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা, তাছহিহ ও সম্পাদনা: আহমাদ বিন আব্দুর রাজ্জাক আদ-দাওয়াইশ, খ:১, পৃ:৫১৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কিন্তু তারা আওলিয়াগণ, নবীগণ এবং মহানবী (স.) এর পবিত্র আহলে বাইতের সদস্যদেরকে তাওয়াসুল তথা মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করাকে অবৈধ জ্ঞান করেন। [[মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওহাব]] বলেন,&lt;br /&gt;
::&amp;quot;যদি কেউ বলে: &#039;হে আল্লাহ, আমি তোমার নবী (স.) এর মাধ্যমে তোমার নিকট প্রার্থনা করছি যে, আমাকে তোমার রহমতের অন্তর্ভূক্ত করো, তবে ঐ ব্যক্তি শিরকের পথে চলে গেছে এবং তার আকীদা বা বিশ্বাস হচ্ছে শিরকারীদের আকীদা’র অনুরূপ।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;মোহাম্মদ বিন আবদুল ওহাব, তাথহিরুল ইতিকাদ, অনুল্লিখিত, অনুল্লিখিত, পৃ:৩৬; রাসাইল আমালিয়্যাহ, অনুল্লিখিত, অনুল্লিখিত, পৃ:১৪৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&amp;lt;ref&amp;gt;মোহাম্মদ বিন আবদুল ওহাব, তাথহিরুল ইতিকাদ, পৃ:৩৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== সমসাময়িক যুগের ওহাবীদের দৃষ্টিভঙ্গি ===&lt;br /&gt;
আধুনিক যুগের ওয়াহীরা, এই বিষয়ে নানাবিধ হোঁচট খেয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে, আল্লাহর ওলি-আউলিয়াদের প্রতি তাওয়াসসুলকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করেছেন&amp;lt;ref&amp;gt;আসিরি, আহমাদ বিন আলী আজ-জামিলি, মানহাজুশ শাইখ আবদুর রাজ্জাক আফিফি ওয়া জুহুদুহু ফি তাকরিরিল আকিদাহ ওয়ার রদ্দু আলাল মুখালিফিন, পৃ:২৭৪-২৭৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;:&lt;br /&gt;
# প্রথম প্রকার হচ্ছে, কোন ব্যক্তি যদি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জীবিত কোন ওলি’র নিকট অনুরোধ করেন, তিনি যেন মহান আল্লাহর নিকট তার (ঐ ব্যক্তির) জন্য যেমন, রিযিক বৃদ্ধি বা অসুস্থতা থেকে আরোগ্য লাভ করা প্রভৃতি বিষয়গুলোর জন্য প্রার্থনা করেন। তবে, আধুনিক যুগের ওহাবীদের দৃষ্টিতে এই ধরনের তাওয়াসসুল জায়েয।&lt;br /&gt;
# আল্লাহর ওলিগণের প্রতি দ্বিতীয় প্রকারের তাওয়াসসুল হল, সরাসরি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে সম্বোধন করা এবং ও নিজের ও পয়গম্বরের মধ্যকার অথবা নিজের ও আল্লাহর আউলিয়া’র মধ্যকার বিদ্যমান ভালবাসা ও বন্ধুত্বের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়া। তাদের মতে এই ধরণের তাওয়াসসুলও জায়েয বা বৈধ । উদাহরণস্বরূপ, বলা যেতে পারে: {{arabic|اللهم إنی أسألك بحبی لنبیك واتباعی له وبحبی لأولیائك أن تعطینی كذا|translation=হে আল্লাহ! তোমার নবীর প্রতি আমার ভালবাসা, তাঁর প্রতি আমার আনুগত্য এবং তোমার ওলিদের প্রতি আমার ভালোবাসার মাধ্যমে আমি তোমার কাছে অনুরোধ করছি যে, আমাকে এই বা ঐ জিনিস দান কর।}}&lt;br /&gt;
# আল্লাহর ওলিগণের প্রতি তৃতীয় প্রকারের তাওয়াসসুল হচ্ছে আল্লাহর নবী (স.) এবং ওলিগণের মাকাম ও পদমর্যাদার তাওয়াসসুল করা। উদাহরণস্বরূপ, বলা যেতে পারে: {{arabic|اللهم إنی أسألك بجاه نبیك أو بجاه الحسین|translation=হে আল্লাহ! তোমার নবীর মর্যাদা বা হুসায়নের মর্যাদার দোহাই দিয়ে আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি।}} ওহাবীদের মতে, এই ধরনের তাওয়াসসুল বৈধ নয়। এরূপ তাওয়াসসুল যেহেতু নবীগণ ও ওলিগণের মৃত্যুর পর সম্পাদিত হয়ে থাকে সেহেতু তা বৈধ নয়; যতই তারা শ্রেষ্ঠ মাকামের অধিকারী হন না কেন।&lt;br /&gt;
# আল্লাহর ওলিগণের প্রতি চতুর্থ প্রকারের তাওয়াসসুল হচ্ছে, সরাসরি ওলিগণের তাওয়াসসুল করে আল্লাহর নিকট চাহিদা পূরণের আবেদন জানানো হয়। উদাহরণস্বরূপ, বলা যেতে পারে: {{arabic|اللهم إنی أسألک کذا بولیک فلان أو بحق نبیک فلان|translation=হে আল্লাহ! তোমার অমুক আউলিয়ার মাধ্যমে বা তোমার অমুক নবীর মাধ্যমে আমি তোমার কাছে এই বা ঐ প্রার্থনা করছি।}} ওহাবীদের মতে, এই ধরনের তাওয়াসসুলও অবৈধ। তারা এটির অবৈধ হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, কোনো সৃষ্টির আল্লাহর উপর এমন কোনো অধিকার নেই যার মাধ্যমে আল্লাহকে কসম দেওয়া যায়, যাতে করে চাহিদা পূরণ হয়। ওহাবীদের মতে, এই ধরনের তাওয়াসসুল স্পষ্টভাবে [[শিরকের]] একটি রূপ।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওহাবের দৃষ্টিভঙ্গি ===&lt;br /&gt;
[[মুহাম্মদ বিন আবদুল ওহাব]] তাওয়াসসুলকে ইসলামের অন্যতম লঙ্ঘন বলে মনে করেন। তিনি বলেন, &lt;br /&gt;
::কেউ যদি আল্লাহ ও তার নিজের মধ্যে অন্যকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে স্থান দেয় এবং তাদের মাধ্যমে শাফায়াত কামনা করে, তবে সে কাফির হিসেবে পরিগণিত হবে।&amp;lt;ref&amp;gt;সুলাইমান আত-তামিমি নাজদি, মোহাম্মদ বিন আবদুল ওহাব, মাজমুয়াতু রাসাইল ফিত তাওহিদ ওয়াল ঈমান, গবেষণা: ইসমাইল বিন মোহাম্মদ আল-আনসারি, রিয়াদ: জামিয়াতুল ইমাম মোহাম্মদ বিন সৌদ, পৃ:৩৮৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আহলে সুন্নতের আলেমগণ কর্তৃক ওহাবী মতের খণ্ডন ==&lt;br /&gt;
মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওহাবের দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাখ্যান করে রচিত হওয়া প্রথম গ্রন্থটি হচ্ছে [[&#039;আস-সাও&#039;ইক আল-ইলাহীয়্যা ফির রাদ্দ আলাল ওয়াহাবীয়্যা&#039;]]। গ্রন্থটি রচনা করেছেন খোদ মুহাম্মদ বিন আবদুল ওহাবের ভাই সুলেমান বিন আবদুল ওহাব । তাওয়াসসুল সম্পর্কে ওহাবীদের বিচ্যুতিমূলক চিন্তাধারা সবসময়ই সুন্নি পন্ডিতদের দ্বারা সমালোচিত হয়েছে, যেমনভাবে আস সালামী এর বিবৃতিতেও বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে: {{arabic|القول بجواز التوسل و استجابه هو قول جمهور علماء اهل السنه و الجماعه، بل هو قول المسلمین بجمیع فرقهم و مذاهبهم الا المذهب الذی ینتسب الیه مدعو السلفیه|translation=আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অধিকাংশ পণ্ডিত, এমনকি মুসলমানদের সকল ফিরকা ও মাযহাবের মত অনুসারে, তাওয়াসসুলের বিষয়টি জায়েয বা বৈধ আর এক্ষেত্রে শুধু ব্যক্তিক্রম হচ্ছে সালাফিদের বানানো মতবাদ।}}&amp;lt;ref&amp;gt;সালামি, আব্দুর রহমান (১৪১৫ হি.). হাকিকাতুল হিওয়ার মা&#039;আ আশ-শাইখ আল-জাফারি, সৌদি আরব: আদ-দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ, পৃ: ৮৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[সাকাফ আল-কুরাইশী]] বলেন:&lt;br /&gt;
::মহানবী (স.)-এর মাধ্যমে তাঁর প্রভুর কাছে সাহায্য ও শাফায়াত কামনা করার বিষয়টি কখনোই পূর্ববর্তী বা পরবর্তীদের দ্বারা আপত্তিকর হিসেবে গণ্য হয়নি, যতক্ষণ না ইবন তাইমিয়্যা এসে তা অস্বীকার করেন এবং সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হন। তিনি  এমন মতাদর্শের সৃষ্টি করেন যা তাঁর আগে কোনো আলেমই উপস্থাপন করেন নি। যদি ইবন তাইমিয়্যার বক্তব্য সত্য হত, তাহলে মহানবী (স.) কেন এক ব্যক্তিকে তাঁর (স.) মাধ্যমে আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করার শিক্ষা দেন । যেমন তিনি বলেন: {{arabic|اللهم إنی أتوجه الیک بنبیک محمد نبی الرحمة|আল্লাহুম্মা ইন্নি আতাওয়াজ্জাহু ইলাইকা বিনাবিয়্যিকা মুহাম্মাদ, নাবিয়্যির রাহমাহ|translation=হে আল্লাহ! আমি তোমার নবী মুহাম্মাদ তথা রহমতের নবীর মাধ্যমে তোমার প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করছি}} তাহলে, তাওয়াসসুল করা সত্ত্বেও, এটা কি সর্বশক্তিমান আল্লাহর পত শিরক? আর মহানবী (স.) কি এমন শিক্ষা দেন যা মানুষকে শিরকের দিকে ঠেলে দেয়? মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রশংসা সম্পর্কে এটা একটা বিরাট অপবাদ।&amp;lt;ref&amp;gt;সাকাফ আল-কুরাইশি, হাসান বিন আলী (১৯৯১). সহীহ শারহুল আকিদাতুত তাহাওয়িয়াহ মিন ফিকরি আলুল বাইত, পৃ: ৩৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== মহানবী (স.) এর আহলে বাইতের প্রতি ইমাম শাফেয়ীর তাওয়াসসুল ===&lt;br /&gt;
[[সাওয়ায়েকুল মুহরিকা]] গ্রন্থে [[ইবনে হাজর মাক্কী]] আহলে সুন্নতের অন্যতম বিশিষ্ট ইমাম শাফেয়ী হতে বর্ণনা করেছেন যে, [[ইমাম শাফেয়ী]] [[মহানবী (স.)]] এর আহলে বাইতের প্রতি তাওয়াসসুল করতেন।&amp;lt;ref&amp;gt; নুবমানি, ইউসুফ বিন ইসমাইল. শাওয়াহিদুল হক ফিল ইস্তিগাসাহ বিসাইয়িদিল খালক, সম্পাদনা: অফিসেট/হুসাইন হিলমি বিন সাইদ ইস্তাম্বুলি, পৃ: ১৬৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
তিনি ইমাম শাফেয়ীর এই বিখ্যাত কবিতাটি উল্লেখ করেন:&lt;br /&gt;
* &amp;quot;মহানবীর (স.) আহলে বাইত আমার চাওয়ার মাধ্যম,&lt;br /&gt;
* আর আল্লাহর নিকটে, তারা আমার শাফায়াতকারী;&lt;br /&gt;
* তাদের মাধ্যমে আমি আশাবাদী যে,&lt;br /&gt;
* আগামী দিনে (কিয়ামতের দিন), আমার কর্মফল আমার ডান হাতে থাকবে।&amp;quot;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এই রেওয়ায়েতগুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, চাহিদা মিটানো ও অভাব পূরণের লক্ষ্যে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মাধ্যমে তাওয়াসসুল করা বৈধ। এমনকি (প্রথম হাদিস অনুসারে)  মহানবী (স.) নিজেই ঐ অন্ধ ব্যক্তিটিকে নির্দেশ প্রদান করেছিলেন, সে যেন তার নিজের এবং আল্লাহর মাঝে মহানবী (স.)-কে  মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আল্লাহর নিকট তার চাহিদা পূরণের আবেদন জানায়। আর তাওয়াসসুলের প্রকৃত দর্শন এটাই যে, অভাবগ্রস্থ ও গুনাহগার মানুষেরা আল্লাহর প্রিয় ও নৈকট্য হাসিলকারী ব্যক্তিদেরকে ওয়াসিলা বা মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে,  নিজেদের আসল লক্ষ্যে পৌঁছাবে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== শিয়া মাযহাবে তাওয়াসসুল ==&lt;br /&gt;
=== তাওয়াসসুল সম্পর্কে শিয়া সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গি ===&lt;br /&gt;
[[তাওয়াসসুল]] শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো কোনো মাধ্যম বা উপায় (ওয়াসিলা) নির্বাচন করা। আর ওয়াসিলা বলতে সেই জিনিস বোঝায়, যা একজন ব্যক্তিকে অন্যজনের নিকটবর্তী করে। লিসানুল আরব’ গ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী, আল্লাহর নিকটে তাওয়াসসুল করা এবং ওয়াসিলা (মাধ্যম) বেছে নেওয়ার অর্থ হচ্ছে যে, মানুষ এমন একটি কাজ সম্পাদন করবে যা তাকে আল্লাহর নিকটবর্তী করবে, আর মাধ্যম মানে এমন কিছু যার সাহায্যে মানুষ অন্য কিছুর নিকটবর্তী হয়। সুতরাং, তাওয়াসসুল বলতে নিকটবর্তী হওয়াকেও বুঝায়, আবার সেই বিষয়কেও বুঝায়, যার মাধ্যমে অন্যের নিকটবর্তী হওয়া যায়।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন মানজুর, মোহাম্মদ বিন মাকরাম. লিসানুল আরব, খ: ৮, নাশর আদবুল হাওযাহ, পৃ: ৬৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ওহাবীদের সবচেয়ে বড় ভুল হচ্ছে  যে, তারা তাওয়াসসুলের ক্ষেত্রে আল্লাহর ওলিগণকে দুঃখ-কষ্ট দূরকারী, চাহিদা পূরণ ও সমস্যা সমাধানের স্বাধীন ও স্বতন্ত্র উৎস বলে মনে করেন। অথচ তাওয়াসসুলের আসল অর্থ এটা নয়। কেননা, যখন আমরা নবী করিম (স.) এর মাধ্যমে তাওয়াসসুল করি তখন সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে আমরা তাঁকে কোনো স্বাধীন ও স্বতন্ত্র শক্তি হিসেবে বিবেচনা করি না, আমরা তাঁকে ইবাদত করি না। কুরআনে যে তাওয়াসসুলের আহ্বান জানানো হয়েছে তা হচ্ছে, আমরা মহানবী’র (স.) মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করব অর্থাৎ তিনি (স.) আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সমীপে আমাদের  জন্য শাফায়াত করবেন।&amp;lt;ref&amp;gt;মাকারেম শিরাজি, নাসের. শিয়া পাশুখ মিগুয়াদ, কুম, মাদরাসাতুল ইমাম আলী বিন আবি তালিব (আ.), পৃ: ২৩৩।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বিষয়টি ঠিক এমন যে, কেউ এমন একজন বিশিষ্ট ব্যক্তির কাছে যেতে চায়, যাকে সে চেনে না; তখন সেই ব্যক্তি ঐ বিশিষ্ট ব্যক্তির পরিচিত এক ব্যক্তিকে তার সাথে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন, যাতে উক্ত ব্যক্তিকে ঐ বিশিষ্ট ব্যক্তির নিকট পরিচয় করিয়ে দেয় এবং বিশিষ্ট ব্যক্তির নিকট থেকে এই ব্যক্তির জন্য সাহায্য নেয়। এই কাজ যেমনভাবে ইবাদত তেমনিভাবে প্রভাবের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা বা স্বতন্ত্রতাও নয়। ক্ষমতার উৎসও নয় প্রচেষ্টা, সুতরাং, তাওয়াসসুল শিরক- এ সংক্রান্ত অভিযোগ যুক্তিহীন।&amp;lt;ref&amp;gt;মাকারেম শিরাজি, নাসের. শিয়া পাশুখ মিগুয়াদ, কুম, মাদরাসাতুল ইমাম আলী বিন আবি তালিব (আ.), পৃ: ২৩৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
তদুপরি, [[ওহাবীদের]] এই দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে কুরআনের শিক্ষার বিরোধী। আর তাই, সুন্নি ও শিয়া পণ্ডিতগণ পক্ষই এই ধারণাকে ওহাবীদের উদ্ভাবনা হিসেবে বিবেচনা করে, তা প্রত্যাখ্যান করেন। ওহাবীরা এমন ধারণা প্রচারের মাধ্যমে মুসলমানদের তাকফির তথা কাফির সাব্যস্তকরণের চেষ্টা করেন এবং এর মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেন। সাবাকি নামক একজন সুন্নি পণ্ডিত বলেছেন, মহানবী (স.) এর ওয়াসিলায় সাহায্য ও সুপরিশ কামনা করা আল্লাহর নিকট একটি পছন্দনীয় বিষয়। পূর্ববর্তী বা বর্তমান প্রজন্মের কেউই এটাকে প্রত্যাখ্যান করেননি, যতক্ষণ না ইবনে তাইমিয়্যা এসে এটাকে অস্বীকার করে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হন। তিনি এমন কিছু উদ্ভাবন করেন, যা ইতিপূর্বে কোনো পন্ডিত বলেননি। আর এই বিদআত তথা নতুন উদ্ভাবনের ফলে মুসলমানদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;মুনাওয়ী, আবদুর রউফ (১৩৫৬ হি.). ফাইযুল কাদির শারহু জামিউস সগীর, খ: ২, মিসর: আল-মাকতাবাতুত তিজারিয়্যাহ আল-কুবরা, পৃ: ১৩৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== কুরআনে তাওয়াসসুল ===&lt;br /&gt;
তাওয়াসসুল সম্পর্কে ওহাবীদের এই আকীদা-বিশ্বাস, কুরআনের বেশ কিছু আয়াতের সাথে স্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক। [[কুরআন]] শরীফে অনেক আয়াত রয়েছে যা চাহিদা পূরণ, গুনাহ মাফ এবং মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নৈকট্য অর্জনের জন্য তাওয়াসসুলের বৈধ হওয়ার বিষয়টিকে অনুমোদন করে। এর একটি উদাহরণ হিসেবে নিম্নলিখিত আয়াতটি উল্লেখ করা যেতে পারে:&lt;br /&gt;
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মু’মিনদেরকে সম্বোধন করে বলছেন: {{quran|یا أَیهَا الَّذینَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَ ابْتَغُوا إِلَیهِ الْوَسیلَه وَ جاهِدُوا فی سَبیلِهِ لَعَلَّکُمْ تُفْلِحُونَ|translation=হে মু’মিনগণ (বিশ্বাসীগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং তাঁর নৈকট্য অর্জনের জন্য  মাধ্যম (ওয়াসিলা) অন্বেষণ কর, আর তাঁর পথে সংগ্রাম করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে সক্ষম হও।|sura=আল-মায়েদা|verse=৩৫}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আহলে সুন্নতের বিশিষ্ট পণ্ডিত ও তাফসীরুল মারাগি’র রচয়িতা বলেন, এই আয়াতে &amp;quot;ওয়াসিলা&amp;quot; বলতে সেই জিনিস বা বিষয়কে বোঝানো হয়েছে, যা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং তার নৈকট্য লাভের জন্য পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অতঃপর তিনি [[সহীহ বুখারী]] ও অন্যান্য সুনান গ্রন্থ থেকে একটি হাদিস তুলে ধরেন, যেখানে মহানবী (স.) ওয়াসিলা (মাধ্যম) হিসেবে উল্লেখিত হয়েছেন। উক্ত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন: {{arabic|من قال حین یسمع النداء (الاذان) اللهم رب هذاه الدعوه التامه و الصلاة القائمة آت محمدا الوسیلة والفضیلة و ابعثه المقام المحمود الذی وعدته، حلت له شفاعتی یوم القیامه|translation=অর্থাৎ &amp;quot;যে ব্যক্তি আযানের আহ্বান শুনে বলে, &#039;হে আল্লাহ! হে এই পরিপূর্ণ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠিত নামাযের  প্রভু! হযরত মুহাম্মাদ (স.)-কে ম ওয়াসিলা (মাধ্যম) ও শ্রেষ্ঠত্ব দান কর, আর তাকে সেই মহিমান্বিত স্থান (মাকাম মাহমুদ) এ উন্নীত কর, যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাকে দিয়েছ&#039;- কিয়ামতের দিনে আমার শাফায়াত তার জন্য অনুমোদিত হবে।}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এই হাদিসটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, মহানবী (স.) নিজেই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নৈকট্য লাভের একটি ওয়াসিলা তথা মাধ্যম। আর এই কারণেই, সর্বশক্তিমান আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি (স.) মাকামে মাহমুদের অধিকারী ছিলেন, যাতে কিয়ামতের দিন তাঁকে মু’মিনগণের পাপ ক্ষমার জন্য শাফায়াতকারী করা হয় এবং তিনিও তাদের জন্য শাফায়াত করেন। সুতরাং, তাওয়াসসুল কখনও শিরক বা কুফরের কারণ হয় না। যদি এরূপ হতো, তাহলে মহানবী (স.) এর ওয়াসিলা তথা মাধ্যম হওয়ার বিষয়টিও কুফর ও শিরকের বিষয় হতো।&amp;lt;ref&amp;gt;মারাগী, আহমদ বিন মুস্তফা. তাফসিরুল মারাগী, খ: ৬, পৃ: ১০৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== হাদিসে তাওয়াসসুল ===&lt;br /&gt;
[[শিয়া]] সূত্রগুলোতে তাওয়াসসুলের বিষয়টি এতটাই স্পষ্ট যে, হাদিস উদ্ধৃত করার প্রয়োজন হয় না। অতএব, এ সংক্রান্ত আমরা কিছু হাদিস উল্লেখ করব, যা আহলে সুন্নত সম্প্রদায়ের প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থগুলোতে বর্ণিত হয়েছে:&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
==== ১. খরার সময় নবী করিম (স.)-এর মাধ্যমে তাওয়াসসুল ====&lt;br /&gt;
তাওয়াসসুলে শিরক বা কুফর না থাকার বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়া ছাড়াও, [[মহানবী (স.)]]-এর ইন্তেকালের পর তাঁর (স.) মাধ্যমে তাওয়াসসুল করা, তাওয়াসসুলের বৈধতার একটি স্পষ্ট প্রমাণ। বর্ণিত আছে যে, মদিনায় একবার ভয়াবহ খরা দেখা দেয়। একদল মানুষ এই সমস্যার সমাধান চেয়ে [[আয়েশা]] -এর কাছে যায়। আয়েশা তাদেরকে পরামর্শ দিয়ে বলেন: &lt;br /&gt;
::&amp;quot;নবী (স.)-এর কবরের কাছে যাও এবং কবরের ঘরের ছাদে একটি ছিদ্র তৈরি কর, যাতে আকাশ দেখা যায়, তারপর ফলাফলের জন্য অপেক্ষা কর।&amp;quot; তারা তার নির্দেশ অনুসরণ করে ছাদে একটি ছিদ্র তৈরি করে যাতে আকাশ দেখা যায়। এরপর প্রচুর বৃষ্টিপাত শুরু হয়, এমনকি কিছু সময় পর মরুভূমি সবুজ হয়ে ওঠে এবং উটগুলো মোটাতাজা ও হৃষ্ট-পুষ্ট  হয়ে ওঠে।&amp;lt;ref&amp;gt;দারেমি, আবদুল্লাহ বিন বাহরাম. সুনান দারেমি, খ: ১, পৃ: ৪৪, মাটবাআতুল ই&#039;তিদাল, দামেস্ক, ১৩৪৯ হি।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
==== ২. অন্ধ ব্যক্তির নবী (স.)-এর মাধ্যমে তাওয়াসসুল ====&lt;br /&gt;
ইমাম [[আহমাদ ইবনে হাম্বাল]] তার মুসনাদ-এ উসমান ইবনে হুনাইফ থেকে বর্ণনা করেছেন&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন হাম্বল, আহমদ বিন হাম্বল. &amp;quot;হিকায়াত ১৭২৪০&amp;quot;, আল-মুসনাদ, খ: ২৮, পৃ: ৪৭৮।&amp;lt;/ref&amp;gt;&amp;lt;ref&amp;gt;নাসাঈ, আহমদ বিন শুয়াইব. &amp;quot;হিকায়াত ১০৪১৯&amp;quot;, সুনান আন-নাসাঈ আল-কুবরা, খ: ৯, পৃ: ২৪৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন মাজাহ কুজুইনি, মোহাম্মদ বিন ইয়াজিদ. &amp;quot;কিতাবুস সালাত, বাব ১৮৯, হাদিস ১৩৮৫&amp;quot;, সুনান ইবন মাজাহ, পৃ: ৪৪১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&amp;lt;ref&amp;gt;তিরমিজি, আবু ঈসা. &amp;quot;কিতাবুদ দাওয়াত, বাব ১১৯, হাদিস ৩৫৭৮&amp;quot;, সুনান আত-তিরমিজি, খ: ৫, পৃ: ৫৬৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;:&lt;br /&gt;
&amp;quot;এক অন্ধ ব্যক্তি নবী করিম (স.)-এর কাছে এসে বললেন: &#039;আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাকে সুস্থ করে দেন।&#039; মহানবী (স.) বললেন: &#039;যদি চাও, আমি তোমার জন্য দোয়া করব, আর যদি চাও বিলম্ব করব, কারণ এটিই তোমার জন্য উত্তম।&#039; অন্ধ ব্যক্তি বললেন: &#039;আমার জন্য দোয়া করুন।&#039; তখন নবী (স.) তাকে সঠিকভাবে ও মনযোগ সহকারে ওযু করে দুই রাকাত নামায আদায় করার নির্দেশ দেওয়ার পর এই দোয়াটি পাঠ করতে বললেন:&lt;br /&gt;
::হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করছি এবং রহমতের নবী মুহাম্মাদ (স.)-এর ওয়াসিলা দিয়ে তোমার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করছি। হে মুহাম্মাদ! আমি আমার রবের দিকে তোমার ওয়াসিলা দিয়ে মনোনিবেশ করছি যেন আমার চাহিদা পূরণ হয়। হে আল্লাহ! আমার জন্য তার শাফায়াত কবুল করুন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
==== ৩. উমর ইবনে খাত্তাব কর্তৃক তাওয়াসসুল ====&lt;br /&gt;
[[আনাস]] বর্ণনা করেছেন&amp;lt;ref&amp;gt;বুখারি, মোহাম্মদ বিন ইসমাইল. &amp;quot;কিতাবুল ইস্তিসকা, বাব ৩, হাদিস ১০১০&amp;quot;, সহীহুল বুখারি, খ: ২, পৃ: ২৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;:&lt;br /&gt;
{{arabic|ان عمر بن الخطاب کان اذا قحطوا استسقی بالعباس بن عبدالمطلب، فقال: اللهم انا کنا نتوسل الیک بنبینا فتسقینا، و انا نتوسل الیک بعم نبینا فاسقنا، قال: فیسقون|translation=যখন খরা দেখা দিত, [[উমর ইবনে খাত্তাব]] মহানবী (স.) এর চাচা আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব এর ওসিলা দিয়ে বৃষ্টির জন্য দোয়া করতেন। তিনি বলতেন: &amp;quot;হে আল্লাহ! আমরা আমাদের মহানবী (স.) বেঁচে থাকাকালীন সময়ে আমরা তাঁর শরণাপন্ন হতাম এবং তাঁর মাধ্যমে তোমার কাছে বৃষ্টি চাইতাম, আর তুমি আমাদের জন্য তোমার রহমতের বৃষ্টি বর্ষণ করতে। আজ এখন তোমার নবীর (স.) চাচার শরণাপন্ন হয়েছি, যাতে আমাদের বৃষ্টির চাহিদা পূরণ কর, আর তখন তাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হতো।&amp;quot;}}.&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
==== ৪. ফাতিমা বিনতে আসাদের জন্য নবী করিম (স.)-এর দোয়া ====&lt;br /&gt;
অন্য রেওয়ায়েতে বলা হয়েছে  &amp;lt;ref&amp;gt;আসফাহানি, আহমদ বিন আবদুল্লাহ. হিলইয়াতুল আওলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া, খ: ৩, পৃ: ১২১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&amp;lt;ref&amp;gt;তাবারানী, সুলাইমান বিন আহমাদ. &amp;quot;বাবুল ফা&amp;quot;, আল-মুজামুল কবির, খ: ২৪, পৃ: ৩৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&amp;lt;ref&amp;gt;হাইসামি, আলী বিন আবু বকর (১৪০৮ হি.). মাজমাউজ জাওয়ায়েদ ওয়া মাআদিনুল ফাওয়ায়েদ, বৈরুত: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, পৃ: ২৫৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;:&lt;br /&gt;
&amp;quot;যখন ফাতিমা বিনতে আসাদ ইন্তেকাল করেন, তখন আল্লাহর রাসূল (স.) তাঁর মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর তাঁর পাশে বসে বললেন: ‘হে আমার মা, আমার নিজের মায়ের পর! আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করুন।’&lt;br /&gt;
এরপর, তিনি [[উসামা]], [[আবু আইয়ুব]], [[উমর ইবনে খাত্তাব]] এবং এক হাবাশি কৃষ্ণাঙ্গ কৃতদাসকে তাঁর কবর প্রস্তুত করার নির্দেশ দিলেন। যখন কবর প্রস্তুত হলো, মহানবী (স.) নিজেই সেখানে প্রবেশ করলেন, মাটির কিছু অংশ সরিয়ে দিলেন এবং কবরের মধ্যে পাজরের উপর ভর করে শুয়ে পড়লেন। এরপর তিনি এই দোয়া করলেন:&lt;br /&gt;
::‘হে আমার আল্লাহ (যিনি জীবন্ত করেন এবং মৃত্যু দান করেন, যিনি জীবিত এবং কখনও মৃত্যুবরণ করেন না)! আমার মা ফাতিমা বিনতে আসাদকে, আপনার নবী এবং আমার পূর্ববর্তী নবীদের মর্যাদার ওসিলায় ক্ষমা করুন এবং তাঁর বিশ্রামের স্থানকে প্রশস্ত ও প্রশান্ত করে দিন।’&amp;quot;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
==== ৫. হযরত আদম (আ.)-এর তওবা ====&lt;br /&gt;
আহলে সুন্নতের এক দল মুফাসসির, হাদিস বর্ণনাকারী ও ইতিহাসবিদ ওমর উমর ইবনে খাত্তাবের সনদ দিয়ে বর্ণনা করেছেন যে, [[মহানবী (স.)]]&amp;lt;ref&amp;gt;বলেছেন মুতকী হিন্দি, আলী বিন হুসাম. &amp;quot;হিকায়াত ৩২১৩৮&amp;quot;, কানযুল উম্মাল, খ: ১১, পৃ: ৪৫৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&amp;lt;ref&amp;gt;হাইসামি, আলী বিন আবু বকর. মাজমাউজ জাওয়ায়েদ ওয়া মাআদিনুল ফাওয়ায়েদ, খ: ৮, বৈরুত: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, পৃ: ২৫৩।&amp;lt;/ref&amp;gt;&amp;lt;ref&amp;gt;তাবারানী, সুলাইমান বিন আহমাদ. &amp;quot;হিকায়াত ৬৫০২&amp;quot;, আল-মুজামুল আওসাত, খ: ৬, পৃ: ৩১৩।&amp;lt;/ref&amp;gt;:&lt;br /&gt;
::&amp;quot;যখন [[আদম (আ.)]] ভুল করেছিলেন, তখন তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন: ‘হে আমার আল্লাহ, আমি তোমার কাছে মুহাম্মাদের মর্যাদার ওসিলায় ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’ তখন আল্লাহ তার প্রতি ওহি প্রেরণ করলেন: &amp;quot;মুহাম্মাদ কে? &amp;quot; হযরত আদম (আ.) উত্তর দিলেন: ‘যখন তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছিলে, তখন আমি তোমার আরশের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, সেখানে লেখা রয়েছে: &amp;quot;লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।&amp;quot; তখন আমি নিজেকেই বললাম যে, মুহাম্মাদ তোমার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি, কারণ তুমি তার নাম তোমার নামের পাশে রেখেছ।’ এ সময় আল্লাহ ওহি পাঠালেন: &amp;quot;সে তোমার বংশধরদের মধ্যে সর্বশেষ নবী, আর সে যদি না হতো, তাহলে আমি তোমাকে সৃষ্টি করতাম না।&amp;quot;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch = ادیان و مذاهب&lt;br /&gt;
 | subbranch1 =اسلام&lt;br /&gt;
 | subbranch2 =وهابیت&lt;br /&gt;
 | subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{ارزیابی&lt;br /&gt;
 | شناسه = شد&lt;br /&gt;
 | عکس = شد&lt;br /&gt;
 | درگاه = شد&lt;br /&gt;
 | ادبیات = شد&lt;br /&gt;
 | پیوند = شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری = &amp;lt;!--خالی | شد--&amp;gt;&lt;br /&gt;
 | تغییرمسیر = &amp;lt;!--خالی | شد--&amp;gt;&lt;br /&gt;
 | ارجاعات = شد&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی = شد&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کیفی = &amp;lt;!--خالی | شد--&amp;gt;&lt;br /&gt;
 | اولویت = ب&lt;br /&gt;
 | کیفیت = خوب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:توسل از نظر وهابیت]]&lt;br /&gt;
[[ar:التوسل من وجهة نظر الوهابیة]]&lt;br /&gt;
[[ms:Pandangan Wahabi Tentang Tawasul]]&lt;br /&gt;
[[en:Tawassul from the Perspective of Wahhabism]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%87_%E0%A6%B9%E0%A6%AF%E0%A6%B0%E0%A6%A4_%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A6%BE_(%E0%A6%86.)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%A6%E0%A7%8B%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE&amp;diff=1003</id>
		<title>কুরআনে হযরত মুসা (আ.)-এর দোয়া</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%87_%E0%A6%B9%E0%A6%AF%E0%A6%B0%E0%A6%A4_%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A6%BE_(%E0%A6%86.)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%A6%E0%A7%8B%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE&amp;diff=1003"/>
		<updated>2025-02-25T19:38:14Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: ابرابزار&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
কুরআনে উল্লেখিত হযরত মূসার দোয়াগুলো কি কি?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
কুরআনে [[হযরত মূসা (আ.)]] এর দোয়াগুলো বিভিন্ন বিষয় কেন্দ্রিক। হযরত মূসা’র পক্ষ থেকে করা দোয়ার বিষয়বস্তুসমূহের মধ্যে রয়েছে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা, অন্তর প্রশস্ত করার প্রার্থনা, ইহলৌকিক ও পরলৌকিক কল্যাণ কামনা এবং অত্যাচারী ও নিপীড়নকারীর হাত থেকে মুক্তি চাওয়া। কুরআন শরীফে উল্লেখিত হযরত মূসার (আ.) পক্ষ থেকে অন্যতম একটি দোয়া হলো: {{quran|رَبِّ إِنِّی لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَیَّ مِنْ خَیْرٍ فَقِیرٌ|translation=হে আমার প্রতিপালক, তোমার পক্ষ থেকে যে কল্যাণই প্রেরিত হোক না কেন, আমি তার মুখাপেক্ষী|sura=আল-কাসাস|verse=২৪}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== দোয়ার বিষয়বস্তু ==&lt;br /&gt;
মুসা [[হযরত মূসা (আ.)]]-এর পক্ষ থেকে করা দোয়াগুলোর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। তার মধ্যে রয়েছে:&lt;br /&gt;
* তার এবং কাফেরদের মাঝে পৃথকীকরণের আবেদন।&amp;lt;ref&amp;gt;সুরাহ মায়িদাহ, আয়াত ২৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* নিজের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা।&amp;lt;ref&amp;gt;সুরাহ কাসাস, আয়াত ১৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* ভাইয়ের জন্য ক্ষমা চাওয়া।&amp;lt;ref&amp;gt;সুরাহ আরাফ, আয়াত ১৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* ইহলৌকিক ও পরলৌকিক কল্যাণ কামনা।&amp;lt;ref&amp;gt;সুরাহ আরাফ, আয়াত ১৫৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* অত্যাচারী কাফেরদের জন্য ধ্বংস ও শাস্তির প্রার্থনা।&amp;lt;ref&amp;gt;সুরাহ ইউনুস, আয়াত ৮৮।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* অন্তর প্রশস্ত করা, কাজ সহজ করা এবং জিহ্বার বা ভাষার জড়তা দূরীভূত করা প্রার্থনা।&amp;lt;ref&amp;gt;সুরাহ ত্বাহা, আয়াত ২৫-৩৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* অত্যাচারী ও নিপীড়নকারীদের নিকট থেকে মুক্তি চাওয়া।&amp;lt;ref&amp;gt;সুরাহ কাসাস, আয়াত ২১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* আল্লাহর নিকট নেয়ামত ও কল্যাণের জন্য আবেদন।&amp;lt;ref&amp;gt;সুরাহ কাসাস, আয়াত ২৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কুরআনের মুফাসসিরগণ বলেছেন,  হযরত মূসা (আ.) যখন আল্লাহর কাছ থেকে  ফেরাউনের নিকট যাওয়ার নির্দেশ পেলেন, তখন তিনি কষ্ট সহ্য করার জন্য আল্লাহর নিকট তার অন্তর প্রশস্ত করার জন্য আবেদন জানান, যাতে তার নবুয়তকালীন সময়ে তিনি যে সকল বাধা-বিপত্তি ও কঠিন মুসিবতসমূহের সম্মুখীন হবেন তা সহ্য করতে সক্ষম হন।&amp;lt;ref&amp;gt;তাবাতাবায়ি, মোহাম্মদ হোসেইন, তাফসির আল-মিজান, তরজমা: মোহাম্মদ বাকের বেহবুদি, তেহরান, জামেয়াতে মুদাররেসিনে হাওজায়ে এলমিয়ে কোম, ১৩৭৪ শামসি, খ:১৪, পৃ:২০২।&amp;lt;/ref&amp;gt; হযরত মূসা (আ.) অন্তর প্রশস্ত করার আবেদন ও বাঁধা-বিপত্তি দূরীভূত হওয়ার পর, আল্লাহর কাছে তার জিহ্বার বাঁধন খুলে দেওয়ার তথা ভাষার জড়তা দূর করার দোয়া করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;মাকারেম শিরাজি, নাসের, তাফসিরে নমুনাহ, তেহরান, দারুল কুতুব আল-ইসলামিয়া, ১৩৭১ শামসি, খ:১৩, পৃ:১৮৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
হযরত মূসার অন্য আরেকটি দোয়া ছিল যে, তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে অত্যন্ত বিনম্র ও শ্রদ্ধার সাথে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে বলেছিলেন, &amp;quot;আমি তোমার পক্ষ থেকে আসা কল্যাণ ও অনুগ্রহের মুক্ষাপেক্ষী&amp;quot;।&amp;lt;ref&amp;gt;মাকারেম শিরাজি, নাসের, তাফসিরে নমুনাহ, তেহরান, দারুল কুতুব আল-ইসলামিয়া, ১৩৭১ শামসি, খ:১৬, পৃ:১৬২।&amp;lt;/ref&amp;gt; এই দোয়া প্রমাণ করে যে, সমস্ত কিছু একমাত্র আল্লাহর নিকট কামনা করা উচিৎ।&amp;lt;ref&amp;gt;কারায়েতি, মোহসেন, তাফসিরে নূর, তেহরান, মারকাজে ফারহাঙ্গিয়ে দারসহায়ে আজ কুরআন, ১৩৮৮ শামসি, খ:৭, পৃ:৩৮।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== প্রার্থনার তালিকা ==&lt;br /&gt;
* {{quran|তিনি বললেন, ‘হে আমার রব! আমি ও আমার ভাই ছাড়া আর কারো উপর আমার অধিকার নেই, সুতরাং আপনি আমাদের ও ফাসিক সম্প্রদায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ করে দিন।|sura=আল-মায়েদা|verse=২৫}}&lt;br /&gt;
* {{quran|মূসা বললেন, ‘হে আমার রব! আমাকে ও আমার ভাইকে ক্ষমা করুন এবং আমাদেরকে আপনার রহমতের মধ্যে প্রবিষ্ট করুন। আর আপনিই শ্রেষ্ঠ দয়ালু।|sura=আল-আরাফ|verse=১৫১}}&lt;br /&gt;
* {{quran|অতঃপর তারা যখন ভুমিকম্প দ্বারা আক্রান্ত হলো তখন মূসা বললেন, ‘হে আমার রব! আপনি ইচ্ছে করলে আগেই তো এদেরকে এবং আমাকেও ধ্বংস করতে পারতেন! আমাদের মধ্যে যারা নির্বোধ, তারা যা করেছে সে জন্য কি আপনি আমাদেরকে ধ্বংস করবেন? এটা তো শুধু আপনার পরীক্ষা, যা দ্বারা আপনি যাকে ইচ্ছে বিপদ্গামী করেন এবং যাকে ইচ্ছে সৎপথে পরিচালিত করেন। আপনিই তো আমাদের অভিভাবক; কাজেই আমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আর ক্ষমাশীলদের মধ্যে আপনিই তো শ্রেষ্ঠ।|sura=আল-আরাফ|verse=১৫৫}}&lt;br /&gt;
* {{quran|‘আর আপনি আমাদের জন্য এ দুনিয়াতে কল্যাণ লিখে দিন এবং আখেরাতেও। নিশ্চয় আমরা আপনার কাছে ফিরে এসেছি [১]।|sura=আল-আরাফ|verse=১৫৬}}&lt;br /&gt;
* {{quran|মূসা বললেন, ‘হে আমাদের রব! আপনি তো ফির’আউন ও তার পরিষদবর্গকে দুনিয়ার জীবনে শোভা ও সম্পদ [১] দান করেছেন, হে আমাদের রব! যা দ্বারা তারা মানুষকে আপনার পথ থেকে ভ্রষ্ট করে [২]। হে আমাদের রব! তাদের সম্পদ বিনষ্ট করুন, আর তাদের হৃদয় কঠিন করে দিন, ফলে তারা যন্ত্রনণাদায়ক শাস্তি প্রত্যক্ষ না করা পর্যন্ত ঈমান আনবে না [৩]।|sura=ইউনুস|verse=৮৮}}&lt;br /&gt;
* {{quran|মুসা বললেন [১], ‘হে আমার রব! আমার বক্ষ সম্প্রসারিত করে দিন [২]। ‘এবং আমার কাজ সহজ করে দিন [১]। ‘আর আমার জিহবার জড়তা দূর করে দিন--- ‘যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে [১]। ‘আর আমার জন্য করে দিন একজন সাহায্যকারী আমার সজনদের মধ্য থেকে [১]; ‘আমার ভাই হারুনকে; ‘তার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় করুন, ‘এবং তাকে আমার কাজে অংশীদার করুন [১], ‘যাতে আমরা আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতে পারি প্রচুর, ‘এবং আমরা আপনাকে স্মরণ করতে পারি বেশি পরিমাণ [১]। ‘আপনি তো আমাদের সম্যক দ্রষ্টা।’|sura=ত্বা-হা|verse=২৫-৩৫}}&lt;br /&gt;
* {{quran|তিনি বললেন, ‘হে আমার রব! আমি তো আমার নিজের প্রতি যুলুম করেছি; কাজেই আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।’ অতঃপর তিনি তাকে ক্ষমা করলেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।|sura=আল-কাসাস|verse=১৬}}&lt;br /&gt;
* {{quran|তিনি বললেন, ‘হে আমার রব! আপনি যেহেতু আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, আমি কখনো অপরাধীদের সাহায্যকারী হব না [১]।|sura=আল-কাসাস|verse=১৭}}&lt;br /&gt;
* {{quran|তখন তিনি ভীত সতর্ক অবস্থায় সেখান থেকে বের হয়ে পড়লেন এবং বললেন, ‘হে আমার রব! আপনি যালিম সম্পপ্ৰদায় থেকে আমাকে রক্ষা করুন।’|sura=আল-কাসাস|verse=২১}}&lt;br /&gt;
* {{quran|আর যখন মূসা মাদ্‌ইয়ান [১] অভিমুখে যাত্রা করলেন তখন বললেন, ‘আশা করি আমার রব আমাকে সরল পথ দেখাবেন [২]।’|sura =আল-কাসাস|verse=২২}}&lt;br /&gt;
* {{quran|বললেন, ‘হে আমার রব! আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করবেন আমি তার কাঙ্গাল [১]।|sura =আল-কাসাস|verse=২৪}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch = علوم و معارف قرآن&lt;br /&gt;
| subbranch1 = معارف قرآنی&lt;br /&gt;
| subbranch2 = دعا&lt;br /&gt;
| subbranch3 =&lt;br /&gt;
 | شاخه فرعی۴ =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه = شد&lt;br /&gt;
 | تیترها = شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش = شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی = شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | بازبینی نویسنده =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =شد&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت = ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت = ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[ur:قرآن میں حضرت موسی علیه السلام کی دعائیں]]&lt;br /&gt;
[[es:Las súplicas del Profeta Moisés (P) en el Corán]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%AB%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87_%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8_(%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B9)&amp;diff=1002</id>
		<title>ফুরুয়ে দ্বীন (ধর্মের শাখাসমূহ)</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%AB%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87_%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8_(%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B9)&amp;diff=1002"/>
		<updated>2025-02-25T19:03:36Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: ابرابزار&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
ফুরুয়ে দ্বীন (ধর্মের শাখাসমূহ) কি কি?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
ফুরুয়ে দ্বীন তথা ধর্মের শাখাগুলোর মধ্যে রয়েছে [[নামায]], [[রোযা]], [[হজ্জ]], [[জিহাদ]], [[খুমস]], [[যাকাত]], [[সৎকর্মের প্রতি আদেশ]] (আমর বিল মাʿরুফ), [[অসৎকর্ম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ]] (নাহি আনিল মুনকার), আল্লাহর বন্ধুদের প্রতি ভালোবাসা (তাওয়াল্লা) এবং আল্লাহর শত্রুদের প্রতি ঘৃণা পোষণ (তাবাররা)।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইসলামী সংস্কৃতিতে ইবাদত সংক্রান্ত আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশকে ধর্মের শাখাসমূহ (ফুরুয়ে দ্বীন) হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ফুরুয়ে দ্বীন ইসলাম ধর্মের আমলগত বা ব্যবহারিক দিকগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। [[উসুলে দ্বীনের]] (ধর্মের মূলনীতি) ন্যায় ফুরুয়ে দ্বীনের উপর অটল থাকাও ওয়াজীব তথা বাধ্যতামূলক।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== অবস্থান ==&lt;br /&gt;
ফুরুয়ে দ্বীন বলতে সেই দায়িত্ব ও নিয়ম-নীতিকে বোঝায়, যেগুলো শরীয়তের বিধানদাতা তথা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন, মুকাল্লিফদের (শরীয়তী দৃষ্টিকোন থেকে কোন কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ) জন্য আচরণ ও কর্মের ক্ষেত্রে প্রণয়ন করেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;ফরহাং ফিকহে ফারসি, জীরে নজরে মাহমুদ হাশেমি শাহরুদি, কোম, মো&#039;আসসাসায়ে দায়েরাতুল মাআরেফিল ফিকহিল ইসলামী, ১৩৮৭ শামসি, খ:৫, পৃ:৬৭৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; ফুরুয়ে দ্বীনের উপর অটল থাকা ধর্মের মূলনীতির (উসুলে দ্বীনের) মতোই ওয়াজীব তথা অপরিহার্য। ফুরুয়ে দ্বীন এমন কিছু ব্যবহারিক দায়িত্ব ও কর্তব্যের সমষ্টি, যেগুলো মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের সুখ-শান্তি নিশ্চিত করার জন্য [[মহানবী (স)]] ওহির মাধ্যমে নিয়ে এসেছেন এবং প্রচার ও প্রসার ঘটিয়েছেন। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ধর্মের শাখাসমূহের (ফুরুয়ে দ্বীন) কোন কোনটি আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ককে নিয়ম-কানুন ও বিধিবিধান আকারে বর্ণনা করে এবং কর্তব্যগুলোকে তার সামনে তুলে ধরে; যেমন নামায, রোযা, এবং হজ্জের ন্যায় কর্তব্যসমূহসহ আরও কিছু কিছু কর্তব্য যা মানুষের একে অপরের প্রতি রয়েছে তা বিবেচনা করে মানব সম্পর্ককে নিয়ন্ত্রণ করে; যেমন জিহাদ, খুমস এবং বাণিজ্যিক লেনদেন।&amp;lt;ref&amp;gt;খাতিবি কোশকাক, মোহাম্মাদ ও হামকারান, ফরহাং শিয়া, কোম, জামজামে হেদায়াত, ১৩৮৬ শামসি, পৃ:৩৫৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইসলামী সংস্কৃতিতে ইবাদত সংক্রান্ত আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশকে ধর্মের শাখাসমূহ (ফুরুয়ে দ্বীন) হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ফুরুয়ে দ্বীন ইসলাম ধর্মের আমলগত বা ব্যবহারিক দিকগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। ইমামিয়া শিয়া মতবাদে ফুরুয়ে দ্বীনের তালিকায় নামায, রোযা, হজ্জ, জিহাদ, খুমস, যাকাত, সৎকর্মের প্রতি আদেশ (আমর বিল মাʿরুফ), অসৎকর্ম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ (নাহি আনিল মুনকার), আল্লাহর বন্ধুদের প্রতি ভালোবাসা (তাওয়াল্লা) এবং আল্লাহর শত্রুদের প্রতি ঘৃণা পোষণ (তাবাররা) অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। তবে [[সুন্নি]] মাযহাবের নিকট এই শাখাগুলোর তেমন একটা সম্প্রসারণ ঘটেনি এবং এগুলোর উপর গুরুত্বারোপ করা হয় নি।&amp;lt;ref&amp;gt;জামিয়ি আজ নাভেসান্দেগান, &amp;quot;ইসলাম&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, খ:৮, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ফুরুয়ে দ্বীনের উদাহরণসমূহ ==&lt;br /&gt;
=== নামায ===&lt;br /&gt;
ইসলামী ধর্মে, ইবাদতগত দিক থেকে প্রত্যেক মুকাল্লিফের জন্য প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে নামায আদায় করা, যা দিনে পাঁচবার পালন করা হয়। এটি মুসলমান ব্যক্তিকে তার আকীদা ও ঈমানের বিষয়টি করিয়ে দেয়। [[নামায]] একজন মুসলিমের জন্য আধ্যাত্মিক শক্তি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, যা তাকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের উৎস মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে।&amp;lt;ref&amp;gt;জামিয়ি আজ নাভেসান্দেগান, &amp;quot;ইসলাম&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, খ:৮, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== রোযা ===&lt;br /&gt;
[[রোযা]] হলো একটি ইসলামিক ইবাদত। রোযার ক্ষেত্রে  আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নৈকট্য হাসিলের উদ্দেশ্যে কিছু কিছু কাজ থেকে বিরত থাকা হয়, যেমন: ফজরের আযান হতে মাগরিবের আযান পর্যন্ত খাবার গ্রহণ ও পানাহার থেকে বিরত থাকা হয়। রোযা ফার্সি শব্দ, আরবিতে এটিকে ‘সাওম’ এবং ’সিয়াম’ শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা হয়, যার অর্থ হচ্ছে, খাওয়া, পান করা, কথা বলা এবং সহবাস করা থেকে বিরত থাকা।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং পরিশোধনের লক্ষ্যে রোযা রাখার বিষয়টি পূর্ববর্তী অনেক ধর্মে যেমন: মায়া, হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও মণীশীয়  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, এবং এটি অনেক প্রাচীন ধর্ম ও রীতিতে, যেমন মায়া, হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন এবং মণীশীয় ধর্মে প্রচলিত রয়েছে। রোযা ইসলাম ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচিত। হাদীসগুলোতে এটিকে ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি হিসেবে পরিচয় করানো হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
হাদিসগুলোতে রোযার (বিশেষ করে রমজান মাসের রোযার) বিভিন্ন বস্তুগত এবং আধ্যাত্মিক ফজিলত ও উপকারিতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে, উদাহরণস্বরূপ আমল গ্রহণযোগ্য হওয়া, দোয়া কবুল হওয়া, বেহেশতে প্রবেশ করা, আখেরাতে নেয়ামত ও পরকালের আযাব (আগুনে নিক্ষেপ থেকে মুক্তি) হতে পরিত্রাণ, যা রোযাদারদের উপর আল্লাহর বিশেষ দৃষ্টির বিষয়টি তুলে ধরে। এসব বর্ণনায় বলা হয়েছে, রোযাদারের ঘুম হচ্ছে ইবাদত, তার প্রতিটি শ্বাস প্রশ্বাস হচ্ছে আল্লাহর তসবীহ, এবং রোযাকে শরীরের যাকাত হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;হোসেইনি আহক, মারইয়াম, &amp;quot;রোজেহ&amp;quot;, দানেশনামায়ে জাহানে ইসলাম, তেহরান, বুনিয়াদে দায়েরাতুল মাআরেফে ইসলামী, ১৩৯৪ শামসি, খ:২০, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== হজ্জ ===&lt;br /&gt;
ইসলামী লেখা এবং উৎসসমূহে বিশেষ করে ফিকহী সূত্রগুলোতে, সুনির্দিষ্ট কিছু ইবাদত ও আমল সম্পাদনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে [[কাবা’র]] (বাইতুল্লাহিল হারাম) উদ্দেশ্যে যাত্রা করাকে [[হজ্জ]] বলে অভিহিত করা হয়েছে। কিছু কিছু ফকীহ’র মতে, হজের ফিকহী শব্দটি ফিকহী পরিভাষায়, হজ্জ বলতে কিছু আমলকে নির্দেশ করে, যেগুলো মক্কায় নির্দিষ্ট স্থানে সম্পাদিত হয়। হজ্জের রীতিনীতি ও আমলসমূহের সমষ্টিকে হজ্জের আনুষ্ঠানিকতা (মানাসেকে হাজ্জ) বলা হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[কুরআন]] শরীফে হজ্জ সম্পর্কিত বিভিন্ন আয়াত রয়েছে। হজ্জকে শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য ওয়াজীব, ধর্মের অন্যতম বৃহৎ নিদর্শন এবং সম্মান ও শ্রদ্ধার বলে গণ্য করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;হোসেইনি আহক, মারইয়াম, &amp;quot;হজ&amp;quot;, দানেশনামায়ে জাহানে ইসলাম, তেহরান, বুনিয়াদে দায়েরাতুল মাআরেফে ইসলামী, ১৩৯৩ শামসি, খ:১২, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== যাকাত (যাকাত) ===&lt;br /&gt;
পবিত্র কুরআনে ইসলাম ধর্মের অন্যতম প্রথম একটি নির্দেশ হিসেবে কয়েকবার নামায প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশের পাশাপাশি [[যাকাত]] প্রদানের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। যাকাতের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে ‘যা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়’ বা ‘প্রবৃদ্ধি লাভ’ যা কুরআনেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এটি একটি আধ্যাত্মিক পরিচ্ছন্নতা বা পরিশুদ্ধতা।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এ কারণে কুরআনের আয়াতগুলোর প্রথম ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যে যাকাতকে অন্য সব ইবাদতের মতো একটি ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা সঠিক হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে নিয়্যত ও আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের শর্তের উপর।&lt;br /&gt;
 &lt;br /&gt;
যাইহোক, ব্যক্তিগত ইবাদতের দিকটি ছাড়াও যাকাতের একটি সামাজিক দিকও রয়েছে। যাকাতের সামাজিক দিকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাকাত সামাজিকভাব সম্পদ বণ্টনের একটি মাধ্যম হিসেবে এবং মুসলিম জনসাধারণের সমষ্টিগত চাহিদাগুলো পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।&amp;lt;ref&amp;gt;জামিয়ি আজ নাভেসান্দেগান, &amp;quot;ইসলাম&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, খ:৮, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== খুমস ===&lt;br /&gt;
