ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য
(ابرابزار) |
|||
(একই ব্যবহারকারী দ্বারা সম্পাদিত ৩টি মধ্যবর্তী সংশোধন দেখানো হচ্ছে না) | |||
১ নং লাইন: | ১ নং লাইন: | ||
{{text start}} | |||
{{question}} | |||
ইমাম হুসাইন (আ.) কে? | |||
{{question end}} | |||
{{answer}} | |||
{{portal|امام حسین|واژهها}} | {{portal|امام حسین|واژهها}} | ||
ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম (৪ - ৬১ হিজরি) হলেন শিয়া মুসলিমদের তৃতীয় ইমাম, যিনি [[ইমাম আলী (আ.)]] এবং [[ইমাম হাসান (আ.)]]-এর পর ইমামতের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শেষ মহানবী [[হযরত মুহাম্মদ (স.)]]-এর নাতি এবং ইমাম আলী (আ.) ও [[হযরত ফাতিমা (সা.আ.)]]-এর পুত্র। তিনি ইমাম হাসান (আ.)-এর ছোট ভাই ছিলেন। ইমাম হুসাইন (আ.)-এর ইমামতের মেয়াদকাল ছিল ১১ বছর। | ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম (৪ - ৬১ হিজরি) হলেন শিয়া মুসলিমদের তৃতীয় ইমাম, যিনি [[ইমাম আলী (আ.)]] এবং [[ইমাম হাসান (আ.)]]-এর পর ইমামতের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শেষ মহানবী [[হযরত মুহাম্মদ (স.)]]-এর নাতি এবং ইমাম আলী (আ.) ও [[হযরত ফাতিমা (সা.আ.)]]-এর পুত্র। তিনি ইমাম হাসান (আ.)-এর ছোট ভাই ছিলেন। ইমাম হুসাইন (আ.)-এর ইমামতের মেয়াদকাল ছিল ১১ বছর। | ||
১৫ নং লাইন: | ২০ নং লাইন: | ||
হুসাইন ইবনে আলী (আ.) হলেন শিয়া মুসলিমদের তৃতীয় ইমাম, যিনি ইমাম আলী (আ.) এবং[[ইমাম হাসান (আ.)]]-এর পর ইমামতের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হন। ইমাম হুসাইন (আ.) মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। | হুসাইন ইবনে আলী (আ.) হলেন শিয়া মুসলিমদের তৃতীয় ইমাম, যিনি ইমাম আলী (আ.) এবং[[ইমাম হাসান (আ.)]]-এর পর ইমামতের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হন। ইমাম হুসাইন (আ.) মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। | ||
তিনি একাধারে মহান ব্যক্তিত্ব এবং বনি হাশিম গোত্রের নেতা হিসেবে বিবেচিত হন | তিনি একাধারে মহান ব্যক্তিত্ব এবং বনি হাশিম গোত্রের নেতা হিসেবে বিবেচিত হন<ref>আকুবী, আহমাদ বিন আবী ইয়াকুব, তারিখুল ইয়াকুবী, বেইরুত, দার ছাদির, বি-তা, জি২, পৃ২২৬; ইবন সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, চাপ দ্বিতীয়, ১৪১৮হি, জি১০, পৃ৩৬৩।</ref>; এমনকি বনি হাশিমের মধ্যে তার মতামত প্রাধান্য পেত।<ref>ইবন সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, চাপ দ্বিতীয়, ১৪১৮হি, জি১০, পৃ৪১৪-৪১৬।</ref> কিছু কিছু শিয়া ও সুন্নি সূত্রে বর্ণিত একটি হাদিস অনুযায়ী, হুসাইন (আ.)-কে সিবতে পয়গম্বর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।<ref>বালাযুরী, আহমাদ বিন ইয়াহইয়া, আনসাবুল আশরাফ, তাহকিক সুহাইল যাকার ও রিয়াদ জরকালী, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৪২; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মাআরিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, প্রথম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ১২৭; মাকরিযী, তাকিউদ্দীন, ইমতিয়াউল আসমা বিমা লিন্নাবি মিনাল আহওয়াল ওয়াল আমওয়াল ওয়াল হাফাদাহ ওয়াল মাতায়া, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, ১৪২০হি, জি৬, পৃ১৯।</ref> সিবত হলেন এমন ইমাম বা নেতা যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্বাচিত এবং নবীদের বংশধর।<ref>মুহাম্মদী রায়শাহরী, মুহাম্মদ ও সহযোগীরা, দানেশনামা ইমাম হুসাইন (আ.), অনুবাদ: মুহাম্মদ মোরাদী, কুম, দারুল হাদিস, ১৪৩০হি, জি১, পৃ৪৭৪-৪৭৭।</ref> | ||
৬১ হিজরির [[আশুরার ঘটনা]]র পর ইমাম হুসাইন (আ.) মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে একজন সত্যনিষ্ঠ, সাহসী ও শাহাদাতপ্রত্যাশী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। | ৬১ হিজরির [[আশুরার ঘটনা]]র পর ইমাম হুসাইন (আ.) মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে একজন সত্যনিষ্ঠ, সাহসী ও শাহাদাতপ্রত্যাশী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।<ref>হাজ মনুচেহরী, ফারামার্জ, "হুসাইন (আ.), ইমাম", দায়েরাতুল মা'আরিফে বোজুরগে ইসলামী, জি২০, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মা'আরিফে বোজুরগে ইসলামী, ১৩৯১শ, পৃ৬৮১।</ref> মুসলিমদের মধ্যে তার মাকাম ও মর্যাদা মূলত আল্লাহর পথে জিহাদকারী এবং নিজের জীবন, সম্পদ ও পরিবার-পরিজনকে উৎসর্গকারী হিসেবে ফুটে উঠেছে।<ref>আইউব, "ফাজায়েলে ইমাম হুসাইন (আ.) আহলুস সুন্নাহ হাদিসসমূহে"।</ref> | ||
আশুরার ঘটনা নবী পরিবারের প্রতি প্রথম প্রকাশ্য অবমাননা ও আক্রমণ, শিয়া সংস্কৃতিতে যার গভীর প্রভাব পড়েছে। | আশুরার ঘটনা নবী পরিবারের প্রতি প্রথম প্রকাশ্য অবমাননা ও আক্রমণ, শিয়া সংস্কৃতিতে যার গভীর প্রভাব পড়েছে।<ref>হাজ মনুচেহরী, ফারামার্জ, "হুসাইন (আ.), ইমাম", দায়েরাতুল মা'আরিফে বোজুরগে ইসলামী, জি২০, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মা'আরিফে বোজুরগে ইসলামী, ১৩৯১শ, পৃ৬৮৬।</ref> তার এই আন্দোলন "আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার" (সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে বাধা দেওয়া), জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের প্রতীক হয়ে ওঠে।<ref>মুহাদ্দিসী, জাওয়াদ, ফারহাঙ্গে আশুরা, কুম, নাশরে মারুফ, সপ্তদশ মুদ্রণ, ১৩৯৩শ, পৃ৩৭২।</ref> এটি জালিম শাসকদের বিরুদ্ধে শিয়াদের বিদ্রোহের পথ প্রশস্ত করে।<ref>হাজ মনুচেহরী, ফারামার্জ, "হুসাইন (আ.), ইমাম", দায়েরাতুল মা'আরিফে বোজুরগে ইসলামী, জি২০, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মা'আরিফে বোজুরগে ইসলামী, ১৩৯১শ, পৃ৬৮৭।</ref> সাধারণ সংস্কৃতিতে মুসলিম এবং অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরাও হুসাইন ইবনে আলী (আ.)-কে ত্যাগ, জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, স্বাধীনতা, মূল্যবোধ রক্ষা ও ন্যায়ের পথে সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করেন।<ref>"ফারহাঙ্গে আশুরা ফারামুসলিমানি", ওয়েবসাইট: মাজমায়ে জাহানিয়ে সুলহে ইসলামি।</ref> | ||
শিয়া সংস্কৃতিতে মহররম ও সফর মাসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, বিশেষত [[তাসুয়া]], আশুরা ও [[আরবাইনের]] দিনে শিয়াদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও রীতিনীতি পালন করা হয়। | শিয়া সংস্কৃতিতে মহররম ও সফর মাসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, বিশেষত [[তাসুয়া]], আশুরা ও [[আরবাইনের]] দিনে শিয়াদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও রীতিনীতি পালন করা হয়।<ref>হাজ মনুচেহরী, ফারামার্জ, "হুসাইন (আ.), ইমাম", দায়েরাতুল মা'আরিফে বোজুরগে ইসলামী, জি২০, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মা'আরিফে বোজুরগে ইসলামী, ১৩৯১শ, পৃ৬৮৯।</ref> [[শিয়ারা]] ধর্মীয় নেতাদের অনুসরণ করে পানি পান করার সময় ইমাম হুসাইন (আ.)-এর তৃষ্ণার কথা স্মরণ করেন এবং তার উপর সালাম প্রেরণ করেন।<ref>হাজ মনুচেহরী, ফারামার্জ, "হুসাইন (আ.), ইমাম", দায়েরাতুল মা'আরিফে বোজুরগে ইসলামী, জি২০, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মা'আরিফে বোজুরগে ইসলামী, ১৩৯১শ, পৃ৬৮১; মুহাদ্দিসী, জাওয়াদ, ফারহাঙ্গে আশুরা, কুম, নাশরে মারুফ, সপ্তদশ মুদ্রণ, ১৩৯৩শ, পৃ৫০৮।</ref> | ||
== সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি)-এর নাতি == | == সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি)-এর নাতি == | ||
ইমাম হুসাইন (আ.) ৪ হিজরির ৩ | ইমাম হুসাইন (আ.) ৪ হিজরির ৩<ref>ইবন মাশহাদী, মুহাম্মাদ বিন জাফর, আল-মাযার (আল-কাবীর), তাহকিক: জাওয়াদ আল-কাইয়ুমি আল-ইসফাহানি, কুম, মো'আসসাসাতুন নাশরুল ইসলামি, ১৪১৯হি, পৃ৩৯৭; শাইখ তুসী, মুহাম্মাদ বিন হাসান, মিসবাহুল মুতাহাজ্জিদ, বেইরুত, মো'আসসাসাতু ফিকহুশ শিয়া, ১৪১১হি, পৃ৮২৬, ৮২৮; সাইয়েদ বিন তাওস, আলী বিন মূসা, ইকবালুল আমাল, তেহরান, দারুল কুতুবুল ইসলামিয়া, ১৩৬৭শ, পৃ৬৮৯-৬৯০।</ref> বা ৫ শাবান<ref>শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মাআরিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, প্রথম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ২৭।</ref> [[মদিনা]]য় জন্মগ্রহণ করেন।<ref>ইয়াকুবী, আহমাদ বিন আবী ইয়াকুব, তারিখুল ইয়াকুবী, বেইরুত, দার ছাদির, বি-তা, জি২, পৃ২৪৬; দুলাবী, মুহাম্মাদ বিন আহমাদ, আয-যুররিয়াতুত তহারাহ, মুদ্রক: মুহাম্মাদ জাওয়াদ হোসাইনি জালালি, কুম, ১৪০৭হি, পৃ১০২, ১২১; তাবারী, মুহাম্মাদ বিন জারির, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, ১৯৬২মি, জি২, পৃ৫৫৫; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মাআরিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, প্রথম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ২৭।</ref> | ||
তিনি হচ্ছেন [[বনি হাশিম]] বংশ ও [[কুরাইশ]] গোত্রের সদস্য; [[নবী করিম (স.)]]-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র; [[ইমাম আলী (আ.)]] ও [[হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ.)]]-এর হৃদয়ের টুকরো পুত্র এবং [[ইমাম হাসান মুজতাবা (আ.)]]-এর অত্যন্ত স্নেহের ছোট ভাই। | তিনি হচ্ছেন [[বনি হাশিম]] বংশ ও [[কুরাইশ]] গোত্রের সদস্য; [[নবী করিম (স.)]]-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র; [[ইমাম আলী (আ.)]] ও [[হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ.)]]-এর হৃদয়ের টুকরো পুত্র এবং [[ইমাম হাসান মুজতাবা (আ.)]]-এর অত্যন্ত স্নেহের ছোট ভাই।<ref>শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মাআরিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, প্রথম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ২৭।</ref> [[হযরত আব্বাস (আ.)]], [[মুহাম্মদ ইবনে হানাফিয়া]] তার অন্য ভাই এবং [[হযরত জয়নাব সালামুল্লাহ আলাইহা]] ও [[হযরত উম্মে কুলসুম]] তার বোন হিসেবে পরিচিত।<ref>শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মাআরিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, প্রথম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ২৭।</ref> | ||
[[শিয়া]] ও [[সুন্নি]] উভয় মাযহাবের সূত্রসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নবী করিম (স.) মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে তাঁর নাম "হুসাইন" | [[শিয়া]] ও [[সুন্নি]] উভয় মাযহাবের সূত্রসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নবী করিম (স.) মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে তাঁর নাম "হুসাইন"<ref>শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মাআরিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, প্রথম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ২৭; আহমাদ বিন হাম্বল, মুসনাদ আহমাদ, বেইরুত, দার ছাদির, বি-তা, জি১, পৃ৯৮, ১১৮।</ref> রাখেন।<ref>ইবন শহর আশুব, মুহাম্মাদ বিন আলী, মানাকিবু আলে আবি তালিব, কুম, আল্লামা, ১৩৭৯হি, জি৩, পৃ৩৯৭; ইবন সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, চাপ দ্বিতীয়, ১৪১৮হি, জি১০, পৃ২৪৪।</ref> হুসাইন নামটিকে হিব্রু ভাষায় "শাবির" হিসেবে জ্ঞান করা হয়, যা হারুন (আ.)-এর পুত্রদের মধ্যে একজনের নাম।<ref>ইবন মানজুর, মুহাম্মাদ বিন মুকরাম, লিসানুল আরব, বেইরুত, দার ছাদির, ১৪১৪হি, জি৪, পৃ৩৯৩; জুবাইদী ওয়াসিতী, মুর্তাযা হোসাইনি, তাজুল আরুস মিন জাওয়াহিরিল কামুস, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৪হি, জি৭, পৃ৪।</ref><ref>ইবনে আসাকির, আলী বিন হাসান, তারিখ মাদিনাতি দামিশক, বেইরুত, দারুল ফিকর, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১৫হি, জি১৩, পৃ১৭১।</ref> উম্মে ফাদল<ref>শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মা'রিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, প্রথম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ১২৯; মাকরিজী, তাকিউদ্দীন, ইমতিয়াউল আসমা বিমা লিন্নাবি মিনাল আহওয়াল ওয়াল আমওয়াল ওয়াল হাফাদাহ ওয়াল মাতায়া, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, ১৪২০হি, জি১২, পৃ২৩৭; ইবনে কাসির, ইসমাইল বিন উমর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, বেইরুত, দারুল ফিকর, বি-তা, জি৬, পৃ২৩০।</ref> [[এবং আবদুল্লাহ]] ইবনে ইয়াকতারের মাতা’কে<ref>সমাবী, মুহাম্মাদ বিন তাহির, ইবসারুল আইন ফি আনসারিল হুসাইন (আ.), কুম, শাহিদ মোহাল্লাতি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১৯হি, পৃ৯৩।</ref> ইমামের ধাত্রী মাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। | ||
হুসাইন ইবনে আলী (আ.)-এর কুনিয়াত (ডাকনাম) হচ্ছে [[আবা আব্দিল্লাহ]]। | হুসাইন ইবনে আলী (আ.)-এর কুনিয়াত (ডাকনাম) হচ্ছে [[আবা আব্দিল্লাহ]]।<ref>শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, ১৪১৩হি, জি২, পৃ২৭; ইবনে আবী শাইবা, আল-মুসান্নাফ ফি আহাদিস ওয়াল আসার, মুদ্রক: সাঈদ মুহাম্মাদ লাহহাম, বেইরুত, ১৪০৯হি, জি৮, পৃ৬৫; ইবনে কুতাইবা দিনওয়ারী, আল-মাআরিফ, তাহকিক: সরওয়াত আকাশা, কায়রো, আল-হাইআতুল মিসরিয়্যাহ আল-আম্মাহ লিল কিতাব, ১৯৬০মি, জি১, পৃ২১৩।</ref> তিনি "সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ" (জান্নাতের যুবকদের নেতা), যাকি, তাইয়্যিব, ওফি, সাইয়্যিদ, আত-তাবি' লি-মারদাতিল্লাহ ইত্যাদি লকব তথা উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।<ref>ইবনে আবীল থলজ, তারিখুল আইম্মাহ, মাজমুয়া নাফিসা ফি তারিখুল আইম্মাহ, মুদ্রক: মাহমুদ মারআশি, কুম, কিতাবখানায়ে আইয়াতুল্লাহ মারআশি নাজাফি, ১৪০৬হি, পৃ২৮; ইবনে তালহা শাফেয়ী, মাতালিবুস সউল ফি মানাকিবে আলির রাসুল, মুদ্রক: মাজিদ বিন আহমাদ আতিয়া, বি-জা, বি-তা, জি২, পৃ৩৭৪।</ref> এছাড়াও "[[সারুল্লাহ]]", "[[কাতিলুল আবরাত]]"<ref>ইবনে কুলুওয়াইহ, জাফর বিন মুহাম্মাদ, কামালুজ যিয়ারাত, নাজাফ, দারুল মরতাযাভিয়া, ১৩৫৬হি, পৃ১৭৬।</ref> এবং "সাইয়্যিদুশ শুহাদা"<ref>দেখুন: হিমিয়ারি, আবদুল্লাহ বিন জাফর, কুরবুল ইসনাদ, কুম, মো'আসসাসাতু আলে বাইত (আ.), প্রথম মুদ্রণ, ১৪১৩হি, পৃ৯৯-১০০; ইবনে কুলুওয়াইহ, কামালুজ যিয়ারাত, মুদ্রক: জাওয়াদ কাইউমি ইসফাহানি, কুম, ১৪১৭হি, পৃ২১৬-২১৯; শাইখ তুসী, আল-আমালি, কুম, দারুছ ছাকাফা, ১৪১৪হি, পৃ৪৯-৫০।</ref> হলো তাঁর অন্যান্য উপাধি, যা জিয়ারতনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। | ||
=== গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য === | === গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য === | ||
[[চিত্র:حرم امام حسین.jpg|250px|থাম্ব|ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মাজারের প্রাচীনতম ছবি।]] | [[চিত্র:حرم امام حسین.jpg|250px|থাম্ব|ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মাজারের প্রাচীনতম ছবি।]] | ||
[[শিয়া]] ও [[সুন্নি]] উভয় মাযহাবের সূত্রে, হুসাইন ইবনে আলী (আ.)-কে "আসহাবুল কিসা'" (পবিত্র চাদরের অধীনে অবস্থানকারী) | [[শিয়া]] ও [[সুন্নি]] উভয় মাযহাবের সূত্রে, হুসাইন ইবনে আলী (আ.)-কে "আসহাবুল কিসা'" (পবিত্র চাদরের অধীনে অবস্থানকারী)<ref>দেখুন: কুলাইনি, মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব, আল-কাফি, তেহরান, দারুল কুতুবুল ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬২শ, জি১, পৃ২৮৭; মুসলিম বিন হাজ্জাজ, সহীহ মুসলিম, বেইরুত, দারুল মাআরিফ, ১৪২৩হি, জি১৫, পৃ১৯০।</ref> এবং আহলে বাইতের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের সম্পর্কে [[তাতহীরের আয়াত]] (পবিত্রতার আয়াত) নাযিল হয়েছে।<ref>আহমাদ বিন হাম্বল, মুসনাদে আহমাদ, বেইরুত, দার ছাদির, বি-তা, জি১, পৃ৩৩১; ইবনে কাসির, তাফসিরুল কুরআনুল আজীম, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, ১৪১৯হি, জি৩, পৃ৭৯৯; শওকানি, ফাতহুল কাদির, বেইরুত, আলমুল কুতুব, বি-তা, জি৪, পৃ২৭৯।</ref> তিনি তার ভাই ইমাম হাসান (আ.)-এর সাথে "আবনাউনা" (আমাদের পুত্রগণ) শব্দের দৃষ্টিান্ত হিসেবে মুবাহিলার [[আয়াতে উল্লিখিত হয়েছেন]]।((৯যামাখশারি, আল-কাশশাফ আন হাকাইক গাওয়ামিজিত তানযিল, কুম, নাশরুল বালাগা, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪১৫হি, সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৬১ এর অধীনে; ফখর রাজী, আত-তাফসিরুল কাবীর, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪০৫হি, সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৬১ এর অধীনে।</ref> | ||
আহলে সুন্নতের গ্রহণযোগ্য সূত্রগুলোতেও হযরত হুসাইন ইবনে আলী (আ.) এর মর্যাদা ও গুণাবলি সম্পর্কে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। | আহলে সুন্নতের গ্রহণযোগ্য সূত্রগুলোতেও হযরত হুসাইন ইবনে আলী (আ.) এর মর্যাদা ও গুণাবলি সম্পর্কে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে।<ref>মুসলিম বিন হাজ্জাজ, সহীহ মুসলিম, বেইরুত, দারুল মাআরিফ, ১৪২৩হি, জি১৫, পৃ১৯০; ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪১৮হি, জি১০, পৃ৩৭৬-৪১০; বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, তাহকিক: সুহাইল যাকার ও রিয়াদ জরকালী, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ৭।</ref> যেমন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, হুসাইন (আ.) হলেন হেদায়েতের আলো ও নাজাতের নৌকা<ref>শাইখ ছদূক, কামালুদ্দিন ও তামামুন নিঅমা, তেহরান, ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৯৫শ, জি১, পৃ২৬৫।</ref> [[এবং জান্নাতের যুবকদের সরদার]]।<ref>বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৪২; ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪১৮হি, জি১০, পৃ৩৮৫।</ref> আরও একটি হাদিসে তিনি (স.) বলেছেন, "হুসাইন আমার থেকে এবং আমি হুসাইন থেকে।"<ref>ইবনে আসাকির, তারিখে মাদিনাতি দামিশক, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৫হি, জি১৩, পৃ১৯৮-১৯৯; আরবলী, কাশফুল গুম্মা ফি মারিফাতিল আইম্মাহ, কুম, রেজি, প্রথম মুদ্রণ, ১৪২১হি, জি১, পৃ৬০২।</ref> "যে এই দুই জনকে (হাসান ও হুসাইন) ভালোবাসে, সে আমাকে ভালোবাসে এবং যে তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে, সে আমার সাথে শত্রুতা পোষণ করে।"<ref>ইবনে সা'দ, আল-তাবাকাত আল-কুবরা, বৈরুত, দার আল-কুতব আল-ইলমিয়াহ, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪১৮ হিজরি, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ১৩৮। ইবনে আসাকির, আলী ইবনে হাসান, তারিখ আল-মদীনা আল-দামেস্ক, বৈরুত, দার আল-ফিকর, প্রথম সংস্করণ, ১৪১৫ হিজরি, খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ১৯৮-১৯৯; আরবালি, আলী ইবনে ঈসা, ইমামদের জ্ঞানে ভাষা, কোম, রাজি, প্রথম সংস্করণ, ১৪২১ হিজরি, খণ্ড ৬০২।</ref> বলা হয়েছে যে, রাসূল (স.) তাঁর আহলে বাইতের মধ্যে হাসান ও হুসাইন (আ.)-কে অন্যদের চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন।<ref>তিরমিজি, মুহাম্মাদ বিন ঈসা, সুনান আত-তিরমিজি, তাহকিক: আবদুর রহমান মুহাম্মাদ উসমান, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪০৩হি, জি৫, পৃ৩২৩।</ref> তার এই ভালোবাসা এতটাই গভীর ছিল যে, কখনও তারা মসজিদে প্রবেশ করলে তিনি তার খুতবা অসমাপ্ত রেখে মিম্বর থেকে নেমে তাদেরকে কোলে তুলে নিতেন।<ref>আহমাদ বিন হাম্বল, মুসনাদ আহমাদ, বেইরুত, দারুস ছাদির, বি-তা, জি৫, পৃ৩৫৪; তিরমিজি, সুনান আত-তিরমিজি, তাহকিক: আবদুর রহমান মুহাম্মাদ উসমান, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪০৩হি, জি৫, পৃ৩২২; ইবনে হিব্বান, সহীহ ইবনে হিব্বান, তাহকিক: শুয়াইব আরনাউত, বি-জা, আর-রিসালা, ১৯৯৩মি, জি১৩, পৃ৪০২; হাকিম নিশাপুরী, আল-মুস্তাদরাক আলা সহিহাইনে, তাহকিক: ইউসুফ আবদুর রহমান মারআশি, বেইরুত, ১৪০৬হি, জি১, পৃ২৮৭।</ref> | ||
রেওয়ায়েতে আছে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হুসাইন (আ.)-এর কবরের মাটিকে শিফা (রোগমুক্তি) এবং তার কবর সংলগ্ন স্থানকে দোয়া কবুলের স্থান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। | রেওয়ায়েতে আছে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হুসাইন (আ.)-এর কবরের মাটিকে শিফা (রোগমুক্তি) এবং তার কবর সংলগ্ন স্থানকে দোয়া কবুলের স্থান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।<ref>ইবনে শহর আশুব, মুহাম্মাদ বিন আলী, মানাকিবু আলে আবি তালিব, কুম, আল্লামা, ১৩৭৯হি, জি৪, পৃ৮২; মাজলিসী, মুহাম্মাদ বাকির, বিহারুল আনওয়ার, তেহরান, ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬৩শ, জি৯৮, পৃ৬৯।</ref> "আল-খাসাইস আল-হুসাইনিয়্যাহ" নামক গ্রন্থে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর তিনশত’র বেশি বিশেষ বৈশিষ্ট্য এর উল্লেখ করা হয়েছে।<ref>শোষতরী, শাইখ জাফর, আল-খাসাইসুল হুসাইনিyah, শরিফ রেজি, প্রথম মুদ্রণ, বি-তা, পৃ২০।</ref> | ||
অধিকাংশ হাদিস, ঐতিহাসিক ও রিজাল সংক্রান্ত সূত্রে মহানবী (স.)-এর সাথে হুসাইন (আলাইহিস সালাম)-এর সাদৃশ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে | অধিকাংশ হাদিস, ঐতিহাসিক ও রিজাল সংক্রান্ত সূত্রে মহানবী (স.)-এর সাথে হুসাইন (আলাইহিস সালাম)-এর সাদৃশ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে<ref>বালাযুরী, আহমাদ বিন ইয়াহইয়া, আনসাবুল আশরাফ, তাহকিক: সুহাইল যাকার ও রিয়াদ জরকালী, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৪২, ৪৫৩; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মা'রিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, ১৪১৩হি, জি২, পৃ২৭; তাবারানী, আল-মুআজমুল কাবির, কায়রো, দারুন্নাশর, মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, বি-তা, জি৩, পৃ৯৫।</ref> এবং একটি রেওয়ায়েতে তাকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি)-এর সবচেয়ে সদৃশ ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।<ref>আহমাদ বিন হাম্বল, মুসনাদে আহমাদ, বেইরুত, দারুস ছাদির, বি-তা, জি৩, পৃ২৬১; তিরমিজি, সুনান আত-তিরমিজি, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪০৩হি, জি৫, পৃ৩২৫</ref>। তার সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি কখনও মখমলের কাপড় পরিধান করতেন বা মখমলের পাগড়ি মাথায় পরিধান করতেন<ref>তাবারানী, আল-মুআজমুল কাবির, কায়রো, দারুন্নাশর, মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, বি-তা, জি৩, পৃ১০১।</ref> এবং তার চুল ও দাড়ি খিজাব (রং) করতেন।<ref>ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪১৮হি, জি৬, পৃ৪১৯-৪২২; ইবনে আবী শাইবা, আল-মুসান্নাফ ফি আহাদিস ওয়াল আসার, তাহকিক: সাঈদ মুহাম্মাদ লাহহাম, বেইরুত, ১৪০৯হি, জি৬, পৃ৩, ১৫।</ref> | ||
ইমাম হুসাইন (আ.) ছিলেন অত্যন্ত দানশীল ও উদার প্রকৃতির। | ইমাম হুসাইন (আ.) ছিলেন অত্যন্ত দানশীল ও উদার প্রকৃতির।<ref>মুহাম্মাদী রায়শাহরী, মুহাম্মাদ ও সহযোগীরা, দানেশ নামায়ে ইমাম হুসাইন (আ.), অনুবাদ: মুহাম্মাদ মোরাদী, কুম, দারুল হাদিস, ১৪৩০হি, জি২, পৃ১১৪-১১৮।</ref> তিনি গরিব-দুঃখীদের সাথে বসতেন, তাদের দাওয়াত গ্রহণ করতেন, তাদের সাথে খাবার খেতেন এবং তাদের নিজ বাড়িতে আমন্ত্রণ জানাতেন। তিনি তার বাড়িতে যা কিছু থাকত, তা থেকে তাদের বঞ্চিত করতেন না।<ref>ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪১৮হি, জি১০, পৃ৪১১; ইবনে আসাকির, তারিখে মাদিনাতি দামিশক, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৫হি, জি১৪, পৃ১৮১।</ref> | ||
তিনি তার গোলাম ও দাসীদের সদাচরণের বিনিময়ে মুক্ত করে দিতেন। | তিনি তার গোলাম ও দাসীদের সদাচরণের বিনিময়ে মুক্ত করে দিতেন।<ref>ইবনে আসাকির, তারিখে মাদিনাতি দামিশক, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৫হি, জি৭০, পৃ১৯৬-১৯৭; ইবনে হাজম, আল-মুহাল্লা, তাহকিক: মুহাম্মাদ শাকির, বেইরুত, দারুল ফিকর, বি-তা, জি৮, পৃ৫১৫; আরবলী, কাশফুল গুম্মা ফি মারিফাতিল আইম্মাহ, কুম, মুদ্রক: আলী ফাজেলি, ১৪২৬হি, জি২, পৃ৪৭৬।</ref> সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি ২৫ বার পায়ে হেঁটে [[হজ্জ]] করেছেন।<ref>ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪১৮হি, জি১০, পৃ৪০১; ইবনে আবদিল বার, আল-ইস্তিয়াব ফি মারিফাতিল আসহাব, তাহকিক: আলী মুহাম্মাদ আল-বাজাউই, বেইরুত, দারুল জিল, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১২হি, জি১, পৃ৩৯৭।</ref> | ||
=== স্ত্রী ও সন্তানগণ === | === স্ত্রী ও সন্তানগণ === | ||
[[শাহরবানু]] নামে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর একজন স্ত্রীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি সাসানীয় সম্রাট ইয়াজদ গির্দের কন্যা এবং [[ইমাম জয়নুল আবেদীন (আলাইহিস সালাম)]]-এর মাতা হিসেবে পরিচিত। তবে সমসাময়িক গবেষকরা শাহরবানুর বংশপরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। | [[শাহরবানু]] নামে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর একজন স্ত্রীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি সাসানীয় সম্রাট ইয়াজদ গির্দের কন্যা এবং [[ইমাম জয়নুল আবেদীন (আলাইহিস সালাম)]]-এর মাতা হিসেবে পরিচিত। তবে সমসাময়িক গবেষকরা শাহরবানুর বংশপরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।<ref>দেখুন: মতোহারি, মুর্তজা, খেদমাতে মোকাবেলয়ে ইসলাম ও ইরান, তেহরান, ইন্তেশারাতে সাদরা, ১৩৮০শ, পৃ১৩১-১৩৩; শরিয়াতী, আলী, তাশাইয়ু আলাভি ও তাশাইয়ু সাফাভি, তেহরান, চাপখশ, ১৩৭৭শ, পৃ৯১; শাহিদী, সাইয়েদ জাফর, জিন্দেগানি আলী বিন আল-হুসাইন, তেহরান, দফতরে নাশরে ফারহাঙ্গ, ১৩৬৫শ, পৃ১২।</ref> | ||
ইমামের আরেক স্ত্রী ছিলেন [[রুবাব]], যিনি ইমরুল কায়েস ইবনে আদির কন্যা। তিনি সাকিনা ও আবদুল্লাহর মাতা হিসেবে পরিচিত। | ইমামের আরেক স্ত্রী ছিলেন [[রুবাব]], যিনি ইমরুল কায়েস ইবনে আদির কন্যা। তিনি সাকিনা ও আবদুল্লাহর মাতা হিসেবে পরিচিত।<ref>ইস্পাহানী, আবুল ফারাজ, মাকাতিলুত তালিবিয়িন, তাহকিক: আহমাদ সাকির, বেইরুত, দারুল মাআরিফ, বি-তা, পৃ৫৯; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মা'রিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, ১৪১৩হি, জি২, পৃ১৩৫।</ref> রুবাব কারবালায় উপস্থিত ছিলেন এবং বন্দীদের সাথে শামে (সিরিয়া) গিয়েছিলেন।<ref>ইবনে কাসির, ইসমাইল বিন উমর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, বেইরুত, দারু ইহইয়াউত তারাসিল আরাবি, ১৪০৮হি, জি৮, পৃ২২৯।</ref> অধিকাংশ সূত্রে আবদুল্লাহ (আলী আসগর)-কে শাহাদাতের সময় শিশু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।<ref>মুসআব বিন আবদুল্লাহ, কিতাবু নাসাবি কুরাইশ, তাহকিক: লুই প্রোভানসাল, কায়রো, ১৯৫৩মি, জি১, পৃ৫৯; তাবারি, মুহাম্মাদ বিন জারির, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, দারু তারাস, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪৬৮; বুখারী, সাহল বিন আবদুল্লাহ, সিররুস সিলসিলাতিল আলাভিয়্যাহ, তাহকিক: মুহাম্মাদ ছাদিক বাহরুল উলুম, নজাফ, ১৩৮১হি, জি১, পৃ৩০।</ref> | ||
[[লায়লা]] বিনতে আবি মুররা ইবনে উরওয়া ইবনে মাসউদ সাকাফি | [[লায়লা]] বিনতে আবি মুররা ইবনে উরওয়া ইবনে মাসউদ সাকাফি<ref>মুসআব বিন আবদুল্লাহ, কিতাবু নাসাবি কুরাইশ, তাহকিক: লুই প্রোভানসাল, কায়রো, ১৯৫৩মি, পৃ৫৭; ইয়াকুবী, আহমাদ বিন আবি ইয়াকুব, তারিখুল ইয়াকুবী, বেইরুত, দারুস ছাদির, বি-তা, জি২, পৃ২৪৬-২৪৭; তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, দারু তারাস, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪৪৬।</ref> ইমামের আরেক স্ত্রী হিসেবে উল্লিখিত হয়েছেন। তিনি [[আলী আকবর (আলাইহিস সালাম)]]-এর মাতা ছিলেন<ref>মাকরিজী, তাকিউদ্দীন, ইমতিয়াউল আসমা বিমা লিন্নাবি মিনাল আহওয়াল ওয়াল আমওয়াল ওয়াল হাফাদাহ ওয়াল মাতায়া, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, ১৪২০হি, জি৬, পৃ২৬৯।</ref>, যিনি [[আশুরার]] ঘটনায় শাহাদাতবরণ করেন।<ref>তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, দারু তারাস, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪৪৬; ইস্পাহানী, আবুল ফারাজ, মাকাতিলুত তালিবিয়িন, তাহকিক: আহমাদ সাকির, বেইরুত, দারুল মাআরিফ, বি-তা, পৃ৮০।</ref> | ||
ইবনে তালহা শাফেয়ি তার গ্রন্থ "মাতালিবুস সুল ফি মানাকিবে আলি রাসুল"-এ ইমামের সন্তানদের সংখ্যা দশজন বলে উল্লেখ করেছেন। | ইবনে তালহা শাফেয়ি তার গ্রন্থ "মাতালিবুস সুল ফি মানাকিবে আলি রাসুল"-এ ইমামের সন্তানদের সংখ্যা দশজন বলে উল্লেখ করেছেন।<ref>ইবনে তালহা শাফেয়ী, মাতালিবুস সউল ফি মানাকিবে আলির রাসুল, মুদ্রক: মাজিদ বিন আহমাদ আতিয়া, বি-জা, বি-তা, জি২, পৃ৬৯।</ref> তবে কিছু সূত্রে ইমামের সন্তানদের সংখ্যা হিসেবে চার ছেলে ও দুই মেয়ে<ref>মুসআব বিন আবদুল্লাহ, কিতাবু নাসাবি কুরাইশ, তাহকিক: লুই প্রোভানসাল, কায়রো, ১৯৫৩মি, জি১, পৃ৫৭-৫৯; বুখারী, সাহল বিন আবদুল্লাহ, সিররুস সিলসিলাতিল আলাভিয়্যাহ, তাহকিক: মুহাম্মাদ ছাদিক বাহরুল উলুম, নজাফ, ১৩৮১হি, জি১, পৃ৩০; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মা'রিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, ১৪১৩হি, জি২, পৃ১৩৫।</ref> বা ছয় ছেলে ও তিন মেয়ে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।<ref>তাবারি, দালায়িলুল ইমামাহ, বেইরুত, মো’আসসাসাতুল আ'লামী লিল মাতবুআত, ১৪০৮হি, জি১, পৃ৭৪; ইবনে শহর আশুব, মানাকিবু আলে আবি তালিব, কুম, আল্লামা, ১৩৭৯হি, জি৪, পৃ৭৭; ইবনে তালহা শাফেয়ী, মাতালিবুস সউল ফি মানাকিবে আলির রাসুল, মুদ্রক: মাজিদ বিন আহমাদ আতিয়া, বি-জা, বি-তা, জি২, পৃ৬৯।</ref> ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দীর গ্রন্থ "লুবাবুল আনসাব"<ref>ইবনে ফান্দুক বেহাকী, আলী বিন যায়েদ, লুবাবুল আনসাব ওয়াল আলকাব ওয়াল আকাব, তাহকিক: মাহদী রেজাই, কুম, কিতাবখানায়ে আইয়াতুল্লাহ মারআশি, ১৩৮৫শ, পৃ৩৫৫।</ref>-এ [[রুকাইয়া]] নামে একটি মেয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সপ্তম হিজরি শতাব্দীর গ্রন্থ "কামিল বাহাই"-এ ইমাম হুসাইন (আ.)-এর চার বছর বয়সী একটি মেয়ের কথা বলা হয়েছে, যিনি শামে (সিরিয়া) মৃত্যুবরণ করেন।<ref>কাশেফী সবজোয়ারী, মোল্লা হোসাইন, রাওজাতুশ শোহাদা, কুম, নবীদে ইসলাম, ১৩৮২শ, পৃ৪৮৪।</ref> | ||
== তিন খলিফার যুগ == | == তিন খলিফার যুগ == | ||
ইমাম হুসাইন (আলাইহিস সালাম)-এর জীবনের ২৫ বছর, যা তিন খলিফার শাসনামলে অতিবাহিত হয়, সে সম্পর্কে ঐতিহাসিক তথ্য খুবই সীমিত। | ইমাম হুসাইন (আলাইহিস সালাম)-এর জীবনের ২৫ বছর, যা তিন খলিফার শাসনামলে অতিবাহিত হয়, সে সম্পর্কে ঐতিহাসিক তথ্য খুবই সীমিত।<ref>মুহাম্মাদী রায়শাহরী, মুহাম্মাদ ও সহযোগীরা, দানেশ নামায়ে ইমাম হুসাইন (আ.), অনুবাদ: মুহাম্মাদ মোরাদী, কুম, দারুল হাদিস, ১৪৩০হি, জি২, পৃ৩২৫।</ref> বলা হয়েছে যে, তিনি দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনে খাত্তাবের কাছে বিশেষ সম্মানের পাত্র ছিলেন।<ref>ইবনে আসাকির, আলী বিন হাসান, তারিখে মাদিনাতি দামিশক, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৫হি, জি১৪, পৃ১৭৫; সিবত ইবনে জাওযী, তাজকিরাতুল খাওয়াস, কুম, মনশুরাতে শরিফ রেযি, ১৪১৮হি, পৃ২১১-২১২।</ref> | ||
তৃতীয় খলিফা [[উসমানে]]র শাসনামলে একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইমাম হুসাইন (আলাইহিস সালাম) তার পিতা ও ভাইয়ের সাথে খলিফার নির্দেশ অমান্য করে আবু জরকে বিদায় জানান, যাকে খলিফা রাবাযাহ নামক স্থানে নির্বাসিত করেছিলেন। | তৃতীয় খলিফা [[উসমানে]]র শাসনামলে একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইমাম হুসাইন (আলাইহিস সালাম) তার পিতা ও ভাইয়ের সাথে খলিফার নির্দেশ অমান্য করে আবু জরকে বিদায় জানান, যাকে খলিফা রাবাযাহ নামক স্থানে নির্বাসিত করেছিলেন।<ref>কুলাইনি, মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব, আল-কাফি, তেহরান, দারুল কুতুবুল ইসলামিয়া, ১৩৬৫শ, জি৮, পৃ২০৬-২০৭; ইবনে আবিল হাদীদ, শরহে নাহজুল বালাগা, ১৩৮৫-১৩৮৭হি, জি৮, পৃ২৫৩-২৫৪।</ref> | ||
কিছু [[সুন্নি]] সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি তার ভাইয়ের সাথে কিছু বিজয়ে সঙ্গী হয়েছিলেন, যেমন ২৬ হিজরিতে আফ্রিকিয়ার বিজয় | কিছু [[সুন্নি]] সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি তার ভাইয়ের সাথে কিছু বিজয়ে সঙ্গী হয়েছিলেন, যেমন ২৬ হিজরিতে আফ্রিকিয়ার বিজয়<ref>ইবনে খালদুন, আল-ইবর, ১৪০১হি, জি২, পৃ৫৭৩-৫৭৪।</ref> এবং ৩০ হিজরিতে তাবারিস্তানের বিজয়।<ref>তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, দারু তারাস, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৭হি, জি৪, পৃ২৬৯।</ref> তবে শিয়া সূত্রে এ ধরনের তথ্য পাওয়া যায় না। কিছু কিছু শিয়া গবেষক, যেমন [[জাফর মুরতাজা আমিলি]], এ ধরনের তথ্যকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে মনে করেন।<ref>জাফর মুরতজা, আল-হায়াতুস সিয়াসিয়্যাহ লিল ইমামিল হাসান (আ.), দারুস সিয়ারা, পৃ১৫৮।</ref> | ||
{{see also|ইরান বিজয়ে ইমাম হাসান (আ.) ও ইমাম হুসাইন (আ.)-এর উপস্থিতি}} | {{see also|ইরান বিজয়ে ইমাম হাসান (আ.) ও ইমাম হুসাইন (আ.)-এর উপস্থিতি}} | ||
অপর একটি প্রতিবেদনে, তৃতীয় খলিফা উসমানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় খলিফার পক্ষে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইমাম হুসাইন (আ.) খলিফার কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট থাকা সত্ত্বেও তাঁর ভাই ইমাম হাসান (আ.)-এর সাথে উসমানের বাড়ি রক্ষার জন্য এগিয়ে আসেন। | অপর একটি প্রতিবেদনে, তৃতীয় খলিফা উসমানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় খলিফার পক্ষে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইমাম হুসাইন (আ.) খলিফার কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট থাকা সত্ত্বেও তাঁর ভাই ইমাম হাসান (আ.)-এর সাথে উসমানের বাড়ি রক্ষার জন্য এগিয়ে আসেন।<ref>ইবনে কুতাইবা দিনওয়ারী, আল-ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ, তাহকিক: আলী শিরি, বেইরুত, দারুল আদওয়া, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১০হি, জি১, পৃ৫৯; বালাযুরী, আহমাদ বিন ইয়াহইয়া, আনসাবুল আশরাফ, তাহকিক: সুহাইল যাকার ও রিয়াদ জরকালী, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৭হি, জি৫, পৃ৫৫৮।</ref> শিয়া গবেষকদের মধ্যে এই প্রতিবেদনের সমর্থক ও বিরোধী উভয়ই পক্ষই রয়েছে।<ref>মুহাম্মাদী রায়শাহরী, মুহাম্মাদ ও সহযোগীরা, দানেশ নামায়ে ইমাম হুসাইন (আ.), অনুবাদ: মুহাম্মাদ মোরাদী, কুম, দারুল হাদিস, ১৪৩০হি, জি২, পৃ৩৩১-৩৩২।</ref> সৈয়দ মুরতাজা, আমিরুল মু’মিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (আলাইহিস সালাম) কর্তৃক ইমাম হাসান ও হুসাইন (আ.) প্রেরিত হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করার পর, প্রেরণের কারণ হিসেবে উসমানের হত্যা রোধ এবং তার পরিবারকে পানি ও খাবার সরবরাহ করার কথা উল্লেখ করেছেন। খিলাফত থেকে উসমানের অপসারণ রোধ করার জন্য ইমাম হাসান ও হুসাইন (আ.)-কে পাঠানো হয় নি, কেননা, উসমান তার অন্যায় কাজের কারণে খিলাফত থেকে অপসারণের যোগ্য ছিলেন।<ref>সাইয়্যিদ মুর্তজা, আলী ইবনে হুসাইন, আল-শাফি ফী আল-ইমামাহ, কোম, ইসমাইলি ইনস্টিটিউট, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪১০ হিজরি, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৪২।</ref> | ||
{{see also|উসমানের বাড়ি রক্ষায় ইমাম হাসান (আ.) ও ইমাম হুসাইন (আ.)}} | {{see also|উসমানের বাড়ি রক্ষায় ইমাম হাসান (আ.) ও ইমাম হুসাইন (আ.)}} | ||
== ইমাম আলী (আ.) এর শাসনামল == | == ইমাম আলী (আ.) এর শাসনামল == | ||
[[ইমাম আলী (আ.)]]-এর শাসনামলে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জীবন সম্পর্কে খুব কম তথ্যই পাওয়া যায়। ঐ সময়ে অন্যতম একটি ঘটনা হচ্ছে আমিরুল মুমিনিন (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি লোকজন বাইয়াত করার পর ইমাম হুসাইন (আ.) কর্তৃক ভাষণ প্রদান। | [[ইমাম আলী (আ.)]]-এর শাসনামলে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জীবন সম্পর্কে খুব কম তথ্যই পাওয়া যায়। ঐ সময়ে অন্যতম একটি ঘটনা হচ্ছে আমিরুল মুমিনিন (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি লোকজন বাইয়াত করার পর ইমাম হুসাইন (আ.) কর্তৃক ভাষণ প্রদান।<ref>মাজলিসী, মুহাম্মাদ বাকির, বিহারুল আনওয়ার, তেহরান, ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬৩শ, জি১০, পৃ১২১।</ref> ইমাম হুসাইন (আ.) জামালের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং ইমাম আলী (আ.)-এর বাহিনীর বাম দিকের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যা বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।<ref>শাইখ মুফিদ, মুহাম্মাদ বিন নুমান, আল-জামাল ওয়ান নুসরাহ লি সাইয়িদিল ইতরাহ ফি হারবিল বসরাহ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, ১৪১৩হি, পৃ৩৪৮; যাহাবি, শামসুদ্দীন, তারিখুল ইসলাম ওয়া ওফায়াতুল মাশাহির ওয়াল আলাম, বেইরুত, দারুল কিতাবুল আরাবি, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪০৯হি, জি৩, পৃ৪৮৫।</ref> তিনি [[সিফফিনের]] যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং সেখানে ডান দিকের বাহিনীর নেতৃত্ব প্রদান করেছিলেন।<ref>ইবনে আ'ছাম, আহমাদ, আল-ফুতূহ, বেইরুত, দারুল আদওয়া, ১৪১১হি, জি৩, পৃ২৪; ইবনে শহর আশুব, মুহাম্মাদ বিন আলী, মানাকিবু আলে আবি তালিব, কুম, আল্লামা, ১৩৭৯হি, জি৩, পৃ১৬৮।</ref> এই যুদ্ধে ইমাম হুসাইন (আলাইহিস সালাম) [[জিহাদে]]র জন্য লোকদের উৎসাহিত করতে একটি ভাষণ প্রদান করেন।<ref>মনকারী, নাসর বিন মুযাহিম, ওয়াকআতু সফফিন, তাহকিক: আবদুস সালাম মুহাম্মাদ হারুন, কায়রো, ১৩৮২হি, পৃ১১৪-১১৫।</ref> | ||
তিনি শামের বাহিনীর কাছ থেকে পানি পুনরুদ্ধারের অভিযানেও অংশ নিয়েছিলেন। | তিনি শামের বাহিনীর কাছ থেকে পানি পুনরুদ্ধারের অভিযানেও অংশ নিয়েছিলেন।<ref>মাজলিসী, মুহাম্মাদ বাকির, বিহারুল আনওয়ার, তেহরান, ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬৩শ, জি৪৪, পৃ২৬৬।</ref> যদিও বলা হয়ে থাকে যে, সিফফিনের যুদ্ধ সম্পর্কিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইমাম আলী (আ.) হাসানাইন তথা ইমাম হাসান ও হুসাইন (আলাইহিস সালাম)-কে যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখতেন। আর এর কারণ হিসেবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি) এর বংশধর টিকিয়ে রাখার কথা উল্লেখ করতেন।<ref>আরবলী, আলী বিন ঈসা, কাশফুল গুম্মা ফি মারিফাতিল আইম্মাহ, কুম, রেযি, প্রথম মুদ্রণ, ১৪২১হি, জি১, পৃ৫৬৯; সাইয়েদ রেযী, মুহাম্মাদ বিন হোসাইন, নাহজুল বালাগা, তাহকিক: সুবহী সালেহ, কুম, হিজরত, ১৪১৪হি, খুতবা ২০৭, পৃ৩২৩।</ref> কোন কোন সূত্রে [[নাহরাওয়ানের]] যুদ্ধেও তার উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।<ref>ইবনে আবদিল বার, আল-ইস্তিয়াব ফি মারিফাতিল আসহাব, তাহকিক: আলী মুহাম্মাদ আল-বাজাউই, বেইরুত, দারুল জিল, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১২হি, জি৩, পৃ৯৩৯।</ref> | ||