পবিত্র কুরআনে খুমসের উল্লেখ করা হয়েছে যে, গনিমতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আহলে সুন্নতের ফিকহে, এই এক-পঞ্চমাংশ করকে শুধুমাত্র যুদ্ধের গনিমত এবং কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। তবে, বারো ইমামিয়া শিয়া ফিকহে উল্টো, বিভিন্ন হাদীসের মাধ্যমে কুরআনের আয়াতটিকে সম্প্রসারিত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়কে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। উক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে  &amp;quot;উপার্জনের মুনাফা&amp;quot; ধারণাটি যা খুমসকে সাধারণ কর হিসেবে সর্বক্ষেত্রে ও সর্ব সময়ের জন্য প্রযোজ্য উল্লেখ করে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ক্ষেত্রে অন্তর্ভূক্ত করেছে; এই অর্থে যে, প্রত্যেক মুকাল্লিফ অবশ্যই তার এক বছরের উপার্জনকে সম্পদ হিসাব করবে এবং সারা বছর খরচ করার পর যা অবশিষ্ট থাকবে তার এক-পঞ্চমাংশকে [[খুমস]] হিসেবে প্রদান করবে।&amp;lt;ref&amp;gt;জামিয়ি আজ নাভেসান্দেগান, &amp;quot;ইসলাম&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, খ:৮, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== জিহাদ ===&lt;br /&gt;
[[জিহাদ]] হচ্ছে আল্লাহর রাস্তায় বৈধ যুদ্ধ, যা ইসলামী ফিকহের একটি অধ্যায়। ধর্মীয় সূত্রসমূহে এই শব্দটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক অর্থটি হচ্ছে এর সাধারণ অর্থটিই। এটা হচ্ছে এক ধরনের বিশেষ প্রচেষ্টা অর্থাৎ ইসলাম প্রচার বা এর রক্ষার লক্ষ্যে নিজের জীবন, সম্পদ ও অন্যান্য যা কিছু আছে তা দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রাম করাই হচ্ছে জিহাদ।&amp;lt;ref&amp;gt;সররামি, সাইফুল্লাহ ও সাঈদ এদালাতনেজাদ, &amp;quot;জিহাদ&amp;quot;, দানেশনামায়ে জাহানে ইসলাম, তেহরান, বুনিয়াদে দায়েরাতুল মাআরেফে ইসলামী, ১৩৯৩ শামসি, খ:১১, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার ===&lt;br /&gt;
[[আমর বিল মারুফ]] (ভাল কাজ করার নির্দেশ দেওয়া) এবং নাহি আনিল মুনকার (খারাপ কাজ থেকে নিষেধ করা) দুটি পরিভাষা যা আল্লাহর কুরআনের প্রাচীন তাফসীরগুলোতে হযরত [[মুহাম্মাদ (স.)]] ও  ইসলাম ধর্মের অনুসরণ এবং আল্লাহকে অস্বীকার ও রাসূলুল্লাহ (স.) ও তাঁর ধর্মকে অস্বীকার করতে নিষেধ করা হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে। বলা যেতে পারে যে, আমর বিল মারুফ হচ্ছে ধর্মের শিক্ষা ও ধর্মের রীতি অনুযায়ী যা গ্রহণযোগ্য ও পছন্দনীয় তা প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সক্রিয় পদক্ষেপ। আর, নাহি আনিল মুনকার হচ্ছে যা  কিছু অগ্রহণযোগ্য ও অপছন্দনীয় তা ধ্বংস করার একটি প্রতিক্রিয়া।&amp;lt;ref&amp;gt; জাবেরি-জাদে, আব্দুল আমির, &amp;quot;আমরে বে মারুফ ওয়া নহিয়ে আজ মোনকার&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, খ:১০, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তাওয়াল্লা ও তাবাররা ==&lt;br /&gt;
দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা ’[[তাওয়াল্লা]]’ অর্থ আল্লাহর বন্ধুদের এবং ন্যায়বিচারের সমর্থকদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা এবং ’[[তাবাররা]]’ অর্থ অত্যাচারী ও আল্লাহর শত্রুদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করা। এই নীতিগুলি ন্যায়ের পক্ষ অবলম্বনকারীদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে সহায়ক এবং সমাজে অন্যায়ের নির্মূল করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।&amp;lt;ref&amp;gt;&amp;quot;[https://makarem.ir/main.aspx?typeinfo=42&amp;amp;lid=0&amp;amp;catid=29262&amp;amp;mid=318146 মাফহুমে তাওয়াল্লি ওয়া তাবার্রি]&amp;quot;, পায়গাহে এত্তেলাআরাসানিয়ে দফতারে আয়াতুল্লাহ মাকারেম শিরাজি, এন্তেশার: ২১ আবান ১৪০২ শামসি।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
তাবাররা মানে হলো আল্লাহর বন্ধুদের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তাঁর শত্রুদের সাথে ঘৃণামূলক সম্পর্ক তৈরি করা।&amp;lt;ref&amp;gt;&amp;quot;তাওয়াল্লি ওয়া তাবার্রি&amp;quot;, পায়গাহে জামেআয়ে উস্তাদে শাহিদ মরতেজা মুতাহহারি, এন্তেশার: ২১ আবান ১৪০২ শামসি।&amp;lt;/ref&amp;gt; কুরআনের অনেক আয়াতে তাওয়াল্লা ও তাবাররা উল্লেখিত হয়েছে, যেগুলো হতে পরবর্তীতে ফিকহ এবং কালামশাস্ত্রে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই ধরণের আয়াতগুলো, শয়তান, কাফের, অ-মুমিন, যারা আল্লাহর ক্রোধের শিকার এবং যারা ধর্মের বিষয়ে মুমিনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের প্রতি তাওল্লা করতে নিষেধ এবং আল্লাহ, রাসূল (স.) ও মুমিনগণের প্রতি তাওল্লা করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;জাবেরি, আমির, &amp;quot;তাওয়াল্লা ওয়া তাবার&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, তেহরান, দায়েরাতুল মাআরেফে বোজোর্গে ইসলামী, খ:১৬, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== সম্পর্কিত নিবন্ধ ==&lt;br /&gt;
* [[ইসলাম ধর্মের মূলনীতি (উসুলে দ্বীন)]]&lt;br /&gt;
* [[উসুলে দ্বিন এবং ফুরূয়ে দ্বিনের মধ্যে পার্থক্য]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch =کلام&lt;br /&gt;
|subbranch1 =&lt;br /&gt;
|subbranch2 =&lt;br /&gt;
|subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه =شد&lt;br /&gt;
 | تیترها =شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | بازبینی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت =ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:فروع دین]]&lt;br /&gt;
[[ar:فروع الدین]]&lt;br /&gt;
[[ms:Furu&#039;uddin]]&lt;br /&gt;
[[ru:Фуру’ ад-Дин (Ветви религии)]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE_%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF_(%E0%A6%89%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8)&amp;diff=1001</id>
		<title>ইসলাম ধর্মের মূলনীতি (উসুলে দ্বীন)</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE_%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF_(%E0%A6%89%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8)&amp;diff=1001"/>
		<updated>2025-02-25T18:58:20Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* articles connexes */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
ইসলাম ধর্মের মূলনীতিসমূহ কী কী?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
ইসলাম ধর্মের মূলনীতি (উসুলে দ্বীন) হিসেবে [[তাওহীদ]], [[নবুওয়াত]] এবং [[মাআদ]] বা কিয়ামতকে গন্য করা হয়। বলা হয় যে, এই তিনটি মূলনীতি হচ্ছে ধর্মের ভিত্তি এবং স্তম্ভ। শিয়া পণ্ডিতগণ এই তিনটি মূলনীতির সাথে [[আদল]] ও [[ইমামত]] নামক আরও দুটি মূলনীত যোগ করেছেন। ফলে, শিয়াদের নিকট উসুলে দ্বীন হচ্ছে মোট পাঁচটি। উসুলে দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং অবিশ্বাস মানুষকে ইসলাম থেকে খারিজ করে দেয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উসুলে দ্বীন পরিভাষাটি কুরআন বা হাদিসে উল্লেখিত হয় নি। কিছু কিছু কালামশাস্ত্রবিদগণ এই পরিভাষাটি’র নামকরণ করেছেন। উসুলে দ্বীন শব্দটির কখন উৎপত্তি ঘটেছে এবং কে এর নামকরণ করেছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। উক্ত পরিভাষাটির প্রবর্তকদের মতে, এই আকীদাগুলোকে উসুলে দ্বীন হিসেবে অভিহিত করার কারণ হচ্ছে হাদিস, ফিকহ এবং কুরআনের তাফসীরের মতো ধর্মীয় জ্ঞানের শাখাগুলো এই মূল নীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== পরিভাষাটির ইতিহাস ==&lt;br /&gt;
উসুলে দ্বীন (ধর্মের মূলনীতিসমূহ) পরিভাষাটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। ইসলাম ধর্মের চিন্তা-চেতনার ইতিহাসে পরিভাষাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে, কুরআনে এবং  শিয়া এবং সুন্নিদের হাদিসগুলোতে ধর্মীয় জ্ঞানের শ্রেনী-বিভাগ হিসেবে উসুল (মূলনীতি) এবং ফুরুঅ (শাখা) বলে কিছুর অস্তিত্ব নেই। এই বিষয়টি এটাই প্রমাণ করে যে, এই পরিভাষা ‍দুটি কিছু কিছু কালামশাস্ত্রবিদ দ্বারা প্রবর্তিত হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[ইবনে তায়মিয়া’র]] (মৃত্যু: ৭২৮ হিজরি) মতো কিছু মুসলিম পণ্ডিত, যারা মূলত কালামশাস্ত্র, যুক্তিবিদ্যা এবং দর্শনশাস্ত্রকে ধর্ম ও দ্বীনদারির ক্ষেত্রে বিরোধী বলে মনে করেন, তারা এ প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন,  এই কারণে যে, উসুলে দ্বীন কুরআন বা হাদিসের কোন পরিভাষা নয়, এরূপ পরিভাষার প্রবর্তনকে [[মহানবী (স.)]] এর শিক্ষার পরিপন্থী হিসেবে মনে করেন। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উসুলে দ্বীন শব্দটির উৎপত্তি কখন ঘটেছে এবং কে এর নামকরণ করেছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। ইবনে নাদিমও উসুলে দ্বীন শিরোনামে আবু মুসা মুরদারের লেখা একটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন। আর এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর প্রথম দিকে এই শব্দটি প্রচলিত এবং প্রতিষ্ঠিত ছিল।&amp;lt;ref&amp;gt;গযাশতে, নাসের, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে ইরান, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৪, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== অবস্থান ও গুরুত্ব ==&lt;br /&gt;
ইসলামের আকীদাগত মূলনীতি অর্থাৎ [[তাওহীদ]] (আল্লাহর একত্ববাদ), [[নবুওয়াত]] এবং মাআদ বা [[কিয়ামতের]] প্রতি ঈমান ও আকীদা। এই তিনটি মূলনীতি ইসলাম ধর্মের ভিত্তি ও স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এমনভাবে যে, এই ধর্মে বর্ণিত হওয়া সবকিছুই মূলনীতিগুলোর একটির  মাধ্যমে অথবা তিনটির মাধ্যমেই অর্থবহ হয়ে ওঠে। সুতরাং, ইসলাম ধর্মের ছায়াতলে আসা সমস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আকীদা-বিশ্বাসের ব্যাপারে অল্প-বিস্তর পার্থক্য পরিলক্ষিত হলেও এই মূলনীতির ক্ষেত্রে তারা সকলেই একমত।&amp;lt;ref&amp;gt; জামি&#039;য়ে আয নেভেসান্দেগান, &amp;quot;ইসলাম&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৮, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইমামিয়া শিয়া কালামশাস্ত্রবিদগণে ধর্মের মূলনীতির সংখ্যা কয়টি এবং কোন কোন বিষয় এর অন্তর্ভূক্ত তা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। সবচেয়ে প্রসিদ্ধ মত হল  এই যে, উসুলে দ্বীনের মধ্যে [[নামায]], [[রোযা]], মাআদ তথা কিয়ামত এই তিনটি বিষয় অন্তর্ভূক্ত। তবে, আদল ও ইমামতকেও মাযহাবের মূলনীতি হিসেবে যোগ করতে হবে।&amp;lt;ref&amp;gt;গযাশতে, নাসের, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে ইরান, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৪, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt; এই মূল নীতিগুলির প্রতি অজ্ঞতা বা বিশ্বাসের অভাব ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে খারিজ করে দেয়। একইভাবে, মাযহাবের মৌলিক নীতিগুলির প্রতি অজ্ঞতা বা বিশ্বাসের অভাব একজন ব্যক্তিকে শিয়া মাযহাব থেকে খারিজ তথা বহিষ্কার করে দেয়।&amp;lt;ref&amp;gt;জামি&#039;য়ে আয মোহাক্কেকিন, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে কালামে ইসলামী, পৃ:৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অধিকাংশ মুসলিম পণ্ডিত মনে করেন যে, উসুলে দ্বীনের ক্ষেত্রে তাক্বলীদ  (অনুসরণ)  করা জায়েয বা বৈধ নয়। উসুলে দ্বিনের ক্ষেত্রে মানুষকে অবশ্যই দলিল প্রমাণের মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। । এই বিষয়টির উপর আলেমদের মধ্যে ইজমা তথা ঐক্যমতের দাবি করা হয়েছে। তবে, অন্য একদল যেমন আবু হানিফা, সুফিয়ান থুরী, আওযায়ী, মালিক, শাফেয়ী, আহমাদ ইবন হাম্বাল এবং আহলে হাদিসের অনুসারীরা মনে করেন যে, যদিও মৌলিক বিশ্বাসের ক্ষেত্রে যুক্তি-প্রমাণ থাকা ওয়াজীব তথা বাধ্যতামূলক এবং তা ত্যাগ করা পাপ হিসেবে গণ্য হয়, তবে তাক্বলীদ বা অনুকরণের ভিত্তিতে ঈমান গ্রহণযোগ্য।&amp;lt;ref&amp;gt;জামি&#039;য়ে আয মোহাক্কেকিন, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে কালামে ইসলামী, পৃ:৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অনেক ধর্মীয় পণ্ডিতের মতে, ধর্মের মূলনীতি সমূহের প্রতি বিশ্বাস ছাড়া ব্যক্তির মুসলিম হওয়া সম্ভব নয় এবং এগুলির মধ্যে কোন একটা অস্বীকার করলে কাফির হিসেবে গণ্য এবং শাস্তির যোগ্য বিবেচিত হবেন। উক্ত পরিভাষাটির প্রবর্তকদের মতে, এই আকীদাগুলোকে উসুলে দ্বীন হিসেবে অভিহিত করার কারণ হচ্ছে হাদিস, ফিকহ এবং কুরআনের তাফসীরের মতো ধর্মীয় জ্ঞানের শাখাগুলো এই মূল নীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। বলা হয় যে, ধর্ম হচ্ছে একটি শিকরড় বিশিষ্ট গাছের ন্যায়, আর উসুলে দ্বীন হচ্ছে ধর্মের শিকড়, যার অস্তিত্বের উপর নির্ভর করে গাছের জীবন।&amp;lt;ref&amp;gt;গযাশতে, নাসের, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে ইরান, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৪, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== উসুলে দ্বীনের উদাহরণ ==&lt;br /&gt;
=== তাওহীদ (একত্ববাদ) ===&lt;br /&gt;
[[তাওহীদ]] হল ইসলাম ধর্মে আকীদা-বিশ্বাসের সবচেয়ে মৌলিক শিক্ষা, যার তাত্ত্বিক এবং কার্যকরী বিভিন্ন দিক রয়েছে। তাওহীদের অর্থ অনুসারে, আল্লাহ একক ও অ-দ্বিতীয় সত্ত্বা, সমস্ত গুণাবলী পূর্ণাঙ্গ রূপে তার মধ্যে বিদ্যমান, তার সমতুল্য ও সমকক্ষ কেউ নেই, পরিবর্তনহীন, সমস্ত জগতের একমাত্র স্রষ্টা এবং তার কোন শরীক নেই। মহাবিশ্বের পরিচালনা তাঁর ইরাদা বা ইচ্ছার মাধ্যমে সংঘটিত হয়, এবং তাঁর জ্ঞান এবং ক্ষমতা সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। সমস্ত সৃষ্টির অবশ্যকরণীয় হচেছ তাঁকে উপাসনা করা, যে উপাসনা কোনো মধ্যস্থতার মুপাপেক্ষীতা ছাড়াই। কুরআন অনুযায়ী, আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস মানুষের ফিতরাত ও  স্বভাব-প্রকৃতিতে নিহিত। আর একত্ববাদ ব্যতীত যেকোন বহুত্ববাদের আকীদা ও  বিশ্বাস হচ্ছে বিচ্যুত চিন্তাধারা, আর এই বিচ্যুত চিন্তাধারা মানসিক, পরিবেশগত, ভৌগোলিক বা ঐতিহাসিক কারণ থেকে উৎসারিত হয়। সমস্ত [[নবীগণ (আ.)]] ছিলেন তাওহীদের দিকে আহ্বানকারী এবং তাদের বেশীরভাগই শিরক, বহু ইশ্বরবাদী ধর্ম এবং মূর্তিপূজা বিলুপ্ত করায় সচেষ্ট ছিলেন।&amp;lt;ref&amp;gt; তারেমি রাদ, হাসান, ও দিগেরান, &amp;quot;তাওহীদ&amp;quot;, দানেশনামায়ে জাহানে ইসলাম, বুনিয়াদে দায়েরাতুল মাআরিফে ইসলামী, ১৩৯৩ শামসি, খ:৮, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== নবুওয়াত ===&lt;br /&gt;
[[নবুওয়াতে]]র প্রতি বিশ্বাস অর্থ হল যে, মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলেন আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর প্রেরিত প্রতিনিধি। তাঁকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নবী প্রেরণের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। কুরআন হল আল্লাহর বানী যা তাঁর উপর ওহী করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;জামি&#039;য়ে আয নেভেসান্দেগান, &amp;quot;ইসলাম&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৮, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== মাআদ  ===&lt;br /&gt;
[[মআদ]] শব্দটির অর্থ ফিরে আসা। কালামশাস্ত্রবিদ এবং দার্শনিকদের মতানুসারে, মাআদ বলতে মৃত্যু পরবর্তী জীবনকে বুঝায় অর্থাৎ মানুষকে যখন পুনরায় জীবিত করা হবে। মআদ সেই দিনকে বলা হয়, যেদিন মানুষের কাজগুলির মূল্যায়ন করা হবে, সৎ ব্যক্তিরা তাদের ভাল কাজের জন্য পুরস্কৃত হবেন এবং পাপী ব্যক্তিরা তাদের খারাপ কাজের জন্য শাস্তি পাবেন। ধর্ম, কালামশাস্ত্রবিদদের ও দর্শনে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির প্রতি দেরীতে লক্ষ্য করা হয়েছে সেটি হচেছ মৃত্যু পরবর্তী জীবনের বিষয় এবং মাআদ। ধর্মবিশ্বাসীরা মৃত্যুর পরের জীবনের প্রতি বিশ্বাসী ছিলেন এবং তারা পরকালকে তাদের বিশ্বাসের মৌলিক একটি ভিত্তি হিসেবে মনে করেন।&amp;lt;ref&amp;gt; সাজাদী, জাফর, ফারহাঙ্গে মাআরিফে ইসলামী, খ:৩, পৃ:১৮১৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== আদল (আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতা) ===&lt;br /&gt;
যদিওবা [[আদল]] তথা ন্যায়বিচার সংক্রান্ত সিফাতটিও (গুণ) আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অন্যতম কর্ম গুণ। তবে এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে বিষয়টি নিয়ে আশআরী, শিয়া এবং মু&#039;তাযিলীদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের কারণে। আর এর ফলে শিয়ারা এবং মু&#039;তাযিলীরা আদলিয়া (আল্লাহর ন্যায়বিচারের সমর্থক) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে; এভাবেই  ধীরে ধীরে ন্যায়বিচার নামক মূলনীতিটিও ইমামতের পাশাপাশি শিয়া মাযহাবের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আল্লাহর অনেক কর্ম গুণ (সিফাতে ফে’লি)  আসলে আদলের সাথে সম্পর্কিত। আদল তথা ন্যায়বিচারের বিস্তৃত ধারণা বিবেচনা করে, যার মধ্যে ধর্মীয়, নৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার অন্তর্ভূক্ত, এরূপ আকীদার মূলনীতিকে ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরাটাই যথার্থ।&amp;lt;ref&amp;gt;&amp;quot;[http://www.makarem.ir/main.aspx?typeinfo=42&amp;amp;lid=0&amp;amp;mid=412783&amp;amp;catid=-2 আদল আয উসূল উদ-দীন]&amp;quot;, পাইগাহে এট্তেলাআর-রেসানিয়ে দফতারে আয়াতুল্লাহ মাকারেম শিরাযী, এন্তেশার: ১০ মেহর ১৩৯৭ শামসি, বাযদীদ: ৯ আবান ১৪০২ শামসি।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== ইমামত ===&lt;br /&gt;
[[ইমামত]] একটি ঐশ্বরিক দায়িত্ব। শুধুমাত্র ওহী প্রাপ্তি ও এর অনুরূপ কিছু ব্যতীত নবীদের সমস্ত দায়িত্ব ইমামদের (আ.) জন্যও নির্ধারিত। এই দিক থেকে, নিষ্পাপতা যেমন নবুওযোতের শর্ত তেমন ইমামতের ক্ষেত্রেও শর্ত। এই পার্থক্যের কারণেই আমরা ইমামতকে উসুলে দ্বীনের অংশ হিসেবে  মনে করবো।&amp;lt;ref&amp;gt;&amp;quot;[https://maaref.makarem.ir/fa/article/index/393448/ তারিফে ইমামত]&amp;quot;, পাইগাহে এট্তেলাআর-রেসানিয়ে দফতারে আয়াতুল্লাহ মাকারেম শিরাযী, এন্তেশার: ২৯ ফররদিন ১৩৯৫ শামসি, বাযদীদ: ৯ আবান ১৪০২ শামসি।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইমামত নিঃসন্দেহে ইমামিয়া শিয়াদের কালাম বিষয়ক চিন্তাধারায় কেন্দ্রীয় স্থানের অধিকারী। শিয়ারা একদিকে ইমামদের ঐশ্বরিক মনোনয়ন (নাস) এবং নিষ্পাপতায় (ইসমাত)  বিশ্বাস করে, অন্যদিকে ইমামদের ইমামদের একচেটিয়া ধর্মীয় কর্তৃত্বের প্রতি আকীদা পোষণ করে, আর এই বিষয়টি হতে পারে এই পদের গুরুত্ব নির্দেশ করার মাধ্যম।&amp;lt;ref&amp;gt;আনসারী, হাসান, &amp;quot;ইমামত&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, তেহরান, মারকাযে দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== সম্পর্কিত নিবন্ধ ==&lt;br /&gt;
* [[ফুরুয়ে দ্বীন (ধর্মের শাখাসমূহ))]]&lt;br /&gt;
* [[উসুলে দ্বিন এবং ফুরূয়ে দ্বিনের মধ্যে পার্থক্য]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch =کلام&lt;br /&gt;
|subbranch1 =&lt;br /&gt;
|subbranch2 =&lt;br /&gt;
|subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه =شد&lt;br /&gt;
 | تیترها =شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت =ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:اصول دین]]&lt;br /&gt;
[[ar:أصول الدین]]&lt;br /&gt;
[[fr:Principes fondementaux de la religion]]&lt;br /&gt;
[[ms:Ushuluddin]]&lt;br /&gt;
[[ru:Основы религии]]&lt;br /&gt;
[[en:Fundamental Principles of Religion]]&lt;br /&gt;
[[es:Principios de la religión]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AF_%E0%A6%85%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%B0_%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AD%E0%A6%B0_%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BE&amp;diff=1000</id>
		<title>কুরআনের প্রকাশ্য অর্থের উপর নির্ভর করা</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AF_%E0%A6%85%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%B0_%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AD%E0%A6%B0_%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BE&amp;diff=1000"/>
		<updated>2025-02-25T14:22:24Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: ابرابزار&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
কুরআনের প্রকাশ্য অর্থের উপর কী নির্ভর করা যাবে?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
কুরআনের প্রকাশ্য অর্থের উপর নির্ভর করার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত, যেমন আরবি ভাষা বুঝা, প্রেক্ষাপটের প্রতি মনোযোগ এবং মুহকামাত (স্পষ্ট) এবং মুতাশাবিহাত (অস্পষ্ট) আয়াতগুলির জ্ঞান থাকা আবশ্যক। সাধারণভাবে, [[কুরআনে]]র আয়াতগুলো দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত যথা: [[মুহকাম ও মুতাশাবিহ|মুহকামাত আয়াত]] (স্পষ্ট আয়াত); যেগুলোর ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই, এবং মুতাশাবিহাত আয়াত (অস্পষ্ট আয়াত); যেগুলোর ব্যাখ্যা স্পষ্ট তথা মুহকামাত আয়াতগুলির আলোকে করতে হবে। অতএব, প্রকাশ্য বা দৃশ্যমানের (জাহের) উদ্দেশ্য যদি গোপন বা  অভ্যন্তরীণের (বাতেন) বিপরীতে হয়ে থাকে, তবে কুরআনের প্রকাশ্য অর্থ (জাহেরে কুরআন) গ্রহণযোগ্য (হুজ্জাত) হবে। কিন্তু, যদি &amp;quot;প্রকাশ্য &amp;quot; অর্থ (জাহের) এর উদ্দেশ্য কারিনা ও আরবি ভাষা বুঝা ব্যতীত হয়ে থাকে, তবে শুধুমাত্র প্রকাশ্য বা বাহ্যিক অর্থের উপর কখনোই নির্ভর করা যাবে না।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== কুরআনের আয়াতসমূহের প্রকাশ্য অর্থের উপর নির্ভর করা ==&lt;br /&gt;
কুরআনের আয়াতগুলো সাধারণত দুটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়:&lt;br /&gt;
* মুহকামাত (স্পষ্ট আয়াত): যেগুলোর ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই।&lt;br /&gt;
* [[মুতাশাবিহাত]] (অস্পষ্ট আয়াত): যেগুলোর ব্যাখ্যা প্রয়োজন, অর্থাৎ এগুলোকে মুহকামাত তথা স্পষ্ট আয়াতগুলোর আলোকে বুঝতে হবে, যেগুলোকে উম্মুল কিতাব বা কিতাবের ভিত্তি বলা হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;রেগরিফতে আয আয়ে ৭, সুরায়ে আলে ইমরান।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
যদি প্রকাশ্য বা দৃশ্যমানের (জাহের) উদ্দেশ্য যদি গোপন বা  অভ্যন্তরীণের (বাতেন) বিপরীতে হয়ে থাকে, তবে কুরআনের প্রকাশ্য অর্থ (জাহেরে কুরআন) গ্রহণযোগ্য (হুজ্জাত) হবে। কারণ কুরআনের গোপন বা বাতেনী অর্থ মাসুমগণ ব্যতীত অন্য কারও পক্ষে সফলভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়।&amp;lt;ref&amp;gt; ওয়াকেআ/ ৭৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; কুরআনে গোপন অর্থ এবং বহু স্তরের ব্যাখ্যা থাকার বিষয়টি সম্পর্কে অনেক হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। [[ইমাম আলী (আ)]] বলেছেন: &lt;br /&gt;
::&amp;quot;কুরআনের একটি সুন্দর প্রকাশ্য অর্থ এবং একটি গভীর ও গোপন অর্থ রয়েছে এবং এর বিস্ময় অফুরন্ত আর এর গোপনীয়তা কখনও শেষ হবে না।&amp;lt;ref&amp;gt;নাহজুল বালাগা, তরজমায়ে মোহাম্মাদ দাশতি, খোতবা ১৮, পৃ:৬৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
* [[জাবির ইবন আবদুল্লাহ]], [[ইমাম মুহাম্মাদ বাকের (আ.)]]-এর কাছে একটি আয়াতের ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। ইমাম একটি উত্তর দিলেন, জাবির পুনরায় যখন একই আয়াত সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন, ইমাম ভিন্ন একটি উত্তর দিলেন। জাবির বললেন: &amp;quot;আপনি আমাকে ইতিপূর্বে অন্য একটি উত্তর দিয়েছিলেন।&amp;quot; ইমাম (আ.) বললেন: &lt;br /&gt;
::&amp;quot;জাবির! কুরআনের একটি বাতেনী বা গোপন অর্থ রয়েছে এবং এই গোপন অর্থেরও আরেকটি গোপন অর্থ রয়েছে এবং এমনকি প্রকাশ্য অর্থেরও বহু স্তর রয়েছে। হে জাবির! কুরআনের কোন কিছুই মানব বিবেক দ্বারা তাফসীরযোগ্য নয়, কারণ এমনটি হতে পারে যে, আয়াতের শুরু এক বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত এবং এর সমাপ্তি অন্য বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত। কুরআন একটি ধারাবাহিক কথা, যার বহু দিক রয়েছে।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;নেগাহ কোনীদ বে মজলেসি, মোহাম্মাদ বাকের, বহারুল আনওয়ার, বেইরুত, দার আহইয়াউত তোরাসিল আরাবি, খ:৮৯, পৃ:৯১ ও ৯৪ ও ৯৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== কুরআনের আয়াতের প্রকাশ্য অর্থের উপর নির্ভর করার শর্তাবলী ==&lt;br /&gt;
যদি &amp;quot;প্রকাশ্য &amp;quot; অর্থ (জাহের) এর উদ্দেশ্য কারিনা ও আরবি ভাষা বুঝা ব্যতীত হয়ে থাকে, তবে শুধুমাত্র প্রকাশ্য বা বাহ্যিক অর্থের উপর কখনোই নির্ভর করা যাবে না। কারণ আয়াতগুলির বাহ্যিক অর্থ বুঝার জন্য শুধুমাত্র আরবি ভাষার নিয়ম-কানুন জানা ছাড়াও কুরআনের ভাষা পরিপূর্ণরূপে বুঝা, কারায়েন বা প্রেক্ষাপটের প্রতি যেমন অন্যান্য আয়াত ও রেওয়ায়েতের প্রতি লক্ষ্য করা আবশ্যক। এটি এমনকি সেই আয়াতসমূহের জন্যও প্রযোজ্য, যেগুলির প্রকাশ্য স্পষ্ট অর্থ রয়েছে এবং মুহকামাত আয়াত হিসেবে গণ্য করা হয়। কারণ কুরআনের আয়াতগুলি পরস্পর সংযুক্ত এবং কিছু আয়াত অন্যগুলির কারিনা তথা প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও মহানবী [[হযরত মুহাম্মদ (স.)]] এবং তাঁর পবিত্র [[আহলে বাইত (আ.)]]-কে অবশ্যই কুরআনের তাফসীরকারী ও বয়ানকারী হিসেবে মান্য করতে হবে, আর কুরআন নিজেই বর্ণনা করছে: &lt;br /&gt;
::&amp;quot;আমরা এই যিকর’কে (কুরআন) তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে মানুষের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা তুমি তাদের জন্য স্পষ্ট করতে পারো, হয়তোবা  তারা চিন্তা-ভাবনা করবে।”&amp;lt;ref&amp;gt;নাহল/ ৪৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
তবে, মুতাশাবিহাত আয়াতের ক্ষেত্রে (অস্পষ্ট আয়াত) কখনোই প্রকাশ্য অর্থের উপর নির্ভর করা যাবে না। উদাহরণস্বরূপ, {{quran|وَجَاءَ رَبُّکَ وَالْمَلَکُ صَفًّا صَفًّا}}&amp;lt;ref&amp;gt;ফজর/ ২২।&amp;lt;/ref&amp;gt; প্রকাশ্য অর্থ হচ্ছে যে, আল্লাহ এসেছেন এবং ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে হাজির হয়েছেন। অথবা {{quran|الرَّحْمَنُ عَلَی الْعَرْشِ اسْتَوَی}}&amp;lt;ref&amp;gt;তা-হা/ ৫।&amp;lt;/ref&amp;gt; আয়াতের বাহ্যিক অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ সিংহাসনে (আরশে) বসে আছেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এই আয়াত এবং অন্যান্য অস্পষ্ট আয়াতগুলিকে স্পষ্ট আয়াতগুলির যেমন {{quran|... لَیْسَ کَمِثْلِهِ شَیْءٌ وَهُوَ السَّمِیعُ الْبَصِیرُ}}&amp;lt;ref&amp;gt;শূরা/ ১১।&amp;lt;/ref&amp;gt; পাশে রেখে ব্যাখ্যা করতে হবে যে আসার অর্থ হচ্ছে আল্লাহর নির্দেশ, আর «&#039;&#039;استوی&#039;&#039;»  এর উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহর আধিপত্য। আর এক্ষেত্রে যদি বাহ্যিক অর্থের উপর নির্ভর করা হয় তবে আল্লাহর ক্ষেত্রে শরীরের ধারণা তৈরি হবে। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[ওহাবিরা]], শুধুমাত্র আয়াতগুলির প্রকাশ্য অর্থের উপর নির্ভর করে এবং মুহকাম আয়াত এবং আকলগত মূলনীতির প্রতি মনোযোগ না দিয়ে দাবি করেন: &amp;quot;আল্লাহর দিক এবং স্থান রয়েছে এবং তিনি আসমানের উপরে অবস্থিত আরশে বসে আছেন। আল্লাহ সত্যিকারের  হাত এবং চোখ অধিকারী।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে হাজর আসকালানি, আদ-দোরুল কামেনাহ, বেইরুত, পৃ:১৪৫; নেগাহ কোনীদ বে আহমাদ বিন যায়নি চালান মুফতি মক্কা, সারগোজাশতে ওহাবিয়্যাত, তরজমায়ে ইব্রাহিম ওহিদ দামগানি, নাশর গোলেস্তানে কাওসার, চাপে আওওয়াল, ১৩৭৬, পৃ:১৬।&amp;lt;/ref&amp;gt; তারা আরও বলেন &amp;quot;আল্লাহ প্রতিরাতে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন এবং সকালে পুনরায় ফিরে যান&amp;quot;।&amp;lt;ref&amp;gt;ওমর আবদুস সালাম, মোকালেফ ওহাবিয়্যাত লেল কুরআন ওয়া সুন্নাহ, দারুল হেদায়াহ, চাপে আওওয়াল, ১৪১৬, পৃ:৮।&amp;lt;/ref&amp;gt; এমনকি ইবন তাইমিয়া স্পষ্টভাবে বলেছিলেন: &amp;quot; আল্লাহর শরীরিক ও তুলনা করার বিষয়টিকে অস্বীকার করে কুরআন, সুন্নাহ বা ইজমায় কোন কিছু উল্লেখ করা হয় নি।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt; ইবনে তাইমিয়া, আল-ফাতাওয়াল কুবরা, বেইরুত, দারুল মা&#039;রিফা, পৃ:২১-২৩।&amp;lt;/ref&amp;gt; [[হাম্বালি]], [[হাসাউয়ি]] এবং [[ইবাদিয়ারাও]] অনুরূপ কথা বলেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;সুবহানি, জাফর, বোহুছ ফি আল-মিলাল ওয়ান নিহাল, কোম, লাজনায়ে ইদারায়ে আল-হাউযাতিল ইলমিয়াহ, চাপে দোম, ১৪১৫, খ:২, পৃ:২৪৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch = علوم و معارف قرآن&lt;br /&gt;
| subbranch1 = نص قرآن&lt;br /&gt;
| subbranch2 = نص و ظاهر قرآن&lt;br /&gt;
| subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه = -&lt;br /&gt;
 | تیترها = شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش = شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی = شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر = شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | بازبینی نویسنده =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت = ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت = ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:اکتفا به ظاهر قرآن]]&lt;br /&gt;
[[ar:الاکتفاء بظاهر القرآن]]&lt;br /&gt;
[[ur:قرآن کی ظاهری معنی پر اکتفا کرنا]]&lt;br /&gt;
[[ms:Mengandalkan Makna Lahiriah Al-Qur&#039;an]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE_%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF_(%E0%A6%89%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8)&amp;diff=999</id>
		<title>ইসলাম ধর্মের মূলনীতি (উসুলে দ্বীন)</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE_%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF_(%E0%A6%89%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8)&amp;diff=999"/>
		<updated>2025-02-25T13:57:57Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* ইমামত */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
ইসলাম ধর্মের মূলনীতিসমূহ কী কী?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
ইসলাম ধর্মের মূলনীতি (উসুলে দ্বীন) হিসেবে [[তাওহীদ]], [[নবুওয়াত]] এবং [[মাআদ]] বা কিয়ামতকে গন্য করা হয়। বলা হয় যে, এই তিনটি মূলনীতি হচ্ছে ধর্মের ভিত্তি এবং স্তম্ভ। শিয়া পণ্ডিতগণ এই তিনটি মূলনীতির সাথে [[আদল]] ও [[ইমামত]] নামক আরও দুটি মূলনীত যোগ করেছেন। ফলে, শিয়াদের নিকট উসুলে দ্বীন হচ্ছে মোট পাঁচটি। উসুলে দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং অবিশ্বাস মানুষকে ইসলাম থেকে খারিজ করে দেয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উসুলে দ্বীন পরিভাষাটি কুরআন বা হাদিসে উল্লেখিত হয় নি। কিছু কিছু কালামশাস্ত্রবিদগণ এই পরিভাষাটি’র নামকরণ করেছেন। উসুলে দ্বীন শব্দটির কখন উৎপত্তি ঘটেছে এবং কে এর নামকরণ করেছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। উক্ত পরিভাষাটির প্রবর্তকদের মতে, এই আকীদাগুলোকে উসুলে দ্বীন হিসেবে অভিহিত করার কারণ হচ্ছে হাদিস, ফিকহ এবং কুরআনের তাফসীরের মতো ধর্মীয় জ্ঞানের শাখাগুলো এই মূল নীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== পরিভাষাটির ইতিহাস ==&lt;br /&gt;
উসুলে দ্বীন (ধর্মের মূলনীতিসমূহ) পরিভাষাটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। ইসলাম ধর্মের চিন্তা-চেতনার ইতিহাসে পরিভাষাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে, কুরআনে এবং  শিয়া এবং সুন্নিদের হাদিসগুলোতে ধর্মীয় জ্ঞানের শ্রেনী-বিভাগ হিসেবে উসুল (মূলনীতি) এবং ফুরুঅ (শাখা) বলে কিছুর অস্তিত্ব নেই। এই বিষয়টি এটাই প্রমাণ করে যে, এই পরিভাষা ‍দুটি কিছু কিছু কালামশাস্ত্রবিদ দ্বারা প্রবর্তিত হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[ইবনে তায়মিয়া’র]] (মৃত্যু: ৭২৮ হিজরি) মতো কিছু মুসলিম পণ্ডিত, যারা মূলত কালামশাস্ত্র, যুক্তিবিদ্যা এবং দর্শনশাস্ত্রকে ধর্ম ও দ্বীনদারির ক্ষেত্রে বিরোধী বলে মনে করেন, তারা এ প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন,  এই কারণে যে, উসুলে দ্বীন কুরআন বা হাদিসের কোন পরিভাষা নয়, এরূপ পরিভাষার প্রবর্তনকে [[মহানবী (স.)]] এর শিক্ষার পরিপন্থী হিসেবে মনে করেন। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উসুলে দ্বীন শব্দটির উৎপত্তি কখন ঘটেছে এবং কে এর নামকরণ করেছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। ইবনে নাদিমও উসুলে দ্বীন শিরোনামে আবু মুসা মুরদারের লেখা একটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন। আর এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর প্রথম দিকে এই শব্দটি প্রচলিত এবং প্রতিষ্ঠিত ছিল।&amp;lt;ref&amp;gt;গযাশতে, নাসের, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে ইরান, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৪, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== অবস্থান ও গুরুত্ব ==&lt;br /&gt;
ইসলামের আকীদাগত মূলনীতি অর্থাৎ [[তাওহীদ]] (আল্লাহর একত্ববাদ), [[নবুওয়াত]] এবং মাআদ বা [[কিয়ামতের]] প্রতি ঈমান ও আকীদা। এই তিনটি মূলনীতি ইসলাম ধর্মের ভিত্তি ও স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এমনভাবে যে, এই ধর্মে বর্ণিত হওয়া সবকিছুই মূলনীতিগুলোর একটির  মাধ্যমে অথবা তিনটির মাধ্যমেই অর্থবহ হয়ে ওঠে। সুতরাং, ইসলাম ধর্মের ছায়াতলে আসা সমস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আকীদা-বিশ্বাসের ব্যাপারে অল্প-বিস্তর পার্থক্য পরিলক্ষিত হলেও এই মূলনীতির ক্ষেত্রে তারা সকলেই একমত।&amp;lt;ref&amp;gt; জামি&#039;য়ে আয নেভেসান্দেগান, &amp;quot;ইসলাম&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৮, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইমামিয়া শিয়া কালামশাস্ত্রবিদগণে ধর্মের মূলনীতির সংখ্যা কয়টি এবং কোন কোন বিষয় এর অন্তর্ভূক্ত তা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। সবচেয়ে প্রসিদ্ধ মত হল  এই যে, উসুলে দ্বীনের মধ্যে [[নামায]], [[রোযা]], মাআদ তথা কিয়ামত এই তিনটি বিষয় অন্তর্ভূক্ত। তবে, আদল ও ইমামতকেও মাযহাবের মূলনীতি হিসেবে যোগ করতে হবে।&amp;lt;ref&amp;gt;গযাশতে, নাসের, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে ইরান, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৪, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt; এই মূল নীতিগুলির প্রতি অজ্ঞতা বা বিশ্বাসের অভাব ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে খারিজ করে দেয়। একইভাবে, মাযহাবের মৌলিক নীতিগুলির প্রতি অজ্ঞতা বা বিশ্বাসের অভাব একজন ব্যক্তিকে শিয়া মাযহাব থেকে খারিজ তথা বহিষ্কার করে দেয়।&amp;lt;ref&amp;gt;জামি&#039;য়ে আয মোহাক্কেকিন, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে কালামে ইসলামী, পৃ:৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অধিকাংশ মুসলিম পণ্ডিত মনে করেন যে, উসুলে দ্বীনের ক্ষেত্রে তাক্বলীদ  (অনুসরণ)  করা জায়েয বা বৈধ নয়। উসুলে দ্বিনের ক্ষেত্রে মানুষকে অবশ্যই দলিল প্রমাণের মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। । এই বিষয়টির উপর আলেমদের মধ্যে ইজমা তথা ঐক্যমতের দাবি করা হয়েছে। তবে, অন্য একদল যেমন আবু হানিফা, সুফিয়ান থুরী, আওযায়ী, মালিক, শাফেয়ী, আহমাদ ইবন হাম্বাল এবং আহলে হাদিসের অনুসারীরা মনে করেন যে, যদিও মৌলিক বিশ্বাসের ক্ষেত্রে যুক্তি-প্রমাণ থাকা ওয়াজীব তথা বাধ্যতামূলক এবং তা ত্যাগ করা পাপ হিসেবে গণ্য হয়, তবে তাক্বলীদ বা অনুকরণের ভিত্তিতে ঈমান গ্রহণযোগ্য।&amp;lt;ref&amp;gt;জামি&#039;য়ে আয মোহাক্কেকিন, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে কালামে ইসলামী, পৃ:৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অনেক ধর্মীয় পণ্ডিতের মতে, ধর্মের মূলনীতি সমূহের প্রতি বিশ্বাস ছাড়া ব্যক্তির মুসলিম হওয়া সম্ভব নয় এবং এগুলির মধ্যে কোন একটা অস্বীকার করলে কাফির হিসেবে গণ্য এবং শাস্তির যোগ্য বিবেচিত হবেন। উক্ত পরিভাষাটির প্রবর্তকদের মতে, এই আকীদাগুলোকে উসুলে দ্বীন হিসেবে অভিহিত করার কারণ হচ্ছে হাদিস, ফিকহ এবং কুরআনের তাফসীরের মতো ধর্মীয় জ্ঞানের শাখাগুলো এই মূল নীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। বলা হয় যে, ধর্ম হচ্ছে একটি শিকরড় বিশিষ্ট গাছের ন্যায়, আর উসুলে দ্বীন হচ্ছে ধর্মের শিকড়, যার অস্তিত্বের উপর নির্ভর করে গাছের জীবন।&amp;lt;ref&amp;gt;গযাশতে, নাসের, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে ইরান, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৪, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== উসুলে দ্বীনের উদাহরণ ==&lt;br /&gt;
=== তাওহীদ (একত্ববাদ) ===&lt;br /&gt;
[[তাওহীদ]] হল ইসলাম ধর্মে আকীদা-বিশ্বাসের সবচেয়ে মৌলিক শিক্ষা, যার তাত্ত্বিক এবং কার্যকরী বিভিন্ন দিক রয়েছে। তাওহীদের অর্থ অনুসারে, আল্লাহ একক ও অ-দ্বিতীয় সত্ত্বা, সমস্ত গুণাবলী পূর্ণাঙ্গ রূপে তার মধ্যে বিদ্যমান, তার সমতুল্য ও সমকক্ষ কেউ নেই, পরিবর্তনহীন, সমস্ত জগতের একমাত্র স্রষ্টা এবং তার কোন শরীক নেই। মহাবিশ্বের পরিচালনা তাঁর ইরাদা বা ইচ্ছার মাধ্যমে সংঘটিত হয়, এবং তাঁর জ্ঞান এবং ক্ষমতা সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। সমস্ত সৃষ্টির অবশ্যকরণীয় হচেছ তাঁকে উপাসনা করা, যে উপাসনা কোনো মধ্যস্থতার মুপাপেক্ষীতা ছাড়াই। কুরআন অনুযায়ী, আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস মানুষের ফিতরাত ও  স্বভাব-প্রকৃতিতে নিহিত। আর একত্ববাদ ব্যতীত যেকোন বহুত্ববাদের আকীদা ও  বিশ্বাস হচ্ছে বিচ্যুত চিন্তাধারা, আর এই বিচ্যুত চিন্তাধারা মানসিক, পরিবেশগত, ভৌগোলিক বা ঐতিহাসিক কারণ থেকে উৎসারিত হয়। সমস্ত [[নবীগণ (আ.)]] ছিলেন তাওহীদের দিকে আহ্বানকারী এবং তাদের বেশীরভাগই শিরক, বহু ইশ্বরবাদী ধর্ম এবং মূর্তিপূজা বিলুপ্ত করায় সচেষ্ট ছিলেন।&amp;lt;ref&amp;gt; তারেমি রাদ, হাসান, ও দিগেরান, &amp;quot;তাওহীদ&amp;quot;, দানেশনামায়ে জাহানে ইসলাম, বুনিয়াদে দায়েরাতুল মাআরিফে ইসলামী, ১৩৯৩ শামসি, খ:৮, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== নবুওয়াত ===&lt;br /&gt;
[[নবুওয়াতে]]র প্রতি বিশ্বাস অর্থ হল যে, মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলেন আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর প্রেরিত প্রতিনিধি। তাঁকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নবী প্রেরণের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। কুরআন হল আল্লাহর বানী যা তাঁর উপর ওহী করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;জামি&#039;য়ে আয নেভেসান্দেগান, &amp;quot;ইসলাম&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৮, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== মাআদ  ===&lt;br /&gt;
[[মআদ]] শব্দটির অর্থ ফিরে আসা। কালামশাস্ত্রবিদ এবং দার্শনিকদের মতানুসারে, মাআদ বলতে মৃত্যু পরবর্তী জীবনকে বুঝায় অর্থাৎ মানুষকে যখন পুনরায় জীবিত করা হবে। মআদ সেই দিনকে বলা হয়, যেদিন মানুষের কাজগুলির মূল্যায়ন করা হবে, সৎ ব্যক্তিরা তাদের ভাল কাজের জন্য পুরস্কৃত হবেন এবং পাপী ব্যক্তিরা তাদের খারাপ কাজের জন্য শাস্তি পাবেন। ধর্ম, কালামশাস্ত্রবিদদের ও দর্শনে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির প্রতি দেরীতে লক্ষ্য করা হয়েছে সেটি হচেছ মৃত্যু পরবর্তী জীবনের বিষয় এবং মাআদ। ধর্মবিশ্বাসীরা মৃত্যুর পরের জীবনের প্রতি বিশ্বাসী ছিলেন এবং তারা পরকালকে তাদের বিশ্বাসের মৌলিক একটি ভিত্তি হিসেবে মনে করেন।&amp;lt;ref&amp;gt; সাজাদী, জাফর, ফারহাঙ্গে মাআরিফে ইসলামী, খ:৩, পৃ:১৮১৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== আদল (আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতা) ===&lt;br /&gt;
যদিওবা [[আদল]] তথা ন্যায়বিচার সংক্রান্ত সিফাতটিও (গুণ) আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অন্যতম কর্ম গুণ। তবে এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে বিষয়টি নিয়ে আশআরী, শিয়া এবং মু&#039;তাযিলীদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের কারণে। আর এর ফলে শিয়ারা এবং মু&#039;তাযিলীরা আদলিয়া (আল্লাহর ন্যায়বিচারের সমর্থক) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে; এভাবেই  ধীরে ধীরে ন্যায়বিচার নামক মূলনীতিটিও ইমামতের পাশাপাশি শিয়া মাযহাবের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আল্লাহর অনেক কর্ম গুণ (সিফাতে ফে’লি)  আসলে আদলের সাথে সম্পর্কিত। আদল তথা ন্যায়বিচারের বিস্তৃত ধারণা বিবেচনা করে, যার মধ্যে ধর্মীয়, নৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার অন্তর্ভূক্ত, এরূপ আকীদার মূলনীতিকে ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরাটাই যথার্থ।&amp;lt;ref&amp;gt;&amp;quot;[http://www.makarem.ir/main.aspx?typeinfo=42&amp;amp;lid=0&amp;amp;mid=412783&amp;amp;catid=-2 আদল আয উসূল উদ-দীন]&amp;quot;, পাইগাহে এট্তেলাআর-রেসানিয়ে দফতারে আয়াতুল্লাহ মাকারেম শিরাযী, এন্তেশার: ১০ মেহর ১৩৯৭ শামসি, বাযদীদ: ৯ আবান ১৪০২ শামসি।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== ইমামত ===&lt;br /&gt;
[[ইমামত]] একটি ঐশ্বরিক দায়িত্ব। শুধুমাত্র ওহী প্রাপ্তি ও এর অনুরূপ কিছু ব্যতীত নবীদের সমস্ত দায়িত্ব ইমামদের (আ.) জন্যও নির্ধারিত। এই দিক থেকে, নিষ্পাপতা যেমন নবুওযোতের শর্ত তেমন ইমামতের ক্ষেত্রেও শর্ত। এই পার্থক্যের কারণেই আমরা ইমামতকে উসুলে দ্বীনের অংশ হিসেবে  মনে করবো।&amp;lt;ref&amp;gt;&amp;quot;[https://maaref.makarem.ir/fa/article/index/393448/ তারিফে ইমামত]&amp;quot;, পাইগাহে এট্তেলাআর-রেসানিয়ে দফতারে আয়াতুল্লাহ মাকারেম শিরাযী, এন্তেশার: ২৯ ফররদিন ১৩৯৫ শামসি, বাযদীদ: ৯ আবান ১৪০২ শামসি।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইমামত নিঃসন্দেহে ইমামিয়া শিয়াদের কালাম বিষয়ক চিন্তাধারায় কেন্দ্রীয় স্থানের অধিকারী। শিয়ারা একদিকে ইমামদের ঐশ্বরিক মনোনয়ন (নাস) এবং নিষ্পাপতায় (ইসমাত)  বিশ্বাস করে, অন্যদিকে ইমামদের ইমামদের একচেটিয়া ধর্মীয় কর্তৃত্বের প্রতি আকীদা পোষণ করে, আর এই বিষয়টি হতে পারে এই পদের গুরুত্ব নির্দেশ করার মাধ্যম।&amp;lt;ref&amp;gt;আনসারী, হাসান, &amp;quot;ইমামত&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, তেহরান, মারকাযে দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== articles connexes ==&lt;br /&gt;
* [[ফুরুয়ে দ্বীন (ধর্মের শাখাসমূহ))]]&lt;br /&gt;
* [[উসুলে দ্বিন এবং ফুরূয়ে দ্বিনের মধ্যে পার্থক্য]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch =کلام&lt;br /&gt;
|subbranch1 =&lt;br /&gt;
|subbranch2 =&lt;br /&gt;
|subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه =شد&lt;br /&gt;
 | تیترها =شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت =ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:اصول دین]]&lt;br /&gt;
[[ar:أصول الدین]]&lt;br /&gt;
[[fr:Principes fondementaux de la religion]]&lt;br /&gt;
[[ms:Ushuluddin]]&lt;br /&gt;
[[ru:Основы религии]]&lt;br /&gt;
[[en:Fundamental Principles of Religion]]&lt;br /&gt;
[[es:Principios de la religión]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE_%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF_(%E0%A6%89%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8)&amp;diff=998</id>
		<title>ইসলাম ধর্মের মূলনীতি (উসুলে দ্বীন)</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE_%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF_(%E0%A6%89%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8)&amp;diff=998"/>
		<updated>2025-02-25T13:54:56Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* উসুলে দ্বীনের উদাহরণ */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
ইসলাম ধর্মের মূলনীতিসমূহ কী কী?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
ইসলাম ধর্মের মূলনীতি (উসুলে দ্বীন) হিসেবে [[তাওহীদ]], [[নবুওয়াত]] এবং [[মাআদ]] বা কিয়ামতকে গন্য করা হয়। বলা হয় যে, এই তিনটি মূলনীতি হচ্ছে ধর্মের ভিত্তি এবং স্তম্ভ। শিয়া পণ্ডিতগণ এই তিনটি মূলনীতির সাথে [[আদল]] ও [[ইমামত]] নামক আরও দুটি মূলনীত যোগ করেছেন। ফলে, শিয়াদের নিকট উসুলে দ্বীন হচ্ছে মোট পাঁচটি। উসুলে দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং অবিশ্বাস মানুষকে ইসলাম থেকে খারিজ করে দেয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উসুলে দ্বীন পরিভাষাটি কুরআন বা হাদিসে উল্লেখিত হয় নি। কিছু কিছু কালামশাস্ত্রবিদগণ এই পরিভাষাটি’র নামকরণ করেছেন। উসুলে দ্বীন শব্দটির কখন উৎপত্তি ঘটেছে এবং কে এর নামকরণ করেছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। উক্ত পরিভাষাটির প্রবর্তকদের মতে, এই আকীদাগুলোকে উসুলে দ্বীন হিসেবে অভিহিত করার কারণ হচ্ছে হাদিস, ফিকহ এবং কুরআনের তাফসীরের মতো ধর্মীয় জ্ঞানের শাখাগুলো এই মূল নীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== পরিভাষাটির ইতিহাস ==&lt;br /&gt;
উসুলে দ্বীন (ধর্মের মূলনীতিসমূহ) পরিভাষাটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। ইসলাম ধর্মের চিন্তা-চেতনার ইতিহাসে পরিভাষাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে, কুরআনে এবং  শিয়া এবং সুন্নিদের হাদিসগুলোতে ধর্মীয় জ্ঞানের শ্রেনী-বিভাগ হিসেবে উসুল (মূলনীতি) এবং ফুরুঅ (শাখা) বলে কিছুর অস্তিত্ব নেই। এই বিষয়টি এটাই প্রমাণ করে যে, এই পরিভাষা ‍দুটি কিছু কিছু কালামশাস্ত্রবিদ দ্বারা প্রবর্তিত হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[ইবনে তায়মিয়া’র]] (মৃত্যু: ৭২৮ হিজরি) মতো কিছু মুসলিম পণ্ডিত, যারা মূলত কালামশাস্ত্র, যুক্তিবিদ্যা এবং দর্শনশাস্ত্রকে ধর্ম ও দ্বীনদারির ক্ষেত্রে বিরোধী বলে মনে করেন, তারা এ প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন,  এই কারণে যে, উসুলে দ্বীন কুরআন বা হাদিসের কোন পরিভাষা নয়, এরূপ পরিভাষার প্রবর্তনকে [[মহানবী (স.)]] এর শিক্ষার পরিপন্থী হিসেবে মনে করেন। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উসুলে দ্বীন শব্দটির উৎপত্তি কখন ঘটেছে এবং কে এর নামকরণ করেছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। ইবনে নাদিমও উসুলে দ্বীন শিরোনামে আবু মুসা মুরদারের লেখা একটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন। আর এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর প্রথম দিকে এই শব্দটি প্রচলিত এবং প্রতিষ্ঠিত ছিল।&amp;lt;ref&amp;gt;গযাশতে, নাসের, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে ইরান, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৪, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== অবস্থান ও গুরুত্ব ==&lt;br /&gt;