অনেক সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইমাম হুসাইন (আ.) ইমাম আলী (আ.)-এর শাহাদাতের সময় তাঁর পাশেই ছিলেন | অনেক সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইমাম হুসাইন (আ.) ইমাম আলী (আ.)-এর শাহাদাতের সময় তাঁর পাশেই ছিলেন<ref>তাবারি, মুহাম্মাদ বিন জারির, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, দারুত তারাস, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ১৪৭।</ref> এবং তাঁর দাফন ও কাফন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন।<ref>ইবনে কুতাইবা দিনওয়ারী, আল-ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ, তাহকিক: আলী শিরি, বেইরুত, দারুল আদওয়া, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১০হি, জি১, পৃ১৮১; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মারিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, বেইরুত, ১৪১৪হি, জি১, পৃ২৫।</ref> আবার এটিও বলা হয়েছে যে, ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর পিতার আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার সময় কোন একটি দায়িত্ব পালনের জন্য মাদায়েনে অবস্থান করছিলেন এবং ইমাম হাসান (আ.)-এর চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে কুফায় প্রত্যাবর্তন করেন।<ref>কুলাইনি, মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব, আল-কাফি, তেহরান, দারুল কুতুবুল ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬২শ, জি৩, পৃ২২০; বালাযুরী, আহমাদ বিন ইয়াহইয়া, আনসাবুল আশরাফ, তাহকিক: সুহাইল যাকার ও রিয়াদ জরকালী, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৭হি, জি২, পৃ৪৯৭-৪৯৮।</ref> | ||
== ইমাম হাসান (আ.)-এর যুগ == | == ইমাম হাসান (আ.)-এর যুগ == | ||
[[ইমাম হুসাইন (আ.)]] তাঁর ভাই ইমাম হাসান (আ.)-এর ইমামত ও শাসনামলে বড় ভাইয়ের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতেন। এমনকি বলা হয়েছে যে, তিনি সম্পূর্ণরূপে তার আদেশের অনুগত ছিলেন এবং ইমাম হাসান (আ.)-এর উপস্থিতিতে কোনো কথা বলতেন না। | [[ইমাম হুসাইন (আ.)]] তাঁর ভাই ইমাম হাসান (আ.)-এর ইমামত ও শাসনামলে বড় ভাইয়ের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতেন। এমনকি বলা হয়েছে যে, তিনি সম্পূর্ণরূপে তার আদেশের অনুগত ছিলেন এবং ইমাম হাসান (আ.)-এর উপস্থিতিতে কোনো কথা বলতেন না।<ref>কুলাইনি, মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব, আল-কাফি, তেহরান, দারুল কুতুবুল ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬২শ, জি১, পৃ২৯১; ইবনে শহর আশুব, মুহাম্মাদ বিন আলী, মানাকিবু আলে আবি তালিব, কুম, আল্লামা, ১৩৭৯হি, জি৩, পৃ৪০১।</ref> ইমাম হাসানের প্রতি আনুগত্য এতটাই প্রবল ছিল যে, শামের বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য জোর দাবি জানানো খাওয়ারিজদের বাইয়াতের অনুরোধ গ্রহণ করতেও তিনি অস্বীকৃতি জানান।<ref>ইবনে কুতাইবা দিনওয়ারী, আল-ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ, তাহকিক: আলী শিরি, বেইরুত, দারুল আদওয়া, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১০হি, জি১, পৃ১৮৪।</ref> | ||
ইমাম হুসাইন (আ.) [[মুয়াবিয়ার]] সাথে সন্ধির ঘটনায় তাঁর ভাইয়ের পক্ষ অবলম্বন করেন এবং তাঁর ভাইয়ের সিদ্ধান্তের প্রতি একনিষ্ঠ সমর্থন জ্ঞাপন করেন | ইমাম হুসাইন (আ.) [[মুয়াবিয়ার]] সাথে সন্ধির ঘটনায় তাঁর ভাইয়ের পক্ষ অবলম্বন করেন এবং তাঁর ভাইয়ের সিদ্ধান্তের প্রতি একনিষ্ঠ সমর্থন জ্ঞাপন করেন<ref>দিনওয়ারী, আহমাদ বিন দাউদ, আল-আখবারু তিওয়াল, তাহকিক: আবদুল মুনিম আমির, পুনঃমূল্যায়ন: জামালুদ্দীন শিয়াল, কুম, মনশুরাতে রেযি, ১৩৬৮শ, পৃ২২১।</ref> এবং তার ইমামতের উপর গুরুত্বারোপ করেন।<ref>তুসী, ইখতিয়ারু মারিফাতির রিজাল (রিজালুল কাশি), মাশহাদ, দানেশগাহে মাশহাদ, ১৩৪৮শ, পৃ১১০।</ref> যদিওবা কোন কোন প্রতিবেদনে, মুয়াবিয়ার নিকট তার বাইয়াত না করা<ref>ইবনে আ'ছাম, আহমাদ, আল-ফুতূহ, বেইরুত, দারুল আদওয়া, ১৪১১হি, জি৪, পৃ২৯২; ইবনে শহর আশুব, মুহাম্মাদ বিন আলী, মানাকিবু আলে আবি তালিব, কুম, আল্লামা, ১৩৭৯হি, জি৪, পৃ৩৫।</ref> এবং তার ভাইয়ের সিদ্ধান্তে তার সমর্থনহীনতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।<ref>তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, দারুত তারাস, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ১৬০; ইবনে আসাকির, আলী বিন হাসান, তারিখে মাদিনাতি দামিশক, বেইরুত, দারুল ফিকর, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১৫হি, জি১৩, পৃ২৬৭।</ref> | ||
৪১ হিজরিতে মুয়াবিয়ার সাথে সন্ধি হওয়ার পর, ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর ভাইয়ের সাথে [[কুফা]] থেকে [[মদিনা]]য় ফিরে আসেন। | ৪১ হিজরিতে মুয়াবিয়ার সাথে সন্ধি হওয়ার পর, ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর ভাইয়ের সাথে [[কুফা]] থেকে [[মদিনা]]য় ফিরে আসেন।<ref>তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, দারুত তারাস, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ১৬৫; ইবনে জাওযী, আবদুর রহমান বিন আলী, আল-মুনতাজিম ফি তারিখুত তাবারি, তাহকিক: মুহাম্মাদ আবদুল কাদের আত্তা ও মুস্তাফা আবদুল কা</ref> | ||
== ইমামতকাল == | == ইমামতকাল == | ||
ইমাম হুসাইন (আ.) [[৫০ হিজরিতে]] তার ভাইয়ের শাহাদাতের পর ইমামতের দায়িত্ব লাভ করেন এবং [[৬১ হিজরি]] পর্যন্ত ইমামতের দায়িত্ব পালন করেন। | ইমাম হুসাইন (আ.) [[৫০ হিজরিতে]] তার ভাইয়ের শাহাদাতের পর ইমামতের দায়িত্ব লাভ করেন এবং [[৬১ হিজরি]] পর্যন্ত ইমামতের দায়িত্ব পালন করেন।<ref>সাবেরী, হোসাইন, তারিখে ফিরাকুল ইসলামিয়া – ফিরাকুশ শিয়া ও তাদির মুনতাসিব ফিরকাসমূহ, তেহরান, সেমত, পঞ্চম মুদ্রণ, ১৩৮৮শ, জি১, পৃ১৮১।</ref> শিয়া পণ্ডিতরা [[মাসুম (নিষ্পাপ) ইমামগণের]] ইমামত প্রমাণের জন্য সাধারণ দলিলসমূহ<ref>উদাহরণস্বরূপ দেখুন: শাইখ সাদূক, মুহাম্মাদ বিন আলী বিন বাবুয়াইহ, আল-ইতিকাদাতুল ইমামিয়্যাহ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪১৪হি, পৃ১০৪; ইবনে বাবুয়াইহ কুমী, আবুল হাসান বিন আলী, আল-ইমামাহ ওয়াত তাবসিরাহ মিনাল হিরাহ, তাহকিক: আলী আকবর গাফারী, তেহরান, দারুল কুতুবুল ইসলামিয়া, ১৩৬৩শ, পৃ১০৪।</ref> ছাড়াও ইমাম [[হুসাইন (আ.)]] এর ইমামতের বিশেষ দলিল হিসেবে রাসূলুল্লাহ (স.)-হতে বর্ণিত একটি হাদিসের উল্লেখ করেছেন, যেখানে মহানবীর (স.) তাঁকে ইমাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।<ref>শাইখ মুফিদ, মুহাম্মাদ বিন নুমান, আল-ইরশাদ ফি মারিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, বেইরুত, ১৪১৪হি, জি২, পৃ৩০।</ref> এছাড়া, ইমাম আলী (আ.) কর্তৃক ইমাম হাসান (আ.)-এর পর ইমাম হুসাইন (আ.)-এর ইমামতের উপর গুরুত্বারোপ করাসহ<ref>কুলাইনি, মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব, আল-কাফি, তেহরান, দারুল কুতুবুল ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬২শ, জি১, পৃ২৯৭।</ref> ইমাম হাসান (আ.)-এর পক্ষ থেকে তাঁর পরবর্তী ইমাম হিসেবে ইমাম হুসাইন (আ.)-কে ঘোষণা করাকে<ref>কুলাইনি, আল-কাফি, তেহরান, দারুল কুতুবুল ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬২শ, জি১, পৃ৩০১।</ref> অন্যান্য বিশেষ প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। | ||
ইমাম হাসান (আ.)-এর শাহাদাতের পরও ইমাম হুসাইন (আ.) মুয়াবিয়ার সাথে তার বাইয়াত ভঙ্গ করেননি। | ইমাম হাসান (আ.)-এর শাহাদাতের পরও ইমাম হুসাইন (আ.) মুয়াবিয়ার সাথে তার বাইয়াত ভঙ্গ করেননি।<ref>শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৩২।</ref> এমনকি কিছু সংখ্যক শিয়াদের (যারা মুয়াবিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য সৈন্য সংগ্রহ করতে চেয়েছিল) অনুরোধ সত্ত্বেও, তিনি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্য তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং তার ভাইয়ের সিদ্ধান্তের পক্ষে কথা বলেন<ref>দিনওয়ারী, আহমাদ বিন দাউদ, আল-আখবারুত তিওয়াল, তাহকিক: আবদুল মুনিম আমির, পুনঃমূল্যায়ন: জামালুদ্দীন শিয়াল, কুম, মনশুরাতে রেযি, ১৩৬৮শ, পৃ২২০।</ref> এবং এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর অবধি স্থগিত রাখেন।<ref>বালাযুরী, আহমাদ বিন ইয়াহইয়া, আনসাবুল আশরাফ, তাহকিক: সুহাইল যাকার ও রিয়াদ জরকালী, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৫০।</ref> শেখ মুফিদের মতে, ইমাম হুসাইন (আ.) মুয়াবিয়ার মৃত্যু পর্যন্ত তাকিয়া অবলম্বন এবং ইমাম হাসান (আ.)-এর সন্ধির সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতির কারণে লোকজনকে তার দিকে আহ্বান জানাননি; কিন্তু মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর তিনি তার অবস্থান ও মর্যাদা তাদের নিকট স্পষ্ট করেন, যারা এ সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন।<ref>শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, বেইরুত, ১৪১৪হি, জি২, পৃ৩১।</ref> | ||
=== মুয়াবিয়ার কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান === | === মুয়াবিয়ার কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান === | ||
ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, ইমাম হুসাইন (আ.) মুয়াবিয়ার হুকুমতের বিরুদ্ধে কোনো সশস্ত্র পদক্ষেপ নেননি। তবে কিছু কিছু ইতিহাসবিদ কিছু কিছু প্রমাণ এবং তাদের মধ্যকার কথোপকথনের ভিত্তিতে এমন ধারণা পোষণ করেন যে, ইমাম হুসাইন (আ.) রাজনৈতিকভাবে মুয়াবিয়ার বৈধতা মেনে নেননি। | ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, ইমাম হুসাইন (আ.) মুয়াবিয়ার হুকুমতের বিরুদ্ধে কোনো সশস্ত্র পদক্ষেপ নেননি। তবে কিছু কিছু ইতিহাসবিদ কিছু কিছু প্রমাণ এবং তাদের মধ্যকার কথোপকথনের ভিত্তিতে এমন ধারণা পোষণ করেন যে, ইমাম হুসাইন (আ.) রাজনৈতিকভাবে মুয়াবিয়ার বৈধতা মেনে নেননি।<ref>জাফরিয়ান, রাসূল, হায়াতে ফিকরী ও সিয়াসী ইমামানে শিয়া, কুম, আনসারিয়ান, ষষ্ঠ মুদ্রণ, ১৩৮১শ, পৃ১৭৫।</ref> এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে মুয়াবিয়ার নীতির বিরোধিতা করতেন। | ||
মুয়াবিয়া কর্তৃক [[হাযর ইবনে আদি]], আমর ইবনে হামক খুজাই এবং আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াহিয়া হাদরামি’র ন্যায় সাহাবী হত্যার ন্যায় কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর প্রতিবাদ ঐতিহাসিক সূত্রগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। | মুয়াবিয়া কর্তৃক [[হাযর ইবনে আদি]], আমর ইবনে হামক খুজাই এবং আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াহিয়া হাদরামি’র ন্যায় সাহাবী হত্যার ন্যায় কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর প্রতিবাদ ঐতিহাসিক সূত্রগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।<ref>দিনওয়ারী, আল-আখবারুত তিওয়াল, কুম, ১৩৬৮শ, পৃ২২৪-২২৫; বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, ১৪১৭হি, জি৫, পৃ১২০-১২১; ইবনে কুতাইবা দিনওয়ারী, আল-ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ, বেইরুত, ১৪১০হি, জি১, পৃ২০২-২০৪।</ref> ইমাম হুসাইন (আ.) মুয়াবিয়াকে উদ্দেশ্য করে লেখা একটি চিঠিতে ইমাম আলী (আ.)-এর সঙ্গীদের হত্যার নিন্দা জানান এবং মুয়াবিয়ার অন্যায় কাজের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি ধর্ম পুনরুজ্জীবিত করার জন্য মুয়াবিয়ার বিরুদ্ধে জিহাদকে আবশ্যক বলে উল্লেখ করেন এবং তার শাসনকে ইসলামী উম্মাহর জন্য একটি বড় ফিতনা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।<ref>বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, ১৪১৭হি, জি৫, পৃ১২১-১২২; ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, ১৪১৮হি, জি১০, পৃ৪৪০; তুসী, ইখতিয়ারু মারিফাতির রিজাল (রিজালুল কাশি), মাশহাদ, ১৩৪৮শ, পৃ৫০; যাহাবী, তারিখুল ইসলাম, বেইরুত, ১৪০৯হি, জি৫, পৃ৬; ইবনে আসাকির, তারিখে মাদিনাতি দামিশক, বেইরুত, ১৪১৫হি, জি১৪, পৃ২০৬।</ref> | ||
৫৬ হিজরিতে, যখন মুয়াবিয়া সন্ধিচুক্তির উত্তরসূরি নিয়োগের অধিকার সংক্রান্ত শর্তটি লঙ্ঘন করে লোকজনকে ইয়াজিদের নিকট বাইয়াত করার আহ্বান জানায় | ৫৬ হিজরিতে, যখন মুয়াবিয়া সন্ধিচুক্তির উত্তরসূরি নিয়োগের অধিকার সংক্রান্ত শর্তটি লঙ্ঘন করে লোকজনকে ইয়াজিদের নিকট বাইয়াত করার আহ্বান জানায়<ref>ইবনে কাসির, ইসমাইল বিন উমর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, বেইরুত, দারুল ফিকর, বি-তা, জি৮, পৃ৭৯।</ref> তখন ইমাম হুসাইনসহ (আ.) কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তি মুয়াবিয়া পুত্র ইয়াজিদের প্রতি বাইয়াত করতে অস্বীকার করেন।<ref>http://ensani.ir/fa/article/45732/</ref> মুয়াবিয়া মদিনায় গিয়ে ইয়াজিদের পক্ষে এই শহরের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের সমর্থন লাভের চেষ্টা করেন।<ref>ইবনে কুতাইবা দিনওয়ারী, আল-ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ, বেইরুত, ১৪১০হি, জি১, পৃ২০৪।</ref> ইমাম হুসাইন একটি বৈঠকে, যেখানে মুয়াবিয়া, [[ইবনে আব্বাস]] এবং কিছু দরবারি ও উমাইয়া পরিবারের সদস্য উপস্থিত ছিলেন, মুয়াবিয়াকে তিরস্কার করেন এবং ইয়াজিদের চরিত্রের দিকে ইঙ্গিত করে তার উত্তরসূরী করার প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকতে বলেন। ইমাম হুসাইন (আ.) তখন তার নিজের মর্যাদা ও অধিকারের উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ইয়াজিদের বাইয়াতের স্বপক্ষে মুয়াবিয়া কর্তৃক উত্থাপিত যুক্তিগুলি খণ্ডন করেন।<ref>ইবনে কুতাইবা দিনওয়ারী, আল-ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ, বেইরুত, ১৪১০হি, জি১, পৃ২০৮-২০৯।</ref> | ||
এছাড়া, সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হওয়া আরেকটি সভায়, যেখানে, ইয়াজিদের যোগ্যতা সম্পর্কে মুয়াবিয়া কর্তৃক প্রদত্ত বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইমাম হুসাইন নিজেকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে খিলাফতের জন্য অধিক যোগ্য বলে দাবি করেন। সেখানে তিনি মুয়াবিয়া পুত্র ইয়াজিদকে মদ্যপ ও কামুক হিসেবে চিহ্নিত করেন। | এছাড়া, সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হওয়া আরেকটি সভায়, যেখানে, ইয়াজিদের যোগ্যতা সম্পর্কে মুয়াবিয়া কর্তৃক প্রদত্ত বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইমাম হুসাইন নিজেকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে খিলাফতের জন্য অধিক যোগ্য বলে দাবি করেন। সেখানে তিনি মুয়াবিয়া পুত্র ইয়াজিদকে মদ্যপ ও কামুক হিসেবে চিহ্নিত করেন।<ref>ইবনে কুতাইবা দিনওয়ারী, আল-ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ, বেইরুত, ১৪১০হি, জি১, পৃ২১১।</ref> | ||
৫৮ হিজরিতে, মুয়াবিয়ার পক্ষ থেকে শিয়াদের উপর চাপের কারণে | ৫৮ হিজরিতে, মুয়াবিয়ার পক্ষ থেকে শিয়াদের উপর চাপের কারণে<ref>একদল ইতিহাসবিদ, তারিখে কিয়াম ও মাকতালুল জামি লি সাইয়্যিদুশ শুহাদা, ১৩৮৯, জি১, পৃ৩৯২।</ref>, ইমাম হুসাইন (আ.) মিনায় একটি প্রতিবাদমূলক ভাষণ দেন।<ref>হারানি, হাসান বিন শুবাহ, তুহফুল উকুল, কুম, জামিয়া মুদাররেসিন, ১৪০৪হি, পৃ৬৮।</ref> সেই ভাষণে তিনি আমিরুল মুমিনীন [[আলী ইবনে আাবি তালিব (আলাইহিস সালাম)]] ও [[আহলে বাইতে]]র গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন এবং জনগণকে "[[আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার]]" (সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে বাধা দেওয়া)-এর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি এই ইসলামী দায়িত্বের গুরুত্বের উপর তাগিদ দেন এবং আলেমদেরকে দায়িত্ব সম্পর্কে সতর্ক করেন। এছাড়াও জালিম শাসকদের বিরুদ্ধে আলেমদের বিদ্রোহের আবশ্যকতা এবং অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে তাদের নীরবতার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেন।<ref>হারানি, তুহফুল উকুল, কুম, ১৪০৪হি, পৃ৬৮।</ref> | ||
{{see also|মুয়াবিয়ার সময়ে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বিদ্রোহ থেকে বিরত থাকা}} | {{see also|মুয়াবিয়ার সময়ে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বিদ্রোহ থেকে বিরত থাকা}} | ||
=== ইয়াজিদের খিলাফতের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া === | === ইয়াজিদের খিলাফতের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া === | ||
মুয়াবিয়ার মৃত্যুর [[পর ৬০ হিজরির ১৫রজব]] [[ ইয়াজিদ]] খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়। | মুয়াবিয়ার মৃত্যুর [[পর ৬০ হিজরির ১৫রজব]] [[ ইয়াজিদ]] খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়।<ref>বালাযুরী, আহমাদ বিন ইয়াহইয়া, আনসাবুল আশরাফ, তাহকিক: সুহাইল যাকার ও রিয়াদ জরকালী, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৫৫; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মারিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৩২।</ref> সে তার শাসনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে জোরপূর্বক বাইয়াত নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যারা তার খিলাফত মেনে নেননি।<ref>তাবারি, মুহাম্মাদ বিন জারির, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, দারুত তারাস, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৩৩৮।</ref> ইমাম হুসাইন (আ.) বাইয়াত করতে অস্বীকৃতি জানান।<ref>আবু মিখনাফ, মাকতালুল হুসাইন (আ.), তাহকিক ও টীকা: হোসাইন আল-গাফারি, কুম, আল-মাতবাআতুল ইলমিয়া, বি-তা, পৃ৫; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৩৩।</ref> তিনি তার পরিবার ও সঙ্গীদের নিয়ে মদিনা থেকে মক্কায় চলে যান।<ref>বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৬০; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৩৪।</ref> সেখানের জনগণ ও উমরাহ পালনকারীদের পক্ষ থেকে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।<ref>বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৫৬; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৩৬।</ref> ইমাম এই শহরে চার মাসেরও বেশি সময় অবস্থান করেন।<ref>শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৬৬।</ref> | ||
কুফার [[শিয়ারা]] ইয়াজিদের প্রতি ইমাম হুসাইনের (আ.) বাইয়াত না করার খবর জানতে পেরে ইমামকে (আ.) কুফায় আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি লিখেন। | কুফার [[শিয়ারা]] ইয়াজিদের প্রতি ইমাম হুসাইনের (আ.) বাইয়াত না করার খবর জানতে পেরে ইমামকে (আ.) কুফায় আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি লিখেন।<ref>বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৫৭-১৫৯; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৩৬-৩৮।</ref> হুসাইন ইবনে আলী (আ.) কুফার পরিস্থিতি সম্পর্কে খবর নেওয়ার জন্য মুসলিম ইবনে আকিলকে কুফায় প্রেরণ করেন। [[মুসলিম ইবনে আকিল]] সেখানকার জনগণের সমর্থন ও বাইয়াত দেখে ইমাম হুসাইন (আ.)-কে কুফায় আসার জন্য আহ্বান জানান।<ref>শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৪১।</ref> ইমাম তার পরিবার ও সঙ্গীদের নিয়ে ৮ জিলহজ্জ মক্কা থেকে কুফার দিকে রওনা হন।<ref>বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৬০; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৬৬।</ref> | ||
কোন কোন সূত্র অনুযায়ী, ইমাম হুসাইন (আ.) মক্কায় অবস্থানকালীন সময়ে, তাকে হত্যার জন্য একটি ষড়যন্ত্রের কথা যখন জানতে পারেন তখন মক্কার পবিত্রতা রক্ষার জন্য এই শহর ত্যাগ করে ইরাকের দিকে যাত্রা করেন। | কোন কোন সূত্র অনুযায়ী, ইমাম হুসাইন (আ.) মক্কায় অবস্থানকালীন সময়ে, তাকে হত্যার জন্য একটি ষড়যন্ত্রের কথা যখন জানতে পারেন তখন মক্কার পবিত্রতা রক্ষার জন্য এই শহর ত্যাগ করে ইরাকের দিকে যাত্রা করেন।<ref>ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪১৮হি, জি১০, পৃ৪৫০; ইবনে কাসির, ইসমাইল বিন উমর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, বেইরুত, দারুল ফিকর, বি-তা, জি৮, পৃ১৫৯ ও ১৬১।</ref> | ||
{{see also|ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বিদ্রোহের পূর্বের রাজনৈতিক কার্যক্রম}} | {{see also|ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বিদ্রোহের পূর্বের রাজনৈতিক কার্যক্রম}} | ||
== কারবালার ঘটনা == | == কারবালার ঘটনা == | ||