ইসলামের আকীদাগত মূলনীতি অর্থাৎ [[তাওহীদ]] (আল্লাহর একত্ববাদ), [[নবুওয়াত]] এবং মাআদ বা [[কিয়ামতের]] প্রতি ঈমান ও আকীদা। এই তিনটি মূলনীতি ইসলাম ধর্মের ভিত্তি ও স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এমনভাবে যে, এই ধর্মে বর্ণিত হওয়া সবকিছুই মূলনীতিগুলোর একটির  মাধ্যমে অথবা তিনটির মাধ্যমেই অর্থবহ হয়ে ওঠে। সুতরাং, ইসলাম ধর্মের ছায়াতলে আসা সমস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আকীদা-বিশ্বাসের ব্যাপারে অল্প-বিস্তর পার্থক্য পরিলক্ষিত হলেও এই মূলনীতির ক্ষেত্রে তারা সকলেই একমত।&amp;lt;ref&amp;gt; জামি&#039;য়ে আয নেভেসান্দেগান, &amp;quot;ইসলাম&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৮, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইমামিয়া শিয়া কালামশাস্ত্রবিদগণে ধর্মের মূলনীতির সংখ্যা কয়টি এবং কোন কোন বিষয় এর অন্তর্ভূক্ত তা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। সবচেয়ে প্রসিদ্ধ মত হল  এই যে, উসুলে দ্বীনের মধ্যে [[নামায]], [[রোযা]], মাআদ তথা কিয়ামত এই তিনটি বিষয় অন্তর্ভূক্ত। তবে, আদল ও ইমামতকেও মাযহাবের মূলনীতি হিসেবে যোগ করতে হবে।&amp;lt;ref&amp;gt;গযাশতে, নাসের, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে ইরান, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৪, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt; এই মূল নীতিগুলির প্রতি অজ্ঞতা বা বিশ্বাসের অভাব ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে খারিজ করে দেয়। একইভাবে, মাযহাবের মৌলিক নীতিগুলির প্রতি অজ্ঞতা বা বিশ্বাসের অভাব একজন ব্যক্তিকে শিয়া মাযহাব থেকে খারিজ তথা বহিষ্কার করে দেয়।&amp;lt;ref&amp;gt;জামি&#039;য়ে আয মোহাক্কেকিন, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে কালামে ইসলামী, পৃ:৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অধিকাংশ মুসলিম পণ্ডিত মনে করেন যে, উসুলে দ্বীনের ক্ষেত্রে তাক্বলীদ  (অনুসরণ)  করা জায়েয বা বৈধ নয়। উসুলে দ্বিনের ক্ষেত্রে মানুষকে অবশ্যই দলিল প্রমাণের মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। । এই বিষয়টির উপর আলেমদের মধ্যে ইজমা তথা ঐক্যমতের দাবি করা হয়েছে। তবে, অন্য একদল যেমন আবু হানিফা, সুফিয়ান থুরী, আওযায়ী, মালিক, শাফেয়ী, আহমাদ ইবন হাম্বাল এবং আহলে হাদিসের অনুসারীরা মনে করেন যে, যদিও মৌলিক বিশ্বাসের ক্ষেত্রে যুক্তি-প্রমাণ থাকা ওয়াজীব তথা বাধ্যতামূলক এবং তা ত্যাগ করা পাপ হিসেবে গণ্য হয়, তবে তাক্বলীদ বা অনুকরণের ভিত্তিতে ঈমান গ্রহণযোগ্য।&amp;lt;ref&amp;gt;জামি&#039;য়ে আয মোহাক্কেকিন, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে কালামে ইসলামী, পৃ:৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অনেক ধর্মীয় পণ্ডিতের মতে, ধর্মের মূলনীতি সমূহের প্রতি বিশ্বাস ছাড়া ব্যক্তির মুসলিম হওয়া সম্ভব নয় এবং এগুলির মধ্যে কোন একটা অস্বীকার করলে কাফির হিসেবে গণ্য এবং শাস্তির যোগ্য বিবেচিত হবেন। উক্ত পরিভাষাটির প্রবর্তকদের মতে, এই আকীদাগুলোকে উসুলে দ্বীন হিসেবে অভিহিত করার কারণ হচ্ছে হাদিস, ফিকহ এবং কুরআনের তাফসীরের মতো ধর্মীয় জ্ঞানের শাখাগুলো এই মূল নীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। বলা হয় যে, ধর্ম হচ্ছে একটি শিকরড় বিশিষ্ট গাছের ন্যায়, আর উসুলে দ্বীন হচ্ছে ধর্মের শিকড়, যার অস্তিত্বের উপর নির্ভর করে গাছের জীবন।&amp;lt;ref&amp;gt;গযাশতে, নাসের, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে ইরান, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৪, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== উসুলে দ্বীনের উদাহরণ ==&lt;br /&gt;
=== তাওহীদ (একত্ববাদ) ===&lt;br /&gt;
[[তাওহীদ]] হল ইসলাম ধর্মে আকীদা-বিশ্বাসের সবচেয়ে মৌলিক শিক্ষা, যার তাত্ত্বিক এবং কার্যকরী বিভিন্ন দিক রয়েছে। তাওহীদের অর্থ অনুসারে, আল্লাহ একক ও অ-দ্বিতীয় সত্ত্বা, সমস্ত গুণাবলী পূর্ণাঙ্গ রূপে তার মধ্যে বিদ্যমান, তার সমতুল্য ও সমকক্ষ কেউ নেই, পরিবর্তনহীন, সমস্ত জগতের একমাত্র স্রষ্টা এবং তার কোন শরীক নেই। মহাবিশ্বের পরিচালনা তাঁর ইরাদা বা ইচ্ছার মাধ্যমে সংঘটিত হয়, এবং তাঁর জ্ঞান এবং ক্ষমতা সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। সমস্ত সৃষ্টির অবশ্যকরণীয় হচেছ তাঁকে উপাসনা করা, যে উপাসনা কোনো মধ্যস্থতার মুপাপেক্ষীতা ছাড়াই। কুরআন অনুযায়ী, আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস মানুষের ফিতরাত ও  স্বভাব-প্রকৃতিতে নিহিত। আর একত্ববাদ ব্যতীত যেকোন বহুত্ববাদের আকীদা ও  বিশ্বাস হচ্ছে বিচ্যুত চিন্তাধারা, আর এই বিচ্যুত চিন্তাধারা মানসিক, পরিবেশগত, ভৌগোলিক বা ঐতিহাসিক কারণ থেকে উৎসারিত হয়। সমস্ত [[নবীগণ (আ.)]] ছিলেন তাওহীদের দিকে আহ্বানকারী এবং তাদের বেশীরভাগই শিরক, বহু ইশ্বরবাদী ধর্ম এবং মূর্তিপূজা বিলুপ্ত করায় সচেষ্ট ছিলেন।&amp;lt;ref&amp;gt; তারেমি রাদ, হাসান, ও দিগেরান, &amp;quot;তাওহীদ&amp;quot;, দানেশনামায়ে জাহানে ইসলাম, বুনিয়াদে দায়েরাতুল মাআরিফে ইসলামী, ১৩৯৩ শামসি, খ:৮, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== নবুওয়াত ===&lt;br /&gt;
[[নবুওয়াতে]]র প্রতি বিশ্বাস অর্থ হল যে, মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলেন আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর প্রেরিত প্রতিনিধি। তাঁকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নবী প্রেরণের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। কুরআন হল আল্লাহর বানী যা তাঁর উপর ওহী করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;জামি&#039;য়ে আয নেভেসান্দেগান, &amp;quot;ইসলাম&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৮, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== মাআদ  ===&lt;br /&gt;
[[মআদ]] শব্দটির অর্থ ফিরে আসা। কালামশাস্ত্রবিদ এবং দার্শনিকদের মতানুসারে, মাআদ বলতে মৃত্যু পরবর্তী জীবনকে বুঝায় অর্থাৎ মানুষকে যখন পুনরায় জীবিত করা হবে। মআদ সেই দিনকে বলা হয়, যেদিন মানুষের কাজগুলির মূল্যায়ন করা হবে, সৎ ব্যক্তিরা তাদের ভাল কাজের জন্য পুরস্কৃত হবেন এবং পাপী ব্যক্তিরা তাদের খারাপ কাজের জন্য শাস্তি পাবেন। ধর্ম, কালামশাস্ত্রবিদদের ও দর্শনে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির প্রতি দেরীতে লক্ষ্য করা হয়েছে সেটি হচেছ মৃত্যু পরবর্তী জীবনের বিষয় এবং মাআদ। ধর্মবিশ্বাসীরা মৃত্যুর পরের জীবনের প্রতি বিশ্বাসী ছিলেন এবং তারা পরকালকে তাদের বিশ্বাসের মৌলিক একটি ভিত্তি হিসেবে মনে করেন।&amp;lt;ref&amp;gt; সাজাদী, জাফর, ফারহাঙ্গে মাআরিফে ইসলামী, খ:৩, পৃ:১৮১৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== আদল (আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতা) ===&lt;br /&gt;
যদিওবা [[আদল]] তথা ন্যায়বিচার সংক্রান্ত সিফাতটিও (গুণ) আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অন্যতম কর্ম গুণ। তবে এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে বিষয়টি নিয়ে আশআরী, শিয়া এবং মু&#039;তাযিলীদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের কারণে। আর এর ফলে শিয়ারা এবং মু&#039;তাযিলীরা আদলিয়া (আল্লাহর ন্যায়বিচারের সমর্থক) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে; এভাবেই  ধীরে ধীরে ন্যায়বিচার নামক মূলনীতিটিও ইমামতের পাশাপাশি শিয়া মাযহাবের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আল্লাহর অনেক কর্ম গুণ (সিফাতে ফে’লি)  আসলে আদলের সাথে সম্পর্কিত। আদল তথা ন্যায়বিচারের বিস্তৃত ধারণা বিবেচনা করে, যার মধ্যে ধর্মীয়, নৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার অন্তর্ভূক্ত, এরূপ আকীদার মূলনীতিকে ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরাটাই যথার্থ।&amp;lt;ref&amp;gt;&amp;quot;[http://www.makarem.ir/main.aspx?typeinfo=42&amp;amp;lid=0&amp;amp;mid=412783&amp;amp;catid=-2 আদল আয উসূল উদ-দীন]&amp;quot;, পাইগাহে এট্তেলাআর-রেসানিয়ে দফতারে আয়াতুল্লাহ মাকারেম শিরাযী, এন্তেশার: ১০ মেহর ১৩৯৭ শামসি, বাযদীদ: ৯ আবান ১৪০২ শামসি।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== ইমামত ===&lt;br /&gt;
[[ইমামত]] একটি ঐশ্বরিক দায়িত্ব। শুধুমাত্র ওহী প্রাপ্তি ও এর অনুরূপ কিছু ব্যতীত নবীদের সমস্ত দায়িত্ব ইমামদের (আ.) জন্যও নির্ধারিত। এই দিক থেকে, নিষ্পাপতা যেমন নবুওযোতের শর্ত তেমন ইমামতের ক্ষেত্রেও শর্ত। এই পার্থক্যের কারণেই আমরা ইমামতকে উসুলে দ্বীনের অংশ হিসেবে  মনে করবো।&amp;lt;ref&amp;gt;&amp;quot;[http://www.makarem.ir/main.aspx?typeinfo=42&amp;amp;lid=0&amp;amp;mid=412783&amp;amp;catid=-2 তারিফে ইমামত]&amp;quot;, পাইগাহে এট্তেলাআর-রেসানিয়ে দফতারে আয়াতুল্লাহ মাকারেম শিরাযী, এন্তেশার: ২৯ ফররদিন ১৩৯৫ শামসি, বাযদীদ: ৯ আবান ১৪০২ শামসি।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইমামত নিঃসন্দেহে ইমামিয়া শিয়াদের কালাম বিষয়ক চিন্তাধারায় কেন্দ্রীয় স্থানের অধিকারী। শিয়ারা একদিকে ইমামদের ঐশ্বরিক মনোনয়ন (নাস) এবং নিষ্পাপতায় (ইসমাত)  বিশ্বাস করে, অন্যদিকে ইমামদের ইমামদের একচেটিয়া ধর্মীয় কর্তৃত্বের প্রতি আকীদা পোষণ করে, আর এই বিষয়টি হতে পারে এই পদের গুরুত্ব নির্দেশ করার মাধ্যম।&amp;lt;ref&amp;gt;আনসারী, হাসান, &amp;quot;ইমামত&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, তেহরান, মারকাযে দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== articles connexes ==&lt;br /&gt;
* [[ফুরুয়ে দ্বীন (ধর্মের শাখাসমূহ))]]&lt;br /&gt;
* [[উসুলে দ্বিন এবং ফুরূয়ে দ্বিনের মধ্যে পার্থক্য]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch =کلام&lt;br /&gt;
|subbranch1 =&lt;br /&gt;
|subbranch2 =&lt;br /&gt;
|subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه =شد&lt;br /&gt;
 | تیترها =شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت =ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:اصول دین]]&lt;br /&gt;
[[ar:أصول الدین]]&lt;br /&gt;
[[fr:Principes fondementaux de la religion]]&lt;br /&gt;
[[ms:Ushuluddin]]&lt;br /&gt;
[[ru:Основы религии]]&lt;br /&gt;
[[en:Fundamental Principles of Religion]]&lt;br /&gt;
[[es:Principios de la religión]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE_%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF_(%E0%A6%89%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8)&amp;diff=997</id>
		<title>ইসলাম ধর্মের মূলনীতি (উসুলে দ্বীন)</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE_%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF_(%E0%A6%89%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8)&amp;diff=997"/>
		<updated>2025-02-25T13:51:56Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* অবস্থান ও গুরুত্ব */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
ইসলাম ধর্মের মূলনীতিসমূহ কী কী?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
ইসলাম ধর্মের মূলনীতি (উসুলে দ্বীন) হিসেবে [[তাওহীদ]], [[নবুওয়াত]] এবং [[মাআদ]] বা কিয়ামতকে গন্য করা হয়। বলা হয় যে, এই তিনটি মূলনীতি হচ্ছে ধর্মের ভিত্তি এবং স্তম্ভ। শিয়া পণ্ডিতগণ এই তিনটি মূলনীতির সাথে [[আদল]] ও [[ইমামত]] নামক আরও দুটি মূলনীত যোগ করেছেন। ফলে, শিয়াদের নিকট উসুলে দ্বীন হচ্ছে মোট পাঁচটি। উসুলে দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং অবিশ্বাস মানুষকে ইসলাম থেকে খারিজ করে দেয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উসুলে দ্বীন পরিভাষাটি কুরআন বা হাদিসে উল্লেখিত হয় নি। কিছু কিছু কালামশাস্ত্রবিদগণ এই পরিভাষাটি’র নামকরণ করেছেন। উসুলে দ্বীন শব্দটির কখন উৎপত্তি ঘটেছে এবং কে এর নামকরণ করেছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। উক্ত পরিভাষাটির প্রবর্তকদের মতে, এই আকীদাগুলোকে উসুলে দ্বীন হিসেবে অভিহিত করার কারণ হচ্ছে হাদিস, ফিকহ এবং কুরআনের তাফসীরের মতো ধর্মীয় জ্ঞানের শাখাগুলো এই মূল নীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== পরিভাষাটির ইতিহাস ==&lt;br /&gt;
উসুলে দ্বীন (ধর্মের মূলনীতিসমূহ) পরিভাষাটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। ইসলাম ধর্মের চিন্তা-চেতনার ইতিহাসে পরিভাষাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে, কুরআনে এবং  শিয়া এবং সুন্নিদের হাদিসগুলোতে ধর্মীয় জ্ঞানের শ্রেনী-বিভাগ হিসেবে উসুল (মূলনীতি) এবং ফুরুঅ (শাখা) বলে কিছুর অস্তিত্ব নেই। এই বিষয়টি এটাই প্রমাণ করে যে, এই পরিভাষা ‍দুটি কিছু কিছু কালামশাস্ত্রবিদ দ্বারা প্রবর্তিত হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[ইবনে তায়মিয়া’র]] (মৃত্যু: ৭২৮ হিজরি) মতো কিছু মুসলিম পণ্ডিত, যারা মূলত কালামশাস্ত্র, যুক্তিবিদ্যা এবং দর্শনশাস্ত্রকে ধর্ম ও দ্বীনদারির ক্ষেত্রে বিরোধী বলে মনে করেন, তারা এ প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন,  এই কারণে যে, উসুলে দ্বীন কুরআন বা হাদিসের কোন পরিভাষা নয়, এরূপ পরিভাষার প্রবর্তনকে [[মহানবী (স.)]] এর শিক্ষার পরিপন্থী হিসেবে মনে করেন। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উসুলে দ্বীন শব্দটির উৎপত্তি কখন ঘটেছে এবং কে এর নামকরণ করেছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। ইবনে নাদিমও উসুলে দ্বীন শিরোনামে আবু মুসা মুরদারের লেখা একটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন। আর এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর প্রথম দিকে এই শব্দটি প্রচলিত এবং প্রতিষ্ঠিত ছিল।&amp;lt;ref&amp;gt;গযাশতে, নাসের, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে ইরান, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৪, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== অবস্থান ও গুরুত্ব ==&lt;br /&gt;
ইসলামের আকীদাগত মূলনীতি অর্থাৎ [[তাওহীদ]] (আল্লাহর একত্ববাদ), [[নবুওয়াত]] এবং মাআদ বা [[কিয়ামতের]] প্রতি ঈমান ও আকীদা। এই তিনটি মূলনীতি ইসলাম ধর্মের ভিত্তি ও স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এমনভাবে যে, এই ধর্মে বর্ণিত হওয়া সবকিছুই মূলনীতিগুলোর একটির  মাধ্যমে অথবা তিনটির মাধ্যমেই অর্থবহ হয়ে ওঠে। সুতরাং, ইসলাম ধর্মের ছায়াতলে আসা সমস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আকীদা-বিশ্বাসের ব্যাপারে অল্প-বিস্তর পার্থক্য পরিলক্ষিত হলেও এই মূলনীতির ক্ষেত্রে তারা সকলেই একমত।&amp;lt;ref&amp;gt; জামি&#039;য়ে আয নেভেসান্দেগান, &amp;quot;ইসলাম&amp;quot;, দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৮, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইমামিয়া শিয়া কালামশাস্ত্রবিদগণে ধর্মের মূলনীতির সংখ্যা কয়টি এবং কোন কোন বিষয় এর অন্তর্ভূক্ত তা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। সবচেয়ে প্রসিদ্ধ মত হল  এই যে, উসুলে দ্বীনের মধ্যে [[নামায]], [[রোযা]], মাআদ তথা কিয়ামত এই তিনটি বিষয় অন্তর্ভূক্ত। তবে, আদল ও ইমামতকেও মাযহাবের মূলনীতি হিসেবে যোগ করতে হবে।&amp;lt;ref&amp;gt;গযাশতে, নাসের, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে ইরান, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৪, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt; এই মূল নীতিগুলির প্রতি অজ্ঞতা বা বিশ্বাসের অভাব ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে খারিজ করে দেয়। একইভাবে, মাযহাবের মৌলিক নীতিগুলির প্রতি অজ্ঞতা বা বিশ্বাসের অভাব একজন ব্যক্তিকে শিয়া মাযহাব থেকে খারিজ তথা বহিষ্কার করে দেয়।&amp;lt;ref&amp;gt;জামি&#039;য়ে আয মোহাক্কেকিন, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে কালামে ইসলামী, পৃ:৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অধিকাংশ মুসলিম পণ্ডিত মনে করেন যে, উসুলে দ্বীনের ক্ষেত্রে তাক্বলীদ  (অনুসরণ)  করা জায়েয বা বৈধ নয়। উসুলে দ্বিনের ক্ষেত্রে মানুষকে অবশ্যই দলিল প্রমাণের মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। । এই বিষয়টির উপর আলেমদের মধ্যে ইজমা তথা ঐক্যমতের দাবি করা হয়েছে। তবে, অন্য একদল যেমন আবু হানিফা, সুফিয়ান থুরী, আওযায়ী, মালিক, শাফেয়ী, আহমাদ ইবন হাম্বাল এবং আহলে হাদিসের অনুসারীরা মনে করেন যে, যদিও মৌলিক বিশ্বাসের ক্ষেত্রে যুক্তি-প্রমাণ থাকা ওয়াজীব তথা বাধ্যতামূলক এবং তা ত্যাগ করা পাপ হিসেবে গণ্য হয়, তবে তাক্বলীদ বা অনুকরণের ভিত্তিতে ঈমান গ্রহণযোগ্য।&amp;lt;ref&amp;gt;জামি&#039;য়ে আয মোহাক্কেকিন, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে কালামে ইসলামী, পৃ:৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অনেক ধর্মীয় পণ্ডিতের মতে, ধর্মের মূলনীতি সমূহের প্রতি বিশ্বাস ছাড়া ব্যক্তির মুসলিম হওয়া সম্ভব নয় এবং এগুলির মধ্যে কোন একটা অস্বীকার করলে কাফির হিসেবে গণ্য এবং শাস্তির যোগ্য বিবেচিত হবেন। উক্ত পরিভাষাটির প্রবর্তকদের মতে, এই আকীদাগুলোকে উসুলে দ্বীন হিসেবে অভিহিত করার কারণ হচ্ছে হাদিস, ফিকহ এবং কুরআনের তাফসীরের মতো ধর্মীয় জ্ঞানের শাখাগুলো এই মূল নীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। বলা হয় যে, ধর্ম হচ্ছে একটি শিকরড় বিশিষ্ট গাছের ন্যায়, আর উসুলে দ্বীন হচ্ছে ধর্মের শিকড়, যার অস্তিত্বের উপর নির্ভর করে গাছের জীবন।&amp;lt;ref&amp;gt;গযাশতে, নাসের, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে ইরান, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৪, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== উসুলে দ্বীনের উদাহরণ ==&lt;br /&gt;
=== তাওহীদ (একত্ববাদ) ===&lt;br /&gt;
[[তাওহীদ]] হল ইসলাম ধর্মে আকীদা-বিশ্বাসের সবচেয়ে মৌলিক শিক্ষা, যার তাত্ত্বিক এবং কার্যকরী বিভিন্ন দিক রয়েছে। তাওহীদের অর্থ অনুসারে, আল্লাহ একক ও অ-দ্বিতীয় সত্ত্বা, সমস্ত গুণাবলী পূর্ণাঙ্গ রূপে তার মধ্যে বিদ্যমান, তার সমতুল্য ও সমকক্ষ কেউ নেই, পরিবর্তনহীন, সমস্ত জগতের একমাত্র স্রষ্টা এবং তার কোন শরীক নেই। মহাবিশ্বের পরিচালনা তাঁর ইরাদা বা ইচ্ছার মাধ্যমে সংঘটিত হয়, এবং তাঁর জ্ঞান এবং ক্ষমতা সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। সমস্ত সৃষ্টির অবশ্যকরণীয় হচেছ তাঁকে উপাসনা করা, যে উপাসনা কোনো মধ্যস্থতার মুপাপেক্ষীতা ছাড়াই। কুরআন অনুযায়ী, আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস মানুষের ফিতরাত ও  স্বভাব-প্রকৃতিতে নিহিত। আর একত্ববাদ ব্যতীত যেকোন বহুত্ববাদের আকীদা ও  বিশ্বাস হচ্ছে বিচ্যুত চিন্তাধারা, আর এই বিচ্যুত চিন্তাধারা মানসিক, পরিবেশগত, ভৌগোলিক বা ঐতিহাসিক কারণ থেকে উৎসারিত হয়। সমস্ত [[নবীগণ (আ.)]] ছিলেন তাওহীদের দিকে আহ্বানকারী এবং তাদের বেশীরভাগই শিরক, বহু ইশ্বরবাদী ধর্ম এবং মূর্তিপূজা বিলুপ্ত করায় সচেষ্ট ছিলেন। [৭]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== নবুওয়াত ===&lt;br /&gt;
[[নবুওয়াতে]]র প্রতি বিশ্বাস অর্থ হল যে, মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলেন আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর প্রেরিত প্রতিনিধি। তাঁকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নবী প্রেরণের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। কুরআন হল আল্লাহর বানী যা তাঁর উপর ওহী করা হয়েছে। [৮]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== মাআদ  ===&lt;br /&gt;
[[মআদ]] শব্দটির অর্থ ফিরে আসা। কালামশাস্ত্রবিদ এবং দার্শনিকদের মতানুসারে, মাআদ বলতে মৃত্যু পরবর্তী জীবনকে বুঝায় অর্থাৎ মানুষকে যখন পুনরায় জীবিত করা হবে। মআদ সেই দিনকে বলা হয়, যেদিন মানুষের কাজগুলির মূল্যায়ন করা হবে, সৎ ব্যক্তিরা তাদের ভাল কাজের জন্য পুরস্কৃত হবেন এবং পাপী ব্যক্তিরা তাদের খারাপ কাজের জন্য শাস্তি পাবেন। ধর্ম, কালামশাস্ত্রবিদদের ও দর্শনে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির প্রতি দেরীতে লক্ষ্য করা হয়েছে সেটি হচেছ মৃত্যু পরবর্তী জীবনের বিষয় এবং মাআদ। ধর্মবিশ্বাসীরা মৃত্যুর পরের জীবনের প্রতি বিশ্বাসী ছিলেন এবং তারা পরকালকে তাদের বিশ্বাসের মৌলিক একটি ভিত্তি হিসেবে মনে করেন। [৯]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== আদল (আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতা) ===&lt;br /&gt;
যদিওবা [[আদল]] তথা ন্যায়বিচার সংক্রান্ত সিফাতটিও (গুণ) আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অন্যতম কর্ম গুণ। তবে এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে বিষয়টি নিয়ে আশআরী, শিয়া এবং মু&#039;তাযিলীদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের কারণে। আর এর ফলে শিয়ারা এবং মু&#039;তাযিলীরা আদলিয়া (আল্লাহর ন্যায়বিচারের সমর্থক) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে; এভাবেই  ধীরে ধীরে ন্যায়বিচার নামক মূলনীতিটিও ইমামতের পাশাপাশি শিয়া মাযহাবের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আল্লাহর অনেক কর্ম গুণ (সিফাতে ফে’লি)  আসলে আদলের সাথে সম্পর্কিত। আদল তথা ন্যায়বিচারের বিস্তৃত ধারণা বিবেচনা করে, যার মধ্যে ধর্মীয়, নৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার অন্তর্ভূক্ত, এরূপ আকীদার মূলনীতিকে ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরাটাই যথার্থ। [১০]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== ইমামত ===&lt;br /&gt;
[[ইমামত]] একটি ঐশ্বরিক দায়িত্ব। শুধুমাত্র ওহী প্রাপ্তি ও এর অনুরূপ কিছু ব্যতীত নবীদের সমস্ত দায়িত্ব ইমামদের (আ.) জন্যও নির্ধারিত। এই দিক থেকে, নিষ্পাপতা যেমন নবুওযোতের শর্ত তেমন ইমামতের ক্ষেত্রেও শর্ত। এই পার্থক্যের কারণেই আমরা ইমামতকে উসুলে দ্বীনের অংশ হিসেবে  মনে করবো।[১১] ইমামত নিঃসন্দেহে ইমামিয়া শিয়াদের কালাম বিষয়ক চিন্তাধারায় কেন্দ্রীয় স্থানের অধিকারী। শিয়ারা একদিকে ইমামদের ঐশ্বরিক মনোনয়ন (নাস) এবং নিষ্পাপতায় (ইসমাত)  বিশ্বাস করে, অন্যদিকে ইমামদের ইমামদের একচেটিয়া ধর্মীয় কর্তৃত্বের প্রতি আকীদা পোষণ করে, আর এই বিষয়টি হতে পারে এই পদের গুরুত্ব নির্দেশ করার মাধ্যম। [১২]&lt;br /&gt;
امامت یک منصب الهی بوده و تمام وظایف انبیاء _بجز دریافت وحی و آنچه شبیه آن است_ برای امامان ثابت است. از این رو عصمت که شرط نبوت می‌باشد در امام نیز هست. این تفاوت موجب می‌شود ما امامت را جزء اصول دین بدانیم.&amp;lt;ref&amp;gt;«[https://makarem.ir/main.aspx?lid=0&amp;amp;typeinfo=43&amp;amp;mid=393448 تعریف امامت]»، پایگاه اطلاع‌رسانی دفتر آیت الله مکارم شیرازی، انتشار: ۲۹ فروردین ۱۳۹۵ش، بازدید: ۹ آبان ۱۴۰۲ش.&amp;lt;/ref&amp;gt; امامت بی‌تردید محوری‌ترین جایگاه و نقش را در منظومة اندیشة کلامی شیعة امامیه داراست. اعتقاد به «نص‌ّ» و «عصمت» از یک سو، و نقشی که امامیه برای جایگاه معنوی امام، یعنی مرجعیت انحصاری دینی امامان قائل بوده‌اند، می‌تواند نشانگر اهمیت این جایگاه باشد.&amp;lt;ref&amp;gt;انصاری، حسن، «امامت»، دائرة المعارف بزرگ اسلامی، تهران، مرکز دائرة المعارف بزرگ اسلامی، ذیل مدخل.&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== articles connexes ==&lt;br /&gt;
* [[ফুরুয়ে দ্বীন (ধর্মের শাখাসমূহ))]]&lt;br /&gt;
* [[উসুলে দ্বিন এবং ফুরূয়ে দ্বিনের মধ্যে পার্থক্য]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch =کلام&lt;br /&gt;
|subbranch1 =&lt;br /&gt;
|subbranch2 =&lt;br /&gt;
|subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه =شد&lt;br /&gt;
 | تیترها =شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت =ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:اصول دین]]&lt;br /&gt;
[[ar:أصول الدین]]&lt;br /&gt;
[[fr:Principes fondementaux de la religion]]&lt;br /&gt;
[[ms:Ushuluddin]]&lt;br /&gt;
[[ru:Основы религии]]&lt;br /&gt;
[[en:Fundamental Principles of Religion]]&lt;br /&gt;
[[es:Principios de la religión]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE_%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF_(%E0%A6%89%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8)&amp;diff=996</id>
		<title>ইসলাম ধর্মের মূলনীতি (উসুলে দ্বীন)</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE_%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF_(%E0%A6%89%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8)&amp;diff=996"/>
		<updated>2025-02-25T13:50:33Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* পরিভাষাটির ইতিহাস */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
ইসলাম ধর্মের মূলনীতিসমূহ কী কী?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
ইসলাম ধর্মের মূলনীতি (উসুলে দ্বীন) হিসেবে [[তাওহীদ]], [[নবুওয়াত]] এবং [[মাআদ]] বা কিয়ামতকে গন্য করা হয়। বলা হয় যে, এই তিনটি মূলনীতি হচ্ছে ধর্মের ভিত্তি এবং স্তম্ভ। শিয়া পণ্ডিতগণ এই তিনটি মূলনীতির সাথে [[আদল]] ও [[ইমামত]] নামক আরও দুটি মূলনীত যোগ করেছেন। ফলে, শিয়াদের নিকট উসুলে দ্বীন হচ্ছে মোট পাঁচটি। উসুলে দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং অবিশ্বাস মানুষকে ইসলাম থেকে খারিজ করে দেয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উসুলে দ্বীন পরিভাষাটি কুরআন বা হাদিসে উল্লেখিত হয় নি। কিছু কিছু কালামশাস্ত্রবিদগণ এই পরিভাষাটি’র নামকরণ করেছেন। উসুলে দ্বীন শব্দটির কখন উৎপত্তি ঘটেছে এবং কে এর নামকরণ করেছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। উক্ত পরিভাষাটির প্রবর্তকদের মতে, এই আকীদাগুলোকে উসুলে দ্বীন হিসেবে অভিহিত করার কারণ হচ্ছে হাদিস, ফিকহ এবং কুরআনের তাফসীরের মতো ধর্মীয় জ্ঞানের শাখাগুলো এই মূল নীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== পরিভাষাটির ইতিহাস ==&lt;br /&gt;
উসুলে দ্বীন (ধর্মের মূলনীতিসমূহ) পরিভাষাটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। ইসলাম ধর্মের চিন্তা-চেতনার ইতিহাসে পরিভাষাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে, কুরআনে এবং  শিয়া এবং সুন্নিদের হাদিসগুলোতে ধর্মীয় জ্ঞানের শ্রেনী-বিভাগ হিসেবে উসুল (মূলনীতি) এবং ফুরুঅ (শাখা) বলে কিছুর অস্তিত্ব নেই। এই বিষয়টি এটাই প্রমাণ করে যে, এই পরিভাষা ‍দুটি কিছু কিছু কালামশাস্ত্রবিদ দ্বারা প্রবর্তিত হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[ইবনে তায়মিয়া’র]] (মৃত্যু: ৭২৮ হিজরি) মতো কিছু মুসলিম পণ্ডিত, যারা মূলত কালামশাস্ত্র, যুক্তিবিদ্যা এবং দর্শনশাস্ত্রকে ধর্ম ও দ্বীনদারির ক্ষেত্রে বিরোধী বলে মনে করেন, তারা এ প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন,  এই কারণে যে, উসুলে দ্বীন কুরআন বা হাদিসের কোন পরিভাষা নয়, এরূপ পরিভাষার প্রবর্তনকে [[মহানবী (স.)]] এর শিক্ষার পরিপন্থী হিসেবে মনে করেন। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উসুলে দ্বীন শব্দটির উৎপত্তি কখন ঘটেছে এবং কে এর নামকরণ করেছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। ইবনে নাদিমও উসুলে দ্বীন শিরোনামে আবু মুসা মুরদারের লেখা একটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন। আর এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর প্রথম দিকে এই শব্দটি প্রচলিত এবং প্রতিষ্ঠিত ছিল।&amp;lt;ref&amp;gt;গযাশতে, নাসের, &amp;quot;উসূল উদ-দীন&amp;quot;, দানেশনামায়ে ইরান, তেহরান, মারকায দায়েরাতুল মাআরিফে বোজুরগে ইসলামী, খ:৪, জিল মাদখাল।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== অবস্থান ও গুরুত্ব ==&lt;br /&gt;
ইসলামের আকীদাগত মূলনীতি অর্থাৎ [[তাওহীদ]] (আল্লাহর একত্ববাদ), [[নবুওয়াত]] এবং মাআদ বা [[কিয়ামতের]] প্রতি ঈমান ও আকীদা। এই তিনটি মূলনীতি ইসলাম ধর্মের ভিত্তি ও স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এমনভাবে যে, এই ধর্মে বর্ণিত হওয়া সবকিছুই মূলনীতিগুলোর একটির  মাধ্যমে অথবা তিনটির মাধ্যমেই অর্থবহ হয়ে ওঠে। সুতরাং, ইসলাম ধর্মের ছায়াতলে আসা সমস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আকীদা-বিশ্বাসের ব্যাপারে অল্প-বিস্তর পার্থক্য পরিলক্ষিত হলেও এই মূলনীতির ক্ষেত্রে তারা সকলেই একমত।[২]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইমামিয়া শিয়া কালামশাস্ত্রবিদগণে ধর্মের মূলনীতির সংখ্যা কয়টি এবং কোন কোন বিষয় এর অন্তর্ভূক্ত তা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। সবচেয়ে প্রসিদ্ধ মত হল  এই যে, উসুলে দ্বীনের মধ্যে [[নামায]], [[রোযা]], মাআদ তথা কিয়ামত এই তিনটি বিষয় অন্তর্ভূক্ত। তবে, আদল ও ইমামতকেও মাযহাবের মূলনীতি হিসেবে যোগ করতে হবে। [৩] এই মূল নীতিগুলির প্রতি অজ্ঞতা বা বিশ্বাসের অভাব ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে খারিজ করে দেয়। একইভাবে, মাযহাবের মৌলিক নীতিগুলির প্রতি অজ্ঞতা বা বিশ্বাসের অভাব একজন ব্যক্তিকে শিয়া মাযহাব থেকে খারিজ তথা বহিষ্কার করে দেয়। [৪]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অধিকাংশ মুসলিম পণ্ডিত মনে করেন যে, উসুলে দ্বীনের ক্ষেত্রে তাক্বলীদ  (অনুসরণ)  করা জায়েয বা বৈধ নয়। উসুলে দ্বিনের ক্ষেত্রে মানুষকে অবশ্যই দলিল প্রমাণের মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। । এই বিষয়টির উপর আলেমদের মধ্যে ইজমা তথা ঐক্যমতের দাবি করা হয়েছে। তবে, অন্য একদল যেমন আবু হানিফা, সুফিয়ান থুরী, আওযায়ী, মালিক, শাফেয়ী, আহমাদ ইবন হাম্বাল এবং আহলে হাদিসের অনুসারীরা মনে করেন যে, যদিও মৌলিক বিশ্বাসের ক্ষেত্রে যুক্তি-প্রমাণ থাকা ওয়াজীব তথা বাধ্যতামূলক এবং তা ত্যাগ করা পাপ হিসেবে গণ্য হয়, তবে তাক্বলীদ বা অনুকরণের ভিত্তিতে ঈমান গ্রহণযোগ্য। [৫]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অনেক ধর্মীয় পণ্ডিতের মতে, ধর্মের মূলনীতি সমূহের প্রতি বিশ্বাস ছাড়া ব্যক্তির মুসলিম হওয়া সম্ভব নয় এবং এগুলির মধ্যে কোন একটা অস্বীকার করলে কাফির হিসেবে গণ্য এবং শাস্তির যোগ্য বিবেচিত হবেন। উক্ত পরিভাষাটির প্রবর্তকদের মতে, এই আকীদাগুলোকে উসুলে দ্বীন হিসেবে অভিহিত করার কারণ হচ্ছে হাদিস, ফিকহ এবং কুরআনের তাফসীরের মতো ধর্মীয় জ্ঞানের শাখাগুলো এই মূল নীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। বলা হয় যে, ধর্ম হচ্ছে একটি শিকরড় বিশিষ্ট গাছের ন্যায়, আর উসুলে দ্বীন হচ্ছে ধর্মের শিকড়, যার অস্তিত্বের উপর নির্ভর করে গাছের জীবন।[৬]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== উসুলে দ্বীনের উদাহরণ ==&lt;br /&gt;
=== তাওহীদ (একত্ববাদ) ===&lt;br /&gt;
[[তাওহীদ]] হল ইসলাম ধর্মে আকীদা-বিশ্বাসের সবচেয়ে মৌলিক শিক্ষা, যার তাত্ত্বিক এবং কার্যকরী বিভিন্ন দিক রয়েছে। তাওহীদের অর্থ অনুসারে, আল্লাহ একক ও অ-দ্বিতীয় সত্ত্বা, সমস্ত গুণাবলী পূর্ণাঙ্গ রূপে তার মধ্যে বিদ্যমান, তার সমতুল্য ও সমকক্ষ কেউ নেই, পরিবর্তনহীন, সমস্ত জগতের একমাত্র স্রষ্টা এবং তার কোন শরীক নেই। মহাবিশ্বের পরিচালনা তাঁর ইরাদা বা ইচ্ছার মাধ্যমে সংঘটিত হয়, এবং তাঁর জ্ঞান এবং ক্ষমতা সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। সমস্ত সৃষ্টির অবশ্যকরণীয় হচেছ তাঁকে উপাসনা করা, যে উপাসনা কোনো মধ্যস্থতার মুপাপেক্ষীতা ছাড়াই। কুরআন অনুযায়ী, আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস মানুষের ফিতরাত ও  স্বভাব-প্রকৃতিতে নিহিত। আর একত্ববাদ ব্যতীত যেকোন বহুত্ববাদের আকীদা ও  বিশ্বাস হচ্ছে বিচ্যুত চিন্তাধারা, আর এই বিচ্যুত চিন্তাধারা মানসিক, পরিবেশগত, ভৌগোলিক বা ঐতিহাসিক কারণ থেকে উৎসারিত হয়। সমস্ত [[নবীগণ (আ.)]] ছিলেন তাওহীদের দিকে আহ্বানকারী এবং তাদের বেশীরভাগই শিরক, বহু ইশ্বরবাদী ধর্ম এবং মূর্তিপূজা বিলুপ্ত করায় সচেষ্ট ছিলেন। [৭]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== নবুওয়াত ===&lt;br /&gt;
[[নবুওয়াতে]]র প্রতি বিশ্বাস অর্থ হল যে, মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলেন আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর প্রেরিত প্রতিনিধি। তাঁকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নবী প্রেরণের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। কুরআন হল আল্লাহর বানী যা তাঁর উপর ওহী করা হয়েছে। [৮]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== মাআদ  ===&lt;br /&gt;
[[মআদ]] শব্দটির অর্থ ফিরে আসা। কালামশাস্ত্রবিদ এবং দার্শনিকদের মতানুসারে, মাআদ বলতে মৃত্যু পরবর্তী জীবনকে বুঝায় অর্থাৎ মানুষকে যখন পুনরায় জীবিত করা হবে। মআদ সেই দিনকে বলা হয়, যেদিন মানুষের কাজগুলির মূল্যায়ন করা হবে, সৎ ব্যক্তিরা তাদের ভাল কাজের জন্য পুরস্কৃত হবেন এবং পাপী ব্যক্তিরা তাদের খারাপ কাজের জন্য শাস্তি পাবেন। ধর্ম, কালামশাস্ত্রবিদদের ও দর্শনে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির প্রতি দেরীতে লক্ষ্য করা হয়েছে সেটি হচেছ মৃত্যু পরবর্তী জীবনের বিষয় এবং মাআদ। ধর্মবিশ্বাসীরা মৃত্যুর পরের জীবনের প্রতি বিশ্বাসী ছিলেন এবং তারা পরকালকে তাদের বিশ্বাসের মৌলিক একটি ভিত্তি হিসেবে মনে করেন। [৯]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== আদল (আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতা) ===&lt;br /&gt;
যদিওবা [[আদল]] তথা ন্যায়বিচার সংক্রান্ত সিফাতটিও (গুণ) আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অন্যতম কর্ম গুণ। তবে এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে বিষয়টি নিয়ে আশআরী, শিয়া এবং মু&#039;তাযিলীদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের কারণে। আর এর ফলে শিয়ারা এবং মু&#039;তাযিলীরা আদলিয়া (আল্লাহর ন্যায়বিচারের সমর্থক) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে; এভাবেই  ধীরে ধীরে ন্যায়বিচার নামক মূলনীতিটিও ইমামতের পাশাপাশি শিয়া মাযহাবের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আল্লাহর অনেক কর্ম গুণ (সিফাতে ফে’লি)  আসলে আদলের সাথে সম্পর্কিত। আদল তথা ন্যায়বিচারের বিস্তৃত ধারণা বিবেচনা করে, যার মধ্যে ধর্মীয়, নৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার অন্তর্ভূক্ত, এরূপ আকীদার মূলনীতিকে ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরাটাই যথার্থ। [১০]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== ইমামত ===&lt;br /&gt;
[[ইমামত]] একটি ঐশ্বরিক দায়িত্ব। শুধুমাত্র ওহী প্রাপ্তি ও এর অনুরূপ কিছু ব্যতীত নবীদের সমস্ত দায়িত্ব ইমামদের (আ.) জন্যও নির্ধারিত। এই দিক থেকে, নিষ্পাপতা যেমন নবুওযোতের শর্ত তেমন ইমামতের ক্ষেত্রেও শর্ত। এই পার্থক্যের কারণেই আমরা ইমামতকে উসুলে দ্বীনের অংশ হিসেবে  মনে করবো।[১১] ইমামত নিঃসন্দেহে ইমামিয়া শিয়াদের কালাম বিষয়ক চিন্তাধারায় কেন্দ্রীয় স্থানের অধিকারী। শিয়ারা একদিকে ইমামদের ঐশ্বরিক মনোনয়ন (নাস) এবং নিষ্পাপতায় (ইসমাত)  বিশ্বাস করে, অন্যদিকে ইমামদের ইমামদের একচেটিয়া ধর্মীয় কর্তৃত্বের প্রতি আকীদা পোষণ করে, আর এই বিষয়টি হতে পারে এই পদের গুরুত্ব নির্দেশ করার মাধ্যম। [১২]&lt;br /&gt;
امامت یک منصب الهی بوده و تمام وظایف انبیاء _بجز دریافت وحی و آنچه شبیه آن است_ برای امامان ثابت است. از این رو عصمت که شرط نبوت می‌باشد در امام نیز هست. این تفاوت موجب می‌شود ما امامت را جزء اصول دین بدانیم.&amp;lt;ref&amp;gt;«[https://makarem.ir/main.aspx?lid=0&amp;amp;typeinfo=43&amp;amp;mid=393448 تعریف امامت]»، پایگاه اطلاع‌رسانی دفتر آیت الله مکارم شیرازی، انتشار: ۲۹ فروردین ۱۳۹۵ش، بازدید: ۹ آبان ۱۴۰۲ش.&amp;lt;/ref&amp;gt; امامت بی‌تردید محوری‌ترین جایگاه و نقش را در منظومة اندیشة کلامی شیعة امامیه داراست. اعتقاد به «نص‌ّ» و «عصمت» از یک سو، و نقشی که امامیه برای جایگاه معنوی امام، یعنی مرجعیت انحصاری دینی امامان قائل بوده‌اند، می‌تواند نشانگر اهمیت این جایگاه باشد.&amp;lt;ref&amp;gt;انصاری، حسن، «امامت»، دائرة المعارف بزرگ اسلامی، تهران، مرکز دائرة المعارف بزرگ اسلامی، ذیل مدخل.&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== articles connexes ==&lt;br /&gt;
* [[ফুরুয়ে দ্বীন (ধর্মের শাখাসমূহ))]]&lt;br /&gt;
* [[উসুলে দ্বিন এবং ফুরূয়ে দ্বিনের মধ্যে পার্থক্য]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch =کلام&lt;br /&gt;
|subbranch1 =&lt;br /&gt;
|subbranch2 =&lt;br /&gt;
|subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه =شد&lt;br /&gt;
 | تیترها =شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت =ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:اصول دین]]&lt;br /&gt;
[[ar:أصول الدین]]&lt;br /&gt;
[[fr:Principes fondementaux de la religion]]&lt;br /&gt;
[[ms:Ushuluddin]]&lt;br /&gt;
[[ru:Основы религии]]&lt;br /&gt;
[[en:Fundamental Principles of Religion]]&lt;br /&gt;
[[es:Principios de la religión]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE_%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF_(%E0%A6%89%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8)&amp;diff=995</id>
		<title>ইসলাম ধর্মের মূলনীতি (উসুলে দ্বীন)</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE_%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF_(%E0%A6%89%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%87_%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8)&amp;diff=995"/>
		<updated>2025-02-25T13:39:59Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: ابرابزار&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
ইসলাম ধর্মের মূলনীতিসমূহ কী কী?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
ইসলাম ধর্মের মূলনীতি (উসুলে দ্বীন) হিসেবে [[তাওহীদ]], [[নবুওয়াত]] এবং [[মাআদ]] বা কিয়ামতকে গন্য করা হয়। বলা হয় যে, এই তিনটি মূলনীতি হচ্ছে ধর্মের ভিত্তি এবং স্তম্ভ। শিয়া পণ্ডিতগণ এই তিনটি মূলনীতির সাথে [[আদল]] ও [[ইমামত]] নামক আরও দুটি মূলনীত যোগ করেছেন। ফলে, শিয়াদের নিকট উসুলে দ্বীন হচ্ছে মোট পাঁচটি। উসুলে দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং অবিশ্বাস মানুষকে ইসলাম থেকে খারিজ করে দেয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উসুলে দ্বীন পরিভাষাটি কুরআন বা হাদিসে উল্লেখিত হয় নি। কিছু কিছু কালামশাস্ত্রবিদগণ এই পরিভাষাটি’র নামকরণ করেছেন। উসুলে দ্বীন শব্দটির কখন উৎপত্তি ঘটেছে এবং কে এর নামকরণ করেছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। উক্ত পরিভাষাটির প্রবর্তকদের মতে, এই আকীদাগুলোকে উসুলে দ্বীন হিসেবে অভিহিত করার কারণ হচ্ছে হাদিস, ফিকহ এবং কুরআনের তাফসীরের মতো ধর্মীয় জ্ঞানের শাখাগুলো এই মূল নীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== পরিভাষাটির ইতিহাস ==&lt;br /&gt;
উসুলে দ্বীন (ধর্মের মূলনীতিসমূহ) পরিভাষাটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। ইসলাম ধর্মের চিন্তা-চেতনার ইতিহাসে পরিভাষাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে, কুরআনে এবং  শিয়া এবং সুন্নিদের হাদিসগুলোতে ধর্মীয় জ্ঞানের শ্রেনী-বিভাগ হিসেবে উসুল (মূলনীতি) এবং ফুরুঅ (শাখা) বলে কিছুর অস্তিত্ব নেই। এই বিষয়টি এটাই প্রমাণ করে যে, এই পরিভাষা ‍দুটি কিছু কিছু কালামশাস্ত্রবিদ দ্বারা প্রবর্তিত হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[ইবনে তায়মিয়া’র]] (মৃত্যু: ৭২৮ হিজরি) মতো কিছু মুসলিম পণ্ডিত, যারা মূলত কালামশাস্ত্র, যুক্তিবিদ্যা এবং দর্শনশাস্ত্রকে ধর্ম ও দ্বীনদারির ক্ষেত্রে বিরোধী বলে মনে করেন, তারা এ প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন,  এই কারণে যে, উসুলে দ্বীন কুরআন বা হাদিসের কোন পরিভাষা নয়, এরূপ পরিভাষার প্রবর্তনকে [[মহানবী (স.)]] এর শিক্ষার পরিপন্থী হিসেবে মনে করেন। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উসুলে দ্বীন শব্দটির উৎপত্তি কখন ঘটেছে এবং কে এর নামকরণ করেছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। ইবনে নাদিমও উসুলে দ্বীন শিরোনামে আবু মুসা মুরদারের লেখা একটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন। আর এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর প্রথম দিকে এই শব্দটি প্রচলিত এবং প্রতিষ্ঠিত ছিল।[১]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== অবস্থান ও গুরুত্ব ==&lt;br /&gt;
ইসলামের আকীদাগত মূলনীতি অর্থাৎ [[তাওহীদ]] (আল্লাহর একত্ববাদ), [[নবুওয়াত]] এবং মাআদ বা [[কিয়ামতের]] প্রতি ঈমান ও আকীদা। এই তিনটি মূলনীতি ইসলাম ধর্মের ভিত্তি ও স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এমনভাবে যে, এই ধর্মে বর্ণিত হওয়া সবকিছুই মূলনীতিগুলোর একটির  মাধ্যমে অথবা তিনটির মাধ্যমেই অর্থবহ হয়ে ওঠে। সুতরাং, ইসলাম ধর্মের ছায়াতলে আসা সমস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আকীদা-বিশ্বাসের ব্যাপারে অল্প-বিস্তর পার্থক্য পরিলক্ষিত হলেও এই মূলনীতির ক্ষেত্রে তারা সকলেই একমত।[২]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইমামিয়া শিয়া কালামশাস্ত্রবিদগণে ধর্মের মূলনীতির সংখ্যা কয়টি এবং কোন কোন বিষয় এর অন্তর্ভূক্ত তা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। সবচেয়ে প্রসিদ্ধ মত হল  এই যে, উসুলে দ্বীনের মধ্যে [[নামায]], [[রোযা]], মাআদ তথা কিয়ামত এই তিনটি বিষয় অন্তর্ভূক্ত। তবে, আদল ও ইমামতকেও মাযহাবের মূলনীতি হিসেবে যোগ করতে হবে। [৩] এই মূল নীতিগুলির প্রতি অজ্ঞতা বা বিশ্বাসের অভাব ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে খারিজ করে দেয়। একইভাবে, মাযহাবের মৌলিক নীতিগুলির প্রতি অজ্ঞতা বা বিশ্বাসের অভাব একজন ব্যক্তিকে শিয়া মাযহাব থেকে খারিজ তথা বহিষ্কার করে দেয়। [৪]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অধিকাংশ মুসলিম পণ্ডিত মনে করেন যে, উসুলে দ্বীনের ক্ষেত্রে তাক্বলীদ  (অনুসরণ)  করা জায়েয বা বৈধ নয়। উসুলে দ্বিনের ক্ষেত্রে মানুষকে অবশ্যই দলিল প্রমাণের মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। । এই বিষয়টির উপর আলেমদের মধ্যে ইজমা তথা ঐক্যমতের দাবি করা হয়েছে। তবে, অন্য একদল যেমন আবু হানিফা, সুফিয়ান থুরী, আওযায়ী, মালিক, শাফেয়ী, আহমাদ ইবন হাম্বাল এবং আহলে হাদিসের অনুসারীরা মনে করেন যে, যদিও মৌলিক বিশ্বাসের ক্ষেত্রে যুক্তি-প্রমাণ থাকা ওয়াজীব তথা বাধ্যতামূলক এবং তা ত্যাগ করা পাপ হিসেবে গণ্য হয়, তবে তাক্বলীদ বা অনুকরণের ভিত্তিতে ঈমান গ্রহণযোগ্য। [৫]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অনেক ধর্মীয় পণ্ডিতের মতে, ধর্মের মূলনীতি সমূহের প্রতি বিশ্বাস ছাড়া ব্যক্তির মুসলিম হওয়া সম্ভব নয় এবং এগুলির মধ্যে কোন একটা অস্বীকার করলে কাফির হিসেবে গণ্য এবং শাস্তির যোগ্য বিবেচিত হবেন। উক্ত পরিভাষাটির প্রবর্তকদের মতে, এই আকীদাগুলোকে উসুলে দ্বীন হিসেবে অভিহিত করার কারণ হচ্ছে হাদিস, ফিকহ এবং কুরআনের তাফসীরের মতো ধর্মীয় জ্ঞানের শাখাগুলো এই মূল নীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। বলা হয় যে, ধর্ম হচ্ছে একটি শিকরড় বিশিষ্ট গাছের ন্যায়, আর উসুলে দ্বীন হচ্ছে ধর্মের শিকড়, যার অস্তিত্বের উপর নির্ভর করে গাছের জীবন।[৬]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== উসুলে দ্বীনের উদাহরণ ==&lt;br /&gt;
=== তাওহীদ (একত্ববাদ) ===&lt;br /&gt;
[[তাওহীদ]] হল ইসলাম ধর্মে আকীদা-বিশ্বাসের সবচেয়ে মৌলিক শিক্ষা, যার তাত্ত্বিক এবং কার্যকরী বিভিন্ন দিক রয়েছে। তাওহীদের অর্থ অনুসারে, আল্লাহ একক ও অ-দ্বিতীয় সত্ত্বা, সমস্ত গুণাবলী পূর্ণাঙ্গ রূপে তার মধ্যে বিদ্যমান, তার সমতুল্য ও সমকক্ষ কেউ নেই, পরিবর্তনহীন, সমস্ত জগতের একমাত্র স্রষ্টা এবং তার কোন শরীক নেই। মহাবিশ্বের পরিচালনা তাঁর ইরাদা বা ইচ্ছার মাধ্যমে সংঘটিত হয়, এবং তাঁর জ্ঞান এবং ক্ষমতা সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। সমস্ত সৃষ্টির অবশ্যকরণীয় হচেছ তাঁকে উপাসনা করা, যে উপাসনা কোনো মধ্যস্থতার মুপাপেক্ষীতা ছাড়াই। কুরআন অনুযায়ী, আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস মানুষের ফিতরাত ও  স্বভাব-প্রকৃতিতে নিহিত। আর একত্ববাদ ব্যতীত যেকোন বহুত্ববাদের আকীদা ও  বিশ্বাস হচ্ছে বিচ্যুত চিন্তাধারা, আর এই বিচ্যুত চিন্তাধারা মানসিক, পরিবেশগত, ভৌগোলিক বা ঐতিহাসিক কারণ থেকে উৎসারিত হয়। সমস্ত [[নবীগণ (আ.)]] ছিলেন তাওহীদের দিকে আহ্বানকারী এবং তাদের বেশীরভাগই শিরক, বহু ইশ্বরবাদী ধর্ম এবং মূর্তিপূজা বিলুপ্ত করায় সচেষ্ট ছিলেন। [৭]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== নবুওয়াত ===&lt;br /&gt;
[[নবুওয়াতে]]র প্রতি বিশ্বাস অর্থ হল যে, মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলেন আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর প্রেরিত প্রতিনিধি। তাঁকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নবী প্রেরণের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। কুরআন হল আল্লাহর বানী যা তাঁর উপর ওহী করা হয়েছে। [৮]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== মাআদ  ===&lt;br /&gt;
[[মআদ]] শব্দটির অর্থ ফিরে আসা। কালামশাস্ত্রবিদ এবং দার্শনিকদের মতানুসারে, মাআদ বলতে মৃত্যু পরবর্তী জীবনকে বুঝায় অর্থাৎ মানুষকে যখন পুনরায় জীবিত করা হবে। মআদ সেই দিনকে বলা হয়, যেদিন মানুষের কাজগুলির মূল্যায়ন করা হবে, সৎ ব্যক্তিরা তাদের ভাল কাজের জন্য পুরস্কৃত হবেন এবং পাপী ব্যক্তিরা তাদের খারাপ কাজের জন্য শাস্তি পাবেন। ধর্ম, কালামশাস্ত্রবিদদের ও দর্শনে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির প্রতি দেরীতে লক্ষ্য করা হয়েছে সেটি হচেছ মৃত্যু পরবর্তী জীবনের বিষয় এবং মাআদ। ধর্মবিশ্বাসীরা মৃত্যুর পরের জীবনের প্রতি বিশ্বাসী ছিলেন এবং তারা পরকালকে তাদের বিশ্বাসের মৌলিক একটি ভিত্তি হিসেবে মনে করেন। [৯]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== আদল (আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতা) ===&lt;br /&gt;
যদিওবা [[আদল]] তথা ন্যায়বিচার সংক্রান্ত সিফাতটিও (গুণ) আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অন্যতম কর্ম গুণ। তবে এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে বিষয়টি নিয়ে আশআরী, শিয়া এবং মু&#039;তাযিলীদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের কারণে। আর এর ফলে শিয়ারা এবং মু&#039;তাযিলীরা আদলিয়া (আল্লাহর ন্যায়বিচারের সমর্থক) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে; এভাবেই  ধীরে ধীরে ন্যায়বিচার নামক মূলনীতিটিও ইমামতের পাশাপাশি শিয়া মাযহাবের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আল্লাহর অনেক কর্ম গুণ (সিফাতে ফে’লি)  আসলে আদলের সাথে সম্পর্কিত। আদল তথা ন্যায়বিচারের বিস্তৃত ধারণা বিবেচনা করে, যার মধ্যে ধর্মীয়, নৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার অন্তর্ভূক্ত, এরূপ আকীদার মূলনীতিকে ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরাটাই যথার্থ। [১০]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== ইমামত ===&lt;br /&gt;
[[ইমামত]] একটি ঐশ্বরিক দায়িত্ব। শুধুমাত্র ওহী প্রাপ্তি ও এর অনুরূপ কিছু ব্যতীত নবীদের সমস্ত দায়িত্ব ইমামদের (আ.) জন্যও নির্ধারিত। এই দিক থেকে, নিষ্পাপতা যেমন নবুওযোতের শর্ত তেমন ইমামতের ক্ষেত্রেও শর্ত। এই পার্থক্যের কারণেই আমরা ইমামতকে উসুলে দ্বীনের অংশ হিসেবে  মনে করবো।[১১] ইমামত নিঃসন্দেহে ইমামিয়া শিয়াদের কালাম বিষয়ক চিন্তাধারায় কেন্দ্রীয় স্থানের অধিকারী। শিয়ারা একদিকে ইমামদের ঐশ্বরিক মনোনয়ন (নাস) এবং নিষ্পাপতায় (ইসমাত)  বিশ্বাস করে, অন্যদিকে ইমামদের ইমামদের একচেটিয়া ধর্মীয় কর্তৃত্বের প্রতি আকীদা পোষণ করে, আর এই বিষয়টি হতে পারে এই পদের গুরুত্ব নির্দেশ করার মাধ্যম। [১২]&lt;br /&gt;
امامت یک منصب الهی بوده و تمام وظایف انبیاء _بجز دریافت وحی و آنچه شبیه آن است_ برای امامان ثابت است. از این رو عصمت که شرط نبوت می‌باشد در امام نیز هست. این تفاوت موجب می‌شود ما امامت را جزء اصول دین بدانیم.&amp;lt;ref&amp;gt;«[https://makarem.ir/main.aspx?lid=0&amp;amp;typeinfo=43&amp;amp;mid=393448 تعریف امامت]»، پایگاه اطلاع‌رسانی دفتر آیت الله مکارم شیرازی، انتشار: ۲۹ فروردین ۱۳۹۵ش، بازدید: ۹ آبان ۱۴۰۲ش.&amp;lt;/ref&amp;gt; امامت بی‌تردید محوری‌ترین جایگاه و نقش را در منظومة اندیشة کلامی شیعة امامیه داراست. اعتقاد به «نص‌ّ» و «عصمت» از یک سو، و نقشی که امامیه برای جایگاه معنوی امام، یعنی مرجعیت انحصاری دینی امامان قائل بوده‌اند، می‌تواند نشانگر اهمیت این جایگاه باشد.&amp;lt;ref&amp;gt;انصاری، حسن، «امامت»، دائرة المعارف بزرگ اسلامی، تهران، مرکز دائرة المعارف بزرگ اسلامی، ذیل مدخل.&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== articles connexes ==&lt;br /&gt;
* [[ফুরুয়ে দ্বীন (ধর্মের শাখাসমূহ))]]&lt;br /&gt;
* [[উসুলে দ্বিন এবং ফুরূয়ে দ্বিনের মধ্যে পার্থক্য]]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch =کلام&lt;br /&gt;
|subbranch1 =&lt;br /&gt;
|subbranch2 =&lt;br /&gt;
|subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه =شد&lt;br /&gt;
 | تیترها =شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت =ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:اصول دین]]&lt;br /&gt;
[[ar:أصول الدین]]&lt;br /&gt;
[[fr:Principes fondementaux de la religion]]&lt;br /&gt;
[[ms:Ushuluddin]]&lt;br /&gt;
[[ru:Основы религии]]&lt;br /&gt;
[[en:Fundamental Principles of Religion]]&lt;br /&gt;
[[es:Principios de la religión]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%A6%E0%A7%83%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87_%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%95&amp;diff=994</id>
		<title>কোরআনের দৃষ্টিতে ইনফাক</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%A6%E0%A7%83%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87_%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%95&amp;diff=994"/>
		<updated>2025-02-24T22:13:31Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */ ابرابزار&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{question}}&lt;br /&gt;
পবিত্র কোরআনে ইনফাকের অবস্থান, তাৎপর্য ও এর কি প্রভাব রয়েছে?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইনফাক দ্বীনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ও কেন্দ্রীয় ভিত্তিক বিষয়াদির মধ্যে অন্যতম এবং তা পবিত্র কোরআনে একাধিকবার উল্লিখিত হয়েছে। এবং এর জন্য সর্বোত্তম প্রতিদান নির্ধারণ করা হয়েছে। আত্মশুদ্ধি ও পবিত্রতা, নৈতিকতা অর্জন, উত্তম ও আধ্যাত্মিক মর্যাদা লাভ এবং সমাজ থেকে দারিদ্র্যতা বিমোচনে ইনফাকের বিশেষ প্রভাব রয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
পবিত্র কোরআনে ইনফাককারীগণ মুমিন, ধার্মিক ও নৈতিক গুণাবলীর মর্যাদা লাভ করেছেন। ইনফাক কারী বিশেষ গুন সম্পন্ন যেমন অদৃশ্যের প্রতি ঈমান, ধৈর্যশীল, নেককার ও নামাজ কায়েমকারী যা একজন মুসলমান হিসেবে তার অন্যতম বিশেষ গুন বলে বিবেচিত হয় এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁদেরকে জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম প্রদানে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন। কোরআনের বর্ণনা অনুসারে দরিদ্র, সুবিধা বঞ্চিত, ইয়াতিম, দুঃস্থ অসহায়দেরকে ইনফাক লাভের প্রাপ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ইনফাকের ফজিলত ও তাৎপর্য ==&lt;br /&gt;
ইনফাকের অর্থ হলো আল্লাহর রাস্তায় খরচ করা যা কিছু আল্লাহ আমাদেরকে প্রদান করেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;বাহাউদ্দীন খোররামশাহী, তেহরান, দোস্তান, নাহিদ, ২০০১, ভলিউম ১, পৃ. ৩১৩ এর প্রচেষ্টায় মইনি, মোহসেন, &amp;quot;ইনফাক&amp;quot;, এনসাইক্লোপিডিয়া অফ কোরান অ্যান্ড কোরান স্টাডিজ।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
ইনফাক যা অতি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক পরিচিতি ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন যার প্রতি পবিত্র কোরআনে বিশেষ ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।&lt;br /&gt;
[[মহান]] আল্লাহ ইনফাক কারীর জন্য উত্তম পুরস্কার ও [[জান্নাত]] নির্ধারণ করে রেখেছেন এবং উক্ত ব্যয়কৃত সম্পদকে কয়েক&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা হাদিদ, আয়াত ১১। সূরা আনফাল, আয়াত ৬০। সূরা তওবা, আয়াত ২১।&amp;lt;/ref&amp;gt; গুন বৃদ্ধি করে দেন।&amp;lt;ref&amp;gt; সূরা বাকারা, আয়াত ২৬1। সূরা কাস, আয়াত ৫৪।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইনফাক কারীর জন্য কোন প্রকার দুঃখ কষ্ট নেই।&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা বাকারা, আয়াত ২৭৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
 &lt;br /&gt;
[[কোরআনে কারীমে]], শতাধিক আয়াতে অভাবগ্রস্তকে সাহায্যের জন্য জাকাতের মাধ্যমে,[[খুমস]],[[সাদকাহ]], [[ইনফাক]], [[উত্তম ঋণ]] (সুদবিহীন), খাদ্য প্রদান সহ অন্যান্য বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।&lt;br /&gt;
কোরআন ইনফাকের পন্থা ও পরিমাণ, ইনফাক কারীর প্রতি শর্তাবলী ও ইনফাক গ্ৰহণকারীর প্রতি ও যথাযথ নির্দেশনা দিয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt; কারাতি, মোহসেন, তাফসির নূর, তেহরান, কোরান থেকে পাঠের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ২০০৮, ভলিউম ৯, পৃ. ৪৬১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অসংখ্যবার কোরআনে ইনফাকের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।&amp;lt;ref&amp;gt; সূরা বাকারা, আয়াত ১৯৫।&amp;lt;/ref&amp;gt; কোন আয়াতে কড়া ভাষায় নিন্দনীয় স্বরে বলেছেন, যখন সবকিছুই আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত তাহলে কেন তোমরা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করছো না?&amp;lt;ref&amp;gt; সূরা হাদিদ, আয়াত ১০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইনফাকের দুইটি, আধ্যাত্মিক ও সামাজিক  দিক রয়েছে। প্রথমত: মানুষকে আধ্যাত্মিকতার দিক থেকে উচ্চতর স্থানে পৌঁছে দেয়। দ্বিতীয়ত: অর্থনৈতিক অবস্থা প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা পালন করে। পবিত্র কোরআনে অসংখ্য আয়াতে উত্তম ও পরহেজগারীর বৈশিষ্ট্যের মধ্যে তাকে ইনফাককারী হিসেবে পরিচয় করানো হয়েছে।&lt;br /&gt;
ইসলামের দুটি অন্যতম বৃহৎ ও বিশেষ স্তম্ভ  &amp;quot;মানবাধিকার&amp;quot; ও &amp;quot;আল্লাহর অধিকার&amp;quot; এর প্রতি সচেতন হতে মানুষকে যা সবচেয়ে বেশি সহায়তা করে তা হলো ইনফাক।&amp;lt;ref&amp;gt;তাবাতাবাই, মোহাম্মদ হোসাইন, আল-মিজান ফি তাফসির আল-কুরআন, অনুবাদ করেছেন: মোহাম্মদ বাগের মুসাভি হামদানী, কওম, ইসলামিক পাবলিকেশন্স অফিস, ১৩৭৪, খণ্ড ২, পৃ.৫৮৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
আল্লাহ তার পবিত্র কোরআনে বলেছেন&#039; যা কিছুই ইনফাক (ব্যয়,দান) করো নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তার উত্তম পুরষ্কার প্রদান করবেন।&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা বাকারা, আয়াত ২৭২। সূরা ফাতির, আয়াত ২৯। সূরা সাবা, আয়াত ৩৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
একটি আয়াতে ইনফাক কে ক্ষুদ্র একটি বীজের সাথে তুলনা করেছেন যার প্রতিফল স্বরুপ সাতশত বীজে পরিণত হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা বাকারা, আয়াত ২৬১। সোবহানী, জাফর, &amp;quot;কুরআনের সুন্দর দৃষ্টান্ত&amp;quot; জার্নাল অফ লেসনস ফ্রম স্কুল অফ ইসলাম, নং ৯ (৮০)।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
কোরআনের বিশেষজ্ঞরা ইনফাকের আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, যা কিছুই আল্লাহর রাস্তায় খরচ করা হয় তা একটি অত্যন্ত লাভজনক বিনিয়োগ। কেননা আল্লাহ তায়ালা তার পুরষ্কার প্রদানে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন।&amp;lt;ref&amp;gt; মাকারেম শিরাজী, নাসের, তাফসির আল-নাশোন, তেহরান, দার আল-কাতব আল-ইসলামিয়া, ১৩৭১, খণ্ড ১৮, পৃ. ১১৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
তোমরা কখনোই মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না যতক্ষণ অবধি তোমাদের প্রিয় জিনিস আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় না করো।(সূরা আল-ইমরান ৯২)&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== আত্মশুদ্ধি ===&lt;br /&gt;
[[আত্মশুদ্ধি]] ও পবিত্রতা অর্জন ইনফাকের অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব। {{inline quran| الَّذِي يُؤْتِي مَالَهُ يَتَزَكَّىٰ|translation=যে তার সম্পদ হতে দান করে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার জন্য।|sura=লাইল|verse=১৮}} তাফসির কারকগণ আত্মশুদ্ধির ব্যাখায় বলেছেন, উক্ত আয়াতে ইয়াতাজাক্কাহর প্রকৃত অর্থ; সৎ উদ্দেশ্য ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এছাড়াও আরেক অর্থে যেমন আধ্যাত্মিকতার স্তর বৃদ্ধি ও মর্যাদা লাভের ব্যাপারেও উল্লেখ করা হয়েছে। অথবা নিজের সম্পদের পবিত্রতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে। কেননা উক্ত আয়াতে তাজকিয়াহ  &amp;quot;সম্পদ বৃদ্ধি&amp;quot; ও &amp;quot;সম্পদের পবিত্রতা&amp;quot; দুই অর্থেই এসেছে।&lt;br /&gt;
{{inline quran|خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا وَصَلِّ عَلَيْهِمْ ۖ إِنَّ صَلَاتَكَ سَكَنٌ لَهُمْ|translation=তুমি তাদের সম্পদ থেকে জাকাত গ্ৰহণ করো তাদেরকে পরিশুদ্ধ করার জন্য ও এর মাধ্যমে তাদের পবিত্র করার জন্য, এবং তাদের কল্যাণের জন্য দোয়া করো নিশ্চয়ই তোমার দোয়া তাদের জন্য প্রশান্তির।|sura=তাওবা|verse=১১২}}&amp;lt;ref&amp;gt;মাকারেম শিরাজী, নাসের, তাফসীর নুসুন, তেহরান, দার আল-কুতুব ইসলামিয়া, ১৩৭১, খণ্ড ২৭, পৃ.&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কোরআনের বর্ণনা অনুসারে, ইনফাক যা গোনাহ মোচনের অন্যতম দিক বলে বিবেচিত হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা বাকারা, আয়াত ২৭১।&amp;lt;/ref&amp;gt; মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারেনা যতক্ষণ তার প্রিয় জিনিসকে ইনফাক না করে।&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা আল-ইমরান, আয়াত ৯২.&amp;lt;/ref&amp;gt; ইনফাক যার ফলে মানুষের পরিত্রাণের পথ সমৃদ্ধ হয় ও অন্তরের প্রতিবন্ধকতা দূর হয় এবং আত্মা প্রশস্ততা লাভ করে।&amp;lt;ref&amp;gt;মিসবাহ ইয়াজদি, মোহাম্মদ তাকী, রাস্তাগরণ, কওম, ইমাম খোমেনী শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (রহ.), বেটা, খণ্ড ১, পৃ.৫৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
 &lt;br /&gt;
[[শহীদ মোতা&#039;হারী]] মানুষের পরিপূর্ণতা অর্জনে ইনফাকের উদ্ধৃতি ব্যবহার করে বলেছেন যে, একজন মানুষের যা কিছুই আছে তা থেকে দান করে যার ফলে সে আল্লাহর রহমতের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে এবং এটা একজন মানুষকে প্রকৃত ও পরিপূর্ণ মানুষ হতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।&amp;lt;ref&amp;gt;মোতাহারী, মোর্তেজা, রচনা সংগ্রহ, তেহরান, সদর, ২০১৩, খণ্ড ২৬, পৃ.১২৬&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[মাজমাউল বায়ান গ্ৰন্থের লেখক]] বলেছেন:&lt;br /&gt;
:: ইনফাককারী তার দানের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট পবিত্রতা অর্জন করে এবং এর মাধ্যমে নিজের লোভ ও অহংকারকে দূরে ঠেলে দেয়।&amp;lt;ref&amp;gt; তাবারসি, ফজল বিন হাসান, মাজমা আল-বায়ান, আহমদ বেহেশতী এবং অন্যান্য, তেহরান, ফারাহানী, বেটা, ২৭, পৃ.&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== দারিদ্র্যতা দূরীকরণ ===&lt;br /&gt;
কোরআনের একটি বিস্তৃত পূর্ণ আলোচনা অর্থনীতির কর্তব্য সমূহের সাথে সম্পৃক্ত যার আলোচ্য বিষয় হলো ইনফাক।&lt;br /&gt;
এই শব্দটি আশি বা ততর্ধ বার বিভিন্ন অর্থে এসেছে এবং মুসলমানদেরকে আল্লাহর একটি অংশ স্বরুপ তা হতে অন্যদের ইনফাক প্রদানের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;মনতাজেরি, হোসাইন আলী, ইসলাম দ্বীন ফিতরাত, তেহরান, সায়েহ, ১৩৮৫, খণ্ড ১, পৃ. ৫৭৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
ইসলামে ইনফাকের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, সমাজ থেকে দারিদ্র্যতা দূর করা।&lt;br /&gt;
বিভিন্ন প্রসিদ্ধ আলেমগণ বলেছেন, ইনফাকের সংস্কৃতি এটা প্রমাণ করে যে সমাজের প্রত্যেকেই একে অন্যের প্রতি খেয়াল রাখে এবং তাদের জৈবিক চাহিদা ও দৈনন্দিন জীবনের প্রতিও সমানভাবে চিন্তিত এবং সে অনুযায়ী দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখে।&lt;br /&gt;
ইনফাকের সংস্কৃতি যেভাবে কোরআনে গুরুত্বসহকারে বর্ণিত হয়েছে ঠিক ততদরুপ হয় এবং তা সমাজে পরিপূর্ণ রূপে বাস্তবায়ন হয়। দারিদ্র্যতার মত জটিল সমস্যা যা মানুষের জন্য সমাজের অন্যতম একটি প্রতিবন্ধকতা তা অনেকাংশে উন্নতি লাভে সহায়ক হয় এবং হয়তো এর ফলে ধীরে ধীরে তা সম্পূর্ণরূপে নির্মূল হয়ে যাবে।&lt;br /&gt;
বিশেষজ্ঞ আলিম বলেন, ইসলামের আরেকটি অন্যতম উদ্দেশ্য হল,অন্যায্যতার বিরোধ সৃষ্টি যা সমাজের ন্যায়সঙ্গতার অভাবে ধণী গরীববের মাঝে শ্রেণী বিভাজন তৈরি করে একে ধ্বংস করে দেয়। ইসলাম এজাতীয় উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে যার মধ্যে অন্যতম হলো ইনফাক এবং সম্বলহীনের প্রতি আর্থিক সহায়তা প্রদান।&amp;lt;ref&amp;gt;মাকারেম শিরাজী, নাসের, তাফসির আল-নাশোন, তেহরান, দার আল-কাতব আল-ইসলামিয়া, ১৩৭১, খণ্ড ২, পৃ. ৩১৬।&amp;lt;/ref&amp;gt; &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অন্যকে সাহায্য করা এবং সমাজ হতে দারিদ্র্যতা দূরীর চেষ্টা করা সৎকর্ম সমূহের অন্যতম উদাহরণ যার প্রতি কোরআন বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছে।&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা তওবা, আয়াত ৩৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
যারা স্বর্ণ-রৌপ্য জমা করে রাখে এবং আল্লাহর রাস্তায় ইনফাক করা থেকে বিরত থাকে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদেরকে অত্যন্ত কঠিন আজাব প্রদানের প্রতি ওয়াদা করেছেন। ইসলাম সম্পদ সঞ্চয় করে রাখা এবং দান না করার প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং যারা সম্পদ জমিয়ে রাখে তাদেরকে কঠোরভাবে নিন্দা করেছে।&amp;lt;ref&amp;gt;মনতাজেরি, হোসেন আলী, ইসলাম দ্বীন ফিতরাত, তেহরান, সায়েহ, ১৩৮৫, খণ্ড ১, পৃ. ৫৭৬.&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ইনফাককারীর বৈশিষ্ট্য সমূহ ==&lt;br /&gt;
««মুমিন তারাই যারা তাদের কঠিন এবং সহজ উভয় পরিস্থিতিতেই দান করে ও নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রন করে এবং মানুষের ক্রুটি ক্ষমা করে। আল্লাহ নৈতিক গুনসম্পন্নদের ভালোবাসেন।»»(সূরা আল-ইমরান ১৩৪)&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কোরআনের বর্ণনা অনুসারে পরহেজগার&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা বাকারা, আয়াত ১৯৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;, নৈতিক&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা বাকারা, আয়াত ২৫৪।&amp;lt;/ref&amp;gt; গুণাবলী সম্পন্ন&amp;lt;ref&amp;gt; সূরা তাগাবান, আয়াত ১৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;, মুমিন, সত্যবাদী ইনফাককারীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত এবং একইসাথে যারা অদৃশ্যের প্রতি ঈমান রাখে এবং নামাজ কায়েম করে।&amp;lt;ref&amp;gt; সূরা বাকারা, আয়াত ৩।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
কোরআন নৈতিক কাজসমূহের গণনায় ইনফাককে অন্যতম বলে উল্লেখ করেছে।&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা বাকারা, আয়াত ১৭৭।&amp;lt;/ref&amp;gt; সূরা তাগাবুনের ষলোতম আয়াতে তাদেরকে সৌভাগ্যবান হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং যারা নিজের সম্পদ ও নাফসের সাথে যুদ্ধ করে তাদেরকে নাজাত প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করেছে।&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা তওবা, আয়াত ২০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সূরা আল-ইমরানে এসেছে যারা নিজের কঠিন-খারাপ ও যেকোনো পরিস্থিতিতে দান করে আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে পছন্দ করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা আল ইমরান, আয়াত ১৩৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
পরহেজগারীর বৈশিষ্ট্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নিজের আয়ের একটি নির্ধারিত অংশ হতে দরিদ্র ও অসহায়দের দান করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা ধরিয়াত, আয়াত ১৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; এবং বিনয়ীর বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে বলেছেন তারা অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও নামাজ কায়েমকারী এবং যা কিছু তাদের রিজিক প্রদান করেছি তা হতে ইনফাক করে।&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা হজ, আয়াত 34 এবং ৩৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
পবিত্র কোরআনে মুমিনের গুণাবলীর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান রাখে এবং নিজের সম্পদ ও নাফসের সাথে আল্লাহর রাস্তায় সংগ্ৰাম করে। এবং তারা সত্যবাদীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা হাজরাত, আয়াত ১৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
কোরআন ইনফাককে ঈমানের বিশেষ কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করেছে। ইনফাক এর গুরুত্ব ও বিশেষত্ব এবং যা কিছু দান করা হয়েছে তা ইসলামের মৌলিক বিষয়বস্তুর মধ্যে অন্যতম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;&amp;quot;আয়াত ও হাদীসে দাতব্য ও দাতব্য&amp;quot;, অধ্যাপক হোসেন আনসারিয়ানের অফিসের তথ্য ভিত্তি। পরিদর্শনের তারিখ: ১২ মে ১৪০২।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ইনফাক গ্ৰহণে যোগ্য ==&lt;br /&gt;
পবিত্র কোরআন&#039; অসহায়, দরিদ্র, সুবিধা বঞ্চিত, ইয়াতিম, অভাবগ্রস্তদের ইনফাক গ্ৰহণের জন্য যোগ্য বলে উল্লেখ করেছে। {{inline quran||translation=সাদকা হচ্ছে দরিদ্র ও মিসকীনদের জন্য এবং এতে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য, আর যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয় তাদের জন্য, দাস মুক্ত করার ক্ষেত্রে, ঋণগ্রস্তদের মধ্যে, আল্লাহর রাস্তায় এবং মুসাফিরদের মধ্যে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।|sura=সূরা তাওবা|verse=৬০}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
পবিত্র কোরআনে ইনফাকের কিছু বিষয় যেমন জাকাত,খুমস, আর্থিক কাফফারা এবং মুক্তিপণকে ওয়াজিব করেছে এবং সাদকাহর ক্ষেত্রে যেমন ওয়াকফ,কারো জন্য বসতি স্থাপন, ওসিয়ত করা, ক্ষমা করাসহ কিছু বিষয়কে মুস্তাহাব হিসেবে উল্লেখ করেছে।&amp;lt;ref&amp;gt;তাবাতাবাই, মোহসেন, তাফসির আল-মিজান, মোহাম্মদ বাগের মুসাভি কর্তৃক অনুবাদ, কওম, ইসলামিক পাবলিকেশন্স অফিস, ১৩৭৪, খণ্ড ২, পৃ. ৫৮৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
==কিভাবে ইনফাক করতে হবে ==&lt;br /&gt;
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রকাশ্যে অথবা গোপনে করা সকল প্রকার দানের জন্যই বিশেষভাবে পুরস্কৃত করবেন।&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা বাকারা, আয়াত ২৮৪।&amp;lt;/ref&amp;gt; কিন্তু গোপনে দান করাকেই যথোপযুক্ত ও উত্তম বলে মনে করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা বাকারা, আয়াত ২৭১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বিশেষজ্ঞ আলিমরা বলেছেন গোপন এবং প্রকাশ্যে উভয় দানেরই অসংখ্য উপকার রয়েছে। প্রকাশ্যে দান মানুষকে ভালো কাজের প্রতি আকৃষ্ট করে এবং সমাজকে এ কাজের প্রতি উৎসাহিত করে। কিন্তু গোপনে দান করা রিয়া (লোক দেখানো),দয়া করা ও অসহায়কে হয়রানি হওয়া এবং অপমানবোধসহ এজাতীয় উদ্দেশ্য হতে দূরে রাখে এবং দানকারীর জন্য এর আধ্যাত্মিক ও আত্মিক প্রভাবসহ বিশেষ প্রশান্তি রয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt; তাবাতাবাই, মোহাম্মদ হোসাইন, আল-মিজান ফি তাফসির আল-কুরআন, অনুবাদ করেছেন: মোহাম্মদ বাকের মুসাভি হামদানী, কওম, ইসলামিক প্রকাশনা অফিস, ১৩৭৪, খণ্ড ২, পৃ. ৬১০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
পবিত্র কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী মানুষের আধ্যাত্মিকতার স্তর উন্নীত করাই ইনফাকের  প্রকৃত উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য করা হয়। যা একাজের প্রকৃত অর্থবহ প্রদান করে তা হলো এর উদ্দেশ্য। যদি এমন ইনফাক যা শুধুমাত্র লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে হয় নিঃসন্দেহে তা অমূল্যহীন এবং অকার্যকর।&amp;lt;ref&amp;gt; লেখকের একটি দল, &amp;quot;ইনফাক&amp;quot;, ইসলামিক এনসাইক্লোপিডিয়া, তেহরান, ইসলামিক এনসাইক্লোপিডিয়া কেন্দ্র, ১০, এন্ট্রির নীচে।&amp;lt;/ref&amp;gt; যতক্ষণ পর্যন্ত ইনফাক একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে হয় এবং মানুষের মধ্যে নিজেকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের উদ্দেশ্যে না হয় তা নিশ্চিতভাবে একটি অন্যতম সৎকর্মের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।&amp;lt;ref&amp;gt;মাদ্রাসি, মোহাম্মদ তাকী, ইবাদতের আইন, কওম, মহিবান আল-হুসাইন (সা.) প্রকাশনা, ১৩৮১, খণ্ড ১, পৃ. ৫২৩।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
ইনফাক অবশ্যই একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে হওয়া উচিত এবং তা যেন উচ্চ মর্যাদার আকাঙ্ক্ষা&amp;lt;ref&amp;gt; সূরা বাকারা, আয়াত ৬৩৫। মোহসেনী, মোহাম্মদ আসিফ, ওফুগ আলা, কাবুল, রিসালাত, ১৩৯৬, খণ্ড ৩, পৃ. ১৯৬।&amp;lt;/ref&amp;gt; ও নাফসের লালসায় আবৃত পূর্ণ না হয়।&amp;lt;ref&amp;gt; মোতাহারী, মোর্তেজা, রচনা সংগ্রহ, তেহরান, সদর, ২০১৩, ভলিউম ২২, পৃ.১৮৭।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইনফাক যদি তাচ্ছিল্যতার সহিত হয় তার সমস্ত পুরষ্কার বিফলে পতিত হয়।&amp;lt;ref&amp;gt; মাকারেম শিরাজী, নাসের, তাফসির আল-নাশোন, তেহরান, দার আল-কাতব আল-ইসলামিয়া, ১৩৭১, খণ্ড ২, পৃ. ৩১৮।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইনফাক যদি অবহেলা পূর্ণ ও দয়া প্রদানের জন্য না হয়। তার পুরষ্কার আল্লাহর নিকট বিশেষভাবে সংরক্ষিত।&amp;lt;ref&amp;gt; সূরা বাকারা, আয়াত ৬২৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch = علوم و معارف قرآن&lt;br /&gt;
|subbranch1 = اخلاق در قرآن&lt;br /&gt;
|subbranch2 = فضایل اخلاقی&lt;br /&gt;
|subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه =شد&lt;br /&gt;
 | تیترها =شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت =ب&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa: انفاق در قرآن]]&lt;br /&gt;
[[ur: انفاق قرآن کریم کی روشنی میں]]&lt;br /&gt;
[[en: Charity in the Qur&#039;an]]&lt;br /&gt;
[[ms: Infak Dalam Al-Quran]]&lt;br /&gt;
[[ar: الإنفاق فی القرآن]]&lt;br /&gt;
[[ru:Пожертвования (Инфак) в Коране]]&lt;br /&gt;
[[es:La Caridad en el Corán]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BF_%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%87_%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%9A%E0%A6%A8%E0%A6%BE&amp;diff=993</id>
		<title>ইসলামি সমাজে তাকফিরের সূচনা</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BF_%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%87_%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%9A%E0%A6%A8%E0%A6%BE&amp;diff=993"/>
		<updated>2025-02-24T21:35:51Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{question}}&lt;br /&gt;
মুসলমানদের মধ্যে তাকফির করা কবে থেকে এবং কীসের ওপর ভিত্তি করে সূচনা হয়?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইসলামি সমাজে তাকফিরের অর্থ হলো এমন ব্যক্তিকে কুফরির অভিযোগে অভিযুক্ত করা বা কাফির ঘোষণা করা, যে [[ইসলাম]] ও ইমানের দাবি করে থাকে। এই ঘটনা যেমন ব্যক্তি পর্যায়ে ঘটতে পারে, তেমনি কোন মতবাদ বা গোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে। তবে যা সবচেয়ে বিপজ্জনক তা হলো [[তাকফিরি চিন্তাধারা]], যেখানে নির্দিষ্ট কিছু মৌলিক নীতির ভিত্তিতে মুসলমানদের তাকফির করা হয়; যেমন, [[খারিজি]] সম্প্রদায় মুসলমানদেরকে কবিরা গোনাহের ভিত্তিতে তাকফির করে। [[সালাফি]] ও [[ওহাবিরা]] [[কবর জিয়ারত]], [[শাফায়াতে]] বিশ্বাস, তাবারুক ও অন্যান্য বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে তাকফির করে থাকে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ব্যক্তি পর্যায়ে তাকফির ==&lt;br /&gt;
এই ধরনের তাকফির, যা সাধারণত কোনো কারণ ছাড়াই শুধু শত্রুতা ও বিদ্বেষের ভিত্তিতে হয়ে থাকে, যেখানে একজন মুসলিম অন্য একজন মুসলিমকে তাকফির করে এবং তাকে কাফির বলে দোষারোপ করে। ইসলামের প্রাথমিক যুগে, এমনকি মহানবির (সা.) জীবদ্দশায় [তথ্যসূত্রের প্রয়োজন] এবং তার পরবর্তীতে খলিফদের সময়েও কতিপয় মুসলমান অন্যদের দ্বারা তাকফির হয়েছে; উদাহরণস্বরূপ, [[আবু বকরের]] খিলাফতকালে, [[মালিক ইবনে নুওয়াইরা]] এবং তার গোত্রকে [[যাকাত]] প্রদানে অস্বীকৃতির অভিযোগে তাকফির করা হয়েছিল এবং [[খালিদ ইবন ওয়ালিদ]] কর্তৃক তারা সবাই গণহত্যার শিকার হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;তাবারী, আবু জাফর মুহাম্মাদ বিন জারীর, তারিখ আল-তাবারী, বৈরুত, দার আল-কিতাব আল-উলামিয়া, বেটা, ভলিউম ২, পৃ. ২৭২-২৭৩।&amp;lt;/ref&amp;gt; কিন্তু এই ধরনের তাকফির করাকে ব্যক্তিগত ও ব্যক্তি পর্যায়ের তাকফির হিসাব করা হয়ে থাকে এবং এগুলোকে তাকফিরি চিন্তাধারা বলা যায় না।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তাকফিরি চিন্তাধারা ও গোষ্ঠীসমূহ ==&lt;br /&gt;
ইসলামি বিশ্ব বর্তমানে তকফিরি চিন্তাধারার মতো একটি গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন যা মূলত মাজহাব ও ফেরকা রূপধারণ করে মুসলমানদের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। এই তকফিরি চিন্তাধারাগুলোর পরিক্রমা ও বিবর্তন রয়েছে, যেগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করা হল:&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== খারিজি তাকফিরি চিন্তাধারা ===&lt;br /&gt;
তকফিরি চিন্তা একটি নির্দিষ্ট চিন্তাধারার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। খারিজি সম্প্রদায় হচ্ছে মুসলমানদের মধ্যে সৃষ্ট সর্বপ্রথম তাকফিরি চিন্তাধারার অনুসারী। আরবিতে এদেরকে [[খাওয়ারিজ]] (&#039;&#039;خوارج&#039;&#039;) বলা হয় যা খারিজি (&#039;&#039;خارجی&#039;&#039;) শব্দের বহুবচন। যা শব্দমূল খুরুজ (&#039;&#039;خروج&#039;&#039;) থেকে গৃহীত হয়েছে; যার অর্থ বিদ্রোহ ও অবাধ্যতা।&amp;lt;ref&amp;gt;হাওজি শেরনউমি, সাইদ, আকরাব আল-মাওদার, বৈরুত, মুরসালি ইলিসুইয়েহ প্রেস, ১৮৮৯, পৃষ্ঠা ২৬৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
খারিজি সম্প্রদায় ৩৭ হিজরিতে হজরত [[আলী (আ.)]] ও [[মুয়াবিয়ার]] মধ্যে সংঘটিত সিফফিনের [[যুদ্ধের মধ্যস্থতার]] পর উদ্ভব হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;দিনৌরি, আখবার আল-ত্বাল, মাহমুদ মেহেদী দামঘনি, তেহরান, নি পাবলিশিং হাউস, চ. ৪, ১৩৭১, পৃ.&amp;lt;/ref&amp;gt; এই সম্প্রদায়ের অনুসারীরা ছিল হজরত আলী (আ.) -এর কতিপয় সৈন্য, যারা শুরুতে মুয়াবিয়া এবং [[আমর আসের]] মাধ্যমে প্রতারিত হয় এবং মুয়াবিয়ার পক্ষে মধ্যস্থতার প্রস্তাবে সম্মতি দেয় এবং ইমাম আলী (আ.) -কে এই প্রস্তাব মানতে বাধ্য করে। কিন্তু মধ্যস্থতার রায় ঘোষণার পরক্ষণেই তারা তাদের ভুল বুঝতে সক্ষম হয় এবং নিজেদের কাঁধে দোষ না নিয়ে এবং ইমাম আলীর (আ.) নিকট ক্ষমা না চেয়ে বরং তারা আরও বড় অন্যায় করে এবং আল্লাহ ছাড়া কারো আদেশ মানিনা (&#039;&#039;لا حکم الا لله&#039;&#039;) স্লোগান দিতে শুরু করে।&amp;lt;ref&amp;gt;দিনৌরী, আখবার আল-ত্বাল, পৃ.&amp;lt;/ref&amp;gt; অতঃপর তারা মধ্যস্থতাকে ভিত্তিহীন, আল্লাহর আদেশ পরিপন্থি এবং শিরক ও কুফরির কারণ হিসেবে ঘোষণা দেয়।&amp;lt;ref&amp;gt;দিনৌরী, আখবার আল-ত্বাল, পৃ. ২৪৭।&amp;lt;/ref&amp;gt; তারা ইমাম আলী (আ.) -কে তাঁর কৃতকর্মের জন্য তওবা করতে বলে এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে মুয়াবিয়ার সাথে পুনরায় যুদ্ধ শুরু করতে বলে।&amp;lt;ref&amp;gt; দিনৌরী, আখবার আল-ত্বাল, পৃ. ২৫২।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইমাম আলী (আ.) তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যান এবং স্মরণ করিয়ে দেন যে, মধ্যস্থতার ব্যাপারে তাদের ধারণা ভুল; কেননা মধ্যস্থতা কোন ব্যক্তির সাথে নয় বরং মধ্যস্থতা [[কুরআন]] শরীফের সাথে হয়েছে এবং আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, যে বিবাদে আল্লাহ ও তাঁর নবীর (সা.) শরণাপন্ন হওয়া উচিত।&amp;lt;ref&amp;gt;নিসা, ৫৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; কুরআনের শরণাপন্ন হওয়ার অর্থ হচ্ছে তার আদেশ মেনে চলা আর নবীর শরণাপন্ন হওয়ার অর্থ হচ্ছে তাঁর সুন্নতের উপর আমল করা। যখনি কুরআন ও নবিজির সুন্নাত মোতাবেক বিচার হবে, তখন হক (ন্যায়) আমাদের পক্ষেই থাকবে।&amp;lt;ref&amp;gt; ফয়েজ আল-ইসলাম, নাহজ আল-বালাঘা, পৃ. ৩৮৬, খুতবা ১২৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কবিরা গোনাহ করলে যে কাউকে খারিজিরা কাফের মনে করে। খারিজিদের পর, শিয়াদেরকে বনি উমাইয়্যা কাফের ঘোষণা করে এবং এই অভিযোগে অনেক শিয়া গণহত্যার শিকার হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== বারবাহারি তাকফিরি চিন্তাধারা ===&lt;br /&gt;
হিজরি চতুর্থ শতকে [[হাম্বালি মাজহাবের]] প্রসিদ্ধ আলেম আবু মুহাম্মাদ বারবাহারি কবর জিয়ারতকে নিষিদ্ধ করে, যা আব্বাসীয় খলিফার দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়। বলা হয়ে থাকে এই চতুর্থ শতকেই, ইবনে বাত্তা নামে প্রসিদ্ধ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আবকারি হাম্বালিও (মৃত্যু: ৩৭৮ হি.) জিয়ারত ও নবীর শাফায়াতকে প্রত্যাখ্যান করে এবং নবীর কবর জিয়ারতের সফরকে গোনাহের সফর হিসেবে মনে করে।&amp;lt;ref&amp;gt;ফকিহী, আলী আসগর, ওয়াহাবিয়ান, ইসমাইলিয়ান পাবলিকেশন্স, ভলিউম ২, ১৩৬৪, পৃ. ১৯ এবং ২০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[বারবাহারি]] তাদেরকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করতেন যারা তার মতে বিদাতের অনুসারী ছিল এবং এর ভিত্তিতে সে নিজের বিরোধীদেরকে তাকফির করে। তাদের দমন করার জন্য একটি দল গঠন করে। এই কাজের ফলে আব্বাসিয় খলিফা আল-কাহের বিল্লাহ তার ওপর ক্রুদ্ধ হয় এবং পরিণতিতে তাকে বসরায় নির্বাসিত করা হয়। আল-রাযি বিল্লাহর সময় বারবাহারি সম্প্রদায়ের ফিতনা (বিগ্রহ) বৃদ্ধি পায় এবং এই কারণে আব্বাসিয় খলিফা নির্দেশে, শহরে ঐ সম্প্রদায়ের দু&#039;জন লোকেরও একত্রিত হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। আব্বাসিয় শাসনের এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে, বারবাহারি একটি স্থানে আত্মগোপন করে এবং সেখানেই মারা যায়।&amp;lt;ref&amp;gt;জারকালি, খাইর আল-আলম, ২০১, বৈরুত, দার আল-আলম লালমলায়ন, ৫, ১৯৮০।&amp;lt;/ref&amp;gt; বাগদাদে, অনেক বারবাহারি সদস্যকে বন্দী করা হয় এবং অনেকেই আত্মগোপন করে অথবা অন্যান্য শহরে পালিয়ে যায়।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন আল-জাওযী, আল-মুন্তাজেম ফি তারিখ আল-উনহুহ আল-মালুক, ১৩, পৃ. ২৪৯, বৈরুত, ১৪১২হি/১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ। গবেষণাঃ মোহাম্মদ আব্দুল কাদের আত্তা ও মোস্তফা আব্দুল কাদের আত্তা।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== ইবনে তাইমিয়্যা বারবাহারি চিন্তাধারার পুনর্জীবিতকারী ===&lt;br /&gt;
আব্বাসীয় খলিফাদের দ্বারা বারবাহারি চিন্তাধারা দমনের পর, হিজরি সপ্তম শতকে ইবনে তাইমিয়্যা নামে প্রসিদ্ধ আহমাদ ইবনে আব্দুল হালীম হারানী (জন্ম ৬৬১ হিজরি)&amp;lt;ref&amp;gt;কাথিরি, সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ, আল-সালাফিয়্যাহ বিন আল-মামিয়্যাহ, পৃঃ ২১১, বৈরুত, গাদির পাবলিকেশন্স, ১, ১৪১৮ হি।&lt;br /&gt;
&amp;lt;/ref&amp;gt;, বারবাহারি চিন্তাধারাকে পুনরুজ্জীবিত করে এবং মুসলমানদেরকে জিয়ারত, তাওয়াসসুল, শাফাআত এবং তাবারুকের প্রতি বিশ্বাসের কারণে তাকফির করে।&lt;br /&gt;
[[ইবনে তাইমিয়্যাহ]] প্রকৃতপক্ষে ওহাবি বিশ্বাসের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি নবি (সা.) এবং অন্যান্য আওলিয়াদের জিয়ারাত এবং তাদের নিকট শাফাআত চাওয়াকে হারাম মনেকরা বিশেষ আকিদাকে তওহিদ ও শিরকের উপর লিখিত বহু গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে সংকলন করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে তাইমিয়্যার সৃষ্ট অদ্ভুত চিন্তাধারা ও দর্শনের বিপরীতে, সমসাময়িক এবং পরবর্তী যুগের [[শিয়া]] ও [[সুন্নি]] মাজহাবের বুজুর্গ আলেমগণ তার আকিদার বিরুদ্ধে অসংখ্য বই লিখেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;কাথিরি, সৈয়দ মুহাম্মাদ, আল-সালাফিয়া সুন্নাহ এবং আল-আমামিয়া, পৃষ্ঠা ২৩৫-২৩৯, বৈরুত, গাদির পাবলিকেশন্স, ১, ১৪১৮ হিজরি।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব, ইবনে তাইমিয়্যার চিন্তাধারার পুনর্জীবিতকারী===&lt;br /&gt;
ইবনে তাইমিয়্যার পরবর্তীতে ইসলামি বিশ্বে তাকফিরি চিন্তাধারা খুব বেশি প্রকাশ পায়নি। হিজরি দ্বাদশ শতকে মুহাম্মদ বিন [[আব্দুল ওহাব]] এই চিন্তাধারাকে পুনরায় জীবিত করে। মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওহাব বিন সুলাইমান তামিমি হিজরি ১১১১ মতান্তরে হিজরি ১১১৫ সনে (১৭০৩ বা ১৭০৪ খ্রিষ্টাব্দ) নাজদের “আইনা” শহরে জন্মগ্রহণ করে।&amp;lt;ref&amp;gt;সোবহানী, জাফর, বিশ্ব এবং আল-নাহল, খণ্ড 334, ইসলামিক প্রকাশনা ইনস্টিটিউট, ৩, ১৪১৪ হি।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ওহাবিদের নেতা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব, ইসলাম ও মুসলমানদের শত্রুদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণের জন্য এতটাই মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন যে, তিনি চরমভাবে বলেন, মুসলমানদের শিরক জাহিলিয়াতের যুগের মূর্তিপূজকদের শিরক থেকে বেশি গুরুতর; কেননা মুশরিকরা শুধু সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য শিরকে লিপ্ত হত এবং কঠিন সময় বা বিপদের সময়ে তারা একেশ্বরবাদী তথা আল্লাহর উপাসক হয়ে যেত; কিন্তু মুসলমানেরা উভয় অবস্থাতে (কঠিন ও সহজ) মুশরিক।&amp;lt;ref&amp;gt;মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব আযীযুল-আযমা, পৃ. ১২১; মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, কাশফ আল-শাবাত, পৃষ্ঠা 33 এবং 34, রিয়াদ, ইসলামী বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ৬, ১৪২০হিজরি।&amp;lt;/ref&amp;gt; তিনি বলেন, কেউ যদি মুশরিকদের (মুসলমানদের) কাফের না বলে অথবা তাদের কুফরির বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করে,  তবে তা হবে ইসলামের অন্যতম অপূরণীয় ক্ষতির প্রধান কারণ।&amp;lt;ref&amp;gt;আবদ আল-হালিম উবাইস, আল-দাওয়া আলী মানহাজ আল-নবওয়াহ (এথর আল-তাজদীদ ফি আল-আলজিয়ার্স), পৃ. ১৩৫, রিয়াদ, ১৪২৩হি।&amp;lt;/ref&amp;gt; কানুজি এই বিষয়ে বলে, আমাদের সময়ে, নাজদ থেকে উঠে আসা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাবের সমস্ত অনুসারী হারামাইনকে নিয়ন্ত্রণ করেছিল এবং নিজেদেরকে হাম্বলি মাযহাবের অনুসারী দাবি করত। তারা বিশ্বাস করত যে, শুধু তারাই মুসলমান এবং তাদের বাইরে বাকি সবাই মুশরিক। এই স্লোগান দ্বারা তারা আহলে সুন্নাহ ও তাদের আলেমদের হত্যাকে বৈধ মনে করত।&amp;lt;ref&amp;gt; কানোজি, সেদিক বিন হাসান, আবজদাল উলূম, ৩/১৯৮, দার আল-কুতব আল-উলামিয়া, ১৯৯৮, ইবনে আবেদিনের মার্জিন থেকে উদ্ধৃত।&amp;lt;/ref&amp;gt; এই [[চিন্তাধারাকে সালাফি]] তাকফিরি বলা হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এই ধরনের সালাফিরা তাদের বিরোধীদের কাফের মনে করে। বর্তমান যুগে, ওহাবিয়াত সালাফি তাকফিরির দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়; কারণ ওহাবিদের দৃষ্টিতে, সমস্ত মুসলমান কোন না কোন ধর্মীয় রীতি পালনের কারণে মুশরিকের কাতারে অবস্থান করছে এবং তাদের দৃষ্টিতে এরা (&#039;&#039;مهدورالدم&#039;&#039;) মৃত্যুদণ্ডযোগ্য। এই কারণেই ওহাবিদের সবগুলো যুদ্ধ শুধু মুসলমানদের সাথে হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt; আলীজাদেহ মুসাভি, সাইয়্যেদ মেহেদী, সালাফিবাদ এবং ওয়াহাবিজম (বংশলিপি), ভলিউম ১ পৃ. ৯৪-৯৫, কওম, কওম সেমিনারির ইসলাম প্রচার অফিস, সংস্কৃতির ভাইস-চ্যান্সেলর।&amp;lt;/ref&amp;gt; বর্তমান সময়ে, সমস্ত তাকফিরি গোষ্ঠী ওহাবি মতবাদের দ্বারা প্রভাবিত এবং তারা সবাই সালাফি তাকফিরি চিন্তাধারার অনুসারী, যারা মুসলমানদের রক্তপাত করে থাকে এবং ইসলামের শত্রুদের সেবায় নিয়োজিত থাকে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch = ادیان و مذاهب&lt;br /&gt;
 | subbranch1 = اسلام&lt;br /&gt;
 | subbranch2 = وهابیت&lt;br /&gt;
 | subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه = شد&lt;br /&gt;
 | تیترها = شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی = شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر = شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | بازبینی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت =ب&lt;br /&gt;
 | کیفیت = ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[es:El fenómeno del takfir en la sociedad islámica]]&lt;br /&gt;
[[fa: پدیده تکفیر در جامعه اسلامی]]&lt;br /&gt;
[[ur: اسلامی معاشرے میں تکفیر کا سلسلہ]]&lt;br /&gt;
[[en: The Phenomenon of Takfir in Islamic Society]]&lt;br /&gt;
[[ru: Появление феномена такфир в исламском обществе]]&lt;br /&gt;
[[ms: Fenomena Takfir Dalam Masyarakat Islam]]&lt;br /&gt;
[[ar: ظاهرة التكفير في المجتمع الإسلامي]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%80%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%B0_%E0%A6%98%E0%A6%9F%E0%A6%A8%E0%A6%BE&amp;diff=992</id>
		<title>সাকীফার ঘটনা</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%80%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%B0_%E0%A6%98%E0%A6%9F%E0%A6%A8%E0%A6%BE&amp;diff=992"/>
		<updated>2025-02-24T18:58:12Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
সাকীফার ঘটনার বর্ণনা দাও?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
{{portal|واژه‌ها}}&lt;br /&gt;
সাকীফা বনু সায়েদা’র ঘটনা মহানবি (স.)-এর ইন্তেকালের পর  এবং তাঁর স্থলাভিষিক্ত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছিল। [[মুহাজিরীন]] ও [[আনসারদের]] একটি দল [[ইমাম আলী (আ.)]] এবং প্রসিদ্ধ [[সাহাবীদের]] অনুপস্থিতিতে সাকীফা বনু সায়েদায় সমবেত হন এবং অনেক ঝগড়াঝাটির পর আবু বকরকে খলিফা হিসেবে নির্বাচিত করেন। তারা দ্রুতই বিভিন্ন পদ্ধতিতে অন্যদের থেকে বাইয়াত আদায় করে আবু বকরের খিলাফতকে প্রতিষ্ঠিত করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== সাকীফার অবস্থান ==&lt;br /&gt;
সাকীফা বনু সায়েদার অবস্থান ছিল [[মসজিদে নব্বির]] উত্তর পশ্চিম দিকে। হিজরতের পূর্বে এটি ছিল  আনসারদের (মদীনার লোকজন যেমন আউস ও খাযরাজ) পরামর্শসভার স্থান।&amp;lt;ref&amp;gt;হাসানি, আলী আকবর, তারিখে তাহলিলি ওয়া সিয়াসি ইসলাম আজ জাহিলিয়াত তা আসরে উমাভি, নাশরে ফারহাঙ্গ, প্রথম সংস্করণ, ১৩৭৩ হিজরি, পৃষ্ঠা ৩১৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; অভিধানিক অর্থে সাকীফা বলতে বুঝায় ছাদ বিশিষ্ট বারান্দাকে (ছায়া যুক্ত স্থান) মনে করা হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;শহীদি, সাইয়িদ জাফর, তারিখে তাহলিলি ইসলাম, তেহরান, মারকাজে নাশরে দানেশগাহি, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৩৬৩ হিজরি, পৃষ্ঠা ৯১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== মহনবি (স.)-এর স্থলাভিষিক্ততার জন্য সাকীফায় সমাবেশ ==&lt;br /&gt;
[[মহানবি (স.)]]-এর ওফাতের পর যখন [[ইমাম আলী (আ.)]] এবং বনি হাশিমের লোকজন তাঁর (স.) গোসল ও দাফন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন তখন [[আনসার]] ও [[মুহাজিরদের]] একটি দল জানেশীন নির্ধারণের জন্য বনু সাকীফায় সমবেত হন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সাকীফায় উপস্থিত হওয়া ব্যক্তিরা তাদের নিজেদের দলকে অন্য দল অপেক্ষা অধিকতর যোগ্য মনে করতেন। আনসাররা [[ঈমান]] আনয়ন ও মহানবিকে (স.) সহযোগিতা করার বিষয়টিকে স্থলাভিষিক্ততার ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকারের দলিল হিসেবে উপস্থাপন করেন। উত্তরসূরীর ক্ষেত্রে মুহাজিররাও নিজেদেরকে আগে ইসলাম গ্রহণকারী ও মহানবি (স.)-এর আত্মীয়তার সম্পর্কের জেরে অগ্রগণ্য হিসেবে তুলে ধরেন।মুহাজিরদের বক্তব্য শোনার পর আনসাররা – আমাদের থেকে এক আমীর এবং মুহাজিরদের থেকে এক আমীর- এমন মত উপস্থাপন করেন। কিন্তু [[আবু বকর]], রাসূলের (স.) স্থলাভিষিক্ত কুরাইশদের ভিতর থেকে হবে-মহানবি (স.) হতে বর্ণিত এ সংক্রান্ত একটি হাদীস তুলে ধরে তাদের মতটি প্রত্যাখ্যান করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;শহীদি, সাইয়িদ জাফর, তারিখে তাহলিলি ইসলাম, তেহরান, মারকাজে নাশরে দানেশগাহি, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৩৬৩ হিজরি, পৃষ্ঠা ৯২।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আনসাররা যারা কিনা [[সা’দ ইবনে উবাদে’র]] নেতৃত্ব কামনা করছিলেন তারা পরাজিত হন এবং পরিশেষে উমর ইবনে খাত্তাবের পরামর্শে আবু বকরের খিলাফতের বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছান এবং সঙ্গে সঙ্গে তার নিকট [[বাইয়াত]] করেন এবং উপস্থিত হওয়া লোকজনের অধিকাংশই তাদেরকে পথ অনুসরণ করেন। কেউ কেউ মনে করেন [[আউস]] ও [[খাযরাজদের]] মধ্যের দীর্ঘদিনের শত্রুতাও মুহাজিরদের এগিয়ে রাখতে ভূমিকা রেখেছিল।&amp;lt;ref&amp;gt;শহীদি, সাইয়িদ জাফর, তারিখে তাহলিলি ইসলাম, তেহরান, মারকাজে নাশরে দানেশগাহি, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৩৬৩ হিজরি, পৃষ্ঠা ৯২।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== জনগণের নিকট হতে বাইয়াত আদায় ==&lt;br /&gt;
তারা সাকীফা বনু সায়েদা থেকে বের হওয়ার পর বিভিন্ন প্দ্ধতিতে অন্যদের নিকট হতে আবু বকরের পক্ষে বাইয়াত গ্রহণ করেন এবং তাদের মোকাবিলায় [[ইমাম আলী (আ.)]], [[হযরত ফাতেমা যাহরা (সা.আ.)]] এবং মহানবি (স.) এর কিছু কিছু সাহাবীর প্রচেষ্টা বিফল হয় এবং আবু বকরের খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়।&lt;br /&gt;
মুসলমানদের কিছু সংখ্যক এই বাহানায় যে, মুসলিম জমায়েতের বিরোধিতা করা যাবে না, বাইয়াত করতে বাধ্য হন এবং খিলাফত হরণকারীরা ছলে, বলে, কৌশলে, হুমকি, ধামকি, হত্যা, মিথ্যা ও  বানোয়াট হাদীসের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যে অধিকাংশের বাইয়াত গ্রহণে সক্ষম হন। বাইয়াতকারীদের মধ্য হতে কেউ কেউ অনীহার সহিত ও বাধ্য হয়ে আবু বকরের প্রতি বাইয়াত করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;রশাদ, আলী আকবর, দানিশনামায়ে ইমাম আলী (আ.), তেহরান, ফারহাঙ্গ ওয়া আন্দিশায়ে ইসলামি, ১৩৮০ হিজরি, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৪০৫ ও ৪৫৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এই নির্বাচনে ইমাম আলী (আ.) এবং [[বনু হাশিম]] গোত্র, আনসার ও মুহাজিরগণের মধ্যে প্রসিদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অনেকেই যেমন, মহানবির (স.) চাচা [[আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব]], [[সালমান]], [[মিকদাদ]], [[আম্মার]], [[আবুযার]] প্রভৃতি উপস্থিত ছিলেন না।&lt;br /&gt;
হযরত ফাতেমা (সা.আ.) অত্যন্ত রাগান্বিত ও ক্ষুব্ধভাবে ফিলাফত সংক্রান্ত এ ধরনের পথভ্রষ্টতা সম্পর্কে কুরাইশ নারীদের জবাবে বলেন:&lt;br /&gt;