[[কারবালার ঘটনা]] হচ্ছে ইমাম হুসাইন (আ.) এর পক্ষ থেকে ইয়াজিদের প্রতি বাইয়াত করতে অস্বীকৃতি জানানোর ফল। হুসাইন (আ.) কুফাবাসীদের আমন্ত্রণে তার পরিবার ও সঙ্গীদের নিয়ে কুফার দিকে রওনা হন; কিন্তু যুহাসম নামক স্থানে [[হুর ইবনে ইয়াজিদ রিয়াহি]]র নেতৃত্বে গঠিত একটি সৈন্যদলের বাধার মুখে পড়েন এবং গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হন। | [[কারবালার ঘটনা]] হচ্ছে ইমাম হুসাইন (আ.) এর পক্ষ থেকে ইয়াজিদের প্রতি বাইয়াত করতে অস্বীকৃতি জানানোর ফল। হুসাইন (আ.) কুফাবাসীদের আমন্ত্রণে তার পরিবার ও সঙ্গীদের নিয়ে কুফার দিকে রওনা হন; কিন্তু যুহাসম নামক স্থানে [[হুর ইবনে ইয়াজিদ রিয়াহি]]র নেতৃত্বে গঠিত একটি সৈন্যদলের বাধার মুখে পড়েন এবং গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হন।<ref>তাবারি, মুহাম্মাদ বিন জারির, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, দারুত তারাস, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪০৮; ইবনে মিসকাওয়াইহ, আহমাদ বিন মুহাম্মাদ, তাজারিবুল উমাম ওয়া তাকাকুবুল হিমাম, তাহকিক: আবুল কাসিম ইমামি, তেহরান, সোরোশ, ১৩৭৯শ, জি২, পৃ৬৭; ইবনে আসীর, আলী বিন আবি আল-করম, আল-কামিল ফিত-তারিখ, বেইরুত, দারুস ছাদির, ১৯৬৫মি, জি৪, পৃ৫১।</ref> | ||
ইমামের কাফেলা ২ মুহাররম কারবালায় পৌঁছায় | ইমামের কাফেলা ২ মুহাররম কারবালায় পৌঁছায়<ref>ইবনে আ'ছাম, আহমাদ, আল-ফুতূহ, বেইরুত, দারুল আদওয়া, ১৪১১হি, জি৫, পৃ৮৩; তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪০৯; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৮৪; ইবনে মিসকাওয়াইহ, তাজারিবুল উমাম, তেহরান, ১৩৭৯শ, জি২, পৃ৬৮।</ref> এবং [[৩ মুহাররম]] উমর ইবনে সাদের নেতৃত্বে কুফাবাসীদের নিয়ে গঠিত একটি সৈন্যদল কারবালায় প্রবেশ করে।<ref>দিনওয়ারী, আহমাদ বিন দাউদ, আল-আখবারুত তিওয়াল, তাহকিক: আবদুল মুনিম আমির, পুনঃমূল্যায়ন: জামালুদ্দীন শিয়াল, কুম, মনশুরাতে রেযি, ১৩৬৮শ, পৃ২৫৩; বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৭৬; তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪০৯; ইবনে আসীর, আল-কামিল ফিত-তারিখ, বেইরুত, ১৯৬৫মি, জি৪, পৃ৫২।</ref> ঐতিহাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুসাইন ইবনে আলী (আ.) এবং [[উমর ইবনে সাদের]] মধ্যে বেশ কয়েকটি আলোচনা হয়<ref>তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪১৪; ইবনে মিসকাওয়াইহ, তাজারিবুল উমাম, তেহরান, ১৩৭৯শ, জি২, পৃ৭১।</ref>; কিন্তু ইবনে জিয়াদ ইয়াজিদের হাতে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বাইয়াত অথবা যুদ্ধ ছাড়া অন্য কোনো শর্তে রাজি হয় নি।<ref>বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৮২; তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪১৪; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৮৮।</ref> | ||
ইমাম হুসাইন (আ.) [[আশুরার রাতে]] তার সঙ্গীদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পর তাদের কাছ থেকে বাইয়াত প্রত্যাহার করেন; কিন্তু তারা তার প্রতি আনুগত্য ও সমর্থনের ক্ষেত্রে অটল থাকেন। | ইমাম হুসাইন (আ.) [[আশুরার রাতে]] তার সঙ্গীদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পর তাদের কাছ থেকে বাইয়াত প্রত্যাহার করেন; কিন্তু তারা তার প্রতি আনুগত্য ও সমর্থনের ক্ষেত্রে অটল থাকেন।<ref>শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৯১-৯৪।</ref> | ||
আশুরার সকালে যুদ্ধ শুরু হয় এবং ইমামের সঙ্গী-সাথী ও পরিবারের সদস্যদের শাহাদাতের পর | আশুরার সকালে যুদ্ধ শুরু হয় এবং ইমামের সঙ্গী-সাথী ও পরিবারের সদস্যদের শাহাদাতের পর<ref>তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪৪৬; ইস্পাহানী, আবুল ফারাজ, মাকাতিলুত তালিবিয়িন, তাহকিক: আহমাদ সাকির, বেইরুত, দারুল মাআরিফ, বি-তা, পৃ৮০।</ref>, এক পর্যায়ে ইমাম নিজেও যুদ্ধের ময়দানে গিয়ে যুদ্ধে অংশ নেন এবং [[আশুরার দিন]] পড়ন্ত বিকালে শাহাদাতবরণ করেন।<ref>শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, ১৪১৩হি, জি২, পৃ১১২।</ref> | ||
{{see also|কারবালার শহীদদের তালিকা}} | {{see also|কারবালার শহীদদের তালিকা}} | ||
[[শিমর ইবনে জিলজাওশান]] | [[শিমর ইবনে জিলজাওশান]]<ref>শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, ১৪১৩হি, জি২, পৃ১১২; খাওয়ারিজমী, মুওফফাক বিন আহমাদ, মাকতালুল হুসাইন (আ.), কুম, আনওয়ারুল হুদা, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪২৩হি, জি২, পৃ৪১; তাবারসি, ফজল বিন হাসান, আ’লামুল ওরা বি’আলামিল হুদা, তেহরান, ইসলামিয়া, ১৩৯০হি, জি১, পৃ৪৬৯।</ref> এবং কিছু কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী [[সিনান ইবনে আনাস]]<ref>তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪৫০-৪৫৩; ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, তাহকিক: ইহসান আব্বাস, বেইরুত, ১৯৬৮, জি৬, পৃ৪৪১; ইস্পাহানী, মাকাতিলুত তালিবিয়িন, বেইরুত, পৃ১১৮; মাসউদী, মুরুজুয যাহাব, ১৪০৯হি, জি৩, পৃ৬২।</ref> ইমামের মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে। কর্তিত মস্তক মোবারক সেই দিনই ইবনে জিয়াদের কাছে পাঠানো হয়।<ref>বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ৪১১; তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪৫৬।</ref> | ||
আরও দেখুন: ইমাম হুসাইন (আ.)-এর হত্যাকারী | আরও দেখুন: ইমাম হুসাইন (আ.)-এর হত্যাকারী | ||
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আহলে বাইতকে (পরিবারকে) বন্দী করে প্রথমে কুফা এবং পরে শামে (সিরিয়া) পাঠানো হয়। | ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আহলে বাইতকে (পরিবারকে) বন্দী করে প্রথমে কুফা এবং পরে শামে (সিরিয়া) পাঠানো হয়।<ref>তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪৫৬।</ref> | ||
{{see also|কারবালার ঘটনার পর আহলে বাইতের বন্দীকাল}} | {{see also|কারবালার ঘটনার পর আহলে বাইতের বন্দীকাল}} | ||
[[ইমাম হুসাইন (আ.) এবং তার সঙ্গীদের লাশ]] ১১ | [[ইমাম হুসাইন (আ.) এবং তার সঙ্গীদের লাশ]] ১১<ref>তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪৫৬।</ref> বা [[১৩ মুহাররম]] বনি আসাদ গোত্রের কিছু লোকের দ্বারা এবং কোন কোন সূত্র অনুযায়ী [[ইমাম সাজ্জাদ (আলাইহিস সালাম)]]-এর উপস্থিতিতে, শাহাদাতের স্থানে দাফন করা হয়।<ref>মুসাভি মুকাররাম, আবদুর রযযাক, মাকতালুল হুসাইন (আ.), বেইরুত, দারুল কিতাবুল ইসলামিয়া, পৃ৩৩৫-৩৩৬।</ref> | ||
=== কারবালার ঘটনার প্রতিক্রিয়া === | === কারবালার ঘটনার প্রতিক্রিয়া === | ||
ইয়াজিদের বিরুদ্ধে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বিপ্লব ও তার শাহাদাত ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এই বিপ্লব [[তাওয়াবিনের বিদ্রোহ]], [[মুখতারের বিদ্রোহ]], [[যায়েদ ইবনে আলীর বিদ্রোহ]] এবং [[ইয়াহইয়া ইবনে যায়েদের বিদ্রোহের]] মতো বিপ্লবী ও প্রতিবাদমূলক আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটায়। | ইয়াজিদের বিরুদ্ধে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বিপ্লব ও তার শাহাদাত ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এই বিপ্লব [[তাওয়াবিনের বিদ্রোহ]], [[মুখতারের বিদ্রোহ]], [[যায়েদ ইবনে আলীর বিদ্রোহ]] এবং [[ইয়াহইয়া ইবনে যায়েদের বিদ্রোহের]] মতো বিপ্লবী ও প্রতিবাদমূলক আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটায়। | ||
এছাড়াও, আবু মুসলিম খোরাসানির নেতৃত্বে "[[ইয়া লিসারাতিল হুসাইন]]" (হে হুসাইনের রক্তের প্রতিশোধ গ্রহণকারী) স্লোগান ব্যবহার করে হওয়া সিয়াহ জামাগানের বিদ্রোহ, যা উমাইয়াদের পতনের দিকে নিয়ে যায়,। | এছাড়াও, আবু মুসলিম খোরাসানির নেতৃত্বে "[[ইয়া লিসারাতিল হুসাইন]]" (হে হুসাইনের রক্তের প্রতিশোধ গ্রহণকারী) স্লোগান ব্যবহার করে হওয়া সিয়াহ জামাগানের বিদ্রোহ, যা উমাইয়াদের পতনের দিকে নিয়ে যায়,।<ref>বলধারী, আহমদ ইবনে ইয়াহিয়া, আনসাব আল-আশরাফ, সুহাইল জাক্কার এবং রিয়াজ জারকালী দ্বারা গবেষণাকৃত, বৈরুত, দারুল-ফিকর, ১৪১৭ হিজরি, খণ্ড ৯, পৃ. ৩১৭।</ref> ইরানের ইসলামী বিপ্লবও ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বিপ্লব থেকে অনুপ্রাণিত বলে বিবেচিত হয়।<ref>খোমেনী, সহিফেহ নূর, ১৩৭৯, খণ্ড ১৭, পৃ. ৫৮।</ref> | ||
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাত সম্পর্কে বহু হাদিস ও ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে। | ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাত সম্পর্কে বহু হাদিস ও ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে।<ref>রায়শাহরি, ইমাম হুসাইনের বিশ্বকোষ, ২০০৯, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৬৬–৩.১৭।</ref> এর মধ্যে একটি হাদিসে, যা মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি) থেকে বর্ণিত হয়েছে, বলা হয়েছে যে, আল্লাহ হুসাইনকে শাহাদাতের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন এবং তাকে সর্বশ্রেষ্ঠ শহীদ হিসেবে স্থান দিয়েছেন।<ref>কুলাইনি, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব, আল-কাফি, তেহরান, দার আল-কুতুব আল-ইসলামিয়া, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৩৬২, খণ্ড ১, পৃ. ৫২৮; শেখ তুসী, মুহাম্মদ ইবনে হাসান, আল-গায়বা, কোম, দার আল-মা'আরিফ আল-ইসলামিয়া, ১৪১১ হিজরি, পৃষ্ঠা ১৪৫।</ref> | ||
=== বিদ্রোহের উদ্দেশ্য === | === বিদ্রোহের উদ্দেশ্য === | ||
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বিদ্রোহের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। কিছু ব্যক্তি যেমন [[লুতফুল্লাহ সাফি]], [[মুর্তজা মোতাহহারি]], [[সৈয়দ মোহসেন আমিন]] এবং আলী শারিয়তি মনে করেন যে, হুসাইন ইবনে আলী (আ.)-এর বিদ্রোহের মূল উদ্দেশ্য ছিল শাহাদাত। | ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বিদ্রোহের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। কিছু ব্যক্তি যেমন [[লুতফুল্লাহ সাফি]], [[মুর্তজা মোতাহহারি]], [[সৈয়দ মোহসেন আমিন]] এবং আলী শারিয়তি মনে করেন যে, হুসাইন ইবনে আলী (আ.)-এর বিদ্রোহের মূল উদ্দেশ্য ছিল শাহাদাত।<ref>সাফান্দিয়ারী, আশুরা শিনাখত, ১৩৮৭শ, পৃ১৫৭।</ref> | ||
[[সৈয়দ মুরতাজা]] | [[সৈয়দ মুরতাজা]]<ref>সাইয়্যেদ মুর্তজা, আলী বিন হোসাইন, তানযিহুল আম্বিয়া, বেইরুত, দারুল আদওয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪০৯হি, পৃ২২৭-২২৮।</ref> এবং তার সমসাময়িক ব্যক্তিত্ব যেমন সালেহি নাজাফআবাদি মনে করেন যে, ইমামের বিদ্রোহের উদ্দেশ্য ছিল হুকুমত গঠন।<ref>সালেহী নাজাফাবাদী, নাঅমাতুল্লাহ, শাহিদে জাবিদ, তেহরান, উম্মিদে ফেরদা, ১৩৮৭শ, পৃ১৫৭-১৫৮।</ref> এছাড়াও, ইমামের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অন্যান্য মতামত যেমন জীবন রক্ষা করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।<ref>এশতেহার্দী, আলী পানাহ, হাফত সালা চিরা সাদা দার আওরদ?, কুম, ইন্তেশারাতে আল্লামা, প্রথম মুদ্রণ, ১৩৯১শ, পৃ১৫৪।</ref> | ||
{{see also| আশুরার বিদ্রোহ: একটি ঐশ্বরিক আন্দোলন নাকি জনগণের ইচ্ছা|ইমাম হুসাইন (আলাইহিস সালাম)-এর বিদ্রোহের পরিণতি সম্পর্কে সচেতনতা}} | {{see also| আশুরার বিদ্রোহ: একটি ঐশ্বরিক আন্দোলন নাকি জনগণের ইচ্ছা|ইমাম হুসাইন (আলাইহিস সালাম)-এর বিদ্রোহের পরিণতি সম্পর্কে সচেতনতা}} | ||
১৪৭ নং লাইন: | ১৫২ নং লাইন: | ||
সুন্নিদের মাঝে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বিদ্রোহ সম্পর্কে দুই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে: কিছু লোক এটির সমালোচনা করেছেন, আবার অনেকেই এটির প্রশংসা করেছেন। | সুন্নিদের মাঝে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বিদ্রোহ সম্পর্কে দুই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে: কিছু লোক এটির সমালোচনা করেছেন, আবার অনেকেই এটির প্রশংসা করেছেন। | ||
ইবনে খালদুন, নবম শতাব্দীর সুন্নি ইতিহাসবিদ, জালিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য ন্যায়পরায়ণ ইমামের উপস্থিতির উপর গুরুত্বারোপ করে হুসাইন (আ.)-কে এই যুদ্ধের জন্য সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। | ইবনে খালদুন, নবম শতাব্দীর সুন্নি ইতিহাসবিদ, জালিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য ন্যায়পরায়ণ ইমামের উপস্থিতির উপর গুরুত্বারোপ করে হুসাইন (আ.)-কে এই যুদ্ধের জন্য সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।<ref>ইবনে খালদুন, তারিখে ইবনে খালদুন, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪০১হি, জি১, পৃ২১৭।</ref> তিনি বলেছেন যে, যখন ইয়াজিদের ফাসেক হওয়ার বিষয়টি সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠল, তখন হুসাইন (আ.) নিজেকে এই কাজের জন্য উপযুক্ত ও সক্ষম মনে করে ইয়াজিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা তার উপর কর্তব্য বলে মনে করেছিলেন।<ref>ইবনে খালদুন, তারিখে ইবনে খালদুন, দারু ইহইয়াউত তারাসিল আরাবি, জি১, পৃ২১৬।</ref> হিজরি ত্রয়োদশ শতাব্দীর সুন্নি আলেম শিহাবুদ্দিন আলুসি তার গ্রন্থ "রুহুল মাআনি"-তে ইবনে আরাবি’র সমালোচনাপূর্বক তাকে অভিশাপ দিয়েছেন, কারণ ইবনে আরাবি ইমাম হুসাইনের সমালোচনা করে উল্লেখ করেন, এই বিদ্রোহ ছিল অশুভ ও ফিতনা এবং এটি পরিস্থিতির সংশোধন করেনি। ইবনে আরাবির এরূপ সমালোচনামূলক বক্তব্যকে আলুসি মিথ্যা ও একটি বড় অপবাদ বলে মনে করেছেন।<ref>আলূসী, রুহুল মা'আনি, তাহকিক: আলী আবদুল বারী আত্তিয়া, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, ১৪১৫হি, জি১৩, পৃ২২৮।</ref> | ||
হিজরি চতুর্দশ শতাব্দীর মিশরীয় লেখক ও সাহিত্যিক আব্বাস মাহমুদ আক্কাদ, যিনি "আবুশ শুহাদা: আল-হুসাইন ইবনে আলী" বইয়ের রচয়িতা, লিখেছেন যে, ইয়াজিদের সময় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, শাহাদাত ছাড়া এর কোনো প্রতিকার ছিল না। | হিজরি চতুর্দশ শতাব্দীর মিশরীয় লেখক ও সাহিত্যিক আব্বাস মাহমুদ আক্কাদ, যিনি "আবুশ শুহাদা: আল-হুসাইন ইবনে আলী" বইয়ের রচয়িতা, লিখেছেন যে, ইয়াজিদের সময় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, শাহাদাত ছাড়া এর কোনো প্রতিকার ছিল না।<ref>আক্কাদ, আব্বাস মাহমুদ, আবুশ শুহাদা আল-হুসাইন বিন আলী, তেহরান, আল-মাজমাউল আলামী লিত্তাকরিব, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪২৯হি, পৃ২০৭।</ref> তিনি বিশ্বাস করেন যে, এমন বিদ্রোহ কেবলমাত্র অসাধারণ ব্যক্তিরাই করতে পারে, যারা এই কাজের জন্য সৃষ্টি এবং তাদের কর্মকাণ্ডকে অন্যদের সাথে তুলনা করা যায় না; কারণ তারা ভিন্নভাবে অনুধাবন করে এবং ভিন্ন কিছু কামনা করে।<ref>আক্কাদ, আবুশ শুহাদা আল-হুসাইন বিন আলী, তেহরান, আল-মাজমাউল আলামী লিত্তাকরিব, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪২৯হি, পৃ১৪১।</ref> সুন্নি লেখক তাহা হুসাইন মনে করেন যে হুসাইন (আলাইহিস সালাম)-এর বাইয়াত না করা জেদের বশবর্তী থেকে নয়; কারণ তিনি জানতেন যে, যদি তিনি ইয়াজিদের নিকট বাইয়াত করেন, তবে তিনি তার বিবেকের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন এবং তার ধর্মের বিরুদ্ধে কাজ করবেন, কারণ তার মতে ইয়াজিদের নিকট বাইয়াত করা ছিল পাপ।<ref>হুসাইন, তाहा, আলী ও বনুহু, কায়রো, দারুল মাআরিফ, বি-তা, পৃ২৩৯।</ref> | ||
ওমর ফারুখও জোর দিয়ে বলেছেন যে, জুলুমের বিরুদ্ধে নীরবতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি মনে করেন যে, আজ আমাদের মুসলমানদের মধ্যে একজন "হুসাইন" প্রয়োজন, যিনি আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করবেন এবং আমাদেরকে সত্যের পক্ষে লড়াই করতে সাহায্য করবেন।[ | ওমর ফারুখও জোর দিয়ে বলেছেন যে, জুলুমের বিরুদ্ধে নীরবতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি মনে করেন যে, আজ আমাদের মুসলমানদের মধ্যে একজন "হুসাইন" প্রয়োজন, যিনি আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করবেন এবং আমাদেরকে সত্যের পক্ষে লড়াই করতে সাহায্য করবেন।[<ref>ফারুখ, ওমর, তাজদিদুন ফিল মুসলিমীন লা ফিল ইসলাম, বেইরুত, দারুল কিতাবুল আরাবি, বি-তা, পৃ১৫২।</ref> | ||
== শোক ও শোকানুষ্ঠান == | == শোক ও শোকানুষ্ঠান == | ||
[[শিয়ারা]] এবং এমনকি শিয়া ব্যতীত অন্যরাও [[মহররম মাসে]] ইমাম হুসাইন (আ.) এবং [[কারবালার শহীদদের]] জন্য শোক পালন করে। শিয়াদের এই শোকানুষ্ঠানের মধ্যে [[মার্সিয়া খানি]], [[মাতম]] (বুক চাপড়ানো), [[তাজিয়া]] (শোক নাটক), এবং [[জিয়ারতনামা পাঠ করা]], যেমন [[জিয়ারতে আশুরা]], [[জিয়ারতে ওয়ারিস]] এবং [[জিয়ারতে নাহিয়া মুকাদ্দাসা]], যা ব্যক্তিগত ও সম্মিলিতভাবে করা হয়। | [[শিয়ারা]] এবং এমনকি শিয়া ব্যতীত অন্যরাও [[মহররম মাসে]] ইমাম হুসাইন (আ.) এবং [[কারবালার শহীদদের]] জন্য শোক পালন করে। শিয়াদের এই শোকানুষ্ঠানের মধ্যে [[মার্সিয়া খানি]], [[মাতম]] (বুক চাপড়ানো), [[তাজিয়া]] (শোক নাটক), এবং [[জিয়ারতনামা পাঠ করা]], যেমন [[জিয়ারতে আশুরা]], [[জিয়ারতে ওয়ারিস]] এবং [[জিয়ারতে নাহিয়া মুকাদ্দাসা]], যা ব্যক্তিগত ও সম্মিলিতভাবে করা হয়।<ref>"মহররম মাসের আজাদারি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে অনুষ্ঠিত হয়", খবর: আইবনা; "ইরানের বিভিন্ন শহরের মহররম মাসের আচার-অনুষ্ঠান", ওয়েবসাইট।</ref> যে স্থানগুলি মানুষের শোক পালনের জন্য নির্ধারিত হয়, তাকে হুসাইনিয়া বলা হয়। | ||
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জন্য শোকানুষ্ঠান পালন আশুরার পর প্রথম দিন থেকেই শুরু হয়েছিল। | ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জন্য শোকানুষ্ঠান পালন আশুরার পর প্রথম দিন থেকেই শুরু হয়েছিল।<ref>বালাযুরী, আহমাদ বিন ইয়াহইয়া, আনসাবুল আশরাফ, তাহকিক: সুহাইল যাকার ও রিয়াদ জরকালী, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ২০৬।</ref> একটি রেওয়ায়েত অনুযায়ী, [[কারবালার বন্দীরা]] শামে (সিরিয়া) থাকাকালীন, বনি হাশিমের নারীরা কয়েক দিন কালো পোশাক পরিধান করে শোক পালন করেছিলেন।<ref>মাজলিসী, মুহাম্মাদ বাকির, বিহারুল আনওয়ার, তেহরান, ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬৩শ, জি৪৫, পৃ১৯৬।</ref> শিয়া সরকারগুলির ক্ষমতায় আসার পর এবং শিয়াদের উপর চাপ কমে যাওয়ার পর, শোকানুষ্ঠান একটি আনুষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।<ref>আইনেহওয়ান্দ, সাদেক ও ওলায়েতি, আলী আকবর, সুন্নতে আজাদারি ওয়া মুনকাবাতখানি দার তারিখে শিয়া ইমামিয়া, মুখবন্ধ: মুহাম্মাদ তাকিজাদেহ দাওরি, কুম, মো'আসসাসায়ে শিয়াশেনাসি, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৬শ, পৃ৬৫-৬৬; ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, জি১১, পৃ১৮৩; ইবনে জাওযী, আল-মুনতাজিম ফি তারিখুত তাবারি, তাহকিক: মুহাম্মাদ আবদুল কাদের আত্তা ও মুস্তাফা আবদুল কাদের আত্তা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, ১৯৯২মি, জি৭, পৃ১৫।</ref> | ||
[[শিয়া]] ও [[সুন্নি]] উভয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, [[নবী করিম (স.)]]] ইমাম হুসাইন (আ.) ভুমিষ্ঠ হওয়ার পর কেঁদেছিলেন এবং তার শাহাদাতের সংবাদ প্রদান করেছিলেন। | [[শিয়া]] ও [[সুন্নি]] উভয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, [[নবী করিম (স.)]]] ইমাম হুসাইন (আ.) ভুমিষ্ঠ হওয়ার পর কেঁদেছিলেন এবং তার শাহাদাতের সংবাদ প্রদান করেছিলেন।<ref>শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ১২৯; মাকরিজী, তাকিউদ্দীন, ইমতিয়াউল আসমা বিমা লিন্নাবি মিনাল আহওয়াল ওয়াল আমওয়াল ওয়াল হাফাদাহ ওয়াল মাতায়া, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, ১৪২০হি, জি১২, পৃ২৩৭; ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, বেইরুত, দারুল ফিকর, বি-তা, জি৬, পৃ২৩০।</ref> ঐতিহাসিক ও হাদিস সূত্র অনুযায়ী, শিয়া ইমামগণ হুসাইন ইবনে [[আলী (আ.)]]-এর শোকে শোকাহত হওয়া ও ক্রন্দনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতেন এবং শিয়াদেরকে এই কাজ ও আশুরার স্মৃতি জীবিত রাখার জন্য উপদেশ দিতেন।<ref>মাজলিসী, মুহাম্মাদ বাকির, বিহারুল আনওয়ার, তেহরান, ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬৩শ, জি৪৪, باب ৩৪, পৃ২৭৮-২৯৬।</ref> | ||
{{see also|ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শোকে শোকাহত হওয়া|শোকানুষ্ঠানের বিবর্তন|শিয়া ইমামদের ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জন্য শোক পালন}} | {{see also|ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শোকে শোকাহত হওয়া|শোকানুষ্ঠানের বিবর্তন|শিয়া ইমামদের ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জন্য শোক পালন}} | ||
== ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মাজার == | == ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মাজার == | ||
[[চিত্র | [[চিত্র:حرم امام حسین(ع).jpg|250px|থাম্ব|১৯৩২ সালে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মাজারের একটি দৃশ্য।]] | ||
প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, হুসাইন ইবনে আলী (আ.)-এর মাজারের প্রথম স্থাপনাটি [[মুখতার সাকাফি]]র সময়ে এবং তার নির্দেশে নির্মিত হয়েছিল। ইমাম হুসাইন (আ.) এর মাজারের স্থাপনাটি বহুবার সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। | প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, হুসাইন ইবনে আলী (আ.)-এর মাজারের প্রথম স্থাপনাটি [[মুখতার সাকাফি]]র সময়ে এবং তার নির্দেশে নির্মিত হয়েছিল। ইমাম হুসাইন (আ.) এর মাজারের স্থাপনাটি বহুবার সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।<ref>আল-তোয়ামাহ, সালমান হাদি, কারবালা ওয়া হারামহায়ে মতাহার, তেহরান, মো'আসসাসায়ে মাশআর, বি-তা, পৃ৮৯-১১২।</ref> ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মাজার [[আব্বাসীয় খলিফা]]<ref>ইস্পাহানী, আবুল ফারাজ, মাকাতিলুত তালিবিয়িন, তাহকিক: আহমাদ সাকির, বেইরুত, দারুল মাআরিফ, বি-তা, পৃ৪৭৭।</ref> এবং [[ওয়াহাবিদের]]<ref>একদল লেখক, নগাহে নও বে জরিয়ানে আশুরা, ১৩৮৭শ, পৃ৪২৫।</ref> দ্বারা কয়েকবার ধ্বংস করা হয়েছিল; উদাহরণস্বরূপ, মুতাওয়াক্কিল আব্বাসী মাজারের জমি চাষ করতে এবং সমাধি’র উপর পানি ঢালার নির্দেশ প্রদান করে।<ref>শাইখ তুসী, মুহাম্মাদ বিন হাসান, আল-আমালি, কুম, দারুস সাকাফা, ১৪১৪হি, পৃ৩২৭; ইবনে শহর আশুব, মুহাম্মাদ বিন আলী, মানাকিবু আলে আবি তালিব, কুম, আল্লামা, ১৩৭৯হি, জি২, পৃ২১১।</ref> | ||
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর সমাধির এলাকাটিকে "হায়েরে হুসাইনী" বলা হয়। হায়েরে’র এলাকাটির বিশেষ ফজিলত ও ফিকহি বিধান রয়েছে। একজন মুসাফির এখানে পূর্ণ নামাজ আদায় করতে পারেন। | ইমাম হুসাইন (আ.)-এর সমাধির এলাকাটিকে "হায়েরে হুসাইনী" বলা হয়। হায়েরে’র এলাকাটির বিশেষ ফজিলত ও ফিকহি বিধান রয়েছে। একজন মুসাফির এখানে পূর্ণ নামাজ আদায় করতে পারেন।<ref>তাবাতাবাই ইয়াযদি, সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ কাজেম, আল-ওরওয়াতুল উতক্বা, বেইরুত, ১৪০৪হি, জি২, পৃ১৬৪।</ref> হায়েরের সঠিক আয়তন সম্পর্কে কয়েকটি মত রয়েছে এবং এর ন্যূনতম সীমা হল ইমাম হুসাইন (আ.)-এর সমাধি থেকে ১১ মিটার ব্যাসার্ধের একটি এলাকা, যার বিশেষ গুরুত্ব ও মর্যাদা রয়েছে।<ref>কালিদার, আবদুল জাওয়াদ, তারিখে কারবালা ওয়া হায়েরে হুসাইন (আ.), নজাফ, অফসেট প্রিন্টিং: কুম, ১৩৭৬শ, পৃ৫১-৫২, ৫৮-৬০।</ref> | ||
== ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জিয়ারত == | == ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জিয়ারত == | ||
মাসুম ইমামদের রেওয়ায়েতে, ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জিয়ারতের উপর অত্যাধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং এটি সর্বোত্তম ও সর্বাধিক ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। | মাসুম ইমামদের রেওয়ায়েতে, ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জিয়ারতের উপর অত্যাধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং এটি সর্বোত্তম ও সর্বাধিক ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।<ref>মৌলানা ইমাম হাদী (আ.) ইনস্টিটিউট, জামে জিয়ারাতে মা'সুমিন, কুম, পিয়ামে ইমাম হাদী (আ.), ১৩৮৯শ, জি৩, পৃ৩৬-৬৯।</ref> এমনকি এর সওয়াব [[হজ্জ]] ও [[উমরাহ]]র সমান বলে গণ্য করা হয়েছে।<ref>ইবনে কুলুওয়াইহ, জাফর বিন মুহাম্মাদ, কামালুজ জিয়ারাত, নাজাফ, দারুল মরতাযাভিয়া, ১৩৫৬হি, পৃ১৫৮-১৬১।</ref> | ||
জিয়ারত সংক্রান্ত বইগুলিতে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জন্য বেশ কয়েকটি মুতলাক জিয়ারত (যে কোনো সময় পড়া যায়) | জিয়ারত সংক্রান্ত বইগুলিতে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জন্য বেশ কয়েকটি মুতলাক জিয়ারত (যে কোনো সময় পড়া যায়)<ref>মুহাম্মাদী রায়শাহরী, মুহাম্মাদ ও সহযোগীরা, দানেশ নামায়ে ইমাম হুসাইন (আ.), অনুবাদ: মুহাম্মাদ মোরাদী, কুম, দারুল হাদিস, ১৪৩০হি, জি১২, পৃ২৫৬-৪৫২।</ref> এবং বেশ কয়েকটি বিশেষ জিয়ারত (নির্দিষ্ট সময়ে পড়া হয়) সংকলিত হয়েছে।<ref>"বিশেষ জিয়ারতসমূহ: ইমাম হুসাইন (আ.)", হাওযা তথ্য সংরক্ষণ পোর্টাল।</ref> [[জিয়ারতে আশুরা]], [[জিয়ারতে ওয়ারিস[[ এবং [[জিয়ারতে নাহিয়া মুকাদ্দাসা]] এই জিয়ারতনামাগুলির মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত। | ||
=== আরবাঈন === | === আরবাঈন === | ||
১৭৭ নং লাইন: | ১৮২ নং লাইন: | ||
শিয়ারা ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাতের চল্লিশতম দিনে, যা আরবাইন নামে পরিচিত, শোক পালন করে। ইমাম হুসাইন (আ.)-এর ভক্তরা এই দিনে কারবালায় ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে যায়। | শিয়ারা ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাতের চল্লিশতম দিনে, যা আরবাইন নামে পরিচিত, শোক পালন করে। ইমাম হুসাইন (আ.)-এর ভক্তরা এই দিনে কারবালায় ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে যায়। | ||
কিছু ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, [[কারবালার বন্দীরা]] শাম থেকে [[মদিনা]]য় ফেরার পথে আরবাইনের দিনে কারবালার শহীদদের জিয়ারত করেছিলেন। | কিছু ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, [[কারবালার বন্দীরা]] শাম থেকে [[মদিনা]]য় ফেরার পথে আরবাইনের দিনে কারবালার শহীদদের জিয়ারত করেছিলেন।<ref>সাইয়্যেদ ইবনে তাওউস, আলী বিন মূসা, আল-মালহূফ আলা কাতলা তুফূফ, কুম, আসওয়া, ১৪১৪হি, পৃ২২৫।</ref> যেমন বলা হয়েছে, [[জাবির ইবনে আবদুল্লাহ আনসারী]] ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি এই দিনে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মাজারে উপস্থিত হয়েছিলেন।<ref>শাইখ তুসী, মুহাম্মাদ বিন হাসান, মিসবাহুল মুতাহাজ্জিদ, বেইরুত, মও’আসসাসায়ে ফিকহুশ শিয়াহ, ১৪১১হি, পৃ৭৮৭।</ref> | ||
[[আরবাইনের জিয়ারতের]] প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করার কারণে শিয়ারা প্রতি বছর বিভিন্ন স্থান থেকে কারবালার দিকে যাত্রা করে। এই যাত্রা, যা সাধারণত পায়ে হেঁটে সম্পন্ন হয়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমাবেশগুলির মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হয়। সংবাদ মাধ্যম ২০১৯ সালে আরবাইনের জিয়ারতকারীর সংখ্যা ১৮ মিলিয়নেরও অধিক বলে উল্লেখ করে। | [[আরবাইনের জিয়ারতের]] প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করার কারণে শিয়ারা প্রতি বছর বিভিন্ন স্থান থেকে কারবালার দিকে যাত্রা করে। এই যাত্রা, যা সাধারণত পায়ে হেঁটে সম্পন্ন হয়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমাবেশগুলির মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হয়। সংবাদ মাধ্যম ২০১৯ সালে আরবাইনের জিয়ারতকারীর সংখ্যা ১৮ মিলিয়নেরও অধিক বলে উল্লেখ করে।<ref>"এ বছরের আরবাইনের জিয়ারতকারীদের সংখ্যা ১৮ মিলিয়ন অতিক্রম করেছে", ইরান ইসলামি গণমাধ্যম সংস্থা।</ref> | ||
== তথ্যসূত্র == | == তথ্যসূত্র == | ||
২০৭ নং লাইন: | ২১২ নং লাইন: | ||
{{text end}} | {{text end}} | ||
[[fa:امام حسین علیهالسلام]] | [[fa:امام حسین علیهالسلام]] | ||
[[ms:Imam Husain as]] | |||
[[ru:Имам Хусейн (мир ему)]] |
১৭:৫৭, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণ
ইমাম হুসাইন (আ.) কে?
ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম (৪ - ৬১ হিজরি) হলেন শিয়া মুসলিমদের তৃতীয় ইমাম, যিনি ইমাম আলী (আ.) এবং ইমাম হাসান (আ.)-এর পর ইমামতের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শেষ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর নাতি এবং ইমাম আলী (আ.) ও হযরত ফাতিমা (সা.আ.)-এর পুত্র। তিনি ইমাম হাসান (আ.)-এর ছোট ভাই ছিলেন। ইমাম হুসাইন (আ.)-এর ইমামতের মেয়াদকাল ছিল ১১ বছর।
শিয়া ও সুন্নি উভয় সম্প্রদায়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, ইমাম হুসাইন (আ.) আসহাবে কিসার (পবিত্র চাদরের মধ্যে অবস্থানকারী) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি তাতহীরের আয়াতের মিসদাক বা দৃষ্টান্ত ও মুবাহিলার আয়াতে "আবনাউনা" (আমাদের পুত্রগণ) শব্দের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হন। ইমাম হুসাইন (আ.) রাসূল (স.)-এর অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। রাসূল (স.) তাকে হেদায়েতের আলো, নাজাতের নৌকা এবং জান্নাতের যুবকদের সরদার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
ইমামত লাভের আগে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জীবনী সম্পর্কে প্রাপ্ত সংক্ষিপ্ত তথ্যের মধ্যে রয়েছে তার পিতা ইমাম আলী (আ.)-এর সাথে তিনটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ, তার ভাই ইমাম হাসান (আ.) কর্তৃক মুয়াবিয়ার সাথে সম্পাদিত সন্ধিকে সমর্থন পূর্বক তার অনুসরণ। ইমাম হাসান (আ.)-এর শাহাদাতের পর ইমাম হুসাইন (আ.) মুয়াবিয়ার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে তার ভাইয়ের চুক্তি মেনে চলেন।
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর ইমামতের দশ বছর মুয়াবিয়ার শাসনামলের সমসাময়িক। ইমাম হাসান (আ.), মুয়াবিয়া কর্তৃক সাহাবা হত্যা এবং ইয়াজিদকে তার উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করাসহ কিছু কিছু কর্মকাণ্ডের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি ইয়াজিদকে অযোগ্য ঘোষণা করে নিজেকে খিলাফতের যোগ্য দাবিদার বলে ঘোষণা করেন। ইমাম হুসাইন (আ.) এক ভাষণে উমাইয়াদের বিরুদ্ধে তার রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন।
মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর ইমাম হুসাইন (আ.) ইয়াজিদের প্রতি বাইয়াত (আনুগত্যের শপথ) করাকে অবৈধ ঘোষণা করেন। ৬০ হিজরির ২৮ রজব তিনি ইয়াজিদের পক্ষ থেকে হত্যার হুমকি পাওয়ার পর মদিনা থেকে মক্কায় চলে যান। তিনি কুফাবাসীর কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক চিঠি পান, যাতে তারা তাকে নেতৃত্ব গ্রহণের আহ্বান জানায়। তার দূত মুসলিম ইবনে আকিল কুফাবাসীদের সমর্থন নিশ্চিত করার পর, ইমাম হুসাইন (আ.) ৮ জিলহজ্জ কুফার দিকে রওনা হন। কুফার গভর্নর উবাইদুল্লাহ ইবনে জিয়াদ হুর ইবনে ইয়াজিদের নেতৃত্বে একদল সেনাবাহিনী পাঠান ইমাম হুসাইন (আলাইহিস সালাম)-কে বাধা প্রদান করার জন্য। পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ইমাম হুসাইন (আ.) কারবালার দিকে অগ্রসর হন। শেষ পর্যন্ত আশুরার দিনে কুফার সেনাবাহিনীর সাথে সংঘটিত যুদ্ধে তিনি তার সঙ্গীসহ শাহাদাতবরণ করেন এবং তার পরিবার বন্দী হয়। ইমাম হুসাইন (আ.) এবং তার সঙ্গীদের লাশ ১১ বা ১৩ মুহাররম বনী আসাদ গোত্রের কিছু লোক কারবালায় দাফন করেন।
মাকাম ও মর্যাদা
হুসাইন ইবনে আলী (আ.) হলেন শিয়া মুসলিমদের তৃতীয় ইমাম, যিনি ইমাম আলী (আ.) এবংইমাম হাসান (আ.)-এর পর ইমামতের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হন। ইমাম হুসাইন (আ.) মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি বিশেষ মর্যাদার অধিকারী।
তিনি একাধারে মহান ব্যক্তিত্ব এবং বনি হাশিম গোত্রের নেতা হিসেবে বিবেচিত হন[১]; এমনকি বনি হাশিমের মধ্যে তার মতামত প্রাধান্য পেত।[২] কিছু কিছু শিয়া ও সুন্নি সূত্রে বর্ণিত একটি হাদিস অনুযায়ী, হুসাইন (আ.)-কে সিবতে পয়গম্বর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।[৩] সিবত হলেন এমন ইমাম বা নেতা যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্বাচিত এবং নবীদের বংশধর।[৪]
৬১ হিজরির আশুরার ঘটনার পর ইমাম হুসাইন (আ.) মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে একজন সত্যনিষ্ঠ, সাহসী ও শাহাদাতপ্রত্যাশী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।[৫] মুসলিমদের মধ্যে তার মাকাম ও মর্যাদা মূলত আল্লাহর পথে জিহাদকারী এবং নিজের জীবন, সম্পদ ও পরিবার-পরিজনকে উৎসর্গকারী হিসেবে ফুটে উঠেছে।[৬]
আশুরার ঘটনা নবী পরিবারের প্রতি প্রথম প্রকাশ্য অবমাননা ও আক্রমণ, শিয়া সংস্কৃতিতে যার গভীর প্রভাব পড়েছে।[৭] তার এই আন্দোলন "আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার" (সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে বাধা দেওয়া), জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের প্রতীক হয়ে ওঠে।[৮] এটি জালিম শাসকদের বিরুদ্ধে শিয়াদের বিদ্রোহের পথ প্রশস্ত করে।[৯] সাধারণ সংস্কৃতিতে মুসলিম এবং অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরাও হুসাইন ইবনে আলী (আ.)-কে ত্যাগ, জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, স্বাধীনতা, মূল্যবোধ রক্ষা ও ন্যায়ের পথে সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করেন।[১০]
শিয়া সংস্কৃতিতে মহররম ও সফর মাসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, বিশেষত তাসুয়া, আশুরা ও আরবাইনের দিনে শিয়াদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও রীতিনীতি পালন করা হয়।[১১] শিয়ারা ধর্মীয় নেতাদের অনুসরণ করে পানি পান করার সময় ইমাম হুসাইন (আ.)-এর তৃষ্ণার কথা স্মরণ করেন এবং তার উপর সালাম প্রেরণ করেন।[১২]
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি)-এর নাতি
ইমাম হুসাইন (আ.) ৪ হিজরির ৩[১৩] বা ৫ শাবান[১৪] মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন।[১৫]
তিনি হচ্ছেন বনি হাশিম বংশ ও কুরাইশ গোত্রের সদস্য; নবী করিম (স.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র; ইমাম আলী (আ.) ও হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ.)-এর হৃদয়ের টুকরো পুত্র এবং ইমাম হাসান মুজতাবা (আ.)-এর অত্যন্ত স্নেহের ছোট ভাই।[১৬] হযরত আব্বাস (আ.), মুহাম্মদ ইবনে হানাফিয়া তার অন্য ভাই এবং হযরত জয়নাব সালামুল্লাহ আলাইহা ও হযরত উম্মে কুলসুম তার বোন হিসেবে পরিচিত।[১৭]
শিয়া ও সুন্নি উভয় মাযহাবের সূত্রসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নবী করিম (স.) মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে তাঁর নাম "হুসাইন"[১৮] রাখেন।[১৯] হুসাইন নামটিকে হিব্রু ভাষায় "শাবির" হিসেবে জ্ঞান করা হয়, যা হারুন (আ.)-এর পুত্রদের মধ্যে একজনের নাম।[২০][২১] উম্মে ফাদল[২২] এবং আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াকতারের মাতা’কে[২৩] ইমামের ধাত্রী মাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হুসাইন ইবনে আলী (আ.)-এর কুনিয়াত (ডাকনাম) হচ্ছে আবা আব্দিল্লাহ।[২৪] তিনি "সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ" (জান্নাতের যুবকদের নেতা), যাকি, তাইয়্যিব, ওফি, সাইয়্যিদ, আত-তাবি' লি-মারদাতিল্লাহ ইত্যাদি লকব তথা উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।[২৫] এছাড়াও "সারুল্লাহ", "কাতিলুল আবরাত"[২৬] এবং "সাইয়্যিদুশ শুহাদা"[২৭] হলো তাঁর অন্যান্য উপাধি, যা জিয়ারতনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য
শিয়া ও সুন্নি উভয় মাযহাবের সূত্রে, হুসাইন ইবনে আলী (আ.)-কে "আসহাবুল কিসা'" (পবিত্র চাদরের অধীনে অবস্থানকারী)[২৮] এবং আহলে বাইতের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের সম্পর্কে তাতহীরের আয়াত (পবিত্রতার আয়াত) নাযিল হয়েছে।[২৯] তিনি তার ভাই ইমাম হাসান (আ.)-এর সাথে "আবনাউনা" (আমাদের পুত্রগণ) শব্দের দৃষ্টিান্ত হিসেবে মুবাহিলার আয়াতে উল্লিখিত হয়েছেন।((৯যামাখশারি, আল-কাশশাফ আন হাকাইক গাওয়ামিজিত তানযিল, কুম, নাশরুল বালাগা, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪১৫হি, সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৬১ এর অধীনে; ফখর রাজী, আত-তাফসিরুল কাবীর, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪০৫হি, সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৬১ এর অধীনে।</ref>
আহলে সুন্নতের গ্রহণযোগ্য সূত্রগুলোতেও হযরত হুসাইন ইবনে আলী (আ.) এর মর্যাদা ও গুণাবলি সম্পর্কে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে।[৩০] যেমন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, হুসাইন (আ.) হলেন হেদায়েতের আলো ও নাজাতের নৌকা[৩১] এবং জান্নাতের যুবকদের সরদার।[৩২] আরও একটি হাদিসে তিনি (স.) বলেছেন, "হুসাইন আমার থেকে এবং আমি হুসাইন থেকে।"[৩৩] "যে এই দুই জনকে (হাসান ও হুসাইন) ভালোবাসে, সে আমাকে ভালোবাসে এবং যে তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে, সে আমার সাথে শত্রুতা পোষণ করে।"[৩৪] বলা হয়েছে যে, রাসূল (স.) তাঁর আহলে বাইতের মধ্যে হাসান ও হুসাইন (আ.)-কে অন্যদের চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন।[৩৫] তার এই ভালোবাসা এতটাই গভীর ছিল যে, কখনও তারা মসজিদে প্রবেশ করলে তিনি তার খুতবা অসমাপ্ত রেখে মিম্বর থেকে নেমে তাদেরকে কোলে তুলে নিতেন।[৩৬]
রেওয়ায়েতে আছে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হুসাইন (আ.)-এর কবরের মাটিকে শিফা (রোগমুক্তি) এবং তার কবর সংলগ্ন স্থানকে দোয়া কবুলের স্থান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।[৩৭] "আল-খাসাইস আল-হুসাইনিয়্যাহ" নামক গ্রন্থে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর তিনশত’র বেশি বিশেষ বৈশিষ্ট্য এর উল্লেখ করা হয়েছে।[৩৮]
অধিকাংশ হাদিস, ঐতিহাসিক ও রিজাল সংক্রান্ত সূত্রে মহানবী (স.)-এর সাথে হুসাইন (আলাইহিস সালাম)-এর সাদৃশ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে[৩৯] এবং একটি রেওয়ায়েতে তাকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি)-এর সবচেয়ে সদৃশ ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।[৪০]। তার সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি কখনও মখমলের কাপড় পরিধান করতেন বা মখমলের পাগড়ি মাথায় পরিধান করতেন[৪১] এবং তার চুল ও দাড়ি খিজাব (রং) করতেন।[৪২]
ইমাম হুসাইন (আ.) ছিলেন অত্যন্ত দানশীল ও উদার প্রকৃতির।[৪৩] তিনি গরিব-দুঃখীদের সাথে বসতেন, তাদের দাওয়াত গ্রহণ করতেন, তাদের সাথে খাবার খেতেন এবং তাদের নিজ বাড়িতে আমন্ত্রণ জানাতেন। তিনি তার বাড়িতে যা কিছু থাকত, তা থেকে তাদের বঞ্চিত করতেন না।[৪৪]
তিনি তার গোলাম ও দাসীদের সদাচরণের বিনিময়ে মুক্ত করে দিতেন।[৪৫] সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি ২৫ বার পায়ে হেঁটে হজ্জ করেছেন।[৪৬]
স্ত্রী ও সন্তানগণ
শাহরবানু নামে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর একজন স্ত্রীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি সাসানীয় সম্রাট ইয়াজদ গির্দের কন্যা এবং ইমাম জয়নুল আবেদীন (আলাইহিস সালাম)-এর মাতা হিসেবে পরিচিত। তবে সমসাময়িক গবেষকরা শাহরবানুর বংশপরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।[৪৭]
ইমামের আরেক স্ত্রী ছিলেন রুবাব, যিনি ইমরুল কায়েস ইবনে আদির কন্যা। তিনি সাকিনা ও আবদুল্লাহর মাতা হিসেবে পরিচিত।[৪৮] রুবাব কারবালায় উপস্থিত ছিলেন এবং বন্দীদের সাথে শামে (সিরিয়া) গিয়েছিলেন।[৪৯] অধিকাংশ সূত্রে আবদুল্লাহ (আলী আসগর)-কে শাহাদাতের সময় শিশু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।[৫০]