::”তোমাদের দুনিয়ার প্রতি আমি মনক্ষুন্ন এবং বিচ্ছিন্নতায় খুশি, কারণ আমাদের হক আদায় করো নি এবং মহানবির (স.) সাথে করা শপথ ও অঙ্গিকার রক্ষা করা হয় নি এবং তাঁর অসিয়ত মান্য করা হয় নি…”&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কেউ কেউ বিশ্বাস করেন আবু বকর ও উমর ইবনে খাত্তাব কর্তৃক [[খিলাফত হরণ]] করার কারণে মানুষ মহানবির (স.) আহলে বাইত দূরে সরে গেছেন এবং এর ফলশ্রুতিতে অপ্রত্যাশিত প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে আলী (আ.) আইম্মা আতহারগণের (আ.) যথাযথ পদক্ষেপ ও চিন্তাচেতনা [[ইসলামকে]] সম্পূর্ণরূপে বিচ্যুত হওয়া থেকে রক্ষা করেছে।&amp;lt;ref&amp;gt;হাসানি, আলী আকবর, তারিখে তাহলিলি সিয়াসি ইসলাম, নাশরে ফারহাঙ্গ, প্রথম সংস্করণ, ১৩৭৩ হিজরি, পৃষ্ঠা ৩২১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch = تاریخ&lt;br /&gt;
 | subbranch1 = حکومت‌های پس از پیامبر(ص)&lt;br /&gt;
 | subbranch2 = خلفا&lt;br /&gt;
 | subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه =شد&lt;br /&gt;
 | تیترها =شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت =ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[ms:Peristiwa Saqifah]]&lt;br /&gt;
[[fa:جریان سقیفه]]&lt;br /&gt;
[[en:The Saqifa Incident]]&lt;br /&gt;
[[ps:دسقیفه پیښه]]&lt;br /&gt;
[[ur:واقعہ سقیفہ]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%8B%E0%A6%A3_%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%86%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8B_%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%A3_%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%AC&amp;diff=991</id>
		<title>ঋণ প্রদানের আঠারো গুণ সাওয়াব</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%8B%E0%A6%A3_%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%86%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8B_%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%A3_%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%AC&amp;diff=991"/>
		<updated>2025-02-24T18:34:50Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
ঋণ প্রদানের আঠারো গুণ সাওয়াব সংক্রান্ত হাদীসটি কি সহীহ?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{infobox hadith&lt;br /&gt;
 | عنوان =&lt;br /&gt;
 | تصویر =&lt;br /&gt;
 | توضیح تصویر =&lt;br /&gt;
 | اندازه تصویر =&lt;br /&gt;
 | نام‌های دیگر =&lt;br /&gt;
 | موضوع  =&lt;br /&gt;
 | به نقل از  = [[امام صادق(ع)]] و [[پیامبر(ص)]]&lt;br /&gt;
 | روایات مشابه =&lt;br /&gt;
 | راوی اصلی = اسحاق بن عمار، سکونی&lt;br /&gt;
 | دیگر راویان = منصور بن یونس، ابن ابی عمیر، علی بن ابراهیم&lt;br /&gt;
 | اعتبار سند = حدیث اول: [[حدیث موثق|موثق]]، حدیث دوم: [[حدیث ضعیف|ضعیف]]&lt;br /&gt;
 | منابع شیعه = [[الکافی (کتاب)|الکافی]]، [[تهذیب الاحکام (کتاب)|تهذیب الاحکام]]&lt;br /&gt;
 | منابع سنی =&lt;br /&gt;
 | وابسته =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;ঋণ প্রদানের আঠারো গুণ সাওয়াব&#039;&#039;&#039; সংক্রান্ত হাদীসটি [[আল-কাফি]] ও [[তাহযীবুল আহকাম]] এর ন্যায় গ্রন্থসমূহে উল্লেখিত হয়েছে। এ সংক্রান্ত রেওয়ায়েতসমূহের একটি [[ইমাম জাফর সাদিক (আ.)]] হতে বর্ণিত হয়েছে যা সনদের দিক থেকে [[গ্রহণযোগ্য]]। উক্ত রেওয়ায়েত অনুসারে, [[সাদকা’র]] সাওয়াব দশ গুণ এবং [[ঋণ]] প্রদানের সাওয়াব আঠারো গুণ।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== প্রথম হাদীস ==&lt;br /&gt;
{{arabic|عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ(ع): مَكْتُوبٌ عَلى بَابِ الْجَنَّةِ: الصَّدَقَةُ بِعَشَرَةٍ، وَ الْقَرْضُ بِثَمَانِيَةَ عَشَرَ|translation=বেহেশতে লেখা হয়েছে: সাদকা’র পুরস্কার দশ গুণ এবং ঋণ বা ধার দেওয়ার সাওয়াব হচ্ছে আঠারো গুণ।}}&amp;lt;ref name=&amp;quot;:0&amp;quot;&amp;gt;কুলাইনি, মুহাম্মদ, আল-কাফি, তেহরান, দারুল কুতুব আল-ইসলামিয়া, চতুর্থ সংস্করণ, ১৪০৭ হিজরি, খণ্ড ৪, বাবুল কারজ, পৃষ্ঠা ৩৩।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== সনদ পর্যালোচনা ===&lt;br /&gt;
এই রেওয়ায়েতটিকে [[শেইখ কুলাইনি]] তার [[আল-কাফি]] গ্রন্থে, [[ইমাম জাফর সাদিক (আ.)]] হতে বর্ণনা করেছেন।&amp;lt;ref name=&amp;quot;:0&amp;quot;/&amp;gt; উক্ত  হাদীসটির রাবীগণ হচ্ছেন আলী ইবনে ইব্রাহিম, তাঁর পিতা, ইবনে আবি উমাইর, মানসুর ইবনে ইউনুস এবং ইসহাক ইবনে আম্মার।&amp;lt;ref name=&amp;quot;:0&amp;quot;/&amp;gt; &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আল্লামা মাজলিসী তার মিরআতুল উকুল গ্রন্থে হাদীসটিকে সনদগত দিক থেকে [[হাসান]] বা [[মুওয়াস্সাক]] হিসেবে বিবেচনা করেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;মাজলিসি, মুহাম্মদ বাকির, মিরআতুল উকুল ফি শারহি আখবার আল রাসুল, তেহরান, দারুল কুতুব আল-ইসলামিয়া, দ্বিতীয় সংস্করণ, খণ্ড ১৬, পৃষ্ঠা ১৬২।&amp;lt;/ref&amp;gt; শিয়া রিজালশাস্ত্রবিদ [[শেইখ তুসী’র]] অভিমত হচ্ছে উক্ত হাদীসের অন্যতম রাবী মানসুর ইবনে ইউনুস মাযহাবগত দিক থেকে [[ওয়াকেফী]] মাযহাবের&amp;lt;ref&amp;gt;তুসি, রিজালুত তুসি, তাহকিক জাওয়াদ কাইয়ুমি ইসফাহানি, কুম, জামাআতুল মুদাররিসিন, ১৩৭৩ হিজরি শামসি, পৃষ্ঠা ৩৪৩।&amp;lt;/ref&amp;gt;, কিন্তু [[সিকাহ]] (বিশ্বস্ত) এবং গ্রহণযোগ্য হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;নাজ্জাশি, রিজালুন নাজ্জাশি, তাহকিক মুসা শুবাইরি জানজানি, কুম, জামাআতুল মুদাররিসিন, ১৩৬৫ হিজরি শামসি, পৃষ্ঠা ৪১২।&amp;lt;/ref&amp;gt; সুতরাং উক্ত রেওয়ায়েতটি মুওয়াস্সাক ও গ্রহণযোগ্য।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এই রেওয়ায়েতটিকে শেইখ সাদুকও তার মান লা ইয়াহদুরুহুল ফাকীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে বাবুইয়াহ, মুহাম্মদ, মান লা ইয়াহদুরহুল ফকিহ, কুম, জামাআতুল মুদাররিসিন, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪১৩ হিজরি, খণ্ড ২, বাবু সাওয়াবিল কারজ, পৃষ্ঠা ৫৮, হাদিস ১৬৯৭ এবং খণ্ড ২, বাবু ফাদলিস সাদাকা, পৃষ্ঠা ৬৭, হাদিস ১৭৩৮।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== দ্বিতীয় হাদীস ==&lt;br /&gt;
{{arabic|عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ(ع)، قَالَ: «قَالَ رَسُولُ اللَّهِ(ص): الصَّدَقَةُ بِعَشَرَةٍ، وَ الْقَرْضُ بِثَمَانِيَةَ عَشَر…|translation=মহানবি (স.) এর উদ্ধৃতি দিয়ে ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বর্ণনা করেছেন: সাদকা’র সাওয়াব দশ গুণ এবং ঋণ বা ধার দেওয়ার সাওয়াব আঠারো গুণ ।}}.&amp;lt;ref name=&amp;quot;:1&amp;quot;&amp;gt;কুলাইনি, মুহাম্মদ, আল-কাফি, তেহরান, দারুল কুতুব আল-ইসলামিয়া, চতুর্থ সংস্করণ, ১৪০৭ হিজরি, খণ্ড ৪, বাবুস সাদাকা আলাল কুরবা, পৃষ্ঠা ১০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== সনদগত পর্যালোচনা ===&lt;br /&gt;
এই রেওয়ায়েতটিকে আল-কাফি গ্রন্থে শেইখ কুলাইনি হযরত ইমাম জাফর সাদিক (আ.) এবং তিনি মহানবি [[হযরত মুহাম্মাদ (স.)]] হতে বর্ণনা করেছেন।&amp;lt;ref name=&amp;quot;:1&amp;quot;/&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
নাওফেলি, যিনি এই হাদীসটির একজন রাবী, পূর্ববর্তী রিজালশাস্ত্রগুলোতে সিকাহ (বিশ্বস্ত) বা যয়ীফ (দুর্বল) হিসেবে বিবেচিত হননি।&amp;lt;ref&amp;gt;নাজ্জাশি, রিজালুন নাজ্জাশি, তাহকিক মুসা শুবাইরি জানজানি, কুম, জামাআতুল মুদাররিসিন, ১৩৬৫ হিজরি শামসি, পৃষ্ঠা ৩৮; তুসি, মুহাম্মদ ইবনে হাসান, রিজালুত তুসি, তাহকিক জাওয়াদ কাইয়ুমি ইসফাহানি, কুম, জামাআতুল মুদাররিসিন, ১৩৭৩ হিজরি শামসি, পৃষ্ঠা ৪৯০।&amp;lt;/ref&amp;gt; হিজরী চতুদর্শ শতাব্দীর রিজালশাস্ত্রবিদ [[আব্দুল্লাহ মামাকানী’র]] ভাষ্য মতে, কেউ কেউ তাকে যয়ীফ অভিহিত করেছেন, তবে তিনি তাকে হাসান বলে বিবেচনা করেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;মামাকানি, আবদুল্লাহ, তানকিহুল মাকাল ফি ইলমির রিজাল, তাহকিক মুহিউদ্দিন মামাকানি ও মুহাম্মদ রেজা মামাকানি, কুম, মুআসসাসাতু আলিল বাইত (আ.) লি-ইহইয়াইত তুরাস, ১৪৩১ হিজরি, পৃষ্ঠা ১৫৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[আল্লাম হিল্লি’র]] ভাষ্য মতে, এই হাদীসের অন্য আরেকজন রাবী সাকুনি হচ্ছেন [[সুন্নি মাযহাবের]]।&amp;lt;ref&amp;gt;আল্লামা হিলি, হাসান ইবনে ইউসুফ, রিজালুল আল্লামা আল-হিলি, তাহকিক মুহাম্মদ সাদিক বাহরুল উলুম, কুম, আশ-শরিফ আর-রিদা, ১৪০২ হিজরি, পৃষ্ঠা ১৯৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; কেউ কেউ [[সাকুনি’কে]] সিকাহ তথা নির্ভরযোগ্য জ্ঞান করেছেন এবং তার রেওয়ায়েতের প্রতি আমল করেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;আস্তারাবাদি, মুহাম্মদ ইবনে আলী, মিনহাজুল মাকাল ফি তাহকিকি আহওয়ালির রিজাল, কুম, মুআসসাসাতু আলিল বাইত (আ.) লি-ইহইয়াইত তুরাস, ১৪২২ হিজরি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩০৭।&amp;lt;/ref&amp;gt; সুতরাং উক্ত রেওয়ায়েতের সনদ নির্ভরযোগ্য হওয়া বা না হওয়ার বিষয়টি রিজালগত বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আল্লামা মাজলিসী তার মিরআতুল উকুল গ্রন্থে&amp;lt;ref&amp;gt;মাজলিসি, মুহাম্মদ বাকির, মিরআতুল উকুল ফি শারহি আখবার আল রাসুল, তেহরান, দারুল কুতুব আল-ইসলামিয়া, দ্বিতীয় সংস্করণ, খণ্ড ১৬, পৃষ্ঠা ১৩৫।&amp;lt;/ref&amp;gt; এবং [[মালাযুল আখবার]]&amp;lt;ref&amp;gt;মাজলিসি, মুহাম্মদ বাকির, মালাজুল আখিয়ার ফি ফাহমি তাহজিবিল আখবার, কুম, কিতাবখানায়ে মারআশি নাজাফি, প্রথম সংস্করণ, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ২৭৮।&amp;lt;/ref&amp;gt; গ্রন্থে এই হাদীসটিকে সনদের দিক থেকে যয়ীফ বলে মনে করেছেন। শেইখ তুসীও উক্ত রেওয়ায়েতটিকে তার [[তাহযীবুল আহকাম]] গ্রন্থে অনুরূপ সিলসিলা সনদ (সনদ পরম্পরা) সহকারে শেইখ কুলাইনি হতে বর্ণনা করেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;তুসি, মুহাম্মদ, তাহজিবুল আহকাম, তেহরান, দারুল কুতুব আল-ইসলামিয়া, চতুর্থ সংস্করণ, ১৪০৭ হিজরি, খণ্ড ৪, বাব ২৯ বাবুজ জিয়াদাত ফিজ জাকাত, পৃষ্ঠা ১০৬, হাদিস ৩৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch = حدیث&lt;br /&gt;
| subbranch1 = منبع‌شناسی&lt;br /&gt;
| subbranch2 =&lt;br /&gt;
| subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه = شد&lt;br /&gt;
 | تیترها = شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش = شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی = شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر = شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | بازبینی نویسنده =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =شد&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت = ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت = ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:ثواب هجده برابری قرض دادن]]&lt;br /&gt;
[[ur:قرض دینی پر اٹهاره گنا ثواب]]&lt;br /&gt;
[[ps:د قرض ورکولو اتلس چنده ثواب]]&lt;br /&gt;
[[es:La recompensa dieciocho veces mayor por prestar]]&lt;br /&gt;
[[ms:Pahala 18 Kali Lipat Bagi Pemberi Pinjaman]]&lt;br /&gt;
[[en:The Eighteen-Fold Reward of Giving Loans]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%B0_%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A7%80%E0%A6%AE_%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&amp;diff=990</id>
		<title>আল্লাহর অসীম সত্তা</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%B0_%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A7%80%E0%A6%AE_%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&amp;diff=990"/>
		<updated>2025-02-24T18:12:08Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{question}}&lt;br /&gt;
আল্লাহর অসীম সত্তা, কীভাবে প্রমাণিত হয়?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আল্লাহর অসীম সত্তা, বিষয়টি প্রমাণের ক্ষেত্রে বহু পন্থা বিদ্যমান রয়েছে। যার কিছু ইমাম আলীর (আ.) বাণীতে এবং অন্যান্য দার্শনিক মনীষীদের লেখনিতে বর্ণিত হয়েছে। [[ইমাম আলী (আ.)]] বলেছেন যে, আল্লাহকে ইঙ্গিত দিয়ে বোঝানো সম্ভব না। তিনি আরও বলেন, যদি আল্লাহর কোন সীমাবদ্ধতা থাকত তবে তাকে গণনা করা যেত; কিন্তু আল্লাহ হলেন এক ও অদ্বিতীয়। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কতিপয় দার্শনিক আল্লাহর অসীম সত্তা প্রমাণ করতে গিয়ে “পরম সত্তা”, “সকল কারণের কারণ” এবং “অপরিহার্য অস্তিত্ব” -এর মতো ধারণাগুলির সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এই ধারণাগুলি ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে আল্লাহর সত্তা অসীম। দার্শনিকরা যে অন্য যুক্তিটি উল্লেখ করেছেন তা হল: সীমাবদ্ধতা হল সত্তার রূপের (প্রকৃতির) একটি অপরিহার্য অংশ, কিন্তু আল্লাহর সত্তার কোনো রূপ (প্রকৃতি) নেই (তাই তিনি অসীম)।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আল্লাহর অসীম সত্তা প্রমাণে ইমাম আলী (আ.) -এর বানী ==&lt;br /&gt;
আমিরুল মুমিনিন (আ.) [[নাহজুল বালাগার]] প্র[[থম খুতবায়]] বলেন, «&#039;&#039;و مَن اشار الیه فقد حدّه، وَ مَن حدّه فقد عدّه&#039;&#039;»&amp;lt;ref&amp;gt;নাহজ আল-বালাঘা, খুতবা ২.&amp;lt;/ref&amp;gt; অর্থাৎ, যে ব্যক্তি তাঁর দিকে ইঙ্গিত করে, সে তাঁকে সীমাবদ্ধ মনে করে, আর যে ব্যক্তি তাঁকে সীমাবদ্ধ মনে করে, সে তাঁকে গণনা ও সংখ্যার আওতায় আনে এবং তাঁকে বহুসংখ্যক মনে করে।&lt;br /&gt;
 &lt;br /&gt;
এই বাণীতে সুস্পষ্ট ভাষায়, মহান স্রষ্টার সীমাবদ্ধতাকে অস্বীকার করা হয়েছে। কারণ, আমিরুল মুমিনিন (আ.) বলেছেন যে, যেহেতু আল্লাহ ইঙ্গিত ও সংখ্যার ঊর্ধ্বে, সেহেতু বোঝা যায় যে তিনি অসীম। আর যদি আল্লাহর সীমা থাকতো, তাহলে তাঁকে সংখ্যায় হিসাব করা যেত। আল্লাহ কখনোই গণনা বা সংখ্যার আওতায় আসবেন না এবং তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তাহলে বোঝা যায় যে, আল্লাহ অসীম। কারণ, সীমাবদ্ধতা যেকোনো বস্তুর ক্ষেত্রে সম্ভব, এই সীমাবদ্ধতা হয় তার অনুরূপ কিছু থেকে অথবা তার বিপরীত কিছু থেকে উৎপন্ন হয়ে থাকে। যেহেতু আল্লাহ কোন প্রকার অনুরূপ বা বিপরীত বস্তু হতে মুক্ত, তাই তিনি সীমাবদ্ধতা থেকেও মুক্ত।&amp;lt;ref&amp;gt; জাফারী, মোহাম্মদ তাকী, নাহজ আল-বালাগেহ, তেহরান, ফারহাং ইসলামিক পাবলিশিং হাউস, ১৩৫৭, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৫-৬১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইমাম আলী (আ.) অপর একটি খুতবায় বলেন, «&#039;&#039;لا یشمل بحدِّ و لا یحسب بعدٍّ و انما تحد الادوات انفسها&#039;&#039;»&amp;lt;ref&amp;gt;নাহজ আল-বালাগা, খুতবা ১৮৬।&amp;lt;/ref&amp;gt; অর্থাৎ, আল্লাহর কোনো সীমা নেই, কোনো সীমা তাকে আবদ্ধ করতে পারে না এবং তাকে সংখ্যার মাধ্যমে গণনা করা যায় না। কেননা, যন্ত্র ও সরঞ্জাম শুধু নিজেদের ক্ষমতা অনুযায়ী পরিমাপ করে থাকে। ইমামের এই উক্তিটিতেও মূলত আল্লাহর সীমাবদ্ধতার অস্বীকার করা হয়েছে। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এই উক্তির বিস্তারিত বিশ্লেষণে বলা হয়েছে যে, আরবিতে &amp;quot;&#039;&#039;حد&#039;&#039;&amp;quot; বা সীমা শব্দের অন্যতম বিশেষ অর্থ হল নিষেধ করা। উদাহরণস্বরূপ, বাড়ির সীমা হল সেই স্থান যার সীমানা লঙ্ঘন করা নিষেধ। দেশের সীমা উত্তর ও পূর্ব দিকে এমন এমন স্থান পর্যন্ত বিস্তৃত- এ জাতীয় বিষয়। ইমাম এই উক্তিতে বলছেন যে, আল্লাহর কোনো সীমা নেই। অর্থাৎ, তার এমন কোন সীমাবদ্ধ বৈশিষ্ট্য নেই যা শুধু তার নিজস্ব এবং অন্যদের জন্য নয়। তিনি  মানুষ, গাছ, [[ফেরেশতা]] ইত্যাদির মতো অন্যান্য সম্ভাব্য বস্তুর সম কাতারে নন। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
যদি ধরে নেওয়া হয় যে, আল্লাহ সীমাবদ্ধ, তাহলে এর অর্থ হবে যে, অন্যান্য সৃষ্টির মতো তিনিও একটি নির্দিষ্ট সত্তা হিসেবে বিদ্যমান এবং তাঁরও নির্দিষ্ট কিছু পূর্ণতা বা গুণাবলি রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সূর্যের উষ্ণতা ও আলোকিত করার বৈশিষ্ট্য আছে, পানির পৃথক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, মাটির পৃথক বৈশিষ্ট্য রয়েছে; কিন্তু আল্লাহ এই উল্লিখিত বা অনুরূপ কোন বৈশিষ্ট্য দ্বারা সীমাবদ্ধ নন। বরং সকল প্রকৃতির বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি মূলত তাঁর সৃজনশীলতার উৎস থেকে উদ্ভূত। সুতরাং, আমরা আল্লাহর সত্তার ব্যাপারে কোন সীমাবদ্ধতার ধারণা করতে পারি না। কেননা, যদি তা করা হয় তাহলে সীমাবদ্ধ বস্তুগুলির বৈশিষ্ট্যগুলিকে তাঁর সৃজনশীলতার সাথে সম্পর্কিত করা যাবে না। কারণ তখন তিনি নিজেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বেন। আর যে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ, সে নিজের বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বস্তুর উৎস হতে পারে না। অথচ, মহান আল্লাহ হলেন প্রত্যেক সৃষ্টি ও তাদের অস্তিত্বগত গুণাবলীর উৎস। অতএব বোঝা যায় যে, তিনি অসীম। এই বিষয়ের বিস্তারিত জানতে নিচের উৎসটি দেখুন।&amp;lt;ref&amp;gt;নাহজ আল-বালাগা, খুতবা ১৮৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আল্লাহ, পরম সত্তা ==&lt;br /&gt;
আল্লাহর অসীম সত্তার বিষয়ে দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গির তৃতীয় যুক্তি এই যে, [[পরম সত্তা]] অর্থই হচ্ছে অসীম, কেননা সীমাবদ্ধতা ত্রুটি ও অনস্তিত্ব থেকে উদ্ভূত হয়। আর যেহেতু পরম সত্তার ক্ষেত্রে অনস্তিত্ব, ত্রুটি, বহুত্ব এবং আধিক্যের মত বিষয়গুলো যায় না; সেহেতু তিনি অসীম। সুতরাং, যেহেতু আল্লাহ হলেন পরম সত্তা, শুদ্ধ অস্তিত্ব এবং অস্তিত্বের শুদ্ধতম রূপ, তাই তাঁর সীমাবদ্ধ হওয়া অসম্ভব।&amp;lt;ref&amp;gt;মোতাহারী, মর্তেজা, রচনা সংগ্রহ ৬, সদর পাবলিশিং হাউস, ১৩৭৯, পৃ.১০১৭।&amp;lt;/ref&amp;gt; কারণ, যদি তিনি সীমাবদ্ধ হন, তাহলে এর অর্থ হবে তিনি শুধু অসম্পূর্ণ অথবা শুদ্ধ অস্তিত্ব নন, বরং তার একটি স্বতন্ত্র রূপ বা প্রকৃতিও রয়েছে। কারণ যেখানে বহুত্ব ও আধিক্য আছে, সেখানে সীমাবদ্ধতা থাকা স্বাভাবিক; আর যেখানে বহুত্ব নেই, সেখানে সীমাবদ্ধতাও নেই। আল্লাহ পাক নিজেই পবিত্র [[কুরআ]]নে বলেছেন যে, «قل هو الله احد» আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। অতএব তাঁর সত্তার কোন বহুত্ব ও আধিক্য নেই, ফলে তিনি সীমাবদ্ধতা হতে মুক্ত।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আল্লাহ, সকল কারণের কারণ ==&lt;br /&gt;
আল্লাহর সত্তা অসীম হওয়ার অপর একটি যুক্তি হচ্ছে, সীমাবদ্ধতা হল পরাভূত ও অক্ষমতার সমান। অর্থাৎ, যে সত্তা কার্যকারণের ফল ও অন্য কিছুর উপর নির্ভরশীল, সে স্বাভাবিকভাবেই সীমাবদ্ধ। আল্লাহ কোনো কিছুর প্রতি নির্ভরশীল নন এবং কারো মুখাপেক্ষী নন, বরং তিনি সকল কারণের কারণ এবং সকল কার্যকারণের উৎস এবং পরম ক্ষমতাসম্পন্ন, তাই বোঝা যায় যে তিনি কখনোই কোন সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নন, বরং তিনি অসীম ও অনন্ত।&amp;lt;ref&amp;gt;মোতাহারী, মর্তেজা, রচনা সংগ্রহ ৬, সদর পাবলিশিং হাউস, ১৩৭৯, পৃ.১০১৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আল্লাহ, অপরিহার্য অস্তিত্ব ==&lt;br /&gt;
আরও একটি যুক্তি হল, আল্লাহ হলেন অপরিহার্য অস্তিত্ব এবং এই অপরিহার্য অস্তিত্ব, অসীম ও অশেষের সমান। অন্যভাবে বললে, অস্তিত্বের বাস্তবতা হলো অসীমত্ব, অপরিহার্যতা,  নিখুঁত ও বিশুদ্ধতার সমান। যেহেতু আল্লাহ হলেন অস্তিত্বের বাস্তবতা, অস্তিত্বের বিশুদ্ধতা এবং অপরিহার্য অস্তিত্ব, সেহেতু তিনি অসীম ও অনন্ত। কারণ, যদি তিনি অসীম ও অনন্ত না হন, তাহলে তিনি অপরিহার্য অস্তিত্ব হতেন না। অথচ আল্লাহর অস্তিত্ব হলো নিরঙ্কুশ অপরিহার্য এবং স্বতঃসিদ্ধ।&amp;lt;ref&amp;gt; মোতাহারী, মর্তেজা, রচনা সংগ্রহ ৬, পূর্ববর্তী প্রকাশনা, পৃ.১০১৮।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আল্লাহর রূপ না থাকা&lt;br /&gt;
আল্লাহর অসীমত্ব প্রমাণের আরও একটি যুক্তি হলো যে, সীমাবদ্ধতা সর্বদা রূপ (প্রকৃতি) থেকে উদ্ভূত হয়। অর্থাৎ, রূপ (প্রকৃতি) হলো সৃষ্টিজগতের সীমাবদ্ধতার উৎস, এবং রূপ (প্রকৃতি) হচ্ছে নির্দিষ্টতা ও সীমাবদ্ধতা। যেহেতু আল্লাহ রূপ (প্রকৃতি) হতে মুক্ত&amp;lt;ref&amp;gt; সদর আল-মুতালাহিন, ইসফার, বৈরুত, দার আল-আহিয়া পাবলিশিং হাউস, বিতা, ১, পৃ.&amp;lt;/ref&amp;gt;, ফলে তিনি যেকোনো ধরনের নির্দিষ্টতা ও সীমা থেকেও মুক্ত।এভাবে বলা যায় যে, যেহেতু সকল সৃষ্টির প্রকৃতি রয়েছে, অর্থাৎ তারা নির্দিষ্ট ও তাদের নিজস্ব অস্তিত্বগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে; উদাহরণস্বরূপ, মানুষ, গাছ, প্রাণী ইত্যাদি।  সুতরাং, এই ধরনের সৃষ্টি সীমাবদ্ধ। কিন্তু আল্লাহ যেহেতু যেকোনো ধরনের রূপ (প্রকৃতি) ও অস্তিত্বগত নির্দিষ্টতা থেকে মুক্ত, তাই তাঁর কোনো সীমাবদ্ধতাও নেই। অর্থাৎ, যেহেতু তিনি রূপ (প্রকৃতি) থেকে মুক্ত, যা মূলত নির্দিষ্টতা ও সীমাবদ্ধতার উৎস, তাই তাঁর কোন সীমাবদ্ধতা নেই।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
[[fa: نامحدود بودن خداوند]]&lt;br /&gt;
[[ps:د خدای لامحدودیت]]&lt;br /&gt;
[[ur: خدا کا لامحدود ہونا]]&lt;br /&gt;
[[en: The Boundlessness of God]]&lt;br /&gt;
[[ms: Ketidakterbatasan Tuhan]]&lt;br /&gt;
[[ar: لا محدودیة لله تعالى]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%B9%E0%A6%AF%E0%A6%B0%E0%A6%A4_%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E2%80%99%E0%A6%B0_%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BE_%E0%A6%B9%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE&amp;diff=989</id>
		<title>হযরত ফাতেমা’র মুহাদ্দাসা হওয়া</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%B9%E0%A6%AF%E0%A6%B0%E0%A6%A4_%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E2%80%99%E0%A6%B0_%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BE_%E0%A6%B9%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE&amp;diff=989"/>
		<updated>2025-02-24T17:31:39Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
হযরত ফাতেমা সালামুল্লাহ আলাইহা’কে কেন মুহাদ্দাসা বলা হয়?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
মুহাদ্দাসা হচ্ছে [[হযরত ফাতেমা যাহরা’র (সা.আ.)]] অন্যতম একটি লকব তথা উপাধি এবং যার অর্থ হচ্ছে এমন ব্যক্তি যার সাথে ফেরেস্তারা কথোপকথন করেন। ফাতেমা (সা.আ.)-কে এই দৃষ্টিকোন থেকে মুহাদ্দাসা অভিহিত করা হয়েছে যে তিনি ফেরেস্তাদের সাথে বাক্য বিনিময় করেছেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== মুহাদ্দাস ও মুহাদ্দাসা’র পরিভাষা পরিচিতি ==&lt;br /&gt;
মুহাদ্দাস (&#039;&#039;مُحَدَّث&#039;&#039;) ও মুহাদ্দাসা (&#039;&#039;مُحَدَّثَه&#039;&#039;) (দাল এর উপর তাশদিদ ও যবর সহকারে) এর অর্থ হচ্ছে এমন ব্যক্তি যার সঙ্গে ফেরেস্তারা কথোপকথন করে থাকেন; যার উপর ইলহাম হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;হোসেইনি জুবাইদি, মুহাম্মদ মুরতাজা, তাজুল আরুস মিন জাওয়াহিরুল কামুস, বৈরুত, দারুল ফিকর, প্রথম সংস্করণ, ১৪১৪ হিজরি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৯২।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইসলামী রেওয়ায়েতে মুহাদ্দাস বলতে ঐ ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে যিনি ফেরেস্তাদের কথা শুনতে পান এবং যার কানে চিৎকার দেওয়া হয় এবং তার অন্তর তা প্রবেশ করে।&amp;lt;ref&amp;gt;সাফফার, মুহাম্মদ ইবনে হাসান, বাসায়িরুদ দারাজাত ফি ফাদাইল আলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিম, কুম, কিতাবখানায়ে মারআশি নাজাফি, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪০৪ হিজরি, পৃষ্ঠা ৩৬৭, বাব ১, হাদিস ১ ও ১৭।&amp;lt;/ref&amp;gt; অন্যান্য গ্রন্থসমূহে মুহাদ্দাস এর সংজ্ঞায় এমন ব্যক্তিকে নির্দেশ করা হয়েছে, যে ব্যক্তি পয়গম্বর না হওয়া সত্ত্বেও ফেরেস্তারা তাঁর সাথে কথোপকথন করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;আমিনি, আবদুল হোসাইন, আল-গাদির, মারকাজুল গাদির লিদ-দিরাসাতিল ইসলামিয়া, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৬৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আইম্মা আতহার তথা মাসূম ইমামগণ (আ.) মুহাদ্দাস ছিলেন এবং হযরত ফাতেমা যাহরাও (সা.আ.) ছিলেন মুহাদ্দাসা।&amp;lt;ref&amp;gt;সাফফার, মুহাম্মদ ইবনে হাসান, বাসায়িরুদ দারাজাত ফি ফাদাইল আলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিম, কুম, কিতাবখানায়ে মারআশি নাজাফি, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪০৪ হিজরি, পৃষ্ঠা ৩৬৭, বাব ১।&amp;lt;/ref&amp;gt; যেমন [[হযরত মূসা (আ.)]] এর মাতা নবী ছিলেন না  কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে ওহী করেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;সুরা আল-কাসাস, আয়াত ৭।&amp;lt;/ref&amp;gt; [[হযরত মরিয়ম (আ.)]] ও নবী ছিলেন না অথচ ফেরেস্তারা তাঁর সাথে কথা বলেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;সুরা মারইয়াম, আয়াত ১৬-২৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== হযরত ফাতেমা (সা.আ.) এর সাথে ফেরেস্তাদের কথোপকথন ==&lt;br /&gt;
হযরত ফাতেমা যাহরা’র (সা.আ.) মুহাদ্দাসা হওয়ার বিষয়টি প্রমাণে বিভিন্ন রেওয়ায়েত বিদ্যমান: &lt;br /&gt;
* [[ইমাম জাফর সাদিক (আ.)]] বলেছেন: {{arabic|| translation=হযরত ফাতেমা’কে (সা.আ.) এই কারণে মুহাদ্দাসা বলা হয়েছে যে ফেলেস্তারা আসমান হতে অবতীর্ণ হয়ে যেমনভাবে হযরত মরিয়মের সাথে কথা বলতেন, হযরত ফাতেমা’র (সা.আ.) সাথেও কথোপকথন করতেন।}}&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে বাবুইয়াহ, মুহাম্মদ ইবনে আলী, ইলালুশ শারাই, কুম, কিতাবফুরুশি দাওয়ারি, প্রথম সংস্করণ, ১৩৮৫ হিজরি শামসি/১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৮২, বাব ১৪৬, হাদিস ১। তাবারি আমুলি সাগির, মুহাম্মদ ইবনে জারির ইবনে রুস্তম, দালাইলুল ইমামাহ, কুম, বাউসাত, প্রথম সংস্করণ, ১৪১৩ হিজরি, পৃষ্ঠা ৮০, হাদিস ২০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেন: {{arabic|translation=আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যখন তার রাসূল (স.) এর রুহ কবজ করেন তখন হযরত ফাতেমা (সা.আ.) এমন দুঃখ দুর্দশায় আক্রান্ত হন যে আল্লাহ ব্যতীত কেউই সে সম্পর্কে অবগত নন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন একজন ফেরেস্তাকে হযরত ফাতেমা’র (সা.আ.) নিকট প্রেরণ করেন যেন তাঁর দুঃখ ও কষ্ট লাঘব করতে তাঁকে সান্ত্বনা প্রদান করেন এবং তাঁর সাথে কথোপকথন করেন।}}&amp;lt;ref&amp;gt;সাফফার, মুহাম্মদ ইবনে হাসান, বাসায়িরুদ দারাজাত ফি ফাদাইল আলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিম, কুম, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪০৪ হিজরি, বাব ১৪, পৃষ্ঠা ১৫৭, হাদিস ১৮। কুলাইনি, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব, আল-কাফি, তেহরান, দারুল কুতুব আল-ইসলামিয়া, চতুর্থ সংস্করণ, ১৪০৭ হিজরি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৩৮, বাবুন ফিহি জিকরুস সহিফা ওয়াল জাফর ওয়াল জামিয়া ওয়া মুসহাফে ফাতিমা, হাদিস ২।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* ইমাম জাফর সাদিক (আ.) হতে বর্ণিত হয়েছে: {{arabic||translation=হযরত ফাতেমা (সা.আ.) মহানবি (স.) এর ইন্তেকালের পর ৭৫ দিনের বেশী জীবিত ছিলেন না। পিতৃ হারানোর বেদনায় তিনি শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়তেন। এই কারণে হযরত জিব্রাইল প্রায়ই তাঁর নিকট উপস্থিত হতেন এবং তাঁকে পিতা হারানোর শোকে সমবেদনা জানাতেন, যা ছিল হযরত যাহরা’র ভারাক্রান্ত হৃদয়ের জন্য সান্ত্বনা। কখনও তাঁর সম্মানিত পিতার মাকাম ও মর্যাদা সম্পর্কে কথা বলতেন এবং কখনও তাঁর ইন্তেকালের পর তার বংশধরদের সাথে ভবিষ্যতে ঘটতে যাওয়া ঘটনাবলী সম্পর্কে খবর দিতেন।}}&amp;lt;ref&amp;gt;সাফফার, মুহাম্মদ ইবনে হাসান, বাসায়িরুদ দারাজাত ফি ফাদাইল আলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিম, কুম, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪০৪ হিজরি, বাব ১৪, পৃষ্ঠা ১৫৪, হাদিস ৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* হযরত ফাতেমা’র (সা.আ.) যিয়ারতে এরূপ উল্লেখিত হয়েছে: {{arabic| السَّلَامُ عَلَيْكِ أَيَّتُهَا الْمُحَدَّثَه الْعَلِيمَه| translation=আপনার উপর সালাম হোক, আপনি হচ্ছেন সেই ব্যক্তি যিনি ফেরেস্তাদের সাথে কথা বলেছেন এবং অত্যন্ত জ্ঞানী।}}&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে বাবুইয়াহ, মুহাম্মদ ইবনে আলী, মান লা ইয়াহদুরহুল ফকিহ, কুম, দফতরে ইন্তিশারাতে ইসলামি, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪১৩ হিজরি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৭৩। তুসি, মুহাম্মদ ইবনে হাসান, তাহজিবুল আহকাম, তেহরান, দারুল কুতুব আল-ইসলামিয়া, চতুর্থ সংস্করণ, ১৪০৭ হিজরি, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ১০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ফাতেমা (সা.আ.) মুসহাফ হচ্ছে তাঁর মুহাদ্দাসা হওয়ার প্রমাণ ==&lt;br /&gt;
{{see also|মুসহাফে ফাতেমা}}&lt;br /&gt;
মুসহাফে ফাতেমা (সা.আ.) হচ্ছে এমন একটি গ্রন্থ যা [[জিব্রাইল মহানবি (স.)]] এর ইন্তেকালের পর [[হযরত ফাতেমা (সা.আ.)]] বলেছেন এবং [[আমিরুল মু’মিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (আ.)]] সেগুলোকে লিপিবদ্ধ করেছেন। রেওয়ায়েতের উপর ভিত্তি করে, এরূপ একটি গ্রন্থের অস্তিত্বের ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।&amp;lt;ref&amp;gt;আল-কুলাইনি, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব, আল-কাফি, কুম, দারুল হাদিস, ১৪২৯ হিজরি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৯৯-৬০০।&amp;lt;/ref&amp;gt; মুসহাফে ফাতেমা (সা.আ.) এর অস্তিত্ব সম্পর্কিত রেওয়ায়েতগুলো শিয়াদের সবচেয়ে পুরাতন সূত্রসমূহে যেমন [[বাসায়েরুদ দারাজাত]]&amp;lt;ref&amp;gt;সাফফার কুমি, মুহাম্মদ ইবনে হাসান, বাসায়িরুদ দারাজাত ফি ফাদাইল আলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিম, তাহকিক: মুহসিন ইবনে আব্বাস আলি কুচেহ বাঘি, কুম, মাকতাবাতু আয়াতুল্লাহিল মারআশি আন-নাজাফি, ১৪০৪ হিজরি, পৃষ্ঠা ১৭০-১৮১।&amp;lt;/ref&amp;gt; এবং [[আল-কাফি]]&amp;lt;ref&amp;gt;কুলাইনি, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব, আল-কাফি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৯২-৬০২।&amp;lt;/ref&amp;gt; গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
মুসহাফে ফাতেমা’কে (সা.আ.) এই বিষয়ের প্রমাণ হিসেবে মনে করা হয়েছে যে, আল্লাহর ফেরেস্তারা হযরত ফাতেমা যাহরা (সা.আ.) এর সাথে কথোপকথন করেছেন। আর এটিই ঐ মহিয়সী নারীর মুহাদ্দাসা হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch = حدیث&lt;br /&gt;
 | subbranch1 = معارف حدیثی&lt;br /&gt;
 | subbranch2 =&lt;br /&gt;
 | subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه = شد&lt;br /&gt;
 | تیترها = شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی = شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر = شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | بازبینی =شد&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت = ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت = ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[ps:د حضرت فاطمه(س) محدثه شونه]]&lt;br /&gt;
[[fa:محدثه‌بودن حضرت فاطمه(س)]]&lt;br /&gt;
[[ar:المُحَدَّثة السیدة فاطمة (ع)]]&lt;br /&gt;
[[es:Ser Muhaddiza de la Excelencia Fátima Zahra (P)]]&lt;br /&gt;
[[ur:حضرت فاطمه سلام الله علیها کا محدثه هونا]]&lt;br /&gt;
[[ms:Muhaddatsah (gelar)]]&lt;br /&gt;
[[en:Muhaddatha, the Title of Fatima (a)]]&lt;br /&gt;
[[ru:Мухаддаса титул Фатимы (да будет мир с ней)]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%AE%E0%A7%83%E0%A6%A4_%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF_%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%AB%E0%A6%A8_%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87_%E0%A6%B6%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%95_%E0%A6%B9%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B0_%E0%A6%AB%E0%A6%AF%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%A4&amp;diff=988</id>
		<title>মৃত ব্যক্তি দাফন অনুষ্ঠানে শরীক হওয়ার ফযিলত</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%AE%E0%A7%83%E0%A6%A4_%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF_%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%AB%E0%A6%A8_%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87_%E0%A6%B6%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%95_%E0%A6%B9%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B0_%E0%A6%AB%E0%A6%AF%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%A4&amp;diff=988"/>
		<updated>2025-02-24T14:08:40Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
মৃত ব্যক্তির দাফন অনুষ্ঠানে শরীক হওয়া, মৃত্য ব্যক্তি অথবা জানাযায় অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে কি কোন ফযিলত বয়ে আনে?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
মৃত ব্যক্তির দাফন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের [[মৃত্যু]] এবং [[পরকালের]] কথা মনে পড়বে- এমন দৃষ্টিকোন থেকে [[জানাযায়]] বা মৃত ব্যক্তির দাফন অনুষ্ঠানে শরীক হওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে বলে মনে করা হয়। এছাড়াও মৃত ব্যক্তির দাফন অনুষ্ঠানের অন্যতম একটি ফায়দা হিসেবে সওয়াবের কথা বলা হয় যা উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের এবং মৃত ব্যক্তির নসীবে হয়। মহানবি (স.) জানাযার অনুষ্ঠানে শরীক হওয়ার উপদেশ প্রদান করেছেন। কারণ তিনি মনে করতেন, এই বিষয়টি মানুষকে পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে। [[ইমাম জাফার সাদিক (আ.)]] স্বজন হারানো ব্যক্তিদেরকে উপদেশ দিয়েছেন অন্যদেরকে মৃত্য ব্যক্তির মৃত্যুর খবর সম্পর্কে অবহিত করতে যাতে করে মৃত ব্যক্তির দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে সক্ষম হয়, তার উপর [[নামায]] পড়তে পারে এবং এরূপভাবে তাদের জন্য নেকী হাসিল হয় এবং মৃত ব্যক্তির জন্য [[ইস্তিগফার]] অর্জিত হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== মৃত্যু ও পরকালের স্মরণ ==&lt;br /&gt;
কিছু কিছু রেওয়ায়েতে মৃত ব্যক্তির দাফন অনুষ্ঠানের ফায়েদা হিসেবে মৃত্যু ও আখেরাতের কথা স্মরনে আসাকে গণ্য করা হয়েছে; [[মহানবি (স.)]] জানাযার অনুষ্ঠানে শরীক হওয়ার উপদেশ দিয়েছেন; কেননা এই বিষয়টি মানুষকে মৃত্যু ও পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। রেওয়ায়েত অনুসারে, স্বয়ং মহানবি (স.) যখন মৃত ব্যক্তির দাফন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতেন, অত্যন্ত শোকাহত হতেন এবং খুব কম কথা বলতেন।&amp;lt;ref&amp;gt;শেখ আব্বাস কুমি, সফিনাতুল বিহার, নাশরে আসওয়াহ, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫৬৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
{{جعبه نقل قول| عنوان = | نقل‌قول = [[ইমাম জাফর সাদিক (আ.):{{-}}&#039;&#039;&#039;মৃত ব্যক্তির দাফন অনুষ্ঠানের সময় চিন্তা করো যে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তোমাকে পূণরায় দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। এখন দেখ কিভাবে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারো।.»&#039;&#039;&#039;&amp;lt;ref&amp;gt;হোসেইনী তেহরানি, মাআদ শেনাসি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;| منبع = | تراز = چپ| عرض = ۲۳۰px| اندازه خط = 14px|رنگ پس‌زمینه =#FFF9E7| گیومه نقل‌قول =| تراز منبع = چپ}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[ইমাম মুহাম্মাদ বাকের (আ.)]]&lt;br /&gt;
::ওলিমার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার চেয়ে মৃত ব্যক্তির দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন। কেননা, মৃত ব্যক্তির দাফন অনুষ্ঠান মানুষকে মৃত্যু ও আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।&amp;lt;ref&amp;gt;আল্লামা মাজলিসি, বিহারুল আনোয়ার, ১৪০৩ হিজরি, খণ্ড ৭৮, পৃষ্ঠা ২৮৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
মহানবি (স.) মৃত ব্যক্তির জানাযা অনুষ্ঠান সম্পর্কে [[আবুযার গাফ্ফারিকে]] বিভিন্ন উপদেশ দিয়েছেন এবং তাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে যখনই কোন জানাযার পিছন পিছন হাটবে তখন তোমার চিন্তাশক্তি যেন একাগ্রতার সহিত ঐ দিকে মশগুল থাকে এবং জেনে রেখ তুমিও তার সাথে সম্পর্কযুক্ত হবে।&amp;lt;ref&amp;gt;তাবরাসি, মাকারিমুল আখলাক, ১৪১২ হিজরি, পৃষ্ঠা ৪৬৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[ইমাম আলী (আ.)]]&lt;br /&gt;
[[হযরত ইমাম আলী (আ.)]] জনৈক মৃত ব্যক্তির জানাযা অনুষ্ঠানে এক ব্যক্তির হাসির শব্দ শুনতে পেলেন এবং বললেন:&lt;br /&gt;
::“মনে করেছ এই দুনিয়ায় শুধুমাত্র অন্যদের জন্য মৃত্যু নির্ধারণ করা হয়েছে”।&amp;lt;ref name=&amp;quot;:1&amp;quot;/&amp;gt; অতঃপর সতর্ক করলেন, যে সব মৃত ব্যক্তিদেরকে দাফন করা হয় তারা আর এই দুনিয়ায় প্রত্যাবর্তন করবে না এবং আমরাও এই পৃথিবীতে চিরকাল থাকব না।&amp;lt;ref name=&amp;quot;:1&amp;quot;&amp;gt;সুবহি সালেহ, নাহজুল বালাগা, হিকমত ১২২, পৃষ্ঠা ৪৯০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== দাফনকারী ও দাফন কৃত ব্যক্তির গুনাহসমূহ মাফ হওয়া ==&lt;br /&gt;
মৃত ব্যক্তির দাফন অনুষ্ঠানের অন্যতম একটি ফায়দা হিসেবে সওয়াবের কথা বলা হয় যা উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের নসীবে হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;আল-আনওয়ার আন-নুমানিয়া, পৃষ্ঠা ২২০।&amp;lt;/ref&amp;gt; এছাড়াও হযরত [[ইমাম বাকের (আ.)]] হতে বর্ণিত রেওয়ায়েত অনুসারে, মৃত ব্যক্তির জানাযায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের ৪টি শাফাআত নসীব হয়&amp;lt;ref&amp;gt;কুমি, শেখ আব্বাস, সফিনাতুল বিহার ওয়া মাদিনাতুল হিকম, নাশরে আসওয়াহ, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫৬৫।&amp;lt;/ref&amp;gt; এবং [[ফেরেস্তারা]] মৃত ব্যক্তির দাফন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদেরকে [[বেহেশতের]] প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;কুলাইনি, আল-কাফি, ১৪০৭ হিজরি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৭২।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অপর একটি রেওয়ায়েতে বর্ণিত হয়েছে, যে বক্তি কোন মু’মিনের লাশ দাফন হওয়া পর্যন্ত সাথে থাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন [[কিয়ামত]] দিবসে তার জন্য ৭০ জন ফেরেস্তাকে নিযুক্ত করবেন যারা ঐ ব্যক্তির সাথে থাকবে এবং তার জন্য [[ইস্তিগফার]] করবে।&amp;lt;ref name=&amp;quot;:0&amp;quot;&amp;gt;মুহাম্মদ বাকির মাজলিসি, যাদুল মাআদ, পৃষ্ঠা ৫৪ ও ৫৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইমাম জাফার সাদিক (আ.) স্বজন হারানো ব্যক্তিদেরকে উপদেশ দিয়েছেন অন্যদেরকে মৃত্য ব্যক্তির মৃত্যুর খবর সম্পর্কে অবহিত করতে যাতে করে মৃত ব্যক্তির দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে সক্ষম হয়, তার উপর [[নামায]] পড়তে পারে এবং এরূপভাবে তাদের জন্য নেকী হাসিল হয় এবং মৃত ব্যক্তির গুনাহ মাফ হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;তাবরাসি, মাকারিমুল আখলাক, ১৪১২ হিজরি, পৃষ্ঠা ৩৬০।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইমাম বাকের (আ.) একটি রেওয়ায়েতে উল্লেখ করেছেন গুনাহ মাফ হচ্ছে তাদের উপহার যারা তাকে দাফন করেছে।&amp;lt;ref name=&amp;quot;:0&amp;quot; /&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
মৃত ব্যক্তির দাফন অনুষ্ঠানের মূল হিসেবে মানুষত্বের মূল্যায়নকে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রসমূহের উল্লেখ অনুসারে, একদা মহানবি (স.) ও তাঁর সাহাবাগণ বসে ছিলেন, এমতাবস্থায় একজন মৃত ব্যক্তির লাশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। মহানবি (স.) ও তাঁর সঙ্গী-সাথীরা উঠে দাঁড়িয়ে থাকলেন, যতক্ষণ না ঐ লাশ সেই স্থান থেকে নিয়ে যাওয়া হলো। মহানবি (স.) কে বলা হলো ঐ ব্যক্তি ছিল একজন ইহুদি এবং ঐ লাশের প্রতি মহানবি (স.) এর সম্মান প্রদর্শনের কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। মহানবি (স.) উত্তরে বললেন, সে কী মানুষ ছিল না?!&amp;lt;ref&amp;gt;বিহারুল আনোয়ার, খণ্ড ১৮, পৃষ্ঠা ২৫৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
  | main branch = کلام&lt;br /&gt;
| subbranch1 = معاد&lt;br /&gt;
|subbranch2 =احکام جنازه&lt;br /&gt;
|subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه =شد&lt;br /&gt;
 | تیترها =شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | بازبینی =شد&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت =ب&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[es:La virtud de acompañar el funeral]]&lt;br /&gt;
[[ps:د جنازې د مراسمو فضیلت]]&lt;br /&gt;
[[fa:فضیلت تشییع جنازه]]&lt;br /&gt;
[[ms:Keutamaan Menghadiri Proses Pemakaman]]&lt;br /&gt;
[[ur:جنازے میں شرکت کی فضیلت]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%87%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%AE_%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A7%80%E2%80%99%E0%A6%B0_(%E0%A6%86.)_%E0%A6%98%E0%A6%B0%E0%A7%87_%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B0_%E0%A6%B0%E0%A6%B9%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AF&amp;diff=987</id>
		<title>ইমাম আলী’র (আ.) ঘরে অবস্থান করার রহস্য</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%87%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%AE_%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A7%80%E2%80%99%E0%A6%B0_(%E0%A6%86.)_%E0%A6%98%E0%A6%B0%E0%A7%87_%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B0_%E0%A6%B0%E0%A6%B9%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AF&amp;diff=987"/>
		<updated>2025-02-24T13:35:33Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* রিসোর্স */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
মহানবি (স.) এর ইন্তেকালের প্রথম বছরগুলোতে ইমাম আলী (আ.) কেন গৃহে অবস্থান থাকতেন? তাঁর নীরবতা কী ইসলামের জন্য কল্যাণকর  ছিল, নাকি তাঁর সংগ্রাম?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
[[মহানবি (স.]]) এর ইন্তেকালের পর, ইমাম আলী (আ.) এর ঘরে অবস্থানের বিষয়টিকে ইসলামের সুরক্ষা, মুসলিম সমাজের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষার স্বার্থে বলে মনে করা হয়। মহানবি (স.) এর ইন্তেকালের পর মুসলমান সমাজের অবস্থা অত্যন্ত নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল এবং কিছু কিছু জাহেলি ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত হয়েছিল। [[আবু সুফিয়ান]] ও [[আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের]] ন্যায় ব্যক্তিরা ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব (আ.)-কে খলিফার সাথে যুদ্ধে প্ররোচিত করার লক্ষ্যে বাইয়াত তথা আনুগত্যের শপথের প্রস্তাবনা উপস্থাপণ করেছিলেন। অভ্যুত্থানের জন্য পর্যাপ্ত সাহায্যকারীর অভাব ও বিভক্তি এড়ানোর  লক্ষ্যে ইমাম আলী (আ.) গৃহে অবস্থান করার বিষয়টিকে যথাযথ বিবেচনা করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== মুসলমানদের ঐক্যের আবশ্যকতা ==&lt;br /&gt;
অধিকাংশ ঐতিহাসিকের অভিমত হচ্ছে যে, মহানবি (স.) যখন ইন্তেকাল করেছেন তখন [[ইসলাম]] নামক আন্দোলনটি ছিল একটি সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুর ন্যায়। আর তখন পর্যন্ত ইসলাম নিয়ে চিন্তা করা মানুষের অধিকাংশই এটিকে হৃদয় থেকে গ্রহণ করেন নি। সুতরাং ঐক্য  ও অখণ্ডতা আবশ্যক ছিল।&amp;lt;ref&amp;gt;সুবহানি, জাফর, আল-মাযহাব আল-ইসলামিয়া, পৃষ্ঠা ১৯৪, মুআসসাসাত ইমাম সাদিক (আ.), জাভা, ১৪২৩ হিজরি।&amp;lt;/ref&amp;gt; কিছু কিছু ঐতিহাসিক উল্লেখ করেছেন যে মহানবি (স. ) এর মৃত্যুর পর আরব পুর্বাবস্থায় (জাহেলী) প্রত্যাবর্তন শুরু করে এবং মুনাফিকরা প্রকাশ্যে আসে।&amp;lt;ref&amp;gt;সিরাত ইবনে হিশাম, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩১৬, মাকারিম শিরাজি কর্তৃক উদ্ধৃত, পয়গামে ইমাম, জাভা, প্রথম সংস্করণ, ১৩৭৫ হিজরি, প্রকাশক দার আল-কুতুব আল-ইসলামিয়া।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== মুনাফিকদের সংঘাত সৃষ্টির অপচেষ্টা ==&lt;br /&gt;
মুসলমানদের ঐক্য বিনষ্ট করার সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা ছিল ইমাম আলী (আ.)-কে হুকুমতের নেতৃত্বস্থানীয় পর্যায়ের ব্যক্তিদের সাথে সংঘাতে লিপ্ত করা, আর এ জন্যই [[আবু সুফিয়ান]], আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের সম্মতি লাভে সক্ষম হয়ে [[বনি হাশিমের]] একটি দল নিয়ে ইমাম আলী (আ.) এর নিকট আসেন এবং তাঁকে বাইয়াত তথা আনুগত্যের প্রস্তাব দেন। আবু সুফিয়ান, আলী (আ.) অনুভূতিকে উস্কে দেওয়ার লক্ষ্যে বলেন: হে আবুল হাসান, এই প্রস্তাবনা গ্রহণের ক্ষেত্রে গাফিলতি করো না, আমরা কবে থেকে নীচু বংশ তাইমের (আবু বকরের বংশ) অনুসারী ছিলাম?&amp;lt;ref&amp;gt;ইকতিবাস থেকে: রে শহরি, মুহাম্মদ, রাহবারি দার ইসলাম, পৃষ্ঠা ২৩৪, দার আল-হাদিস, প্রথম সংস্করণ, ১৩৭৯ হিজরি।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইমাম আলী (আ.) উত্তরে তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, “তোমরা ভাল করেই জানো যে, খিলাফতের বিষয়ে আমি অন্য যে কারও চেয়ে অধিকতর যোগ্য, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কসম যতক্ষণ পর্যন্ত মুসলমানদের বিরূপ পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র আমার উপর অত্যাচার হবে নীরবতা রক্ষা করে চলবো।”&amp;lt;ref&amp;gt;নাহজুল বালাগা, খুতবা ৭৪।&amp;lt;/ref&amp;gt; অবশ্য ইমাম যদি পরিস্থিতিকে কিয়ামের (অভ্যুত্থান) জন্য প্রস্তুতকৃত দেখলে বিদ্রোহ কিয়াম করতেন এবং কিয়ামের প্রস্তাবনার কোন প্রয়োজন ছিল না।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কিয়াম বা অভ্যুত্থান না করার অপর একটি কারণ হচ্ছে সমর্থক ও সাহায্যকারী লোকের অভাব। কিয়াম বা অভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণের সমর্থন থাকতে হয় এবং উপযুক্ত সময় আসতে হয়। ইমাম আলী (আ.) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, আমি লক্ষ্য করেছি এবং দেখেছি যে আমার পরিবার ব্যতীত আমার কোন সাহায্যকারী নেই। তাদের মৃত্যুর বিষয়ে আমি রাজি হই নি।&amp;lt;ref&amp;gt;নাহজুল বালাগা, খুতবা ২৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== গৃহে অবস্থানকালীন সময়ে ইমামত ==&lt;br /&gt;