লায়লা বিনতে আবি মুররা ইবনে উরওয়া ইবনে মাসউদ সাকাফি[৫১] ইমামের আরেক স্ত্রী হিসেবে উল্লিখিত হয়েছেন। তিনি আলী আকবর (আলাইহিস সালাম)-এর মাতা ছিলেন[৫২], যিনি আশুরার ঘটনায় শাহাদাতবরণ করেন।[৫৩]
ইবনে তালহা শাফেয়ি তার গ্রন্থ "মাতালিবুস সুল ফি মানাকিবে আলি রাসুল"-এ ইমামের সন্তানদের সংখ্যা দশজন বলে উল্লেখ করেছেন।[৫৪] তবে কিছু সূত্রে ইমামের সন্তানদের সংখ্যা হিসেবে চার ছেলে ও দুই মেয়ে[৫৫] বা ছয় ছেলে ও তিন মেয়ে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।[৫৬] ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দীর গ্রন্থ "লুবাবুল আনসাব"[৫৭]-এ রুকাইয়া নামে একটি মেয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সপ্তম হিজরি শতাব্দীর গ্রন্থ "কামিল বাহাই"-এ ইমাম হুসাইন (আ.)-এর চার বছর বয়সী একটি মেয়ের কথা বলা হয়েছে, যিনি শামে (সিরিয়া) মৃত্যুবরণ করেন।[৫৮]
তিন খলিফার যুগ
ইমাম হুসাইন (আলাইহিস সালাম)-এর জীবনের ২৫ বছর, যা তিন খলিফার শাসনামলে অতিবাহিত হয়, সে সম্পর্কে ঐতিহাসিক তথ্য খুবই সীমিত।[৫৯] বলা হয়েছে যে, তিনি দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনে খাত্তাবের কাছে বিশেষ সম্মানের পাত্র ছিলেন।[৬০]
তৃতীয় খলিফা উসমানের শাসনামলে একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইমাম হুসাইন (আলাইহিস সালাম) তার পিতা ও ভাইয়ের সাথে খলিফার নির্দেশ অমান্য করে আবু জরকে বিদায় জানান, যাকে খলিফা রাবাযাহ নামক স্থানে নির্বাসিত করেছিলেন।[৬১]
কিছু সুন্নি সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি তার ভাইয়ের সাথে কিছু বিজয়ে সঙ্গী হয়েছিলেন, যেমন ২৬ হিজরিতে আফ্রিকিয়ার বিজয়[৬২] এবং ৩০ হিজরিতে তাবারিস্তানের বিজয়।[৬৩] তবে শিয়া সূত্রে এ ধরনের তথ্য পাওয়া যায় না। কিছু কিছু শিয়া গবেষক, যেমন জাফর মুরতাজা আমিলি, এ ধরনের তথ্যকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে মনে করেন।[৬৪]
অপর একটি প্রতিবেদনে, তৃতীয় খলিফা উসমানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় খলিফার পক্ষে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইমাম হুসাইন (আ.) খলিফার কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট থাকা সত্ত্বেও তাঁর ভাই ইমাম হাসান (আ.)-এর সাথে উসমানের বাড়ি রক্ষার জন্য এগিয়ে আসেন।[৬৫] শিয়া গবেষকদের মধ্যে এই প্রতিবেদনের সমর্থক ও বিরোধী উভয়ই পক্ষই রয়েছে।[৬৬] সৈয়দ মুরতাজা, আমিরুল মু’মিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (আলাইহিস সালাম) কর্তৃক ইমাম হাসান ও হুসাইন (আ.) প্রেরিত হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করার পর, প্রেরণের কারণ হিসেবে উসমানের হত্যা রোধ এবং তার পরিবারকে পানি ও খাবার সরবরাহ করার কথা উল্লেখ করেছেন। খিলাফত থেকে উসমানের অপসারণ রোধ করার জন্য ইমাম হাসান ও হুসাইন (আ.)-কে পাঠানো হয় নি, কেননা, উসমান তার অন্যায় কাজের কারণে খিলাফত থেকে অপসারণের যোগ্য ছিলেন।[৬৭]
ইমাম আলী (আ.) এর শাসনামল
ইমাম আলী (আ.)-এর শাসনামলে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জীবন সম্পর্কে খুব কম তথ্যই পাওয়া যায়। ঐ সময়ে অন্যতম একটি ঘটনা হচ্ছে আমিরুল মুমিনিন (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি লোকজন বাইয়াত করার পর ইমাম হুসাইন (আ.) কর্তৃক ভাষণ প্রদান।[৬৮] ইমাম হুসাইন (আ.) জামালের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং ইমাম আলী (আ.)-এর বাহিনীর বাম দিকের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যা বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।[৬৯] তিনি সিফফিনের যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং সেখানে ডান দিকের বাহিনীর নেতৃত্ব প্রদান করেছিলেন।[৭০] এই যুদ্ধে ইমাম হুসাইন (আলাইহিস সালাম) জিহাদের জন্য লোকদের উৎসাহিত করতে একটি ভাষণ প্রদান করেন।[৭১]
তিনি শামের বাহিনীর কাছ থেকে পানি পুনরুদ্ধারের অভিযানেও অংশ নিয়েছিলেন।[৭২] যদিও বলা হয়ে থাকে যে, সিফফিনের যুদ্ধ সম্পর্কিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইমাম আলী (আ.) হাসানাইন তথা ইমাম হাসান ও হুসাইন (আলাইহিস সালাম)-কে যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখতেন। আর এর কারণ হিসেবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি) এর বংশধর টিকিয়ে রাখার কথা উল্লেখ করতেন।[৭৩] কোন কোন সূত্রে নাহরাওয়ানের যুদ্ধেও তার উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।[৭৪]
অনেক সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইমাম হুসাইন (আ.) ইমাম আলী (আ.)-এর শাহাদাতের সময় তাঁর পাশেই ছিলেন[৭৫] এবং তাঁর দাফন ও কাফন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন।[৭৬] আবার এটিও বলা হয়েছে যে, ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর পিতার আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার সময় কোন একটি দায়িত্ব পালনের জন্য মাদায়েনে অবস্থান করছিলেন এবং ইমাম হাসান (আ.)-এর চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে কুফায় প্রত্যাবর্তন করেন।[৭৭]
ইমাম হাসান (আ.)-এর যুগ
ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর ভাই ইমাম হাসান (আ.)-এর ইমামত ও শাসনামলে বড় ভাইয়ের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতেন। এমনকি বলা হয়েছে যে, তিনি সম্পূর্ণরূপে তার আদেশের অনুগত ছিলেন এবং ইমাম হাসান (আ.)-এর উপস্থিতিতে কোনো কথা বলতেন না।[৭৮] ইমাম হাসানের প্রতি আনুগত্য এতটাই প্রবল ছিল যে, শামের বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য জোর দাবি জানানো খাওয়ারিজদের বাইয়াতের অনুরোধ গ্রহণ করতেও তিনি অস্বীকৃতি জানান।[৭৯]
ইমাম হুসাইন (আ.) মুয়াবিয়ার সাথে সন্ধির ঘটনায় তাঁর ভাইয়ের পক্ষ অবলম্বন করেন এবং তাঁর ভাইয়ের সিদ্ধান্তের প্রতি একনিষ্ঠ সমর্থন জ্ঞাপন করেন[৮০] এবং তার ইমামতের উপর গুরুত্বারোপ করেন।[৮১] যদিওবা কোন কোন প্রতিবেদনে, মুয়াবিয়ার নিকট তার বাইয়াত না করা[৮২] এবং তার ভাইয়ের সিদ্ধান্তে তার সমর্থনহীনতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।[৮৩]
৪১ হিজরিতে মুয়াবিয়ার সাথে সন্ধি হওয়ার পর, ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর ভাইয়ের সাথে কুফা থেকে মদিনায় ফিরে আসেন।[৮৪]
ইমামতকাল
ইমাম হুসাইন (আ.) ৫০ হিজরিতে তার ভাইয়ের শাহাদাতের পর ইমামতের দায়িত্ব লাভ করেন এবং ৬১ হিজরি পর্যন্ত ইমামতের দায়িত্ব পালন করেন।[৮৫] শিয়া পণ্ডিতরা মাসুম (নিষ্পাপ) ইমামগণের ইমামত প্রমাণের জন্য সাধারণ দলিলসমূহ[৮৬] ছাড়াও ইমাম হুসাইন (আ.) এর ইমামতের বিশেষ দলিল হিসেবে রাসূলুল্লাহ (স.)-হতে বর্ণিত একটি হাদিসের উল্লেখ করেছেন, যেখানে মহানবীর (স.) তাঁকে ইমাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।[৮৭] এছাড়া, ইমাম আলী (আ.) কর্তৃক ইমাম হাসান (আ.)-এর পর ইমাম হুসাইন (আ.)-এর ইমামতের উপর গুরুত্বারোপ করাসহ[৮৮] ইমাম হাসান (আ.)-এর পক্ষ থেকে তাঁর পরবর্তী ইমাম হিসেবে ইমাম হুসাইন (আ.)-কে ঘোষণা করাকে[৮৯] অন্যান্য বিশেষ প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইমাম হাসান (আ.)-এর শাহাদাতের পরও ইমাম হুসাইন (আ.) মুয়াবিয়ার সাথে তার বাইয়াত ভঙ্গ করেননি।[৯০] এমনকি কিছু সংখ্যক শিয়াদের (যারা মুয়াবিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য সৈন্য সংগ্রহ করতে চেয়েছিল) অনুরোধ সত্ত্বেও, তিনি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্য তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং তার ভাইয়ের সিদ্ধান্তের পক্ষে কথা বলেন[৯১] এবং এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর অবধি স্থগিত রাখেন।[৯২] শেখ মুফিদের মতে, ইমাম হুসাইন (আ.) মুয়াবিয়ার মৃত্যু পর্যন্ত তাকিয়া অবলম্বন এবং ইমাম হাসান (আ.)-এর সন্ধির সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতির কারণে লোকজনকে তার দিকে আহ্বান জানাননি; কিন্তু মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর তিনি তার অবস্থান ও মর্যাদা তাদের নিকট স্পষ্ট করেন, যারা এ সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন।[৯৩]
মুয়াবিয়ার কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান
ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, ইমাম হুসাইন (আ.) মুয়াবিয়ার হুকুমতের বিরুদ্ধে কোনো সশস্ত্র পদক্ষেপ নেননি। তবে কিছু কিছু ইতিহাসবিদ কিছু কিছু প্রমাণ এবং তাদের মধ্যকার কথোপকথনের ভিত্তিতে এমন ধারণা পোষণ করেন যে, ইমাম হুসাইন (আ.) রাজনৈতিকভাবে মুয়াবিয়ার বৈধতা মেনে নেননি।[৯৪] এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে মুয়াবিয়ার নীতির বিরোধিতা করতেন।
মুয়াবিয়া কর্তৃক হাযর ইবনে আদি, আমর ইবনে হামক খুজাই এবং আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াহিয়া হাদরামি’র ন্যায় সাহাবী হত্যার ন্যায় কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর প্রতিবাদ ঐতিহাসিক সূত্রগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।[৯৫] ইমাম হুসাইন (আ.) মুয়াবিয়াকে উদ্দেশ্য করে লেখা একটি চিঠিতে ইমাম আলী (আ.)-এর সঙ্গীদের হত্যার নিন্দা জানান এবং মুয়াবিয়ার অন্যায় কাজের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি ধর্ম পুনরুজ্জীবিত করার জন্য মুয়াবিয়ার বিরুদ্ধে জিহাদকে আবশ্যক বলে উল্লেখ করেন এবং তার শাসনকে ইসলামী উম্মাহর জন্য একটি বড় ফিতনা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।[৯৬]
৫৬ হিজরিতে, যখন মুয়াবিয়া সন্ধিচুক্তির উত্তরসূরি নিয়োগের অধিকার সংক্রান্ত শর্তটি লঙ্ঘন করে লোকজনকে ইয়াজিদের নিকট বাইয়াত করার আহ্বান জানায়[৯৭] তখন ইমাম হুসাইনসহ (আ.) কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তি মুয়াবিয়া পুত্র ইয়াজিদের প্রতি বাইয়াত করতে অস্বীকার করেন।[৯৮] মুয়াবিয়া মদিনায় গিয়ে ইয়াজিদের পক্ষে এই শহরের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের সমর্থন লাভের চেষ্টা করেন।[৯৯] ইমাম হুসাইন একটি বৈঠকে, যেখানে মুয়াবিয়া, ইবনে আব্বাস এবং কিছু দরবারি ও উমাইয়া পরিবারের সদস্য উপস্থিত ছিলেন, মুয়াবিয়াকে তিরস্কার করেন এবং ইয়াজিদের চরিত্রের দিকে ইঙ্গিত করে তার উত্তরসূরী করার প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকতে বলেন। ইমাম হুসাইন (আ.) তখন তার নিজের মর্যাদা ও অধিকারের উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ইয়াজিদের বাইয়াতের স্বপক্ষে মুয়াবিয়া কর্তৃক উত্থাপিত যুক্তিগুলি খণ্ডন করেন।[১০০]
এছাড়া, সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হওয়া আরেকটি সভায়, যেখানে, ইয়াজিদের যোগ্যতা সম্পর্কে মুয়াবিয়া কর্তৃক প্রদত্ত বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইমাম হুসাইন নিজেকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে খিলাফতের জন্য অধিক যোগ্য বলে দাবি করেন। সেখানে তিনি মুয়াবিয়া পুত্র ইয়াজিদকে মদ্যপ ও কামুক হিসেবে চিহ্নিত করেন।[১০১]
৫৮ হিজরিতে, মুয়াবিয়ার পক্ষ থেকে শিয়াদের উপর চাপের কারণে[১০২], ইমাম হুসাইন (আ.) মিনায় একটি প্রতিবাদমূলক ভাষণ দেন।[১০৩] সেই ভাষণে তিনি আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনে আাবি তালিব (আলাইহিস সালাম) ও আহলে বাইতের গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন এবং জনগণকে "আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার" (সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে বাধা দেওয়া)-এর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি এই ইসলামী দায়িত্বের গুরুত্বের উপর তাগিদ দেন এবং আলেমদেরকে দায়িত্ব সম্পর্কে সতর্ক করেন। এছাড়াও জালিম শাসকদের বিরুদ্ধে আলেমদের বিদ্রোহের আবশ্যকতা এবং অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে তাদের নীরবতার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেন।[১০৪]
ইয়াজিদের খিলাফতের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া
মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর ৬০ হিজরির ১৫রজব ইয়াজিদ খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়।[১০৫] সে তার শাসনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে জোরপূর্বক বাইয়াত নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যারা তার খিলাফত মেনে নেননি।[১০৬] ইমাম হুসাইন (আ.) বাইয়াত করতে অস্বীকৃতি জানান।[১০৭] তিনি তার পরিবার ও সঙ্গীদের নিয়ে মদিনা থেকে মক্কায় চলে যান।[১০৮] সেখানের জনগণ ও উমরাহ পালনকারীদের পক্ষ থেকে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।[১০৯] ইমাম এই শহরে চার মাসেরও বেশি সময় অবস্থান করেন।[১১০]
কুফার শিয়ারা ইয়াজিদের প্রতি ইমাম হুসাইনের (আ.) বাইয়াত না করার খবর জানতে পেরে ইমামকে (আ.) কুফায় আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি লিখেন।[১১১] হুসাইন ইবনে আলী (আ.) কুফার পরিস্থিতি সম্পর্কে খবর নেওয়ার জন্য মুসলিম ইবনে আকিলকে কুফায় প্রেরণ করেন। মুসলিম ইবনে আকিল সেখানকার জনগণের সমর্থন ও বাইয়াত দেখে ইমাম হুসাইন (আ.)-কে কুফায় আসার জন্য আহ্বান জানান।[১১২] ইমাম তার পরিবার ও সঙ্গীদের নিয়ে ৮ জিলহজ্জ মক্কা থেকে কুফার দিকে রওনা হন।[১১৩]
কোন কোন সূত্র অনুযায়ী, ইমাম হুসাইন (আ.) মক্কায় অবস্থানকালীন সময়ে, তাকে হত্যার জন্য একটি ষড়যন্ত্রের কথা যখন জানতে পারেন তখন মক্কার পবিত্রতা রক্ষার জন্য এই শহর ত্যাগ করে ইরাকের দিকে যাত্রা করেন।[১১৪]
কারবালার ঘটনা
কারবালার ঘটনা হচ্ছে ইমাম হুসাইন (আ.) এর পক্ষ থেকে ইয়াজিদের প্রতি বাইয়াত করতে অস্বীকৃতি জানানোর ফল। হুসাইন (আ.) কুফাবাসীদের আমন্ত্রণে তার পরিবার ও সঙ্গীদের নিয়ে কুফার দিকে রওনা হন; কিন্তু যুহাসম নামক স্থানে হুর ইবনে ইয়াজিদ রিয়াহির নেতৃত্বে গঠিত একটি সৈন্যদলের বাধার মুখে পড়েন এবং গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হন।[১১৫]
ইমামের কাফেলা ২ মুহাররম কারবালায় পৌঁছায়[১১৬] এবং ৩ মুহাররম উমর ইবনে সাদের নেতৃত্বে কুফাবাসীদের নিয়ে গঠিত একটি সৈন্যদল কারবালায় প্রবেশ করে।[১১৭] ঐতিহাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুসাইন ইবনে আলী (আ.) এবং উমর ইবনে সাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি আলোচনা হয়[১১৮]; কিন্তু ইবনে জিয়াদ ইয়াজিদের হাতে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বাইয়াত অথবা যুদ্ধ ছাড়া অন্য কোনো শর্তে রাজি হয় নি।[১১৯]
ইমাম হুসাইন (আ.) আশুরার রাতে তার সঙ্গীদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পর তাদের কাছ থেকে বাইয়াত প্রত্যাহার করেন; কিন্তু তারা তার প্রতি আনুগত্য ও সমর্থনের ক্ষেত্রে অটল থাকেন।[১২০]
আশুরার সকালে যুদ্ধ শুরু হয় এবং ইমামের সঙ্গী-সাথী ও পরিবারের সদস্যদের শাহাদাতের পর[১২১], এক পর্যায়ে ইমাম নিজেও যুদ্ধের ময়দানে গিয়ে যুদ্ধে অংশ নেন এবং আশুরার দিন পড়ন্ত বিকালে শাহাদাতবরণ করেন।[১২২]
শিমর ইবনে জিলজাওশান[১২৩] এবং কিছু কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী সিনান ইবনে আনাস[১২৪] ইমামের মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে। কর্তিত মস্তক মোবারক সেই দিনই ইবনে জিয়াদের কাছে পাঠানো হয়।[১২৫]
আরও দেখুন: ইমাম হুসাইন (আ.)-এর হত্যাকারী ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আহলে বাইতকে (পরিবারকে) বন্দী করে প্রথমে কুফা এবং পরে শামে (সিরিয়া) পাঠানো হয়।[১২৬]
ইমাম হুসাইন (আ.) এবং তার সঙ্গীদের লাশ ১১[১২৭] বা ১৩ মুহাররম বনি আসাদ গোত্রের কিছু লোকের দ্বারা এবং কোন কোন সূত্র অনুযায়ী ইমাম সাজ্জাদ (আলাইহিস সালাম)-এর উপস্থিতিতে, শাহাদাতের স্থানে দাফন করা হয়।[১২৮]
কারবালার ঘটনার প্রতিক্রিয়া
ইয়াজিদের বিরুদ্ধে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বিপ্লব ও তার শাহাদাত ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এই বিপ্লব তাওয়াবিনের বিদ্রোহ, মুখতারের বিদ্রোহ, যায়েদ ইবনে আলীর বিদ্রোহ এবং ইয়াহইয়া ইবনে যায়েদের বিদ্রোহের মতো বিপ্লবী ও প্রতিবাদমূলক আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটায়।
এছাড়াও, আবু মুসলিম খোরাসানির নেতৃত্বে "ইয়া লিসারাতিল হুসাইন" (হে হুসাইনের রক্তের প্রতিশোধ গ্রহণকারী) স্লোগান ব্যবহার করে হওয়া সিয়াহ জামাগানের বিদ্রোহ, যা উমাইয়াদের পতনের দিকে নিয়ে যায়,।[১২৯] ইরানের ইসলামী বিপ্লবও ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বিপ্লব থেকে অনুপ্রাণিত বলে বিবেচিত হয়।[১৩০]
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাত সম্পর্কে বহু হাদিস ও ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে।[১৩১] এর মধ্যে একটি হাদিসে, যা মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি) থেকে বর্ণিত হয়েছে, বলা হয়েছে যে, আল্লাহ হুসাইনকে শাহাদাতের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন এবং তাকে সর্বশ্রেষ্ঠ শহীদ হিসেবে স্থান দিয়েছেন।[১৩২]
বিদ্রোহের উদ্দেশ্য
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বিদ্রোহের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। কিছু ব্যক্তি যেমন লুতফুল্লাহ সাফি, মুর্তজা মোতাহহারি, সৈয়দ মোহসেন আমিন এবং আলী শারিয়তি মনে করেন যে, হুসাইন ইবনে আলী (আ.)-এর বিদ্রোহের মূল উদ্দেশ্য ছিল শাহাদাত।[১৩৩]
সৈয়দ মুরতাজা[১৩৪] এবং তার সমসাময়িক ব্যক্তিত্ব যেমন সালেহি নাজাফআবাদি মনে করেন যে, ইমামের বিদ্রোহের উদ্দেশ্য ছিল হুকুমত গঠন।[১৩৫] এছাড়াও, ইমামের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অন্যান্য মতামত যেমন জীবন রক্ষা করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।[১৩৬]
সুন্নিদের দৃষ্টিতে ইমাম হুসাইনের (আ.) বিদ্রোহ
সুন্নিদের মাঝে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বিদ্রোহ সম্পর্কে দুই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে: কিছু লোক এটির সমালোচনা করেছেন, আবার অনেকেই এটির প্রশংসা করেছেন।
ইবনে খালদুন, নবম শতাব্দীর সুন্নি ইতিহাসবিদ, জালিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য ন্যায়পরায়ণ ইমামের উপস্থিতির উপর গুরুত্বারোপ করে হুসাইন (আ.)-কে এই যুদ্ধের জন্য সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।[১৩৭] তিনি বলেছেন যে, যখন ইয়াজিদের ফাসেক হওয়ার বিষয়টি সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠল, তখন হুসাইন (আ.) নিজেকে এই কাজের জন্য উপযুক্ত ও সক্ষম মনে করে ইয়াজিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা তার উপর কর্তব্য বলে মনে করেছিলেন।[১৩৮] হিজরি ত্রয়োদশ শতাব্দীর সুন্নি আলেম শিহাবুদ্দিন আলুসি তার গ্রন্থ "রুহুল মাআনি"-তে ইবনে আরাবি’র সমালোচনাপূর্বক তাকে অভিশাপ দিয়েছেন, কারণ ইবনে আরাবি ইমাম হুসাইনের সমালোচনা করে উল্লেখ করেন, এই বিদ্রোহ ছিল অশুভ ও ফিতনা এবং এটি পরিস্থিতির সংশোধন করেনি। ইবনে আরাবির এরূপ সমালোচনামূলক বক্তব্যকে আলুসি মিথ্যা ও একটি বড় অপবাদ বলে মনে করেছেন।[১৩৯]
হিজরি চতুর্দশ শতাব্দীর মিশরীয় লেখক ও সাহিত্যিক আব্বাস মাহমুদ আক্কাদ, যিনি "আবুশ শুহাদা: আল-হুসাইন ইবনে আলী" বইয়ের রচয়িতা, লিখেছেন যে, ইয়াজিদের সময় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, শাহাদাত ছাড়া এর কোনো প্রতিকার ছিল না।[১৪০] তিনি বিশ্বাস করেন যে, এমন বিদ্রোহ কেবলমাত্র অসাধারণ ব্যক্তিরাই করতে পারে, যারা এই কাজের জন্য সৃষ্টি এবং তাদের কর্মকাণ্ডকে অন্যদের সাথে তুলনা করা যায় না; কারণ তারা ভিন্নভাবে অনুধাবন করে এবং ভিন্ন কিছু কামনা করে।[১৪১] সুন্নি লেখক তাহা হুসাইন মনে করেন যে হুসাইন (আলাইহিস সালাম)-এর বাইয়াত না করা জেদের বশবর্তী থেকে নয়; কারণ তিনি জানতেন যে, যদি তিনি ইয়াজিদের নিকট বাইয়াত করেন, তবে তিনি তার বিবেকের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন এবং তার ধর্মের বিরুদ্ধে কাজ করবেন, কারণ তার মতে ইয়াজিদের নিকট বাইয়াত করা ছিল পাপ।[১৪২]
ওমর ফারুখও জোর দিয়ে বলেছেন যে, জুলুমের বিরুদ্ধে নীরবতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি মনে করেন যে, আজ আমাদের মুসলমানদের মধ্যে একজন "হুসাইন" প্রয়োজন, যিনি আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করবেন এবং আমাদেরকে সত্যের পক্ষে লড়াই করতে সাহায্য করবেন।[[১৪৩]
শোক ও শোকানুষ্ঠান
শিয়ারা এবং এমনকি শিয়া ব্যতীত অন্যরাও মহররম মাসে ইমাম হুসাইন (আ.) এবং কারবালার শহীদদের জন্য শোক পালন করে। শিয়াদের এই শোকানুষ্ঠানের মধ্যে মার্সিয়া খানি, মাতম (বুক চাপড়ানো), তাজিয়া (শোক নাটক), এবং জিয়ারতনামা পাঠ করা, যেমন জিয়ারতে আশুরা, জিয়ারতে ওয়ারিস এবং জিয়ারতে নাহিয়া মুকাদ্দাসা, যা ব্যক্তিগত ও সম্মিলিতভাবে করা হয়।[১৪৪] যে স্থানগুলি মানুষের শোক পালনের জন্য নির্ধারিত হয়, তাকে হুসাইনিয়া বলা হয়।
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জন্য শোকানুষ্ঠান পালন আশুরার পর প্রথম দিন থেকেই শুরু হয়েছিল।[১৪৫] একটি রেওয়ায়েত অনুযায়ী, কারবালার বন্দীরা শামে (সিরিয়া) থাকাকালীন, বনি হাশিমের নারীরা কয়েক দিন কালো পোশাক পরিধান করে শোক পালন করেছিলেন।[১৪৬] শিয়া সরকারগুলির ক্ষমতায় আসার পর এবং শিয়াদের উপর চাপ কমে যাওয়ার পর, শোকানুষ্ঠান একটি আনুষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।[১৪৭]
শিয়া ও সুন্নি উভয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নবী করিম (স.)] ইমাম হুসাইন (আ.) ভুমিষ্ঠ হওয়ার পর কেঁদেছিলেন এবং তার শাহাদাতের সংবাদ প্রদান করেছিলেন।[১৪৮] ঐতিহাসিক ও হাদিস সূত্র অনুযায়ী, শিয়া ইমামগণ হুসাইন ইবনে আলী (আ.)-এর শোকে শোকাহত হওয়া ও ক্রন্দনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতেন এবং শিয়াদেরকে এই কাজ ও আশুরার স্মৃতি জীবিত রাখার জন্য উপদেশ দিতেন।[১৪৯]
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মাজার
প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, হুসাইন ইবনে আলী (আ.)-এর মাজারের প্রথম স্থাপনাটি মুখতার সাকাফির সময়ে এবং তার নির্দেশে নির্মিত হয়েছিল। ইমাম হুসাইন (আ.) এর মাজারের স্থাপনাটি বহুবার সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।[১৫০] ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মাজার আব্বাসীয় খলিফা[১৫১] এবং ওয়াহাবিদের[১৫২] দ্বারা কয়েকবার ধ্বংস করা হয়েছিল; উদাহরণস্বরূপ, মুতাওয়াক্কিল আব্বাসী মাজারের জমি চাষ করতে এবং সমাধি’র উপর পানি ঢালার নির্দেশ প্রদান করে।[১৫৩]
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর সমাধির এলাকাটিকে "হায়েরে হুসাইনী" বলা হয়। হায়েরে’র এলাকাটির বিশেষ ফজিলত ও ফিকহি বিধান রয়েছে। একজন মুসাফির এখানে পূর্ণ নামাজ আদায় করতে পারেন।[১৫৪] হায়েরের সঠিক আয়তন সম্পর্কে কয়েকটি মত রয়েছে এবং এর ন্যূনতম সীমা হল ইমাম হুসাইন (আ.)-এর সমাধি থেকে ১১ মিটার ব্যাসার্ধের একটি এলাকা, যার বিশেষ গুরুত্ব ও মর্যাদা রয়েছে।[১৫৫]
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জিয়ারত
মাসুম ইমামদের রেওয়ায়েতে, ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জিয়ারতের উপর অত্যাধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং এটি সর্বোত্তম ও সর্বাধিক ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।[১৫৬] এমনকি এর সওয়াব হজ্জ ও উমরাহর সমান বলে গণ্য করা হয়েছে।[১৫৭]
জিয়ারত সংক্রান্ত বইগুলিতে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জন্য বেশ কয়েকটি মুতলাক জিয়ারত (যে কোনো সময় পড়া যায়)[১৫৮] এবং বেশ কয়েকটি বিশেষ জিয়ারত (নির্দিষ্ট সময়ে পড়া হয়) সংকলিত হয়েছে।[১৫৯] জিয়ারতে আশুরা, [[জিয়ারতে ওয়ারিস[[ এবং জিয়ারতে নাহিয়া মুকাদ্দাসা এই জিয়ারতনামাগুলির মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত।
আরবাঈন
শিয়ারা ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাতের চল্লিশতম দিনে, যা আরবাইন নামে পরিচিত, শোক পালন করে। ইমাম হুসাইন (আ.)-এর ভক্তরা এই দিনে কারবালায় ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে যায়।
কিছু ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, কারবালার বন্দীরা শাম থেকে মদিনায় ফেরার পথে আরবাইনের দিনে কারবালার শহীদদের জিয়ারত করেছিলেন।[১৬০] যেমন বলা হয়েছে, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ আনসারী ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি এই দিনে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মাজারে উপস্থিত হয়েছিলেন।[১৬১]
আরবাইনের জিয়ারতের প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করার কারণে শিয়ারা প্রতি বছর বিভিন্ন স্থান থেকে কারবালার দিকে যাত্রা করে। এই যাত্রা, যা সাধারণত পায়ে হেঁটে সম্পন্ন হয়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমাবেশগুলির মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হয়। সংবাদ মাধ্যম ২০১৯ সালে আরবাইনের জিয়ারতকারীর সংখ্যা ১৮ মিলিয়নেরও অধিক বলে উল্লেখ করে।[১৬২]
তথ্যসূত্র
- ↑ আকুবী, আহমাদ বিন আবী ইয়াকুব, তারিখুল ইয়াকুবী, বেইরুত, দার ছাদির, বি-তা, জি২, পৃ২২৬; ইবন সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, চাপ দ্বিতীয়, ১৪১৮হি, জি১০, পৃ৩৬৩।
- ↑ ইবন সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, চাপ দ্বিতীয়, ১৪১৮হি, জি১০, পৃ৪১৪-৪১৬।
- ↑ বালাযুরী, আহমাদ বিন ইয়াহইয়া, আনসাবুল আশরাফ, তাহকিক সুহাইল যাকার ও রিয়াদ জরকালী, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৪২; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মাআরিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, প্রথম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ১২৭; মাকরিযী, তাকিউদ্দীন, ইমতিয়াউল আসমা বিমা লিন্নাবি মিনাল আহওয়াল ওয়াল আমওয়াল ওয়াল হাফাদাহ ওয়াল মাতায়া, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, ১৪২০হি, জি৬, পৃ১৯।
- ↑ মুহাম্মদী রায়শাহরী, মুহাম্মদ ও সহযোগীরা, দানেশনামা ইমাম হুসাইন (আ.), অনুবাদ: মুহাম্মদ মোরাদী, কুম, দারুল হাদিস, ১৪৩০হি, জি১, পৃ৪৭৪-৪৭৭।
- ↑ হাজ মনুচেহরী, ফারামার্জ, "হুসাইন (আ.), ইমাম", দায়েরাতুল মা'আরিফে বোজুরগে ইসলামী, জি২০, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মা'আরিফে বোজুরগে ইসলামী, ১৩৯১শ, পৃ৬৮১।
- ↑ আইউব, "ফাজায়েলে ইমাম হুসাইন (আ.) আহলুস সুন্নাহ হাদিসসমূহে"।
- ↑ হাজ মনুচেহরী, ফারামার্জ, "হুসাইন (আ.), ইমাম", দায়েরাতুল মা'আরিফে বোজুরগে ইসলামী, জি২০, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মা'আরিফে বোজুরগে ইসলামী, ১৩৯১শ, পৃ৬৮৬।
- ↑ মুহাদ্দিসী, জাওয়াদ, ফারহাঙ্গে আশুরা, কুম, নাশরে মারুফ, সপ্তদশ মুদ্রণ, ১৩৯৩শ, পৃ৩৭২।
- ↑ হাজ মনুচেহরী, ফারামার্জ, "হুসাইন (আ.), ইমাম", দায়েরাতুল মা'আরিফে বোজুরগে ইসলামী, জি২০, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মা'আরিফে বোজুরগে ইসলামী, ১৩৯১শ, পৃ৬৮৭।
- ↑ "ফারহাঙ্গে আশুরা ফারামুসলিমানি", ওয়েবসাইট: মাজমায়ে জাহানিয়ে সুলহে ইসলামি।
- ↑ হাজ মনুচেহরী, ফারামার্জ, "হুসাইন (আ.), ইমাম", দায়েরাতুল মা'আরিফে বোজুরগে ইসলামী, জি২০, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মা'আরিফে বোজুরগে ইসলামী, ১৩৯১শ, পৃ৬৮৯।
- ↑ হাজ মনুচেহরী, ফারামার্জ, "হুসাইন (আ.), ইমাম", দায়েরাতুল মা'আরিফে বোজুরগে ইসলামী, জি২০, তেহরান, মারকাজে দায়েরাতুল মা'আরিফে বোজুরগে ইসলামী, ১৩৯১শ, পৃ৬৮১; মুহাদ্দিসী, জাওয়াদ, ফারহাঙ্গে আশুরা, কুম, নাশরে মারুফ, সপ্তদশ মুদ্রণ, ১৩৯৩শ, পৃ৫০৮।
- ↑ ইবন মাশহাদী, মুহাম্মাদ বিন জাফর, আল-মাযার (আল-কাবীর), তাহকিক: জাওয়াদ আল-কাইয়ুমি আল-ইসফাহানি, কুম, মো'আসসাসাতুন নাশরুল ইসলামি, ১৪১৯হি, পৃ৩৯৭; শাইখ তুসী, মুহাম্মাদ বিন হাসান, মিসবাহুল মুতাহাজ্জিদ, বেইরুত, মো'আসসাসাতু ফিকহুশ শিয়া, ১৪১১হি, পৃ৮২৬, ৮২৮; সাইয়েদ বিন তাওস, আলী বিন মূসা, ইকবালুল আমাল, তেহরান, দারুল কুতুবুল ইসলামিয়া, ১৩৬৭শ, পৃ৬৮৯-৬৯০।
- ↑ শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মাআরিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, প্রথম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ২৭।
- ↑ ইয়াকুবী, আহমাদ বিন আবী ইয়াকুব, তারিখুল ইয়াকুবী, বেইরুত, দার ছাদির, বি-তা, জি২, পৃ২৪৬; দুলাবী, মুহাম্মাদ বিন আহমাদ, আয-যুররিয়াতুত তহারাহ, মুদ্রক: মুহাম্মাদ জাওয়াদ হোসাইনি জালালি, কুম, ১৪০৭হি, পৃ১০২, ১২১; তাবারী, মুহাম্মাদ বিন জারির, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, ১৯৬২মি, জি২, পৃ৫৫৫; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মাআরিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, প্রথম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ২৭।
- ↑ শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মাআরিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, প্রথম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ২৭।
- ↑ শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মাআরিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, প্রথম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ২৭।
- ↑ শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মাআরিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, প্রথম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ২৭; আহমাদ বিন হাম্বল, মুসনাদ আহমাদ, বেইরুত, দার ছাদির, বি-তা, জি১, পৃ৯৮, ১১৮।
- ↑ ইবন শহর আশুব, মুহাম্মাদ বিন আলী, মানাকিবু আলে আবি তালিব, কুম, আল্লামা, ১৩৭৯হি, জি৩, পৃ৩৯৭; ইবন সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, চাপ দ্বিতীয়, ১৪১৮হি, জি১০, পৃ২৪৪।
- ↑ ইবন মানজুর, মুহাম্মাদ বিন মুকরাম, লিসানুল আরব, বেইরুত, দার ছাদির, ১৪১৪হি, জি৪, পৃ৩৯৩; জুবাইদী ওয়াসিতী, মুর্তাযা হোসাইনি, তাজুল আরুস মিন জাওয়াহিরিল কামুস, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৪হি, জি৭, পৃ৪।
- ↑ ইবনে আসাকির, আলী বিন হাসান, তারিখ মাদিনাতি দামিশক, বেইরুত, দারুল ফিকর, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১৫হি, জি১৩, পৃ১৭১।
- ↑ শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মা'রিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, প্রথম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ১২৯; মাকরিজী, তাকিউদ্দীন, ইমতিয়াউল আসমা বিমা লিন্নাবি মিনাল আহওয়াল ওয়াল আমওয়াল ওয়াল হাফাদাহ ওয়াল মাতায়া, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, ১৪২০হি, জি১২, পৃ২৩৭; ইবনে কাসির, ইসমাইল বিন উমর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, বেইরুত, দারুল ফিকর, বি-তা, জি৬, পৃ২৩০।
- ↑ সমাবী, মুহাম্মাদ বিন তাহির, ইবসারুল আইন ফি আনসারিল হুসাইন (আ.), কুম, শাহিদ মোহাল্লাতি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১৯হি, পৃ৯৩।
- ↑ শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, ১৪১৩হি, জি২, পৃ২৭; ইবনে আবী শাইবা, আল-মুসান্নাফ ফি আহাদিস ওয়াল আসার, মুদ্রক: সাঈদ মুহাম্মাদ লাহহাম, বেইরুত, ১৪০৯হি, জি৮, পৃ৬৫; ইবনে কুতাইবা দিনওয়ারী, আল-মাআরিফ, তাহকিক: সরওয়াত আকাশা, কায়রো, আল-হাইআতুল মিসরিয়্যাহ আল-আম্মাহ লিল কিতাব, ১৯৬০মি, জি১, পৃ২১৩।
- ↑ ইবনে আবীল থলজ, তারিখুল আইম্মাহ, মাজমুয়া নাফিসা ফি তারিখুল আইম্মাহ, মুদ্রক: মাহমুদ মারআশি, কুম, কিতাবখানায়ে আইয়াতুল্লাহ মারআশি নাজাফি, ১৪০৬হি, পৃ২৮; ইবনে তালহা শাফেয়ী, মাতালিবুস সউল ফি মানাকিবে আলির রাসুল, মুদ্রক: মাজিদ বিন আহমাদ আতিয়া, বি-জা, বি-তা, জি২, পৃ৩৭৪।
- ↑ ইবনে কুলুওয়াইহ, জাফর বিন মুহাম্মাদ, কামালুজ যিয়ারাত, নাজাফ, দারুল মরতাযাভিয়া, ১৩৫৬হি, পৃ১৭৬।
- ↑ দেখুন: হিমিয়ারি, আবদুল্লাহ বিন জাফর, কুরবুল ইসনাদ, কুম, মো'আসসাসাতু আলে বাইত (আ.), প্রথম মুদ্রণ, ১৪১৩হি, পৃ৯৯-১০০; ইবনে কুলুওয়াইহ, কামালুজ যিয়ারাত, মুদ্রক: জাওয়াদ কাইউমি ইসফাহানি, কুম, ১৪১৭হি, পৃ২১৬-২১৯; শাইখ তুসী, আল-আমালি, কুম, দারুছ ছাকাফা, ১৪১৪হি, পৃ৪৯-৫০।
- ↑ দেখুন: কুলাইনি, মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব, আল-কাফি, তেহরান, দারুল কুতুবুল ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬২শ, জি১, পৃ২৮৭; মুসলিম বিন হাজ্জাজ, সহীহ মুসলিম, বেইরুত, দারুল মাআরিফ, ১৪২৩হি, জি১৫, পৃ১৯০।
- ↑ আহমাদ বিন হাম্বল, মুসনাদে আহমাদ, বেইরুত, দার ছাদির, বি-তা, জি১, পৃ৩৩১; ইবনে কাসির, তাফসিরুল কুরআনুল আজীম, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, ১৪১৯হি, জি৩, পৃ৭৯৯; শওকানি, ফাতহুল কাদির, বেইরুত, আলমুল কুতুব, বি-তা, জি৪, পৃ২৭৯।
- ↑ মুসলিম বিন হাজ্জাজ, সহীহ মুসলিম, বেইরুত, দারুল মাআরিফ, ১৪২৩হি, জি১৫, পৃ১৯০; ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪১৮হি, জি১০, পৃ৩৭৬-৪১০; বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, তাহকিক: সুহাইল যাকার ও রিয়াদ জরকালী, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ৭।
- ↑ শাইখ ছদূক, কামালুদ্দিন ও তামামুন নিঅমা, তেহরান, ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৯৫শ, জি১, পৃ২৬৫।
- ↑ বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৪২; ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪১৮হি, জি১০, পৃ৩৮৫।
- ↑ ইবনে আসাকির, তারিখে মাদিনাতি দামিশক, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৫হি, জি১৩, পৃ১৯৮-১৯৯; আরবলী, কাশফুল গুম্মা ফি মারিফাতিল আইম্মাহ, কুম, রেজি, প্রথম মুদ্রণ, ১৪২১হি, জি১, পৃ৬০২।
- ↑ ইবনে সা'দ, আল-তাবাকাত আল-কুবরা, বৈরুত, দার আল-কুতব আল-ইলমিয়াহ, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪১৮ হিজরি, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ১৩৮। ইবনে আসাকির, আলী ইবনে হাসান, তারিখ আল-মদীনা আল-দামেস্ক, বৈরুত, দার আল-ফিকর, প্রথম সংস্করণ, ১৪১৫ হিজরি, খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ১৯৮-১৯৯; আরবালি, আলী ইবনে ঈসা, ইমামদের জ্ঞানে ভাষা, কোম, রাজি, প্রথম সংস্করণ, ১৪২১ হিজরি, খণ্ড ৬০২।
- ↑ তিরমিজি, মুহাম্মাদ বিন ঈসা, সুনান আত-তিরমিজি, তাহকিক: আবদুর রহমান মুহাম্মাদ উসমান, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪০৩হি, জি৫, পৃ৩২৩।
- ↑ আহমাদ বিন হাম্বল, মুসনাদ আহমাদ, বেইরুত, দারুস ছাদির, বি-তা, জি৫, পৃ৩৫৪; তিরমিজি, সুনান আত-তিরমিজি, তাহকিক: আবদুর রহমান মুহাম্মাদ উসমান, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪০৩হি, জি৫, পৃ৩২২; ইবনে হিব্বান, সহীহ ইবনে হিব্বান, তাহকিক: শুয়াইব আরনাউত, বি-জা, আর-রিসালা, ১৯৯৩মি, জি১৩, পৃ৪০২; হাকিম নিশাপুরী, আল-মুস্তাদরাক আলা সহিহাইনে, তাহকিক: ইউসুফ আবদুর রহমান মারআশি, বেইরুত, ১৪০৬হি, জি১, পৃ২৮৭।
- ↑ ইবনে শহর আশুব, মুহাম্মাদ বিন আলী, মানাকিবু আলে আবি তালিব, কুম, আল্লামা, ১৩৭৯হি, জি৪, পৃ৮২; মাজলিসী, মুহাম্মাদ বাকির, বিহারুল আনওয়ার, তেহরান, ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬৩শ, জি৯৮, পৃ৬৯।
- ↑ শোষতরী, শাইখ জাফর, আল-খাসাইসুল হুসাইনিyah, শরিফ রেজি, প্রথম মুদ্রণ, বি-তা, পৃ২০।
- ↑ বালাযুরী, আহমাদ বিন ইয়াহইয়া, আনসাবুল আশরাফ, তাহকিক: সুহাইল যাকার ও রিয়াদ জরকালী, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৪২, ৪৫৩; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মা'রিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, ১৪১৩হি, জি২, পৃ২৭; তাবারানী, আল-মুআজমুল কাবির, কায়রো, দারুন্নাশর, মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, বি-তা, জি৩, পৃ৯৫।
- ↑ আহমাদ বিন হাম্বল, মুসনাদে আহমাদ, বেইরুত, দারুস ছাদির, বি-তা, জি৩, পৃ২৬১; তিরমিজি, সুনান আত-তিরমিজি, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪০৩হি, জি৫, পৃ৩২৫
- ↑ তাবারানী, আল-মুআজমুল কাবির, কায়রো, দারুন্নাশর, মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, বি-তা, জি৩, পৃ১০১।
- ↑ ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪১৮হি, জি৬, পৃ৪১৯-৪২২; ইবনে আবী শাইবা, আল-মুসান্নাফ ফি আহাদিস ওয়াল আসার, তাহকিক: সাঈদ মুহাম্মাদ লাহহাম, বেইরুত, ১৪০৯হি, জি৬, পৃ৩, ১৫।
- ↑ মুহাম্মাদী রায়শাহরী, মুহাম্মাদ ও সহযোগীরা, দানেশ নামায়ে ইমাম হুসাইন (আ.), অনুবাদ: মুহাম্মাদ মোরাদী, কুম, দারুল হাদিস, ১৪৩০হি, জি২, পৃ১১৪-১১৮।
- ↑ ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪১৮হি, জি১০, পৃ৪১১; ইবনে আসাকির, তারিখে মাদিনাতি দামিশক, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৫হি, জি১৪, পৃ১৮১।
- ↑ ইবনে আসাকির, তারিখে মাদিনাতি দামিশক, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৫হি, জি৭০, পৃ১৯৬-১৯৭; ইবনে হাজম, আল-মুহাল্লা, তাহকিক: মুহাম্মাদ শাকির, বেইরুত, দারুল ফিকর, বি-তা, জি৮, পৃ৫১৫; আরবলী, কাশফুল গুম্মা ফি মারিফাতিল আইম্মাহ, কুম, মুদ্রক: আলী ফাজেলি, ১৪২৬হি, জি২, পৃ৪৭৬।
- ↑ ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪১৮হি, জি১০, পৃ৪০১; ইবনে আবদিল বার, আল-ইস্তিয়াব ফি মারিফাতিল আসহাব, তাহকিক: আলী মুহাম্মাদ আল-বাজাউই, বেইরুত, দারুল জিল, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১২হি, জি১, পৃ৩৯৭।
- ↑ দেখুন: মতোহারি, মুর্তজা, খেদমাতে মোকাবেলয়ে ইসলাম ও ইরান, তেহরান, ইন্তেশারাতে সাদরা, ১৩৮০শ, পৃ১৩১-১৩৩; শরিয়াতী, আলী, তাশাইয়ু আলাভি ও তাশাইয়ু সাফাভি, তেহরান, চাপখশ, ১৩৭৭শ, পৃ৯১; শাহিদী, সাইয়েদ জাফর, জিন্দেগানি আলী বিন আল-হুসাইন, তেহরান, দফতরে নাশরে ফারহাঙ্গ, ১৩৬৫শ, পৃ১২।
- ↑ ইস্পাহানী, আবুল ফারাজ, মাকাতিলুত তালিবিয়িন, তাহকিক: আহমাদ সাকির, বেইরুত, দারুল মাআরিফ, বি-তা, পৃ৫৯; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মা'রিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, ১৪১৩হি, জি২, পৃ১৩৫।
- ↑ ইবনে কাসির, ইসমাইল বিন উমর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, বেইরুত, দারু ইহইয়াউত তারাসিল আরাবি, ১৪০৮হি, জি৮, পৃ২২৯।
- ↑ মুসআব বিন আবদুল্লাহ, কিতাবু নাসাবি কুরাইশ, তাহকিক: লুই প্রোভানসাল, কায়রো, ১৯৫৩মি, জি১, পৃ৫৯; তাবারি, মুহাম্মাদ বিন জারির, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, দারু তারাস, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪৬৮; বুখারী, সাহল বিন আবদুল্লাহ, সিররুস সিলসিলাতিল আলাভিয়্যাহ, তাহকিক: মুহাম্মাদ ছাদিক বাহরুল উলুম, নজাফ, ১৩৮১হি, জি১, পৃ৩০।
- ↑ মুসআব বিন আবদুল্লাহ, কিতাবু নাসাবি কুরাইশ, তাহকিক: লুই প্রোভানসাল, কায়রো, ১৯৫৩মি, পৃ৫৭; ইয়াকুবী, আহমাদ বিন আবি ইয়াকুব, তারিখুল ইয়াকুবী, বেইরুত, দারুস ছাদির, বি-তা, জি২, পৃ২৪৬-২৪৭; তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, দারু তারাস, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪৪৬।
- ↑ মাকরিজী, তাকিউদ্দীন, ইমতিয়াউল আসমা বিমা লিন্নাবি মিনাল আহওয়াল ওয়াল আমওয়াল ওয়াল হাফাদাহ ওয়াল মাতায়া, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, ১৪২০হি, জি৬, পৃ২৬৯।
- ↑ তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, দারু তারাস, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪৪৬; ইস্পাহানী, আবুল ফারাজ, মাকাতিলুত তালিবিয়িন, তাহকিক: আহমাদ সাকির, বেইরুত, দারুল মাআরিফ, বি-তা, পৃ৮০।
- ↑ ইবনে তালহা শাফেয়ী, মাতালিবুস সউল ফি মানাকিবে আলির রাসুল, মুদ্রক: মাজিদ বিন আহমাদ আতিয়া, বি-জা, বি-তা, জি২, পৃ৬৯।
- ↑ মুসআব বিন আবদুল্লাহ, কিতাবু নাসাবি কুরাইশ, তাহকিক: লুই প্রোভানসাল, কায়রো, ১৯৫৩মি, জি১, পৃ৫৭-৫৯; বুখারী, সাহল বিন আবদুল্লাহ, সিররুস সিলসিলাতিল আলাভিয়্যাহ, তাহকিক: মুহাম্মাদ ছাদিক বাহরুল উলুম, নজাফ, ১৩৮১হি, জি১, পৃ৩০; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মা'রিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, ১৪১৩হি, জি২, পৃ১৩৫।