তিন খলিফার ২৫ বছরের শাসনামলে মুসলিম সমাজের হেদায়েতের জন্য ইমাম নিজেকে সর্বাত্মকভাবে নিয়োজিত করেন। বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ জাফর শাহীদীর ভাষ্য অনুযায়ী যেখানেই মানুষের জন্য ইমামের দিকনির্দেশনার প্রয়োজন দেখা দিত তিনি প্রথপ্রদর্শন করতেন, সমস্যা দেখা দিলে তিনি তার সমাধান করতেন। ভুল হুকুম জারি হলে সঠিকটাকে তিনি তাদেরকে দেখিয়ে দিতেন এবং তাঁর পূর্বে যারা ফিলাফতের মসনদকে নিজেদের জন্য বরাদ্দ করেছিলেন তাদেরকে নির্দেশনা প্রদান করতে কোন রকম কার্পণ্য করতেন না।&amp;lt;ref&amp;gt;শহীদি, জাফর, আলী আজ ভাষায়ে আলী, পৃষ্ঠা ৪২, দফতরে নাশরে ফারহাঙ্গে ইসলামি, ষষ্ঠ সংস্করণ, ১৩৭৬ হিজরি।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== রিসোর্স ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
| main branch = تاریخ&lt;br /&gt;
| subbranch1 = تاریخ و سیره معصومان&lt;br /&gt;
| subbranch2 = امام علی(ع)&lt;br /&gt;
| subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه = شد&lt;br /&gt;
 | تیترها = شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش = شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی = شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر = شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | بازبینی نویسنده =&lt;br /&gt;
 | بازبینی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت = ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت = ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[ps:د امام علی(ع) په کور کې د کښیناستو سببونه]]&lt;br /&gt;
[[en:The 25 Years of Withdrawal of Imam Ali (peace be upon him)]]&lt;br /&gt;
[[es:El motivo por el que el Imam Ali (P) se queda en casa]]&lt;br /&gt;
[[ur:امام علیؑ کی ۲۵ ساله خاموشی]]&lt;br /&gt;
[[fa:علت خانه‌نشینی امام علی(ع)]]&lt;br /&gt;
[[ms:Sebab Imam Ali as Berdiam Diri di Rumah]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC_%E0%A6%86%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A6%BE_%E0%A6%93_%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8&amp;diff=986</id>
		<title>শিয়াদের নিজস্ব আকিদা ও বিশ্বাস</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC_%E0%A6%86%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A6%BE_%E0%A6%93_%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8&amp;diff=986"/>
		<updated>2025-02-24T11:29:58Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
শিয়া ইমামিয়া মাযহাবের নিজস্ব আকিদা ও বিশ্বাসগুলি কী কী?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
শিয়াদের নিজস্ব বিশ্বাসের মধ্যে রয়েছে [[বেলায়াত,]] বাদা, [[রাজআত]] এবং ইমামতের ধারাবাহিকতা। অন্যান্য বিশ্বাস যেমন ইমামত, [[শাফাআত]], আল্লাহর ন্যায়বিচার, [[তাওয়াস্সুল]] এবং মাহদাভিয়াত ইসলামের সাধারণ বিশ্বাস, তবে এগুলির অর্থ ও ব্যাখ্যায় মতভেদ রয়েছে অথবা এর বাস্তব প্রয়োগ ও উদাহরণ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== বেলায়াত ==&lt;br /&gt;
শহীদ মুতাহহারী বলেন, &lt;br /&gt;
::&amp;quot;ইমামত [শিয়াদের কাছে সামাজিক নেতৃত্ব ও ধর্মীয় প্রাধিকার ছাড়াও] একটি তৃতীয় মর্যাদার অধিকারী; যা ইমামতের সর্বোচ্চ ধারণা এবং শিয়া গ্রন্থগুলি এই বিষয়ে পরিপূর্ণ। এটি হল বেলায়াত অর্থে ইমামত [অর্থাৎ] প্রতিটি যুগে একজন [[পরিপূর্ণ মানুষ]] (ইমাম) থাকেন, যিনি সমগ্র মানবতার আধ্যাত্মিকতার বাহক... এই অর্থে তিনি একটি সামগ্রিক আত্মা এবং সকল আত্মার (ও জগতের বিষয়াদির) উপর কর্তৃত্বশীল।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
শিয়াদের কাছে বেলায়াত “যুগের হুজ্জাত (প্রমাণ)” অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং শিয়াদের শিক্ষা অনুযায়ী পৃথিবী কখনও হুজ্জাত-শূন্য থাকে না: &amp;quot;হুজ্জাত না থাকলে পৃথিবী তার অধিবাসীদের গিলে ফেলবে&amp;quot; অর্থাৎ কখনও এমন সময় আসেনি এবং আসবে না যখন পৃথিবী একজন পরিপূর্ণ মানুষ (ও আল্লাহর খলিফা) থেকে খালি থাকবে; এবং সেই পরিপূর্ণ মানুষের অনেক মর্যাদা ও মাকাম থাকবে এবং আমরা বেশিরভাগ জিয়ারতনামায় যা পড়ি তাতে এই ধরনের বেলায়াত ও ইমামতের স্বীকৃতি দিই, অর্থাৎ আমরা বিশ্বাস করি যে, ইমাম এমনই সামগ্রিক আত্মার অধিকারী হয়ে থাকেন।&amp;quot;.&amp;lt;ref&amp;gt;ইমামত ও নেতৃত্ব – আল্লামা শাহীদ মোতাহারি, পৃষ্ঠা ৫৬, ইনতেশারাতে সদরা।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== বাদা ==&lt;br /&gt;
পবিত্র কুরআন কারীমের এই আয়াতে বাদার উল্লেখ করা হয়েছে: {{quran|یَمْحُو اللَّهُ مَا یَشَاءُ وَیُثْبِتُ ۖ وَعِنْدَهُ أُمُّ الْکِتَابِ|translation=আল্লাহ যা চান (যা পূর্বে লিপিবদ্ধ হয়নি) তা তিনি লিপিবদ্ধ করেন এবং উম্মুল কিতাব (সব কিতাব ও লেখার মূল এবং মাতা) একমাত্র তার কাছেই রয়েছে।|sura=রাদ ১৩|verse=৩৯}} &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বাদা মূলত &amp;quot;কারও কাছ থেকে কিছু প্রকাশ পাওয়া&amp;quot; অর্থে ব্যবহৃত হয়, এবং পারিভাষিক অর্থে [[বাদা]] হল আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে এমন কিছু প্রকাশ পাওয়া যা মানুষের কাছে অজানা ছিল এবং তারা এর বিপরীত ধারণা করত(&#039;&#039;اظهار بعد الخفاء&#039;&#039;)।&amp;lt;ref&amp;gt;আওয়ায়েল আল-মাকালাত – শেখ মুফিদ কুদ্দাস সাররাহু, পৃষ্ঠা ৮০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
শহীদ মুতাহহারী বলেন, &lt;br /&gt;
::বাদা’র অর্থ (শিয়া কালাম শাস্ত্রের পরিভাষায়) হল আল্লাহর [[কাজা ও কাদারের]] ক্ষেত্রে পুনর্বিবেচনা ঘটা। এর উদ্দেশ্য হল মানব ইতিহাসের ঘটনাবলীতে, আল্লাহ মানব ইতিহাসের অগ্রগতি বা পশ্চাদপসরণের জন্য কোন চূড়ান্ত রূপ নির্ধারণ করেননি। অর্থাৎ হে মানুষ, তুমি নিজেই আল্লাহর কাযা ও কাদরের বাস্তবায়নকারী, তুমিই ইতিহাসকে এগিয়ে নিতে পার, পিছিয়ে নিতে পার। স্থির রাখতে পার, প্রকৃতির দিক থেকে, জীবনের উপকরণের দিক থেকে বা আল্লাহর ইচ্ছার দিক থেকে কোন কিছুই ইতিহাসের উপর শাসন করে না।&amp;lt;ref&amp;gt;মানবজাতির সামাজিক বিকাশ – আল্লামা মোতাহারি, পৃষ্ঠা ১৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== রাজআত ==&lt;br /&gt;
রাজআত মানে প্রত্যাবর্তন। শিয়া কালাম শাস্ত্রে রাজাতের অর্থ হল [[কিয়ামতের]] আগে, [[ইমাম মাহদী (আ.)]]-এর শাসনামলের পরবর্তী সময়ে রাজাতের যুগ আসবে। তখন বিভিন্ন যুগের সৎ ও অসৎ লোকেরা পৃথিবীতে ফিরে আসবে। সৎ লোকেরা আহলে বাইতের মহান শাসন দেখার জন্য,[[ ন্যায়বিচারের]] শাসন প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য এবং আল্লাহ যে পুরস্কার নির্ধারণ করেছেন তা দুনিয়াতে লাভ করার জন্য ফিরে আসবে। আর অসৎকর্মী ও হঠকারী কাফেররা দুনিয়াতে শাস্তি ও আজাব ভোগ করার জন্য ফিরে আসবে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[ইমাম সাদিক (আ.)]] বলেন, {{arabic|إنّ الرجعة لیست بعامة و هی خاصة لا یرجع الا من محض الایمان محضا او محض الشرک محضا|translation=রাজআত সার্বজনীন নয়, বরং তা নির্দিষ্ট। শুধু খাঁটি মুমিন বা খাঁটি মুশরিকরাই ফিরে আসবে।&amp;quot; কিছু হাদীস অনুযায়ী, ইমামদের (আ.) মধ্যে সর্বপ্রথম যিনি রাজআত করবেন তিনি হলেন [[ইমাম হুসাইন (আ.)]]}}।&amp;lt;ref&amp;gt;মিজান আল-হিকমা – রেই শাহরি, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৯৮২।&amp;lt;/ref&amp;gt; [[ইমাম রেজা (আ.)]] থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেছেন, {{arabic||translation=... (রাজআত) সত্য, এটি পূর্ববর্তী উম্মতদের মধ্যেও ছিল এবং কুরআন এ বিষয়ে আলোচনা করেছে।}}&amp;lt;ref&amp;gt;উদাহরণস্বরূপ: বাকারা: ২৪৩; নামল: ৮৩; গাফির: ১১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[রাসূলুল্লাহ (সা.)]] বলেছেন যে, পূর্ববর্তী উম্মতদের মধ্যে যা ঘটেছে তা হুবহু এই উম্মতের মধ্যেও ঘটবে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ইমামতের ধারাবাহিকতা ==&lt;br /&gt;
শিয়াদের দৃষ্টিতে, ইমামত একটি ঐশী ব্যবস্থা যা অবিচ্ছিন্ন এবং এতে কোন বিরতি নেই। এটি প্রতিটি সময়ে ও যুগে বিদ্যমান। নবী করীম (সা.)-এর যুগ থেকে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত বিদ্যমান আছে এবং যতদিন দুনিয়া থাকবে ততদিন বিদ্যমান থাকবে। যেমন আমীরুল মুমিনীন (আ.) বলেছেন, {{arabic|لا تخلو الارض من قائم لله بحجّة، امّا ظاهراً مشهورا، و امّا خائفا مغمورا، لئلا تبطل حجج الله و بیّناته|translation=পৃথিবী কখনও আল্লাহর হুজ্জাত কায়েম (ইমাম) থেকে শূন্য থাকবে না, (এবং এই হুজ্জাত) হয় প্রকাশ্য ও পরিচিত অবস্থায়, নয়তো ভীত ও গোপন অবস্থায়, যাতে আল্লাহর হুজ্জাত ও নিদর্শনসমূহ শেষ না হয়।}} সুতরাং ইমাম হয় প্রকাশ্য ও পরিচিত এবং মানুষের মাঝে দৃশ্যমান, যেমন পবিত্র ইমামদের উপস্থিতির যুগে ছিল, অথবা ভীত ও গোপন, যেমন [[গায়বাতের যুগে]] রয়েছে। ইমামে যামানা (আ.) যদিও গায়েব, তবে তিনি বিশ্বের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পরিচালনা করছেন।&lt;br /&gt;
{{answer end}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch = ادیان و مذاهب&lt;br /&gt;
 | subbranch1 = شیعه امامیه&lt;br /&gt;
 | subbranch2 = عقاید شیعه&lt;br /&gt;
 | subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه = شد&lt;br /&gt;
 | تیترها = شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش = شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =شد&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | بازبینی نویسنده =&lt;br /&gt;
 | بازبینی =شد&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت = الف&lt;br /&gt;
 | کیفیت = ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[رده:اختلافات شیعه و سنی]]&lt;br /&gt;
[[fa:عقاید خاص شیعه]]&lt;br /&gt;
[[ps:د شیعیانو ځانګړي عقاید]]&lt;br /&gt;
[[ur:شیعوں کی مخصوص عقائد]]&lt;br /&gt;
[[ar:عقائد الشیعة الخاصة]]&lt;br /&gt;
[[en:Distinctive Shia Beliefs]]&lt;br /&gt;
[[fr:Croyances spécifiques des chiites]]&lt;br /&gt;
[[ms:Akidah Khusus Syiah Imamiyah]]&lt;br /&gt;
[[ru:Особые верования шиитов]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95_%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B0_%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF_%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4_%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B9&amp;diff=985</id>
		<title>পারিবারিক শান্তির জন্য কুরআন প্রস্তাবিত উপায়সমূহ</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95_%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B0_%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF_%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4_%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B9&amp;diff=985"/>
		<updated>2025-02-24T10:56:34Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
পারিবারিক শান্তি ও সুখ অর্জনের জন্য কুরআন প্রস্তাবিত উপায়সমূহ কি কি?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
কুরআন, পারিবারিক শান্তি অর্জনের জন্য মাওয়াদ্দাত ও রহমতসহ বিভিন্ন উপায়ের পরামর্শ দিয়েছে, যার অর্থ হচ্ছে পারস্পরিক ভালবাসা এবং একে অন্যের প্রতি অনুগ্রহ করা। এছাড়াও একে অন্যের পাশে থেকে পরিপূর্ণতার দিকে এগিয়ে যাওযা, অর্থনৈতিক সচ্ছলতা এবং আল্লাহকে স্মরণ করার মাধ্যমে মানসিক শান্তি লাভ হচ্ছে কুরআনের অন্যান্য পরামর্শ।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[বিবাহ]] ও পরিবার গঠনের মূল লক্ষ্য হিসেবে কুরআনে শান্তি অর্জনকে বিবেচনা করে: (তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতেই তোমাদের সঙ্গিণী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তার কাছে শান্তি লাভ করতে পার, আর তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।) (সূরা রূম: আয়াত ২১) বিবাহের মাধ্যমে আত্মিক ও জীবনযাত্রায় শান্তি থাকা আবশ্যক।&amp;lt;ref&amp;gt;কারাআতি, মোহসেন, তাফসিরে নুর, কুম, মুআসসাসাতে দার রাহে হক, প্রথম সংস্করণ, ১৩৭৫ হিজরি শামসি, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৫৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
{{see also|কোরআনের দৃষ্টিতে বিবাহ}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আল্লাহর স্মরণে মানসিক শান্তি ==&lt;br /&gt;
আল্লাহর স্মরণে মানসিক শান্তি&lt;br /&gt;
[[পরিবার]] এবং সমাজ আল্লাহকে স্মরণের মাধ্যমে শান্তি অর্জন করতে পারে: {{quran|أَلا بِذِکْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ|translation=জেনে রাখো, শুধুমাত্র আল্লাহকে স্মরণ করার মাধ্যমেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে|sura= আয়াত |verse=২৮}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== মহব্বত এবং সহানুভূতি ==&lt;br /&gt;
{{see also|সূরা রূমের ২১ নং আয়াতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালবাসা ও অনুগ্রহ}}&lt;br /&gt;
কুরআনের সংস্কৃতিতে নারীর ভূমিকা হচ্ছে মানুষের চেহারায় ঐশ্বরিক সৌন্দর্যর বহিঃপ্রকাশ।&amp;lt;ref&amp;gt;জাওয়াদি আমুলি, আবদুল্লাহ, জান দার আয়িনায়ে জালাল ও জামাল, তেহরান, নাশরে ফারহাঙ্গি রাজা, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৩৭১ হিজরি শামসি, পৃষ্ঠা ৩৭।&amp;lt;/ref&amp;gt; কুরআন, নারী ও পুরুষের শান্তি এবং সুখকে মাওয়াদ্দাতের আকারে প্রেম ও রহমত হিসেবে অনুগ্রহ অর্থে বর্ণনা করছে:&lt;br /&gt;
{{quran||translation=তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতেই তোমাদের সঙ্গিণী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তার কাছে শান্তি লাভ করতে পার, আর তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।|sura=আয়াত|verse=২১}} তাফসীরে নেমুনেহ’তে &amp;quot;মাওয়াদ্দাত&amp;quot; এবং &amp;quot;রহমতকে&amp;quot; মানব সমাজের মধ্যে সংযোগের বিন্দু হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;মাকারেম শিরাজি, নাসের, তাফসিরে নমুনে, তেহরান, দারুল কুতুব আল-ইসলামিয়া, ১৩৭৪ হিজরি শামসি, খণ্ড ১৬, পৃষ্ঠা ৩৯২।&amp;lt;/ref&amp;gt; এই আয়াতে মাওয়াদ্দাতের অর্থ হচ্ছে এই যে, পরস্পরের প্রতি যেন ভালবাসা থাকে এবং রহমতের অর্থ হচ্ছে এই যে, উভয় পক্ষই যেন একে অপরের প্রতি অনুগ্রহশীল হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;হোসেইনি শিরাজি, সাইয়িদ মুহাম্মদ, তাবইনুল কুরআন, বৈরুত, দারুল উলুম, ১৪২৩ হিজরি, পৃষ্ঠা ৪১৮।&amp;lt;/ref&amp;gt; ঐশ্বরিক মাওয়াদ্দাত এবং রহমত নারী ও পুরুষের সহজাত ঝোঁক (যা পশুদের মধ্যেও বিদ্যমান রয়েছে) ছাড়াও অন্য কিছু।&amp;lt;ref&amp;gt;জাওয়াদি আমুলি, আবদুল্লাহ, জান দার আয়িনায়ে জালাল ও জামাল, তেহরান, নাশরে ফারহাঙ্গি রাজা, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৩৭১ হিজরি শামসি, পৃষ্ঠা ৪০। আফরুজ, গোলাম আলী, হামসরানে বরতর, তেহরান, আনজুমানে অলিয়া ও মুরাব্বিয়ান, প্রথম সংস্করণ, ১৩৭৭ হিজরি শামসি, পৃষ্ঠা ৩২।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== একসাথে পরিপূর্ণতার দিকে এগিয়ে যাওয়া ==&lt;br /&gt;
কুরআন, স্বামী ও স্ত্রী’র একসাথে পরিপূর্ণতা লাভের দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে পারিবারিক শান্তি হিসেবে বিবেচনা করে: {{quran| هُنَّ لِباسٌ لَکُمْ وَ أَنْتُمْ لِباسٌ لَهُنَّ |translation=তারা তোমাদের জন্য পোশাকস্বরূপ এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাকস্বরূপ।|sura=আয়াত|verse=১৮৭}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
পরস্পরের দোষ ত্রুটিগুলোকে ঢেকে রাখা, একে অপরের গোপনীয়তা রক্ষা করা, পরস্পরকে বিপদ আপদ থেকে সুরক্ষিত রাখা, মানসিক শান্তি যোগানো, জীবনে বৈচিত্র্য দান এবং পোশাকের ন্যায় জীবনের বিভিন্ন দিক থেকে একে অপরের জন্য মানানসই হওয়া, পারিবারিক সুখ ও শান্তির ক্ষেত্র প্রস্তুত করে।&amp;lt;ref&amp;gt;আফরুজ, গোলাম আলী, হামসরানে বরতর, তেহরান, আনজুমানে অলিয়া ও মুরাব্বিয়ান, প্রথম সংস্করণ, ১৩৭৭ হিজরি শামসি, পৃষ্ঠা ৪৬, ৬০, ১৭৯।&lt;br /&gt;
&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ==&lt;br /&gt;
পারিবারের ভিত্তি মজবুত ও সুসংহত করার ক্ষেত্রে [[অর্থনীতি]] অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। কুরআন, সুস্থ ও নিরাপদ অর্থনীতিকে পরিবারিক কাঠামোতে অন্তর্ভূক্ত করেছে। বিবাহের দেনমোহর এবং তা প্রদানের উপর গুরুত্বারোপ&amp;lt;ref&amp;gt;সুরা আন-নিসা, আয়াত ৪, ১৯, ২১।&amp;lt;/ref&amp;gt;, জীবনের ভরণপোষণ যোগানো&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৩৩; সূরা আন-নিসা, আয়াত ৩৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;, বিবাহগুলোতে ইয়াতিমদের সম্পত্তির দিকটি বিবেচনায় রাখা&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা আন-নিসা, আয়াত ২-৩।&amp;lt;/ref&amp;gt;, উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের বৈধ অংশের প্রতি লক্ষ্য রাখা&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা আন-নিসা, আয়াত ৩৩, ১৭৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;, নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রতি লক্ষ্য&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা আন-নিসা, আয়াত ৩২।&amp;lt;/ref&amp;gt;, ইয়াতিমদের উত্তরাধিকার হস্তান্তরের পূর্বে তাদের অর্থনৈতিক পরিপক্কতার মূল্যায়ন&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা আন-নিসা, আয়াত ৬।&amp;lt;/ref&amp;gt; অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমানত হিসেবে ইয়াতিমদের সম্পত্তির প্রতি লক্ষ্য রাখা&amp;lt;ref&amp;gt;সূরা আন-নিসা, আয়াত ৯-১০।&amp;lt;/ref&amp;gt; প্রভৃতি বিষয়গুলো কুরআনের অর্থনৈতিক আলোচনাসমূহের মধ্যে রয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch = علوم و معارف قرآن&lt;br /&gt;
 | subbranch1 = مسایل اجتماعی در قرآن&lt;br /&gt;
 | subbranch2 =&lt;br /&gt;
 | subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه = شد&lt;br /&gt;
 | تیترها = شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی = شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | بازبینی =شد&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت = ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت = ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:راهکارهای قرآن برای آرامش خانواده]]&lt;br /&gt;
[[es:Soluciones del Corán para la tranquilidad familiar]]&lt;br /&gt;
[[ur:خاندان کی سکون کی لیی قرآن کی حل]]&lt;br /&gt;
[[ru:Коранические способы достижения семейного спокойствия]]&lt;br /&gt;
[[ps:راهکارهای قرآن برای آرامش خانواده]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%A6%E0%A7%8B%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE_%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%81%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE_%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%A8_%E0%A6%B2%E0%A6%BF_%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BF%E0%A6%95&amp;diff=984</id>
		<title>দোয়া আল্লাহুম্মা কুন লি ওয়ালিয়্যিক</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%A6%E0%A7%8B%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE_%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%81%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE_%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%A8_%E0%A6%B2%E0%A6%BF_%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BF%E0%A6%95&amp;diff=984"/>
		<updated>2025-02-23T16:12:44Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* রিসোর্স */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{question}}&lt;br /&gt;
আল্লাহুম্মা কুন লি ওয়ালিয়্যিক&amp;quot; দোয়ার সনদ কি সহীহ? এই দোয়াটি কোন মাসুম ইমাম (আ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
{{infobox hadith&lt;br /&gt;
 | عنوان =&lt;br /&gt;
 | تصویر =دعای اللهم کل لولیک.jpg&lt;br /&gt;
 | توضیح تصویر = &amp;lt;small&amp;gt;قطعه خوشنویسی از دعای اللهم کل لولیک، اثر فتحعلی واشقانی فراهانی.&amp;lt;/small&amp;gt;&lt;br /&gt;
 | اندازه تصویر =&lt;br /&gt;
 | نام‌های دیگر =&lt;br /&gt;
 | موضوع  = دعای برای [[امام مهدی(ع)]]&lt;br /&gt;
 | به نقل از  =&lt;br /&gt;
 | روایات مشابه =&lt;br /&gt;
 | راوی اصلی = محمد بن عیسی بن عبید بن یقطین&lt;br /&gt;
 | دیگر راویان =&lt;br /&gt;
 | اعتبار سند =&lt;br /&gt;
 | منابع شیعه = [[الکافی (کتاب)|کافی]]، [[تهذیب الاحکام (کتاب)|تهذیب الاحکام]]&lt;br /&gt;
 | منابع سنی =&lt;br /&gt;
 | توضیحات =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{portal|مهدویت}}&lt;br /&gt;
&#039;&#039;&#039;আল্লাহুম্মা কুন লি ওয়ালিয়্যিক&#039;&#039;&#039; দোয়া, যা দোয়া ফারাজ ও ইমামে যামানা (আ.)-এর নিরাপত্তার দোয়া হিসেবে পরিচিত, শিয়া মাযহাবের নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থসমূহ যেমন [[আল-কাফি]] এবং [[তাহযীবুল আহকামে]] বর্ণিত হয়েছে। এই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয় যে, তিনি যেন [[ইমাম মাহদী (আ.)-]]এর অভিভাবক, রক্ষক, সাহায্যকারী এবং পথপ্রদর্শক হন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এই উৎসগুলোতে হাদিসটি মাসুম ইমামগণ (আ.) হতে বর্ণিত হয়েছে, তবে কোন ইমাম (আ.) থেকে এই দোয়াটি এসেছে তা স্পষ্ট নয়। এই দোয়ার সনদের একজন বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে [[রিজাল শাস্ত্রবিদদের]] মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ তাকে [[বিশ্বস্ত (সিকাহ)]] ও নির্ভরযোগ্য বলে গণ্য করেছেন, আবার কেউ কেউ তাকে [[দুর্বল (যইফ)]] ও অনির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করেছেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== দোয়ার পাঠ ও অনুবাদ ==&lt;br /&gt;
{{Doa|اَللّٰهُمَّ کُنْ لِوَلِیِّکَ الْحُجَّةِ بْنِ الْحَسَنِ [পাদটীকা ১]فِیْ هٰذِهِ السَّاعَةِ وَ فِیْ کُلِّ سَاعَةٍ وَلِیًّا وَّ حَافِظًا وَّ قَائِدًا وَّ نَاصِرًا وَّ دَلِیْلًا وَّ عَیْنًا حَتّٰی تُسْکِنَهٗ اَرْضَکَ طَوْعًا وَّ تُمَتِّعَهٗ فِیْهَا طَوِیْلًا.&amp;lt;ref&amp;gt;আত-তুসি, মুহাম্মদ ইবনে হাসান, আত-তাহযীব আল-আহকাম, তেহরান, দার আল-কুতুব আল-ইসলামিয়া, ১৩৬৫ হিজরি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১০২, হাদিস ৩৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
|translation=হে আল্লাহ! আপনি আপনার ওলী, হুজ্জাত ইবনুল হাসানের জন্য এই মুহূর্তে এবং প্রতিটি মুহূর্তে অভিভাবক, রক্ষক, নেতা, সাহায্যকারী, পথপ্রদর্শক এবং দৃষ্টি হোন, যতক্ষণ না আপনি তাঁকে আপনার পৃথিবীতে স্বেচ্ছায় বসবাস করান এবং তাকে দীর্ঘকাল এর সুখ ভোগ করান।&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== সনদ পর্যালোচনা ==&lt;br /&gt;
{{মূল প্রবন্ধ|আল্লাহুম্মা কুন লি ওয়ালিয়্যিক দোয়ার সনদ}}&lt;br /&gt;
&amp;quot;আল্লাহুম্মা কুন লি ওয়ালিয়্যিক&amp;quot; দোয়াটি, কিছু বাক্যগত পার্থক্য সহ, শিয়া মাযহাবের চারটি প্রধান হাদিস গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত আল-কাফি&amp;lt;ref name=&amp;quot;:0&amp;quot;&amp;gt;আল-কুলাইনি, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব, আল-কাফি, তেহরান, দার আল-কুতুব আল-ইসলামিয়া, ১৩৬৫ হিজরি, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৬২, হাদিস ৪।&amp;lt;/ref&amp;gt; এবং তাহযীবুল আহকাম&amp;lt;ref name=&amp;quot;:1&amp;quot;&amp;gt;আত-তুসি, মুহাম্মদ ইবনে হাসান, আত-তাহযীব আল-আহকাম, তেহরান, দার আল-কুতুব আল-ইসলামিয়া, ১৩৬৫ হিজরি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১০২, হাদিস ৩৭।&amp;lt;/ref&amp;gt; গ্রন্থে [[রমজান মাসের]] ২৩তম রাতের আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যান্য দিনগুলোতেও এই দোয়া পাঠ করার প্রতি সুপারিশ করা হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এই দুটি গ্রন্থে উল্লিখিত দোয়ার সনদের ধারায় মুহাম্মাদ বিন ঈসা বিন উবাইদ বিন ইয়াকতীন নামক একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন। কিছু শিয়া [[রিজাল শাস্ত্রবিদ]] তাকে [[দুর্বল]] বলে থাকেন।&amp;lt;ref&amp;gt;আত-তুসি, মুহাম্মদ ইবনে হাসান, আল-ফিহরিস্ত, তাহকিক শাইখ জাওয়াদ আল-কাইয়ুমি, কুম, মুআসসাসাত আন-নাশর আল-ফিকাহ, ১৪১৭ হিজরি, পৃষ্ঠা ২১৬।&amp;lt;/ref&amp;gt; [[সাইয়্যেদ আবুল কাসিম খুঈ]], যিনি একজন [[মারজা এ তাকলীদ]] এবং শিয়া রিজাল শাস্ত্রবিদ ছিলেন, তিনি তাকে [[বিশ্বস্ত (সিকাহ)]] ও নির্ভরযোগ্য হিসেবে গণ্য করেছেন এবং যারা তাকে দুর্বল বলে মনে করেছেন তাদের মতামতের সমালোচনা করেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;আল-খুই, সাইয়িদ আবুল কাসিম, মুজাম রিজাল আল-হাদিস ওয়া তাফসিল তাবাকাত আর-রুয়াত, কুম, মারকাজ আন-নাশর আথার আশ-শিয়া, খণ্ড ১৭, পৃষ্ঠা ১১৩-১২০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এই সনদের ধারায়, যে ইমাম থেকে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়নি। নামের পরিবর্তে আল-কাফি গ্রন্থে &amp;quot;সালেহীন&amp;quot;&amp;lt;ref name=&amp;quot;:0&amp;quot;/&amp;gt; এবং তাহযীবুল আহকাম গ্রন্থে &amp;quot;সাদেকীন&amp;quot;&amp;lt;ref name=&amp;quot;:1&amp;quot;/&amp;gt; থেকে বর্ণনা করা হয়েছে। হাদিস বিশেষজ্ঞদের মতে, হাদিসে এই শব্দগুলি শুধুমাত্র ইমামদের (আ.) জন্য ব্যবহৃত হয়; তবে কোন ইমাম থেকে দোয়াটি বর্ণিত হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[সাইয়্যেদ ইবনে তাউস]] তার [[ইকবালুল আ&#039;মাল]] গ্রন্থে এই দোয়াটির একাধিক সনদ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি আল-কাফি এবং তাহযীবুল আহকামে উল্লিখিত সনদের ধারাটি তার গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে তাউস, রিযাউদ্দিন আলী ইবনে মুসা, আল-ইকবাল বিল আমাল আস-সালিহা, কুম, ইন্তিশারাত দাফতর তাবলিগাত ইসলামি, ১৩৭৬ হিজরি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৯১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== রিসোর্স ==&lt;br /&gt;
{{footnotes}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch = کلام&lt;br /&gt;
 | subbranch1 = مهدویت&lt;br /&gt;
 | subbranch2 =&lt;br /&gt;
 | subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه =شد&lt;br /&gt;
 | تیترها =شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت =ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:دعای اللهم کن لولیک]]&lt;br /&gt;
[[ur:دعائے اللّٰهُمَّ كُنْ لِوَلِيِّكَ]]&lt;br /&gt;
[[ps:د اللهم کن لولیک دعا]]&lt;br /&gt;
[[ms:Doa Keselamatan Imam Zaman as]]&lt;br /&gt;
[[en:The Dua Allahumma Kun Li-Waliyyik]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A7%80_(%E0%A6%B8%E0%A6%BE.)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%9A%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0&amp;diff=983</id>
		<title>মহানবী (সা.)-এর মহান চরিত্র</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A7%80_(%E0%A6%B8%E0%A6%BE.)-%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%9A%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0&amp;diff=983"/>
		<updated>2025-02-23T15:43:43Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
কলম সূরার ৪ নম্বর আয়াতে নবী (সাঃ)-এর &amp;quot;উচ্চ চরিত্র&amp;quot; বলতে কী বোঝানো হয়েছে?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
আল্লাহ তাআলা [[মহানবীকে (সা.)]] পরিপূর্ণ মানবিক চরিত্রের অধিকারী হওয়ার কারণে &amp;quot;খুলুকে আযীম; মহান চরিত্রের অধিকারী&amp;quot; বলে আখ্যায়িত করেছেন। [[আল্লামা তাবাতাবাঈ]] ‘খুলুকে আযীম’কে চারিত্রিক গুণাবলি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, আর কেউ কেউ এটিকে সুন্দর চরিত্র, সদাচরণ এবং আচরণে কোমলতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। খুলুকে আযীমের অন্যান্য অর্থও বর্ণিত হয়েছে, যেমন দ্বীনের ধারক বা এমন জাতির প্রতি সহনশীলতা যা অন্যরা সহ্য করতে পারে না।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
মহানবী (সা.)-কে ধৈর্য, ক্ষমা, মার্জনা, সত্যের উপর অটলতা এবং বুদ্ধিবৃত্তির নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয়াদি পরিচালনার মতো নৈতিক গুণাবলির অধিকারী হিসেবে পরিচয় করানো হয়েছে। মহানবী (সা.) অসৎ চরিত্র থেকেও দূরে ছিলেন। কিছু গবেষক মহানবী (সা.)-এর এই নৈতিক গুণাবলির প্রকাশকেই &amp;quot;খুলুকে আযীম&amp;quot;-এর দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== আয়াত ==&lt;br /&gt;
{{quran|وَإِنَّکَ لَعَلَیٰ خُلُقٍ عَظِیمٍ&lt;br /&gt;
| Sura=কলম&lt;br /&gt;
| verse=৪&lt;br /&gt;
| translation=আর নিশ্চয়ই তুমি মহান চরিত্রের অধিকারী।&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== মহানবী (সা.)-এর নৈতিক গুণাবলি ==&lt;br /&gt;
খুলুকে আযীমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা হল নৈতিক গুণাবলি, যার মধ্যে রয়েছে সত্যের উপর অটলতা, বদান্যতার ব্যাপ্তি, বিভিন্ন বিষয়াদি পরিচালনা, সহনশীলতা, বিপদাপদে ধৈর্যধারণ, [[বিনয়]] এবং [[ক্ষমা]]।&amp;lt;ref&amp;gt;কুরায়শী, আলী আকবর, আহসান আল-হাদিস, কুম, দফতারে নাশরে নবীদে ইসলাম, ১৩৯১, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ২৭৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
মহানবী (সা.) এজন্য খুলুকে আযীম যে তাঁর মধ্যে সকল উত্তম নৈতিক গুণাবলি একত্রিত হয়েছে। তাফসীরকারগণ &amp;quot;খুলুকে আযীম&amp;quot;-কে সত্যের উপর ধৈর্য, বিশাল দানশীলতা, বুদ্ধিবৃত্তির নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয়াদি পরিচালনা, মুমিনদের সাহায্যে প্রচেষ্টা এবং [[হিংসা]] ও লোভ পরিত্যাগ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। &amp;lt;ref&amp;gt;তাবরসি, ফাজল ইবনে হাসান, তরজুমায়ে মাজমা আল-বায়ান ফি তাফসির আল-কুরআন, তরজুমান: মোহাম্মদ বিস্তুনি, বি-জা, ইনতেশারাতে আসতানে কুদসে রেযাভি, বি-তা, খণ্ড ২৫, পৃষ্ঠা ২১২।&amp;lt;/ref&amp;gt; কেউ কেউ খুলুকে আযীমকে দ্বীন হিসেবে পরিচয় করিয়েছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;মোহাম্মাদি রেই শাহরি, মোহাম্মাদ, মিজান আল-হিকমা, কুম, দার আল-হাদিস, ১৩৭৫, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৭৭; কাশানি, মোল্লা ফতহুল্লাহ, মনহাজ আল-সাদেকিন ফি ইলজাম আল-মুখালেফিন, তেহরান, কেতাবফোরুশি মোহাম্মাদ হাসান এলমি, ১৩৩৬, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৩৬৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[আল্লামা তাবাতাবাঈ]] খুলুকে আযীমকে নৈতিক গুণাবলি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;তাবাতাবাই, মোহাম্মাদ হোসেইন, তরজুমায়ে তাফসির আল-মিজান, তরজুমান: মুসাভি হামাদানি, সৈয়দ মোহাম্মাদ বাকের, কুম, জামেআয়ে মুদাররিসিনে হাউযা ইলমিয়া কুম, দফতারে ইনতেশারাতে ইসলামী, ১৩৮৭, খণ্ড ১৯, পৃষ্ঠা ৬১৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; খুলুকে আযীমের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে এমন জাতির প্রতি সহনশীলতাকে উল্লেখ করা হয়েছে যাদেরকে অন্যরা সহ্য করতে পারে না।&amp;lt;ref&amp;gt;ফাইয কাশানি, মোহসেন, তাফসির আল-সাফি, কুম, মোয়াসসাসা আল-হাদি, ১৪১৬ হিজরি, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ২৫৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; কেউ কেউ খুলুকে আযীমকে সুন্দর চরিত্র, সদাচরণ এবং আচরণে কোমলতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;মনতাজেরি, হোসেইন আলি, ইসলাম দীন ফিতরাত, তেহরান, নাশরে সায়েহ, ১৩৮৫, পৃষ্ঠা ৩৬৬।&amp;lt;/ref&amp;gt; [[রিসালা কুশাইরিয়াতে]] খুলুকে আযীমের অর্থে বলা হয়েছে যে সত্যকে জানার পর সৃষ্টির নির্যাতন তাঁকে প্রভাবিত করতে পারে না।&amp;lt;ref&amp;gt;তরজুমায়ে রেসালে কুশাইরিয়া, কুশাইরি, আব্দুলকারিম ইবনে হাওয়াজান, তরজুমান: ওসমানি, হাসান ইবনে আহমাদ, তাসহিহ: ফারোজানফর, বাদিয়ুজ্জামান, তেহরান, এলমি ফারহাঙ্গি, ১৩৭৪, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৯০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== মহানবী (সা.)-এর সামাজিক চরিত্র ==&lt;br /&gt;
[[শহীদ মুতাহহারী]] মনে করেন মহানবী (সা.)-এর খুলুকে আযীমের অধিকারী হওয়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাঁর সামাজিক চরিত্রের দিকে ইঙ্গিত করে। তিনি মনে করতেন, আত্মার মহত্ত্ব থেকে উদ্ভূত চরিত্রকে খুলুকে আযীম (মহান চরিত্র) বলা হয়। আল্লাহ কাফের ও মুশরিকদের প্রতি মহানবীর (সা.) প্রতিক্রিয়ার কারণে তাকে খুলুকে আযীমের অধিকারী বলে উল্লেখ করেছেন। [৮]&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
পবিত্র কুরআনের স্পষ্ট বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী (সা.) নমনীয়তা ও সহনশীলতার ক্ষেত্রে, যেখানে ত্যাগ ও নমনীয়তা প্রদর্শন করা প্রয়োজন, সেখানে এই নৈতিকতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিলেন। আল্লাহর ওহী (কুরআন), স্নেহ ও দয়াকে মহানবীর (সা.) সফলতার অন্যতম একটি কারণ হিসেবে গণ্য করে [৯]: {{quran|translation=আল্লাহর দয়ার কারণেই তুমি তাদের প্রতি কোমল-হৃদয় হয়েছিলে। যদি তুমি রূঢ় ও কঠোর-হৃদয় হতে, তবে তারা তোমার আশপাশ থেকে সরে পড়ত।|sura=আলে ইমরান|verse=১৫৯}}.&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch = علوم و معارف قرآن&lt;br /&gt;
| subbranch1 = پیامبرشناسی در قرآن&lt;br /&gt;
| subbranch2 = پیامبر اسلام(ص)&lt;br /&gt;
| subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه =شد&lt;br /&gt;
 | تیترها =شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | بازبینی نویسنده =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =شد&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت =ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:خلق عظیم پیامبر(ص)]]&lt;br /&gt;
[[en:The Prophet&#039;s Great Character (Khuluq Azim)]]&lt;br /&gt;
[[ru:Великие черты Пророка (С)]]&lt;br /&gt;
[[ur:پیغمبرِ اسلام (ص) کی عظیم اخلاق]]&lt;br /&gt;
[[ps:د پيغمبر(ص) عظیم اخلاق]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%87%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%AE_%E0%A6%B9%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8_%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%B8_%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE&amp;diff=982</id>
		<title>ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%87%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%AE_%E0%A6%B9%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8_%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%B8_%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE&amp;diff=982"/>
		<updated>2025-02-23T14:27:39Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
ইমাম হুসাইন (আ.) কে?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
{{portal|امام حسین|واژه‌ها}}&lt;br /&gt;
ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম (৪ - ৬১ হিজরি) হলেন শিয়া মুসলিমদের তৃতীয় ইমাম, যিনি [[ইমাম আলী (আ.)]] এবং [[ইমাম হাসান (আ.)]]-এর পর ইমামতের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি  শেষ মহানবী [[হযরত মুহাম্মদ (স.)]]-এর নাতি এবং ইমাম আলী (আ.) ও [[হযরত ফাতিমা (সা.আ.)]]-এর পুত্র। তিনি ইমাম হাসান (আ.)-এর ছোট ভাই ছিলেন। ইমাম হুসাইন (আ.)-এর ইমামতের মেয়াদকাল ছিল ১১ বছর।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[শিয়া]] ও [[সুন্নি]] উভয় সম্প্রদায়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, ইমাম হুসাইন (আ.) [[আসহাবে কিসার]] (পবিত্র চাদরের মধ্যে অবস্থানকারী) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি [[তাতহীরের আয়াতে]]র মিসদাক বা দৃষ্টান্ত ও [[মুবাহিলার আয়াতে]] &amp;quot;আবনাউনা&amp;quot; (আমাদের পুত্রগণ) শব্দের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হন। ইমাম হুসাইন (আ.) রাসূল (স.)-এর অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। রাসূল (স.) তাকে হেদায়েতের আলো, নাজাতের নৌকা এবং জান্নাতের যুবকদের সরদার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইমামত লাভের আগে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জীবনী সম্পর্কে প্রাপ্ত সংক্ষিপ্ত  তথ্যের মধ্যে রয়েছে তার পিতা ইমাম আলী (আ.)-এর সাথে তিনটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ, তার ভাই ইমাম হাসান (আ.) কর্তৃক মুয়াবিয়ার সাথে সম্পাদিত সন্ধিকে সমর্থন পূর্বক তার অনুসরণ। ইমাম হাসান (আ.)-এর শাহাদাতের পর ইমাম হুসাইন (আ.) মুয়াবিয়ার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে তার ভাইয়ের চুক্তি মেনে চলেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর ইমামতের দশ বছর মুয়াবিয়ার শাসনামলের সমসাময়িক। ইমাম হাসান (আ.), [[মুয়াবিয়া]] কর্তৃক সাহাবা হত্যা  এবং ইয়াজিদকে তার উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করাসহ কিছু কিছু কর্মকাণ্ডের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি ইয়াজিদকে অযোগ্য ঘোষণা করে নিজেকে খিলাফতের যোগ্য দাবিদার বলে ঘোষণা করেন। ইমাম হুসাইন (আ.) এক ভাষণে উমাইয়াদের বিরুদ্ধে তার রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর ইমাম হুসাইন (আ.) [[ইয়াজিদের]] প্রতি বাইয়াত (আনুগত্যের শপথ) করাকে অবৈধ ঘোষণা করেন। ৬০ হিজরির ২৮ রজব তিনি ইয়াজিদের পক্ষ থেকে হত্যার হুমকি পাওয়ার পর মদিনা থেকে মক্কায় চলে যান। তিনি কুফাবাসীর কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক চিঠি পান, যাতে তারা তাকে নেতৃত্ব গ্রহণের আহ্বান জানায়। তার দূত মুসলিম ইবনে আকিল কুফাবাসীদের সমর্থন নিশ্চিত করার পর, ইমাম হুসাইন (আ.) ৮ জিলহজ্জ [[কুফার]] দিকে রওনা হন।&lt;br /&gt;
কুফার গভর্নর [[উবাইদুল্লাহ ইবনে জিয়াদ হুর ইবনে ইয়াজিদের]] নেতৃত্বে একদল সেনাবাহিনী পাঠান ইমাম হুসাইন (আলাইহিস সালাম)-কে বাধা প্রদান করার  জন্য। পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ইমাম হুসাইন (আ.) কারবালার দিকে অগ্রসর হন। শেষ পর্যন্ত আশুরার দিনে কুফার সেনাবাহিনীর সাথে সংঘটিত যুদ্ধে তিনি তার সঙ্গীসহ শাহাদাতবরণ করেন এবং তার পরিবার বন্দী হয়। ইমাম হুসাইন (আ.) এবং তার সঙ্গীদের লাশ ১১ বা ১৩ মুহাররম বনী আসাদ গোত্রের কিছু লোক কারবালায় দাফন করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
==মাকাম ও মর্যাদা ==&lt;br /&gt;
[[চিত্র:نام امام حسین(ع) در ایاصوفیه.jpg|250px|থাম্ব]]&lt;br /&gt;
হুসাইন ইবনে আলী (আ.) হলেন শিয়া মুসলিমদের তৃতীয় ইমাম, যিনি ইমাম আলী (আ.) এবং[[ইমাম হাসান (আ.)]]-এর পর ইমামতের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হন। ইমাম হুসাইন (আ.) মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি বিশেষ মর্যাদার অধিকারী।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
তিনি একাধারে মহান ব্যক্তিত্ব এবং বনি হাশিম গোত্রের নেতা হিসেবে বিবেচিত হন&amp;lt;ref&amp;gt;আকুবী, আহমাদ বিন আবী ইয়াকুব, তারিখুল ইয়াকুবী, বেইরুত, দার ছাদির, বি-তা, জি২, পৃ২২৬; ইবন সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, চাপ দ্বিতীয়, ১৪১৮হি, জি১০, পৃ৩৬৩।&amp;lt;/ref&amp;gt;; এমনকি বনি হাশিমের মধ্যে তার মতামত প্রাধান্য পেত।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, চাপ দ্বিতীয়, ১৪১৮হি, জি১০, পৃ৪১৪-৪১৬।&amp;lt;/ref&amp;gt; কিছু কিছু শিয়া ও সুন্নি সূত্রে বর্ণিত একটি হাদিস অনুযায়ী, হুসাইন (আ.)-কে সিবতে পয়গম্বর  হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;বালাযুরী, আহমাদ বিন ইয়াহইয়া, আনসাবুল আশরাফ, তাহকিক সুহাইল যাকার ও রিয়াদ জরকালী, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৪২; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মাআরিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, প্রথম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ১২৭; মাকরিযী, তাকিউদ্দীন, ইমতিয়াউল আসমা বিমা লিন্নাবি মিনাল আহওয়াল ওয়াল আমওয়াল ওয়াল হাফাদাহ ওয়াল মাতায়া, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, ১৪২০হি, জি৬, পৃ১৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; সিবত হলেন এমন ইমাম বা নেতা যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্বাচিত এবং নবীদের বংশধর।&amp;lt;ref&amp;gt;মুহাম্মদী রায়শাহরী, মুহাম্মদ ও সহযোগীরা, দানেশনামা ইমাম হুসাইন (আ.), অনুবাদ: মুহাম্মদ মোরাদী, কুম, দারুল হাদিস, ১৪৩০হি, জি১, পৃ৪৭৪-৪৭৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
৬১ হিজরির [[আশুরার ঘটনা]]র পর ইমাম হুসাইন (আ.) মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে একজন সত্যনিষ্ঠ, সাহসী ও শাহাদাতপ্রত্যাশী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;হাজ মনুচেহরী, ফারামার্জ, &amp;quot;হুসাইন (আ.), ইমাম&amp;quot;, দায়েরাতুল মা&#039;আরিফে বোজুরগে ইসলামী, জি২০, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মা&#039;আরিফে বোজুরগে ইসলামী, ১৩৯১শ, পৃ৬৮১।&amp;lt;/ref&amp;gt; মুসলিমদের মধ্যে তার মাকাম ও মর্যাদা মূলত আল্লাহর পথে জিহাদকারী এবং নিজের জীবন, সম্পদ ও পরিবার-পরিজনকে উৎসর্গকারী হিসেবে ফুটে উঠেছে।&amp;lt;ref&amp;gt;আইউব, &amp;quot;ফাজায়েলে ইমাম হুসাইন (আ.) আহলুস সুন্নাহ হাদিসসমূহে&amp;quot;।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আশুরার ঘটনা নবী পরিবারের প্রতি প্রথম প্রকাশ্য অবমাননা ও আক্রমণ, শিয়া সংস্কৃতিতে যার গভীর প্রভাব পড়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;হাজ মনুচেহরী, ফারামার্জ, &amp;quot;হুসাইন (আ.), ইমাম&amp;quot;, দায়েরাতুল মা&#039;আরিফে বোজুরগে ইসলামী, জি২০, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মা&#039;আরিফে বোজুরগে ইসলামী, ১৩৯১শ, পৃ৬৮৬।&amp;lt;/ref&amp;gt; তার এই আন্দোলন &amp;quot;আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার&amp;quot; (সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে বাধা দেওয়া), জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের প্রতীক হয়ে ওঠে।&amp;lt;ref&amp;gt;মুহাদ্দিসী, জাওয়াদ, ফারহাঙ্গে আশুরা, কুম, নাশরে মারুফ, সপ্তদশ মুদ্রণ, ১৩৯৩শ, পৃ৩৭২।&amp;lt;/ref&amp;gt; এটি জালিম শাসকদের বিরুদ্ধে শিয়াদের বিদ্রোহের পথ প্রশস্ত করে।&amp;lt;ref&amp;gt;হাজ মনুচেহরী, ফারামার্জ, &amp;quot;হুসাইন (আ.), ইমাম&amp;quot;, দায়েরাতুল মা&#039;আরিফে বোজুরগে ইসলামী, জি২০, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মা&#039;আরিফে বোজুরগে ইসলামী, ১৩৯১শ, পৃ৬৮৭।&amp;lt;/ref&amp;gt; সাধারণ সংস্কৃতিতে মুসলিম এবং অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরাও হুসাইন ইবনে আলী (আ.)-কে ত্যাগ, জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, স্বাধীনতা, মূল্যবোধ রক্ষা ও ন্যায়ের পথে সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;&amp;quot;ফারহাঙ্গে আশুরা ফারামুসলিমানি&amp;quot;, ওয়েবসাইট: মাজমায়ে জাহানিয়ে সুলহে ইসলামি।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
শিয়া সংস্কৃতিতে মহররম ও সফর মাসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, বিশেষত [[তাসুয়া]], আশুরা ও [[আরবাইনের]] দিনে শিয়াদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও রীতিনীতি পালন করা হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;হাজ মনুচেহরী, ফারামার্জ, &amp;quot;হুসাইন (আ.), ইমাম&amp;quot;, দায়েরাতুল মা&#039;আরিফে বোজুরগে ইসলামী, জি২০, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মা&#039;আরিফে বোজুরগে ইসলামী, ১৩৯১শ, পৃ৬৮৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; [[শিয়ারা]] ধর্মীয় নেতাদের অনুসরণ করে পানি পান করার সময় ইমাম হুসাইন (আ.)-এর তৃষ্ণার কথা স্মরণ করেন এবং তার উপর সালাম প্রেরণ করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;হাজ মনুচেহরী, ফারামার্জ, &amp;quot;হুসাইন (আ.), ইমাম&amp;quot;, দায়েরাতুল মা&#039;আরিফে বোজুরগে ইসলামী, জি২০, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মা&#039;আরিফে বোজুরগে ইসলামী, ১৩৯১শ, পৃ৬৮১; মুহাদ্দিসী, জাওয়াদ, ফারহাঙ্গে আশুরা, কুম, নাশরে মারুফ, সপ্তদশ মুদ্রণ, ১৩৯৩শ, পৃ৫০৮।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি)-এর নাতি ==&lt;br /&gt;