- ↑ তাবারি, দালায়িলুল ইমামাহ, বেইরুত, মো’আসসাসাতুল আ'লামী লিল মাতবুআত, ১৪০৮হি, জি১, পৃ৭৪; ইবনে শহর আশুব, মানাকিবু আলে আবি তালিব, কুম, আল্লামা, ১৩৭৯হি, জি৪, পৃ৭৭; ইবনে তালহা শাফেয়ী, মাতালিবুস সউল ফি মানাকিবে আলির রাসুল, মুদ্রক: মাজিদ বিন আহমাদ আতিয়া, বি-জা, বি-তা, জি২, পৃ৬৯।
- ↑ ইবনে ফান্দুক বেহাকী, আলী বিন যায়েদ, লুবাবুল আনসাব ওয়াল আলকাব ওয়াল আকাব, তাহকিক: মাহদী রেজাই, কুম, কিতাবখানায়ে আইয়াতুল্লাহ মারআশি, ১৩৮৫শ, পৃ৩৫৫।
- ↑ কাশেফী সবজোয়ারী, মোল্লা হোসাইন, রাওজাতুশ শোহাদা, কুম, নবীদে ইসলাম, ১৩৮২শ, পৃ৪৮৪।
- ↑ মুহাম্মাদী রায়শাহরী, মুহাম্মাদ ও সহযোগীরা, দানেশ নামায়ে ইমাম হুসাইন (আ.), অনুবাদ: মুহাম্মাদ মোরাদী, কুম, দারুল হাদিস, ১৪৩০হি, জি২, পৃ৩২৫।
- ↑ ইবনে আসাকির, আলী বিন হাসান, তারিখে মাদিনাতি দামিশক, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৫হি, জি১৪, পৃ১৭৫; সিবত ইবনে জাওযী, তাজকিরাতুল খাওয়াস, কুম, মনশুরাতে শরিফ রেযি, ১৪১৮হি, পৃ২১১-২১২।
- ↑ কুলাইনি, মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব, আল-কাফি, তেহরান, দারুল কুতুবুল ইসলামিয়া, ১৩৬৫শ, জি৮, পৃ২০৬-২০৭; ইবনে আবিল হাদীদ, শরহে নাহজুল বালাগা, ১৩৮৫-১৩৮৭হি, জি৮, পৃ২৫৩-২৫৪।
- ↑ ইবনে খালদুন, আল-ইবর, ১৪০১হি, জি২, পৃ৫৭৩-৫৭৪।
- ↑ তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, দারু তারাস, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৭হি, জি৪, পৃ২৬৯।
- ↑ জাফর মুরতজা, আল-হায়াতুস সিয়াসিয়্যাহ লিল ইমামিল হাসান (আ.), দারুস সিয়ারা, পৃ১৫৮।
- ↑ ইবনে কুতাইবা দিনওয়ারী, আল-ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ, তাহকিক: আলী শিরি, বেইরুত, দারুল আদওয়া, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১০হি, জি১, পৃ৫৯; বালাযুরী, আহমাদ বিন ইয়াহইয়া, আনসাবুল আশরাফ, তাহকিক: সুহাইল যাকার ও রিয়াদ জরকালী, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৭হি, জি৫, পৃ৫৫৮।
- ↑ মুহাম্মাদী রায়শাহরী, মুহাম্মাদ ও সহযোগীরা, দানেশ নামায়ে ইমাম হুসাইন (আ.), অনুবাদ: মুহাম্মাদ মোরাদী, কুম, দারুল হাদিস, ১৪৩০হি, জি২, পৃ৩৩১-৩৩২।
- ↑ সাইয়্যিদ মুর্তজা, আলী ইবনে হুসাইন, আল-শাফি ফী আল-ইমামাহ, কোম, ইসমাইলি ইনস্টিটিউট, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪১০ হিজরি, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৪২।
- ↑ মাজলিসী, মুহাম্মাদ বাকির, বিহারুল আনওয়ার, তেহরান, ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬৩শ, জি১০, পৃ১২১।
- ↑ শাইখ মুফিদ, মুহাম্মাদ বিন নুমান, আল-জামাল ওয়ান নুসরাহ লি সাইয়িদিল ইতরাহ ফি হারবিল বসরাহ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, ১৪১৩হি, পৃ৩৪৮; যাহাবি, শামসুদ্দীন, তারিখুল ইসলাম ওয়া ওফায়াতুল মাশাহির ওয়াল আলাম, বেইরুত, দারুল কিতাবুল আরাবি, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪০৯হি, জি৩, পৃ৪৮৫।
- ↑ ইবনে আ'ছাম, আহমাদ, আল-ফুতূহ, বেইরুত, দারুল আদওয়া, ১৪১১হি, জি৩, পৃ২৪; ইবনে শহর আশুব, মুহাম্মাদ বিন আলী, মানাকিবু আলে আবি তালিব, কুম, আল্লামা, ১৩৭৯হি, জি৩, পৃ১৬৮।
- ↑ মনকারী, নাসর বিন মুযাহিম, ওয়াকআতু সফফিন, তাহকিক: আবদুস সালাম মুহাম্মাদ হারুন, কায়রো, ১৩৮২হি, পৃ১১৪-১১৫।
- ↑ মাজলিসী, মুহাম্মাদ বাকির, বিহারুল আনওয়ার, তেহরান, ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬৩শ, জি৪৪, পৃ২৬৬।
- ↑ আরবলী, আলী বিন ঈসা, কাশফুল গুম্মা ফি মারিফাতিল আইম্মাহ, কুম, রেযি, প্রথম মুদ্রণ, ১৪২১হি, জি১, পৃ৫৬৯; সাইয়েদ রেযী, মুহাম্মাদ বিন হোসাইন, নাহজুল বালাগা, তাহকিক: সুবহী সালেহ, কুম, হিজরত, ১৪১৪হি, খুতবা ২০৭, পৃ৩২৩।
- ↑ ইবনে আবদিল বার, আল-ইস্তিয়াব ফি মারিফাতিল আসহাব, তাহকিক: আলী মুহাম্মাদ আল-বাজাউই, বেইরুত, দারুল জিল, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১২হি, জি৩, পৃ৯৩৯।
- ↑ তাবারি, মুহাম্মাদ বিন জারির, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, দারুত তারাস, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ১৪৭।
- ↑ ইবনে কুতাইবা দিনওয়ারী, আল-ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ, তাহকিক: আলী শিরি, বেইরুত, দারুল আদওয়া, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১০হি, জি১, পৃ১৮১; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মারিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, বেইরুত, ১৪১৪হি, জি১, পৃ২৫।
- ↑ কুলাইনি, মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব, আল-কাফি, তেহরান, দারুল কুতুবুল ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬২শ, জি৩, পৃ২২০; বালাযুরী, আহমাদ বিন ইয়াহইয়া, আনসাবুল আশরাফ, তাহকিক: সুহাইল যাকার ও রিয়াদ জরকালী, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৭হি, জি২, পৃ৪৯৭-৪৯৮।
- ↑ কুলাইনি, মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব, আল-কাফি, তেহরান, দারুল কুতুবুল ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬২শ, জি১, পৃ২৯১; ইবনে শহর আশুব, মুহাম্মাদ বিন আলী, মানাকিবু আলে আবি তালিব, কুম, আল্লামা, ১৩৭৯হি, জি৩, পৃ৪০১।
- ↑ ইবনে কুতাইবা দিনওয়ারী, আল-ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ, তাহকিক: আলী শিরি, বেইরুত, দারুল আদওয়া, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১০হি, জি১, পৃ১৮৪।
- ↑ দিনওয়ারী, আহমাদ বিন দাউদ, আল-আখবারু তিওয়াল, তাহকিক: আবদুল মুনিম আমির, পুনঃমূল্যায়ন: জামালুদ্দীন শিয়াল, কুম, মনশুরাতে রেযি, ১৩৬৮শ, পৃ২২১।
- ↑ তুসী, ইখতিয়ারু মারিফাতির রিজাল (রিজালুল কাশি), মাশহাদ, দানেশগাহে মাশহাদ, ১৩৪৮শ, পৃ১১০।
- ↑ ইবনে আ'ছাম, আহমাদ, আল-ফুতূহ, বেইরুত, দারুল আদওয়া, ১৪১১হি, জি৪, পৃ২৯২; ইবনে শহর আশুব, মুহাম্মাদ বিন আলী, মানাকিবু আলে আবি তালিব, কুম, আল্লামা, ১৩৭৯হি, জি৪, পৃ৩৫।
- ↑ তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, দারুত তারাস, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ১৬০; ইবনে আসাকির, আলী বিন হাসান, তারিখে মাদিনাতি দামিশক, বেইরুত, দারুল ফিকর, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১৫হি, জি১৩, পৃ২৬৭।
- ↑ তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, দারুত তারাস, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ১৬৫; ইবনে জাওযী, আবদুর রহমান বিন আলী, আল-মুনতাজিম ফি তারিখুত তাবারি, তাহকিক: মুহাম্মাদ আবদুল কাদের আত্তা ও মুস্তাফা আবদুল কা
- ↑ সাবেরী, হোসাইন, তারিখে ফিরাকুল ইসলামিয়া – ফিরাকুশ শিয়া ও তাদির মুনতাসিব ফিরকাসমূহ, তেহরান, সেমত, পঞ্চম মুদ্রণ, ১৩৮৮শ, জি১, পৃ১৮১।
- ↑ উদাহরণস্বরূপ দেখুন: শাইখ সাদূক, মুহাম্মাদ বিন আলী বিন বাবুয়াইহ, আল-ইতিকাদাতুল ইমামিয়্যাহ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪১৪হি, পৃ১০৪; ইবনে বাবুয়াইহ কুমী, আবুল হাসান বিন আলী, আল-ইমামাহ ওয়াত তাবসিরাহ মিনাল হিরাহ, তাহকিক: আলী আকবর গাফারী, তেহরান, দারুল কুতুবুল ইসলামিয়া, ১৩৬৩শ, পৃ১০৪।
- ↑ শাইখ মুফিদ, মুহাম্মাদ বিন নুমান, আল-ইরশাদ ফি মারিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, বেইরুত, ১৪১৪হি, জি২, পৃ৩০।
- ↑ কুলাইনি, মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব, আল-কাফি, তেহরান, দারুল কুতুবুল ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬২শ, জি১, পৃ২৯৭।
- ↑ কুলাইনি, আল-কাফি, তেহরান, দারুল কুতুবুল ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬২শ, জি১, পৃ৩০১।
- ↑ শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৩২।
- ↑ দিনওয়ারী, আহমাদ বিন দাউদ, আল-আখবারুত তিওয়াল, তাহকিক: আবদুল মুনিম আমির, পুনঃমূল্যায়ন: জামালুদ্দীন শিয়াল, কুম, মনশুরাতে রেযি, ১৩৬৮শ, পৃ২২০।
- ↑ বালাযুরী, আহমাদ বিন ইয়াহইয়া, আনসাবুল আশরাফ, তাহকিক: সুহাইল যাকার ও রিয়াদ জরকালী, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৫০।
- ↑ শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, বেইরুত, ১৪১৪হি, জি২, পৃ৩১।
- ↑ জাফরিয়ান, রাসূল, হায়াতে ফিকরী ও সিয়াসী ইমামানে শিয়া, কুম, আনসারিয়ান, ষষ্ঠ মুদ্রণ, ১৩৮১শ, পৃ১৭৫।
- ↑ দিনওয়ারী, আল-আখবারুত তিওয়াল, কুম, ১৩৬৮শ, পৃ২২৪-২২৫; বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, ১৪১৭হি, জি৫, পৃ১২০-১২১; ইবনে কুতাইবা দিনওয়ারী, আল-ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ, বেইরুত, ১৪১০হি, জি১, পৃ২০২-২০৪।
- ↑ বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, ১৪১৭হি, জি৫, পৃ১২১-১২২; ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, ১৪১৮হি, জি১০, পৃ৪৪০; তুসী, ইখতিয়ারু মারিফাতির রিজাল (রিজালুল কাশি), মাশহাদ, ১৩৪৮শ, পৃ৫০; যাহাবী, তারিখুল ইসলাম, বেইরুত, ১৪০৯হি, জি৫, পৃ৬; ইবনে আসাকির, তারিখে মাদিনাতি দামিশক, বেইরুত, ১৪১৫হি, জি১৪, পৃ২০৬।
- ↑ ইবনে কাসির, ইসমাইল বিন উমর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, বেইরুত, দারুল ফিকর, বি-তা, জি৮, পৃ৭৯।
- ↑ http://ensani.ir/fa/article/45732/
- ↑ ইবনে কুতাইবা দিনওয়ারী, আল-ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ, বেইরুত, ১৪১০হি, জি১, পৃ২০৪।
- ↑ ইবনে কুতাইবা দিনওয়ারী, আল-ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ, বেইরুত, ১৪১০হি, জি১, পৃ২০৮-২০৯।
- ↑ ইবনে কুতাইবা দিনওয়ারী, আল-ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ, বেইরুত, ১৪১০হি, জি১, পৃ২১১।
- ↑ একদল ইতিহাসবিদ, তারিখে কিয়াম ও মাকতালুল জামি লি সাইয়্যিদুশ শুহাদা, ১৩৮৯, জি১, পৃ৩৯২।
- ↑ হারানি, হাসান বিন শুবাহ, তুহফুল উকুল, কুম, জামিয়া মুদাররেসিন, ১৪০৪হি, পৃ৬৮।
- ↑ হারানি, তুহফুল উকুল, কুম, ১৪০৪হি, পৃ৬৮।
- ↑ বালাযুরী, আহমাদ বিন ইয়াহইয়া, আনসাবুল আশরাফ, তাহকিক: সুহাইল যাকার ও রিয়াদ জরকালী, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৫৫; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ ফি মারিফাতি হুজ্জিল্লাহ আলাল ইবাদ, কুম, কংগ্রা শাইখ মুফিদ, প্রথম মুদ্রণ, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৩২।
- ↑ তাবারি, মুহাম্মাদ বিন জারির, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, দারুত তারাস, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৩৩৮।
- ↑ আবু মিখনাফ, মাকতালুল হুসাইন (আ.), তাহকিক ও টীকা: হোসাইন আল-গাফারি, কুম, আল-মাতবাআতুল ইলমিয়া, বি-তা, পৃ৫; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৩৩।
- ↑ বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৬০; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৩৪।
- ↑ বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৫৬; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৩৬।
- ↑ শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৬৬।
- ↑ বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৫৭-১৫৯; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৩৬-৩৮।
- ↑ শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৪১।
- ↑ বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৬০; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৬৬।
- ↑ ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪১৮হি, জি১০, পৃ৪৫০; ইবনে কাসির, ইসমাইল বিন উমর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, বেইরুত, দারুল ফিকর, বি-তা, জি৮, পৃ১৫৯ ও ১৬১।
- ↑ তাবারি, মুহাম্মাদ বিন জারির, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, দারুত তারাস, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪০৮; ইবনে মিসকাওয়াইহ, আহমাদ বিন মুহাম্মাদ, তাজারিবুল উমাম ওয়া তাকাকুবুল হিমাম, তাহকিক: আবুল কাসিম ইমামি, তেহরান, সোরোশ, ১৩৭৯শ, জি২, পৃ৬৭; ইবনে আসীর, আলী বিন আবি আল-করম, আল-কামিল ফিত-তারিখ, বেইরুত, দারুস ছাদির, ১৯৬৫মি, জি৪, পৃ৫১।
- ↑ ইবনে আ'ছাম, আহমাদ, আল-ফুতূহ, বেইরুত, দারুল আদওয়া, ১৪১১হি, জি৫, পৃ৮৩; তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪০৯; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৮৪; ইবনে মিসকাওয়াইহ, তাজারিবুল উমাম, তেহরান, ১৩৭৯শ, জি২, পৃ৬৮।
- ↑ দিনওয়ারী, আহমাদ বিন দাউদ, আল-আখবারুত তিওয়াল, তাহকিক: আবদুল মুনিম আমির, পুনঃমূল্যায়ন: জামালুদ্দীন শিয়াল, কুম, মনশুরাতে রেযি, ১৩৬৮শ, পৃ২৫৩; বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৭৬; তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪০৯; ইবনে আসীর, আল-কামিল ফিত-তারিখ, বেইরুত, ১৯৬৫মি, জি৪, পৃ৫২।
- ↑ তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪১৪; ইবনে মিসকাওয়াইহ, তাজারিবুল উমাম, তেহরান, ১৩৭৯শ, জি২, পৃ৭১।
- ↑ বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ১৮২; তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪১৪; শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৮৮।
- ↑ শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ৯১-৯৪।
- ↑ তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪৪৬; ইস্পাহানী, আবুল ফারাজ, মাকাতিলুত তালিবিয়িন, তাহকিক: আহমাদ সাকির, বেইরুত, দারুল মাআরিফ, বি-তা, পৃ৮০।
- ↑ শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, ১৪১৩হি, জি২, পৃ১১২।
- ↑ শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, ১৪১৩হি, জি২, পৃ১১২; খাওয়ারিজমী, মুওফফাক বিন আহমাদ, মাকতালুল হুসাইন (আ.), কুম, আনওয়ারুল হুদা, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪২৩হি, জি২, পৃ৪১; তাবারসি, ফজল বিন হাসান, আ’লামুল ওরা বি’আলামিল হুদা, তেহরান, ইসলামিয়া, ১৩৯০হি, জি১, পৃ৪৬৯।
- ↑ তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪৫০-৪৫৩; ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, তাহকিক: ইহসান আব্বাস, বেইরুত, ১৯৬৮, জি৬, পৃ৪৪১; ইস্পাহানী, মাকাতিলুত তালিবিয়িন, বেইরুত, পৃ১১৮; মাসউদী, মুরুজুয যাহাব, ১৪০৯হি, জি৩, পৃ৬২।
- ↑ বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, বেইরুত, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ৪১১; তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪৫৬।
- ↑ তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪৫৬।
- ↑ তাবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, বেইরুত, ১৩৮৭হি, জি৫, পৃ৪৫৬।
- ↑ মুসাভি মুকাররাম, আবদুর রযযাক, মাকতালুল হুসাইন (আ.), বেইরুত, দারুল কিতাবুল ইসলামিয়া, পৃ৩৩৫-৩৩৬।
- ↑ বলধারী, আহমদ ইবনে ইয়াহিয়া, আনসাব আল-আশরাফ, সুহাইল জাক্কার এবং রিয়াজ জারকালী দ্বারা গবেষণাকৃত, বৈরুত, দারুল-ফিকর, ১৪১৭ হিজরি, খণ্ড ৯, পৃ. ৩১৭।
- ↑ খোমেনী, সহিফেহ নূর, ১৩৭৯, খণ্ড ১৭, পৃ. ৫৮।
- ↑ রায়শাহরি, ইমাম হুসাইনের বিশ্বকোষ, ২০০৯, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৬৬–৩.১৭।
- ↑ কুলাইনি, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব, আল-কাফি, তেহরান, দার আল-কুতুব আল-ইসলামিয়া, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৩৬২, খণ্ড ১, পৃ. ৫২৮; শেখ তুসী, মুহাম্মদ ইবনে হাসান, আল-গায়বা, কোম, দার আল-মা'আরিফ আল-ইসলামিয়া, ১৪১১ হিজরি, পৃষ্ঠা ১৪৫।
- ↑ সাফান্দিয়ারী, আশুরা শিনাখত, ১৩৮৭শ, পৃ১৫৭।
- ↑ সাইয়্যেদ মুর্তজা, আলী বিন হোসাইন, তানযিহুল আম্বিয়া, বেইরুত, দারুল আদওয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪০৯হি, পৃ২২৭-২২৮।
- ↑ সালেহী নাজাফাবাদী, নাঅমাতুল্লাহ, শাহিদে জাবিদ, তেহরান, উম্মিদে ফেরদা, ১৩৮৭শ, পৃ১৫৭-১৫৮।
- ↑ এশতেহার্দী, আলী পানাহ, হাফত সালা চিরা সাদা দার আওরদ?, কুম, ইন্তেশারাতে আল্লামা, প্রথম মুদ্রণ, ১৩৯১শ, পৃ১৫৪।
- ↑ ইবনে খালদুন, তারিখে ইবনে খালদুন, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪০১হি, জি১, পৃ২১৭।
- ↑ ইবনে খালদুন, তারিখে ইবনে খালদুন, দারু ইহইয়াউত তারাসিল আরাবি, জি১, পৃ২১৬।
- ↑ আলূসী, রুহুল মা'আনি, তাহকিক: আলী আবদুল বারী আত্তিয়া, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, ১৪১৫হি, জি১৩, পৃ২২৮।
- ↑ আক্কাদ, আব্বাস মাহমুদ, আবুশ শুহাদা আল-হুসাইন বিন আলী, তেহরান, আল-মাজমাউল আলামী লিত্তাকরিব, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪২৯হি, পৃ২০৭।
- ↑ আক্কাদ, আবুশ শুহাদা আল-হুসাইন বিন আলী, তেহরান, আল-মাজমাউল আলামী লিত্তাকরিব, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৪২৯হি, পৃ১৪১।
- ↑ হুসাইন, তाहा, আলী ও বনুহু, কায়রো, দারুল মাআরিফ, বি-তা, পৃ২৩৯।
- ↑ ফারুখ, ওমর, তাজদিদুন ফিল মুসলিমীন লা ফিল ইসলাম, বেইরুত, দারুল কিতাবুল আরাবি, বি-তা, পৃ১৫২।
- ↑ "মহররম মাসের আজাদারি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে অনুষ্ঠিত হয়", খবর: আইবনা; "ইরানের বিভিন্ন শহরের মহররম মাসের আচার-অনুষ্ঠান", ওয়েবসাইট।
- ↑ বালাযুরী, আহমাদ বিন ইয়াহইয়া, আনসাবুল আশরাফ, তাহকিক: সুহাইল যাকার ও রিয়াদ জরকালী, বেইরুত, দারুল ফিকর, ১৪১৭হি, জি৩, পৃ২০৬।
- ↑ মাজলিসী, মুহাম্মাদ বাকির, বিহারুল আনওয়ার, তেহরান, ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬৩শ, জি৪৫, পৃ১৯৬।
- ↑ আইনেহওয়ান্দ, সাদেক ও ওলায়েতি, আলী আকবর, সুন্নতে আজাদারি ওয়া মুনকাবাতখানি দার তারিখে শিয়া ইমামিয়া, মুখবন্ধ: মুহাম্মাদ তাকিজাদেহ দাওরি, কুম, মো'আসসাসায়ে শিয়াশেনাসি, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৮৬শ, পৃ৬৫-৬৬; ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, জি১১, পৃ১৮৩; ইবনে জাওযী, আল-মুনতাজিম ফি তারিখুত তাবারি, তাহকিক: মুহাম্মাদ আবদুল কাদের আত্তা ও মুস্তাফা আবদুল কাদের আত্তা, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, ১৯৯২মি, জি৭, পৃ১৫।
- ↑ শাইখ মুফিদ, আল-ইরশাদ, কুম, ১৪১৩হি, জি২, পৃ১২৯; মাকরিজী, তাকিউদ্দীন, ইমতিয়াউল আসমা বিমা লিন্নাবি মিনাল আহওয়াল ওয়াল আমওয়াল ওয়াল হাফাদাহ ওয়াল মাতায়া, বেইরুত, দারুল কুতুবুল ইলমিয়া, ১৪২০হি, জি১২, পৃ২৩৭; ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, বেইরুত, দারুল ফিকর, বি-তা, জি৬, পৃ২৩০।
- ↑ মাজলিসী, মুহাম্মাদ বাকির, বিহারুল আনওয়ার, তেহরান, ইসলামিয়া, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ১৩৬৩শ, জি৪৪, باب ৩৪, পৃ২৭৮-২৯৬।
- ↑ আল-তোয়ামাহ, সালমান হাদি, কারবালা ওয়া হারামহায়ে মতাহার, তেহরান, মো'আসসাসায়ে মাশআর, বি-তা, পৃ৮৯-১১২।
- ↑ ইস্পাহানী, আবুল ফারাজ, মাকাতিলুত তালিবিয়িন, তাহকিক: আহমাদ সাকির, বেইরুত, দারুল মাআরিফ, বি-তা, পৃ৪৭৭।
- ↑ একদল লেখক, নগাহে নও বে জরিয়ানে আশুরা, ১৩৮৭শ, পৃ৪২৫।
- ↑ শাইখ তুসী, মুহাম্মাদ বিন হাসান, আল-আমালি, কুম, দারুস সাকাফা, ১৪১৪হি, পৃ৩২৭; ইবনে শহর আশুব, মুহাম্মাদ বিন আলী, মানাকিবু আলে আবি তালিব, কুম, আল্লামা, ১৩৭৯হি, জি২, পৃ২১১।
- ↑ তাবাতাবাই ইয়াযদি, সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ কাজেম, আল-ওরওয়াতুল উতক্বা, বেইরুত, ১৪০৪হি, জি২, পৃ১৬৪।
- ↑ কালিদার, আবদুল জাওয়াদ, তারিখে কারবালা ওয়া হায়েরে হুসাইন (আ.), নজাফ, অফসেট প্রিন্টিং: কুম, ১৩৭৬শ, পৃ৫১-৫২, ৫৮-৬০।
- ↑ মৌলানা ইমাম হাদী (আ.) ইনস্টিটিউট, জামে জিয়ারাতে মা'সুমিন, কুম, পিয়ামে ইমাম হাদী (আ.), ১৩৮৯শ, জি৩, পৃ৩৬-৬৯।
- ↑ ইবনে কুলুওয়াইহ, জাফর বিন মুহাম্মাদ, কামালুজ জিয়ারাত, নাজাফ, দারুল মরতাযাভিয়া, ১৩৫৬হি, পৃ১৫৮-১৬১।
- ↑ মুহাম্মাদী রায়শাহরী, মুহাম্মাদ ও সহযোগীরা, দানেশ নামায়ে ইমাম হুসাইন (আ.), অনুবাদ: মুহাম্মাদ মোরাদী, কুম, দারুল হাদিস, ১৪৩০হি, জি১২, পৃ২৫৬-৪৫২।
- ↑ "বিশেষ জিয়ারতসমূহ: ইমাম হুসাইন (আ.)", হাওযা তথ্য সংরক্ষণ পোর্টাল।
- ↑ সাইয়্যেদ ইবনে তাওউস, আলী বিন মূসা, আল-মালহূফ আলা কাতলা তুফূফ, কুম, আসওয়া, ১৪১৪হি, পৃ২২৫।
- ↑ শাইখ তুসী, মুহাম্মাদ বিন হাসান, মিসবাহুল মুতাহাজ্জিদ, বেইরুত, মও’আসসাসায়ে ফিকহুশ শিয়াহ, ১৪১১হি, পৃ৭৮৭।
- ↑ "এ বছরের আরবাইনের জিয়ারতকারীদের সংখ্যা ১৮ মিলিয়ন অতিক্রম করেছে", ইরান ইসলামি গণমাধ্যম সংস্থা।