ইমাম হুসাইন (আ.) ৪ হিজরির ৩&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন মাশহাদী, মুহাম্মাদ বিন জাফর, আল-মাযার (আল-কাবীর), তাহকিক: জাওয়াদ আল-কাইয়ুমি আল-ইসফাহানি, কুম, মো&#039;আসসাসাতুন নাশরুল ইসলামি, ১৪১৯হি, পৃ৩৯৭; শাইখ তুসী, মুহাম্মাদ বিন হাসান, মিসবাহুল মুতাহাজ্জিদ, বেইরুত, মো&#039;আসসাসাতু ফিকহুশ শিয়া, ১৪১১হি, পৃ৮২৬, ৮২৮; সাইয়েদ বিন তাওস, আলী বিন মূসা, ইকবালুল আমাল, তেহরান, দারুল কুতুবুল ইসলামিয়া, ১৩৬৭শ, পৃ৬৮৯-৬৯০।&amp;lt;/ref&amp;gt; বা ৫ শাবান&amp;lt;ref&amp;gt;শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মাআরিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, প্রথম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ২৭।&amp;lt;/ref&amp;gt; [[মদিনা]]য় জন্মগ্রহণ করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;ইয়াকুবী, আহমাদ বিন আবী ইয়াকুব, তারিখুল ইয়াকুবী, বেইরুত, দার ছাদির, বি-তা, জি২, পৃ২৪৬; দুলাবী, মুহাম্মাদ বিন আহমাদ, আয-যুররিয়াতুত তহারাহ, মুদ্রক: মুহাম্মাদ জাওয়াদ হোসাইনি জালালি, কুম, ১৪০৭হি, পৃ১০২, ১২১; তাবারী, মুহাম্মাদ বিন জারির, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, ১৯৬২মি, জি২, পৃ৫৫৫; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মাআরিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, প্রথম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ২৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
তিনি হচ্ছেন [[বনি হাশিম]] বংশ ও [[কুরাইশ]] গোত্রের সদস্য; [[নবী করিম (স.)]]-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র; [[ইমাম আলী (আ.)]] ও [[হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ.)]]-এর হৃদয়ের টুকরো পুত্র এবং [[ইমাম হাসান মুজতাবা (আ.)]]-এর অত্যন্ত স্নেহের ছোট ভাই।&amp;lt;ref&amp;gt;শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মাআরিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, প্রথম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ২৭।&amp;lt;/ref&amp;gt; [[হযরত আব্বাস (আ.)]], [[মুহাম্মদ ইবনে হানাফিয়া]] তার অন্য ভাই এবং [[হযরত জয়নাব সালামুল্লাহ আলাইহা]] ও [[হযরত উম্মে কুলসুম]] তার বোন হিসেবে পরিচিত।&amp;lt;ref&amp;gt;শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মাআরিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, প্রথম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ২৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[শিয়া]] ও [[সুন্নি]] উভয় মাযহাবের  সূত্রসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নবী করিম (স.) মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে তাঁর নাম &amp;quot;হুসাইন&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মাআরিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, প্রথম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ২৭; আহমাদ বিন হাম্বল, মুসনাদ আহমাদ, বেইরুত, দার ছাদির, বি-তা, জি১, পৃ৯৮, ১১৮।&amp;lt;/ref&amp;gt; রাখেন।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন শহর আশুব, মুহাম্মাদ বিন আলী, মানাকিবু আলে আবি তালিব, কুম, আল্লামা, ১৩৭৯হি, জি৩, পৃ৩৯৭; ইবন সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, চাপ দ্বিতীয়, ১৪১৮হি, জি১০, পৃ২৪৪।&amp;lt;/ref&amp;gt; হুসাইন নামটিকে হিব্রু ভাষায় &amp;quot;শাবির&amp;quot; হিসেবে জ্ঞান করা হয়, যা হারুন (আ.)-এর পুত্রদের মধ্যে একজনের নাম।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবন মানজুর, মুহাম্মাদ বিন মুকরাম, লিসানুল আরব, বেইরুত, দার ছাদির, ১৪১৪হি, জি৪, পৃ৩৯৩; জুবাইদী ওয়াসিতী, মুর্তাযা হোসাইনি, তাজুল আরুস মিন জাওয়াহিরিল কামুস, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৪হি, জি৭, পৃ৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে আসাকির, আলী বিন হাসান, তারিখ মাদিনাতি দামিশক, বেইরুত, দারুল ফিকর, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১৫হি, জি১৩, পৃ১৭১।&amp;lt;/ref&amp;gt; উম্মে ফাদল&amp;lt;ref&amp;gt;শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মা&#039;রিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, প্রথম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ১২৯; মাকরিজী, তাকিউদ্দীন, ইমতিয়াউল আসমা বিমা লিন্নাবি মিনাল আহওয়াল ওয়াল আমওয়াল ওয়াল হাফাদাহ ওয়াল মাতায়া, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, ১৪২০হি, জি১২, পৃ২৩৭; ইবনে কাসির, ইসমাইল বিন উমর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, বেইরুত, দারুল ফিকর, বি-তা, জি৬, পৃ২৩০।&amp;lt;/ref&amp;gt; [[এবং আবদুল্লাহ]] ইবনে ইয়াকতারের মাতা’কে&amp;lt;ref&amp;gt;সমাবী, মুহাম্মাদ বিন তাহির, ইবসারুল আইন ফি আনসারিল হুসাইন (আ.), কুম, শাহিদ মোহাল্লাতি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১৯হি, পৃ৯৩।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইমামের ধাত্রী মাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
হুসাইন ইবনে আলী (আ.)-এর কুনিয়াত (ডাকনাম) হচ্ছে [[আবা আব্দিল্লাহ]]।&amp;lt;ref&amp;gt;শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, ১৪১৩হি, জি২, পৃ২৭; ইবনে আবী শাইবা, আল-মুসান্নাফ ফি আহাদিস ওয়াল আসার, মুদ্রক: সাঈদ মুহাম্মাদ লাহহাম, বেইরুত, ১৪০৯হি, জি৮, পৃ৬৫; ইবনে কুতাইবা দিনওয়ারী, আল-মাআরিফ, তাহকিক: সরওয়াত আকাশা, কায়রো, আল-হাইআতুল মিসরিয়্যাহ আল-আম্মাহ লিল কিতাব, ১৯৬০মি, জি১, পৃ২১৩।&amp;lt;/ref&amp;gt; তিনি &amp;quot;সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ&amp;quot; (জান্নাতের যুবকদের নেতা), যাকি, তাইয়্যিব, ওফি, সাইয়্যিদ, আত-তাবি&#039; লি-মারদাতিল্লাহ ইত্যাদি লকব তথা উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে আবীল থলজ, তারিখুল আইম্মাহ, মাজমুয়া নাফিসা ফি তারিখুল আইম্মাহ, মুদ্রক: মাহমুদ মারআশি, কুম, কিতাবখানায়ে আইয়াতুল্লাহ মারআশি নাজাফি, ১৪০৬হি, পৃ২৮; ইবনে তালহা শাফেয়ী, মাতালিবুস সউল ফি মানাকিবে আলির রাসুল, মুদ্রক: মাজিদ বিন আহমাদ আতিয়া, বি-জা, বি-তা, জি২, পৃ৩৭৪।&amp;lt;/ref&amp;gt; এছাড়াও &amp;quot;[[সারুল্লাহ]]&amp;quot;, &amp;quot;[[কাতিলুল আবরাত]]&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে কুলুওয়াইহ, জাফর বিন মুহাম্মাদ, কামালুজ যিয়ারাত, নাজাফ, দারুল মরতাযাভিয়া, ১৩৫৬হি, পৃ১৭৬।&amp;lt;/ref&amp;gt; এবং &amp;quot;সাইয়্যিদুশ শুহাদা&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;দেখুন: হিমিয়ারি, আবদুল্লাহ বিন জাফর, কুরবুল ইসনাদ, কুম, মো&#039;আসসাসাতু আলে বাইত (আ.), প্রথম মুদ্রণ, ১৪১৩হি, পৃ৯৯-১০০; ইবনে কুলুওয়াইহ, কামালুজ যিয়ারাত, মুদ্রক: জাওয়াদ কাইউমি ইসফাহানি, কুম, ১৪১৭হি, পৃ২১৬-২১৯; শাইখ তুসী, আল-আমালি, কুম, দারুছ ছাকাফা, ১৪১৪হি, পৃ৪৯-৫০।&amp;lt;/ref&amp;gt; হলো তাঁর অন্যান্য উপাধি, যা জিয়ারতনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য ===&lt;br /&gt;
[[চিত্র:حرم امام حسین.jpg|250px|থাম্ব|ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মাজারের প্রাচীনতম ছবি।]]&lt;br /&gt;
[[শিয়া]] ও [[সুন্নি]] উভয় মাযহাবের সূত্রে, হুসাইন ইবনে আলী (আ.)-কে &amp;quot;আসহাবুল কিসা&#039;&amp;quot; (পবিত্র চাদরের অধীনে অবস্থানকারী)&amp;lt;ref&amp;gt;দেখুন: কুলাইনি, মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব, আল-কাফি, তেহরান, দারুল কুতুবুল ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬২শ, জি১, পৃ২৮৭; মুসলিম বিন হাজ্জাজ, সহীহ মুসলিম, বেইরুত, দারুল মাআরিফ, ১৪২৩হি, জি১৫, পৃ১৯০।&amp;lt;/ref&amp;gt; এবং আহলে বাইতের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের সম্পর্কে [[তাতহীরের আয়াত]] (পবিত্রতার আয়াত) নাযিল হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;আহমাদ বিন হাম্বল, মুসনাদে আহমাদ, বেইরুত, দার ছাদির, বি-তা, জি১, পৃ৩৩১; ইবনে কাসির, তাফসিরুল কুরআনুল আজীম, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, ১৪১৯হি, জি৩, পৃ৭৯৯; শওকানি, ফাতহুল কাদির, বেইরুত, আলমুল কুতুব, বি-তা, জি৪, পৃ২৭৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; তিনি তার ভাই ইমাম হাসান (আ.)-এর সাথে &amp;quot;আবনাউনা&amp;quot; (আমাদের পুত্রগণ) শব্দের দৃষ্টিান্ত হিসেবে মুবাহিলার [[আয়াতে উল্লিখিত হয়েছেন]]।((৯যামাখশারি, আল-কাশশাফ আন হাকাইক গাওয়ামিজিত তানযিল, কুম, নাশরুল বালাগা, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪১৫হি, সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৬১ এর অধীনে; ফখর রাজী, আত-তাফসিরুল কাবীর, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪০৫হি, সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৬১ এর অধীনে।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আহলে সুন্নতের গ্রহণযোগ্য সূত্রগুলোতেও হযরত হুসাইন ইবনে আলী (আ.) এর মর্যাদা ও গুণাবলি সম্পর্কে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;মুসলিম বিন হাজ্জাজ, সহীহ মুসলিম, বেইরুত, দারুল মাআরিফ, ১৪২৩হি, জি১৫, পৃ১৯০; ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪১৮হি, জি১০, পৃ৩৭৬-৪১০; বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, তাহকিক: সুহাইল যাকার ও রিয়াদ জরকালী, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ৭।&amp;lt;/ref&amp;gt; যেমন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, হুসাইন (আ.) হলেন হেদায়েতের আলো ও নাজাতের নৌকা&amp;lt;ref&amp;gt;শাইখ ছদূক, কামালুদ্দিন ও তামামুন নিঅমা, তেহরান, ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৯৫শ, জি১, পৃ২৬৫।&amp;lt;/ref&amp;gt; [[এবং জান্নাতের যুবকদের সরদার]]।&amp;lt;ref&amp;gt;বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৪২; ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪১৮হি, জি১০, পৃ৩৮৫।&amp;lt;/ref&amp;gt; আরও একটি হাদিসে তিনি (স.) বলেছেন, &amp;quot;হুসাইন আমার থেকে এবং আমি হুসাইন থেকে।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে আসাকির, তারিখে মাদিনাতি দামিশক, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৫হি, জি১৩, পৃ১৯৮-১৯৯; আরবলী, কাশফুল গুম্মা ফি মারিফাতিল আইম্মাহ, কুম, রেজি, প্রথম মুদ্রণ, ১৪২১হি, জি১, পৃ৬০২।&amp;lt;/ref&amp;gt; &amp;quot;যে এই দুই জনকে (হাসান ও হুসাইন) ভালোবাসে, সে আমাকে ভালোবাসে এবং যে তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে, সে আমার সাথে শত্রুতা পোষণ করে।&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে সা&#039;দ, আল-তাবাকাত আল-কুবরা, বৈরুত, দার আল-কুতব আল-ইলমিয়াহ, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪১৮ হিজরি, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ১৩৮। ইবনে আসাকির, আলী ইবনে হাসান, তারিখ আল-মদীনা আল-দামেস্ক, বৈরুত, দার আল-ফিকর, প্রথম সংস্করণ, ১৪১৫ হিজরি, খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ১৯৮-১৯৯; আরবালি, আলী ইবনে ঈসা, ইমামদের জ্ঞানে ভাষা, কোম, রাজি, প্রথম সংস্করণ, ১৪২১ হিজরি, খণ্ড ৬০২।&amp;lt;/ref&amp;gt; বলা হয়েছে যে, রাসূল (স.) তাঁর আহলে বাইতের মধ্যে হাসান ও হুসাইন (আ.)-কে অন্যদের চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন।&amp;lt;ref&amp;gt;তিরমিজি, মুহাম্মাদ বিন ঈসা, সুনান আত-তিরমিজি, তাহকিক: আবদুর রহমান মুহাম্মাদ উসমান, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪০৩হি, জি৫, পৃ৩২৩।&amp;lt;/ref&amp;gt; তার এই ভালোবাসা এতটাই গভীর ছিল যে, কখনও তারা মসজিদে প্রবেশ করলে তিনি তার খুতবা অসমাপ্ত রেখে মিম্বর থেকে নেমে তাদেরকে কোলে তুলে নিতেন।&amp;lt;ref&amp;gt;আহমাদ বিন হাম্বল, মুসনাদ আহমাদ, বেইরুত, দারুস ছাদির, বি-তা, জি৫, পৃ৩৫৪; তিরমিজি, সুনান আত-তিরমিজি, তাহকিক: আবদুর রহমান মুহাম্মাদ উসমান, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪০৩হি, জি৫, পৃ৩২২; ইবনে হিব্বান, সহীহ ইবনে হিব্বান, তাহকিক: শুয়াইব আরনাউত, বি-জা, আর-রিসালা, ১৯৯৩মি, জি১৩, পৃ৪০২; হাকিম নিশাপুরী, আল-মুস্তাদরাক আলা সহিহাইনে, তাহকিক: ইউসুফ আবদুর রহমান মারআশি, বেইরুত, ১৪০৬হি, জি১, পৃ২৮৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
রেওয়ায়েতে আছে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হুসাইন (আ.)-এর কবরের মাটিকে শিফা (রোগমুক্তি) এবং তার কবর সংলগ্ন স্থানকে দোয়া কবুলের স্থান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে শহর আশুব, মুহাম্মাদ বিন আলী, মানাকিবু আলে আবি তালিব, কুম, আল্লামা, ১৩৭৯হি, জি৪, পৃ৮২; মাজলিসী, মুহাম্মাদ বাকির, বিহারুল আনওয়ার, তেহরান, ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬৩শ, জি৯৮, পৃ৬৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; &amp;quot;আল-খাসাইস আল-হুসাইনিয়্যাহ&amp;quot; নামক গ্রন্থে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর তিনশত’র বেশি বিশেষ বৈশিষ্ট্য এর উল্লেখ করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;শোষতরী, শাইখ জাফর, আল-খাসাইসুল হুসাইনিyah, শরিফ রেজি, প্রথম মুদ্রণ, বি-তা, পৃ২০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অধিকাংশ হাদিস, ঐতিহাসিক ও রিজাল সংক্রান্ত সূত্রে মহানবী (স.)-এর সাথে হুসাইন (আলাইহিস সালাম)-এর সাদৃশ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে&amp;lt;ref&amp;gt;বালাযুরী, আহমাদ বিন ইয়াহইয়া, আনসাবুল আশরাফ, তাহকিক: সুহাইল যাকার ও রিয়াদ জরকালী, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৪২, ৪৫৩; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মা&#039;রিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, ১৪১৩হি, জি২, পৃ২৭; তাবারানী, আল-মুআজমুল কাবির, কায়রো, দারুন্নাশর, মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, বি-তা, জি৩, পৃ৯৫।&amp;lt;/ref&amp;gt; এবং একটি রেওয়ায়েতে তাকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি)-এর সবচেয়ে সদৃশ ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;আহমাদ বিন হাম্বল, মুসনাদে আহমাদ, বেইরুত, দারুস ছাদির, বি-তা, জি৩, পৃ২৬১; তিরমিজি, সুনান আত-তিরমিজি, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪০৩হি, জি৫, পৃ৩২৫&amp;lt;/ref&amp;gt;। তার সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি কখনও মখমলের কাপড় পরিধান করতেন বা মখমলের পাগড়ি মাথায় পরিধান করতেন&amp;lt;ref&amp;gt;তাবারানী, আল-মুআজমুল কাবির, কায়রো, দারুন্নাশর, মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, বি-তা, জি৩, পৃ১০১।&amp;lt;/ref&amp;gt; এবং তার চুল ও দাড়ি খিজাব (রং) করতেন।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪১৮হি, জি৬, পৃ৪১৯-৪২২; ইবনে আবী শাইবা, আল-মুসান্নাফ ফি আহাদিস ওয়াল আসার, তাহকিক: সাঈদ মুহাম্মাদ লাহহাম, বেইরুত, ১৪০৯হি, জি৬, পৃ৩, ১৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইমাম হুসাইন (আ.) ছিলেন অত্যন্ত দানশীল ও উদার প্রকৃতির।&amp;lt;ref&amp;gt;মুহাম্মাদী রায়শাহরী, মুহাম্মাদ ও সহযোগীরা, দানেশ নামায়ে ইমাম হুসাইন (আ.), অনুবাদ: মুহাম্মাদ মোরাদী, কুম, দারুল হাদিস, ১৪৩০হি, জি২, পৃ১১৪-১১৮।&amp;lt;/ref&amp;gt; তিনি গরিব-দুঃখীদের সাথে বসতেন, তাদের দাওয়াত গ্রহণ করতেন, তাদের সাথে খাবার খেতেন এবং তাদের নিজ বাড়িতে আমন্ত্রণ জানাতেন। তিনি তার বাড়িতে যা কিছু থাকত, তা থেকে তাদের বঞ্চিত করতেন না।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪১৮হি, জি১০, পৃ৪১১; ইবনে আসাকির, তারিখে মাদিনাতি দামিশক, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৫হি, জি১৪, পৃ১৮১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
তিনি তার গোলাম ও দাসীদের সদাচরণের বিনিময়ে মুক্ত করে দিতেন।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে আসাকির, তারিখে মাদিনাতি দামিশক, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৫হি, জি৭০, পৃ১৯৬-১৯৭; ইবনে হাজম, আল-মুহাল্লা, তাহকিক: মুহাম্মাদ শাকির, বেইরুত, দারুল ফিকর, বি-তা, জি৮, পৃ৫১৫; আরবলী, কাশফুল গুম্মা ফি মারিফাতিল আইম্মাহ, কুম, মুদ্রক: আলী ফাজেলি, ১৪২৬হি, জি২, পৃ৪৭৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;  সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি ২৫ বার পায়ে হেঁটে [[হজ্জ]] করেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪১৮হি, জি১০, পৃ৪০১; ইবনে আবদিল বার, আল-ইস্তিয়াব ফি মারিফাতিল আসহাব, তাহকিক: আলী মুহাম্মাদ আল-বাজাউই, বেইরুত, দারুল জিল, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১২হি, জি১, পৃ৩৯৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== স্ত্রী ও সন্তানগণ  ===&lt;br /&gt;
[[শাহরবানু]] নামে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর একজন স্ত্রীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি সাসানীয় সম্রাট ইয়াজদ গির্দের কন্যা এবং [[ইমাম জয়নুল আবেদীন (আলাইহিস সালাম)]]-এর মাতা হিসেবে পরিচিত। তবে সমসাময়িক গবেষকরা শাহরবানুর বংশপরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;দেখুন: মতোহারি, মুর্তজা, খেদমাতে মোকাবেলয়ে ইসলাম ও ইরান, তেহরান, ইন্তেশারাতে সাদরা, ১৩৮০শ, পৃ১৩১-১৩৩; শরিয়াতী, আলী, তাশাইয়ু আলাভি ও তাশাইয়ু সাফাভি, তেহরান, চাপখশ, ১৩৭৭শ, পৃ৯১; শাহিদী, সাইয়েদ জাফর, জিন্দেগানি আলী বিন আল-হুসাইন, তেহরান, দফতরে নাশরে ফারহাঙ্গ, ১৩৬৫শ, পৃ১২।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইমামের আরেক স্ত্রী ছিলেন [[রুবাব]], যিনি ইমরুল কায়েস ইবনে আদির কন্যা। তিনি সাকিনা ও আবদুল্লাহর মাতা হিসেবে পরিচিত।&amp;lt;ref&amp;gt;ইস্পাহানী, আবুল ফারাজ, মাকাতিলুত তালিবিয়িন, তাহকিক: আহমাদ সাকির, বেইরুত, দারুল মাআরিফ, বি-তা, পৃ৫৯; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মা&#039;রিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, ১৪১৩হি, জি২, পৃ১৩৫।&amp;lt;/ref&amp;gt; রুবাব কারবালায় উপস্থিত ছিলেন এবং বন্দীদের সাথে শামে (সিরিয়া) গিয়েছিলেন।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে কাসির, ইসমাইল বিন উমর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, বেইরুত, দারু ইহইয়াউত তারাসিল আরাবি, ১৪০৮হি, জি৮, পৃ২২৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; অধিকাংশ সূত্রে আবদুল্লাহ (আলী আসগর)-কে শাহাদাতের সময় শিশু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;মুসআব বিন আবদুল্লাহ, কিতাবু নাসাবি কুরাইশ, তাহকিক: লুই প্রোভানসাল, কায়রো, ১৯৫৩মি, জি১, পৃ৫৯; তাবারি, মুহাম্মাদ বিন জারির, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, দারু তারাস, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪৬৮; বুখারী, সাহল বিন আবদুল্লাহ, সিররুস সিলসিলাতিল আলাভিয়্যাহ, তাহকিক: মুহাম্মাদ ছাদিক বাহরুল উলুম, নজাফ, ১৩৮১হি, জি১, পৃ৩০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[লায়লা]] বিনতে আবি মুররা ইবনে উরওয়া ইবনে মাসউদ সাকাফি&amp;lt;ref&amp;gt;মুসআব বিন আবদুল্লাহ, কিতাবু নাসাবি কুরাইশ, তাহকিক: লুই প্রোভানসাল, কায়রো, ১৯৫৩মি, পৃ৫৭; ইয়াকুবী, আহমাদ বিন আবি ইয়াকুব, তারিখুল ইয়াকুবী, বেইরুত, দারুস ছাদির, বি-তা, জি২, পৃ২৪৬-২৪৭; তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, দারু তারাস, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪৪৬।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইমামের আরেক স্ত্রী হিসেবে উল্লিখিত হয়েছেন। তিনি [[আলী আকবর (আলাইহিস সালাম)]]-এর মাতা ছিলেন&amp;lt;ref&amp;gt;মাকরিজী, তাকিউদ্দীন, ইমতিয়াউল আসমা বিমা লিন্নাবি মিনাল আহওয়াল ওয়াল আমওয়াল ওয়াল হাফাদাহ ওয়াল মাতায়া, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, ১৪২০হি, জি৬, পৃ২৬৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;, যিনি [[আশুরার]] ঘটনায় শাহাদাতবরণ করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, দারু তারাস, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪৪৬; ইস্পাহানী, আবুল ফারাজ, মাকাতিলুত তালিবিয়িন, তাহকিক: আহমাদ সাকির, বেইরুত, দারুল মাআরিফ, বি-তা, পৃ৮০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে তালহা শাফেয়ি তার গ্রন্থ &amp;quot;মাতালিবুস সুল ফি মানাকিবে আলি রাসুল&amp;quot;-এ ইমামের সন্তানদের সংখ্যা দশজন বলে উল্লেখ করেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে তালহা শাফেয়ী, মাতালিবুস সউল ফি মানাকিবে আলির রাসুল, মুদ্রক: মাজিদ বিন আহমাদ আতিয়া, বি-জা, বি-তা, জি২, পৃ৬৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; তবে কিছু সূত্রে ইমামের সন্তানদের সংখ্যা হিসেবে চার ছেলে ও দুই মেয়ে&amp;lt;ref&amp;gt;মুসআব বিন আবদুল্লাহ, কিতাবু নাসাবি কুরাইশ, তাহকিক: লুই প্রোভানসাল, কায়রো, ১৯৫৩মি, জি১, পৃ৫৭-৫৯; বুখারী, সাহল বিন আবদুল্লাহ, সিররুস সিলসিলাতিল আলাভিয়্যাহ, তাহকিক: মুহাম্মাদ ছাদিক বাহরুল উলুম, নজাফ, ১৩৮১হি, জি১, পৃ৩০; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মা&#039;রিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, ১৪১৩হি, জি২, পৃ১৩৫।&amp;lt;/ref&amp;gt; বা ছয় ছেলে ও তিন মেয়ে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;তাবারি, দালায়িলুল ইমামাহ, বেইরুত, মো’আসসাসাতুল আ&#039;লামী লিল মাতবুআত, ১৪০৮হি, জি১, পৃ৭৪; ইবনে শহর আশুব, মানাকিবু আলে আবি তালিব, কুম, আল্লামা, ১৩৭৯হি, জি৪, পৃ৭৭; ইবনে তালহা শাফেয়ী, মাতালিবুস সউল ফি মানাকিবে আলির রাসুল, মুদ্রক: মাজিদ বিন আহমাদ আতিয়া, বি-জা, বি-তা, জি২, পৃ৬৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দীর গ্রন্থ &amp;quot;লুবাবুল আনসাব&amp;quot;&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে ফান্দুক বেহাকী, আলী বিন যায়েদ, লুবাবুল আনসাব ওয়াল আলকাব ওয়াল আকাব, তাহকিক: মাহদী রেজাই, কুম, কিতাবখানায়ে আইয়াতুল্লাহ মারআশি, ১৩৮৫শ, পৃ৩৫৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;-এ [[রুকাইয়া]] নামে একটি মেয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সপ্তম হিজরি শতাব্দীর গ্রন্থ &amp;quot;কামিল বাহাই&amp;quot;-এ ইমাম হুসাইন (আ.)-এর চার বছর বয়সী একটি মেয়ের কথা বলা হয়েছে, যিনি শামে (সিরিয়া) মৃত্যুবরণ করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;কাশেফী সবজোয়ারী, মোল্লা হোসাইন, রাওজাতুশ শোহাদা, কুম, নবীদে ইসলাম, ১৩৮২শ, পৃ৪৮৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তিন খলিফার যুগ ==&lt;br /&gt;
ইমাম হুসাইন (আলাইহিস সালাম)-এর জীবনের ২৫ বছর, যা তিন খলিফার শাসনামলে অতিবাহিত হয়, সে সম্পর্কে ঐতিহাসিক তথ্য খুবই সীমিত।&amp;lt;ref&amp;gt;মুহাম্মাদী রায়শাহরী, মুহাম্মাদ ও সহযোগীরা, দানেশ নামায়ে ইমাম হুসাইন (আ.), অনুবাদ: মুহাম্মাদ মোরাদী, কুম, দারুল হাদিস, ১৪৩০হি, জি২, পৃ৩২৫।&amp;lt;/ref&amp;gt; বলা হয়েছে যে, তিনি দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনে খাত্তাবের কাছে বিশেষ সম্মানের পাত্র ছিলেন।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে আসাকির, আলী বিন হাসান, তারিখে মাদিনাতি দামিশক, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৫হি, জি১৪, পৃ১৭৫; সিবত ইবনে জাওযী, তাজকিরাতুল খাওয়াস, কুম, মনশুরাতে শরিফ রেযি, ১৪১৮হি, পৃ২১১-২১২।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
তৃতীয় খলিফা [[উসমানে]]র শাসনামলে একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইমাম হুসাইন (আলাইহিস সালাম) তার পিতা ও ভাইয়ের সাথে খলিফার নির্দেশ অমান্য করে আবু জরকে বিদায় জানান, যাকে খলিফা রাবাযাহ নামক স্থানে নির্বাসিত করেছিলেন।&amp;lt;ref&amp;gt;কুলাইনি, মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব, আল-কাফি, তেহরান, দারুল কুতুবুল ইসলামিয়া, ১৩৬৫শ, জি৮, পৃ২০৬-২০৭; ইবনে আবিল হাদীদ, শরহে নাহজুল বালাগা, ১৩৮৫-১৩৮৭হি, জি৮, পৃ২৫৩-২৫৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কিছু [[সুন্নি]] সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি তার ভাইয়ের সাথে কিছু বিজয়ে সঙ্গী হয়েছিলেন, যেমন ২৬ হিজরিতে আফ্রিকিয়ার বিজয়&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে খালদুন, আল-ইবর, ১৪০১হি, জি২, পৃ৫৭৩-৫৭৪।&amp;lt;/ref&amp;gt; এবং ৩০ হিজরিতে তাবারিস্তানের বিজয়।&amp;lt;ref&amp;gt;তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, দারু তারাস, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৭হি, জি৪, পৃ২৬৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; তবে শিয়া সূত্রে এ ধরনের তথ্য পাওয়া যায় না। কিছু কিছু শিয়া গবেষক, যেমন [[জাফর মুরতাজা আমিলি]], এ ধরনের তথ্যকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে মনে করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;জাফর মুরতজা, আল-হায়াতুস সিয়াসিয়্যাহ লিল ইমামিল হাসান (আ.), দারুস সিয়ারা, পৃ১৫৮।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
{{see also|ইরান বিজয়ে ইমাম হাসান (আ.) ও ইমাম হুসাইন (আ.)-এর উপস্থিতি}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অপর একটি প্রতিবেদনে, তৃতীয় খলিফা উসমানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় খলিফার পক্ষে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইমাম হুসাইন (আ.) খলিফার কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট থাকা সত্ত্বেও তাঁর ভাই ইমাম হাসান (আ.)-এর সাথে উসমানের বাড়ি রক্ষার জন্য এগিয়ে আসেন।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে কুতাইবা দিনওয়ারী, আল-ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ, তাহকিক: আলী শিরি, বেইরুত, দারুল আদওয়া, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১০হি, জি১, পৃ৫৯; বালাযুরী, আহমাদ বিন ইয়াহইয়া, আনসাবুল আশরাফ, তাহকিক: সুহাইল যাকার ও রিয়াদ জরকালী, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৭হি, জি৫, পৃ৫৫৮।&amp;lt;/ref&amp;gt; শিয়া গবেষকদের মধ্যে এই প্রতিবেদনের সমর্থক ও বিরোধী উভয়ই পক্ষই রয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;মুহাম্মাদী রায়শাহরী, মুহাম্মাদ ও সহযোগীরা, দানেশ নামায়ে ইমাম হুসাইন (আ.), অনুবাদ: মুহাম্মাদ মোরাদী, কুম, দারুল হাদিস, ১৪৩০হি, জি২, পৃ৩৩১-৩৩২।&amp;lt;/ref&amp;gt; সৈয়দ মুরতাজা, আমিরুল মু’মিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (আলাইহিস সালাম) কর্তৃক ইমাম হাসান ও হুসাইন (আ.) প্রেরিত হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করার পর, প্রেরণের কারণ হিসেবে উসমানের হত্যা রোধ এবং তার পরিবারকে পানি ও খাবার সরবরাহ করার কথা উল্লেখ করেছেন। খিলাফত থেকে উসমানের অপসারণ রোধ করার জন্য ইমাম হাসান ও হুসাইন (আ.)-কে পাঠানো হয় নি, কেননা, উসমান তার অন্যায় কাজের কারণে খিলাফত থেকে অপসারণের যোগ্য ছিলেন।&amp;lt;ref&amp;gt;সাইয়্যিদ মুর্তজা, আলী ইবনে হুসাইন, আল-শাফি ফী আল-ইমামাহ, কোম, ইসমাইলি ইনস্টিটিউট, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪১০ হিজরি, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৪২।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
{{see also|উসমানের বাড়ি রক্ষায় ইমাম হাসান (আ.) ও ইমাম হুসাইন (আ.)}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ইমাম আলী (আ.) এর শাসনামল ==&lt;br /&gt;
[[ইমাম আলী (আ.)]]-এর শাসনামলে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জীবন সম্পর্কে খুব কম তথ্যই পাওয়া যায়। ঐ সময়ে অন্যতম একটি ঘটনা হচ্ছে আমিরুল মুমিনিন (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি লোকজন বাইয়াত করার পর ইমাম হুসাইন (আ.) কর্তৃক ভাষণ প্রদান।&amp;lt;ref&amp;gt;মাজলিসী, মুহাম্মাদ বাকির, বিহারুল আনওয়ার, তেহরান, ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬৩শ, জি১০, পৃ১২১।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইমাম হুসাইন (আ.) জামালের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং ইমাম আলী (আ.)-এর বাহিনীর বাম দিকের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যা বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;শাইখ মুফিদ, মুহাম্মাদ বিন নুমান, আল-জামাল ওয়ান নুসরাহ লি সাইয়িদিল ইতরাহ ফি হারবিল বসরাহ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, ১৪১৩হি, পৃ৩৪৮; যাহাবি, শামসুদ্দীন, তারিখুল ইসলাম ওয়া ওফায়াতুল মাশাহির ওয়াল আলাম, বেইরুত, দারুল কিতাবুল আরাবি, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪০৯হি, জি৩, পৃ৪৮৫।&amp;lt;/ref&amp;gt; তিনি [[সিফফিনের]] যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং সেখানে ডান দিকের বাহিনীর নেতৃত্ব প্রদান করেছিলেন।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে আ&#039;ছাম, আহমাদ, আল-ফুতূহ, বেইরুত, দারুল আদওয়া, ১৪১১হি, জি৩, পৃ২৪; ইবনে শহর আশুব, মুহাম্মাদ বিন আলী, মানাকিবু আলে আবি তালিব, কুম, আল্লামা, ১৩৭৯হি, জি৩, পৃ১৬৮।&amp;lt;/ref&amp;gt; এই যুদ্ধে ইমাম হুসাইন (আলাইহিস সালাম) [[জিহাদে]]র জন্য লোকদের উৎসাহিত করতে একটি ভাষণ প্রদান করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;মনকারী, নাসর বিন মুযাহিম, ওয়াকআতু সফফিন, তাহকিক: আবদুস সালাম মুহাম্মাদ হারুন, কায়রো, ১৩৮২হি, পৃ১১৪-১১৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
তিনি শামের বাহিনীর কাছ থেকে পানি পুনরুদ্ধারের অভিযানেও অংশ নিয়েছিলেন।&amp;lt;ref&amp;gt;মাজলিসী, মুহাম্মাদ বাকির, বিহারুল আনওয়ার, তেহরান, ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬৩শ, জি৪৪, পৃ২৬৬।&amp;lt;/ref&amp;gt; যদিও বলা হয়ে থাকে যে, সিফফিনের যুদ্ধ সম্পর্কিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইমাম আলী (আ.) হাসানাইন তথা ইমাম হাসান ও হুসাইন (আলাইহিস সালাম)-কে যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখতেন। আর এর কারণ হিসেবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি) এর বংশধর টিকিয়ে রাখার কথা উল্লেখ করতেন।&amp;lt;ref&amp;gt;আরবলী, আলী বিন ঈসা, কাশফুল গুম্মা ফি মারিফাতিল আইম্মাহ, কুম, রেযি, প্রথম মুদ্রণ, ১৪২১হি, জি১, পৃ৫৬৯; সাইয়েদ রেযী, মুহাম্মাদ বিন হোসাইন, নাহজুল বালাগা, তাহকিক: সুবহী সালেহ, কুম, হিজরত, ১৪১৪হি, খুতবা ২০৭, পৃ৩২৩।&amp;lt;/ref&amp;gt; কোন কোন সূত্রে [[নাহরাওয়ানের]] যুদ্ধেও তার উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে আবদিল বার, আল-ইস্তিয়াব ফি মারিফাতিল আসহাব, তাহকিক: আলী মুহাম্মাদ আল-বাজাউই, বেইরুত, দারুল জিল, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১২হি, জি৩, পৃ৯৩৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অনেক সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইমাম হুসাইন (আ.) ইমাম আলী (আ.)-এর শাহাদাতের সময় তাঁর পাশেই ছিলেন&amp;lt;ref&amp;gt;তাবারি, মুহাম্মাদ বিন জারির, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, দারুত তারাস, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ১৪৭।&amp;lt;/ref&amp;gt; এবং তাঁর দাফন ও কাফন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে কুতাইবা দিনওয়ারী, আল-ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ, তাহকিক: আলী শিরি, বেইরুত, দারুল আদওয়া, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১০হি, জি১, পৃ১৮১; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মারিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, বেইরুত, ১৪১৪হি, জি১, পৃ২৫।&amp;lt;/ref&amp;gt; আবার এটিও বলা হয়েছে যে, ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর পিতার আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার সময় কোন একটি দায়িত্ব পালনের জন্য মাদায়েনে অবস্থান করছিলেন  এবং ইমাম হাসান (আ.)-এর চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে কুফায় প্রত্যাবর্তন করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;কুলাইনি, মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব, আল-কাফি, তেহরান, দারুল কুতুবুল ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬২শ, জি৩, পৃ২২০; বালাযুরী, আহমাদ বিন ইয়াহইয়া, আনসাবুল আশরাফ, তাহকিক: সুহাইল যাকার ও রিয়াদ জরকালী, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৭হি, জি২, পৃ৪৯৭-৪৯৮।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ইমাম হাসান (আ.)-এর যুগ == &lt;br /&gt;
[[ইমাম হুসাইন (আ.)]] তাঁর ভাই ইমাম হাসান (আ.)-এর ইমামত ও শাসনামলে বড় ভাইয়ের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতেন। এমনকি বলা হয়েছে যে, তিনি সম্পূর্ণরূপে তার আদেশের অনুগত ছিলেন এবং ইমাম হাসান (আ.)-এর উপস্থিতিতে কোনো কথা বলতেন না।&amp;lt;ref&amp;gt;কুলাইনি, মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব, আল-কাফি, তেহরান, দারুল কুতুবুল ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬২শ, জি১, পৃ২৯১; ইবনে শহর আশুব, মুহাম্মাদ বিন আলী, মানাকিবু আলে আবি তালিব, কুম, আল্লামা, ১৩৭৯হি, জি৩, পৃ৪০১।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইমাম হাসানের প্রতি আনুগত্য এতটাই প্রবল ছিল যে, শামের বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য জোর দাবি জানানো খাওয়ারিজদের বাইয়াতের অনুরোধ গ্রহণ করতেও তিনি অস্বীকৃতি জানান।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে কুতাইবা দিনওয়ারী, আল-ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ, তাহকিক: আলী শিরি, বেইরুত, দারুল আদওয়া, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১০হি, জি১, পৃ১৮৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইমাম হুসাইন (আ.) [[মুয়াবিয়ার]] সাথে সন্ধির ঘটনায় তাঁর ভাইয়ের পক্ষ অবলম্বন করেন এবং তাঁর ভাইয়ের সিদ্ধান্তের প্রতি একনিষ্ঠ সমর্থন জ্ঞাপন করেন&amp;lt;ref&amp;gt;দিনওয়ারী, আহমাদ বিন দাউদ, আল-আখবারু তিওয়াল, তাহকিক: আবদুল মুনিম আমির, পুনঃমূল্যায়ন: জামালুদ্দীন শিয়াল, কুম, মনশুরাতে রেযি, ১৩৬৮শ, পৃ২২১।&amp;lt;/ref&amp;gt; এবং তার ইমামতের উপর গুরুত্বারোপ করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;তুসী, ইখতিয়ারু মারিফাতির রিজাল (রিজালুল কাশি), মাশহাদ, দানেশগাহে মাশহাদ, ১৩৪৮শ, পৃ১১০।&amp;lt;/ref&amp;gt; যদিওবা কোন কোন প্রতিবেদনে, মুয়াবিয়ার নিকট তার বাইয়াত না করা&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে আ&#039;ছাম, আহমাদ, আল-ফুতূহ, বেইরুত, দারুল আদওয়া, ১৪১১হি, জি৪, পৃ২৯২; ইবনে শহর আশুব, মুহাম্মাদ বিন আলী, মানাকিবু আলে আবি তালিব, কুম, আল্লামা, ১৩৭৯হি, জি৪, পৃ৩৫।&amp;lt;/ref&amp;gt; এবং তার ভাইয়ের সিদ্ধান্তে তার সমর্থনহীনতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, দারুত তারাস, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ১৬০; ইবনে আসাকির, আলী বিন হাসান, তারিখে মাদিনাতি দামিশক, বেইরুত, দারুল ফিকর, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১৫হি, জি১৩, পৃ২৬৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
৪১ হিজরিতে মুয়াবিয়ার সাথে সন্ধি হওয়ার পর, ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর ভাইয়ের সাথে [[কুফা]] থেকে [[মদিনা]]য় ফিরে আসেন।&amp;lt;ref&amp;gt;তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, দারুত তারাস, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ১৬৫; ইবনে জাওযী, আবদুর রহমান বিন আলী, আল-মুনতাজিম ফি তারিখুত তাবারি, তাহকিক: মুহাম্মাদ আবদুল কাদের আত্তা ও মুস্তাফা আবদুল কা&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ইমামতকাল ==&lt;br /&gt;
ইমাম হুসাইন (আ.) [[৫০ হিজরিতে]] তার ভাইয়ের শাহাদাতের পর ইমামতের দায়িত্ব লাভ করেন এবং [[৬১ হিজরি]] পর্যন্ত ইমামতের দায়িত্ব পালন করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;সাবেরী, হোসাইন, তারিখে ফিরাকুল ইসলামিয়া – ফিরাকুশ শিয়া ও তাদির মুনতাসিব ফিরকাসমূহ, তেহরান, সেমত, পঞ্চম মুদ্রণ, ১৩৮৮শ, জি১, পৃ১৮১।&amp;lt;/ref&amp;gt; শিয়া পণ্ডিতরা [[মাসুম (নিষ্পাপ) ইমামগণের]] ইমামত প্রমাণের জন্য সাধারণ দলিলসমূহ&amp;lt;ref&amp;gt;উদাহরণস্বরূপ দেখুন: শাইখ সাদূক, মুহাম্মাদ বিন আলী বিন বাবুয়াইহ, আল-ইতিকাদাতুল ইমামিয়্যাহ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪১৪হি, পৃ১০৪; ইবনে বাবুয়াইহ কুমী, আবুল হাসান বিন আলী, আল-ইমামাহ ওয়াত তাবসিরাহ মিনাল হিরাহ, তাহকিক: আলী আকবর গাফারী, তেহরান, দারুল কুতুবুল ইসলামিয়া, ১৩৬৩শ, পৃ১০৪।&amp;lt;/ref&amp;gt; ছাড়াও ইমাম [[হুসাইন (আ.)]] এর ইমামতের বিশেষ দলিল হিসেবে রাসূলুল্লাহ (স.)-হতে বর্ণিত একটি হাদিসের উল্লেখ করেছেন, যেখানে মহানবীর (স.) তাঁকে ইমাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;শাইখ মুফিদ, মুহাম্মাদ বিন নুমান, আল-ইরশাদ ফি মারিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, বেইরুত, ১৪১৪হি, জি২, পৃ৩০।&amp;lt;/ref&amp;gt; এছাড়া, ইমাম আলী (আ.) কর্তৃক ইমাম হাসান (আ.)-এর পর ইমাম হুসাইন (আ.)-এর ইমামতের উপর গুরুত্বারোপ করাসহ&amp;lt;ref&amp;gt;কুলাইনি, মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব, আল-কাফি, তেহরান, দারুল কুতুবুল ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬২শ, জি১, পৃ২৯৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;  ইমাম হাসান (আ.)-এর পক্ষ থেকে তাঁর পরবর্তী ইমাম হিসেবে ইমাম হুসাইন (আ.)-কে ঘোষণা করাকে&amp;lt;ref&amp;gt;কুলাইনি, আল-কাফি, তেহরান, দারুল কুতুবুল ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬২শ, জি১, পৃ৩০১।&amp;lt;/ref&amp;gt; অন্যান্য বিশেষ প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইমাম হাসান (আ.)-এর শাহাদাতের পরও ইমাম হুসাইন (আ.) মুয়াবিয়ার সাথে তার বাইয়াত ভঙ্গ করেননি।&amp;lt;ref&amp;gt;শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৩২।&amp;lt;/ref&amp;gt; এমনকি কিছু সংখ্যক শিয়াদের (যারা মুয়াবিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য সৈন্য সংগ্রহ করতে চেয়েছিল) অনুরোধ সত্ত্বেও, তিনি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্য তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং তার ভাইয়ের সিদ্ধান্তের পক্ষে কথা বলেন&amp;lt;ref&amp;gt;দিনওয়ারী, আহমাদ বিন দাউদ, আল-আখবারুত তিওয়াল, তাহকিক: আবদুল মুনিম আমির, পুনঃমূল্যায়ন: জামালুদ্দীন শিয়াল, কুম, মনশুরাতে রেযি, ১৩৬৮শ, পৃ২২০।&amp;lt;/ref&amp;gt; এবং এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর অবধি স্থগিত রাখেন।&amp;lt;ref&amp;gt;বালাযুরী, আহমাদ বিন ইয়াহইয়া, আনসাবুল আশরাফ, তাহকিক: সুহাইল যাকার ও রিয়াদ জরকালী, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৫০।&amp;lt;/ref&amp;gt; শেখ মুফিদের মতে, ইমাম হুসাইন (আ.) মুয়াবিয়ার মৃত্যু পর্যন্ত তাকিয়া অবলম্বন এবং ইমাম হাসান (আ.)-এর সন্ধির সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতির কারণে লোকজনকে তার দিকে আহ্বান জানাননি; কিন্তু মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর তিনি তার অবস্থান ও মর্যাদা তাদের নিকট স্পষ্ট করেন, যারা এ সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন।&amp;lt;ref&amp;gt;শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, বেইরুত, ১৪১৪হি, জি২, পৃ৩১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== মুয়াবিয়ার কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান ===&lt;br /&gt;
ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, ইমাম হুসাইন (আ.) মুয়াবিয়ার হুকুমতের বিরুদ্ধে কোনো সশস্ত্র পদক্ষেপ নেননি। তবে কিছু কিছু ইতিহাসবিদ কিছু কিছু প্রমাণ এবং তাদের মধ্যকার কথোপকথনের ভিত্তিতে এমন ধারণা পোষণ করেন যে, ইমাম হুসাইন (আ.) রাজনৈতিকভাবে মুয়াবিয়ার বৈধতা মেনে নেননি।&amp;lt;ref&amp;gt;জাফরিয়ান, রাসূল, হায়াতে ফিকরী ও সিয়াসী ইমামানে শিয়া, কুম, আনসারিয়ান, ষষ্ঠ মুদ্রণ, ১৩৮১শ, পৃ১৭৫।&amp;lt;/ref&amp;gt; এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে মুয়াবিয়ার নীতির বিরোধিতা করতেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
মুয়াবিয়া কর্তৃক [[হাযর ইবনে আদি]], আমর ইবনে হামক খুজাই এবং আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াহিয়া হাদরামি’র ন্যায় সাহাবী হত্যার ন্যায় কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর প্রতিবাদ ঐতিহাসিক সূত্রগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;দিনওয়ারী, আল-আখবারুত তিওয়াল, কুম, ১৩৬৮শ, পৃ২২৪-২২৫; বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, ১৪১৭হি, জি৫, পৃ১২০-১২১; ইবনে কুতাইবা দিনওয়ারী, আল-ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ, বেইরুত, ১৪১০হি, জি১, পৃ২০২-২০৪।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইমাম হুসাইন (আ.) মুয়াবিয়াকে উদ্দেশ্য করে লেখা একটি চিঠিতে ইমাম আলী (আ.)-এর সঙ্গীদের হত্যার নিন্দা জানান এবং মুয়াবিয়ার অন্যায় কাজের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি ধর্ম পুনরুজ্জীবিত করার জন্য মুয়াবিয়ার বিরুদ্ধে জিহাদকে আবশ্যক বলে উল্লেখ করেন এবং তার শাসনকে ইসলামী উম্মাহর জন্য একটি বড় ফিতনা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, ১৪১৭হি, জি৫, পৃ১২১-১২২; ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, ১৪১৮হি, জি১০, পৃ৪৪০; তুসী, ইখতিয়ারু মারিফাতির রিজাল (রিজালুল কাশি), মাশহাদ, ১৩৪৮শ, পৃ৫০; যাহাবী, তারিখুল ইসলাম, বেইরুত, ১৪০৯হি, জি৫, পৃ৬; ইবনে আসাকির, তারিখে মাদিনাতি দামিশক, বেইরুত, ১৪১৫হি, জি১৪, পৃ২০৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
৫৬ হিজরিতে, যখন মুয়াবিয়া সন্ধিচুক্তির উত্তরসূরি নিয়োগের অধিকার সংক্রান্ত শর্তটি লঙ্ঘন করে লোকজনকে ইয়াজিদের নিকট বাইয়াত করার আহ্বান জানায়&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে কাসির, ইসমাইল বিন উমর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, বেইরুত, দারুল ফিকর, বি-তা, জি৮, পৃ৭৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; তখন ইমাম হুসাইনসহ (আ.) কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তি মুয়াবিয়া পুত্র ইয়াজিদের প্রতি বাইয়াত করতে অস্বীকার করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;http://ensani.ir/fa/article/45732/&amp;lt;/ref&amp;gt; মুয়াবিয়া মদিনায় গিয়ে ইয়াজিদের পক্ষে এই শহরের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের সমর্থন লাভের চেষ্টা করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে কুতাইবা দিনওয়ারী, আল-ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ, বেইরুত, ১৪১০হি, জি১, পৃ২০৪।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইমাম হুসাইন একটি বৈঠকে, যেখানে মুয়াবিয়া, [[ইবনে আব্বাস]] এবং কিছু দরবারি ও উমাইয়া পরিবারের সদস্য উপস্থিত ছিলেন, মুয়াবিয়াকে তিরস্কার করেন এবং ইয়াজিদের চরিত্রের দিকে ইঙ্গিত করে তার উত্তরসূরী করার প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকতে বলেন। ইমাম হুসাইন (আ.) তখন তার নিজের মর্যাদা ও অধিকারের উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ইয়াজিদের বাইয়াতের স্বপক্ষে মুয়াবিয়া কর্তৃক উত্থাপিত যুক্তিগুলি খণ্ডন করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে কুতাইবা দিনওয়ারী, আল-ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ, বেইরুত, ১৪১০হি, জি১, পৃ২০৮-২০৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এছাড়া, সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হওয়া আরেকটি সভায়, যেখানে, ইয়াজিদের যোগ্যতা সম্পর্কে মুয়াবিয়া কর্তৃক প্রদত্ত বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইমাম হুসাইন নিজেকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে খিলাফতের জন্য অধিক যোগ্য বলে দাবি করেন। সেখানে তিনি মুয়াবিয়া পুত্র ইয়াজিদকে মদ্যপ ও কামুক হিসেবে চিহ্নিত করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে কুতাইবা দিনওয়ারী, আল-ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ, বেইরুত, ১৪১০হি, জি১, পৃ২১১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
৫৮ হিজরিতে, মুয়াবিয়ার পক্ষ থেকে শিয়াদের উপর চাপের কারণে&amp;lt;ref&amp;gt;একদল ইতিহাসবিদ, তারিখে কিয়াম ও মাকতালুল জামি লি সাইয়্যিদুশ শুহাদা, ১৩৮৯, জি১, পৃ৩৯২।&amp;lt;/ref&amp;gt;, ইমাম হুসাইন (আ.) মিনায় একটি প্রতিবাদমূলক ভাষণ দেন।&amp;lt;ref&amp;gt;হারানি, হাসান বিন শুবাহ, তুহফুল উকুল, কুম, জামিয়া মুদাররেসিন, ১৪০৪হি, পৃ৬৮।&amp;lt;/ref&amp;gt; সেই ভাষণে তিনি আমিরুল মুমিনীন [[আলী ইবনে আাবি তালিব (আলাইহিস সালাম)]] ও [[আহলে বাইতে]]র গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন এবং জনগণকে &amp;quot;[[আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার]]&amp;quot; (সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে বাধা দেওয়া)-এর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি এই ইসলামী দায়িত্বের গুরুত্বের উপর তাগিদ দেন এবং আলেমদেরকে দায়িত্ব সম্পর্কে সতর্ক করেন। এছাড়াও জালিম শাসকদের বিরুদ্ধে আলেমদের বিদ্রোহের আবশ্যকতা এবং অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে তাদের নীরবতার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;হারানি, তুহফুল উকুল, কুম, ১৪০৪হি, পৃ৬৮।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
{{see also|মুয়াবিয়ার সময়ে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বিদ্রোহ থেকে বিরত থাকা}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== ইয়াজিদের খিলাফতের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ===&lt;br /&gt;
মুয়াবিয়ার মৃত্যুর [[পর ৬০ হিজরির ১৫রজব]] [[ ইয়াজিদ]] খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;বালাযুরী, আহমাদ বিন ইয়াহইয়া, আনসাবুল আশরাফ, তাহকিক: সুহাইল যাকার ও রিয়াদ জরকালী, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৫৫; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মারিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৩২।&amp;lt;/ref&amp;gt; সে তার শাসনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে জোরপূর্বক বাইয়াত নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যারা তার খিলাফত মেনে নেননি।&amp;lt;ref&amp;gt;তাবারি, মুহাম্মাদ বিন জারির, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, দারুত তারাস, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৩৩৮।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইমাম হুসাইন (আ.) বাইয়াত করতে অস্বীকৃতি জানান।&amp;lt;ref&amp;gt;আবু মিখনাফ, মাকতালুল হুসাইন (আ.), তাহকিক ও টীকা: হোসাইন আল-গাফারি, কুম, আল-মাতবাআতুল ইলমিয়া, বি-তা, পৃ৫; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৩৩।&amp;lt;/ref&amp;gt; তিনি তার পরিবার ও সঙ্গীদের নিয়ে মদিনা থেকে মক্কায় চলে যান।&amp;lt;ref&amp;gt;বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৬০; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৩৪।&amp;lt;/ref&amp;gt; সেখানের জনগণ ও উমরাহ পালনকারীদের পক্ষ থেকে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৫৬; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৩৬।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইমাম এই শহরে চার মাসেরও বেশি সময় অবস্থান করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৬৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কুফার [[শিয়ারা]] ইয়াজিদের প্রতি ইমাম হুসাইনের (আ.) বাইয়াত না করার খবর জানতে পেরে ইমামকে (আ.) কুফায় আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি লিখেন।&amp;lt;ref&amp;gt;বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৫৭-১৫৯; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৩৬-৩৮।&amp;lt;/ref&amp;gt; হুসাইন ইবনে আলী (আ.) কুফার পরিস্থিতি সম্পর্কে খবর নেওয়ার জন্য মুসলিম ইবনে আকিলকে কুফায় প্রেরণ করেন। [[মুসলিম ইবনে আকিল]] সেখানকার জনগণের সমর্থন ও বাইয়াত দেখে ইমাম হুসাইন (আ.)-কে কুফায় আসার জন্য আহ্বান জানান।&amp;lt;ref&amp;gt;শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৪১।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইমাম তার পরিবার ও সঙ্গীদের নিয়ে ৮ জিলহজ্জ মক্কা থেকে কুফার দিকে রওনা হন।&amp;lt;ref&amp;gt;বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৬০; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৬৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কোন কোন সূত্র অনুযায়ী, ইমাম হুসাইন (আ.) মক্কায় অবস্থানকালীন সময়ে, তাকে হত্যার জন্য একটি ষড়যন্ত্রের কথা যখন জানতে পারেন তখন মক্কার পবিত্রতা রক্ষার জন্য এই শহর ত্যাগ করে ইরাকের দিকে যাত্রা করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪১৮হি, জি১০, পৃ৪৫০; ইবনে কাসির, ইসমাইল বিন উমর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, বেইরুত, দারুল ফিকর, বি-তা, জি৮, পৃ১৫৯ ও ১৬১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
{{see also|ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বিদ্রোহের পূর্বের রাজনৈতিক কার্যক্রম}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== কারবালার ঘটনা ==&lt;br /&gt;
[[কারবালার ঘটনা]] হচ্ছে ইমাম হুসাইন (আ.) এর পক্ষ থেকে ইয়াজিদের প্রতি বাইয়াত করতে অস্বীকৃতি জানানোর ফল। হুসাইন (আ.) কুফাবাসীদের আমন্ত্রণে তার পরিবার ও সঙ্গীদের নিয়ে কুফার দিকে রওনা হন; কিন্তু যুহাসম নামক স্থানে [[হুর ইবনে ইয়াজিদ রিয়াহি]]র নেতৃত্বে গঠিত একটি সৈন্যদলের বাধার মুখে পড়েন এবং গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হন।&amp;lt;ref&amp;gt;তাবারি, মুহাম্মাদ বিন জারির, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, দারুত তারাস, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪০৮; ইবনে মিসকাওয়াইহ, আহমাদ বিন মুহাম্মাদ, তাজারিবুল উমাম ওয়া তাকাকুবুল হিমাম, তাহকিক: আবুল কাসিম ইমামি, তেহরান, সোরোশ, ১৩৭৯শ, জি২, পৃ৬৭; ইবনে আসীর, আলী বিন আবি আল-করম, আল-কামিল ফিত-তারিখ, বেইরুত, দারুস ছাদির, ১৯৬৫মি, জি৪, পৃ৫১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইমামের কাফেলা ২ মুহাররম কারবালায় পৌঁছায়&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে আ&#039;ছাম, আহমাদ, আল-ফুতূহ, বেইরুত, দারুল আদওয়া, ১৪১১হি, জি৫, পৃ৮৩; তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪০৯; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৮৪; ইবনে মিসকাওয়াইহ, তাজারিবুল উমাম, তেহরান, ১৩৭৯শ, জি২, পৃ৬৮।&amp;lt;/ref&amp;gt; এবং [[৩ মুহাররম]] উমর ইবনে সাদের নেতৃত্বে কুফাবাসীদের নিয়ে গঠিত একটি সৈন্যদল কারবালায় প্রবেশ করে।&amp;lt;ref&amp;gt;দিনওয়ারী, আহমাদ বিন দাউদ, আল-আখবারুত তিওয়াল, তাহকিক: আবদুল মুনিম আমির, পুনঃমূল্যায়ন: জামালুদ্দীন শিয়াল, কুম, মনশুরাতে রেযি, ১৩৬৮শ, পৃ২৫৩; বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৭৬; তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪০৯; ইবনে আসীর, আল-কামিল ফিত-তারিখ, বেইরুত, ১৯৬৫মি, জি৪, পৃ৫২।&amp;lt;/ref&amp;gt; ঐতিহাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুসাইন ইবনে আলী (আ.) এবং [[উমর ইবনে সাদের]] মধ্যে বেশ কয়েকটি আলোচনা হয়&amp;lt;ref&amp;gt;তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪১৪; ইবনে মিসকাওয়াইহ, তাজারিবুল উমাম, তেহরান, ১৩৭৯শ, জি২, পৃ৭১।&amp;lt;/ref&amp;gt;; কিন্তু ইবনে জিয়াদ ইয়াজিদের হাতে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বাইয়াত অথবা যুদ্ধ ছাড়া অন্য কোনো শর্তে রাজি হয় নি।&amp;lt;ref&amp;gt;বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৮২; তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪১৪; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৮৮।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইমাম হুসাইন (আ.) [[আশুরার রাতে]] তার সঙ্গীদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পর তাদের কাছ থেকে বাইয়াত প্রত্যাহার করেন; কিন্তু তারা তার প্রতি আনুগত্য ও সমর্থনের ক্ষেত্রে অটল থাকেন।&amp;lt;ref&amp;gt;শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৯১-৯৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আশুরার সকালে যুদ্ধ শুরু হয় এবং ইমামের সঙ্গী-সাথী ও পরিবারের সদস্যদের শাহাদাতের পর&amp;lt;ref&amp;gt;তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪৪৬; ইস্পাহানী, আবুল ফারাজ, মাকাতিলুত তালিবিয়িন, তাহকিক: আহমাদ সাকির, বেইরুত, দারুল মাআরিফ, বি-তা, পৃ৮০।&amp;lt;/ref&amp;gt;, এক পর্যায়ে ইমাম নিজেও যুদ্ধের ময়দানে গিয়ে যুদ্ধে অংশ নেন এবং [[আশুরার দিন]] পড়ন্ত বিকালে শাহাদাতবরণ করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, ১৪১৩হি, জি২, পৃ১১২।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
{{see also|কারবালার শহীদদের তালিকা}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[শিমর ইবনে জিলজাওশান]]&amp;lt;ref&amp;gt;শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, ১৪১৩হি, জি২, পৃ১১২; খাওয়ারিজমী, মুওফফাক বিন আহমাদ, মাকতালুল হুসাইন (আ.), কুম, আনওয়ারুল হুদা, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪২৩হি, জি২, পৃ৪১; তাবারসি, ফজল বিন হাসান, আ’লামুল ওরা বি’আলামিল হুদা, তেহরান, ইসলামিয়া, ১৩৯০হি, জি১, পৃ৪৬৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; এবং কিছু কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী [[সিনান ইবনে আনাস]]&amp;lt;ref&amp;gt;তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪৫০-৪৫৩; ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, তাহকিক: ইহসান আব্বাস, বেইরুত, ১৯৬৮, জি৬, পৃ৪৪১; ইস্পাহানী, মাকাতিলুত তালিবিয়িন, বেইরুত, পৃ১১৮; মাসউদী, মুরুজুয যাহাব, ১৪০৯হি, জি৩, পৃ৬২।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইমামের মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে। কর্তিত মস্তক মোবারক সেই দিনই ইবনে জিয়াদের কাছে পাঠানো হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ৪১১; তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪৫৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আরও দেখুন: ইমাম হুসাইন (আ.)-এর হত্যাকারী&lt;br /&gt;
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আহলে বাইতকে (পরিবারকে) বন্দী করে প্রথমে কুফা এবং পরে শামে (সিরিয়া) পাঠানো হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪৫৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
{{see also|কারবালার ঘটনার পর আহলে বাইতের বন্দীকাল}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[ইমাম হুসাইন (আ.) এবং তার সঙ্গীদের লাশ]] ১১&amp;lt;ref&amp;gt;তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪৫৬।&amp;lt;/ref&amp;gt; বা [[১৩ মুহাররম]] বনি আসাদ গোত্রের কিছু লোকের দ্বারা এবং কোন কোন সূত্র অনুযায়ী [[ইমাম সাজ্জাদ (আলাইহিস সালাম)]]-এর উপস্থিতিতে, শাহাদাতের স্থানে দাফন করা হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;মুসাভি মুকাররাম, আবদুর রযযাক, মাকতালুল হুসাইন (আ.), বেইরুত, দারুল কিতাবুল ইসলামিয়া, পৃ৩৩৫-৩৩৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== কারবালার ঘটনার প্রতিক্রিয়া ===&lt;br /&gt;
ইয়াজিদের বিরুদ্ধে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বিপ্লব ও তার শাহাদাত ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এই বিপ্লব [[তাওয়াবিনের বিদ্রোহ]], [[মুখতারের বিদ্রোহ]], [[যায়েদ ইবনে আলীর বিদ্রোহ]] এবং [[ইয়াহইয়া ইবনে যায়েদের বিদ্রোহের]] মতো বিপ্লবী ও প্রতিবাদমূলক আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটায়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এছাড়াও, আবু মুসলিম খোরাসানির নেতৃত্বে &amp;quot;[[ইয়া লিসারাতিল হুসাইন]]&amp;quot; (হে হুসাইনের রক্তের প্রতিশোধ গ্রহণকারী) স্লোগান ব্যবহার করে হওয়া সিয়াহ জামাগানের বিদ্রোহ, যা উমাইয়াদের পতনের দিকে নিয়ে যায়,।&amp;lt;ref&amp;gt;বলধারী, আহমদ ইবনে ইয়াহিয়া, আনসাব আল-আশরাফ, সুহাইল জাক্কার এবং রিয়াজ জারকালী দ্বারা গবেষণাকৃত, বৈরুত, দারুল-ফিকর, ১৪১৭ হিজরি, খণ্ড ৯, পৃ. ৩১৭।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইরানের ইসলামী বিপ্লবও ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বিপ্লব থেকে অনুপ্রাণিত বলে বিবেচিত হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;খোমেনী, সহিফেহ নূর, ১৩৭৯, খণ্ড ১৭, পৃ. ৫৮।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাত সম্পর্কে বহু হাদিস ও ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;রায়শাহরি, ইমাম হুসাইনের বিশ্বকোষ, ২০০৯, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৬৬–৩.১৭।&amp;lt;/ref&amp;gt; এর মধ্যে একটি হাদিসে, যা মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি) থেকে বর্ণিত হয়েছে, বলা হয়েছে যে, আল্লাহ হুসাইনকে শাহাদাতের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন এবং তাকে সর্বশ্রেষ্ঠ শহীদ হিসেবে স্থান দিয়েছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;কুলাইনি, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব, আল-কাফি, তেহরান, দার আল-কুতুব আল-ইসলামিয়া, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৩৬২, খণ্ড ১, পৃ. ৫২৮; শেখ তুসী, মুহাম্মদ ইবনে হাসান, আল-গায়বা, কোম, দার আল-মা&#039;আরিফ আল-ইসলামিয়া, ১৪১১ হিজরি, পৃষ্ঠা ১৪৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== বিদ্রোহের উদ্দেশ্য ===&lt;br /&gt;
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বিদ্রোহের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। কিছু ব্যক্তি যেমন [[লুতফুল্লাহ সাফি]], [[মুর্তজা মোতাহহারি]], [[সৈয়দ মোহসেন আমিন]] এবং আলী শারিয়তি মনে করেন যে, হুসাইন ইবনে আলী (আ.)-এর বিদ্রোহের মূল উদ্দেশ্য ছিল শাহাদাত।&amp;lt;ref&amp;gt;সাফান্দিয়ারী, আশুরা শিনাখত, ১৩৮৭শ, পৃ১৫৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[সৈয়দ মুরতাজা]]&amp;lt;ref&amp;gt;সাইয়্যেদ মুর্তজা, আলী বিন হোসাইন, তানযিহুল আম্বিয়া, বেইরুত, দারুল আদওয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪০৯হি, পৃ২২৭-২২৮।&amp;lt;/ref&amp;gt; এবং তার সমসাময়িক ব্যক্তিত্ব যেমন সালেহি নাজাফআবাদি মনে করেন যে, ইমামের বিদ্রোহের উদ্দেশ্য ছিল হুকুমত গঠন।&amp;lt;ref&amp;gt;সালেহী নাজাফাবাদী, নাঅমাতুল্লাহ, শাহিদে জাবিদ, তেহরান, উম্মিদে ফেরদা, ১৩৮৭শ, পৃ১৫৭-১৫৮।&amp;lt;/ref&amp;gt; এছাড়াও, ইমামের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অন্যান্য মতামত যেমন জীবন রক্ষা করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;এশতেহার্দী, আলী পানাহ, হাফত সালা চিরা সাদা দার আওরদ?, কুম, ইন্তেশারাতে আল্লামা, প্রথম মুদ্রণ, ১৩৯১শ, পৃ১৫৪।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
{{see also| আশুরার বিদ্রোহ: একটি ঐশ্বরিক আন্দোলন নাকি জনগণের ইচ্ছা|ইমাম হুসাইন (আলাইহিস সালাম)-এর বিদ্রোহের পরিণতি সম্পর্কে সচেতনতা}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== সুন্নিদের দৃষ্টিতে ইমাম হুসাইনের (আ.) বিদ্রোহ ===&lt;br /&gt;
{{see also| গাজালির দৃষ্টিতে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বিদ্রোহ}}&lt;br /&gt;
সুন্নিদের মাঝে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বিদ্রোহ সম্পর্কে দুই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে: কিছু লোক এটির সমালোচনা করেছেন, আবার অনেকেই এটির প্রশংসা করেছেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইবনে খালদুন, নবম শতাব্দীর সুন্নি ইতিহাসবিদ, জালিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য ন্যায়পরায়ণ ইমামের উপস্থিতির উপর গুরুত্বারোপ করে হুসাইন (আ.)-কে এই যুদ্ধের জন্য সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে খালদুন, তারিখে ইবনে খালদুন, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪০১হি, জি১, পৃ২১৭।&amp;lt;/ref&amp;gt; তিনি বলেছেন যে, যখন ইয়াজিদের ফাসেক হওয়ার বিষয়টি সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠল, তখন হুসাইন (আ.) নিজেকে এই কাজের জন্য উপযুক্ত ও সক্ষম মনে করে ইয়াজিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা তার উপর কর্তব্য বলে মনে করেছিলেন।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে খালদুন, তারিখে ইবনে খালদুন, দারু ইহইয়াউত তারাসিল আরাবি, জি১, পৃ২১৬।&amp;lt;/ref&amp;gt; হিজরি ত্রয়োদশ শতাব্দীর সুন্নি আলেম শিহাবুদ্দিন আলুসি তার গ্রন্থ &amp;quot;রুহুল মাআনি&amp;quot;-তে ইবনে আরাবি’র সমালোচনাপূর্বক তাকে অভিশাপ দিয়েছেন, কারণ ইবনে আরাবি ইমাম হুসাইনের সমালোচনা করে উল্লেখ করেন, এই বিদ্রোহ ছিল অশুভ ও ফিতনা এবং এটি পরিস্থিতির সংশোধন করেনি।  ইবনে আরাবির এরূপ সমালোচনামূলক বক্তব্যকে আলুসি মিথ্যা ও একটি বড় অপবাদ বলে মনে করেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;আলূসী, রুহুল মা&#039;আনি, তাহকিক: আলী আবদুল বারী আত্তিয়া, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, ১৪১৫হি, জি১৩, পৃ২২৮।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
হিজরি চতুর্দশ শতাব্দীর মিশরীয় লেখক ও সাহিত্যিক আব্বাস মাহমুদ আক্কাদ, যিনি &amp;quot;আবুশ শুহাদা: আল-হুসাইন ইবনে আলী&amp;quot; বইয়ের রচয়িতা, লিখেছেন যে, ইয়াজিদের সময় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, শাহাদাত ছাড়া এর কোনো প্রতিকার ছিল না।&amp;lt;ref&amp;gt;আক্কাদ, আব্বাস মাহমুদ, আবুশ শুহাদা আল-হুসাইন বিন আলী, তেহরান, আল-মাজমাউল আলামী লিত্তাকরিব, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪২৯হি, পৃ২০৭।&amp;lt;/ref&amp;gt; তিনি বিশ্বাস করেন যে, এমন বিদ্রোহ কেবলমাত্র অসাধারণ ব্যক্তিরাই করতে পারে, যারা এই কাজের জন্য সৃষ্টি এবং তাদের কর্মকাণ্ডকে অন্যদের সাথে তুলনা করা যায় না; কারণ তারা ভিন্নভাবে অনুধাবন করে এবং ভিন্ন কিছু কামনা করে।&amp;lt;ref&amp;gt;আক্কাদ, আবুশ শুহাদা আল-হুসাইন বিন আলী, তেহরান, আল-মাজমাউল আলামী লিত্তাকরিব, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪২৯হি, পৃ১৪১।&amp;lt;/ref&amp;gt; সুন্নি লেখক তাহা হুসাইন মনে করেন যে হুসাইন (আলাইহিস সালাম)-এর বাইয়াত না করা জেদের বশবর্তী থেকে নয়; কারণ তিনি জানতেন যে, যদি তিনি ইয়াজিদের নিকট বাইয়াত করেন, তবে তিনি তার বিবেকের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন এবং তার ধর্মের বিরুদ্ধে কাজ করবেন, কারণ তার মতে ইয়াজিদের নিকট বাইয়াত করা ছিল পাপ।&amp;lt;ref&amp;gt;হুসাইন, তाहा, আলী ও বনুহু, কায়রো, দারুল মাআরিফ, বি-তা, পৃ২৩৯।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ওমর ফারুখও জোর দিয়ে বলেছেন যে, জুলুমের বিরুদ্ধে নীরবতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি মনে করেন যে, আজ আমাদের মুসলমানদের মধ্যে একজন &amp;quot;হুসাইন&amp;quot; প্রয়োজন, যিনি আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করবেন এবং আমাদেরকে সত্যের পক্ষে লড়াই করতে সাহায্য করবেন।[&amp;lt;ref&amp;gt;ফারুখ, ওমর, তাজদিদুন ফিল মুসলিমীন লা ফিল ইসলাম, বেইরুত, দারুল কিতাবুল আরাবি, বি-তা, পৃ১৫২।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== শোক ও শোকানুষ্ঠান ==&lt;br /&gt;
[[শিয়ারা]] এবং এমনকি শিয়া ব্যতীত অন্যরাও [[মহররম মাসে]] ইমাম হুসাইন (আ.) এবং [[কারবালার শহীদদের]] জন্য শোক পালন করে। শিয়াদের এই শোকানুষ্ঠানের মধ্যে [[মার্সিয়া খানি]], [[মাতম]] (বুক চাপড়ানো), [[তাজিয়া]] (শোক নাটক), এবং [[জিয়ারতনামা পাঠ করা]], যেমন [[জিয়ারতে আশুরা]], [[জিয়ারতে ওয়ারিস]] এবং [[জিয়ারতে নাহিয়া মুকাদ্দাসা]], যা ব্যক্তিগত ও সম্মিলিতভাবে করা হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;&amp;quot;মহররম মাসের আজাদারি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে অনুষ্ঠিত হয়&amp;quot;, খবর: আইবনা; &amp;quot;ইরানের বিভিন্ন শহরের মহররম মাসের আচার-অনুষ্ঠান&amp;quot;, ওয়েবসাইট।&amp;lt;/ref&amp;gt; যে স্থানগুলি মানুষের শোক পালনের জন্য নির্ধারিত হয়, তাকে হুসাইনিয়া বলা হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জন্য শোকানুষ্ঠান পালন আশুরার পর প্রথম দিন থেকেই শুরু হয়েছিল।&amp;lt;ref&amp;gt;বালাযুরী, আহমাদ বিন ইয়াহইয়া, আনসাবুল আশরাফ, তাহকিক: সুহাইল যাকার ও রিয়াদ জরকালী, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ২০৬।&amp;lt;/ref&amp;gt; একটি রেওয়ায়েত অনুযায়ী, [[কারবালার বন্দীরা]] শামে (সিরিয়া) থাকাকালীন, বনি হাশিমের নারীরা কয়েক দিন কালো পোশাক পরিধান করে শোক পালন করেছিলেন।&amp;lt;ref&amp;gt;মাজলিসী, মুহাম্মাদ বাকির, বিহারুল আনওয়ার, তেহরান, ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬৩শ, জি৪৫, পৃ১৯৬।&amp;lt;/ref&amp;gt; শিয়া সরকারগুলির ক্ষমতায় আসার পর এবং শিয়াদের উপর চাপ কমে যাওয়ার পর, শোকানুষ্ঠান একটি আনুষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।&amp;lt;ref&amp;gt;আইনেহওয়ান্দ, সাদেক ও ওলায়েতি, আলী আকবর, সুন্নতে আজাদারি ওয়া মুনকাবাতখানি দার তারিখে শিয়া ইমামিয়া, মুখবন্ধ: মুহাম্মাদ তাকিজাদেহ দাওরি, কুম, মো&#039;আসসাসায়ে শিয়াশেনাসি, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৬শ, পৃ৬৫-৬৬; ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, জি১১, পৃ১৮৩; ইবনে জাওযী, আল-মুনতাজিম ফি তারিখুত তাবারি, তাহকিক: মুহাম্মাদ আবদুল কাদের আত্তা ও মুস্তাফা আবদুল কাদের আত্তা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, ১৯৯২মি, জি৭, পৃ১৫।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[শিয়া]] ও [[সুন্নি]] উভয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, [[নবী করিম (স.)]]] ইমাম হুসাইন (আ.) ভুমিষ্ঠ হওয়ার পর কেঁদেছিলেন এবং তার শাহাদাতের সংবাদ প্রদান করেছিলেন।&amp;lt;ref&amp;gt;শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ১২৯; মাকরিজী, তাকিউদ্দীন, ইমতিয়াউল আসমা বিমা লিন্নাবি মিনাল আহওয়াল ওয়াল আমওয়াল ওয়াল হাফাদাহ ওয়াল মাতায়া, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, ১৪২০হি, জি১২, পৃ২৩৭; ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, বেইরুত, দারুল ফিকর, বি-তা, জি৬, পৃ২৩০।&amp;lt;/ref&amp;gt; ঐতিহাসিক ও হাদিস সূত্র অনুযায়ী, শিয়া ইমামগণ হুসাইন ইবনে [[আলী (আ.)]]-এর শোকে শোকাহত হওয়া ও ক্রন্দনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতেন এবং শিয়াদেরকে এই কাজ ও আশুরার স্মৃতি জীবিত রাখার জন্য উপদেশ দিতেন।&amp;lt;ref&amp;gt;মাজলিসী, মুহাম্মাদ বাকির, বিহারুল আনওয়ার, তেহরান, ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬৩শ, জি৪৪, باب ৩৪, পৃ২৭৮-২৯৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
{{see also|ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শোকে শোকাহত হওয়া|শোকানুষ্ঠানের বিবর্তন|শিয়া ইমামদের ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জন্য শোক পালন}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মাজার ==&lt;br /&gt;
[[চিত্র:حرم امام حسین(ع).jpg|250px|থাম্ব|১৯৩২ সালে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মাজারের একটি দৃশ্য।]]&lt;br /&gt;
প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, হুসাইন ইবনে আলী (আ.)-এর মাজারের প্রথম স্থাপনাটি [[মুখতার সাকাফি]]র সময়ে এবং তার নির্দেশে নির্মিত হয়েছিল। ইমাম হুসাইন (আ.) এর মাজারের স্থাপনাটি বহুবার সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;আল-তোয়ামাহ, সালমান হাদি, কারবালা ওয়া হারামহায়ে মতাহার, তেহরান, মো&#039;আসসাসায়ে মাশআর, বি-তা, পৃ৮৯-১১২।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মাজার [[আব্বাসীয় খলিফা]]&amp;lt;ref&amp;gt;ইস্পাহানী, আবুল ফারাজ, মাকাতিলুত তালিবিয়িন, তাহকিক: আহমাদ সাকির, বেইরুত, দারুল মাআরিফ, বি-তা, পৃ৪৭৭।&amp;lt;/ref&amp;gt; এবং [[ওয়াহাবিদের]]&amp;lt;ref&amp;gt;একদল লেখক, নগাহে নও বে জরিয়ানে আশুরা, ১৩৮৭শ, পৃ৪২৫।&amp;lt;/ref&amp;gt; দ্বারা কয়েকবার ধ্বংস করা হয়েছিল; উদাহরণস্বরূপ, মুতাওয়াক্কিল আব্বাসী মাজারের জমি চাষ করতে এবং সমাধি’র উপর পানি ঢালার নির্দেশ প্রদান করে।&amp;lt;ref&amp;gt;শাইখ তুসী, মুহাম্মাদ বিন হাসান, আল-আমালি, কুম, দারুস সাকাফা, ১৪১৪হি, পৃ৩২৭; ইবনে শহর আশুব, মুহাম্মাদ বিন আলী, মানাকিবু আলে আবি তালিব, কুম, আল্লামা, ১৩৭৯হি, জি২, পৃ২১১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর সমাধির  এলাকাটিকে &amp;quot;হায়েরে হুসাইনী&amp;quot; বলা হয়। হায়েরে’র এলাকাটির বিশেষ ফজিলত ও ফিকহি বিধান রয়েছে। একজন মুসাফির এখানে পূর্ণ নামাজ আদায় করতে পারেন।&amp;lt;ref&amp;gt;তাবাতাবাই ইয়াযদি, সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ কাজেম, আল-ওরওয়াতুল উতক্বা, বেইরুত, ১৪০৪হি, জি২, পৃ১৬৪।&amp;lt;/ref&amp;gt; হায়েরের সঠিক আয়তন সম্পর্কে কয়েকটি মত রয়েছে এবং এর ন্যূনতম সীমা হল ইমাম হুসাইন (আ.)-এর সমাধি থেকে ১১ মিটার ব্যাসার্ধের একটি এলাকা, যার বিশেষ গুরুত্ব ও মর্যাদা রয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;কালিদার, আবদুল জাওয়াদ, তারিখে কারবালা ওয়া হায়েরে হুসাইন (আ.), নজাফ, অফসেট প্রিন্টিং: কুম, ১৩৭৬শ, পৃ৫১-৫২, ৫৮-৬০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জিয়ারত  ==&lt;br /&gt;
মাসুম ইমামদের রেওয়ায়েতে, ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জিয়ারতের উপর অত্যাধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং এটি সর্বোত্তম ও সর্বাধিক ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;মৌলানা ইমাম হাদী (আ.) ইনস্টিটিউট, জামে জিয়ারাতে মা&#039;সুমিন, কুম, পিয়ামে ইমাম হাদী (আ.), ১৩৮৯শ, জি৩, পৃ৩৬-৬৯।&amp;lt;/ref&amp;gt; এমনকি এর সওয়াব [[হজ্জ]] ও [[উমরাহ]]র সমান বলে গণ্য করা হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে কুলুওয়াইহ, জাফর বিন মুহাম্মাদ, কামালুজ জিয়ারাত, নাজাফ, দারুল মরতাযাভিয়া, ১৩৫৬হি, পৃ১৫৮-১৬১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
জিয়ারত সংক্রান্ত বইগুলিতে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জন্য বেশ কয়েকটি মুতলাক জিয়ারত (যে কোনো সময় পড়া যায়)&amp;lt;ref&amp;gt;মুহাম্মাদী রায়শাহরী, মুহাম্মাদ ও সহযোগীরা, দানেশ নামায়ে ইমাম হুসাইন (আ.), অনুবাদ: মুহাম্মাদ মোরাদী, কুম, দারুল হাদিস, ১৪৩০হি, জি১২, পৃ২৫৬-৪৫২।&amp;lt;/ref&amp;gt; এবং বেশ কয়েকটি বিশেষ জিয়ারত (নির্দিষ্ট সময়ে পড়া হয়) সংকলিত হয়েছে।&amp;lt;ref&amp;gt;&amp;quot;বিশেষ জিয়ারতসমূহ: ইমাম হুসাইন (আ.)&amp;quot;, হাওযা তথ্য সংরক্ষণ পোর্টাল।&amp;lt;/ref&amp;gt; [[জিয়ারতে আশুরা]], [[জিয়ারতে ওয়ারিস[[ এবং [[জিয়ারতে নাহিয়া মুকাদ্দাসা]] এই জিয়ারতনামাগুলির মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
=== আরবাঈন ===&lt;br /&gt;
{{main|আরবাঈন}}&lt;br /&gt;
শিয়ারা ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাতের চল্লিশতম দিনে, যা আরবাইন নামে পরিচিত, শোক পালন করে। ইমাম হুসাইন (আ.)-এর ভক্তরা এই দিনে কারবালায় ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে যায়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কিছু ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, [[কারবালার বন্দীরা]] শাম থেকে [[মদিনা]]য় ফেরার পথে আরবাইনের দিনে কারবালার শহীদদের জিয়ারত করেছিলেন।&amp;lt;ref&amp;gt;সাইয়্যেদ ইবনে তাওউস, আলী বিন মূসা, আল-মালহূফ আলা কাতলা তুফূফ, কুম, আসওয়া, ১৪১৪হি, পৃ২২৫।&amp;lt;/ref&amp;gt; যেমন বলা হয়েছে, [[জাবির ইবনে আবদুল্লাহ আনসারী]] ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি এই দিনে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মাজারে উপস্থিত হয়েছিলেন।&amp;lt;ref&amp;gt;শাইখ তুসী, মুহাম্মাদ বিন হাসান, মিসবাহুল মুতাহাজ্জিদ, বেইরুত, মও’আসসাসায়ে ফিকহুশ শিয়াহ, ১৪১১হি, পৃ৭৮৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[আরবাইনের জিয়ারতের]] প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করার কারণে শিয়ারা প্রতি বছর বিভিন্ন স্থান থেকে কারবালার দিকে যাত্রা করে। এই যাত্রা, যা সাধারণত পায়ে হেঁটে সম্পন্ন হয়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমাবেশগুলির মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হয়। সংবাদ মাধ্যম ২০১৯ সালে আরবাইনের জিয়ারতকারীর সংখ্যা ১৮ মিলিয়নেরও অধিক বলে উল্লেখ করে।&amp;lt;ref&amp;gt;&amp;quot;এ বছরের আরবাইনের জিয়ারতকারীদের সংখ্যা ১৮ মিলিয়ন অতিক্রম করেছে&amp;quot;, ইরান ইসলামি গণমাধ্যম সংস্থা।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch = تاریخ&lt;br /&gt;
 | subbranch1 = تاریخ و سیره معصومان&lt;br /&gt;
 | subbranch2 = امام حسین(ع)&lt;br /&gt;
 | subbranch3 =&lt;br /&gt;
 | شاخه فرعی۴ =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه =شد&lt;br /&gt;
 | تیترها =شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | بازبینی نویسنده =&lt;br /&gt;
 | ارزیابی کمی =&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت =ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت =ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:امام حسین علیه‌السلام]]&lt;br /&gt;
[[ms:Imam Husain as]]&lt;br /&gt;
[[ru:Имам Хусейн (мир ему)]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC_%E0%A6%86%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A6%BE_%E0%A6%93_%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8&amp;diff=981</id>
		<title>শিয়াদের নিজস্ব আকিদা ও বিশ্বাস</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC_%E0%A6%86%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A6%BE_%E0%A6%93_%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8&amp;diff=981"/>
		<updated>2025-02-21T22:42:14Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
শিয়া ইমামিয়া মাযহাবের নিজস্ব আকিদা ও বিশ্বাসগুলি কী কী?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
শিয়াদের নিজস্ব বিশ্বাসের মধ্যে রয়েছে [[বেলায়াত,]] বাদা, [[রাজআত]] এবং ইমামতের ধারাবাহিকতা। অন্যান্য বিশ্বাস যেমন ইমামত, [[শাফাআত]], আল্লাহর ন্যায়বিচার, [[তাওয়াস্সুল]] এবং মাহদাভিয়াত ইসলামের সাধারণ বিশ্বাস, তবে এগুলির অর্থ ও ব্যাখ্যায় মতভেদ রয়েছে অথবা এর বাস্তব প্রয়োগ ও উদাহরণ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== বেলায়াত ==&lt;br /&gt;
শহীদ মুতাহহারী বলেন, &lt;br /&gt;
::&amp;quot;ইমামত [শিয়াদের কাছে সামাজিক নেতৃত্ব ও ধর্মীয় প্রাধিকার ছাড়াও] একটি তৃতীয় মর্যাদার অধিকারী; যা ইমামতের সর্বোচ্চ ধারণা এবং শিয়া গ্রন্থগুলি এই বিষয়ে পরিপূর্ণ। এটি হল বেলায়াত অর্থে ইমামত [অর্থাৎ] প্রতিটি যুগে একজন [[পরিপূর্ণ মানুষ]] (ইমাম) থাকেন, যিনি সমগ্র মানবতার আধ্যাত্মিকতার বাহক... এই অর্থে তিনি একটি সামগ্রিক আত্মা এবং সকল আত্মার (ও জগতের বিষয়াদির) উপর কর্তৃত্বশীল।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
শিয়াদের কাছে বেলায়াত “যুগের হুজ্জাত (প্রমাণ)” অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং শিয়াদের শিক্ষা অনুযায়ী পৃথিবী কখনও হুজ্জাত-শূন্য থাকে না: &amp;quot;হুজ্জাত না থাকলে পৃথিবী তার অধিবাসীদের গিলে ফেলবে&amp;quot; অর্থাৎ কখনও এমন সময় আসেনি এবং আসবে না যখন পৃথিবী একজন পরিপূর্ণ মানুষ (ও আল্লাহর খলিফা) থেকে খালি থাকবে; এবং সেই পরিপূর্ণ মানুষের অনেক মর্যাদা ও মাকাম থাকবে এবং আমরা বেশিরভাগ জিয়ারতনামায় যা পড়ি তাতে এই ধরনের বেলায়াত ও ইমামতের স্বীকৃতি দিই, অর্থাৎ আমরা বিশ্বাস করি যে, ইমাম এমনই সামগ্রিক আত্মার অধিকারী হয়ে থাকেন।&amp;quot;.&amp;lt;ref&amp;gt;ইমামত ও নেতৃত্ব – আল্লামা শাহীদ মোতাহারি, পৃষ্ঠা ৫৬, ইনতেশারাতে সদরা।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== বাদা ==&lt;br /&gt;
পবিত্র কুরআন কারীমের এই আয়াতে বাদার উল্লেখ করা হয়েছে: {{quran|یَمْحُو اللَّهُ مَا یَشَاءُ وَیُثْبِتُ ۖ وَعِنْدَهُ أُمُّ الْکِتَابِ|translation=আল্লাহ যা চান (যা পূর্বে লিপিবদ্ধ হয়নি) তা তিনি লিপিবদ্ধ করেন এবং উম্মুল কিতাব (সব কিতাব ও লেখার মূল এবং মাতা) একমাত্র তার কাছেই রয়েছে।|sura=রাদ ১৩|verse=৩৯}} &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বাদা মূলত &amp;quot;কারও কাছ থেকে কিছু প্রকাশ পাওয়া&amp;quot; অর্থে ব্যবহৃত হয়, এবং পারিভাষিক অর্থে [[বাদা]] হল আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে এমন কিছু প্রকাশ পাওয়া যা মানুষের কাছে অজানা ছিল এবং তারা এর বিপরীত ধারণা করত(&#039;&#039;اظهار بعد الخفاء&#039;&#039;)।&amp;lt;ref&amp;gt;আওয়ায়েল আল-মাকালাত – শেখ মুফিদ কুদ্দাস সাররাহু, পৃষ্ঠা ৮০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
শহীদ মুতাহহারী বলেন, &lt;br /&gt;
::বাদা’র অর্থ (শিয়া কালাম শাস্ত্রের পরিভাষায়) হল আল্লাহর [[কাজা ও কাদারের]] ক্ষেত্রে পুনর্বিবেচনা ঘটা। এর উদ্দেশ্য হল মানব ইতিহাসের ঘটনাবলীতে, আল্লাহ মানব ইতিহাসের অগ্রগতি বা পশ্চাদপসরণের জন্য কোন চূড়ান্ত রূপ নির্ধারণ করেননি। অর্থাৎ হে মানুষ, তুমি নিজেই আল্লাহর কাযা ও কাদরের বাস্তবায়নকারী, তুমিই ইতিহাসকে এগিয়ে নিতে পার, পিছিয়ে নিতে পার। স্থির রাখতে পার, প্রকৃতির দিক থেকে, জীবনের উপকরণের দিক থেকে বা আল্লাহর ইচ্ছার দিক থেকে কোন কিছুই ইতিহাসের উপর শাসন করে না।&amp;lt;ref&amp;gt;মানবজাতির সামাজিক বিকাশ – আল্লামা মোতাহারি, পৃষ্ঠা ১৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== রাজআত ==&lt;br /&gt;
রাজআত মানে প্রত্যাবর্তন। শিয়া কালাম শাস্ত্রে রাজাতের অর্থ হল [[কিয়ামতের]] আগে, [[ইমাম মাহদী (আ.)]]-এর শাসনামলের পরবর্তী সময়ে রাজাতের যুগ আসবে। তখন বিভিন্ন যুগের সৎ ও অসৎ লোকেরা পৃথিবীতে ফিরে আসবে। সৎ লোকেরা আহলে বাইতের মহান শাসন দেখার জন্য,[[ ন্যায়বিচারের]] শাসন প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য এবং আল্লাহ যে পুরস্কার নির্ধারণ করেছেন তা দুনিয়াতে লাভ করার জন্য ফিরে আসবে। আর অসৎকর্মী ও হঠকারী কাফেররা দুনিয়াতে শাস্তি ও আজাব ভোগ করার জন্য ফিরে আসবে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[ইমাম সাদিক (আ.)]] বলেন, {{arabic|إنّ الرجعة لیست بعامة و هی خاصة لا یرجع الا من محض الایمان محضا او محض الشرک محضا|translation=রাজআত সার্বজনীন নয়, বরং তা নির্দিষ্ট। শুধু খাঁটি মুমিন বা খাঁটি মুশরিকরাই ফিরে আসবে।&amp;quot; কিছু হাদীস অনুযায়ী, ইমামদের (আ.) মধ্যে সর্বপ্রথম যিনি রাজআত করবেন তিনি হলেন [[ইমাম হুসাইন (আ.)]]}}।&amp;lt;ref&amp;gt;মিজান আল-হিকমা – রেই শাহরি, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৯৮২।&amp;lt;/ref&amp;gt; [[ইমাম রেজা (আ.)]] থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেছেন, {{arabic||translation=... (রাজআত) সত্য, এটি পূর্ববর্তী উম্মতদের মধ্যেও ছিল এবং কুরআন এ বিষয়ে আলোচনা করেছে।}}&amp;lt;ref&amp;gt;উদাহরণস্বরূপ: বাকারা: ২৪৩; নামল: ৮৩; গাফির: ১১।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[রাসূলুল্লাহ (সা.)]] বলেছেন যে, পূর্ববর্তী উম্মতদের মধ্যে যা ঘটেছে তা হুবহু এই উম্মতের মধ্যেও ঘটবে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ইমামতের ধারাবাহিকতা ==&lt;br /&gt;
শিয়াদের দৃষ্টিতে, ইমামত একটি ঐশী ব্যবস্থা যা অবিচ্ছিন্ন এবং এতে কোন বিরতি নেই। এটি প্রতিটি সময়ে ও যুগে বিদ্যমান। নবী করীম (সা.)-এর যুগ থেকে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত বিদ্যমান আছে এবং যতদিন দুনিয়া থাকবে ততদিন বিদ্যমান থাকবে। যেমন আমীরুল মুমিনীন (আ.) বলেছেন, {{arabic|لا تخلو الارض من قائم لله بحجّة، امّا ظاهراً مشهورا، و امّا خائفا مغمورا، لئلا تبطل حجج الله و بیّناته|translation=পৃথিবী কখনও আল্লাহর হুজ্জাত কায়েম (ইমাম) থেকে শূন্য থাকবে না, (এবং এই হুজ্জাত) হয় প্রকাশ্য ও পরিচিত অবস্থায়, নয়তো ভীত ও গোপন অবস্থায়, যাতে আল্লাহর হুজ্জাত ও নিদর্শনসমূহ শেষ না হয়।}} সুতরাং ইমাম হয় প্রকাশ্য ও পরিচিত এবং মানুষের মাঝে দৃশ্যমান, যেমন পবিত্র ইমামদের উপস্থিতির যুগে ছিল, অথবা ভীত ও গোপন, যেমন [[গায়বাতের যুগে]] রয়েছে। ইমামে যামানা (আ.) যদিও গায়েব, তবে তিনি বিশ্বের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পরিচালনা করছেন।&lt;br /&gt;
{{answer end}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch = ادیان و مذاهب&lt;br /&gt;
 | subbranch1 = شیعه امامیه&lt;br /&gt;
 | subbranch2 = عقاید شیعه&lt;br /&gt;
 | subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه = شد&lt;br /&gt;
 | تیترها = شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش = شد&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی =شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =شد&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر =شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | بازبینی نویسنده =&lt;br /&gt;
 | بازبینی =شد&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت = الف&lt;br /&gt;
 | کیفیت = ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
[[رده:اختلافات شیعه و سنی]]&lt;br /&gt;
[[fa:عقاید خاص شیعه]]&lt;br /&gt;
[[ur:شیعوں کی مخصوص عقائد]]&lt;br /&gt;
[[ar:عقائد الشیعة الخاصة]]&lt;br /&gt;
[[en:Distinctive Shia Beliefs]]&lt;br /&gt;
[[fr:Croyances spécifiques des chiites]]&lt;br /&gt;
[[ms:Akidah Khusus Syiah Imamiyah]]&lt;br /&gt;
[[ru:Особые верования шиитов]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
	<entry>
		<id>https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%B9%E0%A6%AF%E0%A6%B0%E0%A6%A4_%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E2%80%99%E0%A6%B0_%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BE_%E0%A6%B9%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE&amp;diff=980</id>
		<title>হযরত ফাতেমা’র মুহাদ্দাসা হওয়া</title>
		<link rel="alternate" type="text/html" href="https://bn.wikipasokh.com/index.php?title=%E0%A6%B9%E0%A6%AF%E0%A6%B0%E0%A6%A4_%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E2%80%99%E0%A6%B0_%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BE_%E0%A6%B9%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE&amp;diff=980"/>
		<updated>2025-02-21T22:18:48Z</updated>

		<summary type="html">&lt;p&gt;Wahidshia: /* তথ্যসূত্র */&lt;/p&gt;
&lt;hr /&gt;
&lt;div&gt;{{text start}}&lt;br /&gt;
{{question}}&lt;br /&gt;
হযরত ফাতেমা সালামুল্লাহ আলাইহা’কে কেন মুহাদ্দাসা বলা হয়?&lt;br /&gt;
{{question end}}&lt;br /&gt;
{{answer}}&lt;br /&gt;
মুহাদ্দাসা হচ্ছে [[হযরত ফাতেমা যাহরা’র (সা.আ.)]] অন্যতম একটি লকব তথা উপাধি এবং যার অর্থ হচ্ছে এমন ব্যক্তি যার সাথে ফেরেস্তারা কথোপকথন করেন। ফাতেমা (সা.আ.)-কে এই দৃষ্টিকোন থেকে মুহাদ্দাসা অভিহিত করা হয়েছে যে তিনি ফেরেস্তাদের সাথে বাক্য বিনিময় করেছেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== মুহাদ্দাস ও মুহাদ্দাসা’র পরিভাষা পরিচিতি ==&lt;br /&gt;
মুহাদ্দাস (&#039;&#039;مُحَدَّث&#039;&#039;) ও মুহাদ্দাসা (&#039;&#039;مُحَدَّثَه&#039;&#039;) (দাল এর উপর তাশদিদ ও যবর সহকারে) এর অর্থ হচ্ছে এমন ব্যক্তি যার সঙ্গে ফেরেস্তারা কথোপকথন করে থাকেন; যার উপর ইলহাম হয়।&amp;lt;ref&amp;gt;হোসেইনি জুবাইদি, মুহাম্মদ মুরতাজা, তাজুল আরুস মিন জাওয়াহিরুল কামুস, বৈরুত, দারুল ফিকর, প্রথম সংস্করণ, ১৪১৪ হিজরি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৯২।&amp;lt;/ref&amp;gt; ইসলামী রেওয়ায়েতে মুহাদ্দাস বলতে ঐ ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে যিনি ফেরেস্তাদের কথা শুনতে পান এবং যার কানে চিৎকার দেওয়া হয় এবং তার অন্তর তা প্রবেশ করে।&amp;lt;ref&amp;gt;সাফফার, মুহাম্মদ ইবনে হাসান, বাসায়িরুদ দারাজাত ফি ফাদাইল আলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিম, কুম, কিতাবখানায়ে মারআশি নাজাফি, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪০৪ হিজরি, পৃষ্ঠা ৩৬৭, বাব ১, হাদিস ১ ও ১৭।&amp;lt;/ref&amp;gt; অন্যান্য গ্রন্থসমূহে মুহাদ্দাস এর সংজ্ঞায় এমন ব্যক্তিকে নির্দেশ করা হয়েছে, যে ব্যক্তি পয়গম্বর না হওয়া সত্ত্বেও ফেরেস্তারা তাঁর সাথে কথোপকথন করেন।&amp;lt;ref&amp;gt;আমিনি, আবদুল হোসাইন, আল-গাদির, মারকাজুল গাদির লিদ-দিরাসাতিল ইসলামিয়া, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৬৭।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আইম্মা আতহার তথা মাসূম ইমামগণ (আ.) মুহাদ্দাস ছিলেন এবং হযরত ফাতেমা যাহরাও (সা.আ.) ছিলেন মুহাদ্দাসা।&amp;lt;ref&amp;gt;সাফফার, মুহাম্মদ ইবনে হাসান, বাসায়িরুদ দারাজাত ফি ফাদাইল আলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিম, কুম, কিতাবখানায়ে মারআশি নাজাফি, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪০৪ হিজরি, পৃষ্ঠা ৩৬৭, বাব ১।&amp;lt;/ref&amp;gt; যেমন [[হযরত মূসা (আ.)]] এর মাতা নবী ছিলেন না  কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে ওহী করেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;সুরা আল-কাসাস, আয়াত ৭।&amp;lt;/ref&amp;gt; [[হযরত মরিয়ম (আ.)]] ও নবী ছিলেন না অথচ ফেরেস্তারা তাঁর সাথে কথা বলেছেন।&amp;lt;ref&amp;gt;সুরা মারইয়াম, আয়াত ১৬-২৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== হযরত ফাতেমা (সা.আ.) এর সাথে ফেরেস্তাদের কথোপকথন ==&lt;br /&gt;
হযরত ফাতেমা যাহরা’র (সা.আ.) মুহাদ্দাসা হওয়ার বিষয়টি প্রমাণে বিভিন্ন রেওয়ায়েত বিদ্যমান: &lt;br /&gt;
* [[ইমাম জাফর সাদিক (আ.)]] বলেছেন: {{arabic|| translation=হযরত ফাতেমা’কে (সা.আ.) এই কারণে মুহাদ্দাসা বলা হয়েছে যে ফেলেস্তারা আসমান হতে অবতীর্ণ হয়ে যেমনভাবে হযরত মরিয়মের সাথে কথা বলতেন, হযরত ফাতেমা’র (সা.আ.) সাথেও কথোপকথন করতেন।}}&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে বাবুইয়াহ, মুহাম্মদ ইবনে আলী, ইলালুশ শারাই, কুম, কিতাবফুরুশি দাওয়ারি, প্রথম সংস্করণ, ১৩৮৫ হিজরি শামসি/১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৮২, বাব ১৪৬, হাদিস ১। তাবারি আমুলি সাগির, মুহাম্মদ ইবনে জারির ইবনে রুস্তম, দালাইলুল ইমামাহ, কুম, বাউসাত, প্রথম সংস্করণ, ১৪১৩ হিজরি, পৃষ্ঠা ৮০, হাদিস ২০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেন: {{arabic|translation=আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যখন তার রাসূল (স.) এর রুহ কবজ করেন তখন হযরত ফাতেমা (সা.আ.) এমন দুঃখ দুর্দশায় আক্রান্ত হন যে আল্লাহ ব্যতীত কেউই সে সম্পর্কে অবগত নন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন একজন ফেরেস্তাকে হযরত ফাতেমা’র (সা.আ.) নিকট প্রেরণ করেন যেন তাঁর দুঃখ ও কষ্ট লাঘব করতে তাঁকে সান্ত্বনা প্রদান করেন এবং তাঁর সাথে কথোপকথন করেন।}}&amp;lt;ref&amp;gt;সাফফার, মুহাম্মদ ইবনে হাসান, বাসায়িরুদ দারাজাত ফি ফাদাইল আলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিম, কুম, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪০৪ হিজরি, বাব ১৪, পৃষ্ঠা ১৫৭, হাদিস ১৮। কুলাইনি, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব, আল-কাফি, তেহরান, দারুল কুতুব আল-ইসলামিয়া, চতুর্থ সংস্করণ, ১৪০৭ হিজরি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৩৮, বাবুন ফিহি জিকরুস সহিফা ওয়াল জাফর ওয়াল জামিয়া ওয়া মুসহাফে ফাতিমা, হাদিস ২।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* ইমাম জাফর সাদিক (আ.) হতে বর্ণিত হয়েছে: {{arabic||translation=হযরত ফাতেমা (সা.আ.) মহানবি (স.) এর ইন্তেকালের পর ৭৫ দিনের বেশী জীবিত ছিলেন না। পিতৃ হারানোর বেদনায় তিনি শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়তেন। এই কারণে হযরত জিব্রাইল প্রায়ই তাঁর নিকট উপস্থিত হতেন এবং তাঁকে পিতা হারানোর শোকে সমবেদনা জানাতেন, যা ছিল হযরত যাহরা’র ভারাক্রান্ত হৃদয়ের জন্য সান্ত্বনা। কখনও তাঁর সম্মানিত পিতার মাকাম ও মর্যাদা সম্পর্কে কথা বলতেন এবং কখনও তাঁর ইন্তেকালের পর তার বংশধরদের সাথে ভবিষ্যতে ঘটতে যাওয়া ঘটনাবলী সম্পর্কে খবর দিতেন।}}&amp;lt;ref&amp;gt;সাফফার, মুহাম্মদ ইবনে হাসান, বাসায়িরুদ দারাজাত ফি ফাদাইল আলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিম, কুম, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪০৪ হিজরি, বাব ১৪, পৃষ্ঠা ১৫৪, হাদিস ৬।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
* হযরত ফাতেমা’র (সা.আ.) যিয়ারতে এরূপ উল্লেখিত হয়েছে: {{arabic| السَّلَامُ عَلَيْكِ أَيَّتُهَا الْمُحَدَّثَه الْعَلِيمَه| translation=আপনার উপর সালাম হোক, আপনি হচ্ছেন সেই ব্যক্তি যিনি ফেরেস্তাদের সাথে কথা বলেছেন এবং অত্যন্ত জ্ঞানী।}}&amp;lt;ref&amp;gt;ইবনে বাবুইয়াহ, মুহাম্মদ ইবনে আলী, মান লা ইয়াহদুরহুল ফকিহ, কুম, দফতরে ইন্তিশারাতে ইসলামি, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪১৩ হিজরি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৭৩। তুসি, মুহাম্মদ ইবনে হাসান, তাহজিবুল আহকাম, তেহরান, দারুল কুতুব আল-ইসলামিয়া, চতুর্থ সংস্করণ, ১৪০৭ হিজরি, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ১০।&amp;lt;/ref&amp;gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== ফাতেমা (সা.আ.) মুসহাফ হচ্ছে তাঁর মুহাদ্দাসা হওয়ার প্রমাণ ==&lt;br /&gt;
{{see also|মুসহাফে ফাতেমা}}&lt;br /&gt;
মুসহাফে ফাতেমা (সা.আ.) হচ্ছে এমন একটি গ্রন্থ যা [[জিব্রাইল মহানবি (স.)]] এর ইন্তেকালের পর [[হযরত ফাতেমা (সা.আ.)]] বলেছেন এবং [[আমিরুল মু’মিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (আ.)]] সেগুলোকে লিপিবদ্ধ করেছেন। রেওয়ায়েতের উপর ভিত্তি করে, এরূপ একটি গ্রন্থের অস্তিত্বের ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।&amp;lt;ref&amp;gt;আল-কুলাইনি, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব, আল-কাফি, কুম, দারুল হাদিস, ১৪২৯ হিজরি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৯৯-৬০০।&amp;lt;/ref&amp;gt; মুসহাফে ফাতেমা (সা.আ.) এর অস্তিত্ব সম্পর্কিত রেওয়ায়েতগুলো শিয়াদের সবচেয়ে পুরাতন সূত্রসমূহে যেমন [[বাসায়েরুদ দারাজাত]]&amp;lt;ref&amp;gt;সাফফার কুমি, মুহাম্মদ ইবনে হাসান, বাসায়িরুদ দারাজাত ফি ফাদাইল আলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিম, তাহকিক: মুহসিন ইবনে আব্বাস আলি কুচেহ বাঘি, কুম, মাকতাবাতু আয়াতুল্লাহিল মারআশি আন-নাজাফি, ১৪০৪ হিজরি, পৃষ্ঠা ১৭০-১৮১।&amp;lt;/ref&amp;gt; এবং [[আল-কাফি]]&amp;lt;ref&amp;gt;কুলাইনি, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব, আল-কাফি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৯২-৬০২।&amp;lt;/ref&amp;gt; গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
মুসহাফে ফাতেমা’কে (সা.আ.) এই বিষয়ের প্রমাণ হিসেবে মনে করা হয়েছে যে, আল্লাহর ফেরেস্তারা হযরত ফাতেমা যাহরা (সা.আ.) এর সাথে কথোপকথন করেছেন। আর এটিই ঐ মহিয়সী নারীর মুহাদ্দাসা হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
== তথ্যসূত্র ==&lt;br /&gt;
{{footnotes|۲}}&lt;br /&gt;
{{tree&lt;br /&gt;
 | main branch = حدیث&lt;br /&gt;
 | subbranch1 = معارف حدیثی&lt;br /&gt;
 | subbranch2 =&lt;br /&gt;
 | subbranch3 =&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{تکمیل مقاله&lt;br /&gt;
 | شناسه = شد&lt;br /&gt;
 | تیترها = شد&lt;br /&gt;
 | ویرایش =&lt;br /&gt;
 | لینک‌دهی = شد&lt;br /&gt;
 | ناوبری =&lt;br /&gt;
 | نمایه =&lt;br /&gt;
 | تغییر مسیر = شد&lt;br /&gt;
 | ارجاعات =&lt;br /&gt;
 | بازبینی =شد&lt;br /&gt;
 | تکمیل =&lt;br /&gt;
 | اولویت = ج&lt;br /&gt;
 | کیفیت = ب&lt;br /&gt;
}}&lt;br /&gt;
{{text end}}&lt;br /&gt;
[[fa:محدثه‌بودن حضرت فاطمه(س)]]&lt;br /&gt;
[[ar:المُحَدَّثة السیدة فاطمة (ع)]]&lt;br /&gt;
[[es:Ser Muhaddiza de la Excelencia Fátima Zahra (P)]]&lt;br /&gt;
[[ur:حضرت فاطمه سلام الله علیها کا محدثه هونا]]&lt;br /&gt;
[[ms:Muhaddatsah (gelar)]]&lt;br /&gt;
[[en:Muhaddatha, the Title of Fatima (a)]]&lt;br /&gt;
[[ru:Мухаддаса титул Фатимы (да будет мир с ней)]]&lt;/div&gt;</summary>
		<author><name>Wahidshia</name></author>
	</entry>
</feed>